ময়মনসিংহ
নেত্রকোণায় ফাঁকা গুলির পর তাঁতী দল নেতাকে খুঁজছে পুলিশ
নেত্রকোণার পূর্বধলায় ব্যস্ত বাজারে পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা তাঁতী দলের সহ-সম্পাদক ও খলিশাউড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাজী সিদ্দিকের বিরুদ্ধে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ওসি মামুন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তলের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গুলির ঘটনায় আবু বকর সিদ্দিকের নাম এসেছে। তার নামে কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স নেই। অস্ত্র উদ্ধার ও তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই তাকে আটক করা সম্ভব হবে।
৬ দিন আগে
ময়মনসিংহে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে দুবৃর্ত্তদের আগুন
ময়মনসিংহে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সৌখিন পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টা দিকে নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একটি বাসে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে দুবৃর্ত্তরা আগুন দিয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, মাসকান্দা এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা জানতে বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জব্দ করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে এবং ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৭ দিন আগে
ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত ২, আহত অন্তত ১০
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাসের চাপায় ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাজির সিমলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাস কাজির সিমলা এলাকায় পৌঁছালে প্রথমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাহেন্দ্রকে চাপা দেয়। পরে বাসটি একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে মাহেন্দ্র ও অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়।
এতে তিনটি পরিবহনের অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা গেলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৯ দিন আগে
ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগের তদন্ত কমিটি বাতিল করে ছয় সদস্যের নতুন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম ইকবাল হোসেইন।
হাসপাতালে পৌঁছে তিনি কনফারেন্স রুমে এক বৈঠকে অংশ নেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এ সময় হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম, ড্যাবের জেলা সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের বিষয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সহসভাপতিকে অবহিত করা হয়।
এদিকে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। পরে সেটি বাতিল করে বুধবার আগের কমিটির দুই সদস্যকে বাদ দিয়ে নতুন দুই সদস্য যুক্ত করে ছয় সদস্যের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
নতুন কমিটির প্রধান করা হয়েছে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমান ভূইয়াকে। সহকারী পরিচালক ডা. মাইন উদ্দিন খানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডেন্টাল সার্জন ডা. খন্দকার মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায় এবং ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি।
উপপরিচালক জানান, আগের পাঁচ সদস্যের কমিটিতে গণপূর্ত বিভাগের দুজন সদস্য ছিলেন। বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ওঠায় পুনর্গঠিত কমিটিতে গণপূর্ত বিভাগের কাউকে রাখা হয়নি।
কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদঘাটন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থাকলে তা চিহ্নিত করে সুপারিশ দেওয়া এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পদদলিত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। যারা মারা গেছেন, তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
১১ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় পদদলিত হয়ে ৬ মৃত্যুর খবর সত্য নয়: বিভাগীয় কমিশনার
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের সময় ‘পদদলিত হয়ে’ ৬ জনের মৃত্যুর যে তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে, তা সত্য নয় বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
গতরাতে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছিলেন, এ ঘটনায় হাসপাতালে থাকা রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদরের ৩টি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) থেকে একটি ইউনিটসহ মোট ৪টি ইউনিট আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
আগুনে মমেক হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকে ৮ তলা পর্যন্ত লিফটের সবকিছু পুড়ে যায়।
সরেজমিনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, আগুন লাগার খবরে নতুন ভবনে থাকা রোগী ও স্বজনেরা হুড়োহুড়ি করে রাস্তায় নেমে এসেছেন। সে সময় নিরাপত্তাকর্মীরা শিশু ও নারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ অনেক কর্মী ছুটাছুটি করে রাস্তায় নেমে আসেন।
আগুন লাগার খবর পেয়ে হাসপাতাল চত্ত্বরে শত শত উৎসুক জনতা ভীড় জমান এবং ভর্তিকৃত রোগী ও স্বজনদের খোঁজখবর নেন। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে সে সময় অন্তত ১০ জন আহতও হন।
গতকাল রাতে হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, আগুনে হাসপাতালের ওয়ার্ডের বা রোগীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে হাসপাতালের মেঝেতে পানি থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। সেই পরিস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রোগীদের আতঙ্কিত না হয়ে নিজ নিজ বেডে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
পরে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন তখন বলেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮) ও জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দা উপজেলার কুলসুমা (৩৫)।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুও মারা গেছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তবে মধ্যরাতের দিকে হাসপাতাল থেকে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে পদদলিত হয়ে কেউ মারা গেছেন—এমন প্রমাণ তিনি কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত পাননি। এ ধরনের কোনো প্রমাণ পেলে তিনি সেটা যাচাই করে দেখবেন।
অগ্নিকাণ্ডের বেশ কিছু সময় পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য প্রচার করছে—এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে বলা উচিত নয়। প্রকাশ করলে তাতে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
তিনি দাবি করেন, প্রকাশিত খবরে জাহানারা নামে এক নারী মৃতের তালিকায় আছেন, অথচ তিনি হাসপাতালের ১০ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে এখনও ভর্তি রয়েছেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, ইমার্জেন্সি, মর্গ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই আমরা নিশ্চিত হয়ছি, ৬ জনের মৃত্যুর খবর সত্য নয়। এতবড় একটি হাসপাতাল, প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার হাজার রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিনই এখানে বেশ কয়েকজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।’
তার বক্তব্য ধরে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ৬ জনের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছিল’ বলে জানান।
এ বিষয়ে আজ (মঙ্গলবার) ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) জাহিদুল হাসান বলেন, বিষয়টি তদন্তনাধীন আছে। কোনো কোনো গণমাধ্যম মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করলেও এটি নিয়ে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি।
‘গণমাধ্যমে আসা খবরটি অসত্য’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে আমরা কোনো মরদেহ পাইনি। হাসপাতালের ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ ও মর্গে খোঁজ নিচ্ছি এবং স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলছি। তবে এখন পর্যন্ত কনক্রিট এভিডেন্স আসেনি।’
এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অপর সদস্যরা হলেন: হাসপাতালের সহকারী পরিচালক, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও গণপূর্ত বিভাগের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী।
কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১২ দিন আগে
দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ভবন নির্মাণে বাধা নেই, রিট খারিজ
গেজেটভুক্ত ১৪৩ নম্বর নয়াবাড়ি মৌজায় নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনা ও সদর দপ্তর নির্মাণে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই। দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা গঠন ও সদর দপ্তর নির্ধারণে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি উল্লেখ করে এ বিষয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতের দেওয়া সংক্ষিপ্ত রায়ের পর এ তথ্য জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সরকার সর্বোচ্চ অথরিটি। নিকার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই এখানে কোনো গাইডলাইনের ব্যত্যয় ঘটেনি। এ কারণে আদালত পিটিশনটি ডিসচার্জ করে দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদালত সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছেন। এর ফলে উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো বাধা থাকল না। আজকের পর মোশনটি ডিসচার্জ হয়ে গেছে।’
এর আগে নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদর দপ্তর নয়াবাড়ি মৌজায় স্থাপন ও অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সদর দপ্তর স্থাপনের বিষয়ে দুই মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেন হাইকোর্ট।
পরে হাইকোর্টের দেওয়া স্থিতাবস্থার আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করা হয়। আপিলে ওই স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত চাওয়া হয়।
এবার হাইকোর্ট রিট আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় গেজেটভুক্ত ১৪৩ নম্বর নয়াবাড়ি মৌজায় দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনা ও সদর দপ্তরের অবকাঠামো নির্মাণে আর কোনো আইনি বাধা থাকল না।
১৩ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৫৫
ময়মনসিংহে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাশিদা খাতুন (৪০) ও জাফর আলী (৭০) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে চলতি বছর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ জনের মৃত্যু হলো। নতুন ৫৫ জনসহ বর্তমানে হাসপাতালে ১৩১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬টি শিশু, ৪২ জন নারী ও ৮৩ জন পুরুষ।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ৫৮ জন বাড়ি ফিরেছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ১৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এদিকে, ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলের পাশাপাশি গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসছেন।
ফলে হাসপাতালটির ডেঙ্গু আইসোলেশন ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
১৩ দিন আগে
বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন চলাচল বন্ধ
ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার গোলাবাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মালবাহী ট্রেনটি কাওরাইদ ও মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি গোলাবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঢাকাগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে ঢাকাগামী দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনটি আউলিয়া নগর স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে।
এদিকে বগিটি উদ্ধারে একটি রিলিফ ট্রেন ময়মনসিংহ থেকে রওনা হয়েছে।
১৪ দিন আগে
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত
ময়মনসিংহে ট্রাকচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে এক শিশুসহ আরও চার যাত্রী।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর আকুয়া বাইপাস মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন: সোনিয়া আক্তার (৩০) ও সাদেক আলী (২৭)। সাদেক আলী ফুলবাড়িয়া উপজেলার চৌদার গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে, আর সোনিয়ার বাড়ি একই উপজেলার জোরবাড়িয়া গ্রামে। তারা দুইজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আল আমিন জানান, দুর্ঘটনায় সোনিয়ার ছেলে সাজিদ (৬) ও অটারিকশার চালক হারুন গুরুতর আহত হয়েছে।
সাদেক আলীর এক স্বজন জানান, সাদেকের এক আত্মীয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাদেক তাকে দেখতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আকুয়া বাইপাস মোড় পৌঁছালে একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার যাত্রী সোনিয়া নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও পাঁচজন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদেক আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুসহ বাকীরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১৬ দিন আগে
নেত্রকোণায় জেলের জালে উঠল শিশুর মরদেহ
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে খালের পানিতে ডুবে আলী (১১) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিখোঁজের পর জেলেদের জালে তার মরদেহ উঠে আসে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের পানুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত আলী ওই গ্রামের আশিকুলের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা-বাবা দুজনই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন। আলী গ্রামে দাদা আবু তাহেরের কাছে থাকত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মুখ ধোয়ার জন্য বাড়ির পাশে সাপমরা খালে যায় আলী। একপর্যায়ে সে পানিতে ডুবে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জেলেরা খালে জাল ফেললে সেই জালে আলীর মরদেহ উঠে আসে।
স্থানীয়রা জানান, আলীর মৃগীরোগ ছিল। খালে নামার পর হঠাৎ ওই রোগের কারণে সে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর মিয়া বলেন, আলীর মা-বাবা ঢাকায় থাকায় সে দাদার কাছে থাকত। মুখ ধোয়ার জন্য খালে গেলে মৃগীরোগে আক্রান্ত হয়ে সে পানিতে তলিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তাই পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৭ দিন আগে