সাভারে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অব্যাহত চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ ব্যাটারিচালিত অটো-রিকশাচালক।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে পাকিজা মোড় এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে সাভারের বিভিন্ন গলি ও শাখা সড়ক থেকে কয়েকশ রিকশাচালক একত্রিত হয়ে পাকিজা মোড়ে অবস্থান নেন। তারা মহাসড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে রিকশা রেখে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ব্যাপী (দুপুর ১২টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত) এই অবরোধ চলাকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের দাবি, মহাসড়কে রিকশা নিষিদ্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে তারা চলাচল করতে বাধ্য হন। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশ ও তাদের সোর্সরা প্রতিনিয়ত চালকদের আটকে ২ হাজার ৬০০ টাকা করে নেয়। এই টাকার কোনো রশিদও দেওয়া হয় না। প্রখর রোদের মধ্যে রিকশা চালিয়ে ৬০০/৭০০ টাকার বেশি ইনকাম করতে পারি না। রিকশা আটকের পর দেখা যায় ধারদেনা করে টাকা এনে ছাড়িয়ে নিতে হয়। আবার পরদিন একই কায়দায় তারা রিকশা আটক করে। পুনরায় টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে হয়।
তারা বলেন, হাইওয়ে পুলিশের এই চাঁদাবাজি থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই। সরকার আমাদের রিকশা চালাতে দেবে না, তাহলে রিকশার কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক । আমাদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক, যাতে করে পরিবার নিয়ে দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারি।
বিক্ষুব্ধ চালকদের মুখ থেকে বলতে শোনা গেছে, ‘দিনভর যা আয় হয়, তার বড় একটা অংশ পুলিশকে দিয়ে দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখানো হয়।’
এদিকে, অবরোধের ফলে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে গেন্ডা এবং অন্যদিকে হেমায়েতপুর অভিমুখে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়। তীব্র গরমে বাসে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার গাড়িগুলো যানজটে আটকে থাকে।
পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন আন্দোলনরত রিকশাচালকদের বলেন, হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের একটা ব্যবস্থা করা হবে । পরে তারা পুলিশের এই আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান বলেন, হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার, সিএনজি, ই-বাইক এবং সব ধরনের তিন চাকাবিশিষ্ট যানবাহন চলাচল আইনত নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে চালকদের আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
চালকদের পক্ষ থেকে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে, বিষয়টি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করে জানান, এগুলো কোনো ব্যক্তিগত চাঁদা নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়া। অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বা কাগজ থাকলে কেস স্লিপ দিয়ে পরে টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই রিকশাগুলোর কোনো লাইসেন্স বা সঠিক কাগজ না থাকায় তৎক্ষণাৎ মামলা দেওয়া হয়।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ৩৯ ধারায় ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা এবং ব্যাংক চার্জ বাবদ ১০০ টাকা, অর্থাৎ মোট ২ হাজার ৬০০ টাকা জমা দেওয়ার পর গাড়ি ছাড়ার বিধান রয়েছে বলে জানান শেখ শাহজাহান।