বিশ্ব
লেবাননে বাশার আল-আসাদের আত্মীয় আটক
লেবাননের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্ত্র ও মাদক বহনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের এক আত্মীয় ও কুখ্যাত এক মাদক কারবারির ছেলেকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) লেবাননের সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
আদালতের দুই কর্মকর্তা জানান, গত শুক্রবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বালবেকের কাছে সুলেইমান আসাদ ও আলি জেইতারকে আটক করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই বিচারিক কর্মকর্তা আরও জানান, সুলেইমান আসাদ সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই হিলাল আসাদের ছেলে। অন্যদিকে আলি জেইতার গত বছর গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন মাদক কারবারি নোয়াহ জেইতারের ছেলে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীরা ক্ষমতা দখল করার পর আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর সিরিয়ার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও আসাদের আত্মীয় লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান। বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের বর্তমানে রাশিয়ায় বসবাস করছেন।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তিনজনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে একজন সিরীয় নাগরিকও রয়েছেন, যার লেবাননে বৈধভাবে অবস্থানের নথি ছিল না।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছে অস্ত্রের পাশাপাশি হাশিশও পাওয়া গেছে। উত্তর-পূর্ব লেবাননে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া গাঁজা থেকে এই মাদক তৈরি করা হয়।
সেনাবাহিনী তাদের নাম প্রকাশ না করলেও তাদের নামের প্রথম ও পারিবারিক নামের আদ্যক্ষর সুলেইমান আসাদ ও আলি জেইতারের সঙ্গে মিলে যায়। বিচারিক কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সুলেইমান আসাদকে গ্রেপ্তারের কয়েক সপ্তাহ আগে লেবানন সিরিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে অবসরপ্রাপ্ত এক মেজর জেনারেলকে হস্তান্তর করেছিল, যিনি বাশার আল-আসাদের সেনাবাহিনীর একটি ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
১৪ দিন আগে
সিরিয়ায় অস্ত্রের গুদামে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১৪
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি অস্ত্রের গুদামে বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
ইদলিব প্রদেশের সারমাদা শহরের কাছে বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে বিপর্যস্ত দেশটিতে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে নিয়মিতই ঘটে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে চলা বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধের সময় পড়ে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণে গুদামটি ব্যবহার করা হতো। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে সিভিল ডিফেন্স ও সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকর্মীরা এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন। বিস্ফোরণস্থলে থাকা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক আলোকচিত্রী মরদেহ উদ্ধার করতে দেখেছেন।
বিস্ফোরণের পর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে আকাশে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। এ সময় ছোট ছোট বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়।
গুদামের কাছে কাজ করা গাড়ির মেকানিক আহমাদ ফাউর বলেন, প্রথমে তিনি ও অন্যরা একটি ছোট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে সেখান থেকে দৌড়ে সরে যান। এরপর বড় বিস্ফোরণটি ঘটে।
নিজের গ্যারেজে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোর দিকে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘জনবসতিপূর্ণ এলাকায়, মানুষ ও দোকানপাট থাকা একটি গ্রামে অস্ত্রের গুদাম রাখা উচিত নয়। যারা মারা গেছেন, ওই অসহায় মানুষগুলোর কোনো দোষ ছিল না।’
১৭ দিন আগে
রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু করেছে। রুশ কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চালু হওয়া সেতুটি তুমেন নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ১ কিলোমিটার (০.৬ মাইল)।
সেতুটিতে দুটি লেন রয়েছে এবং নতুন নির্মিত সীমান্ত চৌকি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে রুশ সরকার।
ভিডিও লিংকের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে সীমান্তের কাছে পরিবহন অবকাঠামোর সম্প্রসারণ রাশিয়ান ফেডারেশন ও ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার আরও বিকাশে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করবে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ধরনের বিনিময় কর্মসূচি জোরদার হয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে গোলাবারুদ ও সেনাসদস্য সরবরাহ করছে।
এছাড়া মহামারির বিধি-নিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার মধ্যে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তর কোরিয়ায় রুশ পর্যটকরাও যাতায়াত করছেন।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ইতোমধ্যে একটি রেলসেতু ও বিমান যোগাযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ তুমেন নদীর ওপর যানবাহন চলাচলের জন্য একটি সেতু নির্মাণে সম্মত হয়। নদীটি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সীমান্তের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছর।
১৯ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ৭ বিমানবন্দর বন্ধ, ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বিঘ্নিত
ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ে বিভিন্ন এলাকা ঢেকে গেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাসও শুরু করা হয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা কমে এলেও এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, আনাক ক্রাকাতাউয়ের টানা ২৫ ঘণ্টার অগ্ন্যুৎপাত গতকাল (রবিবার) শেষ হয়েছে। এতে লাভার ফোয়ারা সৃষ্টি হয় এবং ৭০০ কিলোমিটার (৪৩৫ মাইল) দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে সোমবারও আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় ছিল। এদিন মাঝারি মাত্রায় থেমে থেমে অগ্ন্যুৎপাত, কালো ছাই নির্গমন ও স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানায় সংস্থাটি।
এয়ারনাভ ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, পরীক্ষায় জাকার্তাসহ আরও কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ রেখেছে। তবে দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের পাগার আলাম শহরের আতুং বুংসু বিমানবন্দর সোমবার সকালে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইনজার্নি এয়ারপোর্টসের ব্যবস্থাপনায় থাকা চারটি বাণিজ্যিক বিমানবন্দর—জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা ও হালিম পেরদানাকুসুমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পশ্চিম জাভার বান্দুং শহরের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা ও সুমাত্রার দক্ষিণ প্রান্তের লাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে এবং ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৭ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৯ দিন আগে
মেক্সিকোতে ধর্মীয় উৎসবে আতশবাজি বিস্ফোরণ, নিহত ১০
মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে এক ধর্মীয় উৎসবে আতশবাজির উপকরণ বিস্ফোরণে একটি দেয়াল ধসে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মেক্সিকো স্টেটের তেমাসকালসিঙ্গো পৌরসভার নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে লা লুস গির্জার পাশে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রায় ৬৬ হাজার বাসিন্দার এ পৌরসভার শত শত মানুষ ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে জড়ো হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই বিস্ফোরণটি ঘটে।
তেমাসকালসিঙ্গো দেশটির রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি। এ ঘটনায় মেক্সিকো স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় এক বিশপ জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুইজন যাজকও রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বিস্ফোরণের পরের দৃশ্য দেখা গেছে। এতে ধোঁয়া ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কয়েক বেশ কিছু মানুষকে জীবিতদের সন্ধান করতে দেখা যায়।
মেক্সিকোতে আতশবাজি-সংক্রান্ত বিস্ফোরণ প্রায়ই ঘটে। দেশটিতে বিভিন্ন রাস্তার উৎসব ও ধর্মীয় আয়োজনে আতশবাজির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
বছর চারেক আগে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় হিদালগো রাজ্যের হুয়েহুতলা পৌরসভার একটি গ্রামে শক্তিশালী আতশবাজির বিস্ফোরণে ১৭ জন আহত হয়েছিলেন।
১৯ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে যানবাহনে আঘাত করে আগুন ধরে যায়। এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রানওয়ে ছেড়ে যায়। পরে বিমানবন্দরসংলগ্ন গুদাম ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ব্যবহার করেন এমন একটি সড়কের ওপর দিয়ে গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে।
মায়ামি-ডেড কাউন্টির কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ দুর্ঘঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিমানের পাইলটরা বেঁচে আছেন কি না কিংবা নিহত সবাই বিমানটির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ভেতরে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মায়ামি-ডেড রেসকিউ ফায়ার বিভাগের প্রধান রে জাদাল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনায় পাইলট ও কো-পাইলট ককপিটে এবং কয়েকজন যাত্রী বিমানের যাত্রীবাহী অংশের ভেতরে আটকা পড়েন। একটি যাত্রীবাহী অংশের নিচে আটকে পড়া একজনকেও উদ্ধারকারীদের বের করে আনতে হয়েছে।
ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যাওয়ার পর ব্যস্ত এই বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বেশ কিছু সময় বন্ধ ছিল। দুর্ঘটনার পরপরই প্রায় ২০০ জরুরি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। বিমানের ইঞ্জিনের জটিল অংশে আগুন ধরে যাওয়ায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এতে আবহাওয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় বজ্রঝড় এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৮ কিলোমিটার বেগে বায়ু প্রবাহ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে মায়ামিতে একটি দল পাঠাচ্ছে সংস্থাটি। এই তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে অ্যামাজন।
১৯ দিন আগে
নয়াদিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ সত্য নিকেতন এলাকায় অবস্থিত ওই পাঁচতলা ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটিতে একটি ছাত্রাবাস ছিল। এলাকাটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্যাম্পাসের কাছে এবং বেসরকারি ছাত্রাবাসের হিসেবে পরিচিত।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ, দমকল বাহিনী ও ভারতের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার সদস্যরা আজও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। ভারী যন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান করা হচ্ছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আজ ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। ধ্বংসস্তূপের প্রায় ৮০ শতাংশ সরানো হয়েছে এবং এখন শুধু বেসমেন্টের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন নিহত ও আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনটি অন্তত ৫৫ বছরের পুরোনো। কয়েক মাস ধরে সেটিতে সংস্কারকাজ চলছিল। কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও আগস্টে মূলত শিক্ষার্থীদের ভাড়াটিয়া হিসেবে সেখানে ওঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চাঁদ জানান, ভবনটি ধসে পড়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক বেসমেন্টে খননকাজ করছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বেসমেন্টে পানি জমে যাওয়া এবং পুরোনো ভবনটিতে চলমান সংস্কারকাজের কারণে ভবনটি ধসে পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন গুপ্তা।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে যার আওতায় জনসাধারণের ব্যবহৃত ভবন—বিশেষ করে ছাত্রাবাস, নার্সিং হোম ও স্কুল—নিয়মিত কাঠামোগত পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা সনদ পাওয়ার বাধ্যবাধকতার মধ্যে আসবে। যেসব ভবন এসব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, সেগুলোতে কোনো ধরনের জনসাধারণের কার্যক্রম অনুমোদন করা হবে না বলেও জানান তিনি।
১৯ দিন আগে
দুর্যোগে নিহত ১,৩০০ ছাড়িয়েছে, জাতীয় শোক পালন করছে নেপাল
২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় নিহতদের স্মরণে আজ সোমবার নেপালে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। এদিন সরকারি দপ্তরগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
বন্যার ত্রয়োদশ দিনে এসে নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া বিদেশিসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
হিন্দুপ্রধান দেশটিতে সাধারণত মৃত্যুর পর ১৩ দিন শোক পালন করা হয়। এ সময়ে নিকটাত্মীয়রা বাড়িতে অবস্থান করেন এবং স্বজন ও পরিচিতরা তাদের সমবেদনা জানাতে যান। ত্রয়োদশ দিনে মৃতের আত্মার শান্তি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
যেসব পরিবারের সদস্য এখনও নিখোঁজ, তাদের অনেকেই প্রতীকী শেষকৃত্য ও শোকানুষ্ঠান পালন করেছেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ গুরুত্বপূর্ণ শেষকৃত্য। প্রিয়জনের মরদেহ না পেলেও প্রতীকীভাবে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে কিছু পরিবার। তাদের কাছে এটি মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্বস্তির মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
এর আগে, সোমবারকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে নেপাল সরকার এবং সব সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেয়।
১৯ দিন আগে
ডিআর কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন, নিহত অন্তত ২২
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন লেগে অন্তত ২২ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে।
আঞ্চলিক মেয়র শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কিনশাসার উত্তরে লিংওয়ালা পৌরসভায় একটি ভবনে গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা শনিবার ভোর পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন আগুন থেকে বাঁচতে সেখানে থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সরু করিডোরগুলোতে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। পরে কয়েকজনকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যাদের কেউ জীবিত, কেউ মৃত ছিল।
কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সিকে লিংওয়ালার মেয়র নরবার্ট মুশিঙ্গা বলেন, প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২২। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিআর কঙ্গোর উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকমিন শাবানি শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা।’
কিনশাসার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড প্রায়ই ঘটে থাকে। এসব এলাকায় নগর উন্নয়নের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে ওঠেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বেশি ঘটে এবং চলতি বছরও বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
২১ দিন আগে
জলবায়ু পরিবর্তনে উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়, বাড়ছে নেপালের মতো দুর্যোগ
অতি সম্প্রতি নেপালের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের দিকে পানি, পাথর ও কাদার স্রোত ধেয়ে এলে পেমা তামাং ও তার প্রতিবেশীরা পাহাড়ের উপরের দিকে একটি বৌদ্ধ মন্দিরে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর গত বছরই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।
ইতোমধ্যে ভূমিকম্পপ্রবণ হিমালয়ের খাড়া পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে উঁচু পর্বতের হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে ওই অঞ্চলে ঘন ঘন আকস্মিক বন্যা হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ কখনো কখনো ভয়াবহ দ্রুততায় বদলে যাচ্ছে। এক দুর্যোগের পর আরেক দুর্যোগের মধ্যে বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য খুব কম সময়ই মিলছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি বাড়তে থাকায় এসব জনগোষ্ঠী টিকে থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মন্দিরটির কথা উল্লেখ করে তামাং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘ভূমিকম্পে মন্দিরটি ধ্বংস হওয়ার পর মাত্র গত বছরই আমরা এটি পুনর্নির্মাণ করেছি। বন্যার কবল থেকে প্রাণ বাঁচাতে আমরা সেখানেই আশ্রয় নিই।’ কাঠমান্ডুর একটি বৌদ্ধবিহারে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসে তিনি এসব বলছিলেন।
নেপাল ও প্রতিবেশী চীনে ২৬ আগস্টের বন্যায় ১ হাজার ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে শত শত মানুষ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিমালয়ের একাধিক নদীতে শিলাস্তর ও হিমবাহের বরফ ধসে পড়ার পর ধ্বংসাবশেষ ও পানি প্রবল বেগে নেমে এলে এই বন্যার সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিপর্যয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি যোগসূত্র স্থাপনের জন্য এখনই উপযুক্ত সময় নয়। তবে তেল, গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে এ ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কাও বাড়ছে, বিশেষ করে হিমালয় পর্বতমালায়, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত বাড়ছে।
২১ দিন আগে