মৃত্যুদণ্ড
পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু: বরখাস্ত এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এ মামলার অন্য দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও তিনজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক দুই পুলিশ সদস্য হলেন হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাস।
এছাড়া সাত বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক আশেক এলাহী, সাবেক উপ-পরিদর্শক মো. হাসান উদ্দিন ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান।
পিপি মুমিনুল ইসলাম মোমিন জানান, মামলার ছয় আসামির মধ্যে একমাত্র আশেক এলাহী কারাগারে রয়েছেন। বাকি পাঁচ আসামি পলাতক।
তিনি আরও জানান, রায় ঘোষণার জন্য এদিন দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা আশেক এলাহীকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী মামলা করলে তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া যায়।
পরে তৎকালীন ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।
২০২১ সালের ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। এতে ছয়জনকে আসামি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি এসআই আকবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন। পরে তার জামিন স্থগিত হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।
এদিকে রায় ঘোষণার আগে আদালতে উপস্থিত হন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। আসামিরা পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ছয় বছর পর আজ রায় ঘোষণা হবে। কিন্তু এই রায় শুনে আমি কী করব? আমার রায়হানকে যারা নির্যাতন করে মেরেছে, তারা তো পালিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, আজ শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে। আসামিরা শাস্তি পাচ্ছেন না। তারা শাস্তি না পেলে তার ছয় বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে যাবে।
৫ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে হানিফের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অন্য তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। মামলার চার আসামির সবাই পলাতক রয়েছেন।
রায়ে আসামিদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব সম্পত্তি জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ মার্চ এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে উপস্থিত থেকে তার উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন করেন হানিফ। এছাড়া ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিয়ে তাদের হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হানিফের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী, আতাউর রহমানসহ দলের অন্য নেতারা সভা করেন। ওই সভায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সভা থেকে কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চার আসামির নির্দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালান। এতে ছয়জন নিহত হন। তারা হলেন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত ২ নভেম্বর মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
গত ১০ জুন মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আরও সাক্ষী ও নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়। এসব সাক্ষ্য ও নথিপত্রের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।
গত ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আবারও মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ আদেশ দেন, বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
৫ দিন আগে
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
জামালপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জনি (৩৫) জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক জানান, ২০১৪ সালের শেষের দিকে একই উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়ে তমাকে বিয়ে করেন জনি। চার মাস পর জনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কেনার জন্য আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে তমার পরিবার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।
এরপর ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ বেলা ১১টার দিকে জনি তার স্ত্রীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান জনি।
২০ মার্চ জামালপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং তমার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্তে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হলে জনিসহ চারজনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের মা উম্মে কুলছুম। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে আসামিদের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
ফজলুল হক বলেন, এ মামলার আসামিদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জনির অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক জনির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
৭ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে স্ত্রী-ছেলে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্ত্রী ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার ছয় বছর পর হারেজ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হারেজ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার গুলহরি (দুর্গাপুর) এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভোলাইল গেদ্দার বাজার এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ জুলাই রাতে হারেজ তার ছেলে সোহাগ (১৬) ও স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে (৩৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
নিহত মনোয়ারা বেগমের মেয়ে বিথি (১৩) ও বড় ভাই মজিবুর রহমান ওরফে মজিদ (৪০) অভিযোগ দায়ের করলে ৯ জুলাই ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২০ নভেম্বর পুলিশ আদালতে হারেজের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
৮ দিন আগে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুলিপির অপেক্ষায় ঢাকা
সম্প্রতি সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে বাংলাদেশ এখনও বিস্তারিত জানার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এ বিষয়ে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তাই দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগে সম্ভাব্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছে বাংলাদেশ।
এছাড়া বিদেশে কোনো বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে তাকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আগেই বাংলাদেশকে অবহিত করবে বলে প্রত্যাশা করে সরকার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এসব তথ্য জানান।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে ‘খুবই হতাশাজনক’ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং এখানে তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগে কেন ঘাটতি হয়েছে, তা জানতে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় অংশীদার সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। আমরা আলোচনা করছি।
পুরো প্রক্রিয়ার কোনো এক পর্যায়ে ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের সঙ্গে সৌদি আরবের সুসম্পর্ক ও গভীর বন্ধন রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
অন্যদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার সময় আরেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, এ ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তারা এখনও রায়ের অনুলিপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের অনুলিপি পাওয়া পর্যন্ত দয়া করে অপেক্ষা করুন। এরপর আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব এবং কী করা যেতে পারে তা খতিয়ে দেখব।
শামা ওবায়েদ বলেন, নিয়মিত বিরতিতে তারা আমাদের একটি তালিকা দেয়। ওই তালিকার মাধ্যমে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারি, কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কখন করা হয়েছে। তালিকায় তাদের নাম রয়েছে কি না, তা আমরা যাচাই করছি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে সরকার এখনও বিস্তারিত তথ্য পায়নি। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই। আমরা তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছি। তারা তা দিলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
বিদেশে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে সরকার তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
২০২৩ সালে সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে নিহত এক বাংলাদেশির দুই সন্তানের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেছিল সরকার। সোমবার পরিবারটি সেই ক্ষতিপূরণ পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একেক দেশের আইনি প্রক্রিয়া একেক রকম। সৌদি আরবেরও নিজস্ব আইনি কাঠামো রয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশে কোনো সৌদি নাগরিককে ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলে দেশটির কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হবে, যাতে তারা ওই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অন্তত তাদের জানা উচিত, তাদের একজন নাগরিক বাংলাদেশের মাটিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশও সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের কাছ থেকে একই ধরনের যোগাযোগ প্রত্যাশা করে, যাতে দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের সহায়তা করা যায়।
সৌদি আরবের নিজস্ব আইন রয়েছে এবং দেশটিতে ভ্রমণকারী সবাইকে সেই আইন মেনে চলতে হয় উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে মানুষ যে পবিত্র স্থানে যান, সেখানে কারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা
এর আগে রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়ার সঙ্গে আলোচনার সময় এ বিষয়ে আরও তথ্য চায় ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন বলে ইউএনবিকে জানান মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তবে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকটি তাকে তলবের অংশ ছিল না বলে ইউএনবিকে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তুললেও দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
আলোচনায় স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে ‘সচেতন’ থাকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বাকু ও বাগদাদে কবিরের কর্মসূচি
অন্যদিকে বিদেশ সফর নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, আজারবাইজানের বাকুতে সিআইসিএ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর তিনি ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে বাগদাদে যান।
তিনি এ সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বলেন, বৈঠকের ফাঁকে অনুষ্ঠিত আলোচনাগুলোতে আন্তর্জাতিক অংশীজনরা বাংলাদেশের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখিয়েছেন।
ওআইসির বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া রোহিঙ্গাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন কবির।
তিনি বলেন, আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওআইসির সদস্য দেশগুলো কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সফরকালে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আলোচনা হয়নি।
১৫ দিন আগে
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিস্তারিত তথ্য চাইলেন সচিব
সম্প্রতি সৌদি আরবে কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছে ঢাকা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তবে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকটি তাকে তলবের অংশ ছিল না বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিষয়টি তুললেও দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা।
আলোচনায় স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে ‘সচেতন’ থাকার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শনিবার প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরকার এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিস্তারিত তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ সৌদি সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে।
সম্প্রতি সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের যা যা জানার প্রয়োজন, সবকিছুই সৌদি সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির জবাব পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
১৬ দিন আগে
সৌদিতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ঢাকা
সৌদি আরবে সম্প্রতি বাংলাদেশি এক পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি বাংলাদেশ। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছে সরকার।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
এ ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি সরকারের কাছ থেকে আমরা এখনও বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাইনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি সরকারকে বাংলাদেশ চিঠি পাঠিয়েছে।
এর আগে সৌদি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কর্মকাণ্ডে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানিয়েছে নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিথি আক্তার হিসেবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জানতে পারে, সৌদি আরবের আইনে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা কার্যকরও করা হয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে আগাম কিছু জানানো হয়নি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশনের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে পাওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে ওই দুজন ব্যভিচারে লিপ্ত ছিলেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে তাদের আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে থাকতে পারে এবং সে অনুযায়ী দেশটির আদালত ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটির বিস্তারিত নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যা যা জানার প্রয়োজন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। জবাব আসলে তিনি জানাতে পারবেন।
এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো বলে মন্তব্য করে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। সৌদি আরবের একটি সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং সে সফরের প্রস্তুতিও চলছে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইনকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের মনে রাখতে হবে, তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে। একইভাবে বাংলাদেশে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে তাকেও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। তবে এটি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এ ধরনের খবর আমরা পেতে চাই না।’
সাংবাদিকেরা আবার জানতে চান, দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে না জানানোর কারণটি সরকার আলাদাভাবে জানতে চেয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে সৌদি সরকারের কাছে কোনো বার্তা দেওয়া হবে কি না।
জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের যা যা জানার প্রয়োজন, সবকিছুই সৌদি সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে দেশটির জবাব পাওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যা যা জানার দরকার, সবকিছুই আমরা জানতে চেয়েছি। এখন তাদের উত্তর আসুক। এরপর আবার জিজ্ঞেস করলে বলতে পারব।’
সৌদি সরকারের জবাব পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও সময় নিয়ে আলোচনা করা যাবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
১৭ দিন আগে
ফরিদপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে শিশুকে ধর্ষণ, যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় স্কুলে যাওয়ার পথে আট বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ (২৫) আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুন সকালে আকিদুল শিশুটিকে রাস্তা পার করে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পাশের বাঁশবাগানে নিয়ে যান। পরে সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পর শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বিদ্যালয়ে পৌঁছায়। শিক্ষকরা তার শারীরিক অবস্থা দেখে ও ঘটনার কথা শুনে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা আকিদুল শেখের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত।
১৯ দিন আগে
কৃষক হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে কৃষককে হত্যার দায়ে তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাদের বাবাসহ আরও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন আহাম্মেদ এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন নান্দাইলের চর লক্ষীদিয়া এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মোজাম্মেল হক স্বপন মিয়া (৪৬), আপন মিয়া (৪৩) ও রিপন মিয়া (৪১)।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক (৭১) ও তার আরেক ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৩৬), রুবেল (২৯), পারভেজ (৩১), মোফাজ্জল হোসেন (৫৬), কাশিদ (৫৯), আল-আমিন (৩১), সুমন মিয়া (৩৬), নয়ন মিয়া (২৯) ও আসাদুল (২৯)।
আসামিদের মধ্যে রিপন মিয়া ও আসাদুল পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নান্দাইলের চর ভেলামারীর হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্য আসামিদের জমি নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল।
২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাটে একটি কাপড়ের দোকানে বসে ছিলেন শফিকুল। এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আনোয়ার আজিজ টুটুল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল।
২৭ দিন আগে
ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে পোশাককর্মীকে হত্যা, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
রাজধানীর মিরপুরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে পোশাককর্মী সায়মনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চোরাই মোবাইল ফোন কেনার দায়ে সুজন নামের আরেক আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসান। সেই সঙ্গে চোরাই মোবাইল কেনার দায়ে দণ্ডিত সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সায়মন মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর তিনি বেতন পেয়ে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে বের হন।
কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী সায়মনের পথ আটকান। তাদের এক ছোট ভাইকে সায়মন মেরেছেন—এমন অভিযোগ তুলে তারা ভয়ভীতি দেখান এবং ‘কথা আছে’ বলে সায়মনকে সঙ্গে নিয়ে যান।
পরে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে দিয়ে তাকে মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর তারা চাকু বের করে সায়মনকে ভয় দেখান এবং তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন দিয়ে দিতে বলেন। সে সময় সায়মন টাকা ও মোবাইল দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তিনজন পালিয়ে যান।
সায়মনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ দারুস সালাম থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নেমে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে।
ইউসুফ ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ঘটনায় ইকবাল ও মেহেদী জড়িত থাকার কথা জানান তিনি।
এছাড়া সায়মনের মোবাইল ফোনটি সুজনের কাছে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করার কথাও জানান ইউসুফ।
২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে হত্যা এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল কেনার অপরাধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহান আহমেদ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
২৮ দিন আগে