বাংলাদেশ
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৪, আক্রান্ত ৯৭৬
ঢাকা, ২৬ জুন (ইউএনবি)— দেশে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৯৭৬টি শিশু।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬০৯টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭০২টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১০৭টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৮৬৯। এই সময়ে ৭৮৬টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮২৫টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭ হাজার ৫২২, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৫৪৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮১ হাজার ২৮৩ রোগী, যাদের মধ্যে ৭৭ হাজার ৬১৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
সমাপ্ত/ইউএনবি/সংবি/এসই
৭ ঘণ্টা আগে
ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশের মতো দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো উদাহরণ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। তিনি বলেন, নানা সংকট ও দুর্যোগের মধ্যেও এ দেশের মানুষ সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন অটুট রেখেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে সিলেটে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এই দেশ আবহমানকাল ধরেই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির দেশ। এটি কোনো মুখের কথা নয়, বরং শাশ্বত সত্য। অর্থনৈতিক সামর্থ্য কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকে আমরা হয়তো অনেক দেশের চেয়ে পিছিয়ে আছি, কিন্তু ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো দেশ পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।’
তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঔদার্য ও একসঙ্গে বসবাসের যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয়। নানা সংকট ও দুর্যোগের মধ্যেও এ দেশের মানুষ সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন অটুট রেখেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ায়। এ দেশের মানুষের এই অদম্য মানসিক শক্তি ও বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
তিনি বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ সময় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান।
মন্ত্রী বলেন, মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা প্যাগোডা— যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানই হোক না কেন, উন্নয়নের জন্য যা প্রয়োজন সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করবে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনগুলো সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে, বাকি কাজ সরকার সম্পন্ন করবে।
আগামী দিনের নেতৃত্বের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে আসন্ন ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৮ ঘণ্টা আগে
দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারির কারণে দেশের সীমান্তে একজনকেও পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া বর্ডারে কাউকে এনে পুশ-ইন করিয়ে দেওয়া কোনো যথাযথ বা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া নয়। তিনি বলেন, যদি ভারতের কাছে এমন কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা থাকে যারা সে দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছে, তবে তারা কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সরবরাহ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) করবে এবং সত্যতা সাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত নিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ১০ হাজার মানুষকে পুশব্যাকের যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা বা দালিলিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিজিবি দেশের প্রতিটি সীমান্তে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে সীমান্তে এ ধরনের তৎপরতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী সেখানে মামলা দায়েরের পর আসামিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অসম্পন্ন তদন্ত কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার অপরাধী প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আইনি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) সহকারে আসামিদের ফেরত পাওয়ার আবেদন ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ আসামিদের দ্রুত হস্তান্তরের বিষয়ে আশাবাদী।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের অবস্থান ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। ওই বার্তায় পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সমস্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই সরকারের নিকট প্রেরণ করেছে। কয়েকদিন পূর্বে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এই নথিপত্র ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে।
বর্তমানে বেনজীর আহমেদ সে দেশের ফেডারেল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রত্যুত্তরের জন্য বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব শিগগির পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বেইজিংয়ের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে: মাহাদী আমিন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মুখপাত্র মাহাদী আমিন।
শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়।
মাহাদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।’
তিনি জানান, এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক দুই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের উপস্থিতিতে সই করা হয়েছে।
এছাড়া বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের মধ্যে আরও তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানান তিনি।
পিএমও মুখপাত্র বলেন, এ ছাড়া বর্তমানে দুই দেশের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মোট ১৩টি মন্ত্রণালয়-পর্যায়ের, তিনটি বিডা ও চীনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবং একটি দুই দেশের শাসক রাজনৈতিক দলের মধ্যে সই হয়েছে।’
মাহাদী আমিন এসব সমঝোতা স্মারককে প্রধানমন্ত্রীর সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২২ জুন রাতে চীন সফরে যান।
সফরের প্রথম পর্বে তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ অংশ নেন।
সেখানকার কর্মসূচি শেষ করে বুধবার রাতে উচ্চগতির ট্রেনে বেইজিংয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।
১১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব দিল বেইজিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক সংযোগপথ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর উন্নয়ন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ব্রিকস সদস্যপদের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে চীনের গ্রেট হলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন এ কথা জাানান।
তিনি বলেন, ‘আজকে আঞ্চলিক সংযোগ নিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে প্রস্তাব এসেছে, কীভাবে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার এবং চীন হয়ে একটি অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করা যায়। এই অর্থনৈতিক করিডোরের মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির আরও সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক লেনদেন বৃদ্ধি এবং বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা।’
চট্টগ্রাম বন্দর আরও আধুনিকায়নে চীন কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে মাহাদী আমিন বলেন, এই বন্দরকে আধুনিকায়ন করে এটিকে আমরা আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই বন্দর শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, অন্যান্য দেশের জন্যও সেবা দেবে, সেটি নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। একইসঙ্গে মোংলা বন্দরকে উন্নত করার জন্য এবং এটিকে আরও গতিশীল ও সেবামুখী করার জন্য চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা সেগুলো নিয়েও আলোচনা করেছি।
মাহাদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে আমরা দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। সংস্কৃতি, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি, সামগ্রিকভাবে জ্ঞান স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে আমরা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও বাড়াতে চাই। সেখানে ঐতিহ্য, তথ্য ও প্রযুক্তির বিষয় রয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা চাই দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি হোক এবং এগুলো নিয়ে দুই দেশের নেতৃত্ব আলোচনা করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় ইতোমধ্যে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই দুই ক্ষেত্রেই চীন তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়। চীনা ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষক এবং অবকাঠামোগত সহায়তা তারা প্রদান করবে।’
১৩ ঘণ্টা আগে
মাদকের কবলে জনসংখ্যার ৪.৮৮ শতাংশ, শক্তিশালী আইনি কাঠামো হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ মাদকের কবলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মাদকের বিস্তার রোধে সরকার বিদ্যমান আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর অনুকূলে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছে যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিন্থেটিক ও সেমি-সিন্থেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, অপরাধীরা এখন প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই কেবল নড়বড়ে আইনি ভিত্তি দিয়ে এই অপরাধ দমন সম্ভব নয়। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য একটি অভেদ্য আইনি দেওয়াল গড়ে তোলা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তাদের ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দারের মতো খালি হাতে সশস্ত্র মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।’ কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে অধিদপ্তরে অত্যাধুনিক অস্ত্র, পর্যাপ্ত যানবাহন ও ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া, আসামিদের থানায় সোপর্দের আগ পর্যন্ত রাখার জন্য আধুনিক হাজতখানা নির্মাণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মামলা জটের কারণে যাতে আসামিরা পার পেয়ে না যায়, সেজন্য মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া রোধে সম্প্রতি একটি আধুনিক আইন (সংসদে) উত্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাইবার অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও আইনি সংস্কার আনা হচ্ছে।
মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার তেজগাঁওসহ তিনটি বিভাগীয় শহরের নিরাময় কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
তিনি জানান, দেশের সাতটি বিভাগীয় শহর—চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শযাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়েছে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকবে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচিত ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি কেন্দ্রগুলোকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে সরকারি বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে মানবিক সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা মহানগর এলাকার নির্বাচিত ১৫টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক শুক্রবার
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আগামীকাল শুক্রবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বহুল আলোচিত এ বৈঠককে প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বৈঠক দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টা) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সফরের শেষ দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন।
মাহদী আমিন বলেন, আশা করছি, এসব আলোচনা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, যা বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করবে।
প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—সকালে গ্রেট হলে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন।
এরপর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।
সরকারপ্রধানের ২৪ জন সফরসঙ্গীর মধ্যে রয়েছেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এ কে এম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহ্দী আমিন প্রমুখ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান তারেক রহমান। ওই সফরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে সোমবার তিনি পৌঁছান চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দালিয়ানে।
সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বুধবার বিকেলে তারেক রহমানের বেইজিংয়ে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। এর আগে ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সফরসঙ্গী হিসেবে তিনি চীন সফর করেছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
দুই নেতার বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
১ দিন আগে
বিমানবন্দরে কার্গো জট নিরসনে ছুটির দিনেও সেবা চালু রাখার পরিকল্পনা বাণিজ্যমন্ত্রীর
বিমানবন্দরে বিদ্যমান কার্গো জট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালু রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ‘শুক্র ও শনিবার কার্যক্রম সীমিত থাকায় বিমানবন্দরে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ কমছে না। স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সেবা চালু রাখা জরুরি।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ইইউ উত্থাপিত ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার’-বিষয়ক সমস্যাগুলোর মধ্যে বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় সংকট ও এর সমাধান নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর কোনো স্টোরেজ বা গুদামজাতকরণের স্থান নয়, এটি মূলত পণ্য আগমন ও বহির্গমনের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কার্গো বিমানবন্দরে অবস্থান করলে সংকট তৈরি হয়। এ কারণে বিমানবন্দরের বাইরে নিরাপদ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধাসহ একটি পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। কার্গোর ধরন অনুযায়ী হ্যাজার্ডাস (ঝুঁকিপূর্ণ), নন-হ্যাজার্ডাস (ঝুঁকিমুক্ত), ফাস্ট-মুভিং (দ্রুতগামী) ও স্লো-মুভিং (ধীরগামী) পণ্যের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এতে কার্গো পরিচালনা আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।
সভার আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমানে প্রতিদিন যত পরিমাণ কার্গো বিমানবন্দরে আসছে, প্রায় একই পরিমাণ পণ্য খালাস হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা কার্গোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকাও এর অন্যতম কারণ।
মন্ত্রী বলেন, সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের সমাধান নিয়েই কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠক করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশে আসা একটি উড়োজাহাজ এবং বিমানবন্দরে পণ্য খালাসের অভিজ্ঞতাই বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের প্রথম পরিচয়। সেই অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই নেতিবাচক হতে পারে না। এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বিমানবন্দরের কার্গো জট শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতিই করছে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত কার্গো জট কমিয়ে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।’
বিমান পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্গোর চাপ কমানো সম্ভব।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমস্যা থাকলে আলোচনার টেবিলে বসুন, হুমকি বা কর্মবিরতির পথে যাবেন না। সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করছে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, দ্রুত পণ্য খালাস এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কার্গো অপারেটর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
নকল আর হচ্ছে না, এখন লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘নকল এখন আর হচ্ছে না। আমরা এখন শিক্ষার মান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। শিক্ষকদের কী কী সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে, কোন কোন কারণে শিক্ষার মান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব বিষয় চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল; বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু নকল প্রতিরোধ নয়, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
সভায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, উজিরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এস এম সরফুদ্দিন সন্টু, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. ইউনুসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
১ দিন আগে
দেশব্যাপী নৌ পুলিশের অভিযানে সাত দিনে ১৮৮ জন গ্রেপ্তার
গত সাত দিনব্যাপী চলমান বিভিন্ন অভিযানে ১৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। সেই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধঘোষিত অবৈধ জাল, মাছ, মাছের পোনা, কাঁকড়া ও জেলিযুক্ত চিংড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নৌ পথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নৌ পুলিশ দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করছে। গত সাত দিনব্যাপী নৌ পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে মোট ১৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮০ মিটার অবৈধ জাল, ২৬৪ কেজি মাছ, ২ লাখ ৭৪ হাজার পিস চিংড়ি রেণু, ৩০০ কেজি কাঁকড়া, ১২০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয় এবং নদী থেকে ১০৫টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়।
নৌ পুলিশের এই অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় ২৮টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে প্রসিকিউশন দায়ের করা হয় এবং একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।
সাত দিনব্যাপী এই অভিযানে ১৮৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ১০৪টি মৎস্য আইন, ১৭টি বেপরোয়া গতি আইন, ৩টি বালুমহাল, ৩টি মাদক, ৩টি চাঁদাবাজি, ২টি ডাকাতি, ১টি চুরি ও ৪টি হত্যা মামলাসহ মোট ১৪৩ টি মামলা দায়ের করা হয়।
জব্দকৃত অবৈধ জাল ও জেলিযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয় এবং মাছের রেণু পোনা পানিতে অবমুক্ত করাসহ অবশিষ্ট মাছ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।
১ দিন আগে