রংপুর
লেভেলক্রসিংয়ে বগি ফেলে চলে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে যাত্রীবাহী বগি রেখে ট্রেনের ইঞ্জিন চলে গেছে। পার্বতীপুর থেকে বুড়িমারীগামী একটি লোকাল ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।
এতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের লেভেলক্রসিংয়ে বগিগুলো আটকে থাকায় প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। পরে লালমনিরহাট থেকে বিকল্প ইঞ্জিন এসে বগিগুলো উদ্ধার করে বুড়িমারীর উদ্দেশে রওনা হয়।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার স্টেশন থেকে ১০০ গজ দূরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি তুষভান্ডার স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ এর বগিগুলো মূল ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে লেভেলক্রসিং ব্যারিকেড এলাকার ওপর থেমে যায়। তবে ট্রেনচালক বিষয়টি টের না পেয়ে ইঞ্জিন নিয়ে একাই প্রায় এক কিলোমিটার এগিয়ে যান। অন্যদিকে লেভেলক্রসিংয়ে বগিগুলো আটকা পড়ে থাকে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হোসেন জানান, লেভেলক্রসিংয়ের ওপর বগি আটকে থাকায় পুরো মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তীব্র গরমে শত শত যানবাহনের যাত্রী ও চালকদের প্রায় এক ঘণ্টা চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
তুষভান্ডার স্টেশন মাস্টার জামান মাহমুদ আপেল জানান, লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় দপ্তর থেকে দ্রুত একটি বিকল্প উদ্ধারকারী ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ইঞ্জিনটি এসে বিচ্ছিন্ন বগিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হলে ট্রেনটি বুড়িমারীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তিনি আরও জানান, মূলত ইঞ্জিনের সঙ্গে বগির সংযোগকারী হুকের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এমনটি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
৪ ঘণ্টা আগে
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির মির্জা ফয়সলের মনোনয়ন দাখিল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের কাছে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এ সময় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমা শেষে মির্জা ফয়সল আমিন জানান, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করতে চান। সেই সঙ্গে নির্বাচনে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা ঘিরে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মো. নূর-এ-শাহাদাত স্বজন।
এদিকে গতকাল (শনিবার) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
৫ ঘণ্টা আগে
রংপুরে ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মৃত্যুর অভিযোগে মামলা
রংপুরের পীরগাছায় ছেলের ছুরিকাঘাতে মাহাবুর হোসেন ওরফে মহুবর (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক। এর আগে গতকাল (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চর তাম্বুলপুর ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মাহাবুর হোসেন ওরফে মহুবর ওই এলাকার মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে। তার মৃত্যুর জন্য ছেলে হাসানুর রহমানকে (২২) দায়ী করছেন পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীরা।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মাহাবুর হোসেনের সঙ্গে তার ছেলে হাসানুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাসানুর রহমান ছুরি দিয়ে তার বাবাকে আঘাত করেন। এতে বাবা মাহাবুর হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের সঙ্গে হাসানুর রহমানের সম্পর্ক ভালো ছিল না। দুপুরের দিকে হাসানুরের শাশুড়িসহ কয়েকজন তাদের বাড়িতে আসেন। কিন্তু হাসানুর তাদের অসম্মান করায় বাবা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাগান্বিত হয়ে শাশুড়ির সামনেই ছেলেকে থাপ্পর দেন বাবা।
বাবার শাসনের বিষয়টি ভালোভাবে নেননি হাসানুর। পরে রাতে আবারও বাবা-ছেলের কথা কাটাকাটি হয়। ওই সময়ই পাশে থাকা একটি ছুরি দিয়ে বাবার বুকে আঘাত করেন হাসানুর। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে তাকে রমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি সেলিম মালিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১ দিন আগে
রংপুরে অ্যানথ্রাক্স: ১১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ জন শনাক্ত
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নমুনা পরীক্ষা করে ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান।
তিনি জানান, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠালে রিপোর্টে ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।
অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের সজিব মিয়া (২৩), আবদুল মান্নান (৬০) ও মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৫)।
পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আদমপাড়া গ্রামের সজিব মিয়া কয়েক মাস আগে একটি গরু কিনে লালনপালন শুরু করেন। গত ২১ আগস্ট হঠাৎ গরুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে কাউকে না জানিয়ে তিনি এটি জবাই করে এলাকার মানুষের মধ্যে মাংস ভাগাভাগি ও বিক্রি করেন। ওই গরুর মাংস কাটা ও খাওয়ার কারণে ওই এলাকার ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়।
পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাকিল আহমেদ বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির ১০ থেকে ১৫ দিন পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। কয়েকজনের হাতে ফোসকা দেখা যায়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তারা ওই এলাকায় গিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে আর কোনো গরুকে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে ওই এলাকার সব গরুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে অ্যানথ্রাক্সের কোনো ঝুঁকি নেই, অধিকাংশ রোগীর ঘা শুকিয়ে গেছে। অসুস্থ গরুর মাংস যাতে কেউ বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ খান বলেন, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গের খবর পেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের একটি দল উপসর্গযুক্ত ১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। বাকিদের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। বর্তমানে আক্রান্ত তিনজনই সুস্থ আছেন।
১ দিন আগে
ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধের বড় অংশজুড়ে ধস, ঝুঁকিতে কয়েক গ্রামের মানুষ
ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষায় কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া বাঁধের চারটি আলাদা স্থানে প্রায় ২০০ মিটার অংশজুড়ে ধস দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার কাঁচকোল বাজার ও পুঁটিমারি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বাঁধের আরও প্রায় ৩৫ মিটার অংশে নতুন করে ধস দেখা দেয়।
গত এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে তিনটি স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে। এতে কাঁচকোল ও পুঁটিমারি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ১, ১৬ ও ২০ জুলাই তিন দফায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দেয়। পরে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয় পাউবো। এর প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে একই বাঁধের বড় একটি অংশে আবারও ধস দেখা দিল।
এদিকে, বাঁধে ধসের খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে চিলমারীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাউবো রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধে ধস শুরু হয়। একের পর এক কংক্রিটের ব্লক ও জিও ব্যাগ নদে ধসে পড়তে থাকে। এতে কাঁচকোল ও পুঁটিমারি এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাউবো সূত্র জানায়, কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার অংশের মধ্যে চারটি স্থানে অন্তত ২০০ মিটার অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। ফলে বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধের ওই অংশটি দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। পরে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা করা হয়।
পাউবো জানায়, বাঁধের ডান তীর ঘেঁষে নদের মূল প্রবাহ থাকায় সেখানে বারবার ফাটল ও ধস দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত সপ্তাহে কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন ডান তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এর প্রায় ৬০০ মিটার দূরে পুঁটিমারি বাজারসংলগ্ন বাঁধের আরও প্রায় ৩০ মিটার অংশের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। ওই দুটি স্থানের মেরামতকাজ শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মধ্যবর্তী স্থানে আরও প্রায় ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এতে তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ব্লক নদে ধসে পড়ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা না হলে তীরবর্তী এলাকার বহু বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাঁধটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।’
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে চারটি স্থানে কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছি। মূল্যায়ন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মোট দূরত্ব বলা যাবে। প্রয়োজনীয় মেরামতকাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
লালমনিরহাটে গোপন বৈঠক থেকে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
লালমনিরহাটে গোপন বৈঠক ও অনলাইন মিটিংয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করার সময় পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. মজিবর রহমান টুলুকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শহরের চাঁদনী বাজার এলাকার একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার মজিবর রহমান টুলু পৌরসভার নামাটারী এলাকার বাসিন্দা।
ওসি সাদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ওই এলাকায় একটি চক্র গোপন বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে মজিবর রহমান টুলুর মোবাইল ফোন তল্লাশি করে অনলাইনে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া তার মোবাইল ফোনে আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন উসকানিমূলক পোস্ট ও স্ট্যাটাস পাওয়া গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওসি সাদ আরও জানান, গ্রেপ্তার মজিবর রহমান টুলুর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।
জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
৩ দিন আগে
কুড়িগ্রামে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে চালকের মৃত্যু
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. গোলাম রব্বানী (৩৮) নামের এক চালক নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চান্দামারী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খামারপাড়া গ্রামে চালকের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত গোলাম রব্বানী ওই গ্রামের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন।
স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়, আজ (মঙ্গলবার) সকালে গোলাম রব্বানী নিজ বাড়িতে চার্জে বসানো অটোরিকশার ব্যাটারির সংযোগ খুলতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পাননি উল্লেখ করে ওই এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ইসলাম বলেন, সকালে ঘটনাটি ঘটলেও পরিবারের সদস্যরা শুরুতে জানতে পারেননি। পরে দুপুরের দিকে অটোরিকশা রাখার ঘরে গিয়ে তারা গোলাম রব্বানীর মরদেহ দেখতে পান। এরপর প্রতিবেশীদের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ থেকে খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল-সংক্রান্ত খোঁজখবর নিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৫ দিন আগে
গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাতে সন্তান বিক্রি, বাবাসহ গ্রেপ্তার ৪
গাইবান্ধায় নেশার টাকা জোগাড় করতে ১১ মাস বয়সী মেয়েসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগে বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেই সঙ্গে প্রায় দুই মাস পর শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামের সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন: শিশুর বাবা হামিদুল ইসলাম, আব্দুল মজিদ, মোরশেদা খাতুন ও জেসমিন আকতার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা পৌর এলাকার দক্ষিণ ধানঘরা গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে গত ২২ জুলাই শিশুসন্তান জান্নাতিকে বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে স্ত্রী রোমানা আকতার গাইবান্ধায় আদালতের কাছে তার শিশু সন্তান উদ্ধারের আবেদন করেন। এরপর গত ১৪ আগস্ট বিচারক নিশাত তাজনীন বিষয়টি আমলে নিয়ে ওই শিশুকে উদ্ধারের জন্য গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশকে নিদের্শ দেন।
আদালতের আদেশের সূত্র ধরে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে নামে। পরে তারা গতকাল (রবিবার) রাতে ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামের সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় শিশু বিক্রির সঙ্গে জড়িত শিশুটির বাবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশ আজ (সোমবার) সংবাদ সম্মেলনের পর সকালে শিশুটিকে তার মা রোমানার কোলে তুলে দেয়।
মা তার মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে বলেন, ‘আমি এমন বর্বর স্বামীকে চাই না। তার শাস্তি চাই। যে স্বামী তার নিজের কোলের শিশুকে বিক্রি করতে পারে সে অনেক কিছু করতে পারে। সে এখন আমাদের জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। তাই প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক।’
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফ আল রাজিব জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে শিশু জান্নাতিকে উদ্ধার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
৬ দিন আগে
গাইবান্ধার পৃথক স্থানে দুই গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বজনদের মারপিটের দুটি পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধু নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতদের স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পূর্ব শিবরাম গ্রামে এ ঘটনা দুটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শিবরাম গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে আয়সা সিদ্দিকার সঙ্গে ৪ বছর আগে বিয়ে হয় পাশের গ্রামের প্রবাসী মোশারফ হোসেনের।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে এসে আয়সা বুঝতে পারেন, তার ভাসুরের স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত। এই বিষয়ে আয়সা বাধা দিলে গতকাল (রবিবার) গভীর রাতে ভাড়াটে লোক দিয়ে তাকে তার ঘরের মধ্যে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাঁশের সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে মীমাংসার কথা বলে ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেছেন সিরাজুল ইসলাম।
অন্যদিকে, ওই গ্রামেই গতকাল গভীর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আব্দুল আউয়াল খান তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহতের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এরপর নিহতের বাবা সাহিব উদ্দিনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘাতক স্বামী আউয়াল খানসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ।
এ ব্যাপারে আজ (সোমবার) সকালে সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মকর্তা শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেন, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
রংপুরে ৪ খুন: ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিদ্ধার্থ-মুগ্ধকে নেওয়া হলো ঢাকায়
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করার জন্য তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনার সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য দুই আসামির নমুনা সিআইডিতে দেওয়া হবে। সেখানে নমুনা সংগ্রহের পর তাদের রংপুরে ফেরত আনা হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেসব আলামত ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনার সঙ্গে দুই আসামির ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে আসামিদের উপস্থিতির সঙ্গে কোনো জৈবিক আলামতের সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করার চেষ্টা করা হবে।
তদন্তের এই ধাপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার কারণ হলো, ডিএনএ পরীক্ষার ফল কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া জৈবিক আলামতের সম্পর্ক নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে। তবে পরীক্ষার ফল পাওয়া না পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, কারাগার থেকে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৬ দিন আগে