পরিবেশ-ও-কৃষি
দূষিত বায়ুর শহরের বিশ্বতালিকায় আজ সকালে ঢাকার অবস্থান ৬ষ্ঠ
আজ শনিবার সকালে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৩৪ মিনিটে শহরের বায়ু মান সূচক (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ১৩০।
একিউআই স্কেল অনুযায়ী বাতাসের মানকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো শিশু, প্রবীণ এবং হৃদরোগ বা ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে, তবে সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব খুব একটা পড়ে না।
১৯৪ একিউআই স্কোর নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিনশাসা—যাদের একিউআই স্কোর ছিল যথাক্রমে ১৭২ ও ১৬১
একিউআই মানদণ্ড অনুসারে, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। আর বায়ুর মান ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘সহনীয়’ ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যের স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয় এবং ৩০১-এর ওপরের মাত্রাটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
একিউআই দৈনিক ভিত্তিতে বায়ুর মানের আপডেট প্রদান করে, যা বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত তা নির্দেশ করে এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব তুলে ধরে।
বাংলাদেশে মূলত পাঁচটি প্রধান দূষণ পদার্থের ওপর ভিত্তি করে একিউআই হিসাব করা হয়: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের সমস্যায় ভুগছে। সাধারণত শীতকালে বাতাসের মান খারাপ হয় এবং বর্ষাকালে তা উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার ও তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে।
২১ ঘণ্টা আগে
ঢাকায় আজ সকালে বায়ুর মান ‘সহনীয়’, বিশ্বতালিকায় অবস্থান ৩৭তম
আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ৩৭তম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে শহরের বায়ু মান সূচক (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ৬৪।
একিউআই স্কেল অনুযায়ী বাতাসের মানকে ‘সহনীয়’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো বাতাসের মান সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য, যদিও অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সামান্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব পড়তে পারে।
২৩৯ একিউআই স্কোর নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ডিআর কঙ্গোর কিনশাসা। মালয়েশিয়ার কুচিং ও পাকিস্তানের লাহোর ১৯৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
একিউআই মানদণ্ড অনুসারে, ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। আর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যের স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয় এবং ৩০১-এর ওপরের মাত্রাটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
একিউআই দৈনিক ভিত্তিতে বায়ুর মানের আপডেট প্রদান করে, যা বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত তা নির্দেশ করে এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব তুলে ধরে।
বাংলাদেশে মূলত পাঁচটি প্রধান দূষণ পদার্থের ওপর ভিত্তি করে একিউআই হিসাব করা হয়: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের সমস্যায় ভুগছে। সাধারণত শীতকালে বাতাসের মান খারাপ হয় এবং বর্ষাকালে তা উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার ও তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে।
২ দিন আগে
ঢাকায় আজ সকালে বায়ুর মান ‘সহনীয়’, বিশ্বতালিকায় অবস্থান ৫০তম
আজ বুধবার সকালে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ৫০তম।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ২২ মিনিটে শহরের বায়ু মান সূচক (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ৫৫।
একিউআই স্কেল অনুযায়ী বাতাসের মানকে ‘সহনীয়’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো বাতাসের মান সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য, যদিও অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সামান্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব পড়তে পারে।
২০৭ একিউআই স্কোর নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ডিআর কঙ্গোর কিনশাসা ও মালয়েশিয়ার কুচিং যথাক্রমে ১৯৮ ও ১৭৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
একিউআই মানদণ্ড অনুসারে, ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। আর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যের স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয় এবং ৩০১-এর ওপরের মাত্রাটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
একিউআই দৈনিক ভিত্তিতে বায়ুর মানের আপডেট প্রদান করে, যা বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত তা নির্দেশ করে এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত প্রভাব তুলে ধরে।
বাংলাদেশে মূলত পাঁচটি প্রধান দূষণ পদার্থের ওপর ভিত্তি করে একিউআই হিসাব করা হয়: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড ও ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের সমস্যায় ভুগছে। সাধারণত শীতকালে বাতাসের মান খারাপ হয় এবং বর্ষাকালে তা উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার ও তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে।
৩ দিন আগে
শখের ময়ূরই বদলে দিয়েছে কুমিল্লার শাহ আলীর জীবন
ময়ূরের পেখম মেলে নাচ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের বাবরকান্দি গ্রামের যুবক মো. শাহ আলী। সেই মুগ্ধতা থেকেই শখের বসে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে এক জোড়া ময়ূর কিনেছিলেন তিনি। এরপর আরও পাঁচটি ময়ূর সংগ্রহ করেন।
সেই সাতটি ময়ূর থেকেই বংশবিস্তার করে গড়ে তোলেন ময়ূরের খামার। আর এই খামারি তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
শাহ আলীর খামারে বর্তমানে ৮৫টি ময়ূর রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বড় ময়ূরসহ খামারের ময়ূরগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন তিনি। ময়ূর পালনের পাশাপাশি গরু, ছাগল, ভেড়া, তিতির ও কোয়েল পাখিও পালন করছেন তিনি।
বাবরকান্দি গ্রামে ময়ূরের খামারি বলতেই সবাই শাহ আলীকে চেনেন। অনেকে তাকে ‘ময়ূর শাহ আলী’ নামেও ডাকেন।
সরেজমিনে তার খামারে গিয়ে দেখা যায়, খামারের ভেতর মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে রঙিন ময়ূর। কেউ কেউ পেখম মেলে নাচছে। ময়ূরের সৌন্দর্য দেখতে এবং কিনতে তার বাড়িতে দেখা যায় মানুষের ভিড়।
শাহ আলী বলেন, আমি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। ঢাকার বাড্ডায় থাকার সময় বাবা গরুর খামার করেছিলেন। আমি গরুর জন্য ঘাস কেটে দিতাম। পাশাপাশি মিরপুর এলাকায় পাখি কেনাবেচা করতাম। সেখানেই দুটি ময়ূর দেখে ভালো লেগে যায়।
তিনি জানান, পাখি ও গরু বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে প্রথমে এক জোড়া ময়ূর কেনেন। ওই জোড়া ১৮টি ডিম দেয়। সেখান থেকে ১২টি বাচ্চা ফোটে। পরে গ্রামে ফিরে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি টিনশেড ঘর তৈরি করেন। এরপর আরও আড়াই লাখ টাকা দিয়ে চারটি নারী ও একটি পুরুষ ময়ূর কেনেন তিনি। সাতটি ময়ূর ১৪০টি ডিম দেওয়ার পর সেখান থেকে ১২৮টি বাচ্চা ফোটে।
শাহ আলী বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ময়ূর কেনা, খাবার, পরিচর্যা ও টিনশেড ঘর নির্মাণসহ এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছি। বর্তমানে খামারে প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৮৫টি ময়ূর রয়েছে।
ময়ূরের বয়স ও আকারভেদে প্রতি জোড়া ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি করেন তিনি। বড় এক জোড়া ময়ূর সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ময়ূরের একেকটি পালক ২০ থেকে ৫০ টাকা এবং ডিম একেক হালি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
ময়ূরের খাবার সম্পর্কে শাহ আলী বলেন, মুরগির খাবারের পাশাপাশি লালশাক, পালং শাক, বাঁধাকপি ও কলমিশাক খাওয়াই। আগে আমি একাই দেখাশোনা করতাম। এখন মাসে ৫ হাজার টাকা বেতনে একজন নারী কর্মী রেখেছি। কর্মীর বেতনসহ খামারে মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি।
শাহ আলীর পরামর্শ, শুরুতেই বড় পরিসরে ময়ূরের খামার করা উচিত নয়। প্রথমে এক-দুই জোড়া পালন করে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর খামার করার উদ্যোগ নেওয়া ভালো। কারণ ময়ূর যখন-তখন বিক্রি করা যায় না। তাই পাশাপাশি অন্য আয়ের উৎস থাকা প্রয়োজন।
বাবরকান্দি গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ময়ূরের খামারের কারণে আমাদের গ্রামটিও এখন জেলা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিতি পেয়েছে।
হোমনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম বলেন, হোমনা উপজেলায় শাহ আলীরই ময়ূরের খামার রয়েছে। আমরা নিয়মিত তার খামার পরিদর্শন করি এবং সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।
শখের বসে এক জোড়া ময়ূর দিয়ে শুরু করা শাহ আলীর উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে খামারে। ময়ূরের সৌন্দর্য যেমন দর্শনার্থীদের টানছে, তেমনি এর বিক্রিও এনে দিয়েছে আয়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার করার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
৭ দিন আগে
উত্তরাঞ্চলে আমন চাষ বেড়েছে, ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন কৃষকদের
উত্তরাঞ্চলের মাঠে মাঠে আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এবার স্বস্তিতে রয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন চাষ এবং ভালো ফলনের আশা রয়েছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টন ধান।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অধিকাংশ জমিতে ইতোমধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বাকি জমিগুলোতে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রোপণ শেষ হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে কৃষক-কৃষাণীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ, কোদাল দিয়ে জমির আইল ঠিক করা এবং মই দিয়ে জমি সমান করার কাজ চলছে। কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ সারিবদ্ধভাবে জমিতে চারা রোপণ করছেন। কেউ কেউ জমিতে সার দেওয়ার কাজেও ব্যস্ত।
রংপুর সদর এলাকার কৃষক আব্দুল বারী বলেন, ‘চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। প্রকৃতি এবার অনেকটাই সহায় হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় চাষাবাদে কোনো অসুবিধা হয়নি। সেচের খরচও করতে হয়নি। ফলে ব্যয় আগের তুলনায় কম হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ভালো ফলন হবে।’
১৬ দিন আগে
উত্তরে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা
উত্তরের জেলাগুলোতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। সবজির জন্য বিখ্যাত এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার আগাম সবজি চাষে ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার আশায় স্বপ্ন বুনছেন।
গত বছরের ক্ষতকে পিছনে ফেলে মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো, লালশাকসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির চাষ হয়েছে উত্তরের এলাকাজুড়ে। খেতের পরিচর্যা, রোগবালাই দমন ও অধিক ফলনের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
ইতোমধ্যে বাজারেও শীতকালীন সবজি উঠেছে। পাওয়া যাচ্ছে শিম ও বাঁধাকপি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে—এমনটাই আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উত্তরের আট জেলা—রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে—চলতি মৌসুমে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। এতে ৩ লাখ ১৪ হাজার টন আগাম শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৭ দিন আগে
লঘুচাপের প্রভাবে আগামী ১০ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি ঝরার পূর্বাভাস
গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে পশ্চিম ঝাড়খন্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এছাড়া মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী অন্তত ১০ দিন দেশজুড়ে চলমান বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এই সময়ে সারা দেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামীকাল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এই সময়ের মধ্যে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া শুক্র, শনি ও রবিবারও বৃষ্টিপাতের এই ধারা বজায় থাকতে পারে এবং তার পরের পাঁচ দিনও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
২৪ দিন আগে
সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত নামল, ৫ বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস
ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দর থেকে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (১১ জুলাই) সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।
তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
সমুদ্রবন্দর থেকে সতর্কতা সংকেত নামলেও দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছার সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের পাঁচটি বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামীকাল (রবিবার) দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়ার নিয়মিত বুলেটিনে দেখা গেছে, বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আগামী চার দিন অব্যাহত থেকে তার পর থেকে ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলায়। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল রংপুরে এবং সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায়।
৭৭ দিন আগে
জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলবায়ু সহনশীল সবুজ অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই বায়োইকোনমি (জৈব-অর্থনীতি) বিকাশে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও সুদৃঢ় আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
বুধবার (১ জুলাই) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএনইএসক্যাপ) ‘কমিটি অন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর নবম অধিবেশনের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
বায়োইকোনমি বা জৈব-অর্থনীত' বলতে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝায়, যা নবায়নযোগ্য জৈবিক সম্পদ (যেমন: উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব এবং বর্জ্য বা বায়োমাস) ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে খাদ্য, শক্তি, পণ্য ও বিভিন্ন সেবা উৎপাদন করে। এটি জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন: কয়লা, পেট্রোলিয়াম) এবং ক্ষতিকারক রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও জৈবিক উপাদানভিত্তিক একটি টেকসই অর্থনৈতিক মডেল।
অধিবেশন চলাকালে ইউএনইএসক্যাপের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি লিন ইয়াংয়ের এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং এ বিষয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বায়োইকোনমির বাজার বর্তমানে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে অবশ্যই পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যাতে কৃষক, জেলে, নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ দেশ হওয়ায় প্রতিনিয়ত বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপদাহের মতো জলবায়ুজনিত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০২৪ সালে তীব্র তাপদাহের কারণে বাংলাদেশের প্রায় ১৭৮ কোটি ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে টেকসই বায়োইকোনমি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
একই দিনে ব্যাংককের জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সরকার, ইউএনইএসক্যাপ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), এশিয়ান ডিজাস্টার প্রিপেয়ার্ডনেস সেন্টার (এডিপিসি) এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আরেকটি আলোচনা সভায় আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশের সবুজ অর্থনীতিতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাট ঐতিহ্যবাহী চটের বস্তার গণ্ডি পেরিয়ে এখন উচ্চমূল্যের বহুমুখী সবুজ পণ্যে রূপান্তরিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ‘সোনালি ব্যাগ’ উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ জ্বালানি সংকট নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বায়োগ্যাস এবং উন্নত চুল্লি কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় ৪১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের কাছে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে ব্লু-বায়োইকোনমি ও ম্যানগ্রোভ বনায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ও নীতিগত অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ৩ আর (রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল) পদ্ধতি ও সার্কুলার ফিউচার মডেলের মাধ্যমে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
৮৭ দিন আগে
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে—এই বিষয়টি জনগণকে বোঝাতে হবে। শব্দদূষণের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং অনিদ্রাসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, একজন চালক যে হর্ন ব্যবহার করছেন, সেটিই তার নিজের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। সড়কে অতিরিক্ত হর্নের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র একটি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, বিভিন্ন এলাকাকে পাইলট ভিত্তিতে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে তা বাস্তবায়নে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমানে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকা এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে উত্তরা স্কলাস্টিকা সেকেন্ডারি স্কুল পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ সচিবালয়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকাসহ দেশের সকল সিটি করপোরেশনে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭ হাজার ২৯৭টি মামলায় ১ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫৭ টাকা জরিমানা আদায় এবং ৬ হাজার ৯৮৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি জানান, ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারির মাধ্যমে ট্রাফিক সার্জেন্ট ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রদান করায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাওছার বলেন, রেল, বিমান, যানবাহন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনলে শব্দদূষণ কমানো সম্ভব।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআরটিএ’র পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালা শেষে মন্ত্রী ‘সার্ভে রিপোর্টস অন নয়েজ লেভেল মেজারমেন্ট ইন ৬৪ ডিস্ট্রিক্টস টাউন’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
৯৭ দিন আগে