আফ্রিকা
সুদানে ড্রোন হামলায় ৫ জন নিহত
পূর্ব-মধ্য সুদানে একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ মে) স্থানীয় অধিকার সংস্থা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খবরে বলা হয়েছে, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরেএসএফ) একটি ড্রোন খার্তুম রাজ্যের ওমদুরমান শহরের আল-জামুইয়া ট্রায়াঙ্গেল সড়কে গাড়িটিতে হামলা চালায়।
স্থানীয় অধিকার সংস্থা ‘সুদানিজ ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলায় গাড়িতে থাকা পাঁচজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সাধারণ লোকজনকে লক্ষ্য করে এসব নির্বিচার হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সিনহুয়াকে জানান, ড্রোনটি উড়ে এসে গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে যা সরাসরি গাড়িটিতে আঘাত হানে এবং সেটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।
এ ঘটনায় সুদানের সরকার বা আরএসএফ এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খার্তুম রাজ্যে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি দেখা গেলেও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, সুদানজুড়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। তাদের অধিকাংশই খার্তুম রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী গেজিরা রাজ্যে অবস্থান করছেন।
তবে সামরিক অভিযানে ড্রোনের ব্যবহার সুদানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি সাধারণ জনগণের ওপর এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ঝুঁকি তৈরি করেছে।
জাতিসংঘ গত মার্চ মাসে জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যভাগ পর্যন্ত সুদানে ড্রোন হামলায় ৫০০-র বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনার আগে ২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে চলা সংঘাতে আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ সুদান ও দেশটির বাইরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
৬ দিন আগে
চাদে পানি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ৪২
উত্তর-মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের পূর্বাঞ্চলে পানি ব্যবহারের একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সুদান সীমান্তের কাছে ওয়াদি ফিরা প্রদেশের ইগোটে গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী লিমানে মাহামাত। আহতদের প্রাদেশিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
মাহামাত বলেন, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ওই দুই পক্ষ এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিল যে তারা বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ‘দ্রুত পদক্ষেপ’ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেছে এবং এখন পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
গ্রামটিতে একটি প্রচলিত ‘মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া’ শুরু এবং অপরাধমূলক দায় নির্ধারণে বিচারিক কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী।
মধ্য আফ্রিকার এই দেশে সম্পদ নিয়ে আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। গত বছর দক্ষিণ-পশ্চিম চাদে কৃষক ও পশুপালকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪২ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার সময় বহু ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
মাহামাত বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা রোধে সরকার ‘সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ গ্রহণ করবে।
চাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো কয়েক মাস ধরে সুদানের যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে। এর ফলে তাদের সম্পদ ও নিরাপত্তার ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। সুদানে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে চাদে আশ্রয় নিচ্ছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ সুদানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় চাদ। তারা মনে করে, যুদ্ধরত সুদানি পক্ষগুলোর যোদ্ধারা একাধিকবার সীমান্ত অতিক্রম করায় সংঘাত তাদের দেশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সুদানের যুদ্ধে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, তবে সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
এই সংঘাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে, যেখানে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এটি রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়েছে এবং সুদানের কিছু অংশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
১২ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ২০
নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলের একটি জনপদে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে নাইজেরিয়ার জোস নর্থ এলাকার গারি ইয়া ওয়ায়ে কমিউনিটিতে এই হামলাটি ঘটে বলে জানান প্লাটো রাজ্যের তথ্য কমিশনার জয়েস লোহিয়া রামনাপ। হতাহতের সংখ্যা না জানালেও তিনি বলেন, উদ্বেকজনক হারে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, হামলা প্রতিরোধ করতে রাজ্য সরকার ৪৮ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে থাকা কিছু বন্দুকধারী এলাকায় এসে হঠাৎ এলোপাথাড়ি গুলি চালান। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
ইবুকুন ফালোদুন নামক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই আকস্মিক হামলায় কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্লাটো রাজ্যের এই হামলাগুলো মূলত উত্তর-মধ্য নাইজেরিয়ার দীর্ঘদিনের সহিংসতা চক্রের একটি অংশ। প্রধানত মুসলিম ফুলানি পশুপালকদের সাথে খ্রিস্টান কৃষক সম্প্রদায়গুলোর জমি ও চারণভূমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই সহিংসতা চলে আসছে।
৪০ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ২৩
নাইজেরিয়ার মাইদুগুরি শহরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় আরও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতপ্রবণ ওই শহরটিতে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।
শহরের বাসিন্দা এবং জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো জানায়, বর্নো রাজ্যের রাজধানী মাইদুগুরির জনবহুল এলাকায় পরপর তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরণ বড় বাজারে এবং আরেকটি ঘটে মাইদুগুরির টিচিং হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বর্নো পুলিশের মুখপাত্র নাহুম কেনেথ দাসো এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই হামলায় মোট ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন।’ এই হামলার জন্য সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারীদের দায়ী করেছেন তিনি।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে কাজটি জিহাদি সংগঠন বোকো হারাম করেছে বলে ধারণা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এই গোষ্ঠিটি ২০০৯ সালে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ায় তাদের কট্টর শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদ্রোহ শুরু করেছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বোকো হারাম আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাদের হাজার হাজার যোদ্ধা এবং বিভিন্ন উপদল রয়েছে। এই উপদলগুলোর মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশের ইসলামিক স্টেট’ অন্যতম, যা আইএসের অঙ্গসংগঠন।
মাইদুগুরি শহর দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দু হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে এর আশপাশের গ্রামাঞ্চলগুলো প্রায়ই জঙ্গি হামলার শিকার হয়ে থাকে।
নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী শহরের উপকণ্ঠে জঙ্গিদের হামলা প্রতিহত করার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই আত্নঘাতী বোমা হামলা ঘটেছে। এলাকাবাসীর মতে, এটি পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবে পরিকল্পিতভাবে করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে হামলার শিকার এলাকাগুলো এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়, তবে আতঙ্কের কারণে অনেক জনসমাগমস্থল বন্ধ ছিল।
বর্নো পুলিশ জানায়, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।’
৫৩ দিন আগে
ইইউভুক্ত দেশগুলোর নৌ ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা ইরানের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সকল সদস্য দেশের নৌ ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে ঘোষণা করেছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করায় ইইউয়ের সাম্প্রতিক এই ‘অবৈধ ও অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইইউয়ের এই সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি ও নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান সরকার ২০১৯ সালের একটি আইনের অধীনে নীতির ভিত্তিতে এই পাল্টা দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে যেসব দেশ আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার মার্কিন সিদ্ধান্তকে যেকোনোভাবে মেনে চলবে বা সমর্থন করবে, তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি রাজনৈতিক চুক্তির পর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইইউ কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করে।
এই তালিকাভুক্তির ফলে ইইউয়ের সন্ত্রাসবিরোধী নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার অধীনে বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে গ্রুপের তহবিল এবং অন্যান্য আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ জব্দ করা।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এ পদক্ষেপ নেয় ইইউ, যেখানে ইরান উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে বারবার সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছে।
৭৬ দিন আগে
ভূমধ্যসাগর থেকে লিবিয়া উপকূলে ভেসে এল ৭ ‘অভিবাসীর’ মরদেহ
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পূর্ব দিকের এক সৈকত থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল। মরদেহগুলো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বলে নিজেদের ধারণার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ত্রিপোলির পূর্বে অবস্থিত উপকূলীয় শহর কাসর আল-আখিয়ারের ওই সৈকত থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সমুদ্রের ঢেউয়ের তাণ্ডবে অনেক অভিবাসীর মরদেহ তীরে ভেসে এসেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও অজানা। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
ইউরোপের ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দীর্ঘ ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলরেখার কারণে লিবিয়া অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে।
৭৬ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৪
দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩১ জন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আফ্রিকার প্রাদেশিক পরিবহনমন্ত্রী ভায়োলেট ম্যাথিয়ে জানিয়েছেন, বাসটি যখন দক্ষিণ আফ্রিকার গাউতেং প্রদেশ থেকে জিম্বাবুয়ের দিকে যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি সীমান্তের কাছাকাছি এন১ মহাসড়কের পাশের একটি খাদে পড়ে যায়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসিকে ম্যাথিয়ে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছি। আরও কিছু লোককে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা জানাব।’ বাসটি যখন খাদে পড়ে যায়, তখন এতে আরও যাত্রী ছিল বলেও জানান তিনি।
লিম্পোপো পরিবহ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।
২০২৫ সালে অক্টোবর মাসে যেখানে আরেকটি বাস দুর্ঘটনায় ৪২ জন নিহত হয়েছিল, সেই একই এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
৭৯ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বারে গুলিবর্ষণ, শিশুসহ নিহত ১২
দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানীর কাছে একটি অনুমোদনহীন বারে বন্দুক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে, যাদের বয়স ৩, ১২ ও ১৬ বছর।
স্থানীয় সময় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানী প্রিটোরিয়ার পশ্চিমে সাওলসভিল শহরের একটি হোস্টেলের ভেতরে অবস্থিত ওই বারে তিনজন বন্দুকধারী হামলা চালায়।
হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন এবং আহত অবস্থায় আরও অন্তত ১৩ জনতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে ৩ ও ১২ বছর বয়সী দুটি ছেলে এবং ১৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় গণমাধ্যম এসএবিসিকে পুলিশের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার অ্যাথলেন্ডা মাথে বলেন, কমপক্ষে তিনজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী এই হোস্টেলে ঢোকে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেখানে বেশ কয়েকজন লোক পানীয় পান করছিলেন। তাদের ওপর হঠাৎ করেই বন্দুকধারীরা নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে।’
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। স্থানীয় সময় ভোর সোয়া ৪টার দিকে গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও পুলিশকে খবর দেওয়া হয় সকাল ৬টার দিকে।
হত্যাকাণ্ডের হারে বিশ্বের সর্বোচ্চ দেশগুলোর একটি দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালে দেশটিতে ২৬ হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটে, অর্থাৎ গড়ে দিনে ৭০টিরও বেশি। এসব হত্যাকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় আগ্নেয়াস্ত্র।
৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের এই দেশটিতে বন্দুকের লাইসেন্স পেতে তুলনামূলকভাবে কঠোর আইন রয়েছে। তবে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বারগুলোতে একাধিক গণগুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, স্থানীয়ভাবে যেগুলোকে ‘শিবিন’ বা ‘ট্যাভার্ন’ বলা হয়। ২০২২ সালে জোহানেসবার্গের সোয়েটো শহরে এমনই এক ঘটনায় ১৬ জন নিহত হন। একই দিনে আরেক প্রদেশের একটি বারে গুলিবর্ষণে নিহত হন আরও ৪ জন।
মাথে বলেন, অনুমোদনহীন বারগুলোতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুলিশ ১১ হাজারের বেশি অবৈধ ট্যাভার্ন বন্ধ করেছে এবং মদ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে।
১৫৩ দিন আগে
উগান্ডায় মহাসড়কে একসঙ্গে চার গাড়ি দুর্ঘটনায়, নিহত ৪৬
আফ্রিকার দেশ উগান্ডার পশ্চিমাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ এক মহাসড়কে একসঙ্গে একাধিক যানবাহন দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কামপালা-গুলু মহাসড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ানোর পর তাদের সঙ্গে একটি লরি ও একটি কারও দুর্ঘটনায় পড়ে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে উগান্ডার পুলিশ।
তাদের তথ্যমতে, বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি বাস একসঙ্গে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করার সময় কিরিয়ানডঙ্গো শহরের কাছে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ শুরুতে ৬৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানালেও পরে সংখ্যা কমায়। তারা বলে, প্রাথমিকভাবে অচেতন অনেককেই তারা মৃত ধরে নিয়েছিলেন।
দুর্ঘটনায় নিহতের পাশাপাশি অনেকেই আহত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগকেই কাছাকাছি একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ গাড়িচালকদের ‘বিপজ্জনক ও বেপরোয়া ওভারটেকিং’ এড়িয়ে চলতে আহ্বান জানিয়েছে। দেশে দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ এই ওভারটেকিং বলেও দাবি করেন তারা।
১৯৯ দিন আগে
সুদানে ভূমিধসে প্রাণহানি হাজার ছাড়াল
আফ্রিকার দেশ সুদানের দক্ষিণাঞ্চলের দারফুর প্রদেশে ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণকারী একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী মন্তব্য করেছে, এটি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনাগুলোর অন্যতম।
এক বিবৃতিতে সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট-আর্মি জানায়, কয়েকদিন ধরে তীব্র বৃষ্টিপাতের পর রবিবার (৩১ আগস্ট) মধ্য দারফুরের মারাহ পর্বতমালায় অবস্থিত তারাসিন গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিবৃতি বলা হয়, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী কেবল একজন ছাড়া ওই গ্রামের সব বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। তাই এক হাজারেরও বেশি প্রাণহানি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, পুরো গ্রামটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি লাশ উদ্ধারে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মারাহ পর্বতমালা হলো একটি দুর্গম আগ্নেয়গিরির শৃঙ্খল, যা রাজধানী খার্তুম থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার (৫৬০ মাইল) পশ্চিমে এবং এল-ফাশের থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৬০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত।
এদিকে দেশটির ক্ষমতাসীন সার্বভৌম পরিষদ মারাহ পর্বতমালার ভূমিধসে ‘শত শত নিরীহ বাসিন্দার মৃত্যুতে’ শোক প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ওই এলাকায় সহায়তার জন্য ‘সম্ভাব্য সব ধরনের সক্ষমতা’ কাজে লাগানো হচ্ছে।
একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, মারাহ পর্বতমালার মাঝখানে সমতল হয়ে যাওয়া এলাকায় একদল উদ্ধারকারীকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সুদানে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটল। দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সংঘর্ষ ও কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দারফুরের সংঘাতপীড়িত অঞ্চলগুলোর বেশিরভাগই বর্তমানে জাতিসংঘ ও মানবিক সহায়তাদানকারী সংগঠনগুলোর জন্য কার্যত অগম্য হয়ে পড়েছে।
মানবিক সংগঠন ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) সতর্ক করেছে, মারাহ পর্বতমালাসহ দরফুরের বহু এলাকা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার কারণে বাইরের বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিছিন্ন হয়ে গেছে।
পড়ুন: আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০০, আহত ৩ হাজারের বেশি
সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট-আর্মি, যা মারাহ পর্বতমালা এলাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে সক্রিয়। গোষ্ঠীটি দারফুর ও কোরদোফান অঞ্চলে সক্রিয় একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলেও চলমান যুদ্ধে কোনো পক্ষ নেয়নি।
এল-ফাশের বর্তমানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যকার ভয়াবহ সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আর আশপাশের এলাকা থেকে পালিয়ে আসা বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য মারাহ পর্বতমালা একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রূপ নিয়েছিল।
সুদানে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আর ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। দুর্ভিক্ষের কারণে অনেক পরিবার বেঁচে থাকার জন্য ঘাস খেতে বাধ্য হচ্ছে।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই যুদ্ধে জাতিগত হত্যাযজ্ঞ ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ নৃশংসতা ঘটছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) জানিয়েছে, তারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করছে।মারাহ পর্বতমালা ৩ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত একটি ইউনেস্কো স্বীকৃত বৈশ্বিক ঐতিহ্যবাহী স্থান। এটি আশেপাশের এলাকার তুলনায় শীতল ও বেশি বৃষ্টিপাতের জন্য পরিচিত।
দেশটিতে প্রতি বছর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মৌসুমি বর্ষায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক ভূমিধসটি ছিল সুদানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে একটি।
২৪৯ দিন আগে