ময়মনসিংহ
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৭ মার্চ থেকে এই হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ মাস বয়সী ২ শিশু, ৩ মাস বয়সী এক শিশু ও আট মাস বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৬ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৯৪ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, নিহত চার শিশুর মধ্যে দুই শিশু ময়মনসিংহের বাসিন্দা। তার মধ্যে হালুয়াঘাটের শাপলা বাজার এলাকার চারমাস বয়সী শিশুকে ১৮ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে ফুলপুর উপজেলার পলাশকান্দা এলাকার বাসিন্দা তিনমাস বয়সী শিশুকে গতকাল সকালে ভর্তি করলে সন্ধ্যার দিকে মারা যায়।
অপর দুই শিশুর একজন নেত্রকোনার কলমাকান্দার মাইশাচর গ্রামের চারমাস বয়সী। তাকে ১৬ জুন ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও গতকাল মারা যায়। অপর আটমাস বয়সী শিশু সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার বাসিন্দা। তাকে গত ৮ জুন ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৭৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২ হাজার ২২৬ শিশু। আর মৃত্যু হয়েছে ৫৮ শিশুর।
ডা. মো. গোলাম মাওলা আরও বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের আইসিইউ এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।
১ দিন আগে
শেরপুরে উজানের পাহাড়ি ঢলে নদী উপচে বাজার প্লাবিত, চেল্লাখালি নদী বিপৎসীমার ওপরে
শেষ রাতের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ী ঢলে শেরপুরে সীমান্ত জনপদের নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি ঘটেছে। মহারশি নদীতে পানিবৃদ্ধির ফলে নদী তীর উপচে ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর বাজার প্লাবিত হয়েছে।
সোমেশ্বরী নদীর পানিবৃদ্ধিতে আয়নাপুর বাজারে প্রবেশ করেছে ঢলের পানি। এতে করে বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নালিতাবাড়ীতে চেল্লাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শেরপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, আজ (শনিবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ১২ ঘণ্টায় জেলার নালিতাবাড়ীতে ৩৫ মিলিমিটার এবং সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও পয়েন্টে সর্বোচ্চ ১৮০ মিলিমিটার ও শেরপুর সদরে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ে চেল্লাখালি নদী নালিতাবাড়ীর বাতকুচি পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ মিটার ওপর দিয়ে দিয়ে ২৩ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ঝিনাইগাতীতে মহারশি রশি নদী ২১ দশমিক ৫০ মিটার এবং শ্রীবরদীতে সোমেশ্বরি নদী ২৩ দশমিক ৬৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
শেরপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোসা. জিয়াসমীন খাতুন রুনা জানিয়েছেন, উজান থেকে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীগুলোতে পানিবৃদ্ধি ঘটেছে। আমরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। নতৃন করে বৃষ্টিপাত না হলে ঢলের পানি দ্রুত নেমে যাবে বলে আশা করছি।
১৫ দিন আগে
ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু
ময়মনসিংহে আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেন এবং একটি উদ্ধারকারী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন।
তিনি জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী 'ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস' ট্রেনের একটি বগি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ রোড লেভেল ক্রসিং এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এতে জামালপুর-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে, কেওয়াটখালী লোকোশেড থেকে আসা একটি উদ্ধারকারী ট্রেনের বগিও ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকার কাছে লাইনচ্যুত হয়, যা ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটায়।
তবে ওসি আক্তার হোসেন জানান, ময়মনসিংহ থেকে আরেকটি উদ্ধারকারী ট্রেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধার করার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
১৮ দিন আগে
ময়মনসিংহে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে ‘হত্যা’, আটক ১
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বন্ধুদের সঙ্গে জন্মদিন পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৭) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রাজিব নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গফরগাঁও পৌর শহরের শিলাসী মাজার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিয়ান রবিন গফরগাঁও পৌর এলাকার শিলাসী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি যুবলীগ নেতা তাজমুল গ্রুপের ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নাহিয়ান রবিন তার বাবার একমাত্র সন্তান। গতকাল (সোমবার) রাতে তিনি উপজেলার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বন্ধুদের নিয়ে জন্মদিন পালন করেন। অনুষ্ঠান শেষে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে বাসায় ফিরছিলেন।
বাসায় ফেরার পথে শিলাসী মাজার রোড এলাকায় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা মুখোশধারী অজ্ঞাত ৫-৬ জন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। সে সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রাজিব নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
১৯ দিন আগে
ট্রাকসহ সেতু ভেঙে নদীতে, ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কংস নদীর ওপর নির্মিত স্টিলের বেইলি সেতু পারাপারের সময় বালুবাহী একটি ট্রাকসহ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। ফলে ধোবাউড়ার সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রবিবার (৭ জুন) ভোরে গোয়াতলা এলাকায় সেতুটি ধসে ট্রাকসহ নদীতে পড়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ধোবাউড়া ও গোয়াতলা এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা বলেন, ধোবাউড়া-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের গোয়াতলা বাজার-সংলগ্ন কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বারবার জোড়াতালি দিয়ে যান চলাচল সচল রাখা হচ্ছিল। অবশেষে আজ (রবিবার) ভোর ৪টার দিকে বালুভর্তি একটি ট্রাক সেতুটি পার হওয়ার সময় সেটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালক ও সহকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
সেতুটি ভেঙে পড়ার ফলে ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিকল্প পথে যাতায়াত করতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের।
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশাররফ হোসাইন বলেন, আজ ভোর ৪টার দিকে ধোবাউড়া থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বালুভর্তি ট্রাকের চাপে গোয়াতলা কংস নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উপজেলা প্রকৌশলীকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত তিন দিন ধরে সেতুটির মেরামত কাজ চলছিল। তবে ভারী যানবাহনের চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত সেতুটি ধসে পড়ে।
২১ দিন আগে
ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ, একদিন পর মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজের একদিন পর এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বয়রা বাজার খেয়া ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের নাম মোকরামিন হাসান রাফি (২৫)। তিনি বয়রা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে এবং ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (বুধবার) বিকেল ৩টার দিকে তিন বন্ধুর সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদে গোসল করতে যান রাফি। একপর্যায়ে তারা সাঁতরে বেশি পানিতে চলে যান। এ সময় ধীরে ধীরে দুই বন্ধু সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও রাফি পানির স্রোতে পানিতে তলিয়ে যান। পরে নিজেরা খোঁজাখুজির পরও সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি করে ডুবুরি দল, কিন্তু তাতেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাত হয়ে যাওয়ার উদ্ধার কাজ স্থগিত রাখা হয়। এরপর আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আবারও ফায়ারসার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত রাফির ফুফাতো ভাই এখলাছুর রহমান বলেন, রাফি সাঁতার জানে। গোসলের একপর্যায়ে গভীর পানিতে চলে যাওয়ার পর সে পাড়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছিল, কিন্তু স্রোতের মধ্যে পড়ে শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সে। এরপর সে ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, রাফি খুব ভালো ছেলে ছিল। তার এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ (বৃস্পতিবার) জোহরের নামাজ শেষে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি। ফলে এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হবে।
২৪ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৪৩ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া এই সময়ে নতুন করে আরও ৩৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ১১৬ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ মাস ও সাড়ে ৩ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, ২২ মে কিশোরগঞ্জের পূর্ব ঝিনাইর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৪ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯মে সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
অন্যদিকে, ২৫ মে ময়মনসিংহ সদরের আকুয়া থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে সাড়ে তিন মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে ২৯ মে সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় তারও মৃত্যু হয়।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ৭০৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৪৯ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
২৯ দিন আগে
ময়মনসিংহে পিকআপ-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত
ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা বাবা ও ছেলে ছিলেন।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর অঞ্চলিক সড়কের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আলালপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— ফুলপুর উপজেলার বাঁশতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর (৩৮) ও তার চার বছরের ছেলে রোহান। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। তারা ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি ফুলপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ময়মনসিংহ-ফুলপুর সড়কের আলালপুর নামক এলাকায় পৌঁছাতেই বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশায় থাকা ও ব্যক্তি ও তার ছেলে নিহত হন।
এসআই ফরিদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করেছি। সড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
২৯ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৪১ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া এই সময়ে নতুন করে আরও ১৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৪৭ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ মাস ও ৮ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২০ মে নেত্রকোনার পূর্বধলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১৭ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ মে রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
অন্যদিকে, ১৬ মে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৮ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে করা ভর্তি হয়। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। ২৬ মে রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় তারও মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১ হাজার ৬২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩৫ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৩২ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে মমেকে আরও এক শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৩৭ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৭ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১৩ মে ময়মনসিংহ সদরের মির্জাপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১১ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২৫ মে) দুপুরে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে সোমবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে এ হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৫৯৩ টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭৯ টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ৩৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৬টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
তিনি বলেন, হাম ও আমের উপসর্গ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৩৪ দিন আগে