ঢাকা
রাজধানীতে আবাসিক হোটেল থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর বংশালের সিদ্দিক বাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে মো. শামিম হাসনাত (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক।
নিহত শামীম হাসনাতের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার শশেয়দিঘি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ছিলেন।
এ বিষয়ে আবাসিক হোটেলের মালিক মো. আবদুল কাদির জানান, গতকাল (বুধবার) রাত থেকেই তার হোটেলের কক্ষটি বন্ধ ছিল। পরে আজ সকালে হোটেলের ঝাড়ুদার সাহিদা বেগম কক্ষের দরজা ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। এ সময় ওই ব্যক্তিকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।। পরে আমরা বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে জানাই।
নিহতের বড় ভাই মোশারফ হোসেন জানান, ‘আমার ছোট ভাই কোনো কাজকর্ম করত না; আমার কাছ থেকে হাতখরচ নিয়ে চলত। প্রায় দশ বছর আগে সে বিয়ে করেছিল, বিয়ের দুই মাসের মধ্যেই অবশ্য তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। সে ইয়াবায় আসক্ত ছিল। এ কারণে আমার বাবা তাকে ২০১৮ সালে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে আজকে আমি কর্মস্থলে এসে টেলিফোনে জানতে পারি, আমার ভাই ওই হোটেলে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।’
পুলিশের এক সূত্র থেকে জানা যায়, অতিরিক্ত মাদক সেবনে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি মাহফুজুল হক জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে খবর পেয়ে বংশাল থানাধীন সিদ্দিক বাজার এলাকার ‘ঢাকা প্যালেস’ নামে একটি আবাসিক হোটেলের চতুর্থ তলার ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিক তদন্তে আমরা ঐ ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাইনি। পরে মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমরা হোটেলের ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে জানতে পারি, ঈদুল আজহার পর থেকে ওই হোটেলেই ভাড়া থাকতেন শামীম হাসনাত। তবে তিনি ঠিক কী কাজ করতেন, সে বিষয়ে এখনও আমরা জানতে পারিনি।
২০ ঘণ্টা আগে
ফরিদপুরে হাত-পা কাটা অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় হাত-পা কাটা অবস্থায় পান্নু ফকির ওরফে জামু রহমান ফকির (৩৮) নামে এক ব্যাক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার যদুনন্দী মৌজার একটি সড়ক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পান্নু ফকির উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (বুধবার) গভীর রাতে সালথা বাজার এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর মরদেহটি উপজেলার যদুনন্দী মৌজার একটি সড়কের ওপর ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে স্থানীয় লোকজন সড়কে মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কিছু বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নগরকান্দা-সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আল ফাহাদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পাটখেতের ভেতরে তাকে হত্যার পর মরদেহ রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়। মরদেহের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
১ দিন আগে
বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার চেষ্টাকালে নরসিংদীতে মাইক্রোবাসচালক আটক
নরসিংদীর পলাশে একটি নির্জন স্থানে এক মুমূর্ষু বৃদ্ধকে ফেলে যাওয়ার চেষ্টার সময় মাইক্রোবাসের চালককে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বাগদি এলাকার পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজিত জনতা চালককে সংঘবদ্ধধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
আটক চালক মনির হোসেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মৃত জলিল হাওলাদারের ছেলে। উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাগদি এলাকার সড়কের পাশে একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত এক বৃদ্ধকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন চালক। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে এলে তারা চালককে আটক করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে সংঘবদ্ধধোলাই দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালককে আটক করে এবং মুমূর্ষু অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন দাবি করেন, গাবতলী এলাকার একটি তেল পাম্পের সামনে চার-পাঁচজন ব্যক্তি ওই বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় তার গাড়িতে তুলে দেয়। তাদের কথায় তিনি বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশে গাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে পথে পুলিশের ঝামেলার আশঙ্কায় ভীত হয়ে তিনি নরসিংদীর ওই নির্জন স্থানে তাকে ফেলে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত গাড়িচালককে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে বলা যাবে।
১ দিন আগে
রাজধানীতে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে যুবক আটক
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে রিকশাচালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী ট্রাফিক বিভাগ।
বুধবার (২৪ জুন) যাত্রাবাড়ী মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে আটক করেন।
আটক যুবকের নাম মো. সজিব পাঠান সম্রাট (২৮)।
ট্রাফিক পুলিশের ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আজ (বুধবার) যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা জানতে পারেন, এক ব্যক্তি নিজেকে একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রিকশাচালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করছেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সম্রাটকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক সম্রাট সাংবাদিক পরিচয়ের একটি আইডি কার্ড সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন।
পুলিশ জানায়, আটক যুবককে যাত্রাবাড়ী থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
২ দিন আগে
পুলিশ হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: ফরিদপুরের ডিবির ওসি প্রত্যাহার
ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তের (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ডিবি সদর জোন থেকে ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই দিন দুপুর ১টার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া মহল্লার বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের দাবি, গেল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে এবং মায়ের সামনেই মারধর করে। পরে রবিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবি হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ইশতিয়াকের জানাজার আগে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৪০ মিনিট ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। পরে ইশতিয়াকের পরিবারের অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে মধুখালী ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের আগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ তিন নেতা বক্তব্য দেন। বক্তারা ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
২ দিন আগে
সাইপ্রাসে হত্যার পর পাতা দিয়ে ঢেকে রাখে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ
প্রবাসে লেখাপড়া করতে গিয়ে হত্যার শিকার হন রায়পুরার যুবক শাহরিয়ার আহমেদ ওরফে ইমন (২২)। হত্যার পর তার মরদেহ গুম করার চেষ্টা করে অপহরণকারী।
দীর্ঘ দশ দিন পর শাহরিয়ার আহমেদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে রবিবার (২১ জুন) শাহীন বাবু (২২) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ।
নিহতের স্বজনরা জানান, শাহীনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওখানকার একটি জঙ্গলের ভেতর পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা শাহরিয়ারের মরদেহ ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাহরিয়ার সবার বড়।
তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে যান তিনি। সাইপ্রাসের লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় তিনি বসবাস করতেন। সেখানে তার রুমমেট ছিল তারই গ্রামের প্রতিবেশী রায়হান।
শাহরিয়ারের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে শাহরিয়ার শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে যান। বিদেশে যাবার আগেই অনলাইনে সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে যাওয়ার পর তার খরচ হিসেবে পরিবার থেকে প্রতি মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা পাঠাতে হতো। পরিবারের ওপর চাপ কমাতেই শাহরিয়ার কাজের সন্ধান করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি কাজও পান।
গত ১১ জুন বিকেলে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে শাহরিয়ার জানিয়েছিলেন, ‘কাজের ব্যবস্থা হয়েছে। আজ রাত থেকে ডিউটি শুরু। দোয়া কইরো।’
কাজ পাওয়ার কথাটি তার প্রবাসী বাবা ও তার রুমমেট রায়হান মিয়াকেও জানান তিনি। রায়হান তাকে বলেছিলেন, ‘সেখানে গিয়ে লোকেশন পাঠাস, যাতে কোনো প্রয়োজন হলে যেন যোগাযোগ করা যায় সহজে। পরে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় কর্মস্থলে পৌঁছে রায়হানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে লোকেশন পাঠান শাহরিয়ার। কিছুক্ষণ পর রায়হান ফিরতি মেসেজে ‘ওকে’ লিখলেও তা আর দেখেননি শাহরিয়ার।
এরপর রাত ১০টার দিকে শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকেই বাবা নাসির মিয়ার কাছে একটি বার্তা (মেসেজ) পাঠানো হয়। তাতে লেখা ছিল, ‘আপনার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছি। ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে (বাংলাদেশি মূদ্রায় যা প্রায় ৫০ লাখ টাকা)। যদি দেন ছেলেকে ফিরে পাবেন, না দিলে তার চোখ ও কিডনি খুলে বিক্রি করে দেব।’
রাতেই শাহরিয়ারের বাবা পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানান। তবে সবাই ভেবেছিল, হয়তো শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ আইডিটি ‘হ্যাক’ হয়েছে।
পরদিন ১২ জুন সকালে কাজ থেকে আর ফিরে আসেননি শাহরিয়ার। এরপরই রায়হান ওখানকার স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গিয়ে রিপোর্ট করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে ওই লোকেশনে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ২৪ ঘণ্টাই অনলাইনে সচল ছিল শাহরিয়ারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর। প্রতিদিনই পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা চাওয়া হচ্ছিল।
শাহরিয়ারের ভাই নয়ন আহমেদ জানান, শাহরিয়ারের কোনো খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে আমরা মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে রাজি হই এবং অপহরণকারীদের সঙ্গে দর কষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশি পাঁচ লাখ টাকায় চুক্তি হয়। পরে রবিবার (২১ জুন) দুপুরে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পাঠাতে ব্যাংকে যাই। ওখানে গিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে টাকা পাঠাবার সিদ্ধান্ত নেই এবং অপহরণকারী কাছে থাকা আমার ভাইয়ের মোবাইল ফোন দিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিন্তু অপহরণকারীদের কথাবার্তায় আচার-আচরণে সন্দেহ হলে টাকা না দিয়ে বাড়ি ফিরি।
একপর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি অফলাইনে চলে যায়। ওই দিন রাতেই জানতে পারি, সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওখানকার একটি জঙ্গল থেকে পাতা দিয়ে ঢাকা আমার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে গ্রেপ্তার ওই তরুণ শাহীন বাবুর বাড়ি বাংলাদেশের কোন এলাকায়, তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
রায়পুরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সাইপ্রাসে এক শিক্ষার্থী অপহরণের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সে ঘটনায় এক বাংলাদেশিকে ওখানকার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। তবে বিষয়টি সাইপ্রাসের দূতাবাস থেকে এ পর্যন্ত আমাদের অফিশিয়ালি জানানো হয়নি। নিহত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তারা যদি সহযোগিতা চায়, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
উচ্চশিক্ষায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর
রাজধানীর ফকিরাপুলে সড়ক দুর্ঘটনায় আরাফাত রহমান শাওন (১৯) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তিনি রাজধানীর ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) বিবিএ বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফকিরাপুল পানির ট্যাংকির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শাওনের বাড়ি গাজীপুরের নিশাত নগর থানার বড় দেওড়া আনসার আলী রোড এলাকায়। তিনি মো. লুৎফুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।
নিহতের মা সুলতানা আক্তার জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য ছেলে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ জন্য প্রায় এক কোটি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল এবং আগামী ৩০ জুন তার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল।
তিনি বলেন, রাতে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখতে মোটরসাইকেলে বের হয়েছিল শাওন। ফকিরাপুল এলাকায় যাওয়ার সময় এক পথচারী রাস্তা পারাপার হচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলের সঙ্গে পথচারীর ধাক্কা লাগে। এতে তিনি আহত হন এবং আমার ছেলে গুরুতর আহত হয়। শাওনের মাথা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাত লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক বলেন, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত পথচারীর চিকিৎসা জরুরি বিভাগে চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
২ দিন আগে
চিড়িয়াখানা থেকে সাভার বিএলআরআইতে গেল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ খ্যাত জাতীয় চিড়িয়াখানার বিরল প্রজাতির সাদা মহিষটি সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে চিড়িয়াখানায় থাকা সাদা মহিষটি সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাণীটির সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রজনন কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নামের কারণে সাদা মহিষটি দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রাণীটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আলোচিত প্রাণী হিসেবে পরিচিত ছিল।
এর আগে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে থাকা বিরল অ্যালবিনো প্রজাতির সাদা মহিষের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। মাথার সামনের অংশের বিশেষ ধরনের চুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলিয়ে মালিক এর নাম দেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
পরে কোরবানি না দিয়ে প্রাণীটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ২৭ মে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রদর্শনের পর এটি দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সাদা মহিষটিকে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) স্থানান্তর করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
মিরপুরে ইটের আঘাতে আহত সেই সাজিদ মারা গেছেন
রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর আহত আরোহী সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো সাজ্জাদ হোসেন জানান, মোটরসাইকেলচালক সাজিদ চৌধুরী রাফি আজ (সোমবার) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— প্রধান আসামি মো. পারভেজ, ফয়সাল ওরফে কালু এবং আনোয়ার হোসেন বাবু।
মৃত রাফির চাচা মো. নুর হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন রাফিকে প্রথমে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১০ জুন তাকে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, ৯ জুন দিবাগত রাত রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া দিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন রাফি। আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একজন তাকে থামার সংকেত দেন। তিনি না থামলে আরেকজন চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট ছুড়ে আঘাত করেন। এতে রাফি রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় দিয়ে আঘাতকারী ব্যক্তি চিৎকার করে বলেন উপর থেকে রাফির ওপরে ইট পড়েছে। তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। তিনি নিজেই ইট দিয়ে রাফিকে আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করার পর চিৎকার করে আশপাশের লোকজনের কাছে সাহায্য চান। পরে রাফিকে একটি অটোরিকশায় করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। পুলিশও প্রথমে সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে তদন্তের পরে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, হামলাকারীরা রাফির পূর্বপরিচিত। ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত কালু, পারভেজসহ কয়েকজন সহযোগী ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রাফিকে একা পেয়ে তারা তাকে আটকের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কালু তাকে থামাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে অভিযুক্তরাই আহত রাফিকে প্রথমে সোরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও পরে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
৩ দিন আগে
রাজবাড়ীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, নিহত ১
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও জমির মাপজোককে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে জামিন বিশ্বাস (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা মাজাইল গ্রামে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এর আগে গতকাল (রবিবার) রাত ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামিন বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত দুইজন পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট গ্রামের একটি জমির মাপজোককে কেন্দ্র করে পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ সময় ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের বাসিন্দা মতিউর বিশ্বাসকে কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট গ্রামের হাকিম মণ্ডল ও তার লোকজন লাঞ্ছিত করেন।
এর জের ধরে গত শনিবার সকালে মতিউর বিশ্বাসের লোকজন হাকিম মণ্ডলের কাছে কৈফিয়ত চাইতে যান। একপর্যায়ে তারা হাকিম মণ্ডলকে লাঞ্ছিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালে হাকিম মণ্ডলের লোকজন খাল পার হয়ে ঢেঁপা গ্রামের মজিদ বিশ্বাসের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় মজিদ বিশ্বাসের লোকজন বাধা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে জামিন বিশ্বাসকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনায় আরও দুই থেকে তিনজন আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত জামিন বিশ্বাসকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
পাট্টা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অতুল চন্দ্র সরকার বলেন, পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের মতিউর বিশ্বাস ও কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট গ্রামের হাকিম মণ্ডলের জমির মাপজোক নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এর জের ধরে তিপক্ষের হামলায় মতিউর বিশ্বাসের ভাতিজা জামিন বিশ্বাস গুরুতর আহত হয়ে রবিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, আগের পাল্টাপাল্টি হামলার জের ধরে রবিবার সকালে সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামিন বিশ্বাস রাতে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার রাতেই ঢেঁপা মাজাইল গ্রামের লোকজন দড়িবাংলাট গ্রামে গিয়ে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ওসি আরও বলেন, এ মুহূর্তে আমরা পাট্টা ইউনিয়নের নদীর পাড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অবস্থান করছি। এখনো দড়িবাংলাট গ্রামে পৌঁছাতে পারিনি। যে কারণে কতগুলো বাড়িঘর ভাঙচুর বা আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে জানতে পারিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলার অতিরিক্ত পুলিশসহ অন্তত ৭০-৭৫ জনের একটি দল এলাকায় অবস্থান করছে।
৩ দিন আগে