আজকের খবর - 14-04-2026
বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা: প্রধানমন্ত্রী
দেশের কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। আমাদের দেশের প্রত্যেকটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এই দেশের প্রধান পেশাই হচ্ছে কৃষি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, এই দেশের কৃষক যদি স্বচ্ছল থাকে, দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে, বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার। নির্বাচনের পূর্বে আমরা দেশের মানুষের কাছে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার মধ্যে এই কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতিও ছিল। এর বাইরেও আমরা কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। এর মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধাটি পেয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের আটটি জেলার ১১টি উপজেলায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২২ হাজার কৃষকের মাঝে এই কৃষক কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আরও দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে আমরা এই কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব।
তিনি বলেন, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা, কৃষককে স্বচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সেই জন্যই এই কৃষক কার্ড আমরা দিয়েছি। এই কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষককে সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব। এই ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন।
খাল খনন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পর আমরা সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল আমরা খনন করব ইনশাআল্লাহ। এর মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি জমির জন্য পানির সমস্যা দূর হবে।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে একমাত্র বিএনপি সরকার যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, বিএনপি সরকারই চেষ্টা করেছে কৃষক ভাইবোনদের পাশে দাঁড়ানোর। আপনারা গত নির্বাচনে বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছেন, ইনশাআল্লাহ এই সরকার আপনাদের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেবে। এখন আমাদের দেশ গড়ার সময়। কৃষক ভাইদের পাশে আমরা যে রকম দাঁড়াব, একইসঙ্গে আমরা আমাদের মা-বোনদের জন্য, পরিবারের নারীপ্রধানদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করব। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরের ভেতর আমরা বাংলাদেশের সকল নারীপ্রধান পরিবারের কাছে এই কার্ডটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করব।
সবাইকে দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার। এই সরকার দল-শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের উন্নয়ন, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। সেইজন্য আমরা বলে থাকি, করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে আগাতে চাই, দেশ গঠন করতে চাই।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াওকুন শী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১৫ জন কৃষক এবং কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন। অনুষ্ঠান শেষে টাঙ্গাইল শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। বিকেলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
৪ ঘণ্টা আগে
নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় পিকআপচালক নিহত
নাটোরের বড়াইগ্রামে বাসের ধাক্কায় ডিমবাহী পিকআপ উল্টে গিয়ে খাদে পড়ে এর চালক রাহুল নিহত হন।
মঙ্গবার (১৪ এপ্রিল) সকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি এলাকায় দুর্টনাটি ঘটে।
রাহুলের বাড়ি শেরপুর জেলার গৌরীপুর গ্রামে।
পুলিশ জানায়, শেরপুর থেকে একটি ডিমবোঝাই পিকআপ সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। নাটোরের গড়মাটি এলাকা অতিক্রমকালে একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে পিকআপটির। ফলে এটি রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পিকআপচালক রাহুল নিহত হন এবং সহকারী আহত হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৫ ঘণ্টা আগে
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বন্দর থেকে মালামাল খালাসসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ সারাদিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে আবারও বন্দর দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম যথারীতি শুরু হবে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. লতিফ জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় এক দিনের জন্য আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদেরও জানানো হয়েছে। আগামীকাল (বুধবার) সকাল থেকে পুনরায় কার্যক্রম চালু হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, পহেলা বৈশাখে সরকারি ছুটি থাকায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
যাত্রাবাড়ীতে একই পরিবারে ৪ জনকে কুপিয়ে জখম, নিহত ১
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে বাসায় ঢুকে একই পরিবারের ৪ জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে পাওনাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দিয়া আক্তার (২০) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এতে পাওনাদারসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে যাত্রাবাড়ী থানার কাজলার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দিয়া নবুউল্লাহার মেয়ে। তিনি শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আহতরা হলেন— মৌসুমী (৩৫), মোয়াজ (১৫) ও জয়া (১২)। তারা যাত্রাবাড়ীর কাজলার ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় থাকেন। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
এই ঘটনায় পাওনাদার আবু মুসাও গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা বিল্লাল হোসেন জানান, ‘আবু মুসা পেশায় একজন ঠিকাদার। তিনি নবুউল্লাহার কাছে টাকা পেতেন। সেই টাকা নেওয়ার জন্য ভোরে নবুউল্লাহার বাসায় যান তিনি। পাওনা টাকা নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে নবুউল্লাহ উত্তেজিত হয়ে মুসাকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে আবু মুসা উত্তেজিত হয়ে ওই বাসার নবুউল্লার স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে কুপিয়ে বাম হাতের কব্জি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন।
‘এ সময় নবুউল্লাহর মেয়ে দিয়া এগিয়ে এলে মুসা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর তার আরেক মেয়ে জয়া এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করেন তিনি। সে সময় নবুউল্লাহর ছেলে মোয়াজকেও কুপিয়ে জখম করেন মুসা। পরে আমরা তাদেরকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি। হাসপাতালে আনার পর দিয়াকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাদের পরিবারের বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় মুসাকেও উদ্ধার করে এখানে আনা হয়। পুলিশের পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
৫ ঘণ্টা আগে
কুড়িগ্রামে দুই দিনে দুই বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় পরপর দুই দিনে পৃথক ঘটনায় দুই বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার পান্ডুল ও গুনাইগাছ ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— গুনাইগাছ ইউনিয়নের পূর্ব কালুডাঙ্গা গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে মো. আব্দুল জব্বার (৬৫) এবং উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রামের মৃত বানছার আলীর ছেলে আব্দুল আখের ওরফে ফাকের (৬০)।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) সকালে বসতঘর থেকে আব্দুল জব্বারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জব্বারের পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল (সোমবার) রাত ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান জব্বার। আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার বোনের স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম বকস খোঁজ নিতে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে তাকে ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়রা জানান, জব্বারের পারিবারিক জীবনে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগমের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথম পক্ষের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত তার। গত ১২ এপ্রিল এ নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
অন্যদিকে, গতকাল (সোমবার) উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের ঢেঁকিয়ারাম গ্রাম থেকে আব্দুল আখের ওরফে ফাকেরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভোরে বাড়ির আঙিনায় একটি কূলগাছ ও বাঁশের সঙ্গে বাঁধা দোলনার প্লাস্টিকের রশিতে তিনি গলায় ফাঁস দেন। সকালে তার পুত্রবধূ মাজেদা বেগম তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় সেখানে দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেন তিনি।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, দুটি ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
৬ ঘণ্টা আগে
পহেলা বৈশাখ: বাঙালির চিরন্তন নবজাগরণের উৎসব
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। পুরোনো বছরের সব গ্লানি, দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন আশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে এই দিনটি। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলনমেলা এই পহেলা বৈশাখ। এটি শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক।
ইতিহাসের পথ বেয়ে
পহেলা বৈশাখের সূচনা মূলত মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে। সে সময় কৃষিজ ফসলের খাজনা আদায় সহজ করতে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির পরিবর্তে একটি সৌরভিত্তিক বর্ষপঞ্জির প্রয়োজন দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রবর্তিত হয় ফসলি সন, যা পরবর্তীতে বাংলা সনে রূপান্তরিত হয়।
১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে আকবর এই সন প্রবর্তন করেন। এটি গণনা শুরু হয় তার সিংহাসনে আরোহণের সময় (১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ) থেকে। তখন বাংলার কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদারদের খাজনা পরিশোধ করতেন এবং নববর্ষের দিনে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এই উপলক্ষে মেলা ও আনন্দোৎসবের আয়োজন করা হতো। এভাবেই ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে মিশে এক আনন্দময় উৎসবে পরিণত হয়।
বিবর্তনের ধারা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি ছিল কৃষি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দিন। হালখাতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন বছরের সূচনা করতেন।
ক্রমে এই দিনটি তার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নেয়। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এটি আনন্দ, ঐক্য ও মিলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ একটি অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সকল মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হয়।
মঙ্গল শোভাযাত্রা: ঐক্যের প্রতীক
পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। বিশাল মুখোশ, পাপেট, বাঘ-হাতি-পাখির প্রতীকী রূপ এবং নানা শিল্পকর্মের মাধ্যমে এই শোভাযাত্রা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়গান করে।
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর এটি ইউনেস্কোর বিশ্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ তালিকায় জায়গা করে নেয়। বর্তমানে এটি বাঙালির ঐক্য, প্রতিবাদ ও সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতীক।
৬ ঘণ্টা আগে
‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২২ মিনিটের দিকে তিনি টাঙ্গাইল শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষকদের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন করেন। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের আরও ১০টি উপজেলায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক মো. আবু কায়সার, মো. রোমান, শাহনুর আলম, মো. শাহ আলম, জুলেখা আক্তার, নাসিমা খানম সুমনা, শিল্পী, আমেনা বেগম, নবাব আলী, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, মনোয়ারা আক্তার, শামীমা আক্তার, লায়লা বেগম এবং তাহমিনাসহ ১৫ জনের হাতে কৃষক কার্ড এবং গাছের চারা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
কর্মসূচি চালুর সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে স্থানান্তরিত হয়। শুধু টাঙ্গাইলেই ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক এই অর্থ পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছেই তিনি সরাসরি মঞ্চে যান এবং হাত নেড়ে উপস্থিত কৃষকদের অভিবাদন জানান। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি পবিত্র কুরআন, গীতা, বাইবেল এবং ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়।
নববর্ষের দিন কয়েক হাজার কৃষক এবং নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাঠ এবং গ্যালারি—উভয় স্থানই লোকারণ্যে পরিণত হয়।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শি এবং কৃষি সচিব রফিকুল ইসলাম।
দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষকদের সরাসরি সহায়তা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এই কর্মসূচির আওতায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে একটি ডেবিট কার্ড সংযুক্ত থাকবে। কার্ডটির মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ ঋণ, ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার আপডেট ও ফসল-সংক্রান্ত পরামর্শ এবং বিমার সুবিধা পাবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক এবং মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে বার্ষিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। কর্মসূচিটি প্রথমে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি তিনটি পর্যায়ে (প্রাক-পাইলট, পাইলট এবং দেশব্যাপী) বাস্তবায়িত হবে। প্রাক-পাইলট পর্যায়ে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম এবং পরবর্তী চার বছরের মধ্যে এটি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে, সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আজ ভোর থেকেই টাঙ্গাইল সদর ও আশপাশের এলাকার কৃষকরা স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকেন। সেখানে আসা অনেক কৃষক সরকারের এই নতুন উদ্যোগের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। স্থানীয় প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচির উদ্বোধনকে টাঙ্গাইলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উপস্থিত কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই কার্ড বিশেষ করে বীজ, সেচ এবং আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব করবে।
৭ ঘণ্টা আগে
পহেলা বৈশাখ উদযাপনে রাজধানীজুড়ে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ২০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।
এতে বলা হয়, আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ করে রমনা বটমূল ও এর আশপাশের এলাকা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন গেট, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর, শহিদ জিয়া শিশু পার্ক, রমনা বটমূল ছায়ানটের আয়োজনস্থল, রমনা মঞ্চ এবং ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি সব নাগরিককে শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
এদিকে, দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল উদ্বোধন নিশ্চিত করতে ৯টি জেলার ১০টি উপজেলার প্রধান অনুষ্ঠানস্থলগুলোতেও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
যেসব স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে সেগুলো হলো— পঞ্চগড় সদর উপজেলার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট ও বোদা উপজেলার বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ উথলী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা অডিটরিয়াম, ঝিনাইদহেরর শৈলকুপা উপজেলার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাই স্কুল, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নাপিতের চর, মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
কর্মসূচি চলাকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সামগ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাহিনীটি অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।
৮ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় চালবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে ৭ শ্রমিক নিহত, আহত ৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চালবোঝাইে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৭ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন— দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে সোহরাব হোসেন, আজাদ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ও ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক; বিরামপুর উপজেলার ভাইঘর গ্রামের পলাশ মিয়ার ছেলে সুমন, একই গ্রামের বাসিন্দা বিষু, মাজহারুল ইসলামের ছেলে আবুল হোসেন ও রকিবুল্লার ছেলে আব্দুর রশিদ।
পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) ভোরে দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চালবোঝাই একটি ট্রাক মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের খাদে পড়ে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপরে থাকা ১৩ জন শ্রমিক ট্রাক উল্টে এর নিচে চাপা পড়ে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের নিচ থেকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করি। এছাড়া আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মরদেহগুলো দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনার পর ট্রাকচালক বা সহকারী কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. এরশাদ হোসেন বলেন, আমরা রাত পৌনে ৩টার দিকে খবর পেয়ে আমাদের টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। সেখানে ট্রাকের নিচ থেকে ৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আমরা ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছি।
৯ ঘণ্টা আগে
বর্ণিল আয়োজনে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ নানা বর্ণিল আয়োজন, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে। পুরোনো বছরের গ্লানি, জীর্ণতা আর শোককে পেছনে ফেলে নতুন আশা ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পথচলা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় নববর্ষ বরণের আয়োজন। রাজধানীর রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংগীত, কবিতা ও আবৃত্তির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।
এদিন সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে বের করা হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা ১৪৩৩। এ শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ১০টার দিকে চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান।’ শোভাযাত্রায় বিভিন্ন মোটিফ ও পটচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। মোরগ, হাতি, পায়রা, টেপা পুতুল-ঘোড়া ও দোতারা প্রতিটি মোটিফই বহন করেছে আলাদা প্রতীকী তাৎপর্য। বিভিন্ন বয়সের মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে—নারীরা শাড়ি এবং পুরুষরা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে—শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র ও রাস্তাঘাটে মানুষের ঢল নামে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হন অনেকে। মেলা, পান্তা-ইলিশ, গ্রামীণ খাবার এবং লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
১০ ঘণ্টা আগে