বিশ্ব
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০: জীবিত উদ্ধারের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, বাড়ছে হতাশা
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টার সময় শেষের পথে। এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দঁড়িয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর তিন দিন অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা আস্তে আস্তে ক্ষীণ হয়ে আসছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার তৎপরতায় বিশৃঙ্খলা, জনসমাগম এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার অভাবে তাদের জীবিত উদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
ভেনেজুয়ায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন ধসে পড়ার তিন দিন পরও স্বজনদের খোঁজে সাধারণ মানুষ নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন।
২১ ঘণ্টা আগে
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪, আহত ৯৭১
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯৭১ জন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন শহরের পশ্চিমে, দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।
মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মোরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোর সব জায়গায় জরুরি সেবা পৌঁছাতে পারেনি। উদ্ধারকারী দলগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
এই ভূমিকম্প গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম। ভূমিকম্পের কম্পন পুরো অঞ্চলে অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরের ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলেও বিভিন্ন ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীরা বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাজধানীর বাসিন্দারা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। ভূমিকম্পের পর অনেককে ধসে পড়া ভবন ও উপড়ে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ করতে দেখা যায়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, লা গুইরা অঙ্গরাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ধুলায় ঢাকা জীবিত অবস্থায় তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। রদ্রিগেজ লা গুইরাকে ‘দুর্যোগকবলিত এলাকা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ব্যাপকসংখ্যক ভবন ধসে পড়ায় এটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।
তিনি জানান, উপকূলীয় লা গুইরায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদারে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই দিনের আলো কাজে লাগিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘সেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং জীবন বাঁচাতে আমরা ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, লা গুইরার একটি হাসপাতালের বাইরে বহু মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের কেউ মাটিতে, আবার কেউ হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থান করলেও ভেনেজুয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প লাতিন আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম ঘটে।
রদ্রিগেজ উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারী নির্মাণযন্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ অনুমোদিত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়ার পথে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার আশ্বাস
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আর্জেন্টিনা, চিলি, পানামা ও উরুগুয়েসহ বিভিন্ন দেশ ভেনেজুয়াকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা এবং ত্রাণ সহায়তা পাঠাচ্ছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে রদ্রিগেজ জানান, তিনি রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এছাড়া কাতার, মেক্সিকো ও এল সালভাদোরও ইতোমধ্যে উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে।
এল সালভাদোরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া এবং বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় মানুষের ঢল
টেলিভিশন সম্প্রচারে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন। অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এড়িয়ে গাড়ি, মেট্রো স্টেশন ও অন্যান্য খোলা স্থানে রাত কাটিয়েছেন।
কারাকাসের বাসিন্দা হেক্তর রিচ্চি বলেন, ‘প্রথমে কম্পনটা মৃদু ছিল, পরে ধীরে ধীরে তীব্র হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আমাদের সবাইকে ঘর ছেড়ে বাইরে এসে একত্র হতে হয়েছে।’
আরেক বাসিন্দা রবার্তো গামা বলেন, ‘আমাদের ভবনটি প্রচণ্ডভাবে দুলছিল। এমন শক্তিশালী কম্পন আগে অনুভব করিনি।’
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একে অনেক পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত প্রোটোকল অনুসরণ করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকুন; আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নিন।’
ব্রাজিল ও কলম্বিয়াতেও কম্পন অনুভূত
ভূমিকম্পের কম্পন ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের মানাউস, বেলেম ও মাকাপা শহরে অনুভূত হয়েছে। কলম্বিয়ার ক্যারিবীয় উপকূল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও কম্পন টের পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পর মার্কিন প্যাসিফিক সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র কয়েকটি সুনামি সতর্কতা জারি করলেও পরে সেগুলো প্রত্যাহার করে জানানো হয়, সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
একাধিক ভূ-ফলকের সংযোগস্থলে অবস্থান করলেও ভেনেজুয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প তুলনামূলক বিরল। তবে মেক্সিকো ও চিলির মতো লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোতে এ ধরনের ভূমিকম্প বেশি ঘটে। ভূকম্পনপ্রবণ ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার কারণে ওইসব অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি।
২ দিন আগে
জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে, এ ভূমিকম্পে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে দেশটির ইওয়াতে প্রদেশের পূর্ব উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
জেএমএ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলা হলেও পরে তা ৭ দশমিক ২-এ উন্নীত করা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে।
অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এটির মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলে উল্লেখ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। গত ডিসেম্বরে একটি ভূমিকম্পের পর এক সপ্তাহব্যাপী ‘মেগা-ভূমিকম্প’ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে অফিসগামী ব্যস্ত সময়ে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র মিনোরু কিহারা।
তবে জাপান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের জরুরি দল ‘মানুষের জীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য পরাঘাত (আফটার শক) সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
২ দিন আগে
ভয়াবহ দুই ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা, নিহত অন্তত ৩২
ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন শহরের পশ্চিমে, দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।
মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মোরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোর সব জায়গায় জরুরি সেবা পৌঁছাতে পারেনি। ফলে হতাহতের সংখ্যা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। উদ্ধার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুধবার রাতেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জানান, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতাহতের হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুইরা অঙ্গরাজ্যের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
২ দিন আগে
লখনউয়ে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৪
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর লখনউয়ের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
সোমবার (২২ জুন) লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি ভবনে আগুন লাগে। ভবনটির নিচতলায় একটি পোষা প্রাণীর দোকান ও পশু চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ওপরের তলাগুলোতে একটি কোচিং সেন্টার ও অ্যানিমেশন স্টুডিও ছিল।
দুর্ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। একটি ভিডিওতে একজনকে ওপরের তলা থেকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি বেঁচে গেছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ভবনের পেছনের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। ধোঁয়া অপসারণে এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করা হয় এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ও শৌচাগারে জীবিতদের অনুসন্ধান করেন।
অ্যানিমেশন স্টুডিওর কর্মী মোহাম্মদ আসিন জানান, দুপুরের খাবারের বিরতি শেষে কর্মীরা কাজে ফিরছিলেন, ঠিক তখনই আগুন লাগার খবর পান।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এটি ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড, কিন্তু বের হওয়ার চেষ্টা করার আগেই কক্ষ ও চলাচলের পথ ধোঁয়ায় ভরে যায়।’
ভারতে প্রায়ই প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দেশটিতে ভবন নির্মাণ আইন ও নিরাপত্তা বিধিমালা অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাতা ও বাসিন্দাদের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হয়।
গত ৩ জুন দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।
৫ দিন আগে
দলীয় চাপে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
নিজের দলের চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্থিতিশীল নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই বছর আগে ভূমিধস বিজয় অর্জন করলেও ধারাবাহিক ভুল পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তে ভোটারদের আস্থা হারানোর পর শেষ পর্যন্ত তাকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) স্টারমার জানান, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে স্থলাভিষিক্ত করতে সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
ইতোমধ্যে বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।”
অন্যদিকে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, যাকে বার্নহ্যামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, তিনি বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের জয়ই স্টারমারের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় এক দশক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি পুনরায় পার্লামেন্টে ফিরছেন এবং সোমবারই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কেবল সংসদ সদস্যরাই দলের নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
স্ট্রিটিংয়ের সমর্থনের ঘোষণায় নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বার্নহ্যাম নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
স্টারমার গত এক দশকে ব্রিটেনের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, যিনি ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন। তার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে (ব্রেক্সিট) ব্রিটেনের গণভোটের দশম বার্ষিকী পালিত হবে। সিদ্ধান্ত এখনও দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজের পদ ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত স্টারমার নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন, তবে এরপর থেকে তার এবং দলের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নেতা
দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ দেওয়া সরকারি বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়েই পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের শেষ দিকে তার কণ্ঠ আবেগে ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় তার দপ্তরের কর্মী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন যে প্রশ্নটি করছে তা হলো, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। এ বিষয়ে আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সৌজন্যের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি।’
তিনি জানান, সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানাতে তিনি ব্রিটেনের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরো সপ্তাহাজুড়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন স্টারমার। তিনি জানান, আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে ১ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট পুনরায় বসার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তবে বার্নহ্যাম যদি একমাত্র প্রার্থী হন, তাহলে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝিতেই নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্পন্ন হতে পারে।
৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জবাবে ১০ মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক পদক্ষেপের জবাবে ১০টি মার্কিন সামরিক-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। এর আগে কয়েকটি শীর্ষ চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে বাদ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি প্রতিষ্ঠানে চীনের ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য রপ্তানি না করতে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ডুয়াল ইউজ বলতে এমন পণ্যকে বোঝায়, যা সামরিক ও বেসামরিক দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যায়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা চীনের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথাকথিত ‘চীনের সামরিক প্রতিষ্ঠানের তালিকার অন্যায্য সম্প্রসারণের’ জবাবে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহৎ চীন-বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্য এশিয়া গ্রুপের পার্টনার জর্জ চেন বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রতি চীনের প্রতিক্রিয়া। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান বা মার্কিন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে ব্যবসা করতে পারবে না।
অন্যদিকে, চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকারি সংস্থাগুলোকে ৪৬টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের পণ্য কেনা থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন এবং জেনারেল ডায়নামিকসের একাধিক ইউনিট। তবে ওই বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আলিবাবা ও বাইডুসহ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত বলে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করে। এই তালিকাভুক্তির ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চুক্তি পাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে। তবে বাইডু জানায়, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামরিক প্রতিষ্ঠান বলা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তখন জানিয়েছিল, গত মে মাসে চীনে ট্রাম্পের সফরের সময় শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞা সে সময় হওয়া ঐকমতের পরিপন্থি।
সোমবারের ঘোষণায় মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তৃতীয় দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি চীন থেকে এসব নিষিদ্ধ মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য স্থানান্তর করতে পারবে না। পাশাপাশি বলা হয়েছে, যেসব পণ্য বাস্তবিকভাবে প্রয়োজনীয়, সেগুলো অনুমোদনের জন্য চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছে আবেদন করতে পারবে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো: ক্যালিফোর্নিয়ার সিমি ভ্যালির এভিওএক্স, সাউথ সল্ট লেকের রেড ক্যাট হোল্ডিংস এবং টিল ড্রোনস, স্প্রিংভিলের আইএমএসএআর, ব্রিস্টল, রোড আইল্যান্ডের জাইয়া রোবোটিকস, কলোরাডোর ব্রুমফিল্ডের ব্যাল অ্যারোস্পেস অ্যান্ড টেকনোলজিস, উইসকনসিনের ওশকশ ডিফেন্স, ভার্জিনিয়ার নরফোকের এল৩হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস, লাস ভেগাসের এমপি ম্যাটেরিয়ালস এবং ওকলাহোমার স্টিলওয়াটারের ইউএসএ রেয়ার আর্থ।
৫ দিন আগে
লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস, পদত্যাগ করতে পারেন কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির ভেতরে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই তার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
স্টারমার যদি পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তাহলে গত এক দশকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে একজন হবেন তিনি।
গত সপ্তাহে বিশেষ নির্বাচনে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিজয় লাভ করেন। এরপর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো সপ্তাহ ধরে চিন্তাভাবনা করেন স্টারমার। ওই নির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্য নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) বার্নহ্যামের পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্টারমারের কার্যালয় পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল রবিবার বলেন, ‘স্টারমার বর্তমানে তার সামনে থাকা রাজনৈতিক বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার জন্য সময় নিচ্ছেন।’
স্টারমার সরে দাঁড়ালে বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্ব পাবেন না কি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত মাসে স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতিবাদে স্বাস্থ্যসচিবের পদ থেকে সরে দাাঁড়ন ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি জানিয়েছিলেন, নেতৃত্বের নির্বাচন হলে তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বিগত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি বড় ধরনের নির্বাচনি বিজয় পেলেও এরপর থেকে সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। ফলে লেবার পার্টির দলীয় আইনপ্রণেতারা পরিস্থিতি পরিবর্তনে চাপ বাড়াতে থাকেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, দুর্বল জনসেবা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট কমানোসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্টারমার সাফল্য দেখাতে পারেননি। এছাড়া কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তও তার জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জেফ্রি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
একদিকে লেবার পার্টি গ্রিন পার্টির কাছে উদারপন্থি ভোটার হারাচ্ছে, অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকায় নতুন সংকটে পড়েছে দলটি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসার আগেই স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে স্টারমারের ব্যর্থতাই তাকে সম্ভাব্য বিদায়ের পথে নিয়ে এসেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছেন: অভিবাসন এবং জ্বালানি। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’
তবে ট্রাম্প গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে এ মন্তব্য করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে কোনো কথপোকথনও হয়নি।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে ট্রাম্প ও স্টারমারের সম্পর্ক ভালো থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা খারাপ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। যুক্তরাজ্য ইরান যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
তবে দেশের ভেতরে নানা সমালোচনার মুখে পড়লেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্টারমার প্রশংসা পেয়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ে ইউরোপীয় সমর্থন জোরদারে ভূমিকা রাখা এবং ইরান সংঘাত থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানোর প্রচেষ্টার জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা বার্নহ্যামের পক্ষে থাকলেও কেউ কেউ মনে করেন, স্টারমারের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। লন্ডনের আইনপ্রণেতা নিল কয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একজন নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং এ নিয়ে তৈরি হওয়া গণমাধ্যমের উন্মাদনা আসলেই হতাশাজনক।’
তিনি আরও লেখেন, পরবর্তী নেতা যদি ট্রাম্প, ইরান, ইউক্রেন, পুতিন, মাস্ক, গণমাধ্যমের পক্ষপাত বা অ্যালগরিদমের প্রভাব রাতারাতি বদলাতে না পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও একইভাবে সমালোচনা শুরু হবে।’
৫ দিন আগে
ইরান- যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ, কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে
ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চেয়ে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আজ সোমবার শেষ হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ লেবাননে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হওয়ায় এ বিষয়ে সপ্তাহজুড়েই কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সেলে লেবানন সরকারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি ‘লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করবে’।
তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ থামাতে এই উদ্যোগ যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লেবাননের কিছু এলাকা দখল করে রাখা ইসরায়েল বলেছে, উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের স্বাধীনতা তারা বজায় রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
আলোচনাগুলো ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে লেবাননের সংঘাত এখনও অন্যতম বড় অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
উত্তেজনাপূর্ণ সূচনা
রবিবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই এক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়ে এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলে তেহরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘লেবাননে ইরানকে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের (সহযোগী গোষ্ঠী) মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তবে আমরা গত সপ্তাহের মতো আবারও ইরানে খুব জোরালো আঘাত হানব, তবে এবার আঘাত হবে আরও মারাত্মক।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের জন্য ইরানকে আলোচনায় ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক্সে লেখেন, ‘তাদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ভিন্নভাবে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু কাজ করি আমরা।’
তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লেখেন, ‘পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতা লেবানন যুদ্ধের অবসানে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, আলোচনার প্রথম ‘বাস্তব পরীক্ষা’ হবে ডি-কনফ্লিকশন সেল লেবাননের সংঘর্ষ বন্ধ করতে পারে কি না।
কারিগরি আলোচনা চলবে
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকটি প্রায় ৮০ মিনিট ধরে চলে।
বৈঠক শেষে পাকিস্তান ও কাতার জানায়, পুরো সপ্তাহজুড়ে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে। এসব আলোচনা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
৫ দিন আগে
কাতারের গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮
ইরানের হামলার পর পুনরায় কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চলাকালে কাতারের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত এবং আরও অন্তত ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২১ জুন) রাতে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কাতার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। এ বিস্ফোরণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে ইরান প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করায় কাতার রপ্তানি টার্মিনাল পুনরায় চালুর কাজ শুরু করে। গতকাল রাতে সেই কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি।
বিস্ফোরণের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। শুরুতে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনেক বেশি হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে।
বারজান প্ল্যান্টের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ছিল প্রায় ১৪০ কোটি ঘনফুট। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরু অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো পরিচালনায় এই গ্যাস ব্যবহার করত।
প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের, তবে এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
গত মার্চে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফানে আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ইরানি হামলার কারণে তার আগেই সেখানে উৎপাদন বন্ধ রেখেছিল কাতার।
৬ দিন আগে