আজকের খবর - 13-10-2026
ওমান-বাংলাদেশ সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ
ওমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশি। এ সময় তাদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করা ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এছাড়া ওমানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বলেও জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ওমান বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশের সঙ্গেও অনুরূপ চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব দেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওমানে কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এফবিসিসিআই ও ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন।
এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ভার্চুয়াল বৈঠক এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ওমানের সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। এসব অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের অবদানের প্রশংসা করেন ওমানের রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
৯ মিনিট আগে
এমসিজে ক্লাবের সদস্যপদ আবেদন শুরু বুধবার
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সদস্যপদ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে এমসিজে ক্লাব লিমিটেড।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে সদস্যপদের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে বলে জানিয়েছে ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা কমিটি।
আগ্রহীরা ক্লাবের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে ফি জমা দিয়ে www.mcjclub.com ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ক্লাবের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে রয়েছে।
দেশের যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, মিডিয়া স্টাডিজ, যোগাযোগ, ব্রডকাস্ট, টেলিভিশন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২৭ বছর।
ক্লাবটির সাধারণ সদস্যপদের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে সরকার নির্ধারিত শুল্ক ও অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জসহ মোট ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।
এছাড়া সদস্যপদ নীতিমালা মেনে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সংরক্ষিত নির্দিষ্ট কিছু সদস্য নম্বর পাওয়া যাবে।
ক্লাবটির পরিচালনা পর্ষদ প্রথম ২০০ জন সদস্যকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্লাবের কার্যক্রমের শুরুতে যুক্ত হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের নাম ক্লাব প্রাঙ্গণে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হবে।
এমসিজে ক্লাব লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসনাত সুমন বলেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সামাজিক ক্লাব গঠনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভব করছিলেন তারা। কয়েক দফা বৈঠক ও পর্যালোচনার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্লাবের সভাপতি হাসনাইন খুরশেদ বলেন, সদস্যপদের আবেদনগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই করা হবে। যাচাই শেষে আবেদনকারীদের সদস্যপদ নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ক্লাবটি সম্প্রতি যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্লাবটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ক্লাব পরিচালকরা জানান, ভবিষ্যতে সদস্যদের সঙ্গে করপোরেট খাতের যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্য ও তাদের পরিবারের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
২১ মিনিট আগে
প্লট দুর্নীতি: সাবেক রাজউক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালত এ রায় দেন। বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার এবং আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ।
মামলার রায়ে আটজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেক ধারায় তাদের সাত বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়।
আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশও দিয়েছেন আদালত।
প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়া ও নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে ২০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দেন, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে।
তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
৪১ মিনিট আগে
কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সাহেব আলী হত্যা মামলায় ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক নাদিরা সুলতানা আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন (৭৩), আইন উদ্দিন (৬৮) ও তার ভাই আকতার হোসেন (৪৩), সাবু (৪১), সোহাগ (৩৮), শরিফুল ইসলাম (৪৩), বিপুল (৩৪), বদর উদ্দিন (৬৮), আফসার শেখ (৬৫), সুমিন (৩৮), সেলিম (৪১) ও আবু (৩৭)।
এছাড়া জুলু (৩৮) ও তার ভাই রাহুলকে (৩৪) দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন সাতজন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সাহেব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে কুমারখালী উপজেলার চর-চাপড়া গ্রামে একটি কলাবাগানের পাশে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই আহম্মদ আলী ওরফে আকম আলী কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক কাজী কামাল হোসেন ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ (মঙ্গলবার) এ মামলার রায় হলো। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মনির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
৫৪ মিনিট আগে
পাকিস্তানে ট্রেন লাইনচ্যুত, নিহত ৫
পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পাঁচজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে পাঞ্জাব প্রদেশের শের শাহ শহরে ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে দেশটির পুলিশ ও রেলওয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন।
মুখপাত্র কলিম আখতার বলেন, ট্রেনটি দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী করাচি থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে যাওয়ার পথে পাঞ্জাব প্রদেশের শের শাহ শহরে লাইনচ্যুত হয়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মী ও প্যারামেডিকদের পাঠানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা ট্রেনের ১৪টি বগি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের সরিয়ে নেন।
আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার আগেই আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পৃথক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পাকিস্তানে প্রায়ই ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক দশক ধরে রেল খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব, পুরোনো রেললাইন ও সংকেতব্যবস্থার কারণে দেশটির রেলব্যবস্থা নানা সমস্যায় ভুগছে।
এর আগে ২০২৩ সালে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ১০টি বগি লাইনচ্যুত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত ও ৯০ জনের বেশি আহত হয়।
১ ঘণ্টা আগে
দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগসহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব বিষয় তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, ভূমিধস, খরা, বজ্রপাত ও ভূমিকম্প মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য নিয়মিত হুমকি তৈরি করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদান সামান্য হলেও এর ক্ষতিকর পরিণতির বড় বোঝা বহন করতে হচ্ছে আমাদের।
১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহ পরিণতির সাক্ষ্য বহন করে। এসব দুর্যোগে শুধু প্রাণহানিই ঘটে না, মানুষের জীবিকা, অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক উন্নয়নও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
তাই শুধু দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলোচনা না করে আগেভাগেই প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বলেও জানান তিনি।
উন্নত আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দুর্যোগে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন বলে তিনি মির্জা ফখরুল।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এছাড়া পরিকল্পনাহীন নগরায়ণ ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঢাকায় ভূমিকম্প হলে তার সম্ভাব্য পরিণতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বড় ধরনের দুর্যোগের সময় অপরিকল্পিত নির্মাণ ও অপর্যাপ্ত নগর পরিকল্পনার কারণে প্রাণহানি বাড়তে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবন নির্মাণের নিরাপত্তাবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি যথাযথ নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, নদীদূষণ রোধ, নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
এসব সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেটের হাওরাঞ্চলের মানুষ আগাম সতর্কতা পেয়ে আগেভাগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে অত্যন্ত সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছেন।
এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিটি পরিবারকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও জরুরি সামগ্রী নিরাপদ স্থানে রাখা, আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেওয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। দুর্যোগের আগে ঝুঁকি কমানো এবং পরে দ্রুত পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ আন্তরিকতা ও কার্যকর পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগসহনশীল বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি ঘর নিরাপদ, প্রতিটি পরিবার প্রস্তুত এবং প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে সক্ষম করে তুলতে হবে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমে এমন একটি দুর্যোগসহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানুষ দুর্যোগের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকবে এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
১ ঘণ্টা আগে
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯৫৪
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৯৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এ মৃত্যুর পর চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নতুন মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুই ও তিনজন করে মারা গেছে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার মধ্যে খুলনা বিভাগে দুজন এবং চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ৯৭ হাজার ২৯৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গে আরও ৬ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১,২১৩
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২১৩টি শিশু।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১ হাজার ৬৬টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০৪টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ১৭০টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৪। এই সময়ে ১ হাজার ৪৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১৭টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৩৭১, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৭১২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৯ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
২ ঘণ্টা আগে
নিখোঁজ জাবি শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেল কুমিল্লায়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দাউদকান্দি মডেল মসজিদের পাশের একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম পলাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, মোহাইমিনুল অন্য একজনের মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে তার বিভাগের শিক্ষার্থী শফিউজ্জামান শাহীনকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি দাউদকান্দি মডেল মসজিদের আশপাশে রয়েছেন বলে জানান এবং তাকে উদ্ধারের অনুরোধ করেন।
বার্তাটি পাওয়ার পর সাভার থানা পুলিশ বিষয়টি দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশকে জানায়। পরে দাউদকান্দি পুলিশ অভিযান চালিয়ে মসজিদের পাশের একটি বাড়ি থেকে মোহাইমিনুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর রাত ১০টার দিকে সাভার থানা পুলিশ দাউদকান্দি থানায় পৌঁছালে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ওসি পলাশ বলেন, ‘মোহাইমিনুলকে কেউ আটকে রাখেনি। তিনি নিজেই মসজিদের পাশের একটি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
উদ্ধার হওয়ার পর মোহাইমিনুলকে শারীরিকভাবে সুস্থ মনে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গতকাল (সোমবার) বিকেলে মোহাইমিনুলের সন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি মোহাইমিনুলের সন্ধানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগসহ প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান।
গত রবিবার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে ওঠেন মোহাইমিনুল। এরপর তার কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। সেখানে বিভাগের অবহেলার কথা উল্লেখ থাকায় বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নোট পাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছিল না।
২ ঘণ্টা আগে
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ সংস্কারের মান নিয়ে ক্ষুব্ধ রেলমন্ত্রী
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ সংস্কারকাজের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এ সময় যাত্রীসেবার মান বাড়াতে সংস্কারকাজে ব্যবহৃত উপকরণ ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার সময় রেলকোচের জানালা সংস্কারকাজের নিম্নমান দেখে বিস্ময় ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
রেলমন্ত্রী বলেন, এত বড় একটি কারখানায় রেলের কোচ সংস্কারকাজের মান এত নিম্নমানের, এখানে নিজে না এলে তা কোনোভাবেই বুঝতে পারতাম না। এ ধরনের কাজ দেখার পর এখানকার কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের যোগ্যতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থেকে যায় বলেও জানান তিনি।
কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে জানালার যেভাবে সংস্কার করা হচ্ছে, ছোটখাটো যেকোনো ওয়ার্কশপেও এর চেয়ে অনেক ভালো কাজ করা সম্ভব। আপনার নিজের বাড়ির জানালার সংস্কারকাজ হলে কি এভাবে অবহেলাভরে কাজ করতেন?’
এ ধরনের নিম্নমানের কাজ হওয়ার চেয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কোচ সংস্কারকাজ একেবারে বন্ধ করে দেওয়া ভালো বলেও মন্তব্য করেন রেলমন্ত্রী।
এ সময় মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও উপসচিব হাবিবুল হাসান রুমি।
এছাড়া সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ, কর্মব্যবস্থাপক এম মমতাজুল ইসলাম, নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কারখানার পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে