বরিশাল
অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে ‘লাথি’, গর্ভপাতে নবজাতকের মৃত্যু
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তানিয়া বেগম (২৫) নামের সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। পরে তানিয়ার গর্ভপাত হয় এবং কিছুক্ষণ পর নবজাতকের মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে তানিয়ার স্বামী হাবিব পাহলান (৪৫) ও বাবা দুলাল হাওলাদার (৫৫) মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের মুন্সী বাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, অটোরিকশাচালক হাবিব চাকামাইয়ার বেতমোর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী তানিয়া ও শ্বশুর দুলালকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথে মুন্সী বাড়ি স্ট্যান্ড-সংলগ্ন সড়কে সোহাগ (২০), মামুন ও শাওন সিকদার (২২) দাঁড়িয়ে ছিলেন। এতে হাবিবের অটোরিকশা সামনে যেতে পারছিল না। পরে হাবিব তাদের সড়ক থেকে সরে দাঁড়াতে বললে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা হাবিব ও দুলালকে মারধর শুরু করেন।
এ সময় অন্তঃসত্ত্বা তানিয়া বাধা দিতে এগিয়ে গেলে তার পেটে লাথি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তাদের প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে দাঁড় করিয়েও রাখা হয়।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে প্রবেশের সময় তানিয়ার গর্ভপাত হয় এবং এর কিছুক্ষণ পর নবজাতকের মৃত্যু হয়।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ ঘণ্টা আগে
বিকল ট্রলারে ভাসতে থাকা ১৮ জেলেকে চার দিন পর উদ্ধার
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিকল ট্রলারে ভাসতে থাকা ১৮ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ট্রলারের বিকল হওয়ার চার দিন পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ভুক্তভোগীদের স্বজনরা একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জের জোবায়ের এন্টারপ্রাইজের মৎস্য আড়তদার ফরহাদ হোসেন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘একটি ট্রলার পাঠিয়ে জেলেদের উদ্ধার করা হয়েছে।’
উদ্ধারকারী ট্রলারে থাকা বিকল ট্রলারের মালিক হানিফ মাঝির ভাই ফিরোজ জানান, তার ভাইসহ ট্রলারের ১৮ জন মাঝি-মাল্লাকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টার দিকে সোনারচর-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এখন তাদের চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের পাচকপাট স্লুইস গেট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ট্রলারটির পাখা ভেঙে যায়। তার পর থেকে সোনারচর ও রূপারচরের মাঝামাঝি এলাকায় বিকল অবস্থায় নোঙর করে ছিল ট্রলারটি। গত ২২ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক পাওয়ার পর হানিফ মাঝি বিষয়টি তার এলাকার আড়তদার ফরহাদ হোসেন পাটোয়ারীকে জানান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চাওয়া হয়।
তিন নম্বর সতর্ক সংকেতের মধ্যে উত্তাল সাগরে উদ্ধার অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় গতকাল (বুধবার) পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শেষে আজ সকালে আড়তদারের পাঠানো ট্রলারে তাদের উদ্ধার করা হলো।
৩ দিন আগে
উত্তাল সাগরে ট্রলারডুবি, উদ্ধার ৯ মাঝি-মাল্লা
বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের কবলে পড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তবে অন্য একটি ট্রলারের মাধ্যমে ডুবে যাওয়া ট্রলারের ৯ মাঝি-মাল্লাই উদ্ধার হয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় থেমে থেমে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে এবং গভীর সাগর উত্তাল রয়েছে। এর মাঝে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের যুগিরহাওলা গ্রামের জহির প্যাদার মালিকানাধীন একটি ট্রলার ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ওই ট্রলারেও ৯ জন মাঝি-মাল্লা ছিলেন। পরে পাশের একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে তা ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ কারণে পায়রাসহ চার সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলো মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুরসহ বিভিন্ন চ্যানেলে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে জেলার সোনারচর সংলগ্ন সাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে গত শনিবার থেকে আটকা পড়ে আছেন ১৮ জেলে। ট্রলারটি সোনারচর-সংলগ্ন মোহনার ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থান করছে।
উত্তাল সাগরের কারণে আশপাশের ট্রলারগুলো তাদের উদ্ধারে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছেন জেলেদের স্বজনরা। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশকে জানানো হয়েছে।
রাঙ্গাবালী কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সেখানে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধার সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে রাঙ্গাবালী নৌপুলিশ জানায়, সাগরে থাকা অন্য জেলেদের মাধ্যমে আটকা পড়া ১৮ জেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
৩ দিন আগে
ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে চার দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে
মাছ ধরার ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গত শনিবার থেকে বঙ্গোপসাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সোনারচর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয় বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থান মোহনার ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে।
এদিকে ভুক্তভোগী জেলেদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের সহায়তা চাওয়া হলেও নিরাপত্তা ও সক্ষমতার কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে অপারগতা জানিয়েছে তারা।
রাজধানীর রামপুরা এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী ফরহাদ পাটোয়ারীর ছেলে জুনায়েত হাসান বলেন, গত শনিবার সকালে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ১৮ জন মাঝি-মাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান ট্রলারের মালিক ও মাঝি হানিফ মিয়া। পরে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর হানিফ মিয়া জুনায়েতের বাবাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চান।
হানিফ মাঝির সঙ্গে জুনায়েতের বাবা ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। ঘটনাটি জানতে পেরে জুনায়েত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। এছাড়া রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশকে একাধিকবার ফোন করে জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
জুনায়েত বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়েছে, চলমান বৈরি আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর ও পার্শ্ববর্তী নদীগুলো প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য উপযুক্ত নৌযান, জনবল এবং উদ্ধার অভিযানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকার কথা জানানো হয়েছে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের পক্ষ থেকে।’
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টার দিকে হানিফ মিয়া মুঠোফোনে কল করে উদ্ধারের সহায়তা চেয়েছেন। এরপর তিনিও উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গতকাল রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগী হানিফ মিয়ার ছেলে মেহেদী হাসানের সঙ্গেও জুনায়েতের কথা হয়। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘গত শনিবার সকালে তার বাবাসহ ১৮ জন মাঝি-মাল্লা চরফ্যাশন মাছঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান। এরপর ইঞ্জিন বিকল হয়ে তারা একই স্থানে অবস্থান করছেন।’
মেহেদী হাসান জানান, গতকাল রাত ১০টার দিকে তার বাবা জানিয়েছেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাদের ট্রলারের আশপাশে থাকা কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারকে হাত ইশারা করে সহায়তা চাওয়া হলেও সাগর উত্তাল থাকায় তারা এগিয়ে আসেনি।
জেলে হানিফ মিয়ার বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় বলে জানায় তার ছেলে মেহেদী।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী কোস্ট গার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো উপযুক্ত নৌযান, জনবল ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের কোনো সরঞ্জাম তাদের কাছে নেই।
তিনি আরও বলেন, তাদের টহলদলের বর্তমান অবস্থান রাঙ্গাবালী উপজেলা-সংলগ্ন নদী এলাকায়। আর বিপদগ্রস্ত জেলেদের অবস্থান সোনারচর-সংলগ্ন মোহনা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় প্রয়োজন। সার্বিক বিষয় নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে তিনি ভোলা কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন। ভোলা কোস্ট গার্ডকে জানানোর পর সেখান থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তিনি চরমোন্তাজ ট্রলার মালিক সমিতিকেও বিষয়টি জানিয়েছেন এবং জেলেদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার আনুষঙ্গিক খরচ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তারাও অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো নৌযান, উদ্ধার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই তাদের কাছে নেই। তবে সাগরে থাকা অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিপদগ্রস্ত জেলেদের মালিকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। জেলেদের উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে।’
৪ দিন আগে
ভোলায় শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, আটক ১
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মো. ইসমাইল (৭) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই এলাকার মো. রোকন (২২) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া-সংলগ্ন একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার মো. আকবর হোসেনের ছেলে।
শিশুটির পরিবার জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় শিশু ইসমাইল। পরে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পাওয়ায় বাবা আকবর হোসেন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের তিন দিন পর আজ (মঙ্গলবার) সকালে স্থানীয় কয়েকজন বোরহানউদ্দিনের মুসলিমপাড়া-সংলগ্ন খালে একটি বস্তা ভাসতে দেখে সন্দেহ থেকে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করলে স্বজনরা ইসমাইলকে শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন কেনাকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে ইসমাইলের বাবা আকবর হোসেনের সঙ্গে রোকনের বিরোধ হয়েছিল এবং ওই সময় রোকন তাকে হুমকি দিয়েছিলেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফউদ্দিন জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং তাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
৫ দিন আগে
পটুয়াখালীতে মাদরাসা থেকে ১১ বছরের ছাত্র নিখোঁজ
পটুয়াখালীর বাউফলে একটি আবাসিক হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে মো. মিনহাজ খান (১১) নামে এক ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর উপজেলার আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসার হেফজ শাখা থেকে বের হওয়ার পর তার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ মিনহাজ খান ওই মাদরাসার হেফজ শাখার তৃতীয় জামাতের ছাত্র। তার বাবা মো. রুহুল আমিন ওরফে ইউনুচ। তাদের বাড়ি পাশের দশমিনা উপজেলার নেহালগঞ্জ এলাকায়।
মাদরাসার শিক্ষক মো. বায়জিদ হোসেন বলেন, মিনহাজ এর আগেও কয়েকবার মাদরাসা থেকে চলে গিয়েছিল। গেল রবিবার দুপুরের পর সে কাউকে কিছু না জানিয়ে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। তারপর বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি জানাতে তার বাবাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আমরা ধারণা করেছিলাম, মিনহাজ হয়তো বাড়িতে গেছে। এ কারণে আর সেদিন ফোন করা হয়নি বলে জানান তিনি।
ওই শিক্ষক আরও বলেন, গতকাল (সোমবার) দুপুরে মিনহাজের বাবার সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে তার ছেলে বাড়িতে পৌঁছায়নি। এরপর মাদরাসার শিক্ষক ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
শিক্ষক বায়জিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা মনে করছি, শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে সে এভাবে চলে গিয়ে থাকতে পারে। বিশেষ তদবির দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ তাকে পাওয়া যাবে।’
নিখোঁজ ছাত্রের বাবা রুহুল আমিন বলেন, ‘আমার ছেলে দুই দিন ধরে নিখোঁজ। গতকাল মাদরাসা থেকে ফোন করা হয়েছিল, কিন্তু আমি ফোন ধরতে পারিনি। সবসময় ফোনের কাছে থাকা হয় না। তারা আবার ফোন করবে ভেবেছিলাম।
‘পরে গতকাল দুপুর ১২টার পর ফোন করে শিক্ষকরা জানতে চায়, ছেলে বাড়িতে এসেছে কি না। আমি জানাই, সে বাড়িতে আসেনি। এরপর থেকেই আমরা খোঁজাখুঁজি করছি। এখনও কোনো সন্ধান পাইনি।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ দিন আগে
পটুয়াখালীতে ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা ভুয়া প্রমাণিত, বাদী গ্রেপ্তার
পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে উল্টো ফেঁসে গেছেন বাদী জাহানারা বেগম (৬৩)। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নিরপেক্ষ তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মিথ্যা মামলা করে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অপরাধে আদালতের নির্দেশে বাদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ নভেম্বর পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেছিলেন জাহানারা বেগম। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০০৩ সালের সংশোধনীসহ)-এর ৯(৪)(খ) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। জাহানারা বেগমের অভিযোগ ছিল, তার ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়া মডেল মসজিদে আরবি পড়তে যেত। গত ১২ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে তাকে মক্তবের পাশের একটি স্টোররুমে নিয়ে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব, দুই খাদেম মিলে ধর্ষণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও পুলিশি তথ্যমতে, শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা জাহানারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার দুই নাতিকে দিয়ে পটুয়াখালী জেলা মডেল মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে চুরি ও অপকর্ম করিয়ে আসছিলেন। গত ১২ নভেম্বর তার দুই নাতি মডেল মসজিদে চুরি করতে ঢুকলে এক খাদেম ও আলহাজ্ব শাহ আলম (৭০) নামে এক ব্যক্তি তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর এশার নামাজের পরে বিষয়টি মসজিদের পেশ ইমামকে জানানো হলে তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এবং সহকারী পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) জানান।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তাদের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার জেরে মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার ১৫ দিন পর হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন জাহানারা বেগম।
আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটির বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও হাসপাতালের চিকিৎসকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ধর্ষণের কোনো সত্যতা কিংবা আলামত পায়নি তারা। তদন্ত শেষে পিবিআই গত ২৯ জুন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে পুরো অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুলাই মামলার শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (জেলা জজ) মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা করে আদালতকে বিভ্রান্ত করা ও নির্দোষ ব্যক্তিদের সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করার অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারায় জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাদীপক্ষ জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। উক্ত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আজ (মঙ্গলবার) তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
৫ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ আরোহী নিহত
পটুয়াখালী কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার আরোহী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বসাকবাজার-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন: অটোরিকশাচালক কাইয়ুম উদ্দিন (৫০), যাত্রী শিল্পী রানী (৪০), তিথী রানী (২৩) এবং চালকের শ্যালক মো. জাহাঙ্গীর। তাদের সবার বাড়ি গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাউরিয়া-বৌবাজার এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকাগামী ‘ইমরান পরিবহন’-এর একটি বাস সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি যানবাহনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি মাছের ঘেরে পড়ে যায় এবং অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকচালক কাইয়ুম, শিল্পী রানী ও তিথী রানী নিহত হন। গুরুতর আহত জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
৭ দিন আগে
বরিশালে যাত্রীবাহী বাস পুকুরে, একজনের মরদেহ উদ্ধার
বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের গড়িয়ারপাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। এ ঘটনায় আব্দুল মালেক (৫৫) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় একাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল মালেক বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী হাই স্কুল-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা।
বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, বাসটি যাত্রী নিয়ে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদের দিকে যাচ্ছিল। পথে গড়িয়ারপাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসের অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি উদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন বলে জানান ওসি।
৮ দিন আগে
পটুয়াখালীতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড ও মাটিভাঙ্গা চ্যালেঞ্জ একাদশ—এই দুই দলের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ চলছিল। খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট আগে দক্ষিণ কালিকাপুর ইউনাইটেড একটি গোল করলে প্রতিপক্ষ দল ফাউলের দাবি তোলে। এ নিয়ে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ায় অপর দল। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে জড়িতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গলাচিপা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের অনেকেই গলাচিপা ও পটুয়াখালীর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চলে গেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে।
৯ দিন আগে