আজকের খবর - 30-05-2026
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৪৩ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া এই সময়ে নতুন করে আরও ৩৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১১৬ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ মাস ও সাড়ে ৩ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, ২২ মে কিশোরগঞ্জের পূর্ব ঝিনাইর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৪ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯মে সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
অন্যদিকে, ২৫ মে ময়মনসিংহ সদরের আকুয়া থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে সাড়ে তিন মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে ২৯ মে সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় তারও মৃত্যু হয়।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ৭০৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৪৯ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৪ মিনিট আগে
ময়মনসিংহে পিকআপ-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত
ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা বাবা ও ছেলে ছিলেন।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর অঞ্চলিক সড়কের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আলালপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফুলপুর উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর (৩৮) ও তার চার বছরের ছেলে রোহান। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। তারা ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি ফুলপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ময়মনসিংহ-ফুলপুর সড়কের আলালপুর নামক এলাকায় পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা ও ব্যক্তি ও তার ছেলে নিহত হন।
এসআই ফরিদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছি। সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১৩ মিনিট আগে
জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া উদ্যানে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৩০ মে) বেলা ১১টায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী শহিদ জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও ফাতেহা পাঠ করেন।
এ সময় তার সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিলুন হকসহ দল ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৩০ মিনিট আগে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে: রাষ্ট্রপতি
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তার অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম, সততা, ন্যায়বোধ ও স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এই বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের অসামান্য অবদানকে সশ্রদ্ধচিত্তে ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে শহিদ হন। এ বেদনাবিধুর দিনে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার অসামান্য অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ইতিহাসে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় নাম। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঊষালগ্নে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান এবং তার স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে আলোর পথ দেখায়। তার আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব, রণকৌশল ও অবদানের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
বাণীতে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, নাগরিক ও বাকস্বাধীনতা হরণ, নৈরাজ্য, দুর্নীতি ও লুটপাটে রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে এক সংকটময় সময়ে দেশের দায়িত্বভার জিয়াউর রহমানের ওপর অর্পিত হয়। জাতির বিভিন্ন ক্রান্তিকালে তার ভূমিকা ছিল ত্রাতার ও উদ্ধারকর্তার। তার সফল নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সর্বদা আলোর পথ দেখাবে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বাক, ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বহুমুখী পরিকল্পনা ও যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা। কৃষি উন্নয়ন, খাল খনন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবার পরিকল্পনা, গ্রাম সরকার, গ্রামীণ উন্নয়ন, গণশিক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি জনগণকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করেন। যুব উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের বিকাশ এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারেও তার অবদান অবিস্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
বাণীতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মুসলিম বিশ্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্মানজনক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনিই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেন, যার ফলে আজ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শহিদ জিয়ার সক্রিয় উদ্যোগের ফলেই পরবর্তীকালে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। অল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলেও তিনি গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন, যা আজও সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে ও নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং একজন বাস্তববাদী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের পরিচয় জনগণের মণিকোঠায় চিরজাগরুক থাকবে। তার কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অটলতা এবং স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাণীর শেষে রাষ্ট্রপতি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে তার জন্য জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম প্রার্থনা করেন।
৩৬ মিনিট আগে