সিলেট
হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কারখানা গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে মশহুদ আহাম্মদ (৪০), ইনাতগঞ্জ দক্ষিণ গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে আবুল কাশেম (৫০) এবং ইনাতগঞ্জ বাজারের ফাহিম মিয়া (৩০)। তারা সকলেই সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ইনাতগঞ্জ বাজারের কয়েকজন সবজি ব্যবসায়ী ও কর্মচারী পিকআপ ভ্যানযোগে বাহুবল উপজেলার দিগাম্বর বাজারে কাঁচামাল আনতে যাচ্ছিলেন। পথে রোকনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাকি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মশহুদ আহাম্মদ নিহত হন। গুরুতর আহত পিকআপ ভ্যানের চালকসহ চারজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আবুল কাশেম ও ময়না মিয়ার মৃত্যু হয়। বর্তমানে পিকআপ ভ্যানের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আউশকান্দি এলাকায় আটক করা হয়। বাস ও পিকআপ ভ্যানটি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। পরে সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
সিলেটে পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮৩৬ জন
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াসমিন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার আরও কমেছে। গেল বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
তবে পাসের হার কমলেও এবার বেড়েছে জিপিএ-৫। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। যা গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে ২২২ জন।
এ বছর সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন ছেলে ও ৩২ হাজার ৬৮ জন মেয়ে।
৬ ঘণ্টা আগে
চার দফা দাবিতে সিলেটে চা শ্রমিকদের মিছিল, ডিসির কাছে স্মারকলিপি
সিলেটে চার দফা দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন চা শ্রমিকরা। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে ১৫ দিনের আল্টিমেটামও দিয়েছেন তারা।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগান এলাকা থেকে শ্রমিকদের মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক আম্বরখানা, চৌহাট্টা ও জিন্দাবাজার হয়ে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে সমবেত হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে চা শ্রমিকরা তাদের দাবি তুলে ধরেন।
চা শ্রমিকদের চার দফা দাবি হলো— দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ন্যূনতম ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল, চা জনগোষ্ঠীর জন্য ভূমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিবিএ নির্বাচন আয়োজন। এসব দাবি আদায়ে শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিদ্যমান মজুরিতে জীবনধারণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তারা জানান, তাদের সার্বিক দাবি নিয়ে দুই দিন আগে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনায় ১৫ দিনের সময় নেওয়া হয়েছে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখা হবে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সিলেটের ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকরা একত্র হয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান বক্তারা।
সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দ্রুতই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সরকার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন, যেটি ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এর জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচনের আয়োজন করবে।
১ দিন আগে
হবিগঞ্জে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ২
হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল খায়ের (৪৫) ও ট্রাকচালকের সহযোগী রিপন মিয়া (২৭)। আবুল খায়ের পশ্চিম মাধবপুরের বাসিন্দা ও রিপন মিয়া উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেজুড়া এলাকায় ঢাকাগামী একটি বালুবাহী ট্রাক ও সিলেটগামী একটি তেলবাহী বাউজারের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি সিএনজি অটোরিকশার ওপর বালুবাহী ট্রাকটি উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে সিএনজি অটোরিকশাচালক আবুল খায়ের নিহত হন। সে সময় ট্রাক থেকে ছিটকে পড়ে চালকের সহযোগী রিপন মিয়া নিহত হন।
খবর পেয়ে মাধবপুর ফায়ার ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মন্তোষ মল্লিকের নেতৃত্বে একদল কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত ৩টি গাড়ি শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, মরদেহ দুটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি গাড়ি পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
১ দিন আগে
কুলাউড়া সীমান্তের ওপারে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারতীয় সীমানার অভ্যন্তরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রবিবার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার মুড়ইছড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, আজ ভোরে কুলাউড়া উপজেলার আলীনগর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশি ৪/৫ জন চোরাকারবারী ভারতীয় চোরাকারবারীদের সহায়তায় চোরাচালান আনার জন্য পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিপরীতে সীমান্ত পিলার ১৮৪৫/৬৩এস থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরুলী নামক স্থানে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাধা দিলে বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা বিএসএফ সদস্যদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে। সে সময় বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে চোরাকারবারীদের ওপর গুলি চালালে বাংলাদেশি তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বাকিরা পালিয়ে যায়।
নিহত চোরাকারবারী ইতোপূর্বে চোরাচালান পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানায় বিজিবি।
১ দিন আগে
সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষ: নিহতদের পরিচয় মিলেছে
সিলেটে ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯ জনের পরিচয় মিলেছে। এ দুর্ঘটনায় আহত ২৪ জনের ১৪ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের চার বছর বয়সী মেয়ে শিশু ফাইজা আক্তার, সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (২৬), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন (৪৫), এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন—ওয়াহাব (৪৫), ঢাকার মনসুর আলী (৩৪), ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার আতিকুল ইসলাম (৪৮), কিশোরগঞ্জের বাবুল (৪০), ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার মফিজ মিয়া (৫৫), সাজিদ নুর (৪৫), নুরুন্নাহার (৪০), মুক্তার হোসেন (২৯), জাহাঙ্গীর (২৮), আফজল (৩০), আফরোজা (৩৮), মন্টু (৩০), সুমানগঞ্জের রাজু দাস (৩৫)। এক জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
আহত অন্যরা হলেন—কিশোরগঞ্জের ফারুক আহমদ (৫০), ফরিদপুরের শামীম আহমদ (৫০), ঢাকার মঞ্জু দাস (৫০), কুমিল্লার ইমরান (৩৫) গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
গতকাল (শুক্রবার) সকাল ৭টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর কাশিকাপন নামক এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতগামী ইউনিক পরিবহন বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের ডান দিক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাসটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা, শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ওসমানীগর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌছে হতাহতদের উদ্ধার করে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলে পুলিশ আধঘণ্টা চেষ্টা করে যানচলাচল স্বাভাবিক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার কোচ ওভারটেক করতে গিয়ে ঢাকাগামী ইউনিক বাসকে আঘাত করে। ঘটনার পর স্বজনহারাদের ভিড় নামে শেরপুর হাইওয়ে থানা ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিহতদের স্বজনদের খুঁজছে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে মোট ১৬ জন আহতকে আনা হয়। এর মধ্যে চার বছরের শিশু জাইফাকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রীতম নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মবিন বলেন, আহতদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ক্যাজুয়ালটি বিভাগে থাকা পাঁচজনের অবস্থা শঙ্কামুক্ত এবং শিগগিরই তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। ইএনটি বিভাগে ভর্তি দুইজনের অবস্থাও স্থিতিশীল বলে জানান তিনি।
চক্ষু বিভাগে পাঁচজনের মধ্যে চারজনের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে এবং একজনের চোখে গুরুতর আঘাত থাকায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। নিউরো সার্জারিতে ভর্তি তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা ভালো হলেও আফতাব নামে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মবিন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে আব্দুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে যাই। ঘটনার কথা মনে হলে শরীর কেঁপে উঠে। মুহুর্তের মধ্যে ইউনিক গাড়িকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে তরতাজা প্রাণগুলো ঝরে যায়।’
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা থানা পুলিশ এবং ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস মিলে হতাহতদের উদ্ধার করি। নিহতদের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (তাজপুর) স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা অপু মিয়া জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিজ লেনেই চলছিল। এ সময় ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে বিপরীত পাশে চলে আসে এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
২ দিন আগে
সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯
সিলেটের ওসমানীনগরে দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফি মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৫০), ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার জাহাঙ্গীর শেখের ৩ বছর বয়সী কন্যা শিশু জাইফা ইসলাম ও সিলেট মহানগরের সোবানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২)।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন জানান, সকালে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসটির ৭ জন যাত্রী নিহত হন।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত ৩ বছর বয়সী শিশু জাইফাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একে একে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ জনে। নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
ওসি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের সবার পরিচয় জানা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।
৩ দিন আগে
সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলায় আসামি জাকিরের মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলার আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মহানগর শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও বিশেষ জজ আবু ওবায়দা এ রায় ঘোষণা করেন।
মহানগর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন (৩০) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা পশ্চিমপাড়ার ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিহত শিশুটির প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা হন।
পিপি মো. বদরুল আহমদ চৌধুরী জানান, মাত্র তিন মাসের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। আদালত জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আবেদীন ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ মে রাতে চার বছরের শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনার এক মাস পর পুলিশ জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ এবং আবুল কালামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
অভিযোগপত্রে জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকেও মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে ফাহিমা নিখোঁজ হয়। নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে।
ঘটনার দুই দিন পর গত ৮ মে ভোররাতে তার মরদেহ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। গ্রেপ্তারের পর জাকির প্রথমে পুলিশের কাছে ও পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।
এর আগে, গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গত ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠান জাকির। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। একা পেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে এলাকায় শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে মরদেহ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখেন জাকির। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মরদেহ ডোবার পাশেই রেখে পালিয়ে যান জাকির।
এ ঘটনার পর ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
৪ দিন আগে
সিলেটে চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক
সিলেটের একটি চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে ধূমপান ও আড্ডার ছলে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় এক পরীক্ষকের কাছ থেকে প্রায় ৪০০ খাতা জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালালাবাদ থানায় শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক-সংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকান থেকে এসব উত্তরপত্র জব্দ করা হয়।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন নিজে উপস্থিত থেকে এই খাতাগুলো জব্দ করেন।
অনিয়মে জড়িত ওই শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি সিলেট মেট্রোসিটি উইমেনস কলেজের প্রভাষক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু শনিবারই নয়, আগের রাতেও একই স্থানে কয়েকজন মিলে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ করেছেন ওই শিক্ষক। এমনকি পরীক্ষকের বাইরে অন্যদের হাতেও খাতা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, গতকাল (শনিবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রভাষক ইকবাল তার সাবেক সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ওই চায়ের দোকানে বসে খাতা মূল্যায়ন করছিলেন। বস্তা থেকে খাতা বের করে তার সঙ্গে থাকা আরও দুই বন্ধু উত্তরপত্র দেখছিলেন। এ সময় সেখানে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আইরিন লিনজাও উপস্থিত ছিলেন।
আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে চারজন মিলে সিগারেট ও চা পানের ফাঁকে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন। লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণী পরীক্ষার উত্তরপত্র কীভাবে নিয়োজিত পরীক্ষকের বাইরে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
খাতা জব্দের সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন এ বিষয়ে কৈফিয়ত চাইলে প্রভাষক ইকবাল বলেন, ‘তাড়াহুড়ো থাকায় বন্ধুদের নিয়ে খাতা না কেটে শুধু কোড নম্বর মেলাচ্ছিলাম।’
এ সময় উপস্থিত শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো খাতা মূল্যায়নে অংশ নিইনি। ইকবাল আমার ব্যাচমেট ও বন্ধু, তাই শুধু সঙ্গে ছিলাম।’
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযুক্ত শিক্ষককে জালালাবাদ থানায় নেওয়া হলে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, ‘উনি (ইকবাল হোসেন সোহান) আমাদের পরীক্ষক। পরীক্ষার উত্তরপত্রগুলো বাসায় বসে দেখার কথা ছিল। কিন্তু তিনি পাবলিক প্লেসে বন্ধুদের নিয়ে বসে খাতা দেখছিলেন। খবর পেয়ে আমরা রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে খাতাগুলো উদ্ধার করি।’
তিনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মহানগরের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। উত্তরপত্রগুলো বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
৮ দিন আগে
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলায় ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের জামিন
হবিগঞ্জে এনসিপির মামলার ১১ জন আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২ আগস্ট) হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আব্দুল মান্নানের আদালতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জন আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করলে শুনানি শেষ প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা বন্ডে মেডিকেল প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে অংশ নিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। মামলায় কোনো ঘটনার তারিখ ও স্থান উল্লেখ নেই।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল হাই ও সি এস আই আবু তালেব বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য খণ্ডন করার মতো কোনো উপাদান মামলার এজাহারে নেই।
পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট কুতুবউদ্দিন জুয়েলসহ বিএনপিপন্থি অসংখ্য ব্যক্তি শুনানিতে অংশ নেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাসও। এরপর গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলাটি করা হয়।
মামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়। জেলা যুব শক্তির আহ্ববায়ক তন্ময় তাহের মামলাটি করেন।
৮ দিন আগে