রাজশাহী
বগুড়ায় বিনিয়োগকারী রোডশো অনুষ্ঠিত
উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সামনে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, আধুনিক অবকাঠামো ও বিনিয়োগবান্ধব সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরতে ‘বগুড়া বিনিয়োগকারী রোডশো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত এ রোডশোতে বগুড়া অঞ্চলের প্রায় ৭৫ জন স্থানীয় বিনিয়োগকারী অংশ নেন। এছাড়া ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগের সুযোগ, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের পরিচালক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান স্বাগত বক্তব্যে দেশের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এ ধরনের আঞ্চলিক বিনিয়োগ রোডশোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান প্রশাসনিক ও মানবসম্পদ কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরিফুল ইসলাম মূল বিনিয়োগ উপস্থাপনা করেন। তিনি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত সুবিধা ও শিল্প স্থাপনের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা।
এছাড়া বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তাইয়ব জাকির ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল বক্তব্য দেন।
বক্তারা শিল্পায়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ মতিন চৌধুরী আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।
সমাপনী বক্তব্যে এ মতিন চৌধুরী রোডশোতে অংশগ্রহণকারী বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, অতিথি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগ আকর্ষণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোডশোর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলা এবং সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেড।
১৬ ঘণ্টা আগে
সংস্কারকাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও, সাপাহার হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুর্ভোগে রোগীরা
নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ মাঝপথে ফেলে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় হাসপাতালের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে বহির্বিভাগের আশপাশে মল-মূত্র ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। দুর্গন্ধে রোগী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের সংস্কারকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন। তবে কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই তিনি চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া টয়লেটের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আর সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে আউটলেট ট্যাংকির ভাঙা অংশ দিয়ে মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে হাসপাতালের বহির্বিভাগের চারপাশে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ চিকিৎসা নিতে এই হাসপাতালে আসেন। কিন্তু বহির্বিভাগের সামনে পৌঁছানোর পরই তাদের নাকে রুমাল চাপা দিতে হচ্ছে। টিকিট কাটা থেকে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা—পুরো সময়ই তাদের দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
হাসান আলী নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার এক আত্মীয়কে দেখতে হাসপাতালে এসেছিলাম। এসে দেখি টয়লেটের দুর্গন্ধ পুরো চত্বরে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে মানুষ সুস্থ হতে আসে, সেখানে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার জোগাড় হয়েছে! দ্রুত এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান করা দরকার।’
আরেক রোগীর স্বজন সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে মানুষ আসে একটু স্বস্তি পেতে, কিন্তু এখানে এসে দেখছি উল্টো ভোগান্তি। টয়লেটের মল-মূত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। কর্তৃপক্ষের কি এদিকে কোনো নজরই নেই?’
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মোস্তফা কামাল বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এমনিতেই কষ্টকর, তার ওপর এই পচা গন্ধের চোটে এখানে এক মুহূর্তও টিকতে পারছি না। ডাক্তার দেখানোর আগেই বমি আসার মতো অবস্থা তৈরি হয়ে গেছে।’
কাজ ফেলে যাওয়ার বিষয়ে জানতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাশিদ নায়ীব সিজান বলেন, ‘শুধু রোগ নির্ণয় বা ওষুধ লিখে দেওয়াই চিকিৎসা নয়; সবার সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ঠিকাদারের এ ধরনের অসমাপ্ত কাজ চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেবার মানের সঙ্গে কোনো আপস করতে চাই না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘রোগী ও স্বজনদের সীমাহীন দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এই সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আমরা একাধিকবার লিখিত অনুরোধ জানিয়েছি।’
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কারকাজ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই), রাজশাহী থেকে করা হচ্ছে। কোনো কারণ ছাড়াই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে রেখেছে। ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় রোগীসহ সেবা গ্রহীতারা চরম দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছে বলে জানান তিনি।
ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী নওরোজ মোহাম্মদ তারেকের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানিয়েছেন, পুরোনো ঠিকাদারকে দিয়ে হোক অথবা নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করেই হোক, অতি দ্রুত বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
কেন ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখে চলে গেছেন এবং কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে—এ বিষয়ে জানতে শুক্রবার নওরোজ মোহাম্মদ তারেকের মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
১ দিন আগে
বগুড়ায় মাইক্রোবাসে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাইক্রোবাসে ভুট্টাবাহী ট্রাকের ধাক্কায় দুজন নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের ফারুক মন্ডলের ছেলে ও মাইক্রোবাসচালক ফেরদৌস মন্ডল (২৫) এবং একই উপজেলার বারইল গ্রামের হাসের আলীর ছেলে জুবায়েদুল ইসলাম (৩০)।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশফেরত স্বজনকে নিয়ে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ফিরছিলেন সাতজন।
ভোর ৪টার দিকে মাইক্রোবাসটি নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে সেটি ভুল করে মহাসড়কের বিপরীত লেনে চলে যায়। এ সময় ভুট্টাবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির ধাক্কা লাগে। এতে মাইক্রোবাসচালক ফেরদৌস মন্ডল ও যাত্রী জুবায়েদুল ইসলাম দুর্ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এছাড়া আহত সাতজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
২ দিন আগে
নওগাঁয় পুকুর থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
নওগাঁর নিয়ামতপুরে পুকুর থেকে মহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছাতড়া গরুর হাটের পূর্ব পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মহিদুল ইসলাম উপজেলার ছাতড়া নিস্তানী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভাঙারি (পুরাতন লোহা, প্লাস্টিক ও অব্যবহৃত জিনিসপত্র) কেনাবেচার ব্যবসা করতেন।
স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যার পর থেকে মহিদুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা রাতে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরে আজ (মঙ্গলবার) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ছাতড়া গরুর হাটের পূর্ব পাশের একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন। তারা সঙ্গে সঙ্গে নিয়ামতপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ব্যাপারে নিয়ামতপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
৪ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬ চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক ১
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ছয়টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ইদুল আলী নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলার পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এ তথ্য জানান।
আটক ইদুল আলী শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ (মঙ্গলবার) ভোরে শিবগঞ্জ থানার একদল পুলিশ কালিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ইদুল আলীকে আটক করা হয়। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও চার থেকে পাঁচজন সহযোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ধরতে কাজ করছে পুলিশ ।
৪ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাটিতে পুঁতে রাখা ১১ ককটেল উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন ঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১১টি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারের সময় একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। তবে এতে কেউ হতাহতের হয়নি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের ঘোড়াস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরামুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি ইকরামুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ককটেল মজুতের খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১১টি ককটেল উদ্ধার করে। এ সময় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় থানায় আপাতত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে।
৫ দিন আগে
জয়পুরহাটে গৃহবধূ হত্যা মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম ওরফে সাজু হত্যা মামলার দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এর বিচারক হাসিবুল হক এ রায় দেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জয়পুরহাট পৌর শহরের খঞ্জনপুর এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (২৮) ও একই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে রাব্বী হোসেন (২৭)।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট-সংলগ্ন জানিয়ার বাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় গৃহবধূ সাজেদাকে হত্যা করা হয়। পরে হাত বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী সাজেদা ওই বাসায় মেয়ে আরিফাকে নিয়ে থাকতেন। তার স্বামী হাফিজুল ইসলাম জেলার বাইরে চাকরি করতেন। সাজেদার মেয়ে যে স্কুলে পড়াশোনা করত, ওই স্কুলের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন আবু সাঈদ। স্কুলে যাওয়া-আসার সূত্রে সাজেদার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই সম্পর্কের জেরে আবু সাঈদ ও রাব্বী হোসেন সাজেদাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা সাজেদার মুখে কসটেপ লাগিয়ে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘটনার দুই দিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ আবু সাঈদ ও রাব্বী হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউর রহমান ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ (সোমবার) দুপুরে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
৫ দিন আগে
বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত, আহত ৬
বগুড়ায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।
প্রথম দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতনামা একটি বাসের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন। পরে ওই দুর্ঘটনায় নিহত দুজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির ধাক্কায় আরও এক নারী নিহত হন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়া সদরের ঠ্যাংগামারা এলাকায় টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দুজন হলেন: বগুড়ার কাহালু উপজেলার রামপুর এলাকার শফিকুল ইসলাম (৪৫) ও আরাফাত হোসেন (১৬)। আরাফাতের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি শফিকুলের স্বজন।
কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রইচ উদ্দিন জানান, সকালে পাঁচজনকে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিল। হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শফিকুল ইসলাম ও আরাফাত নিহত ও তিনজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত দুজনের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, প্রথম দুর্ঘটনায় নিহত শফিকুল ও আরাফাতের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বগুড়ার রানীরহাট এলাকায় অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ি মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মোছা. খাদিজা খাতুন (৫২) নিহত হন। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার বানদীঘী এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
কুন্দার হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো. সাগর আলী বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন শনাক্তে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।
৫ দিন আগে
নওগাঁয় আওয়ামীপন্থি অধ্যক্ষের হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, মোটরসাইকেলে আগুন
নওগাঁর রাণীনগরে ৫ আগস্টের পর বরখাস্ত হওয়া আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিএম মাসুদ রানা জুয়েল হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা মারধর করে তার এক হাত এবং দুই পা ভেঙে দিয়েছে। এছাড়া, তার মোটরসাইকেলেও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ঘটনাটি ঘটে।
হামলার পর মাসুদ রানা জুয়েলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের বাসিন্দা।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ জানান, মহাবিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এমন অভিযোগে বেশ কয়েকজন ভুক্তযোগী গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে এবং ৫ আগস্টের পর মহাবিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েলকে প্রায় দুই বছর আগে পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে দীর্ঘ দুই বছর পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পূর্নবহালের আদেশ পান।
আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসানের আদেশে গতকাল (রবিবার) মাসুদ রানা আবার মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে আসেন বলে জানান অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ।
তিনি আরও জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাসুদ রানা অফিসকক্ষে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক এসে সেখান থেকে মাসুদ রানাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করে এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পরে গুরুতর আহত মাসুদ রানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হামলাকারী কারা ছিলেন তা বলতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
হামলার শিকার মাসুদ রানার ভাই প্রিন্স আহম্মেদ বলেন, আমার ভাই কলেজে যোগদান করতে গেলে বেশ কিছু লোকজন তার সঙ্গে আমাকেও বেধড়ক মারধর করে। তাদের মারধরে ভাইয়ের এক হাত এবং দুই পা ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউএনও মো. রাকিবুল হাসান বলেন, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ছিলাম। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিকট থেকে মারধরের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং মোটরসাইকেলে আগুন ধরে দেওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, আজ (সোমবার) সকালে হামলার শিকার মাসুদ রানা জুয়েলের স্ত্রী রানীনগর শের ই বাংলা কলেজের প্রভাষক রোকসানা পারভিন জানান, নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামীর অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রাতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
৫ দিন আগে
নাটোরে ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ১
নাটোর সদর উপজেলার নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সচালক স্বপন চন্দ্র (৩২) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার চাঁদপুর এলাকায় নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত স্বপন চন্দ্র বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর এলাকার গোবর জৈনের ছেলে।
পবা হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হায়দার আলী জানান, আজ (সোমবার) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নামিয়ে চালক স্বপন অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নাটোর সদরের চাঁদপুর এলাকায় বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন চালক স্বপন।
খবর পেয়ে পবা হাইওয়ে থানা পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার অভিযান চালায় এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এএসআই হায়দার আলী।
৫ দিন আগে