সিলেট
শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যুগোপযোগী ও যৌক্তিক কাঠামো নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সম্প্রতি শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে দরগাহর সার্বিক উন্নয়ন এবং দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সবাই একমত হন।
বৈঠক শেষে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেন, দরগাহর উন্নয়ন, দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক কার্যক্রমের একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার বিষয়ে মাজার কর্তৃপক্ষসহ সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই এই ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী এক মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে নতুন কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আপাতত বিদ্যমান কমিটিই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দানবাক্সের অর্থ গণনা করবে এবং তা মাজারের চলমান ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য এবং মাজার মাদ্রাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধি। কমিটির সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিলেটের জেলা প্রশাসক।
এ সময় বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের পূর্ববর্তী উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অতীতের কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে চাই না, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। যেকোনো কাজ এককভাবে করার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যুক্ত করে করাটা বেশি কার্যকর। সরকার এমন একটি টেকসই উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে কাজের স্বচ্ছতার পাশাপাশি সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যতে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়।’
এর আগে সকালে সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দরগাহর ঐতিহ্য রক্ষা, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সিলেটের স্থানীয় রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মাজার কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার ড. মোশারফ হোসেন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. জিল্লুর রহমান, সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
২ ঘণ্টা আগে
সিলেটে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে খালাস বাবর, আরিফ ও গৌছ
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
এই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে, গত এপ্রিল মাসে আলোচিত এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। সেইসঙ্গে গত ৭ এপ্রিল একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চান বিচারক। শুনানিতে অংশ নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গৌছ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনি এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
ওই ঘটনায় দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। এরপর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গৌছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন।
১ দিন আগে
বিদায় বেলায় শাহজালালের মাজারে ৫ লাখ টাকা দিলেন ডিসি সারওয়ার
সিলেট থেকে বিদায়ের আগে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন সদ্যবিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে জামিয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাদরাসা কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত চেকে স্বাক্ষর করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব।
তিনি জানান, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে মাজারের সোনালী ব্যাংকের হিসাবে দানবাক্স থেকে পাওয়া ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকার সঙ্গে জেলা প্রশাসক আরও ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছেন। ফলে ওই হিসাবে বর্তমানে মোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছে।
সোমবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের চারটি এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা আরও চারটিসহ মোট আটটি দানবাক্স খোলা হয়। এসব দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়।
এছাড়া সাত আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং দুটি সৌদি রিয়ালও পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পরবর্তীতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখার হিসাবে জমা করা হয়।
২ দিন আগে
জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে শাহজালালের মাজারের ডেগ ও দানবাক্স
সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহাসিক ডেগ ও দানবাক্স আপাতত জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকছে। মাজারে জমা হওয়া দানের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা একটি হিসাবে (অ্যাকাউন্টে) জমা রাখা হবে। পরবর্তীতে এ টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।
সোমবার (২২ জুন) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মাজারের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামীয় একটি হিসাবে রাখা হবে। সম্প্রতি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তীতে এই টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিসি চলে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।’
সাঈদা পারভীন বলেন, দানবাক্স জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। যদি সেগুলো ভর্তি হয়ে যায়, তাহলে আবার খুলে গণনা করা হবে। এ ছাড়াও দানবাক্সের পাহারায় আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।
এদিকে, গতকাল (সোমবার) দুপুর আড়াইটার দিকে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারে স্থাপন করা তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ ও একটি দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। এতে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা পাওয়া যায়। গণনার সময় দানবাক্সে টাকার পাশাপাশি ৭ আনা সোনা ও বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াল, ডলার, পাউন্ড এবং স্বর্ণের চেইন, আংটিসহ ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরো।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মাজার প্রাঙ্গণে এ গণনা কার্যক্রম চলে। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে মাজারে নতুন একটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সময়ে মাজারে থাকা তিনটি ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
৩ দিন আগে
সিলেটে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার
সিলেটের গোলাপগঞ্জে পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দীপনকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২১ জুন) ভোররাতে উপজেলার রণকেলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলে, গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন দীপন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হওয়া একাধিক মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও জানান, মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪ দিন আগে
সিলেটে ভারতীয় নাগরিক আটক, এনআইডি জালিয়াতির অভিযোগ
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির চেষ্টার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাবুর বাজার এলাকার একটি কম্পিউটার ও প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় আধার কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তি দোকানটিতে যান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাহবুর সুলতান কৌশলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি ভারতীয় আধার কার্ড এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ভারতীয় বিভিন্ন কাগজপত্রের ছবিও পাওয়া গেছে। এসব নথির সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তি নিজের নাম রাব্বি আহমদ বলে পরিচয় দিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের কারণে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে আগের রাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। বাংলাদেশে চলাচলের সুবিধার্থে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির চেষ্টা করেছিলেন বলেও তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আটক ব্যক্তির পরিচয়, বাংলাদেশে প্রবেশের বৈধতা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া কাগজপত্রও যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৪ দিন আগে
সিলেটের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের বন্ধ ঘোষণা
টানা বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাবে সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিন মিয়া।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পর্যটনকেন্দ্রের আশপাশের দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পুরো এলাকাজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন।
কোম্পানীগঞ্জ ইউএনও মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সাদাপাথরে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। স্রোত কমে গেলে এবং আবহাওয়া স্থিতিশীল হলে পুনরায় পর্যটনকেন্দ্রটি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি ঘটলেই পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে সাদাপাথর।
৫ দিন আগে
অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল চালু, যথাযথ অ্যাকাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে করে বর্তমানে কলেজটিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, আজ (রবিবার) সকালে কলেজ প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরপর মিছিল নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন তারা। পরে তারা হাসপাতাল ভবনের সামনে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হন। এতে কলেজের প্রথম বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষ পর্যন্ত শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ, রাফাত রেজা আকাশ ও সুরাইয়া আক্তার স্মৃতি বলেন, একটি মেডিকেল কলেজের প্রাণ হলো তার হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস (চর্চা)। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ সময় পার হলেও আমাদের হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়নি। এর ফলে আমরা ব্যবহারিক জ্ঞান ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাস থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছি। হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল শিক্ষা অন্ধের মতো। আমরা এভাবে অসম্পূর্ণ শিক্ষা নিয়ে জনগণের সেবায় নিয়োজিত হতে পারি না।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত বছরের ১৫ এপ্রিল একই দাবিতে আন্দোলনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। উল্টো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে চরম অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। বারবার আশ্বাসের বেড়াজালে বন্দি হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে এবং অবিলম্বে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী পৃথ্বীরাজ চৌধুরী, সাইদুল ইসলাম, প্রিয়াস চন্দ্র, ফারজানা আহমেদ মিম, সামচিয়া তাবাসসুম মাঈশা ও কেয়া গোস্বামী। এছাড়া চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাহপরান, তামিমা রহমান ও জারিন তাসনিম অথৈ, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কায়েস আব্দুল্লাহ জামাল এবং মোহাম্মদ তানভীর হোসেন প্রমুখ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন।
শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেন, যতক্ষণ না হাসপাতাল চালুর দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং অ্যাকাডেমিক অব্যবস্থাপনা দূর করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা দেশের চিকিৎসা শিক্ষার মান অক্ষুণ্ন রাখতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
৫ দিন আগে
সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমকে প্রত্যাহার
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মেহেন্দী হাসান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিলেট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহারপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সংযুক্ত) পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হলো।
জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে আদেশের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে এই প্রজ্ঞাপনে কিছু জানানো হয়নি।
এ তথ্য নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, আগামীকালই (সোমবার) তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বেশ আলোচিত ছিলেন।
জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত হন তিনি। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন এ কর্মকর্তা।
এরপর ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি।
৫ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে।
শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক সময়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৭ মাস এবং অপরজনের বয়স ৫ মাস। তাদের একজনের বাড়ি মৌলভীবাজার সদরে এবং অপরজনের বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নমুনা পরীক্ষায় ২ জনের হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৬৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৬১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গে মারা গেছে।
৭ দিন আগে