সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। তাদের বয়স ছিল পাঁচ থেকে সাত মাসের মধ্যে।
মৃত শিশুরা হলো— সিলেট মহানগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আবদুল মুমিনের ছেলে মাহাদি হাসান (৫ মাস), সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সুন্নাহ মিয়ার ছেলে মুসতাকিন (৬ মাস) এবং সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সুরেশনগর এলাকার জাকারিয়ার মেয়ে জারা (৭ মাস)।
সর্বশেষ এই তিন শিশুসহ সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে একজন হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেটে ল্যাব টেস্টের সীমিত সুযোগ থাকায় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রাথমিকভাবে হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৯ শিশু, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শিশু এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৮ শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ শিশু এবং ফেঞ্চুগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে ভর্তি হয়েছে।
আজ (শুক্রবার) সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৪১ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১০৪ শিশু শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৮ শিশু, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ শিশু, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ শিশু, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ শিশু, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ শিশু এবং সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এছাড়া, বাহুবল ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন করে, আজমিরিগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন করে চিকিৎসা নিচ্ছে। আরও কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন করে এবং কিছু স্থানে একজন করে রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভাগজুড়ে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাড়ে ১২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশের বেশি। আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।