অন্যান্য
ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশের মতো দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উদাহরণ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। তিনি বলেন, নানা সংকট ও দুর্যোগের মধ্যেও এ দেশের মানুষ সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন অটুট রেখেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সিলেটে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই দেশ আবহমানকাল ধরেই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দেশ। এটি কোনো মুখের কথা নয়, বরং শাশ্বত সত্য। অর্থনৈতিক সামর্থ্য কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আমরা হয়তো অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে আছি, কিন্তু ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।’
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঔদার্য ও একসঙ্গে বসবাসের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয়। নানা সংকট ও দুর্যোগের মধ্যেও এ দেশের মানুষ সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন অটুট রেখেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ায়। এ দেশের মানুষের এই অদম্য মানসিক শক্তি ও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
তিনি বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ সময় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।
মন্ত্রী বলেন, মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা প্যাগোডা— যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করবে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনগুলো সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে, বাকি কাজ সরকার সম্পন্ন করবে।
আগামী দিনের নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আসন্ন ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৮ ঘণ্টা আগে
বিমানবন্দরে কার্গো জট নিরসনে ছুটির দিনেও সেবা চালু রাখার পরিকল্পনা বাণিজ্যমন্ত্রীর
বিমানবন্দরে বিদ্যমান কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ‘শুক্র ও শনিবার কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিমানবন্দরে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ কমছে না। স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সেবা চালু রাখা জরুরি।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ইইউ উত্থাপিত ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার’-বিষয়ক সমস্যাগুলোর মধ্যে বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় সংকট ও এর সমাধান নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর কোনো স্টোরেজ বা গুদামজাতকরণের স্থান নয়, এটি মূলত পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কার্গো বিমানবন্দরে অবস্থান করলে সংকট তৈরি হয়। এ কারণে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধাসহ একটি পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। কার্গোর ধরন অনুযায়ী হ্যাজার্ডাস (ঝুঁকিপূর্ণ), নন-হ্যাজার্ডাস (ঝুঁকিমুক্ত), ফাস্ট-মুভিং (দ্রুতগামী) ও স্লো-মুভিং (ধীরগামী) পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এতে কার্গো পরিচালনা আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।
সভার আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমানে প্রতিদিন যত পরিমাণ কার্গো বিমানবন্দরে আসছে, প্রায় একই পরিমাণ পণ্য খালাস হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকাও এর অন্যতম কারণ।
মন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের সমাধান নিয়েই কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশে আসা একটি উড়োজাহাজ এবং বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের অভিজ্ঞতাই বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের প্রথম পরিচয়। সেই অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই নেতিবাচক হতে পারে না। এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বিমানবন্দরের কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত কার্গো জট কমিয়ে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।’
বিমান পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর চাপ কমানো সম্ভব।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা থাকলে আলোচনার টেবিলে বসুন, হুমকি বা কর্মবিরতির পথে যাবেন না। সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করছে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কার্গো অপারেটর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
দেশব্যাপী নৌ পুলিশের অভিযানে সাত দিনে ১৮৮ জন গ্রেপ্তার
গত সাত দিনব্যাপী চলমান বিভিন্ন অভিযানে ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। সেই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধঘোষিত অবৈধ জাল, মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া ও জেলিযুক্ত চিংড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নৌ পথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নৌ পুলিশ দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। গত সাত দিনব্যাপী নৌ পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে মোট ১৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮০ মিটার অবৈধ জাল, ২৬৪ কেজি মাছ, ২ লাখ ৭৪ হাজার পিস চিংড়ি রেণু, ৩০০ কেজি কাঁকড়া, ১২০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয় এবং নদী থেকে ১০৫টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়।
নৌ পুলিশের এই অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় ২৮টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে প্রসিকিউশন দায়ের করা হয় এবং একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।
সাত দিনব্যাপী এই অভিযানে ১৮৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ১০৪টি মৎস্য আইন, ১৭টি বেপরোয়া গতি আইন, ৩টি বালুমহাল, ৩টি মাদক, ৩টি চাঁদাবাজি, ২টি ডাকাতি, ১টি চুরি ও ৪টি হত্যা মামলাসহ মোট ১৪৩ টি মামলা দায়ের করা হয়।
জব্দকৃত অবৈধ জাল ও জেলিযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয় এবং মাছের রেণু পোনা পানিতে অবমুক্ত করাসহ অবশিষ্ট মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।
১ দিন আগে
সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে নানাবাড়ির দিকে নজর দিতে বললেন স্পিকার
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে তার নানাবাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের উপর ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে ময়মনসিংহ ১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমার এলাকাটা অত্যন্ত অবহেলিত। এই এলাকাটিতে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণমন্ত্রীসহ এখানে যারা রয়েছেন, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সমাজকল্যাণমন্ত্রীর জন্মও কিন্তু আমার গফরগাঁওয়ে! উনার নানার বাড়ি আমার গফরগাঁওয়ে, আমার এই মন্ত্রী মহোদয়রা যদি একটু দৃষ্টি দেন এই অবহেলিত জনপদের প্রতি, তাহলে এই গফরগাঁওয়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। পিছিয়ে পড়া এই জনপদটি এগিয়ে যাবে। আমি আশা করব, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে গফরগাঁওকে গুরুত্ব দিয়েছেন, মন্ত্রী মহোদয়রাও যেন সেভাবে গুরুত্ব দেন।’
এ সময় সংসদে উপস্থিত সমাজকল্যাণমন্ত্রীর উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘সমাজকল্যাণমন্ত্রী, নানার বাড়ির দিকে খেয়াল রাখবেন।’
গফরগাঁওকে অবহেলিত শুনে স্পিকার প্রশ্ন করেন, ‘গফরগাঁওয়ের বেগুন তো আছে!’ জবাবে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘লাফা বেগুন সেটিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে।’
আক্তারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমার এলাকার কিছু সমস্যার কথা আমাকে বলতেই হবে এখানে। আমি যে এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছি, ৪৭ বছর পর ওই এলাকা থেকে এই সংসদে আসার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি ছিলাম গোলন্দাজের জুলুমের রাজ্যে।
‘আমার এখানে জিয়া হত্যার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত গিয়াস এই মহান সংসদে এসে এই সংসদকে কলঙ্কিত করেছিলেন। তারা জুলুমের রাজ্য কায়েম করেছিলেন, আমি ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে চাই। সেই ইনসাফের রাজ্য কায়েম করতে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করব, সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগে অবকাঠামো উন্নয়নে বিভাগভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে, কিন্তু ময়মনসিংহ বিভাগ সেখানে অন্তর্ভুক্ত নেই। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এখানে রয়েছেন, উনি অত্যন্ত আন্তরিক। আমি উনার প্রতি অনুরোধ জানাব, উনি সারা বাংলাদেশের মতোই ময়মনসিংহ বিভাগকে, ময়মনসিংহ জেলাকে ও আমার পিছিয়ে পড়া গফরগাঁও-পাগলার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছি। এখানে উপস্থিত অনেকেই জুলাইয়ে যুদ্ধ করেছেন, আমাদের সন্তানেরাও করেছেন। কিন্তু অনেকেই জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমরা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করি না, আমরা জুলাইকে ধারণ করি। জুলাই তো বিক্রি করার বিষয় নয়।’
ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য আরও বলেন, যারা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। অনেকেই আগে রিকশায় চড়তেন, এখন প্রাডো গাড়িতে চড়েন, আর জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করেন। আমি এখনও যে গাড়িতে আগে চড়তাম, সেই গাড়িতেই চলাফেরা করি। নির্বাচনের সময় গাড়িটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে, তারপরও সেটিই ব্যবহার করছি।
১ দিন আগে
মাদকের ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন, পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব
দেশে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এই জট কমাতে মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পরে দিবসটি উপলক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেরই সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার জটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও মামলা বিচার করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে তোলা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। শক্তিশালী আইনি ভিত্তি ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১ দিন আগে
অনলাইন জুয়া ফৌজদারি অপরাধ, ৫৫ হাজার মোবাইল অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
ডিজিটাল বেটিং ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধ দমনে সরকার ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’ এর মাধ্যমে অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জারি করা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬’-এর ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনের আওতায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি বা পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ করা, এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান, জুয়ার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রচার বা বিপণন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে বলে তিনি জানান।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের লেনদেন স্থগিত বা জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
তিনি জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর বিএফআইইউ অনলাইন জুয়া বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে গত মে মাসে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে জমা দেয়। এরই মধ্যে সিআইডি এ ঘটনায় একটি মামলা করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আমির খসরু বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ওপর বিএফআইইউ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আরও গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।
তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৮ মে দেশের সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছিল। সেই নির্দেশনায় এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো মার্চেন্ট বা গ্রাহক এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার কথাও বলা হয়।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও সংসদকে জানান অর্থমন্ত্রী।
২ দিন আগে
এডিস মশা নিধনকল্পে রাজধানীতে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম চালাবে টাস্ক ফোর্স কমিটি: প্রতিমন্ত্রী
বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুরোগবাহী এডিস মশা নিধনের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত জাতীয় টাস্ক ফোর্স কমিটি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাসা, বাড়ি ও স্থাপনায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনাসহ মনিটরিং কার্যক্রম চালাবে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বুধবার (২৪ জুন) ‘সারা দেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে লক্ষ্যে গঠিত টাস্ক ফোর্স কমিটি’ কর্তৃক বাসাবাড়িতে এডিস মশা অনুসন্ধান ও লার্ভা ধ্বংস করার অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে গুলশান ২-এর ১০৭ ও ১১২ নম্বর সড়কের কয়েকটি স্থাপনায় অভিযান কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী নগরবাসীকে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তাদের প্রতিটি বাড়ির বেলকনি, ছাদ বাগান ও বাড়ির নিচের অংশগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।
অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস সাংবাদিকদের জানান, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু মশা নিধনের লক্ষ্যে ডিএনসিসির গৃহীত ৩ মাসের কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বাসাবাড়িতে নিয়মিত সচেতনতামূলক ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ সময় তিনি নগরবাসীকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করার মাধ্যমে এডিস মশা নিধনে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন।
অভিযানকালে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী ১০৭ নম্বর সড়কের চয়েজ রেস্টুরেন্টের মালিককে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ডেরও আদেশ দেন তিনি।
অভিযান কার্যক্রম পরিচালনার সময় মশার লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে সচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও স্টিকারের মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতন করা হয়।
২ দিন আগে
১,২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সার, ডাল ও ভোজ্যতেল আমদানির ৬ প্রস্তাব অনুমোদন
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সার, ডাল ও ভোজ্যতেল আমদানিসংক্রান্ত ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ৬টি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (২৪ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৮তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ৩০ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আমদানির সুপারিশ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত এ প্রস্তাবের ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। প্রতি টন সার ৭১৩ ডলার দরে আমদানি করা হবে।
এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের আওতায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রতি টন ইউরিয়া সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪০ দশমিক ৭৫ ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ষোড়শ লটের আওতায় এ ক্রয়ে ব্যয় হবে মোট ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
খাদ্য মজুত জোরদারের লক্ষ্যে স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনারও সুপারিশ করেছে কমিটি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাবটি চট্টগ্রামের মেসার্স পায়েল অটোমেটিক ফুড প্রসেসিং মিলসকে দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি ডালের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ টাকা ৪৭ পয়সা। এতে মোট ব্যয় হবে ৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আরও সাড়ে ১২ হাজার টন মসুর ডাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
অস্ট্রেলিয়ার এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেডকে এ সরবরাহ কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ডালগুলো তানজানিয়া, মালাউই অথবা অস্ট্রেলিয়া থেকে সরবরাহ করা হবে। প্রতি কেজি ডালের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪ টাকা ৮৬ পয়সা।
খাদ্যপণ্যের আরেকটি বড় ক্রয় হিসেবে জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দুই লিটারের পিইটি বোতলে প্যাকেজ করা ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন তেল কেনার সুপারিশ করেছে কমিটি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাবটি শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে দেওয়া হয়েছে। প্রতি লিটার তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৩ টাকা ৯৫ পয়সা। এতে ব্যয় হবে ৩৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আরও ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এ জন্য ২৭৭ কোটি ১৭ লাখ টাকার কার্যাদেশ এমসিজি ইন্টারন্যাশনাল পিটিওয়াই লিমিটেডকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এসব তেল তানজানিয়া থেকে আমদানি করা হবে, যার প্রতি লিটারের আমদানি মূল্য ধরা হয়েছে ১৬৪ টাকা ৭৭ পয়সা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃষি উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের স্থিতিশীল মজুত বজায় রাখতেই এসব ক্রয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
২ দিন আগে
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পেপ্যালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা চালুর প্রচেষ্টা অব্যাহত: মন্ত্রী
দেশের ফ্রিল্যান্সারদের সীমান্তপারের লেনদেন সহজ করতে পেপ্যালসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা চালুর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আজ বেলা ৩টার দিকে দিনের অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উপস্থাপন করেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দেশের ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সংস্থা এবং পেপ্যালসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, যাতে এসব পেমেন্ট সেবা চালু করা যায়।
তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা, কর ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সহায়ক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে আইসিটি বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে যোগ দিতে রাতে ঢাকা ছাড়ছেন আরও দুই মন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চীন সফরে যোগ দিতে আজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকা ছাড়বেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে চীনের বেইজিংয়ে যোগ দেবেন।
বিএনপি মিডিয়া সেলের তথ্যমতে, সফরকালে তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সম্পৃক্ত থাকবেন।
এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন তিনজন পূর্ণমন্ত্রী। তারা হলেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং পানিসম্পদমন্ত্রী।
গত রবিবার বিকেল পৌনে ৩টায় সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিনি দেশটি সফর করেন।
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে সরাসরি চীন সফরে যান প্রধানমন্ত্রী।
চীন সফরকালে আগামী ২৫ জুন তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং ২৬ জুন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া তিনি ২৩ থেকে ২৫ জুন লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর সপ্তদশ বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।
মালয়েশিয়া সফরকালে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে, চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পাবে। আগামী ২৬ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
৩ দিন আগে