খুলনা
নড়াইলে তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপায় ‘হত্যা’
নড়াইলে তেল না পেলে একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের সঙ্গে এক ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৫) চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার কালনা-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর রেল সেতুর নিচে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নাহিদের বন্ধু জিহাদুল মোল্যাকে (২৯) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাহিদ সরদার উপজেলার তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত ছিলেন। তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের মৃত আকরাম সরদারের ছেলে ছিলেন তিনি। তার বন্ধু জিহাদুল মোল্যা একই এলাকার জহুরুল মোল্যার ছেলে।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে বাগবিতণ্ডার পরও ওই ট্রাকচালক পাম্পেই অবস্থান করেন। রাত ২টার দিকে ফিলিং স্টেশনের কাজ শেষ করে নিজ বাড়ির উদ্দেশে মোটরসাইকেলযোগে সহকর্মী জিহাদকে নিয়ে পাম্প থেকে বের হন নাহিদ। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত গতিতে তাদের পেছনে ধাওয়া করতে দেখা যায় ওই ট্রাকটিকে। পরে ওই ট্রাকের চাপায় নাহিদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার বন্ধু জিহাদুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদর হাসাপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে এমন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছেন নিহতের সহকর্মীরা ও স্থানীয়রা।
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, গতকাল রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক তেল নিতে সদরের তানভীর ফিলিং স্টেশনে আসেন। এ সময় তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাগবিতণ্ডা হয়। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাকচালক প্রকাশ্যে ম্যানেজারকে চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ট্রাকচাপায় নিহত ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৬ মিনিট আগে
বজ্রপাতে শৈলকূপায় দুই কৃষক নিহত, আহত আরও ৪
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজের খেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন রনজিত বিশ্বাস ও প্রকাশ বিশ্বাসসহ আরও চার কৃষক।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার খড়িবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন, খড়িবাড়িয়া গ্রামের প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাস (২০) ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের সুশীল বিশ্বাসের ছেলে সুশীল বিশ্বাস (৪০)।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, হতাহত কৃষকরা আজ (শনিবার) দুপুরে মাঠে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত ও চার কৃষক আহত হন। খবর পেয়ে হতাহতদের স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।
হাসপাতালের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডা. এহতেশাম শহীদ জানান, বজ্রপাতে হতাহতদের শরীর ঝলসে গেছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
চুয়াডাঙ্গায় ৭টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট
চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টার জমিতে সেচ নালা তৈরির সময় কোদালের কোপের সঙ্গে উঠে আসা শক্তিশালী ৭টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করেছেন সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। কম্পন আর বিকট শব্দে ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় হয়।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে সেনাবাহিনীর ৫৫ রেজিমেন্ট যশোর ইউনিটের সদস্যরা এ ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।
স্থানীয়রা জানান, ল্যান্ডমাইনগুলো বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় আকাশ। ল্যান্ডমাইন খুঁজে পাওয়ার ২৯ দিনের মাথায় এগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই কদিন পুলিশি পাহারায় রাখা হয়েছিল ওই এলাকা।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলীর মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে চাষের জমি রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য মাঠে নালা তৈরির জন্য কোদাল দিয়ে খুড়ছিলেন। এ সময় কোদালের কোপের সঙ্গে উঠে আসে ৩টি শক্তিশালি ল্যান্ডমাইন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি পরে সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। এরপর আজ (শনিবার) সকালে ক্যাপ্টেন রিফাতুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫৫ রেজিমেন্ট যশোর সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। দুপুরে সেখান থেকে একে একে ৭টি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেন। এরপর তারা প্রথমে ৪টি এবং পরে বাকি ৩টি ল্যান্ডমাইনও নিষ্ক্রিয় করেন। এ সময় বিকট শব্দ এবং কম্পন অনুভূত হয়। বোমা নিষ্ক্রিয় করা স্থানগুলোতে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৯ ঘণ্টা আগে
‘মশার কয়েল থেকে’ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ায় দুই কৃষক দগ্ধ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গোয়ালে মশা তাড়াতে জ্বালানো কয়েল থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক কৃষকের গবাদিপশু, বসতঘর ও ঘরে থাকা ফসল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দুই কৃষক।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পূর্ব ফিলিপনগর কাচারিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক জানবার প্রামাণিকের গোয়ালে মশা তাড়াতে জ্বালানো কয়েল থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোয়ালঘর ও বসতঘরে। এতে ঘরে থাকা ৪টি গরু, ৪টি ছাগল, একটি মোটরসাইকেলসহ ফসল ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।
এ ঘটনায় বাড়ির মালিক জানবার প্রামাণিক ও তার ভাই হোসেন প্রামাণিক দগ্ধ হয়েছেন। গবাদিপশু রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তারা আহত হন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তারা কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে ফিলিপনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, ‘হঠাৎ আগুন লাগায় পরিবারের সদস্যরা কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। তাদের বাড়ির দুই ভাই অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি সবকিছু প্রায় পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গরুর ঘরের কয়েল বা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে নিজের ধারণার কথা জানা এ কর্মকর্তা।
২৩ ঘণ্টা আগে
খুলনায় ছিনতাইকারীর গুলিতে প্রাণ গেল আরেক ছিনতাইকারীর
খুলনায় ছিনতাইয়ের সময় এক ছিনতাইকারীর ছোড়া গুলিতে অপর এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক ব্যবসায়ী।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার স্টিমারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুরের দেয়াড়া এলাকার মোবাইল রিচার্জ ও মুদি ব্যবসায়ী তাহিদুল ইসলাম (২৮) সাইকেলে চড়ে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দেয়াড়া স্টিমারঘাট-সংলগ্ন পপুলার জুট মিল এলাকায় পৌঁছালে ৩-৪ জন ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করেন। ছিনতাইকারীরা তাহিদুলের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের বাধা দেন তাহিদুল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা গুলি ছোড়েন। এতে তাদের নিজেদের এক সহযোগী সাগর গুলিবিদ্ধ হন। পরে অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সাগরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাগরের বাড়ি দিঘলিয়ার দেয়াড়া এলাকায়। এ ঘটনায় আহত তাহিদুল বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, গুলিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহ খুমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। তবে আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
১ দিন আগে
পদ্মায় বাসডুবি: জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে বেঁচে ফিরলেন খোকসার খাইরুল
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসের যাত্রী খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬) বেঁচে ফিরেছেন। তিনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে।
নিজের জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন তিনি। বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহুর্তে কীভাবে নদীর পানিতে ছিটকে পড়লেন, তা তিনি বলতে পারছেন না, তবে নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তার হাতের মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেন। সেটি আর ফেরত পাননি তিনি।
মুঠোফোন খোয়া গেলেও বেঁচে ফিরতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল। তার দাবি, বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় বাসচালক আরমান শেখের মরদেহ উদ্ধার হলেও ঘটনার সময় চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় বেঁচে ফিরেছেন।
বুধবার দুপুর আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি কয়েক মিনিট দেরিতে খোকসা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে দুজন যাত্রী বাসটিতে ওঠে বলে জানান কাউন্টার মাস্টার। দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে বাসটি আবার যাত্রা শুরু করে।
খাইরুল ইসলাম জানান, তার আসন নম্বর ছিল বি-২। তার ঠিক পাশের ছিটে সাদা টি-শার্ট পরা যুবকটিও খোকসা স্ট্যান্ড থেকে আগেই বাসে উঠে বসেছিলেন। তাদের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার তিনি সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। এ সময় তাদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল।
তিনি বলেন, ‘এ সময় হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগে। আমি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে গিয়ে নদীর পানিতে পড়ি। এ সময় হাতেগোনা কয়েকজন বাসযাত্রী নদী সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে উঠে জীবন বাঁচিয়েছেন। তবে নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী আমার হাতের মুঠোফোনটি নিয়ে নেন। প্রথমে ভেবেছিলাম যে উনি আমাকে বাঁচানোর জন্য হাত বাড়িয়েছেন, কিন্তু তীরে ওঠার পর তাকে আর খুঁজে পাইনি।’
দুর্ঘটনার পর তার পাশের আসনের যুবকটির সঙ্গে আর দেখা হয়নি বলেও জানান তিনি।
খাইরুল আরও জানান, বাসের প্রতিটি আসনে যাত্রীতে ঠাঁসা ছিল। প্রায় প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। আসনে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়ে। বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।
খাইরুল একটি টেক্সটাইল মিলের মেশিনম্যানের চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি গিয়েছিলেন। সেদিন তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।
সৌহাদ্য পরিবহনের খোকসার কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, বি-১ ও বি-২ আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিল। তাদের একজন জীবিত ফিরেছেন। অজ্ঞাত পরিচয়ের আর এক বৃদ্ধ যাত্রীও উঠেছিল। ওই বৃদ্ধ ও বি-১ আসনের যাত্রী রাজিবের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
রাকিব বিশ্বাসের দাবি, চালককে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি চালকের আসনেই ছিলেন। বেঁচে ফেরা ফারুকের সঙ্গে তিনি কথা বলে তা নিশ্চিত হয়েছেন।
তিনি জানান, চালক আরমানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাস ফেরিতে ওঠার আগে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য নেমেছিলেন আর হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের বাড়িও রাজবাড়ী জেলায়। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনেও নিশ্চিত হতে পারেননি বলে জানান এই কাউন্টার মাস্টার।
কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি রাজবাড়ী জেলার মালিকাধীন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে বাসটি ছাড়ে। এর বেশি তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ার শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩) ও শমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার (১৩) মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।
২ দিন আগে
নড়াইলে পেট্রোল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কুয়েত প্রবাসীকে কুপিয়ে জখম
নড়াইলে পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কুয়েত প্রবাসী মো. আকাশ মোল্যাকে (২২) কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলার সমাইজপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত আকাশ মোল্যা (২২) নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের মো. জিহাদুল মোল্যার ছেলে।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে চা খাচ্ছিলেন আকাশ। এ সময় মাইজপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের ৪০ থেকে ৫০ জন এসে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চলে যান।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত আকাশকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদের পরের দিন মাইজপাড়া পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে হোসেনপুর গ্রামের কয়েকটি ছেলের সঙ্গে আকাশের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরেই তার ওপর হামলা করা হয়েছে।
আহত আকাশ মোল্যার বাবা মো. জিহাদুল মোল্যা বলেন, আমি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। ছেলেকে নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে যাচ্ছি। ছেলের অবস্থা ভালো না। তার শরীরে অসংখ্য ধারালো অস্ত্রের আঘাত। শুনেছি তার ফুসফুস ছিদ্র হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২ দিন আগে
ঝিনাইদহে বাওড়ে মাছ ধরতে নেমে 'সাপের কামড়ে' যুবকের মৃত্যু
ঝিনাইদহের মহেশপুরের নস্তি বাওড়ে মাছ ধরতে নেমে আশিক আহম্মেদ (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ে বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আশিক নওগাঁ জেলার রাণিনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের ডাকাহারপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি পুলিশের গাড়িচালক ছিলেন।
নস্তি বাওড়ের সদস্য নিত্য হালদার ও নায়েব আলী জানান, মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাকিল আহম্মেদ, কনস্টেবল মো. আরিফ হোসেন মুন্সী ও ড্রাইভার আশিক আহম্মেদ বাওড়ে মাছ ধরতে আসেন। বাওড়ে নামার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশিককে বিষধর সাপে কামড় দেয়।
তিনি আরও জানান, এ সময় তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা আশিককে মহেশপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হাবিবুর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ওই সময় হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রোগী মারা গেছেন। তবে তার পায়ে সাপে কাটার মতো ক্ষতচিহ্ন ছিল। এছাড়া তার হাতের নখগুলো নীল হয়ে গিয়েছিল। সাপেকাটা রোগীর যে ধরনের লক্ষণ থাকে, আশিকেরও সেরকম ছিল।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ঝিনাইদহ থেকে আশিকসহ চার পুলিশ সদস্য মহেশপুর থানায় আসেন গাড়ি মেরামত করতে। কাজ শেষে তারা নস্তি বাওড়ে যান। এ সময় তারা বড়শি দিয়ে মাছও ধরেন। মাছধরা শেষ করে গোসল করতে নেমে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন বাওড়ে মাছ ধরার সময় হয়তো বিষধর সাপে আশিককে দংশন করেছিল।
৪ দিন আগে
সাতক্ষীরায় ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে ছুরিকাঘাত করে পুকুরে ঝাঁপ, কৌশলে ধরল পুলিশ
সাতক্ষীরা শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অবস্থানরত এক যুবকের কাছে থাকা ব্যাগ ছিনতাইকে ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৯ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে ওই যুবককে ছুরিকাঘাত করে পাশের পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়েন ছিনতাইকারী। সঙ্গে সঙ্গে পুকুরটির চারপাশে অবস্থান নেন স্থানীয়রা। এরপর ঘণ্টাখানেক পানিতে থাকার পর খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিনতাইকারী পুকুর থেকে পাকড়াও করা হয়। এরপর ওই যুবককে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তি একটা পাক্কা চোর ও ছিনতাইকারী। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিক বা না দিক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও আটক ব্যক্তি, কারোর পরিচয় জানা যায়নি।
৪ দিন আগে
খুলনায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন
খুলনার কয়রা উপজেলায় স্বামীকে শ্বাসরোধ ও অণ্ডকোষ চেপে হত্যা করেছে স্ত্রী।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের জোড়শিং গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন স্ত্রী খুকুমনি।
নিহত ফজলু গাজী জোড়শিং গ্রামের মৃত ফকির গাজীর ছেলে ছিলেন।
স্থানীরা জানান, গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যার পর জোড়শিং গ্রামের ফজলু গাজীর (৬৬) সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী খুকুমনির কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে রাত ৯টার দিকে স্বামীর অণ্ডকোষ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান তিনি। তৎক্ষণাৎ স্থানীয়রা তাকে গ্রাম্য চিকিৎসকের নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর পাশ্ববর্তী গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা খুকুমনিকে বিয়ে করেন ফজলু গাজী।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শাহ আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারিনি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে তদন্ত ও অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
৪ দিন আগে