বৈদেশিক-সম্পর্ক
জাতিসংঘে জনবান্ধব নীতিমালা ও ন্যায্য অর্থায়নের আহ্বান ঢাকার
সামাজিক উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ নতুন করে বৈশ্বিক সংহতি এবং জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের ৬৪তম অধিবেশনে বক্তৃতাকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি সকলের জন্য সমান সুযোগসহ সহানুভূতিশীল সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সালাহউদ্দিন নোমান গ্রামীণ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের ওপর জোর দিয়ে সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন পদ্ধতির ওপরও আলোকপাত করেন।
ঋণ ত্রাণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুতদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের এ স্থায়ী প্রতিনিধি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের ৬৪তম অধিবেশন ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
বাংলাদেশ ২০২৩-২০২৭ সালের জন্য এ কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
৩ দিন আগে
ঢাকা-বেইজিং সহযোগিতা অব্যাহত থাকার আশাবাদ প্রধান উপদেষ্টার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেরর পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলেও বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ‘চীন-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরাম’-এর একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আমি এই দপ্তরে থাকব না এবং একটি নতুন সরকার গঠিত হবে। তবে আমাদের দুই দেশের মধ্যে চলমান কাজগুলো অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।’
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে চীনের জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী এবং বায়োমেডিকেল, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ও আইন খাতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও প্রখ্যাত বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী শিন-ইউয়ান ফু অধ্যাপক ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের সঙ্গে কাজ করার এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজির বোর্ড অব ডিরেক্টরসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেক (সিঙ্গাপুর)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউকিং ইয়াও বাংলাদেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। ওয়ালভ্যাক্স অন্তত ২২টি দেশে তাদের টিকা রপ্তানি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় সাবসিডিয়ারি গড়ে তুলেছে এবং নিউমোকোকাল কনজুগেট ভ্যাকসিন (পিসিভি) ও হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকার স্থানীয় উৎপাদন সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। ইন্দোনেশিয়ায় একটি ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন— সিঙ্গাপুর রোবোটিক্স সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জিনসং ওয়াং, ফোরডাল ল’ ফার্মের ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং, বেইজিং উতং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি রান, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রকল্পবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট গাও ঝিপেং, চায়না হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বিনিয়োগ পরিচালক শু তিয়ানঝাও, চায়না সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুয়া জিয়ে, পাওয়ারচায়না ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের ওভারসিজ মার্কেটসের জেনারেল ম্যানেজার চেন শুজিয়ান, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মা শিয়াওইউয়ান এবং চীন–বাংলাদেশ পার্টনারশিপ ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যালেক্স ওয়াং জেকাই।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন, যেটি ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি চীনের প্রত্যন্ত গ্রামগুলো পরিদর্শনের এবং মানুষের জীবন বদলে যাওয়ার দৃশ্য দেখার সুযোগ পেয়েছি। পরবর্তীতে চীনা সরকার এই নীতির ওপর ভিত্তি করে তাদের নিজস্ব কর্মসূচি চালু করেছিল।’
প্রধান উপদেষ্টা গত মার্চে চীন সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘তিনি (শি জিনপিং) আমাকে বলেছিলেন যে তিনি আমার বই পড়েছেন এবং এর নীতিগুলো অনুসরণ করেন। সেটি আমার জন্য একটি অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত ছিল।’
অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্যখাতই সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কীভাবে স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত করা যায়—যাতে চিকিৎসক ও রোগীরা কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারেন, চিকিৎসা ইতিহাস ডিজিটালি সংরক্ষণ করা যায় এবং সহজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায়—সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি ওষুধ শিল্পে সামাজিক ব্যবসা মডেলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘ওষুধ তৈরিতে খরচ খুব কম হলেও তা চড়া দামে বিক্রি হয়। আমরা এমন ওষুধ কোম্পানি গড়ে তুলতে চাই যারা শুধু মুনাফা নয়, বরং মানুষের সেবার ওপর গুরুত্ব দেবে।’
কোভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার দাবির কথা স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে কথা বলেছিলাম এবং বাধার সম্মুখীন হয়েছিলাম। ভোটের সময় ১০টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। তারা বলেছিল, ধনী দেশগুলো টিকা কিনে দরিদ্র দেশকে দেবে। আমরা বলেছি—আমাদের দান দরকার নেই। মানুষ মারা যাচ্ছিল, আর কেউ কেউ টাকা কামাচ্ছিল—এটা লজ্জাজনক।’
তিনি উত্তরবঙ্গে একটি ‘‘হেলথ সিটি’’ গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, ‘চীন সফরের সময় আমি উত্তরবঙ্গে ১,০০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এটি দরিদ্র অঞ্চল হলেও ভারত, নেপাল এবং ভুটানের কাছাকাছি হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। এই হেলথ সিটিতে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র এবং টিকা উৎপাদন সুবিধা থাকবে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষও ব্যবহার করতে পারবে।’
অধ্যাপক ইউনূস চীন সরকারের নিরন্তর সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে সরকারের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
জাতিসংঘ শান্তিবিনির্মাণ কমিশনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ
২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘ শান্তিবিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কমিশনের ৫ সদস্যের ব্যুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কমিশনের ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে মরক্কোকে সভাপতি এবং জার্মানি, ব্রাজিল, ক্রোয়েশিয়া ও বাংলাদেশকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে।
পিবিসি একটি আন্তঃসরকারি উপদেষ্টা সংস্থা, যা সংঘাত-আক্রান্ত দেশগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। এ কমিশন ৩১টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত, যারা সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থায় নেতৃস্থানীয় সৈন্য এবং আর্থিক অবদানকারী দেশগুলো থেকে নির্বাচিত।
বাংলাদেশ ২০০৫ সালে কমিশনটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এর সদস্য। এর আগে, বাংলাদেশ ২০১২ ও ২০২২ সালে কমিশনের সভাপতি এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মহাসচিবের পক্ষে তার সচিবালয়ের প্রধান সভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা শান্তি বিনির্মাণে কমিশনের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য দেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখায় কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। সেইসঙ্গে জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
৮ দিন আগে
দেশ ফিরলেন ভারতীয় জলসীমায় আটক ১২৮ জেলে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতে আটক থাকা ১২৮ জন জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আটক ২৩ জন ভারতীয় জেলেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বঙ্গোপসাগরে দুই দেশের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানারেখায় ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে বাংলাদেশের মালিকানাধীন পাঁচটি মাছ ধরার নৌকাসহ ওই জেলেদের গ্রহণ করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। পাশাপাশি ভারতের মালিকানাধীন দুটি মাছ ধরার নৌকাসহ দেশটির ২৩ জেলেকে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে তারা।
এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রত্যাবাসন কার্যক্রমটি সম্পন্ন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা সমূহ একযোগে কাজ করেছে।
৯ দিন আগে
পর্যবেক্ষক না এলেও নির্বাচনের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখবে যুক্তরাষ্ট্র: ইসি সচিব
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যবেক্ষক না পাঠালেও নিজ উদ্যোগে, অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বিষয়ে সার্বিক খোঁজ খবর রাখবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের এক বৈঠক চলাকালে এ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আখতার আহমেদ বলেন, তারা আমাদের জানিয়েছেন যে নির্বাচন উপলক্ষে তাদের কোনো পর্যবেক্ষক দল আসবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বাধীন একটি দল আসবে এবং মার্কিন দূতাবাস থেকে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় নিজ উদ্যোগে, নিজেদের মতো করে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবেন।
তিনি বলেন, তবে এটি আনুষ্ঠানিক কোনো পরিদর্শন নয়। তারা এমনিতেই দেখতে যাবেন—ভোটের অবস্থাটা কী। এ বিষয়ে আমাদের তাদের ইচ্ছাটা জানিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশন সাদরে তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, বৈঠকে তারা নির্বাচনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এর মধ্যে উনাদের বেশি কৌতুহল ছিল পোস্টাল ব্যালট নিয়ে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে তাদের জানিয়েছি, সেইসঙ্গে নমুনা ব্যালট দেখিয়েছি। তারা বলেছেন যে এটি জটিল, বেশ কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার। তবে তারা আমাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক সফলতা কামনা করেছেন।
প্রতিনিধি দলটি নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়ন এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানতে চান উল্লেখ করেন আখতার আহমেদ। জবাবে নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছে, অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল, তদন্ত কমিটি এবং ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযোগ মোকাবিলা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়ি ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে কি না—এ বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের দূত জানতে চান। এর জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, কমিশন পর্যায়ে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কোথাও কোনো স্থানীয় সমস্যা থাকলে তা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান করা হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারা এটাও জানতে চেয়েছিলেন যে আমরা আমাদের আইনশৃংখলা ব্যবস্থাপনা কী হতে যাচ্ছে। আমরা বলেছি যে আমাদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ কর্মী বিভিন্ন স্তরে কাজ করবেন।
ইসি সচিব জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সন্তুষ্ট। তারা একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট একযোগে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণা করে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত) এবং মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ।
১০ দিন আগে
জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে তার সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র: রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ পক্ষ নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণের। বাংলাদেশের জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবেন, আমরা সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমি খুবই আগ্রহী। আমি এই নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি এবং এর ফলাফল দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণের, এবং শুধু বাংলাদেশের জনগণেরই। বাংলাদেশের জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে, আমরা সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত।’
সিইসির সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে তথ্যগুলো আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন, সেগুলো নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আপনাদের সবার মতো আমিও ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।
তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে যখন আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনটি উৎসবমুখর হবে। আশা করি, এটি একটি আনন্দময় নির্বাচন হবে। যেখানে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে গিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন এবং আপনারা একটি অত্যন্ত সফল নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট একযোগে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণা করে।
আজ (বুধবার) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
ভারতের পার্লামেন্টে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানানো হবে
বাংলাদেশের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদায় জিয়াকে স্মরণ করবে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভা। আজ বুধবার দেশটির রাজ্যসভায় এই শ্রদ্ধা জানানো হবে।
রাজ্যসভার বুধবারের (২৮ জানুয়ারি) কার্যসূচিতে দেখা যায়, অধিবেশনে প্রয়াতদের স্মরণ পর্বে খালেদা জিয়াসহ মোট তিনজনের জন্য শোক প্রস্তাব তোলা হবে।
কার্যসূচি অনুযায়ী, ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর আধা ঘণ্টা পর সম্প্রতি প্রয়াত হওয়া নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করবেন।
ভারতীয় পার্লামেন্টে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়ার দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক মর্যাদা এবং দায়িত্বকালীন সময়ে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার ভূমিকার স্বীকৃতি প্রতিফলিত করে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আসার পরপরই এক এক্স পোস্টে শোক জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে চেয়ারম্যান) তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক একটি পত্রও দেন তিনি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ভারত সরকারের শোকবার্তা তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন।
এরপর ১ জানুয়ারি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
১০ দিন আগে
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা শর্ত শিথিল করবে ওমান
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্মেলনে ওমানের শ্রমমন্ত্রী ড. মাহাদ বিন সাঈদ বিন আলী বাওয়াইন সালিম আল-বুসাইদি অনিয়মিত, অদক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মী ভিসার (ওয়ার্ক ভিসা) শর্তাবলি শিথিল করার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সম্মেলনে মূল অনুষ্ঠানের পার্শ্ববৈঠকে ওমানের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এ সময় অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের জরিমানা ছাড়াই বৈধ করায় ওমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী, যেমন: প্রকৌশলী, চিকিৎসক, নার্সরাও যাতে করে ওমানের শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারেন, এ ব্যাপারেও ওমানের মন্ত্রীর সহযোগিতা চান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। পাশাপাশি অদক্ষ, আধা-দক্ষ কর্মীদের ভিসার ওপর স্থগিতাদেশ পর্যালোচনার অনুরোধ জানান।
ওমানের শ্রমমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান অনিয়মিত ও কাগজপত্রবিহীন প্রবাসী কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে ২০২৩ সাল থেকে সাময়িকভাবে অদক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন কর্মী ভিসা স্থগিত রাখা হয়। তবে আগামী দুমাসের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য ওয়ার্ক ভিসা পুনরায় চালু করার আশ্বাস দেন তিনি।
বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, আইনি সংস্কার, কর্মী পাঠানোর আগে দক্ষতা যাচাই, বিদেশে যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাগতিক দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও আইনকানুন সম্পর্কে জানানোসহ অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে ওমানের শ্রমমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান।
এ ছাড়াও চলতি বছরের প্রথমার্ধে ওমানের শ্রমমন্ত্রীকে মাস্কাটে যৌথ কারিগরি কমিটির (জেটিসি) পরবর্তী অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তাব করেন প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা। পাশাপাশি ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং শ্রম সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হওয়া সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের জন্য ড. মাহাদ বিন সাঈদকে আহ্বান জানান তিনি।
১১ দিন আগে
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় কোস্টারিকার সমর্থন
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে কোস্টারিকা। একইসঙ্গে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরনোল্ডো আন্দ্রে টিনোকো এই সমর্থনের কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী কোস্টারিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকের তথ্য জানান।
আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। এর মধ্যে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
রাষ্ট্রদূত মুশফিক জানান, দুই দেশ বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা করেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে কোস্টারিকায় পাট, বস্ত্র ও ওষুধজাত পণ্য আমদানিসহ বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদার, বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জাতিসংঘ নেতৃত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থার (আঙ্কটাড) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান-এর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
১৫ দিন আগে
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মান নির্ধারণ করবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, শ্রম আইনের ব্যাপক সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিপুল সংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করবে এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদাররাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক পাঠাবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের জন্য এটি একটি মানদণ্ড তৈরি করবে। আসুন, আমরা আশাবাদী থাকি।’
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যারাই বিজয়ী হবেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি আগ্রহী।
এ সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে বাংলাদেশ উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশনে-সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগসহ প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি সাধুবাদ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে আরও শুল্ক কমানো সম্ভব হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। কৃষিপণ্য, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ঢাকা-ওয়াশিংটন আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গেও কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিবিরগুলোতে বসবাসরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ।
দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আসিয়ানের সদস্যপদ চাইছে এবং ইতোমধ্যে আঞ্চলিক ব্লকের সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত ১৮ মাসে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ও অর্থনীতি আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। আগামী সরকার এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা বিধিনিষেধ নিয়েও আলোচনা করেছে।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজিবিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
১৫ দিন আগে