আজকের খবর - 29-08-2026
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে তথ্যদাতাদের জন্য নতুন করে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সদরদপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে (এপ্রিল-জুন) প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।
পিস্তল, রিভলবার বা শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ার গ্যাস শেল ও অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কৃত করা হবে।
তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিলকৃত অস্ত্রের লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি—এমন অস্ত্রকে ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা ওই সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
৪ মিনিট আগে
চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ
ইজিবাইক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বাস ও মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর এবং বাস আটকে রাখার অভিযোগের জেরে চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ।
স্থানীয় ও পরিবহন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকের চালক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য এবং বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেন।
এ ঘটনার জেরে ওই ইজিবাইকচালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলুকদিয়া এলাকায় সংগঠিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসে হামলা চালান এবং তাদের জিম্মি করে রাখেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিম্মি থাকা চালক ও সুপারভাইজারকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা দৌলতদিয়াড় এলাকায় সড়ক আড়াআড়িভাবে বাস রেখে অবরোধ করেন। পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায্য বিচারের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল (শুক্রবার) দিনভর চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়াসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল।
আজ শনিবার থেকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর-হাসাদহ, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটের সব বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে না পেরে অনেককে বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকে আবার অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসযাত্রীরা বলেন, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাজে গন্তব্যে যেতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে।
এক যাত্রী বলেন, ‘বাস বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের যে দাবি বা সমস্যা রয়েছে, তার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষকে এ ধরনের দুর্ভোগে পড়তে না হয়।’
এদিকে, মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা থেকে কোনো রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল করবে না।
৫১ মিনিট আগে
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট
নারায়ণগঞ্জের আষাঢ়িয়ারচর সেতুতে সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে আজ শনিবার সকালে কুমিল্লার মাধাইয়া থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা।
সড়ক বিভাগ জানায়, আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। এ সময় একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে উভয় দিকের যানবাহন চলাচল করানো হচ্ছে। এতে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে গতরাত থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরে এর প্রভাব দাউদকান্দি ও মেঘনা হয়ে কুমিল্লার মাধাইয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে মাধাইয়া থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে আটকে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাকচালকসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা।
বাসযাত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘তিন ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় আটকে আছি। কখন যানজট শেষ হবে, কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছে না। এতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’
ট্রাকচালক আতিক বলেন, টানা ১৫ দিন কুমিল্লার আলেখারচর অংশে অসহ্য যানজটে ভুগেছেন তারা। এখন আবার এই এলাকায় এসে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মহাসড়কে চলাচল এখন চরম ভোগান্তির হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, ‘আষাঢ়িয়ারচর ব্রিজের সংস্কারকাজের কারণেই মূলত এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’
১ ঘণ্টা আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৩৩, নিখোঁজ ২৯৮০
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যাও বেড়ে ২ হাজার ৪২৬ জন হয়েছে।
এছাড়া চীনের অংশে হতাহত ও জীবিতদের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া গেলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে ৫৫৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবারের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে উদ্ধারকর্মী ও সামরিক সদস্যরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শনিবার আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা এবং চীনের তিব্বত অংশে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং সীমান্ত ক্রসিংসহ কয়েকটি স্থানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
বাসনেত বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে ঘন কাদায় ভরা একটি সুড়ঙ্গে ১০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকর্মীরা ঝুড়ি ও দড়ির সাহায্যে কয়েকজনের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর কাদা এবং হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য সীমিত জায়গা থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নতুন বন্যার সতর্কতার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কিছু সময়ের জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নিতে হয়েছে।
বুধবারের প্রাথমিক বন্যার পর হিমালয়ের উঁচু এলাকায় হিমবাহ ধসের ফলে একটি নতুন হ্রদ সৃষ্টি হয়। হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
তবে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ তথ্যের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত হ্রদটির আয়তন কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার বা ৩২ ফুট নেমেছে।
এদিকে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে।
নেপালের বন্যাকবলিত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে শনিবার নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন বহু মানুষ। একটি ত্রাণকেন্দ্রে সামরিক সদস্যরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামসংবলিত কাগজ দেওয়ালে টাঙিয়ে দেন। স্বজনরা সেগুলো ঘিরে প্রিয়জনদের নাম খুঁজতে থাকেন। অনেকে তালিকার ছবি তোলেন এবং নাম খুঁজতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চীনের সঙ্গে নেপালের সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরেও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা হেঁটে ও ভেলায় করে সেখানে পৌঁছাচ্ছেন। ড্রোনের সাহায্যেও কিছু উদ্ধারকর্মীকে এলাকায় নামানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তারা জীবিতদের সন্ধানে ডাকাডাকি করছেন।
বন্যার সময় ওই সীমান্ত চেকপোস্টের ভবনটিতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা সেখানে কাজ, ট্রেকিং অথবা একটি পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন।
১ ঘণ্টা আগে