লালমনিরহাট
শিশু নন্দিনী হত্যায় আসামির দায় স্বীকার, পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার করেছে গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র (২২)। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ওই এলাকার নলিনী কান্তের মেয়ে ছিল।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ঘাতক বিধানকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। সেই বিধানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে তার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক ও বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিন ঘণ্টা পর সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এ সময় স্থানীয়দের হামলায় এসপি-ওসিসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ডিসি-এসপির গাড়িসহ সরকারি ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার ঘটনাস্থলেই আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয়। আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আজ (বুধবার) সদর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুস সাকিব সজিবকে পদায়ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নন্দিনীর বাবা নলিনী কান্ত বাদী হয়ে আসামি বিধান, তার বাবা রনজিৎ ও মা সাবিত্রীকে অভিযুক্ত করে গতকাল (মঙ্গলবার) আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সে মামলায় বিধান ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিধান তার দায় স্বীকার করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক। যেখানে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন পুলিশ সুপার। তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত সোমবার বিকেলে নিখোঁজ হন শিশু নন্দিনী রায়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে গতকাল সকালে বাড়ির পাশে একটি ভুট্টাক্ষেতের গর্ত থেকে নন্দিনীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা ঘাতক বিধান চন্দ্রকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে মব সৃষ্টি করে তার বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। বিধানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে পুলিশের ওপর হামলা করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ, বিজিবি, আনসার ব্যাটালিয়নের যৌথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র নন্দিনীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের ক্ষোভে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে গ্রেপ্তার বিধান স্বীকার করেছে। তাই তাকে রিমান্ড চাওয়া হয়নি। আদালতেও দায় স্বীকার করে তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ করা হয়নি বলে অভিযুক্ত দাবি করলেও আমরা মর্গের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার বলতে পারব। আপাতত তাদের বাবা-ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যাহার ওসির স্থলে নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ঘটনা তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি মামলার প্রস্তুতি রয়েছে।
৩ দিন আগে
লালমনিরহাটে গরুবহনকারী ভটভটি গাড়ি উল্টে খামারি নিহত
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ভটভটি গাড়ি উল্টে মফিজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক খামারি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে পলাশী ইউনিয়নের রামদেব এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মফিজুল ইসলাম রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন গরুর খামারি ছিলেন ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকটি গরু নিয়ে ভটভটি গাড়িতে করে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি হাটে যাচ্ছিলেন মফিজুল ইসলামসহ কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী।
গাড়িটি রামদেব এলাকায় পৌঁছালে ভটভটিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গর্তে পড়ে উল্টে যায়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত গফুর ও ভটভটির চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আদিতমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
৩ দিন আগে
লালমনিরহাটে নন্দিনী হত্যা: মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন, পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে শ্বাসরোধে হত্যার শিকার সাত বছর বয়সী নন্দিনীর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে পুলিশ। পরে গতকাল রাতে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অন্যদিকে, এ ঘটনার জেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ তিন সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিহতের বাবা নলিনী কান্ত রায় বাদী হয়ে তিনজনের নামে হত্যা মামলা করেছেন।
ঘটনায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের আজ (বুধবার) আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে আটক ওই দুজনকে থানায় নিয়ে আসার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এতে ওসিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ডিসি-এসপির গাড়ীসহ সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ তিন সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
গত সোমবার নিখোঁজ হয় নন্দিনী। এরপর গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে বাড়ির পাশের ভুট্টাখেতে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার হয়। এরপর এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই এলাকায়। এর জেরে গতকাল দুপুরে স্থানীয়রা একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ অন্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে গ্রামটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ ও বিজিবি আটক সন্দেহভাজন বিধান ও তার বাবাকে থানায় নিয়ে যায়।
৩ দিন আগে
শিশু নন্দিনী হত্যা ঘিরে রণক্ষেত্র আদিতমারী, এসপি-ওসিসহ আহত অন্তত ২০
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী কান্ত রায়ের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ প্রশাসনের সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায় (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নন্দিনী ওই গ্রামের নলিনী কান্তের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল নন্দিনী। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। আজ (মঙ্গলবার) সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাখেতে নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এরপর স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বিধান চন্দ্রকে ওই ভুট্টাখেত থেকে কোদাল হাতে বের হতে দেখেছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয়রা তার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা বিধানকে আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
৪ দিন আগে
লালমনিরহাট সীমান্তবাসীর হুঁশিয়ারিতে পিছু হটল বিএসএফ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল গ্রামবাসী ও বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বিজিবি লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল জানায়, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮এস পিলার-সংলগ্ন এলাকায় রাত ৯টার দিকে ১০-১২ জনকে বহন করা একটি গাড়ি সীমান্তে দাঁড়ায়। ওই গাড়িতে থাকা লোকদের সীমান্তের কাটাতারের বেড়ার গেট পার করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেন বিএসএফ ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলীমারী ক্যাম্পের সদস্যরা।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক হুঁশিয়ারি দিয়ে পুশইন রোধে মাইকিং করে গ্রামবাসী ও বিজিবি। কিছুক্ষণ এসব লোকদের শুন্যরেখায় বসিয়ে রাখলে গ্রামবাসী ও বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে পুনরায় তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বিএসএফ। এ ঘটনায় সীমান্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুশইন রোধে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বিজিবি।
বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, যেকোনো ধরনের পুশইন রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে সকল ধরনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
৭ দিন আগে
লালমনিরহাটে তুচ্ছ ঘটনার জেরে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) রাতে উপজেলার সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লিয়াকত আলী লাদেন উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের আশরাফুলের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের রাব্বি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিতর্কের জেরে লিয়াকত আলী লাদেনকে গাঁজাখোর বলে গালি দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে লাদেন রাব্বিকে চড়-থাপ্পড় মারেন। বিষয়টি রাব্বি তার পরিবারকে জানালে তার বাবা ও বড় ভাই রকি লাদেনকে আক্রমণের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন। এর পরেও রাব্বির পরিবারের লাদেনের প্রতি ক্ষোভ থেকে যায়।
সোমবার রাত ৮টার দিকে লিয়াকত আলী লাদেন তার বাড়ির পাশের সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একা বসে ছিলেন। এ সময় রাব্বির বড় ভাই রকি পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে স্থানীয়রা লাদেনকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা অভিযুক্ত রকিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
১১ দিন আগে
সাব-রেজিস্টারশূন্য লালমনিরহাট: ভাড়াটে কর্মকর্তায় চলছে ৫ অফিস
জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল সম্পাদন এবং এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পালন করেন সাব-রেজিস্টার। অথচ লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই বর্তমানে স্থায়ী সাব-রেজিস্টারবিহীন। ফলে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রার্থীরা।
সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম উৎস জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন কর। এসব কর আদায়ের জন্য দলিল নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সাব-রেজিস্টাররা। কিন্তু জেলার পাঁচ উপজেলার পাঁচটি সাব-রেজিস্টার পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে অন্য জেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে অফিসগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।
সপ্তাহে পাঁচ দিন কর্মদিবস থাকলেও কর্মকর্তা সংকটের কারণে অধিকাংশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সপ্তাহে মাত্র এক বা দুই দিন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো অফিসে গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি দীর্ঘ আট থেকে নয় বছর ধরে শূন্য রয়েছে। পদায়নের বিষয়টি যেন কর্তৃপক্ষের নজরের বাইরে চলে গেছে।
সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শূন্য রয়েছে পাটগ্রাম উপজেলা সাব-রেজিস্টার পদ। জেলা রেজিস্টারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা এ উপজেলায় ২০১৭ সালে সাব-রেজিস্টার রতন অধিকারী বদলি হওয়ার পর থেকে নতুন কোনো কর্মকর্তা পদায়ন করা হয়নি। প্রায় নয় বছর ধরে অফিসটি চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে।
বর্তমানে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সাব-রেজিস্টার রাশেদুজ্জামান সপ্তাহে এক দিন পাটগ্রামে দায়িত্ব পালন করেন। একইসঙ্গে তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলা সাব-রেজিস্টারের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন। অর্থাৎ নিজের কর্মস্থল রাজারহাট ছাড়াও তিনি লালমনিরহাট সদর এবং প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের পাটগ্রাম—এই তিনটি অফিসের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা সাব-রেজিস্টার আহসান হাবিব ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল বদলি হওয়ার পর পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। একই দিনে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার সাব-রেজিস্টার রাশেদুজ্জামানও বদলি হন। এরপর থেকে এ দুই কার্যালয়ে কোনো স্থায়ী কর্মকর্তা নেই।
চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বিসিএস ক্যাডারে নির্বাচিত হয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা সাব-রেজিস্টার আরিফ ইশতিয়াক অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে, একমাত্র আদিতমারী উপজেলায় সাব-রেজিস্টার শিউলী খাতুন পদায়ন থাকলেও বর্তমানে দুই মাসের প্রশিক্ষণে রয়েছেন তিনি।
এভাবে লালমনিরহাটের পাঁচটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই কার্যত স্থায়ী কর্মকর্তাশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
বর্তমানে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সাব-রেজিস্টার কামরুন নাহার আদিতমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সাব-রেজিস্টার সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন হাতীবান্ধা অফিসে। আর কালীগঞ্জের তুষভান্ডার অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সাব-রেজিস্টার রিপন চন্দ্র মণ্ডল।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মস্থলের পাশাপাশি এসব অফিসে সপ্তাহে মাত্র এক বা দুই দিন সময় দিতে পারছেন। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীরা জানান, সাব-রেজিস্টার না থাকায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাজ না করেই ফিরে যেতে হয়। সপ্তাহে মাত্র এক দিন সাব-রেজিস্টার অফিসে এলে সেদিন আবার অনেক দাতা বা বিক্রেতা ছুটি পান না। ফলে দলিল নিবন্ধনের কাজ পিছিয়ে যায়। অনেক বিক্রেতা মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সময়মতো জমি বিক্রি করতে পারছেন না।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘ ভোগান্তির পর সাব-রেজিস্টার ও দলিলদাতা উভয়কে একসঙ্গে পাওয়া গেলেও নতুন সমস্যা দেখা দেয়। এক দিনে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্টারদের পক্ষে প্রতিটি দলিল যথাযথভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ভুলত্রুটি থেকে যাওয়ার এবং ভুলভাবে দলিল সম্পাদনের ঝুঁকি তৈরি হয়। সপ্তাহের পাঁচ দিনের কাজ এক দিনে সম্পন্ন করতে গিয়ে ভুল হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাব-রেজিস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকলে দলিল নিবন্ধন, নকল সরবরাহ, পুরোনো দলিল সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় কমে যায়, অন্যদিকে জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে সাব-রেজিস্টার পদায়ন করে স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা রেজিস্টার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলার পাঁচটি কার্যালয়ে সাব-রেজিস্টার পদে বাইরের জেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে সাব-রেজিস্টার পদায়নের জন্য কয়েক দফায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সাব-রেজিস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকলে অফিসের সার্বিক কার্যক্রম গতিহীন হয়ে পড়ে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত পদায়ন হলে এ জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
১৮ দিন আগে
সীমান্তহত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। দয়িত্ব পালন না করতে পারলে আমাদের দায়িত্ব দিন। আমরা সরকারে এলে ইনশাআল্লাহ সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করব।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুলের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত হত্যা বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সীমান্তে মানুষ মরলেও সরকার নিশ্চুপ থাকছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তারা যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে আমাদের দায়িত্ব দিক; আমরা সরকারে এলে ইনশাআল্লাহ সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করব। অস্ত্র না থাকলেও আমরা বাঁশ হাতে নিয়ে রেডি হব সীমান্তে।
তিনি বলেন, বিএসএফ গুলি করে বাংলাদেশি হত্যা করে আর বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় বয়ান উল্লেখ করে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ চোরাচালান করতে পারে না। বাংলাদেশের সকল মানুষ অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার। আমরা সীমান্তের শহিদদের পাশে থাকব। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, এ মানুষগুলোর জন্য ফাউন্ডেশন গঠন করে দেব। সীমান্তে শহিদদের সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মাছ ধরতে যাওয়া বাংলাদেশি খাদেমুলকে বিএসএফ গুলি করে শহিদ করেছে বলে এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।
এই রাজনীতিক বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যের সীমান্তে অস্থিতিরতা বিরাজ করছে। সে জায়গা থেকে আমরা সরকারকে বলব, রেড এলার্টে যাওয়ার জন্য, সীমান্তবাসীকে বলব সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য।
এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক বলেন, ইতিহাস থেকে চিন্তা করলে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন ওই সময় শেখ মুজিবের সঙ্গে ‘গুন্ডা বাহিনী’ ভারতে পলাতক ছিলেন। সেখান থেকে তারা জিয়াউর রহমান সরকারকে বিরক্ত করেছিলেন। একই কায়দায় শেখ হাসিনা ভারতে থেকে বাংলাশেদের মানুষকে বিরক্ত করে যাচ্ছে এবং তারা ওই দেশের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে মিলে সীমান্তে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। সরকারকে বলব, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘লিয়াজোঁ’ করবেন না। বরং আমরা এসে শেখ হাসিনাকে যদি ফাঁসির দড়িতে ঝুলাইতে পারি, তাহলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়ে যাবে এবং সীমান্তের মানুষ নিরাপদ থাকবে।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সরকারকে বলব সকল ধরনের পুশ-ইন বন্ধ করার জন্য। সীমান্তবাসীকে সজাগ থাকার জন্য, রাতে বাঁশ নিয়ে পাহারা দেওয়ার জন্য, যাতে ভারত থেকে তারা কাউকে পুশ-ইন করাতে না পারে। রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা ঝামেলায় আছি, নতুন করে ঝামেলা নিতে চাই না।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন, আপনারাও ভালো, আমরাও ভালো। আর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে এ সরকার থাকতে পারবে না। এ সরকার নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারছে না।
সাংবাদিক নিপীড়ন প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এখনও নিপীড়ন চলছে। আগে করত শেখ হাসিনা সরকার, এখন করছে বর্তমান সরকার। সকল সাংবাদিককে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি দিতে হবে। যারা সত্য সাংবাদিক আমরা তাদের পক্ষে। ভারতে পক্ষের ও মিথ্যা সাংবাদিকদের আমরা ছাড় দিব না।
এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক রাসেল আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী প্রথমে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুলের বাড়িতে যান। তাদের খোঁজখবর নেন। পরে তার কবর জিয়ারত করে হাতীবান্ধা ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল নামে এক স্থানীয় যুবক নিহত হন।
৩২ দিন আগে
লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাই নিহত
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের সলেডি স্প্যার বাঁধ এলাকায় তিস্তা নদীতে ডুবে তারা নিহত হন।
নিহতরা হলেন— লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের খলাইঘাট নিম্ন মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলামের ছেলে কলেজছাত্র সিফাত আহমেদ (১৮) ও নবম শ্রেণির ছাত্র স্বচ্ছ আহমেদ (১৪)। তারা দুই ভাই লালমনিরহাট ক্যান্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশে তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে অন্যান্য দিনের মতো আজ (শনিবার) সকালে গ্রামের সহপাঠীদের সঙ্গে খেলতে যান দুই ভাই সিফাত ও স্বচ্ছ। খেলা শেষে স্বচ্ছ তিস্তা নদীতে গোসলে নেমে গভীর পানিতে ডুবে যায়। ছোট ভাইকে বাঁচাতে নদীতে লাফ দিলে বড় ভাই সিফাতও ডুবে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ডাব্লু অধিকারী তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩৫ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে ঝরল আরও এক বাংলাদেশির প্রাণ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফের গুলিতে মো. খাদেমুল (২৫) নামে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ভোরে উপজেলার বনচৌকি বিওপির আমঝোল সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদেমুল ওই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৫/৬ এস নম্বর পিলার এলাকা হয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাকারবারির সঙ্গে ভারতের ১৫০ গজ ভেতরে অনুপ্রবেশ করেন খাদেমুল হক। এ সময় বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে খাদেমুলের মুখ, বুক ও মাথায় আঘাত লাগে।
সহযোগীদের সহায়তায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন খাদেমুল। পরে স্থানীয় ও তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
লালমনিরহাট বিজিবির ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলির কথা প্রাথমিকভাবে বিএসএফ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
৩৭ দিন আগে