লালমনিরহাট
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে: ত্রাণমন্ত্রী
হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার।
রবিবার (৩ মে) লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শহিদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে ‘বিদ্যানন্দ আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্প ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় লাখ লাখ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।
তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে সহায়তা পাবেন।
আগামী ৬ মে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য সুনামগঞ্জ সফরে যাবেন মন্ত্রী।
এদিকে, অনুষ্ঠানে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১০১টি অসহায় পরিবারের মাঝে আয়বর্ধক উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল দোকানের মালামাল, ভ্যানগাড়ি, গরু এবং সেলাই মেশিন।
২ দিন আগে
লালমনিরহাটে পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে কৃষক নিহত
লালমনিরহাটে পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মরিচ খেতে উল্টে পড়ে মনছের আলী (৬৩) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) সকালে লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়কে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া এয়ারপোর্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মনছের আলী ওই এলাকার পয়ের উল্ল্যাহর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কৃষক মনছের আলী নিজ বাড়ির পাশে মরিচ খেত দেখতে বের হয়েছিলেন। এ সময় রংপুর থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। মনছের তখন ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয় জনতা চালক ও সহকারীকে আটক করে। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। আটক চালক ও সহকারীকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
৫ দিন আগে
লালমনিরহাটে মাদকের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানের ৫ বছরের জেল
লালমনিরহাটে মাদকের মামলায় হুমায়ুন আহমেদ কবির নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানকে ৫ বছরের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রওশন আলম এ আদেশ দেন।
সাজাপ্রাপ্ত হুমায়ুন আহমেদ কবির জেলার আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন আহমেদ কবির ২০১২ সালের ১৬ মে একটি পিকআপ ভ্যানে ভুট্টা বোঝাই করে লালমনিরহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা শহরের পুরান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশ ওই পিকাপটি তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৩৪৪টি নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের বোতল উদ্ধার করে।
এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন আহমেদ কবির এবং তার সহযোগী সেকেন্দার আলীকে (৪৫) আটক করে পুলিশ। পরে লালমনিরহাট সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে তাদের জেলহাজতে পাঠান।
ওই মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ (বুধবার) আদালতের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট জিন্নাত আরা ফেরদৌসী রোজি জানান, আদালত ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন আহমেদ কবিরকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, আনাদায়ে আরও ১৫দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। বুধবার বিকেলেই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
৬ দিন আগে
মোটরসাইকেলচালককে ‘থাপ্পড় মারার’ পর সেই ইউএনওর ‘লাঠি হাতে’ ভিডিও ভাইরাল
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাম্পে তেল নিতে আসা এক মোটরসাইকেলচালককে থাপ্পড় মারার অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার লাঠি হাতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে চাপারহাট বাজারের লুবানা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে আসা নদী নামে এক গ্যারেজ কর্মচারীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে ইউএনও শামীমার বিরুদ্ধে। অসুস্থ এক কলেজ শিক্ষকের ফুয়েল কার্ড ব্যবহার করে নদী তেল নিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, গত ২১ এপ্রিল কালীগঞ্জের ভুল্যারহাট এলাকায় অবস্থিত মোজাহার ফিলিং স্টেশনে শামীমা আক্তার জাহান লাঠি হাতে তদারকি করছেন। ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তার আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অপেশাদার আচরণ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কালীগঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভিন্ন হাটবাজার ইজারা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বণ্টনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করছেন তারা।
ভুক্তভোগী নদীর দাবি, কোনো ধরনের অপরাধ ছাড়াই তাকে মারধর করা হয়েছে। তিনি জানান, গ্যারেজ মালিকের নির্দেশে একজন অসুস্থ শিক্ষকের কার্ড নিয়ে তিনি তেল নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ইউএনও কোনো কথা না বলেই তাকে থাপ্পড় মারেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান। তার দাবি, তিনি কাউকে মারেননি, বরং নিয়ম না মানায় মোটরসাইকেলের চাবি জব্দ করেছিলেন। পরবর্তীতে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে চাবি ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমান কর্মস্থলের পাশাপাশি পূর্ববর্তী কর্মস্থল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একটি প্রকল্পে ভুয়া শিক্ষাকেন্দ্র দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।
১২ দিন আগে
জালিয়াতি ও অর্থ কেলেঙ্কারি: রেলওয়ের দুই কর্মচারীর ‘গুরুদণ্ড’
পরস্পরের যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে একই ঠিকাদারি কাজের বিল দুইবার উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের দুই কর্মচারীকে চাকরিবিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিন। তারা দুজনই লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) দপ্তরের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
লালমনিরহাট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, শাস্তির অংশ হিসেবে তাদের দুজনকেই পাঁচ বছরের জন্য বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে বদলি করা হয়েছে।
রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লালমনিরহাট স্টেশন থেকে আদিতমারী পর্যন্ত রেললাইনের ‘প্রোটেকশন ওয়াল’ নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স রিচ ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কাজ শেষে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি একটি অর্থনৈতিক কোডের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৫ টাকা ২৭ পয়সা পরিশোধ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ভিন্ন অর্থনৈতিক কোড ব্যবহার করে একই পরিমাণ অর্থ পুনরায় উত্তোলন করে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যা গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির শামিল।
বিষয়টি উদঘাটন করেন লালমনিরহাটের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন) মো. শিপন আলী। এরপর ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এ ঘটনা তদন্তের জন্য সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীকে (এইএন) আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধি দ্বিতীয়বার বিল উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা জানান, তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিনের পরামর্শে প্রলুব্ধ হয়ে তারা এ কাজ করেছেন। তবে ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার উত্তোলিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রথম বিল প্রক্রিয়াকরণে তারিকুল ইসলাম জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও দ্বিতীয়বার বিল প্রদানের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না বলে দাবি করেন। কিন্তু নথিপত্রে দেখা যায়, দ্বিতীয়বার বিল পাঠানোর ক্ষেত্রেও তার সই রয়েছে।
অন্যদিকে, রইছ উদ্দিন নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও তদন্তে প্রমাণিত হয় যে বিল প্রক্রিয়াকরণ, রেজিস্টার সংরক্ষণ, অগ্রায়ন পত্র প্রেরণ এবং হিসাব বিভাগের প্রত্যয়ন সংগ্রহসহ পুরো প্রক্রিয়ায় তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, রইছ উদ্দিন রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী দপ্তরে কর্মরত অবস্থায়ই নিজের ভাইয়ের নামে লাইসেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ করতেন এবং গত পাঁচ বছরে একাধিক টেন্ডার লাভ করেন। এসব কাজ তিনি অন্যের মাধ্যমে সম্পন্ন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কমিটি সাক্ষ্য, জবানবন্দি ও দাপ্তরিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে দেয়, একই কাজের বিল পুনরায় উত্তোলনের ক্ষেত্রে তারিকুল ইসলাম ও রইছ উদ্দিনই মূল পরিকল্পনাকারী এবং অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ফলে ‘রেলওয়ে কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) বিধি, ১৯৬১’ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ‘গুরুদণ্ড’ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা প্রায় আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছি। সব তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছি যে অভিযুক্তরা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শিপন আলী বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
১৩ দিন আগে
ভারতে নির্বাচন: ৪ দিন বন্ধ থাকছে বুড়িমারী স্থলবন্দর
ভারতের বিধান সভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা ৪দিন বন্ধ থাকছে ‘ত্রিদেশীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র’ খ্যাত লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম নিয়াজ নাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের বিধান সভার নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভারতের পশ্মিমবঙ্গের কুচবিহার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটি আদেশ জারি করে গতকাল (সোমবার) পত্র পাঠান।
পত্রে বলা হয়েছে, বিধান সভার নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত ভারতের চ্যাংরাবান্ধা ও বাংলাদেশের বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বিধান সভার নির্বাচনের ছুটির সঙ্গে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় স্থলবন্দর টানা ৪ দিন বন্ধ থাকবে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।
এ ব্যাপারে এএসএম নিয়াজ নাহিদ বলেন, ভারতের বিধান সভা নির্বাচন ঘিরে মঙ্গলবার থেকে টানা ৪ দিন বুড়িমারী স্থলবন্দরে সকল ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই নোটিশটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পাঠানো হয়েছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান বলেন, এই অবরুদ্ধ সময়ে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারবেন না। তবে যারা চিকিৎসাসেবা নিতে যাতায়াত করবেন, তাদের জন্য শিথিল করা হবে। এর মধ্যে ভুটান ও নেপালগামীরাও অর্ন্তভুক্ত বলে জানান তিনি।
১৫ দিন আগে
সাবেক এমপি সফুরা বেগম রুমীর জামিন নামঞ্জুর
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে তাকে লালমনিরহাট আমলী আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আজ (বৃহস্পতিবার) তাকে লালমনিরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
গ্রেপ্তার সফুরা বেগম রুমী লালমনিরহাট শহরের তালুক খুটামারা এলাকার বাসিন্দা। তিনি সংরক্ষিত নারী আসন-২ (লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম)-এর সাবেক সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নাশকতা ও হত্যাসহ ৫টি মামলার আসামি সফুরা বেগম রুমী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর আজ বিকেলে তাকে লালমনিরহাট আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
আদালতে নেওয়ার পর তার পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। তবে, বিচারক তাকে লালমনিরহাট সদর থানার একটি মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। লালমনিরহাট জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হামার বাড়ি ভাঙচুর মামলায়ও তাকে জামিন দেওয়া হয়নি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু আহাদ খন্দকার লেলিন বলেন, আদালত একটি মামলায় জামিন দিলেও অপর একটি মামলার জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দিয়েছেন। আশা করছি আগামী কার্যদিবসে তিনি জামিন পাবেন।
লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, লালমনিরহাট সদর থানায় ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারিতে করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২৬ দিন আগে
লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি কৃষক আহত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান (২৪) নামে এক বাংলাদেশি কৃষক গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমতপুর সীমান্তের গাডিয়ার ভিটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত মিজান ওই গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিনি সীমান্তের পাশে ধানখেতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার সরকারপাড়া ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট (গুলি) ছোড়েন। একটি গুলি মিজানের শরীরে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রংপুর মেডিকেলে কলেজ (রমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মিজান নামে একজন কৃষক আহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে এখনও এ ঘটনায় বিজিবির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২৯ দিন আগে
লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে আইয়ুব আলী (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে লালমনিরহাট বুড়িমারী রেলরুটে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের সুকানদীঘি রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ওই এলাকার মনির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধ আইয়ুব আলী ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশে রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েন। এ সময় বুড়িমারী থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী একটি ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, লোকমুখে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
৩৭ দিন আগে
লালমনিরহাটে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
লালমনিরহাটে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন উঠতি ফসলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে অনেকের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে, উড়ে গেছে বেড়া ও ছাউনি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে জেলার পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গিয়ে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। বড় আকারের শিলার আঘাতে অনেক ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে ভিজে যায় আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বাতাসে উড়ে গিয়ে ঘরবাড়ির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং অনেক এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে।
ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, তামাক, বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরের টিন উড়ে গিয়ে দূরের মাঠ ও গাছের ডালে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মোচা আসা ভুট্টা গাছ মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ায় এসব খেতের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফসলের ক্ষতিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
এছাড়া ঝড়ে গাছ পড়ে বিভিন্ন এলাকার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও সদর উপজেলার হারাটি ও খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ও কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন এবং তিস্তাচরাঞ্চলের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
ভোটমারী এলাকার চাষি তমিজ উদ্দিন বলেন, চড়া দামে সার, বীজ ও সেচ দিয়ে তিন বিঘা জমিতে করা ভুট্টা খেত মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। মোচা আসা গাছ পড়ে গেলে আর ফলন হবে না। ঋণ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি। ঘরের টিনও পাথরের আঘাতে ছিদ্র হয়ে গেছে।
তামাকচাষি শাহ আলম বলেন, তামাক পাতা ভেঙে শুকাতে দেওয়া ছিল। শিলাবৃষ্টির আঘাতে খেতে থাকা ও শুকাতে দেওয়া সব তামাক পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে তামাকের গুণগত মান ও ওজন কমে যাবে, ফলে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়নের বেশ কিছু ঘরের টিন ঝড়ে উড়ে গেছে। প্রায় একশ পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর ফয়সাল আলী বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
৩৮ দিন আগে