চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শফিল্লাহ (৬০) আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রতিটি অ্যাম্পুলে দুই মিলিলিটার করে বুপ্রেনরফাইন ছিল। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য ছিল ছয় হাজার ৬০০ টাকা।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। মাদকের বিস্তার রোধে এ রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান বাস্তবায়নে এ ধরনের রায় ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
৮ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় কয়েদির মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদি সদর হাসপাতালে মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
মৃত আনোয়ার হোসেন (৬৪) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র স্কুলপাড়ার মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে।
জেলার সাখাওয়াত জানান, গতকাল (বুধবার) রাতে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন আনোয়ার। কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাত ১১টার দিকে তাকে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আনোয়ারের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারার একটি মামলায় আদালত আনোয়ার হোসেনকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে আসেন।
১৪ দিন আগে
দর্শনা ইমিগ্রেশন দিয়ে দেশত্যাগের সময় হত্যা মামলার আসামি আটক
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশত্যাগের সময় হত্যা মামলার আসামি মো. মাহবুব আলমকে (৪৯) আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে তাকে আটক করা হয়।
দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব আলম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুগিয়া দরগাপাড়া এলাকার আনসার শেখের ছেলে। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা।
দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন মিয়া জানান, কুষ্টিয়া সদর থানায় করা একটি মামলায় তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
২৭ দিন আগে
হাতকড়াসহ পালালেন আ. লীগ নেতা, স্বজনদের হামলায় আহত ২ পুলিশ সদস্য
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আবু ছিদ্দিক মেম্বারকে আটক করতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় হাতকড়া পরা অবস্থায় আটক ব্যক্তি পালিয়ে যান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আবু ছিদ্দিক কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীরা জানান, রাতে দর্শনা থানা পুলিশের একটি দল চণ্ডীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবু ছিদ্দিককে আটক করে। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেন। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় আবু ছিদ্দিক পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় পুলিশ চণ্ডীপুর হালদারপাড়ার রবি হালদারের ছেলে লক্ষ্মণ, সেলিমের ছেলে ফিরোজ, সঞ্চয়ের স্ত্রী কণা ও সনজিতের স্ত্রী সোনালীকে গ্রেপ্তার করেছে।
দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছিদ্দিককে আটক করতে গেলে তার পরিবারের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় আমাদের দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মুখলেসুর রহমান বলেন, আবু ছিদ্দিককে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৩৫ দিন আগে
নিখোঁজের ৬ দিন পর যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর আমগাছ থেকে মামুন হোসেন অন্তর (৩১) নামের একজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার উথলী ডিগ্রি কলেজের কাছে একটি পুকুরপাড়ের আমগাছ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মামুন উথলী গ্রামের আখ সেন্টারের পাশে থাকতেন। তার বাবার নাম আনসার আলী।
স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে মামুন নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। কয়েকদিন তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেছেন বলেও জানা যায়।
পরে আজ (মঙ্গলবার) পুকুরপাড়ের একটি আমগাছের সঙ্গে মামুনের মরদেহ ঝুলতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
৪৪ দিন আগে
‘মদ্যপ অবস্থায় ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর-লুটপাট’, চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতা ব্রাইটসহ আটক ২
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাদের আটক করা হয়। পরে গতকাল রাতেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দর্শনা থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আটককৃতরা হলেন: দর্শনা থানা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট ও কলেজ ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ অমিন।
ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, সম্প্রতি আমদানিকৃত পাথরের চালানের পণ্য খালাসের একটি কাজ নিয়ে আরেক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মোহাম্মদ রায়হানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের সুযোগে একটি চক্র তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বৃহস্পতিবার রাতেও তাকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে টাকা না দিলে অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর হুমকি দেওয়া হয়।
রফিকুলের অভিযোগ, এর কিছুক্ষণ পর শুক্রবার দুপুরে দর্শনা রেলগেট এলাকায় তার অফিসে লাঠিসোটা নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। হামলাকারীদের অনেকে মদ্যপ ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
৬১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীসহ ৪ জনের মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার সদর ও দামুড়হুদা উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন ইজিবাইক চার্জ দিতে গিয়ে, স্বামী-স্ত্রী বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় এবং অপর একজন বৈদ্যুতিক মোটর চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের চকপাড়ায় নিজ বাড়িতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন নাসির উদ্দীন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ও পেশায় ইজিবাইকচালক।
নিহতের প্রতিবেশী নয়ন জানান, অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর নাসিরকে পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আল বেলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন জানান, নাসিরকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
অন্যদিকে, দুপুর ৩টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের কালিয়াবকরী গ্রামে বৈদ্যুতিক মেশিনে গরুর ঘাস কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন কৃষক লিটন আলী। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্ত্রী লিপা খাতুনও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা দুজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তাদের শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে।’
এছাড়া দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুরে একটি বাড়ির বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শফিকুল ইসলাম ওরফে বরু (৪৮) নামের আরেক ব্যক্তি নিহত হন।
সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় লোকনাথপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শফিকুল দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিপাড়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটর চুরির উদ্দেশ্যে কেরামত আলীর বাড়িতে প্রবেশ করেন শফিকুল। একপর্যায়ে বাড়ির কলপাড়ে থাকা মোটরের বৈদ্যুতিক সংযোগ কাটার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে তার শরীরের কয়েকটি অংশ পুড়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলেই শফিকুলের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ভোরে বাড়ির এক নারী তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, দামুড়হুদা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
৬৫ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ
ইজিবাইক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাস ও মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর এবং বাস আটকে রাখার অভিযোগের জেরে চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ।
স্থানীয় ও পরিবহন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকের চালক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য এবং বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেন।
এ ঘটনার জেরে ওই ইজিবাইকচালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলুকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসে হামলা চালান এবং তাদের জিম্মি করে রাখেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিম্মি থাকা চালক ও সুপারভাইজারকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা দৌলতদিয়াড় এলাকায় সড়ক আড়াআড়িভাবে বাস রেখে অবরোধ করেন। পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায্য বিচারের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (শুক্রবার) দিনভর চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়াসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।
আজ শনিবার থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে না পেরে অনেককে বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকে আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসযাত্রীরা বলেন, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাজে গন্তব্যে যেতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে।
এক যাত্রী বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের যে দাবি বা সমস্যা রয়েছে, তার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের দুর্ভোগে পড়তে না হয়।’
এদিকে, মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল করবে না।
৬৮ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় সব সরকারি আইনজীবীর নিয়োগ বাতিল, নতুন জিপি-পিপি নিয়োগ
চুয়াডাঙ্গা জেলার বিচার বিভাগীয় বিভিন্ন আদালতে আগে নিয়োগ পাওয়া সব সরকারি আইনজীবীর নিয়োগের আদেশ বাতিল করে নতুন করে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের (জিপি-পিপি শাখা) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারা এবং ১৯৬০ সালের ‘লিগ্যাল রিমেমব্রান্সার্স ম্যানুয়াল’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী সরকারের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) পদে অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল খালেক এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পদে অ্যাডভোকেট মো. মারুফ সারোয়ার বাবুকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর পদে অ্যাডভোকেট মুন্সি মো. শাহাজাহান মুকুল এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর পদে আ স ম আবদুর রউফকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে পারিবারিক আপিল আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান বদি এবং অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জেলা জজ আদালতে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি পদে অ্যাডভোকেট এস এম আসাদুজ্জামান গনি সালাম ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ হেদায়েত হোসেন আসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম-১, অ্যাডভোকেট এস এন এ হাসেমী, অ্যাডভোকেট মো. আহসান আলী, অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ এবং অ্যাডভোকেট মোছা. আফরোজা আক্তার।
এছাড়া, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এজিপি) পদে অ্যাডভোকেট মো. আলী হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এরশাদ, অ্যাডভোকেট মো. জামাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট এস এম হুমায়ুন কবীর ও অ্যাডভোকেট মোছা. সেলিনা খাতুনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) পদে ১৮ জন আইনজীবী নিয়োগ পেয়েছেন। তারা হলেন: মো. মঈন উদ্দীন (মঈনুল), মো. মানজার আলী জোয়ার্দ্দার (হেলাল), এস এম সাইদুজ্জামান গনি টোটন, মো. জিলুর রহমান জালাল, মো. আসাদুজ্জামান মিল্টন, মো. মাসুদুর রহমান, মো. ফারজ আলী, মো. মশিউর রহমান পারভেজ, মোছা. রুবিনা পারভীন রুমা, মো. শাহাজামাল জামাল, মো. জহুরুল ইসলাম, মো. হাসানুজ্জামান, মো. আশরাফুল হক উজ্জ্বল, মো. শাহরিয়ার নেওয়াজ অতি, মো. আবদুস সালাম মুক্তা, মো. আতিয়ার রহমান-২, মো. ওহিদুজ্জামান মুকুল এবং মেহেদী হাসান নয়ন।
আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নতুন নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশ পুনর্বিবেচনা বা নতুন কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তারা নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে চুয়াডাঙ্গার বিচার বিভাগীয় আদালতগুলোতে সরকারি পক্ষের আইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নতুন আইন কর্মকর্তারা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
৭৮ দিন আগে
ঘাস মারতে জমিতে বিষ প্রয়োগ, দর্শনায় মারা গেল শতাধিক দেশীয় পাখি
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় ঘাসের জমিতে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় প্রায় শতাধিক দেশীয় পাখি মারা গেছে। এ ঘটনায় গতরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত জমির মালিকের ছেলেকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণপাড়ার আতিয়ার রহমান তার ঘাসের জমিতে ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনে বিষ প্রয়োগ করেন। পরে বিষমিশ্রিত ধান ও বিষাক্ত পোকামাকড় খেয়ে সেদিন রাত থেকে পরদিন রবিবার দিনভর বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি মারা যেতে থাকে।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গতরাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দামুড়হুদা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শাহীন আলম। এ সময় জমির মালিকের ছেলে রাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেন।
পরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজনকে ৫০০ টাকা জরিমানাসহ ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করতে সতর্ক করেন তিনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম বলেন, ফসল রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কীটনাশকের কারণে পাখিসহ পরিবেশের ক্ষতি হয় এমনভাবে বিষ প্রয়োগ করা যাবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কৃষকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
৮০ দিন আগে