পরিবেশ-ও-কৃষি
ঈদের দিন সারা দেশে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করায় গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে কমবেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই ধারা আগামীকাল ঈদুল ফিতরের দিনসহ পরবর্তী কয়েকদিনও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
লঘুচাপের কারণে আজ রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় দমকা হাওয়ার প্রাবল্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হলেও আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
আগামীকালও (শনিবার) দেশজুড়ে ঝড়বৃষ্টির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
শুক্রবার (২০ মার্চ) আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত
এদিকে, আজ দুপুর আড়াইটা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দগুলোর জন্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যশোর, খুলনা, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, রাঙামাটি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
তাছাড়া ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
৫ দিন আগে
দুই বিভাগে ঝড়, আগামী ৫ দিন সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস
লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, আর মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে। এর ফলে গত দুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা আরও অন্তত পাঁচ দিন চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।
সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি। এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পরের চার দিন, অর্থাৎ রবি, সোম, মঙ্গল ও বুধবারও বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আহওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রবি ও সোমবার সারা দেশের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও মঙ্গলবার থেকে তা আবার বাড়তে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এই পাঁচ দিনের শেষের দিকে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেটে। এছাড়া শ্রীমঙ্গলে ৪১ মিলিমিটার এবং ঢাকায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে। এছাড়া সর্বোচ্চ ৩৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল যশোরে এবং সর্বনিম্ন ১৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায়।
দুই বিভাগে ঝড়ের সম্ভাবনা
আজ (শনিবার) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
১১ দিন আগে
বসন্ত পড়তেই বৃষ্টিতে ভিজল ঢাকা
বর্ষা শেষ হয়ে শরৎ, হেমন্ত পেরিয়ে শীত; দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুম শেষ হয়ে বসন্ত এসেছে কয়েকদিন হলো। এর মধ্যেই বৃষ্টির আগমনে প্রাণ সঞ্চার হলো প্রকৃতিতে।
সোমবার (২ মার্চ) সকাল থেকেই আকাশে ছিল মেঘের আনাগোনা। সূর্যের দেখা তেমনভাবে মিলছিল না। এরপর দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই নামে বৃষ্টি।
বিকেল সাড়ে ৩টার পরপরই ঝুপ করে শুরু হয় বৃষ্টি। তার সঙ্গে ছিল ঝড়ো হাওয়া। সব মিলিয়ে শুষ্ক ধুলায় ঢাকা রাজধানীতে স্বস্তির পরশ নিয়ে এসেছে এই বৃষ্টি।
অবশ্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসও বলছিল একই সম্ভাবনার কথা। আজ দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় ঢাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এর প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বৃষ্টির এই পূর্বাভাস আগামীকালও দেশের চার বিভাগে অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলেছে, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
২৩ দিন আগে
ভূমিকম্পে আবারও কাঁপল দেশ, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪।
বিএমডির আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়।
ইউরোপীয়-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল খুলনা জেলা শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সাতক্ষীরা থেকে ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইউএনবির খুলনা প্রতিনিধি জানান, বেলা ১টা ৫২ মিনিটের দিকে খুলনা এবং সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলাতেও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল মাঝারি।
সাতক্ষীরায় কম্পন অনুভূত হওয়ার পর আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা, সিলেট ও আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইএমএসসি জানায়, রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে অনুভূত ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ১।
এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আরেকটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানায়, ওই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৬।
২৬ দিন আগে
সিলেটে ভূমিকম্প, উৎপত্তি ছাতকে
সিলেটে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
ইএমএসসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। আর মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উত্তপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৮১ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জের ছাতকে।
জানা গেছে, সিলেট নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানান, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১ এবং এর গভীরতা স্বল্পমাত্রার হওয়ায় আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে।
৩৪ দিন আগে
ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা
দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরা। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১ ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র সাতক্ষীরার কলারোয়া। কেন্দ্র থেকে এর গভীরতা ১৫০ কিলোমিটার।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
৫০ দিন আগে
অকারণে হর্ন বাজানো আমাদের বদভ্যাস, এটি পরিবর্তন করতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘শব্দদূষণ কমানোর দায়িত্ব আমাদের সবার। শুধু সরকারের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। অকারণে হর্ন বাজানো আমাদের বদভ্যাস। এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।’
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিমানবন্দর এলাকায় ‘ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা উত্তরা সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) সমন্বিত অভিযানে হর্নের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আয়োজিত সমাবেশে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা শুধু হর্নের ওপর জোর দিচ্ছি। কোনো অজুহাতেই হর্ন বাজানো যাবে না। তিনি বলেন, অন্যান্য আইন ভঙ্গ করলে আধুনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পুলিশ যেভাবে গাড়ির ব্যাপারে দণ্ড আরোপ করে, একইভাবে হর্নের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, ইতোমধ্যে ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-হয়েছে। পুলিশকেও এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃপক্ষ বেশকিছু তরুণকে এ কাজে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা এখন আনুষ্ঠানিক ট্রাফিক পুলিশের অংশ। সিভিল এভিয়েশন বিমানবন্দরের ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বন্ধে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে। বিমানবন্দর এলাকা হর্নমুক্ত করে সকলে একটা উদাহরণ তৈরি করতে পারি।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আহ্বান জানিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা জানান, উচ্চশব্দের কারণে ঢাকা শহরে শতকরা ৬৫ ভাগ চালক কানে কম শুনেন। একটা বাচ্চা যখন স্কুলে যায় হর্নের আওয়াজ তার জন্য খুবই অস্বস্তিকর। জাতিগতভাবে আমাদের সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে। উপদেষ্টা জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাদের স্বপ্রণোদিত হয়ে, নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে যে বিধিমালাটি করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রমুখ।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এছাড়া, পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, বিআরটিএ, ডিএনসিসি ও সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৫৯ দিন আগে
হাওর ও জলাভূমি দখল-দূষণে ২ বছরের জেল, অধ্যাদেশ জারি
দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে জারি করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬।’
এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জলাভূমি দখল, ভরাট এবং পরিবেশের ক্ষতিসাধনকারীদের জন্য জেল ও মোটা অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
অধিদপ্তরের নতুন ক্ষমতা ও মহাপরিকল্পনা
নতুন এই আইনের আওতায় হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরকে সুনির্দিষ্ট কার্যাবলী বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের তালিকার ভিত্তিতে সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে। ‘মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়ন করবে, যা জলাভূমির সুরক্ষা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এখন থেকে হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকার চাইলে বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজনে যেকোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
অপরাধ ও দণ্ড
নতুন এই অধ্যাদেশে হাওর ও জলাভূমি রক্ষায় অপরাধের ধরনভেদে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে, যারা অবৈধভাবে হাওর ও কান্দার জমি দখল, ভরাট, অননুমোদিত খনন কিংবা জলাভূমির পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করবেন, তাদের জন্য অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সাজা কার্যকর হবে যদি কেউ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মাটি, বালু, পাথর বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করেন।
মৎস্য ও জলজ প্রাণী রক্ষায়ও সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। নিষিদ্ধ জাল, বিষটোপ বা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরা এবং হাওর এলাকার পরিযায়ী পাখি শিকার বা জলাবন ধ্বংস করলে অপরাধীকে ২ বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
এছাড়া, যদি মাছের প্রজনন বিঘ্নিত হয় এমনভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করা হয়, তবে তার জন্য ১ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
পরিবেশ দূষণ রোধে এই আইনে বলা হয়েছে, যদি কেউ এমন কোনো কাজ করেন যার ফলে হাওরের পানি ও মাটি দূষিত হয়, তবে তাকে ২ বছরের কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হবে।
এ ছাড়াও, অধিদপ্তরের জারি করা কোনো বিশেষ সুরক্ষা আদেশ বা নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে এবং সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত জায়গায় বিধিনিষেধ অমান্য করলেও দোষী ব্যক্তিকে ২ বছরের জেল ও ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে।
যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কারণে জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়, তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সেই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা আদায়ের নির্দেশ দিতে পারবেন। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিতে পারবেন, যা পালন করা বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর ও জলাশয়গুলোর জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য কমবে।
৬৯ দিন আগে
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন: রিজওয়ানা হাসান
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং বন ও নদী রক্ষায় কাজের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের বিরাজমান সমস্যাগুলো সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকার আইনের সংশোধন ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন সংস্কার গ্রহণ করেছে। সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, শিল্প ও গৃহস্থালি দূষণ, লবণাক্ততা ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ হ্রাস মোকাবিলায় গুরুত্ব দিচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, ২০০২ সাল থেকে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এটি কার্যকর করা যায়নি। কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যবহার হলেও সুপারশপে তা অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা করা হয়েছে। এতে পুলিশকে জরিমানা ও শাস্তির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও শব্দ দূষণ প্রতিরোধে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ঢাকার পাঁচটি নদী- বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ ও ধলেশ্বরী এবং দেশের আট বিভাগের আটটি গুরুত্বপূর্ণ নদী নিয়ে পৃথক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব নদী থেকে বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কাজগুলো শুরু করে দিয়ে যেতে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন)-এর আয়োজনে ৯ ও ১০ জানুয়ারি জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাপা সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফিরোজ আহমদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপা সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।
৭৫ দিন আগে
তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে লোকসানের আশঙ্কায় নড়াইলের মধুচাষিরা
বেশ কিছুদিন ধরেই নড়াইলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে ঘন কুয়াশা। এতে মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে জেলায় মধু চাষে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মধুচাষিরা জানান, দিনের বেলাতেও কুয়াশা থাকায় মৌমাছি বাক্স থেকে বের হচ্ছে না। ফলে বাইরে থেকে মধু সংগ্রহ বন্ধ হয়ে গেছে। উল্টো আগে থেকে সংগ্রহ করা মধু মৌমাছিরাই খেয়ে ফেলছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে লোকসান আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
সরেজমিন নড়াইল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিলে গিয়ে দেখা গেছে, সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য শত শত মধুর বাক্স বসানো রয়েছে। তবে বাক্সগুলোর বাইরে মৌমাছির তেমন আনাগোনা নেই।
মধুচাষি মো. শম্পি সরদার বলেন, ‘দিনে কুয়াশা থাকায় বাক্সগুলো থেকে মৌমাছি বের হচ্ছে না। বেশি মধু সংগ্রহের জন্য রাতে কুয়াশা আর দিনে রোদ দরকার। কিন্তু এখন দিনে কুয়াশা থাকায় মধু সংগ্রহ কমে গেছে।’
আরেক খামারি মো. ইনামুল হক বলেন, ‘দিনে কুয়াশা থাকায় খামারের মৌমাছি বাক্স থেকে বের হয় না। বের হলেও খুব অল্পসংখ্যক বের হয়। এতে করে মৌমাছিরা জমিয়ে রাখা মধু খেয়ে ফেলছে। এ বছর অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে অনেক মৌমাছিও মারা যাচ্ছে।’
মধুচাষি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছর মধু উৎপাদন কম হবে বলে মনে হচ্ছে। সামনে যদি আবহাওয়া অনুকূল হয়, তাহলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তা না হলে উৎপাদন আরও কমে যাবে।’
নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আরিফুর রহমান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মধু উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে তাঁরা আশা করছেন, এ বছর ১০ মেট্রিক টন বা তার বেশি মধু উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, মধুচাষিদের খাঁটি মধু উৎপাদনে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
৭৬ দিন আগে