নির্বাচন
নাটোরে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আটক ১
নাটোরের লালপুরে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ সময় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনি ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে লালপুর উপজেলার কচুয়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ ও দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, নাটোর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর সমর্থকরা নির্বাচনি মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিএনপি প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের নির্বাচনি ক্যাম্পের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। এ নিয়ে বিএনপি কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খলিলুর রহমান নামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে আটক করেন। এর প্রতিবাদে স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানিয়েছেন, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনে তিন বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইয়াবস।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তিনটি প্রধান বিষয়ের বিশেষ গুরুত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নাগরিকরা কতটা নির্ভয়ে ও নিরাপদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন, নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।’
ইভারস ইয়াবস জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা, অংশগ্রহণমূলক প্রকৃতি ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইসঙ্গে এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ইইউ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে ইয়াবস বলেন, আপনার সুন্দর দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উভয় দিক থেকেই সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আমরা এখানে এসেছি। এই লক্ষ্যে আমাদের এই নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং আমরা এই নির্বাচনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মিশনের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি রয়েছে, যেখানে আমাদের কাজ হলো কেবল পর্যবেক্ষণ করা, তবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নয়। এই কারণে, যেহেতু নির্বাচন খুব নিকটে, আমি কোনো দলের নিয়ম লঙ্ঘন বা অন্য কোনো বিষয়ে মন্তব্য করব না।’
ইভারস ইয়াবস বলেন, আমরা নির্বাচনের পরপরই আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আমাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রদান করব এবং দু মাস পরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করব।
ইইউ এর এই পার্লামেন্ট সদস্য বলেন, এই মিশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে একমাস আগে শুরু হয়েছে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দল (এলটিও) ইতোমধ্যে ঢাকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
ইয়াবস বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যার মধ্যে প্রধান অংশীদার হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্তৃপক্ষ, প্রার্থী, দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং বিভিন্ন এনজিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউরোপ থেকে আরও ৯০ জন পর্যবেক্ষক আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী বাম্বি এবং ক্রিশ্চিয়ান এখানে এক মাস ধরে কাজ করছেন এবং আগামীকাল (আজ) ইউরোপ থেকে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেবেন, যারা নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে প্রচার এবং ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করবেন। এটি কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন নয়; সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও কানাডার মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশও এতে অংশগ্রহণ করছে।
এ সময় তাদের পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকা, শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে থাকবেন বলে জানান ইয়াবস।
ইইউয়ের এই পার্লামেন্ট সদস্য আরও বলেন, ঢাকায় আমাদের মূল দলে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা, যেমন: আইনি বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন বিশ্লেষক এবং মিডিয়া বিশ্লেষক রয়েছেন। তারা প্রথাগত ও সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে তারা কোনোভাবেই এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন না বা কাউকে কোনো পরামর্শ দিচ্ছেন না।
এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন আয়োজন করা মূলত বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজ এবং এখানে বাইরের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।
ইয়াবস বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক রক্ষা করতে চাই। বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার খুঁজে পাওয়া।
বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করতে এবং সবুজ শক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। আমাদের কাছে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৫ ঘণ্টা আগে
সুনামগঞ্জের পাঁচ আসনে জামায়াত-স্বতন্ত্রে বিপাকে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টারবিহীন প্রচারণায় ভাটা পড়েছে সুনামগঞ্জের নির্বাচনি আমেজ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ উঠান বৈঠক ও জনসভায় নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনে মোট ২০ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সবকটি আসনে আওয়ামী ঘরানার ভোট পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে ধারণা অনেকের।
নির্বাচনি মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সুনামগঞ্জ-১, ২ ও ৫ আসনে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই এবং সুনামগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনে বিএনপি, জামায়াত জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীরা জামায়াত ও স্বতন্ত্রে ধরাশায়ী হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় ভোটারদের অনেকে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা মো. বখতিয়ার বলেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এ আসনে জামায়াত প্রার্থী তেমন সুবিধা করতে পারবে না। তবে সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী শিশির মনিরের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ–১
৫ লাখ ১ হাজার ৫৩০ ভোটারের সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনে বিএনপি থেকে কামরুজ্জামান কামরুল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা তোফায়েল আহমদ (দাঁড়িপাল্লা) এবং নেজামে ইসলাম থেকে মাওলানা মুজাম্মিল হক (বই) নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
ভোটারদের ধারণা, এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এই আসনে আনিসুল হক প্রথমে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও শেষদিকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান কামরুজ্জামান কামরুল। বিএনপির সব বলয়ের মধ্যে চলমান ঐক্য বজায় থাকলে ধানের শীষের প্রার্থী ভালো ব্যবধানে বিজয়ী হবে প্রত্যাশা কর্মী-সমর্থকদের।
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অর্ধেন্দু ঘোষ চৌধুরী বলেন, ব্যক্তি কামরুলের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকলেও এখানে ফ্যাক্টর জামায়াত প্রার্থী। সুশৃঙ্খল দল হিসেবে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা তেমন না। তবে তাদের ভোট বাড়ছে, এমনটা শোনা যাচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সকলের সমর্থনে কামরুলই এগিয়ে থাকবে আশা করছি।
বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ভোটের মাঠে আমি কোনো প্রার্থীকেই ছোট হিসেবে দেখছি না। আমাদের উভয় বলয়ের ঐক্য অটুট আছে। আমার বিশ্বাস, এই ঐক্যবদ্ধ বিএনপি ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করবে।
সুনামগঞ্জ-২
সুনামগঞ্জের হেভিওয়েট আসন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা)-এ ৩ লাখ ৬ হাজার ৪৮ ভোটার রয়েছেন। আসনটিতে বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে আইনজীবী শিশির মনির ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নিরঞ্জন দাস (কাস্তে) নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এখানে নাছির চৌধুরী ও শিশির মনিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে নাছির চৌধুরীই বিজয়ী হতে পারে বলে ধারণা অনেকের।
শাল্লা উপজেলার সুখলাইন গ্রামের এক ভোটার জানিয়েছেন, নাছির-শিশির দুজনেরই অবস্থান ভালো। প্রবীণ হিসেবে নাছির চৌধুরী খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন। তবে কম সময়ের মধ্যে শিশির মনিরও ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
সুনামগঞ্জ-৩
প্রবাসী-অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলীয় জোট (উন্মুক্ত) প্রার্থী শাহীনুর পাশা চৌধুরী ‘রিকশা’, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ‘তালা’ ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ‘ঈগল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৬ ভোটারের এই আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনকে সমর্থন দেওয়ায় বেকায়দায় পড়তে পারেন ‘ধানের শীষ’ প্রার্থী। অনেকে আবার মনে করছেন, বিএনপির অনৈক্যের সুযোগে কপাল খুলতে পারে জোটপ্রার্থী শাহীনুর পাশার।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, জনসমর্থনে আমি এখন পর্যন্ত প্রথম সারিতে আছি। দলের মনোনয়নবঞ্চিত বলয়ও আমার পাশে আছে। প্রতিপক্ষ আমার কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তবুও বিজয় আমারই হবে।
সুনামগঞ্জ-৪
৩ লাখ ৭২ হাজার ১৮৫ ভোটারের সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে ধানের ‘শীষ প্রার্থী’ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুল। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন হাছন রাজার বংশধর দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (মোটরসাইকেল)। বিএনপির বহিষ্কৃত এই নেতার আছে নিজস্ব ভোটব্যাংক।
এছাড়া নির্বাচনে আছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শামছ উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী নাজমুল হুদা (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহীদুল ইসলাম (হাতপাখা)।
বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ‘ধানের শীষ’ প্রার্থী নূরুল ইসলামের বিজয় অর্জনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতে পারে ধারণা অনেকের।
সুনামগঞ্জ-৫
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারা) আসনে ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৬ জন। এ আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় মিলন-মিজানের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণায় জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রতিযোগিতা।
তবে বসে নেই ১০ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানীও (দাঁড়িপাল্লা)। এছাড়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির ‘দেওয়াল ঘড়ি’, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ‘লাঙ্গল’ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী মো. আজিজুল হক ‘আম’ প্রতীকে প্রচারণায় থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বলে ধারণা করছেন আসনটির অনেক ভোটার।
ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন সুমেন বলেন, মিলন-মিজান সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা জয়ের ভীত আরও শক্তিশালী করেছে। এখানে ‘ধানের শীষ’ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে।
১ দিন আগে
বাদলের মৃত্যু: শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই আসনে এখন নতুন করে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা হবে।
আসনটিতে নির্বাচন স্থগিতের ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৭-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সেই আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করতে হয়।
আইন অনুযায়ী, মৃত প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। প্রার্থীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেবেন। পরে কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করবে।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদল কিডনি জটিলতায় গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামান স্ত্রী ও এক সন্তান রেখে মারা গেছেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং শ্রীবরদীর তাতিহাটি আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আজ ৪ ফেব্রয়ারি দুপুরে শেরপুর জেলা শহরের শহিদ দারোগ আলী পৌরপার্ক মাঠে প্রথম এবং বিকেল ৫টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শ্রীবরদীর পোড়াগর এলাকায় পারিবারিক কবস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
বাদলের মৃত্যুর সংবাদে তার নির্বাচনি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেখানকার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল এবং জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানও বাদলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ, চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে শেষ সময়ে জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ। এতে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। শেষ মুহুর্তের প্রচার ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা; চষে বেড়াচ্ছেন শহর থেকে গ্রামে; হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে করছেন ভোট প্রার্থনা।
প্রার্থীরা নিজের বিজয় নিশ্চিতের লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মাঠে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাল্টাচ্ছেন নির্বাচনি কৌশল। বিজয়ের জন্য প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দেশে ও বিদেশে থাকা সমর্থকরাও প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন।
জগন্নাথপুর প্রবাসী-অধ্যূষিত উপজেলা হওয়ায় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভূমিকা সব সময়ই থাকে। এবারের নির্বাচনেও তার প্রভাব পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় ভোটারদের অধিকাংশ প্রবাসী স্বজনদের কথায় ভোট দিয়ে থাকেন। তবে এবার আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে চলছে নতুন সমীকরণ।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় দলটির সমর্থকদের ভোট নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা।
স্থানীয়রা জানান, এই অঞ্চল সব সময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল। এই আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদসহ আরও কয়েকজন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের পকিল্পনামন্ত্রী ছিলেন এম এ মান্নান। তাদের কারণে এ আসনটি মর্যাদার আসন বলে পরিচিতি পায়।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: ইসলামী ঐক্যজোট তথা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন (তালা), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুস্তাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার (টেবিল ঘড়ি) ও হোসাইন আহমদ (ফুটবল)।
এর মধ্যে অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কয়ছর এম আহমদ, সৈয়দ তালহা আলম ও শেখ মুস্তাক আহমদ জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। অপরদিকে, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার ও হোসাইন আহমদ শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হিসাব-নিকাশে সব সময়ই আঞ্চলিকতার প্রভাব পড়ে থাকে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের আমল থেকে দীর্ঘকাল জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা এ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে এম এ মান্নানের আমল থেকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সংসদ সদস্য ছিলেন। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই এলাকায় আঞ্চলিকতার প্রভাব পড়ে থাকে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ভোটারদের সঙ্গে পৃথকভাবে নির্বাচনি আলোচনা হয়। এসব আলোচনায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটার তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী জমিয়তে থাকতে হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। তিনি আবদুস সামাদ আজাদ ও এমএ মান্নানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে বিগত নির্বাচনে দল বদল করে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকে নির্বাচন করায় তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তবুও এবারের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হওয়ায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তিনি।
এছাড়া কয়ছর এম আহমদ জগন্নাথপুর পৌর শহরের ছিলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও রাজনীতি করেছেন যুক্তরাজ্যে। তিনি তার ক্ষমতার দাপটে নিজ পছন্দের নেতা-কর্মীদের নিয়ে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাজিয়েছেন। ফলে বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবুও নির্বাচনি আলোচনায় তিনি প্রথম সারিতে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
অপরদিকে ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন ‘বিশেষ এক ব্যক্তির’ ছত্রছায়ায় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া কয়ছর আহমদের বিরোধিতা করে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীই তাকে সমর্থন করছেন। শুধু তাই নয়, বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থীও তাদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে আনোয়ার হোসেনের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ‘তালা’ প্রতীকের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম বিগত জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে সবাইকে রীতিমতো চমকে দিয়েছিলেন। আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন নির্বাচনি ফলাফলে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তার ভাবমূর্তি উন্নত হয়েছিল বটে, কিন্তু সম্প্রতি দল বদল করায় তার সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তবুও এবারের নির্বাচনে ব্যক্তি হিসেবে ভোটারদের পছন্দের তালিকায় থাকায় তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কয়ছর এম আহমদ, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন ও সৈয়দ তালহা আলমের মধ্যে জমে উঠেছে চতুর্মুখী লড়াই। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটারদের মত অন্তত তা-ই।
৪ দিন আগে
চাঁদপুর জেলা কারাগারে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ৩৩ জন কয়েদি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা কারাগারে ৩৩ জন কয়েদি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। জেলা কারাগারের কয়েদিদের এটাই প্রথম ভোট।
চাঁদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বলেন, কারাগারে বন্দির সংখ্যা ৬৫০ জন। এর মধ্যে ৩১ জন পুরুষ ও ২ জন নারী ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ২৫ জন চাঁদপুরের ৫টি সংসদীয় আসনের ভোটার। আর বাকি ৮ জন দেশের বিভিন্ন জেলার ভোটার। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা পোস্টাল ব্যালটে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
তিনি আরও বলেন, কারাবন্দিদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুসরণ করে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান খলিফা জানান, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জেলার মোট ৪৬ হাজার ৪৩৬ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, কারাবন্দি ও প্রবাসীরা ভোট দেওয়ার জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এখন সবাই অপেক্ষা করছেন ১২ ফেব্রুয়ারির জন্য ।
৪ দিন আগে
ফরিদপুরে কারাবন্দিসহ পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন ১৭৯৮৮ জন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরে জেলা কারাগারের বন্দিসহ মোট ১৭ হাজার ৯৮৮ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন।
এর মধ্যে জেলখানার ৫২ জন বন্দি ও ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। এই প্রথম কারাগার থেকে বন্দি ও কর্মকর্তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
ভোটাধিকার প্রয়োগকারী ৫২ জন বন্দির মধ্যে ২ জন নারী বন্দিও রয়েছেন।
জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেলা কারাগারে মোট ১ হাজার ২৪৪ জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ৫১ জন নারী বন্দি আছেন।
মোট বন্দির মধ্যে ৫২ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এদের মধ্যে ১০ জন হাজতি ও ৪২ জন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রয়েছেন। আগ্রহী দুইজন নারী বন্দিও সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি।
জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর হাজতি ও কয়েদিদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আগ্রহী বন্দিদের কাছ থেকে আবেদনপত্র নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য কারাগারের ভেতরে কয়েদিদের জন্য দুইটি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বুথ স্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মোল্লা জানান, জেলায় মোট ১৭ হাজার ৯৮৮ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইতোমধ্যেই আমরা এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটে অংশ নেবেন ভোটাররা।
৫ দিন আগে
কুমিল্লা-৪ আসনে নির্বাচন করতে পারবেন না বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
রবিবার (১ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এর আগে, মঞ্জুরুল মুন্সীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। সেই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন।
মঞ্জুরুল মুন্সীর বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপন এবং ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ উত্থাপন করলে ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বাতিল করে।
এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল মুন্সী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তবে ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট সরাসরি রিটটি খারিজ করে দেন।
অন্যদিকে, কুমিল্লা-১০ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে একই আসনের অপর প্রার্থী আবদুল গফুর ভূইয়ার প্রার্থিতা ফিরে পেতে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। ফলে তিনিও নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
৬ দিন আগে
প্রবাসীদের ভোটে কারচুপির সুযোগ নেই: ইসি সানাউল্লাহ
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, প্রবাসীদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই। ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ব্যালটের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশালের সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ডিজিটাল ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, প্রবাসীদের জন্য ব্যবহৃত ব্যালটে মোট ১১৯টি প্রতীক থাকবে। ফলে খাম খোলা ও সঠিকভাবে ভোট গণনায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগবে। ভোটকেন্দ্রে শুধু প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কলম নিয়ে যেতে পারবেন, অন্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা পেনন্সিল নিয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, ভোট চলাকালীন প্রতি আসনে ১০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অনিয়ম ঠেকাতে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক রয়েছে। ভোট কেনাবেচা বন্ধে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে।
মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের আপ্যায়ন বা আতিথেয়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সত্য এবং সঠিক তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান করেন তিনি।
এছাড়া বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও আহত ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ ভোটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব জেলা ও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘সততা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থানে থাকবে। এখানে বড় দল বা ছোট দলের কোনো ভেদাভেদ নেই, সবাই সমান। নির্দেশনার পরও কোনো কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে তার পরিণতি হবে কঠোর।’
তিনি বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেখানে অনিয়ম হবে সেখানে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো যাবে না।
বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
৬ দিন আগে
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছেন ওআইসিসহ ছয় সংস্থার আরও ৬৩ জন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট পর্যবেক্ষণে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসিসহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩২ জন ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষকের সঙ্গে যোগ হচ্ছেন তারা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টোর দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, আসন্ন নির্বাচনের জন্য নিশ্চিত হওয়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা গত ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের দ্বিগুণেরও বেশি।
এর আগে দ্বাদশ, একাদশ ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ ও ৪।
দুই সদস্যের ওআইসির পর্যবেক্ষক মিশনের নেতৃত্ব দেবেন ওআইসির নির্বাচন পর্যবেক্ষক ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বন্দর। এছাড়াও এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল) থেকে ২৮ জন পর্যবেক্ষক, কমনওয়েলথ সচিবালয় থেকে ২৫ জন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাত জন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক আসবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের মতো সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন পর্যবেক্ষক তাদের ব্যক্তিগত ক্ষমতায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে, কারণ পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আমন্ত্রিত বেশ কয়েকটি দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।’
আমন্ত্রিত যেসব দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া।
দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম (ফেম্বোসা) শিগগিরই তাদের পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদের তালিকা ঘোষণা করতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের জন্য ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এক দিনে একইসঙ্গে হবে।
নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন বলেছে নির্বাচন কমিশন।
গেল ২৬ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো আশাদুল হক জানান, দেশি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সাত হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।
৭ দিন আগে