চট্টগ্রাম
দুই বিষয়ে পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার কমেছে: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
এ বছর চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চলতি বছর এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। অর্থাৎ এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে এবার মোট ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর পাস করেছিল ১ লাখ ১ হাজার ১৮১ জন। ইংরেজি ও গণিত—দুই বিষয়ে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় এ বছর পাসের হার কমেছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণেও পাসের হারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত বছর এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এ বছর পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
মানবিক বিভাগে ফলাফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। এ বিভাগে এবার পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত বছর মানবিক বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন কক্সবাজার জেলায় শিক্ষার্থীর পাশের হার ৫৭.০৯ শতাংশ। অন্যদিকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এই তিন জেলায় পাশের হাট যথাক্রমে ৪১.১৭, ৩৪.৯৯ ও ৪৭.৮৮ শতাংশ।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৫ হাজার ৪৩৪ জন ছাত্র ও ১৯ হাজার ৫৪৬ জন ছাত্রী। মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ হাজার ৭৩১ জন ছাত্র ও ৩০ হাজার ২২৭ জন ছাত্রী। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে অংশ নেয় ২৭ হাজার ১৬০ জন ছাত্র ও ২৪ হাজার ৫৭০ জন ছাত্রী।
৪ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লা বোর্ডে শীর্ষে ফেনী, পাসের হার ৭২.৬২ শতাংশ
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষ স্থান দখল করেছে ফেনী জেলা। প্রকাশিত ফলাফলে ফেনী জেলা এবার সবেচেয়ে ভালো করেছে। সেখানে পাসের হার ৭২ দশমিক ৬২ শতাংশ, আর কুমিল্লা বোর্ডে পাসের সার্বিক পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২।
ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজে ৫৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। ফেনী জেলা পর্যায়ে শীর্ষ স্থানে থাকা শতভাগ পাসের এ প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা বোর্ডে সেরার তালিকায় এবারও স্থান করে নিয়েছে।
কুমিল্লার শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল বিবরণীতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ফেনীর ১৮৯টি কলেজ থেকে ২১টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ১৪ হাজার ৯০০ জন অংশ নেয়। তার মধ্যে ১০ হাজার ৮২১ জন কৃতকার্য এবং ৪ হাজার ৭৯ জন অকৃতকার্য হয়। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৩৯ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৬২ ভাগ।
এদিকে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ৬টি জেলায় পাসের হারে প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাসের হার ৭২ দশমিক ৬২ পেয়ে বোর্ড পর্যায়ে শীর্ষে রয়েছে ফেনী। বাকি জেলাগুলোর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ৫০, কুমিল্লা জেলায় পাসের হার ৬৪ দশমিক ৭৮, লক্ষীপুর জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৯১, চাঁদপুর জেলায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৩। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হারে সর্বনিম্ন নোয়াখালীতে ৫৯ দশমিক ৯৮ ভাগ।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এস এম ফয়সল পিএসসি জানান, চমৎকার এই ফলাফলের পেছনে সেনাসদরের সঠিক নির্দেশনা, কলেজ প্রশাসনের সময়োপযোগী উদ্যোগ, অনুষদ সদস্যদের আন্তরিক পাঠদান ও প্রেরণা এবং ক্যাডেটদের অবিরাম অধ্যবসায় প্রধান কারণ।
অধ্যক্ষ আরও জানান, ক্যাডেট কলেজে অনুসরণকৃত শৃঙ্খলা, কঠোর অনুশাসন ও যুগোপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতির ফলেই ক্যাডেটরা প্রতি বছর একাডেমিকে দৃষ্টান্তমূলক ফল করে আসছে। নিয়মানুবর্তিতা ও অধ্যবসায় থাকলে অল্প সময়ের পাঠপরিক্রমাতেও বড় অর্জন সম্ভব, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেটিই প্রমাণ করে আসছে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, কুমিল্লা বোর্ডে ফেনীর শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে। বিষয়টি অবশ্যই ফেনীবাসীর জন্য সুখবর এবং আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা চাই এসব শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত জীবনেও ফেনীবাসীর জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনবে। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধ জীবন কামনা করছি।
৫ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত ১
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. জামাল উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের দক্ষিণ তৈলারদ্বীপ এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোহছেন ডিলারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জামাল উদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, জামাল উদ্দিনের চাচাতো ভাই মো. মুজিবের ঘরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার খবর পেয়ে বিষয়টি দেখতে সেখানে যান জামাল উদ্দিন। পরে নিজের ঘরের আইপিএসের বৈদ্যুতিক লাইন বন্ধ করতে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এ সময় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই পড়ে যান তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জুনায়েত চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি আইনগতভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১ দিন আগে
দায়িত্ব অবহেলায় চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় এক মাস ধরে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ইনজেকশন মজুতসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই নাই দেখে এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীনকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে বিভিন্ন অনিয়ম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সিভিল সার্জনকে উত্তরবঙ্গের কোথাও তাৎক্ষণিক বদলির জন্য মুঠোফোনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের নতুন ভবণ নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস এবং হাসপাতালের চলমান পরিস্থিতি উন্নতি করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেন।
স্বস্থ্যমন্ত্রী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো হাসপাতাল ঘুরে দেখেন।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ গত কয়েক বছর ধরে পতিত সরকারপুষ্ট ঠিকাদারের গাফিলতিতে ধীর গতিতে চলছে বলে অনেকের অভিযোগ।
এ হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর যাবত এখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক (শিশু ডাক্তার, ডেন্টাল ডাক্তার, গাইনী ও মেডিসিন ডাক্তার) এবং অ্যাম্বুল্যান্সও নেই। ফলে নদীবেষ্টিত এ উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের সাধারণ জনগণ ও প্রসূতি মায়েরা এবং শিশুরা এখানে সুষ্ঠু চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আরও জানা গেছে, হাসপাতালে আগত বহু রোগী এই হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছে।
২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে সরকার পরির্তনের পর ওই বছরের ১৬ অক্টোবর ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন বলে জানা যায়।
এদিন দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে সকল ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তাদের নিয়ে এক সভা করেন। এতে জেলার সার্বিক স্বাস্থ ব্যবস্থা উন্নয়ন নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন তিনি।
মন্ত্রীকে স্বাগত জানান হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. একে এম মাহবুবুর রহমান। এ সময় চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় এবং হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদন্নবী মাছুম উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
কুমিল্লায় গৃহবধূকে খণ্ডিত করে হত্যার অভিযোগ, ভাড়াটিয়া আটক
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে লাইলী বেগম (৩৫) নামে ওই বাড়ির এক ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদা বেগম ওই এলাকার মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানায়, গতকাল (শনিবার) সকাল থেকে ফরিদা বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন।
পরে বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি বস্তা ও প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় কাছে গিয়ে তিনি খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। সে সময় সন্দেহের ভিত্তিতে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ফরিদা বেগমের খণ্ডিত মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, আটক লাইলী বেগমকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়রা জানায়, লাইলী বেগম প্রায় আট দিন আগে দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রাম থেকে এসে ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তার স্বামী চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন।
নিহত ফরিদা বেগমের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের এক ছেলে কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
এদিকে, স্থানীয়রা জানায় সূত্রে লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের একটি পুরোনো হত্যা মামলার তথ্যও সামনে এসেছে। ওই ঘটনায় একটি শিশুকে হত্যার অভিযোগে লাইলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে তারা জামিনে মুক্তি পান। তবে ওই মামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ, নিহতের সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক, কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘৯টি প্যাকেটে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মাথা ও পা এখনো পাওয়া যায়নি। আটক নারী আরও চারজনের নাম বলেছেন। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
১ দিন আগে
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে আশুগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ইজারা ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে নদী তীরবর্তী তিন গ্রামের বাসিন্দারা।
শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুরে দেড়টা পর্যন্ত মহাসড়কের আশুগঞ্জের বাহাদুরপুর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিক্ষুব্ধরা। এতে মহাসড়কের দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
খবর পেয়ে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামাল হোসেনসহ পুলশের কর্মকর্তরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। আশ্বাস পেয়ে বিক্ষোভকারীরা আড়াই ঘণ্টা পর মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা হবে বলে এ সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারিভাবে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার মেন্দিপুর বালু উত্তোলনের ইজারা নিলেও মহলটি স্থান পরিবর্তন করে মেঘনা নদীতে আশুগঞ্জের বিভিন্নে এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। ইজারাদাররা প্রতিদিন অর্ধশত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি, তাপ বিদ্যুতকেন্দ্র, জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের টাওয়ারসহ নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বালু উত্তোলন বন্ধে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ জানালেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
গত বৃহস্পতিবারও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনের পর প্রভাবশালী মহল থেকে হামলা ও নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। এ অবস্থায় দ্রুত হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে ইউএনও জামাল হোসেন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বাস দেওয়ার প্রেক্ষিতে বিক্ষুব্ধরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু তারা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা যায়নি। তবে একটি ভলগেট সংশ্লিষ্টদের ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
২ দিন আগে
চাঁদপুরে ৩১ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বদলি
চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ৩১ জন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে (সাবেক ইউপি সচিব) একযোগে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, চাঁদপুরের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন কর্মরত এসব কর্মকর্তাকে একযোগে বদলী করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
এ অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ৩১ জন ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়।
জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, বদলির তালিকায় চাঁদপুর সদর, হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার জারি করা এ আদেশের অনুলিপি চাঁদপুরের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একযোগে এ বদলির ফলে জেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন কর্মপরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৩ দিন আগে
রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামবাসী
চট্টগ্রামে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড দেখালেও অন্যদিকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিপিডিবি) দাবি, চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড গড়ে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। তবে উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং চলছে।
দিনে কয়েক দফা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ছোট শিল্পকারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণার মধ্যেও চট্টগ্রামবাসীর প্রশ্ন, এত বিদ্যুৎ যাচ্ছে কোথায়?
বিপিডিবির স্বয়ংক্রিয় প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগে বেলা ১১টায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬১ দশমিক ২ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যা ৭টায় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৯২ মেগাওয়াটে। এটিই ছিল দিনের সর্বোচ্চ উৎপাদন। একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় গ্রিডে দুপুরে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ২ হাজার ৪ দশমিক ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের নিজস্ব চাহিদা ছিল দুপুরে ১ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ৩৮৭ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৯৫ মেগাওয়াট ও ১ হাজার ৩২৮ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। ফলে সরকারি হিসাবে দুপুরে ১৪ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ৫৯ দশমিক ১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে এ ঘাটতি প্রায় ৬৩ মেগাওয়াটের কাছাকাছি ওঠানামা করেছে।
সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে এসএস পাওয়ার বাঁশখালী ও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসএস পাওয়ার বাঁশখালী দুপুরে ১ হাজার ২১৪ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। মাতারবাড়ী কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট ও ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে দুপুরে ২১৩ মেগাওয়াট ও সন্ধ্যায় ২০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ২১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার রাউজান-১ ও রাউজান-২ কেন্দ্র দুটি সারা দিন বন্ধ ছিল। কেইপিজেড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকেও কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। টেকনাফ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র দুপুরে ১০ দশমিক ১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও একই অবস্থা দেখা গেছে।
মহানগরীর মেহেদীবাগ, কাজীর দেউড়ি, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ থাকছে না। গরমের মাত্রা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে বিদ্যুতের সমস্যা।
মেহেদীবাগ আমিরবাগ এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ কাজল বলেন, ‘সবসময় দেখি চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি। প্লান্টও তো কম নয়। কিন্তু আমাদের এলাকায় দিনে তিন-চারবার বিদ্যুৎ যায়। গরমে যে কষ্ট পাচ্ছি, তা আর সহ্য হচ্ছে না।’
চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার চিকিৎসক রুহুল কবির বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্না, পড়াশোনা—সবই ব্যাহত হয়। এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ যায়, বলার মতো না।’
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক দোকানে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় বিক্রি কমে যাচ্ছে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অফিসপ্রধান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। অফিস স্থানান্তরের কারণে এখন বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে না পারায় সময়মতো নিউজ ফুটেজ পাঠানো যাচ্ছে না। এমনকি লাইভ প্রগ্রাম সম্প্রচারেও বিঘ্ন ঘটছে।
বিষয়টি নিয়ে বিপিডিবির সহকারী পরিচালক আকবর হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামে উৎপাদন বেশি হলেও এর বড় অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। কোথাও কোথাও সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেও সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা হতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি।’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদনে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তরের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে পানির স্তর ছিল ১০১ দশমিক ৭৩ ফুট, যা সন্ধ্যায় সামান্য কমে ১০১ দশমিক ৬৮ ফুটে দাঁড়ায়। রুল কার্ভ অনুযায়ী নির্ধারিত মান ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ ফুট। অর্থাৎ বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।
৬ দিন আগে
মাটির নিচে গাঁজার ভাণ্ডার, চাঁদপুরে নারী মাদক কারবারি আটক
চাঁদপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি বিশেষ অভিযানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে প্রায় ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাসলিমা বেগম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ডিএনসি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁদপুর শহরের চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ বাইপাস সড়কের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকা হঠাৎ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের একটি দল এ অভিযান চালায়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, অভিযানের সময় তাসলিমা নামে এক নারীকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতঘরের বারান্দায় তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে বিশেষ কৌশলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি প্লাস্টিকের ড্রামের সন্ধান পান অভিযানকারীরা।
পরে মাটির ভেতর থেকে ড্রামটি তোলার পর খুলে তল্লাশি চালালে এর ভেতর থেকে প্রায় ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদক জব্দ করে হেফাজতে নেয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ইউএনবিকে জানান, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক নারী স্বীকার করেন যে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মিজানুর রহমান বলেন, চাঁদপুরকে মাদকমুক্ত রাখতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে কঠোর ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।
৬ দিন আগে
খানাখন্দে বিপর্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বাড়ছে যানজট-দুর্ঘটনার ঝুঁকি
একটি গর্ত এড়িয়ে সামনে এগোতেই আরেকটি গর্ত। কোথাও উঠে গেছে পিচের আস্তরণ, কোথাও ক্ষয়ে গেছে সড়কের বুক। আবার কোথাও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকায় বোঝার উপায় নেই কোথায় সড়ক, কোথায় গভীর গর্ত। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গতি কমিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ হাজারো যানবাহন। গর্তে পড়ে দুলছে ভারী যান, আতঙ্কে থাকছেন যাত্রী ও চালকরা। সামান্য অসতর্কতায় ঘটছে দুর্ঘটনা, আর গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও অর্থনীতির প্রাণরেখা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে আমতলী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় সরেজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে শুধু এই অংশেই নয়, চট্টগ্রামের সিটি গেট থেকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রায় ২৩০ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। চালক ও নিয়মিত যাত্রীরা জানান, কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৫ কিলোমিটারজুড়েই দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
সরেজমিন দেখা যায়, পদুয়ার বাজার থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট থেকে সুয়াগাজী বাজার পর্যন্ত দুই পাশের লেনেই অসংখ্য গর্ত চোখে পড়ে। কোথাও পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় খানাখন্দ, কোথাও আবার আগের মেরামতের অংশ ভেঙে নতুন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সুয়াগাজী বাজার থেকে লালবাগ পর্যন্তও একই অবস্থা। ভারী যানবাহন গর্তের ওপর দিয়ে চলার সময় হেলেদুলে যাচ্ছে। এতে পেছনে থাকা ছোট যানবাহনগুলোকে গতি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে। চৌদ্দগ্রামের মিয়ার বাজার, হাড়িসর্দার, মিরশ্বানী, কালীরবাজার ও নানকরা এলাকাতেও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও খানাখন্দ রয়েছে। কয়েকটি স্থানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মীরা পিচ ও বিটুমিন দিয়ে গর্ত ভরাট করলেও টানা বৃষ্টিতে অনেক জায়গার মেরামত আবার নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও জোড়াতালি দেওয়া অংশ উঁচু-নিচু হয়ে নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়েছে।
এ ছাড়া আমজাদের বাজার, বসন্তপুর, কেওছিমুড়া থেকে ফেনী সীমান্ত পর্যন্ত এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর ও বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারসহ আরও কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির কারণে গর্ত তৈরি হয়েছে।
আমতলী এলাকায় যানজটে আটকে থাকা কাভার্ডভ্যানচালক জামাল উদ্দিন বলেন, দিনের বেলায় গর্ত দেখা যায় বলে কোনোভাবে এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়। কিন্তু রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানিতে ডুবে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। ভারী যানবাহন নিয়ে সামান্য ভুল হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঢাকা থেকে নিয়মিত কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রামে যাতায়াতকারী বিল্লাল হোসেন বলেন, মহাসড়কের গর্তের কারণে বাসে চলাচলের সময় প্রায়ই তীব্র ঝাঁকুনি লাগে। স্বাভাবিক গতিতে চলার সময় হঠাৎ গর্তে পড়লে পুরো বাস কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের নিয়ে চলাচল করতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির সময় পানির নিচে গর্ত থাকায় ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
বাসচালক আবুল খায়ের বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর একটি। কিন্তু বিভিন্ন স্থানের গর্তের কারণে বারবার গতি কমাতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে সময় বাড়ছে, জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
আমীর হোসেন নামে আমতলী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গর্ত মেরামত করা হয়, কিন্তু কিছুদিন পর আবার একই জায়গায় সমস্যা দেখা দেয়। বৃষ্টির সময় পানি জমে থাকায় রাস্তার নিচের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিতভাবে সড়কটি পর্যবেক্ষণ করে স্থায়ীভাবে মেরামত করা দরকার।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। ভারী যানবাহনের চাপ থাকায় বর্ষাকালে এসব গর্ত দ্রুত বড় হচ্ছে। নিয়মিত পরিদর্শনের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির মধ্যে পিচ বা বিটুমিন দিয়ে স্থায়ী সংস্কার সম্ভব নয়, কারণ তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা অংশের প্রায় ১০৫ কিলোমিটার মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।
৬ দিন আগে