সারাদেশ
এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলো
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো। চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা, দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট এবং চামড়া শিল্পে কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাট এলাকার এদ্বারা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন।
তিনি বলেন, প্রাচীনকাল থেকে কওমি মাদরাসাগুলো কোরআন-হাদিসের শিক্ষা প্রচার ও ইসলামের হেফাজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মুসলিম সমাজের দান-সদকা, মৌসুমি চাঁদা ও কোরবানির পশুর চামড়া এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের অন্যতম উৎস।
মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৩ সালে কওমি মাদরাসার এই অন্যতম আয়ের উৎস বন্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রমান্বয়ে দেশের রপ্তানি শিল্পের অন্যতম এই পণ্য দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষপর্যন্ত কোরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, এলাকার মানুষের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে পরিবহন খরচ বাবদ যে অর্থ ব্যয় হয়, চামড়া বিক্রি করে সেই টাকাও ফেরত পাওয়া যায় না।
পরিষদের সদস্যসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় কিছু উদ্যোগ নিলেও তাতে সুফল আসেনি। গত বছর কওমি মাদরাসাগুলোকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কাঁচা লবণ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ওই সরকারের উচিত ছিল চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান এই কাঁচামাল দেশীয় বাজারে মূল্যহীনতার দশা থেকে মুক্ত করতে ইন্টারিম সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
বর্তমান সরকারের প্রতিও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চামড়া শিল্পের সুদিন ফেরার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের কোনো প্রকল্পেই চামড়া শিল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, অথচ এটি রাষ্ট্রের বড় আয়ের একটি খাত। আগের সেই সিন্ডিকেটও এই সরকার ভাঙতে পারেনি।’
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো আগামী কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে ভবিষ্যতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিলে এবং চামড়া শিল্পের উন্নতি হলে গরিব ও এতিমদের ইসলামী শিক্ষার স্বার্থে পুনরায় চামড়া সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কোরবানির সময় দেশের মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমি মাদরাসার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় দাবি করে মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্ম সচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।
এছাড়া পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতা এবং বিভাগের বিভিন্ন কওমি মাদরাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
৫ মিনিট আগে
ফেনীতে মুক্তিপণ দাবির পর ডোবায় মিলল শিশুর মরদেহ
ফেনীতে নিখোঁজ হওয়ার পর ডোবা থেকে হাসান (১৮ মাস) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ মে) সকালে দাগনভূঞা পৌরসভার আমানউল্ল্যাহপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত শিশু হাসান লক্ষ্মীপুর জেলার কমল নগরের বাসিন্দা তারেক ও তারজিনা আক্তার দম্পতির ছেলে।শিশুর বাবা মোহাম্মদ তারেক জানান, গত ৯ মে সকালে বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয় হাসান। সন্ধ্যার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে। প্রথমে তাদের কাছে ১২ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে অপহরণকারীরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন, অন্যথায় হত্যার হুমকিও দেন তারা। এ বিষয়ে গতকাল (রবিবার) শিশুটির পরিবার দাগনভূঞা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে।
দাগনভূঞা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম জানান, আজ (সোমবার) সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি কোনো চক্রের কাজ। তদন্তে জানা গেছে, ফোন করে হুমকি দেওয়া নম্বরটি নওগাঁর।
তবে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, নিখোঁজ ও মুক্তিপণ দাবিরর বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পরেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগটি সঠিক নয়। তারপরও বিষয়টি আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসায় ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) সকাল ৬টার দিকে ফতুল্লার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকার এ ঘটনা ঘটে।
পরে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সকাল সাড়ে আটটার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধরা হলেন—আব্দুল কাদের (৫০) এবং তার তিন ছেলে মোহাম্মদ মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬)।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক জানান, সকাল ৬টার দিকে আমরা বিকট শব্দ পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখি, বাবা ও তার ছেলেরা দগ্ধ অবস্থায় আগুনে ঝলসে গেছে। পরে জানতে পারি, ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে আমরা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসি। সেখানে চিকিৎসক তাদেরকে ভর্তি করান।
তিনি আরও জানান, আব্দুল কাদের পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। তিনি পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকায় বসবাস করেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে দগ্ধ হয়ে চারজন এসেছেন। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, মেহেদির ১৮ শতাংশ, সাকিবের ১৭ শতাংশ এবং রাকিবের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
৪ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ
গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় হঠাৎ করে অন্তত অর্ধশত শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর কারখানাটিতে ছুটি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১১ মে) সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া এলাকার প্যানাসিয়া ক্লোদিং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে তারা কারখানায় গিয়ে মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন। মিলাদ শেষে একে একে শ্রমিকরা অসুস্থ হতে থাকেন। পরে তাদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (৮ মে) শ্বাসকষ্টে কারখানার একজন শ্রমিক মারা যান। এতে অন্য শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, গণ মনোদৈহিক রোগে আক্রান্ত এসব রোগীদের নিয়ে তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। চিকিৎসা দেওয়ার পর আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠবেন তারা।
এদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথমে একজন নারী শ্রমিক হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন। এরপর থেকেই অন্যরা অসুস্থ হতে থাকেন। বিষয়টি পরিকল্পিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৫ ঘণ্টা আগে
নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানচাপায় ২ মোটরসাইকেল-আরোহী নিহত
যশোরের নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গিলাপোল এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় শাহিন হোসেন (৩৪) ও তুজাম্মেল হোসেন (৪৫) নামে ২ মোটরসাইকেল-আরোহী নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) সকাল পৌনে ৭টার দিকে গিলাপোলের কবির ব্রিক্সের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিন হোসেন শার্শার উলাশী খালপাড় এলাকার সিদ্দিক হোসেনের ছেলে। তুজাম্মেল হোসেন একই গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহিন ও তুজাম্মেল মোটরসাইকেলে চড়ে পার্শ্ববর্তী নাভারন বাজারে কাঁচা মরিচ নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে গিলাপোল এলাকার কবির ব্রিক্সের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শাহিন হোসেন নিহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তুজাম্মেল হোসেনকে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে নাভারন হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোপাল কর্মকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যানটি পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভ্যানের চালক ও হেলপারকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
৭ ঘণ্টা আগে
ফেনীতে টাকা না দেওয়ায় মাদকাসক্ত সন্তানের ছুরিকাঘাতে মা নিহত
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মাদক সেবনের জন্য টাকা না পেয়ে এক যুবক ছুরিকাঘাতে মাকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের স্বামী ও মেয়ে।
রবিবার (১০মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম লাকি বেগম (৪৫)। আহতরা হলেন তার স্বামী মো. মোস্তফা (৫৫) ও মেয়ে মিথিলা মোস্তফা (১৮)। তারা দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ হুদুর বাড়ির বাসিন্দা।
মোস্তফা সৌদি আরব প্রবাসী। মিথিলা রাজাপুর আলিম মাদরাসার এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় ফেনীকে (২১) আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (রবিবার) রাতে রাফি বাড়িতে এসে মাদক সেবনের জন্য তার মায়ের কাছে টাকা চান। এ সময় লাকি বেগম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে রাফি ধারালো ছুরি দিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে গুরুতর আহত হন লাকি বেগম।
মাকে ছুরিকাঘাতের পর বোন মিথিলাকেও ছুরিকাঘাত করেন রাফি। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে যান মোস্তফা। সে সময় তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
পরে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। রাফি তখন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
আহত তিনজনকে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাকি বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই লাকি বেগমের মৃত্যু হয়েছে। আহত মোস্তফা ও মিথিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে রাফিকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, অনলাইনে অর্ডার দিয়ে দুটি ছুরি কিনেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি জব্দ করেছে পুলিশ।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, লাকি বেগমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
৭ ঘণ্টা আগে
যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকচালকের মৃত্যু
যশোরের অভয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী একটি ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন (৩৪) নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় ট্রাকের সহকারী (হেলপার) গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার ভাঙ্গাগেট মশরহাটী গ্রামে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে যশোর-খুলনা রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আহত হেলপার রায়হান (২৮) একই ইউনিয়নের হাজিপুর মুন্দিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত হেলপার রায়হান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা ট্রাক নিয়ে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে পৌঁছাই। রেললাইন পার হওয়ার সময় যশোরগামী ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকটি উল্টে যায়। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকের ভেতর থেকে চালক ছিটকে রেললাইনে আছড়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে ট্রাকের ভেতর থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হেলপারকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনো গেটম্যান বা সংকেত ব্যবস্থা না থাকায় চালক ট্রেনের উপস্থিতি বুঝতে পারেননি।
তারা আরও জানান, আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপো থেকে কয়লা লোড করতে হলে যশোর-খুলনা রেললাইন পার হতে হয়। কিন্তু সেই ক্রসিংয়ের স্থানটি অরক্ষিত, যে কারণে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নওয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ইয়াসির আরাফাত বলেন, দুর্ঘটনার পর এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ওই রুটে কিছু সময় ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
১ দিন আগে
নাটোরে পার্কে দুই রুশ নাগরিককে হেনস্তা, ২ টিকটকার আটক
নাটোরের লালপুর উপজেলার গ্রীনভ্যালী পার্কে দুই রুশ নাগরিককে হেনস্তার ঘটনায় আমিনুল ইসলাম ও রাসেল ইসলাম নামে ২ টিকটকারকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৯ মে) রাতে অভিযান চালিয়ে রাজশাহীর আড়ানি ও তানোর থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত দুই রুশ নাগরিক গত শুক্রবার লালপুর উপজেলার গ্রীনভ্যালী পার্কে বেড়াতে যান। সেখানে পিকনিকে অংশ নিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন কথিত টিকটকার। এ সময় টিকটকাররা ওই দুই রুশ নাগরিককে ঘিরে ধরে অশালীন ভাষায় হেনস্তা করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তী সময়ে গ্রীনভ্যালী পার্কের ব্যবস্থাপক ওয়াজেদুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর এ ঘটনায় জড়িত ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিদেশি নাগরিক হয়রানির ব্যাপারে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখে অন্য অভিযুক্তদের ধরতে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১ দিন আগে
যশোরে উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙা পড়ল আ.লীগ কার্যালয়সহ শতাধিক স্থাপনা
যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। অভিযান আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। একইভাবে আগামীকাল (সোমবার) দ্বিতীয় দফায় এ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উচ্ছেদকারী দল আজ (রবিবার) সকালে প্রথমে শহরের বাবলাতলা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। সেখানে সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। পরে দলটি গাবতলা মোড়ে গিয়ে রাস্তার পাশের একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে। এরপর তারা শহরের উপশহর নিউমার্কেটের বি-ব্লক বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে রাস্তার পাশে অবস্থিত আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সি-ব্লক এলাকায় গিয়ে সরকারি জমিতে নির্মিত দুটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশের একটি মুদি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে পার্ক-সংলগ্ন আমতলা বস্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বস্তির ভেতরে স্থাপিত দুটি ভিক্সল কারখানাও ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এ সময় স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিলেন। তবে বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমি উদ্ধারে এ অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, প্রতিনিয়ত মাইকিং করেও অবৈধ দখলদারদের সরানো সম্ভব হয়নি। এর আগে তাদের নিজ উদ্যোগে সরে যেতে বললেও নানা ধরনের তালবাহানা করেন তারা। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ‘দুই দিনব্যাপী এ অভিযানে প্রায় ৫ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হবে। উদ্ধার হওয়া জমির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব ও উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।
জিয়াউর রহমান আরও বলেন, ‘সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী মহলকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এদিকে, অভিযানের সময় অনেকেই অভিযোগ করেন, তাদের কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েকজন অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের আমলে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা টাকা নিয়ে তাদের সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় শতাধিক পরিবার মানবেতর অবস্থায় পড়েছে।
১ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বাসে ‘র্যাব’ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২
ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জগামী একটি বিআরটিসি বাসে ‘র্যাব’ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে ব্যর্থ হয়েছে একটি চক্র । এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে গেছেন।
শনিবার (৯ মে) রাতে নারায়ণগঞ্জের মাতুয়াইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন— কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আক্তারুজ্জামান (৪৭) এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমিরুল ইসলাম (৩০)।
যাত্রীরা জানান, মুন্সীগঞ্জের ব্যবসায়ী শেখ মাসুম প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে বিআরটিসি বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসটি নারায়ণগঞ্জের মাতুয়াইল এলাকায় পৌঁছালে পথে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসটির গতিরোধ করেন।
এ সময় তারা ব্যবসায়ী শেখ মাসুমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে দাবি করে তাকে বাস থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে শেখ মাসুম বাসের ভেতরেই চিৎকার করে যাত্রীদের উদ্দেশে জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভুয়া পরিচয়ে এসব ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসেছেন।
তার চিৎকারে বাসের অন্য যাত্রীরা সতর্ক হয়ে ওঠেন। সে সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে ‘র্যাব’ পরিচয়দানকারী চক্রের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের কয়েকজন দ্রুত পালিয়ে যান।
পরে যাত্রীদের সহায়তায় চক্রটির আক্তারুজ্জামান ও আমিরুল ইসলামকে আটক করা হয়। এরপর বাসের যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
১ দিন আগে