হত্যা
হাট থেকে আনা শ্রমিকের হাতে প্রাণ গেল গৃহকর্ত্রীর
কুমিল্লার চান্দিনায় সমীরণ বেগম (৬৮) নামে ঘুমন্ত এক নারীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ধান কাটার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে তারা পালিয়ে গেছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর স্বজনদের।
রবিবার (৩ মে) সকালে চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সমীরণ বেগম শুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে ৪ জন ধান কাটার শ্রমিক ভাড়া করেন সমীরণ বেগমের পরিবার। গতকাল (শনিবার) একজন শ্রমিক তাদের পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর বাকি তিন শ্রমিক রাতে আরও একজনকে ভাড়া আনেন। এরপর তারা আবদুল বাতেন মোল্লার বসতঘরের একটি কক্ষে রাত্রিযাপন করেন। পাশের কক্ষে বৃদ্ধা সমীরণ বেগম ও অপর পাশের কক্ষে তার স্বামী আবদুল বাতেন মোল্লা ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকালে হাত-পা বাঁধা ও গলায় পর্দার কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় সমীরণ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে বশির মোল্লা জানান, প্রতিদিন ভোরে উঠে মা ফজরের নামাজ আদায় করতেন। শ্রমিকরাও খুব সকালে উঠে কাজ শুরু করতেন। আজ (রবিবার) সকালে আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি, শ্রমিকরা নেই। এরপর মায়ের কক্ষে গিয়ে দেখি, উনার হাত-পা বাঁধা এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমিকদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানি না। শুধু জানতাম, তাদের বাড়ি চাঁদপুর ও ঢাকা জেলায়। আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই আমি।
শুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার বলেন, বাতেন মোল্লা আমাদের এলাকার বেশ সম্পদশালী ব্যক্তি। এক ছেলে ও তিন মেয়ে তার। প্রতি বছর ক্যান্টনমেন্ট হাট থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান তিনি। প্রতিবারের মতো এবারও শ্রমিক আনার পর শ্রমিকরা তার স্ত্রীকে শ্বাসরূদ্ধ করে হত্যার পর নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অনেক মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশকে খবর দেই।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শ্রমিকরাই ওই বৃদ্ধাকে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমল্লিা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশ কাজ করছে।
২ দিন আগে
ফরিদপুরে শিশু আইরিন হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
ফরিদপুরে নিখোঁজের ছয়দিন পর উদ্ধার হওয়া ৭ বছর বয়সী শিশু আইরিন আক্তার বিনা ওরফে কবিতা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন তিন জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) এবং নাছিমা বেগম (৪৫)।
আইরিন আক্তার বিনা ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাকা মিয়া বিশ্বাসের মেয়ে। সে স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আইরিন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন ২৫ এপ্রিল কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে এলাকাবাসীকেও বিষয়টি জানানো হয়।
এরপর কয়েকদিন ধরে পুলিশ ও স্বজনরা মিলে আইরিনের খোঁজ চালাতে থাকেন। তবে নিখোঁজের ৬ দিন পর ৩০ এপ্রিল সকালে স্থানীয় দুই ব্যক্তি কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইনের ঢালে অবস্থিত একটি কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে দুর্গন্ধ পান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তারা একটি পঁচাগলা মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আইরিনের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যা মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও ডিবি।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানায়, প্রধান আসামি ইসরাফিল মৃধা শিশুটিকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে আশ্রয়ন কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এতে শিশুটি বাধা দিলে এবং বিষয়টি তার মাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে ইসরাফিল তাকে গলা টিপে হত্যা করেন।
হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিনি মরদেহটি পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখেন। কয়েকদিন পর ওই বাড়ির মালিক নাছিমা বেগম টয়লেটে সমস্যা বুঝতে পেরে বিষয়টি তার ছেলেদের জানান। পরে ট্যাংক খুলে তারা ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান।
পুলিশ জানায়, এরপর নাছিমা বেগম তার ছেলে শেখ আমিন ও আরেক ছেলে রহমানকে মরদেহটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। তারা মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে দূরের একটি কলাবাগানে ফেলে রেখে আসে যাতে কেউ তাদের সন্দেহ না করে।
ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীর পরিহিত কাপড়, স্যান্ডেল, মরদেহ বহনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ড্রাম এবং একটি কম্বল উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়েছি। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যব্স্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৪ দিন আগে
কুমিল্লায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ধর্ষণের পর শিশু হত্যার দায়ে ময়নাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে এই রায় দেন শিশু ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আবদুল হান্নান। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ রায় দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বদিউল আলম সুজন জানান, ২০২১ সালে উপজেলার ভারেল্লা গ্রামে আসামি ময়নাল হোসেন দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া শিশু উম্মে হাবিবা মীমকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে পলিথিনে পেঁচিয়ে মরদেহ টয়লেটের ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনায় নিহত উম্মে হাবিবার মীমের মা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
৫ দিন আগে
ময়মনসিংহে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা দুর্বৃত্তদের
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় মোতালেব হোসেন (৫৫) নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি বামনাখালী মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মোতালেব ওই এলাকার মৃত সাইফুল্লাহর ছেলে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ধানক্ষেতে মোতালেবের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের ছেলে আলী হোসেন বলেন, আমার বাবা মাগরিবের নামাজের আগে বাড়ি থেকে ধানক্ষেত দেখতে বের হন। তিনি প্রায়ই জমি দেখতে যেতেন। এ সময় কে বা কারা আমার বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার পর মরদেহের পাশে তার মোবাইল ফোন পড়ে ছিল এবং কোমরে বাঁধা কাপড়ের থলেতে থাকা ৩৮ হাজার ৬৪৫ টাকা অক্ষত ছিল। দুর্বৃত্তরা এসবের কিছুই নেয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিহতের ঘাড়, মাথা ও হাতের আঙুলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে গেছে। তবে সঙ্গে থাকা টাকা না নেওয়ায় হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে ত্রিশাল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
৬ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে সুমাইয়া আক্তার জামিলা নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুড়বাড়ির বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের সালামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ৩০ অক্টোবর রিপন আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় সুমাইয়া আক্তার জামিলার। বিয়ের পর থেকেই রিপন আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। যৌতুকের টাকার জন্য সুমাইয়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল (সোমবার) রাতে স্বামী রিপন আলী সুমাইয়াকে তার বাপের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। আজ (মঙ্গলবার) সকালে সুমাইয়ার অসুস্থতার খবর জানিয়ে তার পরিবারকে ডাকা হয়। খবর পেয়ে সুমাইয়ার মা সেখানে গিয়ে দেখেন, বিছানায় তার মেয়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। পরে শিবগঞ্জ থানা থানায় খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তা ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, মরদেহের গলায় ও বাঁ চোয়ালের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা মামলার বিচার শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর (২৬) বিরুদ্ধে আদালতে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে এই শুনানি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে দুটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ড পেতে পারেন। তবে প্রসিকিউটররা এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টার স্ট্যাটাস কনফারেন্সে তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পাবলিক ডিফেন্ডার জেনিফার স্প্রাডলি গতকাল (সোমবার) জানান, তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি বিয়ের কথা ভাবছিলেন বলে তাদের এক স্বজন জানিয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায় ক্যাম্পাসের বাইরে একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে, যেখানে তিনি আবুঘারবিয়েহ এবং আরও এক রুমমেটের সঙ্গে থাকতেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে লিমনের মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়, গোয়েন্দারা মোবাইল ফোনের অবস্থান এবং লাইসেন্স প্লেট রিডার তথ্য ব্যবহার করে আবুঘারবিয়েহর গাড়ি এবং লিমনের ফোনের গতিপথ অনুসরণ করে সেই সেতু পর্যন্ত পৌঁছান।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে লিমনের দেহাবশেষে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন মেডিকেল পরীক্ষক।
অন্যদিকে, বৃষ্টিকে খুঁজে পেতে এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন ডেপুটিরা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেরিফের কার্যালয় জানায়, সেতুর কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে সেটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর যখন গোয়েন্দারা আবুঘারবিয়েহ এবং অপর রুমমেটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তারা লক্ষ করেন আবুঘারবিয়েহর কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তবে লিমনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন আবুঘারবিয়েহ।
লিমনের আরেক রুমমেট গোয়েন্দা পুলিশকে জানান, ১৬ এপ্রিল রাতে আবুঘারবিয়েহ একটি ট্রলি ব্যবহার করে তার কক্ষ থেকে কার্ডবোর্ডের কয়েকটি বাক্স আবর্জনা ফেলার স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকেই গোয়েন্দারা লিমনের মানিব্যাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, চশমা এবং রক্তের দাগযুক্ত পোশাক উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে আবুঘারবিয়েহর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা রান্নাঘর থেকে তার শয়নকক্ষ পর্যন্ত রক্তের চিহ্ন দেখতে পান এবং তার কক্ষের কার্পেটে রক্তের দাগ শনাক্ত করেন। লিমনের কক্ষে তারা বৃষ্টির বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি এবং ক্রেডিট কার্ডও খুঁজে পান।
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিখোঁজের কয়েকদিন আগে আবুঘারবিয়েহ চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি কোনো মানুষের দেহ একটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি ওই প্রশ্নটিকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করে সতর্ক করেছিল।
৭ দিন আগে
ফরিদপুরে ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার
ফরিদপুর সদর উপজেলার আলোচিত তিন হত্যাকাণ্ডের একমাত্র অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়। তাকে বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে আটক করা হয়েছে। আটককালে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।’
গতকাল (সোমবার) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করেই আকাশ কোদাল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) ও কাবুল (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আকাশ মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তার এই আচরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আকাশকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।
৭ দিন আগে
নাটোরে বাক প্রতিবন্ধী ছেলের হাতে মা ‘খুন’
নাটোরে বাক প্রতিবন্ধী ছেলের বিরুদ্ধে মাকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শহিদা বেগম নাটোরের মল্লিকহাটী ঘোষপাড়া এলাকার মৃত শরিফুল হুদার স্ত্রী।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, শহিদা তার একমাত্র বাক প্রতিবন্ধী ছেলে আরিফুল হুদাকে নিয়ে বসবাস করতেন। গতকাল (রবিবার) রাতে মায়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে রান্না ঘরে থাকা মসলা তৈরির শিলপাটা দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করে সে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মায়ের মৃত্যু হয়। পরে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আরিফুলকে আটক করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
প্রতিবেশীদের বরাতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনছুর রহমান জানান, আরিফুল নিয়মিত মাকে মারপিট করত। ধারণা করা হচ্ছে, গতরাতে মায়ের ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে ছেলেই মাকে হত্যা করেছে। তারপরও বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি বেঁচে নেই, জানালেন ভাই
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি আর বেঁচে নেই বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তবে নাহিদার মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত তার বোনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বোন আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক প্রতিবেদনে জানায়, গতকাল (শুক্রবার) নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউএসএফ শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবেইহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হিলসবরো কাউন্টির প্রধান ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানান, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টাম্পা উপসাগরের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে জামিলের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবেইহকে প্রাথমিক অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, মৃত্যুর খবর না দেওয়া, প্রমাণ নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং হামলা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আজ (শনিবার) সকালে তাকে আদালতে হাজির হতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাউরার বলেন, ‘আমরা নাহিদাকে খুঁজতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।’ এ বিষয়ে তিনি জনসাধারণকে যেকোনো কার্যকর তথ্য শেয়ার করার আহ্বান জানান।
শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আইন প্রয়োগকারী ডুবুরি দল ইতোমধ্যে সেতুর কাছাকাছি উপসাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে।
শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার বলেন, এটি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা যা আমাদের নাড়া দিয়েছে। জামিল লিমনের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনাটি সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমি জনসাধারণকে জানাতে চাই যে আমাদের গোয়েন্দারা এই বিষয়ের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য অক্লান্ত ও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
লিমনের এক আত্মীয় জানান, লিমন ও বৃষ্টি দুজনেরই বয়স ২৭। সম্প্রতি বিয়ের কথা ভাবছিলেন তারা। ১৬ এপ্রিল লিমনকে শেষবারের মত দেখা যায় তার অফ-ক্যাম্পাস অ্যাপার্টমেন্টে, যেখানে তিনি আবুঘারবেইহের সঙ্গে থাকতেন। একই দিনে ভার্সিটির ক্যাম্পাসে বসবাসকারী বৃষ্টিকে এক ঘণ্টা পর একটি বিজ্ঞান ভবনে শেষবারের মতো দেখা যায়।
ইউএসএফ পুলিশ জানায়, দুজনের কারো সঙ্গেই যোগাযোগ করতে না পেরে এক পারিবারিক বন্ধু শুক্রবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তদন্তকারীরা বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আবুঘারবেইহের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তিনি জন্মসূত্রে একজন মার্কিন নাগরিক। তবে প্রাথমিক কিছু কথা বলার পর তিনি আর কথা বলতে চাচ্ছিলেন না। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারের পর আবুঘারবেইহ আবারও গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
মাউরার জানান, আবুগারবেইহে ছাড়া তদন্তে এই মুহূর্তে অন্য কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি নেই।
তিনি আরও জানান, লিমনের মৃত্যুর ধরন ও কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে, এবং এর ফলাফল শনিবার সকালে পাওয়া যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানান, আবুঘারবেইহ আগে ইউএসএফ-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি ২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সালে পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেন এবং ব্যবস্থাপনায় বিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর নাহিদা একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন।
১০ দিন আগে
বরিশালে বাসায় ডেকে এনে প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগ
বরিশালে প্রেমিকাকে বাসায় ডেকে এনে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর মুন্সিগ্রেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত সানজিদা কবির আনিতা কলাপাড়া উপজেলার শাহিন হাওলাদারের মেয়ে। অভিযুক্ত হিমু ঝালকাঠি শহরের কাটপট্টি এলাকার বাসিন্দা মিল্টন আকনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, হিমুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন সানজিদা কবির আনিতা। তারা দুজনই বরিশাল নগরীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার দিকে নগরীর মুন্সিগ্রেজ এলাকার বরইতলা গলির রাফি মঞ্জিলে হিমুর বাসায় দেখা করতে আসেন আনিতা। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে তাকে হত্যা করে হিমু পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ঝালকাঠিতে এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে তাকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে হিমুর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি আদালতে হত্যা মামলা চলমান আছে।
অভিযুক্ত হিমুর মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে আনিতার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আজ সকালে আমাদের বাসায় আসে আনিতা। দুপুর দেড়টার দিকে হিমুর রুমে আনিতার মরদেহ দেখে ভয় পেয়ে যাই। ততক্ষণে হিমু বাসা থেকে পালিয়ে গেছে।
আনিতার বড় বোন বলেন, এবার নার্সিং কলেজে ভর্তি হয়েছিলো আমার বোন। সে কারণে সে বরিশালে থাকত। হিমুর সঙ্গে কয়েকমাস আগে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় আনিতা। বৃহস্পতিবার সকালে তার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে। এরপর দুপুরে খবর পাই, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করেছেন তিনি।
হত্যাকারীকে ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি আল মামুন।
১২ দিন আগে