ল্যাটিন-আমেরিকা
কলম্বিয়ায় কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ: ভেতরে আটকে ১২ শ্রমিক
গ্যাস জমে বিস্ফোরণের কারণে কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলের একটি কয়লা খনিতে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান দেশটির কর্মকর্তারা।
ঘটনার পর উদ্ধারকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে।
কলম্বিয়ার কুন্দিনামার্কা প্রদেশের গভর্নর হোর্হে এমিলিও রেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, গতকাল (সোমবার) বিকেলে বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে ১৫ জন শ্রমিক ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে তিনজন ‘নিজ প্রচেষ্টায়’ বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদের একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ওই কয়লা খনিটি কলম্বিয়ার সুতাতাউসা এলাকায় অবস্থিত। দেশটির রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪৬ মাইল দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ২০০ ফুট উঁচুতে এর অবস্থান।
কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলে খনি দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রায়ই ঘটে থাকে এ ধরনের দুর্ঘটনা।
২০২৩ সালে সুতাতাউসার আরেকটি কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২০ সালে কুন্দিনামার্কা প্রদেশের আরেক পৌর এলাকা কুকুনুবাতে একটি খনি দুর্ঘটনায় ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।
৪ দিন আগে
ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে শিশুসহ নিহত ৪
ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্নামবুকো অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
পার্নামবুকোর প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্গত আরও অন্তত দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যের রাজধানী রেসিফেতে চিকিৎসা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, দইস উনিদোস এলাকায় পাহাড়ধসে এক নারী ও তার ছয় বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছেন।
এছাড়া পার্নামবুকোর কাছের শহর ওলিনদায় আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে আলতো দা বন্দাদে এলাকায় ভূমিধসে ২০ বছর বয়সী এক নারী ও তার ছয় মাস বয়সী ছেলে মাটিচাপা পড়ে মারা যান। ওই স্থান থেকে আরও ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ।
ভারী বৃষ্টির কারণে রেসিফে মহানগর এলাকা ও বিভিন্ন পৌর এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে পার্নামবুকোতে জন্ম নেওয়া ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মাঠপর্যায়ে স্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ফেডারেল সরকার আর্থিক সহায়তা পাঠাবে।
এদিকে, ঝড়বৃষ্টির কারণে রেসিফের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল।
পার্নামবুকোর পানি ও জলবায়ু সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্নামবুকোর অভ্যন্তরীণ শহর গোইয়ানা। সেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সরকারি স্কুলগুলোতে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
৬ দিন আগে
কলম্বিয়ার বাসে বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত, আহত ৩৮
কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা থেকে ছেড়ে আসা একটি বাসে বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৮ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) কাজিবিও পৌরসভায় প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে চলন্ত বাসটিতে বিস্ফোরণ হয় বলে জানিয়েছেন কাউকা অঞ্চলের গভর্নর অক্তাভিও গুজমান।
এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান। মাদক পাচারকে ঘিরে ওই অঞ্চলে চলমান সহিংসতার জের ধরে এই হামলা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কাউকা স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব ক্যারোলিনা কামার্গো জানান, আহতদের মধ্যে ৫টি শিশু রয়েছে।
কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’এবং এর জন্য ‘ইভান মর্দিস্কো’ নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নেটওয়ার্ক এবং
‘হাইমে মার্তিনেস’ নামের এক গোষ্ঠীকে দায়ী করা হচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলো এখনও ওই অঞ্চলে সক্রিয় এবং এরা বিলুপ্ত ফার্ক বিদ্রোহী সংগঠনের ভিন্নমতাবলম্বী একটি অংশ।
এই দল এবং ব্যক্তিদের মধ্যে কেউই ২০১৬ সালে সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি মেনে চলে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘যারা এই হামলা চালিয়ে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, তারা সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট এবং মাদক ব্যবসায়ী।’
১৩ দিন আগে
কলম্বিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত অন্তত ৬৬
উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই কলম্বিয়ায় একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) দেশটির ছোট শহর পুয়ের্তো লেগিসামোতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১২৮ আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করেছিল ওই বিমানটি।
পুয়ের্তো লেগিসামো আমাজন অঞ্চলের পুতুমায়ো প্রদেশে অবস্থিত, যা ইকুয়েডর ও পেরুর সীমান্তবর্তী এলাকা।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে এবং সেনাবাহী একটি ট্রাক ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল হুগো আলেহান্দ্রো লোপেজ বারেতো জানান, এখনও চারজন সামরিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, দুঃখজনকভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের ৬৬ জন সামরিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
বারেতো বলেন, ‘এটি কোনো অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ছিল কিনা, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা ইঙ্গিত এই মুহূর্তে নেই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সহকারী মেয়র কার্লোস ক্লারোস জানান, নিহতদের মরদেহ শহরটির মর্গে নেওয়া হয়েছে। আহতদের প্রথমে স্থানীয় দুটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে তাদের বড় শহরে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিতদের সহায়তায় এগিয়ে আসা পুয়ের্তো লেগিসামোর মানুষদের আমি ধন্যবাদ জানাই।’
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেস এক্সে দেওয়া বার্তায় জানান, সোমবার বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি পুতুমায়োর আরেক শহরে সেনা সদস্যদের নিয়ে যাচ্ছিল।
বিমানটিতে মোট ১২৮ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে ১১৫ জন সেনাসদস্য, ১১ জন ক্রু এবং ২ জন জাতীয় পুলিশের সদস্য। বারেতো জানান, দুর্ঘটনার পর ৫৭ জনকে উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মোটরসাইকেলে করে আহত সেনাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর কমান্ডার কার্লোস ফের্নান্দো সিলভা বলেন, দুর্ঘটনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি, তবে বিমানটিতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং এটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সেটি বিধ্বস্ত হয়।
তিনি আরও জানান, আহতদের রাজধানী বোগোটা ও অন্যান্য স্থানের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ৭৪ শয্যাবিশিষ্ট দুটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতার’ কারণে এই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।
পেত্রোর ভাষ্যে, ‘বেসামরিক বা সামরিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যদি দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হন, তবে তাদের সরিয়ে দিতে হবে।’
তবে সমালোচকরা দাবি করেছেন, পেত্রো প্রশাসনের অধীনে বাজেট ঘাটতির কারণে সামরিক বিমানগুলোর উড্ডয়ন ঘণ্টা কমে গেছে, যার ফলে ক্রু-দের অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
কলম্বিয়ার বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বিশ্লেষক এরিক সাউমেথ জানান, বিধ্বস্ত হারকিউলিস সি-১৩০ বিমানটি ২০২০ সালে কলম্বিয়াকে অনুদান হিসেবে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তিন বছর পর এতে ‘ওভারহল’ করা হয়, যেখানে ইঞ্জিন পরীক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, যন্ত্রাংশের ঘাটতির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।’ তবে কেন উড্ডয়নের পরই চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট বিমানটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ল, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী সানচেসও জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি লিখেছেন, ‘এই দুর্ঘটনা দেশের জন্য গভীর বেদনাদায়ক। আমরা আশা করি, আমাদের প্রার্থনা কিছুটা হলেও এই শোক লাঘব করবে।’
৪৬ দিন আগে
ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু
লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ইকুয়েডরের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের এ অভিযানের লক্ষ্য চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইকুয়েডরীয় এবং মার্কিন বাহিনী ৩ মার্চ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান এ পদক্ষেপকে মাদক-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আঞ্চলিক অঙ্গীকারের একটি নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে হেলিকপ্টার উড্ডয়ন এবং আকাশপথ থেকে নজরদারির দৃশ্য দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ অভিযান বর্তমানে ইকুয়েডরের সেনাদের জন্য কেবল লজিস্টিক এবং গোয়েন্দা সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, এ অঞ্চলজুড়ে সহিংসতার জন্য দায়ী অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে দুই দেশ নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মাক্রিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধান মাদক কার্টেলগুলোকে ক্রমবর্ধমানভাবে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছেন এবং একটি সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সন্দেহভাজন চোরাচালানকারী জলযানগুলোতে বিমান হামলার মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত।
তবে সমালোচকদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ আইন প্রয়োগ এবং যুদ্ধাবস্থার মধ্যকার পার্থক্যকে অস্পষ্ট করে দিচ্ছে, যা বেসামরিক হতাহত এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া যুক্তরাষ্ট্রের এ সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি একে মাদক পাচার এবং অবৈধ খনির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
৬৫ দিন আগে
ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পের কি কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর ওয়াশিংটনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—এ হামলার আগে হোয়াইট হাউসের কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন ছিল কিনা!
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ‘এপিক ফিউরি’ নামে ব্যাপক আকারের বিমান হামলা শুরু করে। অপরদিকে, ইসরায়েল তাদের অভিযানকে ‘লায়নস র্যোর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দুই দিন পর এ হামলা হয় এবং এরপর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলা দেখা যায়।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে এই ক্ষেত্রে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। একইসঙ্গে সংবিধানের কিছু বিধান প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিস্তৃত ক্ষমতা দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের একটি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
ক্যাপিটল হিলে প্রতিক্রিয়া মূলত দলীয় বিভাজন অনুযায়ী এসেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানরা বেশিরভাগই হামলাকে সমর্থন দিয়েছেন।
স্পিকার মাইক জনসন জানান, অভিযানের আগে প্রশাসন ‘গ্যাং অব এইট’ নামে পরিচিত উভয় দলের জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতাদের একটি গোষ্ঠীকে ব্রিফ করেছিল।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই তিনি যুদ্ধ শুরু করেছেন। তারা অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করতে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন’ আনার আহ্বান জানান। অবশ্য রিপাবলিকানদের সীমিত সমর্থনের কারণে তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলায় ২০০ জনের বেশি নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে বিস্ফোরণে অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের অনেকেই শিশু।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় শহর বেইত শেমেশে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে এবং তেল আবিবেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। আবুধাবি ও দুবাই বিমানবন্দরেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প হামলার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে হামলা পরিচালনা করছে। তিনি ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে বোমা হামলার ঘটনাকেও সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন—যা পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করে এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
ট্রাম্প আরও বলেন, অভিযানে ইরানের ১০-১২ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নির্মূল করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর বদলে অভিযানটি দীর্ঘমেয়াদি বিমান ও নৌ-অভিযানের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দশ হাজারের মতো সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানো হয়েছে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনও তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, জরুরি হুমকি দূর করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতার সীমা ও সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
৬৮ দিন আগে
মেক্সিকোর মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’কে হত্যা, দেশজুড়ে সহিংসতা
মেক্সিকোয় এক মাদকবিরোধী সেনা অভিযানে হালিস্কো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি) নামের দেশটির শীর্ষ মাদক চক্রের নেতা নেমেসিও রুবেন ওসেগেরা সের্ভান্তেসকে ওরফে এল মেনচো নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চক্রটির শীর্ষ নেতৃত্ব ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির সেনাবাহিনী এই অভিযান চালায়। শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা চালিয়েছে।
এল মেনচোর মতো মাদক সম্রাটকে হত্যা মেক্সিকো সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য। এই চক্রটি দমন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, মাদক চক্রটির সদস্যরা মেক্সিকোর ২০টি অঙ্গরাজ্যের ২৫০টির বেশি স্থানে গাড়ি পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করে। গাড়ি পোড়া কালো ধোঁয়ায় মেক্সিকোর আকাশ কালো হয়ে যায়।
অভিযানের আগে রবিবার রাতে হালিস্কোর রাজধানী গুয়াদালাহারা জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। বাসিন্দারা যে যার ঘরে অবস্থান নেন। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আজ (সোমবার) স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে হালিস্কো, মিচোয়াকান ও গুয়ানাহুয়াতোতে অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ন্যাশনাল গার্ডে ৭ সদস্যও রয়েছেন।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার হালিস্কোর তাপালপা এলাকায় এল মেনচোকে ধরার অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। এই সময় গুলিবিদ্ধ হলে তাকে আটক করে সেনাসদস্যরা। এরপর দ্রুত মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। মেক্সিকোর এই অঙ্গরাজ্যটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর মাদক পাচারকারীদের ঘাঁটি।
সবচেয়ে বড় ফেন্টানিল পাচারকারী চক্র
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযান চলাকালে গোলাগুলির মধ্যে সেনাসদস্যদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। ওই সময় আহত আরও তিনজন পরে মারা যান, দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সাঁজোয়া যান, রকেট লঞ্চারসহ বিভিন্ন অস্ত্র জব্দ করা হয়। অন্যদিকে, সন্ত্রাসীদের গুলিতে সশস্ত্র বাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
৭৫ দিন আগে
ভেনিজুয়েলার ‘অবৈধ’ তেল রুখতে ভারত মহাসাগরে আরও একটি ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর অভিযান
ভারত মহাসাগরে আরও একটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অভিযান চালিয়ে সেটির দখল নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পেন্টাগন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে অবৈধ তেল সরবরাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ক্যারিবীয় সাগর থেকে জাহাজটিকে অনুসরণ করে মার্কিন বাহিনী। এরপর ভারত মহাসাগরে এসে সেটিতে চড়ে তারা।
ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) অপরিশোধিত তেল পাচারের জন্য দেশটি নকল পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারের একটি ‘ছায়া নৌবহর’-এর ওপর নির্ভর করে আসছিল।
গত ডিসেম্বরে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর অবরোধ জারি করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে জানুয়ারিতে এক মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরোকে আটক করা হয়।
অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার উপকূল ছেড়ে কয়েকটি ট্যাঙ্কার পালিয়ে যায়, যার মধ্যে ভারত মহাসাগরে রাতভর যে জাহাজটিতে অভিযান চালানো হয় সেটিও ছিল। যুক্তদরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানায়, মার্কিন বাহিনী ভেরোনিকা-৩ (Veronica III) নামের জাহাজটিতে আরোহন করে ‘রাইট-অব-ভিজিট, সামুদ্রিক বাধা প্রদান ও তল্লাশি অভিযান’ পরিচালনা করেছে।
পেন্টাগন জানায়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জারি করা অবরোধ অমান্য জাহাজটি পালানোর চেষ্টা করছিল। আমরা এটিকে ক্যারিবীয় সাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত অনুসরণ করেছি, দূরত্ব কমিয়ে এনে শেষ পর্যন্ত এটিকে থামাতেও পেরেছি।’
পেন্টাগনের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন সেনারা ট্যাঙ্কারটিতে আরোহন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (ওএফএসি) ওয়েবসাইটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভেরোনিকা-৩ একটি পানামা নিবন্ধিত জাহাজ যা ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
তবে পানামা মেরিটাইম অথরিটি রবিবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, জাহাজটি আর তাদের নিবন্ধনে নেই। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই এর নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
ট্রাঙ্কারট্র্যাকার ডটকম রবিবার এক্সে জানায়, গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে আটক করার দিন ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করে ভেরোনিকা-৩। জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি তেল ছিল।
২০২৩ সাল থেকে জাহাজটি রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের সঙ্গে জড়িত বলে জানায় সংস্থাটি।
ট্রাঙ্কারট্র্যাকার ডটকমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানুয়ারিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেছিলেন, তাদের সংস্থা স্যাটেলাইট চিত্র ও ভূপৃষ্ঠের ছবি ব্যবহার করে নথিভুক্ত করেছে যে, অবরোধ অমান্য করে অন্তত ১৬টি ট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলা উপকূল ছেড়ে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ট্যাঙ্কার জব্দ করে আসছে। পেন্টাগন তাদের পোস্টে উল্লেখ করেনি যে ভেরোনিকা-৩ আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে কি না। পরে এক ইমেইলে এপিকে জানায়, পোস্টে যা বলা হয়েছে তার বাইরে তাদের কাছে দেওয়ার মতো অতিরিক্ত কোনো তথ্য নেই।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভারত মহাসাগরে আরেকটি ট্যাঙ্কারে, আকিলা-২ (Aquila II) অভিযান চালায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, জাহাজটির চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে তা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে আটকে রাখা হবে।
৮২ দিন আগে
কলোম্বিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, কংগ্রেস সদস্যসহ নিহত ১৫
কলোম্বিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দেশটির কংগ্রেসের এক সদস্যসহ ১৫ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
নর্তে দে সান্তানদের প্রদেশের একটি গ্রামীণ এলাকায় স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থা সাতেনা জানায়, প্রদেশের কুরাসিকা এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তারা বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হওয়ার খবর কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর যাত্রীদের অবস্থার মূল্যায়ন করতে একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়।
পরে কলোম্বিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাস্থলে বিমানটি শনাক্ত করার পর অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, বিমানটির কোনো আরোহী বেঁচে নেই।’
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কর্মকর্তারা কিছু জানাননি, তবে এ বিষয়ে তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
সাতেনার বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানটি বুধবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী কুকুতা বিমানবন্দর থেকে পাহাড়ঘেরা পৌর এলাকা ওকানিয়ার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। তবে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পরই আকাশযান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে বিমানটির শেষ যোগাযোগ হয়।
সাতেনা জানায়, বিমানটিতে দুজন ক্রু সদস্য ও ১৩ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন কাতাতুম্বো এলাকার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য দিয়োগেনেস কুইন্তেরো (৩৬)। নিহতদের তালিকায় কংগ্রেসে প্রার্থী সামাজিক নেতা কার্লোস সালসেদোও রয়েছেন।
কুইন্তেরো ছিলেন কলম্বিয়ার ভেনেজুয়েলা সীমান্তঘেঁষা উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা। যেখানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তিনি সেখানকারই বাসিন্দা এবং একজন প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ছিলেন।
পেশায় আইনজীবী কুইন্তেরো ২০২২ সালে দেশটির প্রতিনিধি পরিষদের ১৬ জন সদস্যের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন, যারা কলোম্বিয়ার কয়েক দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ লাখের বেশি ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এই আসনগুলো ২০১৬ সালে কলোম্বিয়া সরকার ও দেশের সবচেয়ে বড় গেরিলা গোষ্ঠী ফার্কের (FARC) মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে সৃষ্টি করা হয়।
কুইন্তেরোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার দল ইউ পার্টি জানিয়েছে, তিনি ছিলেন নিজ অঞ্চলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সেবার প্রতি দৃঢ় দায়িত্ববোধসম্পন্ন এক নেতা।
কলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, ‘এই মৃত্যুগুলো আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। তাদের পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। তাদের আত্মা শান্তি পাক।’
১০০ দিন আগে
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ট্রাম্প-সমর্থিত নাসরি আসফুরা
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ট্রাম্প-সমর্থিত ব্যবসায়ী নাসরি আসফুরা। শপথ নেওয়ার পর তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অপরাধ দমন এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবার মান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যান্য দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকলেও কূটনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শপথ গ্রহণের পর ৬৭ বছর বয়সী নতুন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের প্রিয় হন্ডুরাসের প্রতিটি প্রান্তে বাস্তব সমাধান পৌঁছে দিতে যে পূর্ণ অঙ্গীকার প্রয়োজন, তা নিয়েই আমি দেশ পরিচালনা করব।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে হন্ডুরাসের এই রক্ষণশীল প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর আসফুরার ক্ষমতায় উত্থান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। ভোট গ্রহণের পর গণনা শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। এরপর ফল ঘোষণায় দেখা যায়, খুব অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে জয় পান আসফুরা। নির্বাচনে কারসাজির অভিযোগ তোলেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
হন্ডুরাস কর্তৃপক্ষ জানায়, আসফুরা ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল প্রার্থী সালভাদোর নাসরাল্লা পান ৩৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট। নাসরাল্লা দাবি করে আসছেন, প্রকৃত প্রেসিডেন্ট তিনিই।
মঙ্গলবার আসফুরা বলেন, দক্ষতা বাড়াতে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের আকার ছোট করবেন এবং দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেবেন।
১০১ দিন আগে