রংপুর
লালমনিরহাটে তেলের সংকট, পাম্পে দীর্ঘ লাইন
চাহিদার তুলনায় ডিপোগুলো থেকে কম সরবরাহের কারণে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তীব্র তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে জ্বালানি নিতে আসা গাড়ি ও মোটরসাইকেলচালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে যানবাহনের চাপ ও জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেলচালকসহ সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে গিয়ে অনেক জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। গ্রাহকদের চাপ সামলাতে গিয়ে পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার হচ্ছে।
এদিকে, তেলের সংকটকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলা জায়গায় বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
১ দিন আগে
লালমনিরহাটে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৮ যাত্রী আহত, চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
লালমনিরহাট জেলা শহরে ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে শহরের বিজিবি ক্যান্টিন মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী তিশা এন্টারপ্রাইজের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার ধাক্কা লাগে। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালকসহ আটজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে ট্রাফিক পুলিশ, বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত রমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, ঘাতক বাসটি আটক করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
৩ দিন আগে
রাতভর বৃষ্টিতে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গোর এ শহীদ ময়দানে লাখো মুসল্লির ঢল
দিনাজপুরের গোর এ শহীদ বড় ময়দানে প্রায় লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে আদায় করা হয়েছে ঈদুল ফিতরের নামাজ।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তর এই ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করতে ছুটে আসেন আশপাশেরসহ দূর-দূরান্তের মুসল্লিরা।
নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমি। অংশ নেন স্থানীয় এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
ঈদের নামাজ উপলক্ষে ময়দান ও আশপাশজুড়ে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। গতরাতে দিনাজপুরে ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সঙ্গে ঝড়ো বাতাসের কারণে আজ সকালে নামাজ আদায় নিয়ে অনিশ্চতায় ছিলেন মুসল্লিরা। সকালেও মাঠজুড়ে ছিল বৃষ্টির পানি। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। পাশাপাশি শুকিয়ে যায় মাঠে জমে থাকা পানি স্তরও।
প্রতিকূল আবহাওয়ার পরেও বৃহৎ এই জামাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরে খুশি মুসল্লিরা।
৪ দিন আগে
ঈদে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল বাবা, মা, ছেলের, মেয়ে হাসপাতালে
লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলায় ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে একটি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীসহ একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে উপজেলার মির্জারকোট মডেল মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রামে একটি বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করেন নিহত শরিফুল ইসলাম (৩৪)। তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের মনসাপুর গ্রামে।মঙ্গলবার সকালে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ির দিকে রওনা দেন তিনি। পথে পাটগ্রামের মির্জারকোট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই স্বামী-স্ত্রী ও ছেলে নিহত হন। আর গুরুতর আহত মেয়েকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
৮ দিন আগে
১১ দিনের ছুটিতে বুড়িমারী স্থলবন্দর
পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে টানা ১১ দিন আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।
বুড়িমারী কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ছুটির এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার (১৫ মার্চ) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটিসহ আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হয়ে এই ছুটি চলবে ২৭ মার্চ পর্যন্ত। টানা ১১ দিন আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর ২৮ মার্চ থেকে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ এই ছুটির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এএসএম নিয়াজ নাহিদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা কাস্টমস, বিএসএফ এবং ভুটানের সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্তৃপক্ষসহ উভয় দেশের পরিবহন ও শ্রমিক সংগঠনকে দেওয়া হয়েছে।
ফারুক হোসেন বলেন, পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ১১ দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মানুষের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
বুড়িমারী স্থলবন্দর পুলিশ অভিবাসন চৌকির (ইমিগ্রেশন) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমান জানান, আমদানি-রপ্তানি বন্ধের চিঠি তারা পেয়েছেন। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের পারাপার অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ১১ দিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আমাদের চিঠি দিয়েছে। মূলত ব্যবসায়ীরা কাজ না করলে বন্দরের কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে, বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার মুহাম্মদ মহি উদ্দিন জানান, ১৭ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি তারা লিখিতভাবে জেনেছেন। তবে এ সময়ে যাত্রী পারাপার চালু থাকার পাশাপাশি কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।
৯ দিন আগে
রংপুরে শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা
রংপুরে নিজের দেড় বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর এক মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ওই নারীর নাম সূচনা ঘোষ। শিশুপুত্র জয়দেব ঘোষকে হত্যার পর নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, নগরীর সাজাপুর এলাকার শংকর ঘোষের (৪৫) স্ত্রী সূচনা ঘোষ (৪০) তার দেড় বছরের পুত্রসন্তান জয়দেব ঘোষকে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজে আত্মহত্যা করেন। আত্মাহত্যার ঘটনাটি জানালার ফাঁক দিয়ে প্রথমে দেখতে পান তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে পুষ্পিতা ঘোষ। ওই গৃহবধূর পূজা ঘোষ নামের বড় আরেকটি মেয়ের বিয়ে হয়েছে। গৃহবধূর স্বামী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র মুদি দোকানি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শংকর ঘোষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তার স্ত্রী। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে তাকে। তার ধারণা, মানসিক সমস্যা থেকেই সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন সূচনা।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, মূলত অভাব অনটনের কারণে পারিবারিক অশান্তি ছিল পরিবারটিতে। তবে পারিবারিক কলহ নাকি মানসিক অসুস্থতার কারণে এ ঘটনা ঘটছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।
১০ দিন আগে
হঠাৎ বৃষ্টিতে কপাল পুড়ল উত্তরের আলু চাষিদের
উত্তরের জেলাগুলোতে আলুর দামে ধস নামার মধ্যেই অকাল বৃষ্টিতে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিতে আলুখেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানিতে খেত তলিয়ে যাওয়ায় আলুতে পচন ধরার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। দরপতনের হাহাকারের মাঝেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আলুচাষিরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এবং শুক্রবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ, আমাশু কুকরুল, সদরের পালিচড়া ও পীরগাছা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর, ছাওলা, অন্নদানগর ও কান্দি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ আলুখেত পানিতে তলিয়ে আছে। ফসল রক্ষায় খেত থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘১০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করছি, ফলনও ভালো হইছে। কিন্তু হঠাৎ করে ঝড়বৃষ্টিতে আলুর অনেক ক্ষতি হইল। সকালে এসে দেখি আলুখেতে অনেক পানি জমে গেছে। এখন পানি কমানোর চেষ্টা করতেছি।’
তিনি বলেন, ‘বাজারে আলুর দাম নাই, কেজি মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা। এখন বৃষ্টির কারণে কেজিপ্রতি আরও দুই টাকা কমে যাবে। এ অবস্থায় মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে গেল এই বৃষ্টি।’
আলুচাষি এমদাদুল হক বাবু বলেন, সারের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারদেনা করে আলু চাষ করে এখন বিপাকে আছি। বাজারে দাম নেই। কোল্ড স্টোরে রাখতে হলে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। না হয় কালোবাজারি ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে অল্প দামে আলু বিক্রি করতে হবে। এ কারণে খেতের মধ্যেই আলু রেখেছিলাম। দাম ভালো মিললে বিক্রি করব। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল।
১১ দিন আগে
রংপুরে নকল কোমল পানীয়র কারখানার সন্ধান, লক্ষাধিক টাকা জরিমানা
রংপুরে পৃথক দুটি স্থানে দুটি কোমল পানীয়র কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময় মোজো, সেভেন আপ, ফ্রুটো ও টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার করা হয়। এ অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকার বেশি জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর কুটিরপাড়া ও কামালকাছনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার তমাল আজাদ ও নুসরাত আরা এ জরিমানা করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নগরীর কুটিরপাড়া এলাকায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মেসার্স দানিস ট্রেডার্স ও মেসার্স রুমন ট্রেডার্সের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মোজো, সেভেন আপ, টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়। শিশুদের জন্য ক্ষতিকর পণ্য তৈরি ও বাজারজাতের জন্য গুদামজাত করার অপরাধে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার। পরে জব্দ করা বিপুল মালামাল বিনষ্ট করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ মালামাল সংরক্ষণ ও বাজারজাত না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রংপুরের এফএসও মো. লোকমান হোসাইন বলেন, এনএসআইয়ের তথ্য অনুযায়ী দুটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর মোজো, সেভেন আপ, ফ্রুটো, টেন আপের নকল পণ্য উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে দুটি কারখানার মালিককে জরিমানাসহ সতর্ক করা হয়। এ রকম অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এফএসও।
১৫ দিন আগে
বোনকে কুপ্রস্তাবে প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানায় ছোট বোনকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রতিবাদ করায় বড় বোনকে গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আবুল কালামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত পৌনে ১০টার দিকে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কালাম কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর হরিকেশ এলাকার মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কালাম ও তার সহযোগীরা শাহিদা খাতুনের ছোট বোনকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কের কুপ্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে শাহিদা ও তার ছোট ভাই প্রতিবাদ করেন এবং এ বিষয়ে গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আসামি সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।
গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শাহিদা বাড়ির উঠানে রান্নার চাল ধোয়ার জন্য যান। সে সময় তাকে একা পেয়ে কালাম ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় শাহিদার বাবা মো. সাইফুর রহমান বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-১৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১৩।
১৯ দিন আগে
দিনাজপুরে সাত বছরের শিশু হত্যার রহস্য উদঘাটন
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সাত বছর বয়সী শিশু সিরাজুল আল শামস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। তাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তারই আপন চাচাতো ভাই আমানুর রহমান আমান (২১)। চাচার সম্পত্তি ওয়ারিশ-শূন্য করতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৩ মার্চ) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে হত্যার রহস্যের বিষয়টি ব্রিফ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) আনোয়ার হোসেন।
অভিযুক্ত আমান আমরুলবাড়ী ডাঙ্গাপাড়ার মজিদুল ইসলামের ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, আপন চাচা মমিনুল ইসলামের একমাত্র সন্তান সিরাজুল আল্ শামসকে গত শুক্রবার ইফতারির পর গলা টিপে এবং ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করেন আমান। গলা ও হাত-পায়ের রগ কাটা ছাড়াও নৃশংসতার অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন ছিল শিশুটির পুরো শরীরজুড়ে।
তিনি আরও জানান, আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আমান হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ অন্যান্য আলামত পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছেন তিনি।
২৪ দিন আগে