হত্যা
খুলনায় মাছের ঘের ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা
খুলনার ডুমুরিয়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক মাছের ঘের ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুরে জোড়া বটতলা এলাকায় গফফার সানার চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তরিকুল ইসলাম (৩৫) ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন দুপুরে তরিকুল জোড়া বটতলা এলাকার ওই চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে এসে তার মাথায় গুলি করে পালিয়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে নিহতের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
সালিশের পর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় সালিশের পর গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে লামিয়া বৃষ্টির (১৯) সঙ্গে রবিউল ছৈয়ালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর রবিউল মাদক সেবন ও কারবারে পড়েন। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে মাদক সেবন ও বিক্রি বন্ধ করতে বলেন লামিয়া। এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরে না এলে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেবেন জানিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।
পারিবারিক বিরোধ মেটানোর কথা বলে সোমবার লামিয়াকে স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে তাদের বিরোধ মীমাংসাও করা হয়। কিন্তু সালিশ শেষে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
পরে লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর বোনকে খুঁজতে গিয়ে ডোবায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পর থেকে রবিউলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে লামিয়ার গলা কেটে তাকে ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযুক্ত রবিউলকে আটক করে পুলিশ।
নিহতের মা শাহিদা আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকে রবিউল প্রায়ই তার মেয়েকে মারধর করতেন। এ ঘটনায় তারা থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে লামিয়া বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সোমবার পারিবারিকভাবে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তাকে স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের পর তারা বাড়ি ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই মেয়েকে গলা কেটে হত্যার খবর পান তারা।
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পরপরই মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত রবিউলকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
ফেনীতে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মেয়ে আটক
ফেনীর দাগনভূঞায় মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর গ্রামের বাদশাহ মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেতারা বেগম (৮০) ওই গ্রামের মৃত হোসেন আহমেদের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রানু আক্তার (২৭) কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করায় চিকিৎসার জন্য তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। রবিবার রাতে হঠাৎ তিনি পরিবারের সদস্যদের একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে বটি দিয়ে মাকে কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই সেতারা বেগমের মৃত্যু হয়।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘরের লোহার দরজা ভেঙে সেতারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার এবং রানুকে আটক করে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, মেঝেতে পড়ে থাকা সেতারা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রানু মানসিক সমস্যার কারণে মাকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
১০ দিন আগে
‘বাড়ির মালিকের লাঠির আঘাতে’ ভাড়াটিয়া নিহত
খুলনা নগরীতে ভাড়া-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়ির মালিকের লাঠির আঘাতে ভাড়াটিয়া নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রকিবুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ বাড়ির মালিক মজলিস খান ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় বসুপাড়ার বকুলতলা শতরুপার মোড়ে ভাড়া নিয়ে বাড়ির মালিক মজলিস খান ও ভাড়াটিয়া রকিবুলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মজলিস খান লাঠি দিয়ে রকিবুলের মাথায় আঘাত করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই আজ (রবিবার) সকালে তার মৃত্যু হয়।
সোনাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আল মিরাজ খান বলেন, রকিবুলের মরদেহ মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, হত্যার অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়ির মালিক মজলিস খান ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
১১ দিন আগে
মাগুরায় যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার
মাগুরায় বাস কাউন্টার থেকে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।
নিহত সাকের মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। পৌর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বুধবার) ভোরে রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে সাকেরকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক মাইনুল হাসান জানান, ভোরে কয়েকজন ব্যক্তি সাকেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সাকেরের মাথার পেছনে ছিদ্রের মতো চিহ্ন পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের অস্থায়ী লাশঘরে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে সাকেরকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। তার বিরুদ্ধে গত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে ১০টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথার পেছনে একটি ছিদ্রের মতো চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
১৫ দিন আগে
নেশার টাকা না পেয়ে মাকে হত্যা, পাশের বাড়ি থেকে ছেলে আটক
পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় নেশার টাকা না দেওয়ায় মাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বৃলাড়ীবাড়ী ইউনিয়নের লক্ষীকুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোছা. সূর্যবানু (৬০) ওই এলাকার মৃত লোকমান সরদারের স্ত্রী। অভিযুক্ত তাদের সন্তান উদ্দিন সরদার (২৩)।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উদ্দিন সরদার মাদকাসক্ত এবং প্রায়ই মায়ের সঙ্গে নেশার টাকা নিয়ে ঝগড়া করতেন। আজকে (মঙ্গলবার) সকালে টাকা না দেওয়ায় মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন তিনি। এর পরও টাকা না পাওয়ায় কাস্তে দিয়ে মার গলা কেটে হত্যা করেন।
ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল হাসান মাসুদ জানান, নেশার টাকা না দেওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলেকে পাশের একটি বাড়ি থেকে গ্রিল কেটে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১৬ দিন আগে
জয়পুরহাটে চালককে হত্যা করে অটোভ্যান ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে যাত্রী সেজে অটোভ্যান ছিনতাই ও চালককে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জয়পুরহাট ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু কামাল।
গ্রেপ্তাররা হলেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি হাবিল উদ্দিন (৪১) এবং তার সহযোগী আনোয়ার হোসেন (৪৭), জাকারিয়া (২৯) ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বিপ্লব (৩৭)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর বিকেলে পাঁচবিবি উপজেলার শালাইপুর বাজার থেকে পাথরঘাটা যাওয়ার কথা বলে শাখাওয়াত হোসেনের অটোভ্যান ভাড়া করেন হাবিল। ভ্যানটি পাথরঘাটা সেতুর কাছে একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে হাবিল লোহার শাবল দিয়ে শাখাওয়াতের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়।
পরে শাখাওয়াতের গামছা দিয়ে রক্তের দাগ মুছে গামছা ও শাবল সেতুর নিচে ফেলে অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যান হাবিল। পরে চক্রের অপর সদস্য আনোয়ারের সহায়তায় ছিনতাই করা ভ্যানটি ৪৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এ ঘটনায় পাঁচবিবি থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। এরপর জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার শাবল, রক্তমাখা গামছা ও ভ্যান বিক্রির নগদ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি রাজু কামাল জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে সোপর্দ করার কাজ চলছে। সেই সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যে আরও কোনো দিক রয়েছে কি না, তা জানতে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
১৮ দিন আগে
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন গ্রেপ্তার
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যার ঘটনায় সুমন নামে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার সুমন স্কুলছাত্রীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির চালক।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে তাকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেপ্তার করে। সুমনকে নিয়ে পুলিশ কুমিল্লায় রওয়ানা দিয়েছে। কুমিল্লায় পৌঁছালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। তবে কখন সংবাদ সম্মেলন করা হবে সেই বিষয়ে তিনি কিছুই জানাননি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জান্নাতুল যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করছেন। তারা কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
এই ঘটনার পর নিহত জান্নাতুলের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২৭ দিন আগে
রংপুরে চার খুন: আলামতে অস্তিত্ব মিলল দুই আসামির ডিএনএর
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
তিনি জানান, নগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খেজুর, শসা, সিগারেটের ফিল্টারসহ কয়েকটি আলামতে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় এসব আলামতে পাওয়া জৈবিক নমুনার সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিলে গেছে। এতে হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে দুই আসামির অবস্থানের বিষয়ে তদন্তে নতুন ফরেনসিক তথ্য যুক্ত হলো।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে ওদের (সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ) যে আমরা ডিএনএ স্যাম্পলিং করাইছি, সেখানে আলামতে পাওয়া ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ম্যাচ করেছে।’
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা বাড়িতে অবস্থান করে খেজুর ও শসা খেয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খেজুরের বিচি, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের ফিল্টারে পুরুষের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল। তখন এসব নমুনা কার, তা শনাক্ত হয়নি। আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে এসব আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় তদন্তকারী সংস্থা।
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার কথা জানায় পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ, নিহত শিশুর খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ বিভিন্ন আলামত ছিল। এসব আলামত কয়েক দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর দুই আসামিকে ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় গত ২২ আগস্ট রাতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।
২৭ দিন আগে
ধানক্ষেত থেকে ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
রংপুরের পীরগঞ্জে বিপুল চন্দ্র বর্মন (৪২) নামের এক ভ্যানচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বড় মজিদপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিপুল চন্দ্র বর্মন উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মহান চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিজস্ব জমিজমা না থাকায় বিপুল অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদের পাশাপাশি দিনমজুরির কাজ করতেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে রাতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালান তিনি।
প্রতিদিনের মতো গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বিপুল। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে আজ (মঙ্গলবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।
স্থানীয়রা জানান, এদিন সকালে বড় মজিদপুর মৌজায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটি ধানক্ষেতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশে একটি ভ্যানও পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ধানক্ষেতের বেশ কিছু ধানগাছ ভাঙা ছিল। এ থেকে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে বিপুলের ধস্তাধস্তি হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের আটকে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৩০ দিন আগে