সিলেট
এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলো
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো। চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা, দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট এবং চামড়া শিল্পে কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাট এলাকার এদ্বারা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন।
তিনি বলেন, প্রাচীনকাল থেকে কওমি মাদরাসাগুলো কোরআন-হাদিসের শিক্ষা প্রচার ও ইসলামের হেফাজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মুসলিম সমাজের দান-সদকা, মৌসুমি চাঁদা ও কোরবানির পশুর চামড়া এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের অন্যতম উৎস।
মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৩ সালে কওমি মাদরাসার এই অন্যতম আয়ের উৎস বন্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রমান্বয়ে দেশের রপ্তানি শিল্পের অন্যতম এই পণ্য দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষপর্যন্ত কোরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, এলাকার মানুষের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করে পরিবহন খরচ বাবদ যে অর্থ ব্যয় হয়, চামড়া বিক্রি করে সেই টাকাও ফেরত পাওয়া যায় না।
পরিষদের সদস্যসচিব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় কিছু উদ্যোগ নিলেও তাতে সুফল আসেনি। গত বছর কওমি মাদরাসাগুলোকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কাঁচা লবণ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ওই সরকারের উচিত ছিল চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান এই কাঁচামাল দেশীয় বাজারে মূল্যহীনতার দশা থেকে মুক্ত করতে ইন্টারিম সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
বর্তমান সরকারের প্রতিও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চামড়া শিল্পের সুদিন ফেরার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের কোনো প্রকল্পেই চামড়া শিল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই, অথচ এটি রাষ্ট্রের বড় আয়ের একটি খাত। আগের সেই সিন্ডিকেটও এই সরকার ভাঙতে পারেনি।’
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো আগামী কোরবানির মৌসুমে চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে ভবিষ্যতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিলে এবং চামড়া শিল্পের উন্নতি হলে গরিব ও এতিমদের ইসলামী শিক্ষার স্বার্থে পুনরায় চামড়া সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কোরবানির সময় দেশের মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমি মাদরাসার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় দাবি করে মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, কওমি মাদরাসাগুলো দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্ম সচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।
এছাড়া পরিষদের বিভিন্ন স্তরের নেতা এবং বিভাগের বিভিন্ন কওমি মাদরাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
৫ মিনিট আগে
সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজনের বয়স ৯ মাস এবং আরেকজনের ৮ মাস।
রবিবার (১০ মে) গত ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়।
মৃত শিশুদের একজনের বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা। অপরজনের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। তাদের মধ্যে একজন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে এবং অপরজন ডা. শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা গেছে ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৩ শিশু।
এদিকে, বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে ভর্তি আছেন ২৬৮ জন।
গতকাল (শনিবার) সকাল ৮টা থেকে আজ (রবিবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত হয়নি। এই সময়ে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে সিলেটের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২২ জন।
১ দিন আগে
সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। তাদের বয়স ছিল পাঁচ থেকে সাত মাসের মধ্যে।
মৃত শিশুরা হলো— সিলেট মহানগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আবদুল মুমিনের ছেলে মাহাদি হাসান (৫ মাস), সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সুন্নাহ মিয়ার ছেলে মুসতাকিন (৬ মাস) এবং সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সুরেশনগর এলাকার জাকারিয়ার মেয়ে জারা (৭ মাস)।
সর্বশেষ এই তিন শিশুসহ সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে একজন হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেটে ল্যাব টেস্টের সীমিত সুযোগ থাকায় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রাথমিকভাবে হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৯ শিশু, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শিশু এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৮ শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ শিশু এবং ফেঞ্চুগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে ভর্তি হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৪১ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১০৪ শিশু শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৮ শিশু, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ শিশু, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ শিশু, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ শিশু, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ শিশু এবং সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এছাড়া, বাহুবল ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন করে, আজমিরিগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন করে চিকিৎসা নিচ্ছে। আরও কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন করে এবং কিছু স্থানে একজন করে রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভাগজুড়ে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাড়ে ১২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশের বেশি। আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্রদান
অতিবৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে জেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দিয়ে তিন মাসব্যাপী সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভুলভাবে করে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরের এই অবস্থায় প্রথম দিন থেকেই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন, আমরা যেন প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারি।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এজন্য হাওরে আর ঠিকাদার পোষা, আর এদিক-ওদিক করার প্রকল্প হবে না। হাওরকে নিরাপদ উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে যাতে এমন দুর্যোগ না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার।
বিভাগীয় কমিশনার আপ্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, বিএনপি নেতা আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বক্তব্য দেন।
পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে অতিথিরা উপজেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাত সহায়তা তুলে দেন।
৬ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু মারা গেছে। তাদের একজনের বয়স ৬ মাস এবং অন্যজনের ৫ মাস।
সোমবার (৪ মে) রাতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক সময়ে তারা মারা যায়।
৬ মাস বয়সী শিশুটির বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে এবং ৫ মাস বয়সী শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫ শিশু মারা গেছে।
এদিকে, বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে ২০০ জন ভর্তি আছে। এর মধ্যে ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ১০ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ৬ জন উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে, ১ জন মা ও শিশু হাসপাতালে, ১ জন আল হারামাইন হাসপাতালে, ৭ জন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে, ২ জন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে, ২ জন নর্থ ইস্ট হাসপাতালে, ২ জন পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে, ৪ জন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ২ জন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১ জন শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৪৬ জন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে, ৩ জন জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১৫ জন হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে এবং ১৫ জন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে।
গতকাল (সোমবার) সকাল ৬টা থেকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় ১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৬৩ জন।
৬ দিন আগে
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত বেড়ে ৯
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক ও পিকআপ-ভ্যানের সংঘর্ষে রামিম মিয়া (৫০) নামে আহত আরেক ব্যক্তি মারা গেছেন। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ জনে।
রবিবার (৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম।
নিহত রামিম সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার আলিমুদ্দিনের ছেলে।
গতকাল (রবিবার) সকাল ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজারে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ঘটা ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৪ জন এবং পরে আরও ৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০-১২ জন। হতাহতরা সবাই নির্মাণশ্রমিক।
নিহতরা হলেন– সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার সরিষা নার্গিস (৪৫), দিরাইয়ের সেচনী গ্রামের মোছা. মুন্নি বেগম (৩৫), দিরাইয়ের ভাটিপাড়া গ্রামের নুরুজ আলী (৬০), ভাটিপাড়া নূর নগরের ফরিদুল (৩৫), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের পান্ডব বিশ্বাস (২০) ও পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান (৪৫)।
আহতের মধ্যে কয়েকজন জানান, ভবনে ঢালাইয়ের কাজের জন্য সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে একটি পিকআপে করে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। পিকআপে ২০ জন ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল ঢালাই মেশিন। পিকআপটি তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক আসা একটি কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে এর সংঘর্ষ হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সবাই ছিটকে পড়েন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার আগে ট্রাকের চালক ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। পরে হেলপার গাড়ি চালানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
৭ দিন আগে
এবার সিলেট থেকে সরাসরি হজ ফ্লাইট ৭টি, যাত্রা শুরু ৪ মে
এ বছর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মোট ৭টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ফ্লাইটটি ৪ মে রাত ১টা ২৫ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে মদিনার উদ্দেশে যাত্রা করবে।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে সিলেট হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) কার্যালয়ে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা-সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাব সিলেট অঞ্চলের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বলেন, প্রতি বছরের মতো এ বছরও সিলেট থেকে সরাসরি পবিত্র হজ ফ্লাইট চালু হওয়া অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। প্রথম ফ্লাইটটি ৪ মে রাত ১টা ২৫ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি সকল হজযাত্রীকে মোবারকবাদ জানান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, গত বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও সিলেট থেকে মোট ৭টি হজ ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে একটি মদিনায় এবং বাকি ৬টি জেদ্দা বিমানবন্দরে যাবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এসব ফ্লাইট ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ (দুটি ফ্লাইট) ও ১৮ মে সিলেট-জেদ্দা রুটে পরিচালিত হবে।
এ বছর সিলেট অঞ্চলের মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৯৪ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৩৩ জন সরাসরি সিলেট থেকে সাতটি ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাবেন এবং বাকি ৪৬১ জন ঢাকা হয়ে যাত্রা করবেন। ‘রোড টু মক্কা’ কর্মসূচির আওতায় ঢাকায় ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হলেও সিলেট থেকে যাত্রাকারীদের ইমিগ্রেশন সৌদি আরবেই সম্পন্ন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী হজে অংশ নেবেন। সৌদি সরকারের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী প্রতি এজেন্সির জন্য ন্যূনতম ২ হাজার জন যাত্রীর সীমা থাকলেও সিলেট অঞ্চলে এ নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হয়নি।
সিলেট অঞ্চলে মোট ৩০টি হজ এজেন্সি কার্যক্রমে যুক্ত থাকলেও এ বছর ২৩টি এজেন্সি নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেয়। এসব এজেন্সির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হজযাত্রীদের নিবন্ধন, ভিসা কার্যক্রম এবং সৌদি আরবে বাসস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বছর একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে ‘সিলেট অ্যালায়েন্স হজ ২০২৬’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে লিড এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ সার্ভিসেসের লাইসেন্সে হজ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা সমন্বিত ব্যবস্থাপনার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ বছর সিলেট থেকে অংশগ্রহণকারী হজ এজেন্সিগুলো হলো: লতিফ ট্রেভেলস প্রাইভেট লিমিটেড, সানশাইন ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, ইকরা ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস, সিপার এয়ার সার্ভিসেস, ট্রেভেলন এয়ার সার্ভিসেস, এলাইট ট্রেভেলস, সিটি ওভারসীজ, আল মনসুর এয়ার সার্ভিস লিমিটেড, আল ইহসান ট্রেভেলস, রাব্বানী ওভারসীজ এভিয়েশন, আকাবা ট্রেডিং কর্পোরেশন, তাশফিক ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, যাত্রীক ট্রেন্ডেলস, নিবরাস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেভেলস, আলফা ট্রেভেলস, আবাবিল এয়ার সার্ভিস, আল শরিফাইন ট্রেভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, শিপলু ওভারসীজ, খাজা এয়ার লাইনার, খাজা ট্রেভেলস, নিউ মডার্ন ট্রেভেলস ইন্টারন্যাশনাল এবং ডিসকভারী সিলেট ট্রেভেলস ট্যুরস।
৮ দিন আগে
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত, চালক ছিলেন ‘ঘুমাচ্ছন্ন’
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে নিহত ৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে প্রাথমিক ধারণার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (৩ মে) সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেলিবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, অন্যান্য দিনের মতো আজ (রবিবার) ভোরে নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে ২০ থেকে ২২ জন নির্মাণ শ্রমিক একটি পিকআপে করে লালাবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢালাই কাজ করার কথা ছিল তাদের। পিকআপে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ধাতব মিক্সার মেশিনও ছিল তাদের সঙ্গে।
পিকআপটি দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী কাঁঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জন শ্রমিক নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন নারীও ছিলেন।
আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও ৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ জনে।
নিহতরা হলেন— সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত ফখরুল আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার সেঁততি গ্রামের বসির মিয়ার মেয়ে মোছা. মুন্নি (২৬), ভাটিপাড়া নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে ফরিদুল (৩৫), ধর্মপাশা উপজেলার সরিবা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার স্ত্রী নার্গিস (৪৫), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আজির উদ্দিন (৪০) ও আমিরউদ্দিন (৩৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা এলাকার সুরত আলীর ছেলে মো. বদরুল জামান (৪০) এবং একই উপজেলার শিবপুর গ্রামের কুটির বিশ্বাসের ছেলে পাণ্ডব বিশ্বাস (২০)।
৮ দিন আগে
সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৮
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
রবিবার (৩ মে) সকাল সোয়া ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেলিবাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ৮ জনের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— সিলেটের জালালাবাদ থানার সুজাত আলীর ছেলে বদরুল (৩০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত খরম আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), একই গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা.মুন্নি (৩৫) ও মৃত নূর সালামের ছেলে ফরিদুল (৩৫)।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট নগরীর কালিবাড়ি এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০) ও একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০), হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পিকআপে করে বেশ কয়েকজন শ্রমিক সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে যাচ্ছিলেন। তেলিবাজার এলাকায় যাওয়ার পর উল্টোদিক থেকে আসা কাঁঠাল ভর্তি একটি ট্রাকের সাথে পিকআপের সংঘর্ষ হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো মনজুরুল আলম বলেন, নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৪ জন মারা যান। এছাড়া ওসমানী হাসপাতালে ৩ জন এবং উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন মারা যারা যান।
তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে।
৮ দিন আগে
সুনামগঞ্জের গ্রামবাসীর উদ্যোগে নদীর ওপর বাঁশের সেতু নির্মাণ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও তা পূরণ না হওয়ার কয়েকটি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে নদী পারাপারের জন্য বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ভাঙারখাল নদীর ওপর বাদাঘাট বাজার (সবজি ও মাছ মহল) ও পৈলনপুর মাদরাসা অংশে টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু দিয়ে চলাচলের জন্য তা উদ্বোধন করেন উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক ও সেতুটির জন্য বিনিয়োগদাতা ব্যবসায়ী মানিক মিয়া। এ সময় বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য বক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সেতুটি নির্মাণ করায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী বলছে, ভাঙারখাল নদী বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নকে আলাদা করেছে। নদীটির ওপর বাদাঘাট বাজার (সবজি ও মাছ মহল) ও পৈলনপুর অংশে সেতু নির্মাণের দাবি জানালেও কেউ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অথচ পৈলানপুর গ্রামসহ ৫-৬ টি গ্রামের বাসিন্দা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী ও ব্যবসায়ীদের শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে আর বর্ষায় নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছে অনেককেই, শিক্ষার্থীদের বইখাতা পানিতে ডুবে যায়। পৈলানপুর গ্রামে মাদরাসা আছে; এখানেও শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়া করছে। তাই সহজে যাতায়াতের জন্য সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখানে সেতু নির্মাণের দাবি জানানোর পরও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ আমলেই নেয়নি।
তারা বলেন, বাঁশের সেতুটি তৈরি করায় বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকায় করে নদী পারাপারের দীর্ঘদিনের বিড়ম্বনার অবসান ঘটেছে। গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক মিয়ার আন্তরিকতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মানিকের উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন এটি। সরকারিভাবে সেতু নির্মাণের দাবি জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সরকারিভাবে কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসলে এবং সবাই সহযোগিতা করলে বড় কাজও সহজ হয়ে যায়। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।
পৈলানপুর গ্রামেরে শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের কয়েকটি গ্রামে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে এই নদী দিয়ে বর্ষায় ছোট্ট নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। অনেক সময় নৌকা ডুবে বইখাতা পানি ভিজে যায়, আর শুকনো মৌসুমে নদীর মধ্যে বাঁধ সাকো দিয়ে পার হতে গিয়ে অনেকেই দুর্ভোগে পড়ি। বাঁশের সেতুটি হওয়ায় আমরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেলাম। এখানে যদি স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণ করা হতো, তাহলে ভালো হতো।
সমাজসেবক আবুল হোসেন জানান, সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় পৈলনপুর মাদরাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো ছাত্র-ছাত্রী এবং দুপাড়ের প্রায় পাঁচ হাজার সাধারণ জনগণের কোনো টাকা ছাড়াই নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার সুযোগ সৃষ্টি হলো।
ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, আমাদের যেহেতু টাকা নেই, তার জন্য জনগণের সুবিধার্থে বাঁশের সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী। সবাই সহযোগিতা করায় সেতুটি দৃশ্যমান হয়েছে। এখন সবাই সহজে চলাচল করতে পারবে।
সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া জানান, বর্ষায় নৌকায় পারাপার করতে করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এই বাঁশের সেতুটি তৈরি করে চালু করার জন্য যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের জন্য শুভকামনা রইল। আমি জনগণের স্বার্থে সবসময় পাশে আছি; আগামী দিনগুলোতেও থাকব।
৯ দিন আগে