সিলেট
যশোর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯-এর অভিযানে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে (২০) সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করেছে র্যাব।
সোমবার (৩ আগস্ট) র্যাব-৯ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ ইফাদ (২০) হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার উত্তর বাজার এলাকার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, অপহৃত ছাত্রী যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন চণ্ডীপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রায় এক বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে অভিযুক্ত ইফাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৭ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তারা জানতে পারেন, স্কুলে যাওয়ার পথে চণ্ডীপুর মাদরাসা মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আব্দুল্লাহ ইফাদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে যশোরের বাঘারপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পর থেকেই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গত ২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে সিলেট নগরীর শাহজালাল মাজার গেইট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ ইফাদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত ওই স্কুলছাত্রীকেও উদ্ধার করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামি এবং উদ্ধার ভুক্তভোগীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
১ দিন আগে
কুশিয়ারা নদীর তলদেশে জমছে বিষাক্ত ধাতু, ঝুঁকিতে স্থানীয় জনজীবন
বিষাক্ত ভারী ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রাণ কুশিয়ারা নদীর তলদেশ। ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার গভীরতার পলি মাটিতেও প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্যাডমিয়াম-সিসার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পরিবেশবিদদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এর প্রভাবে স্থানীয় পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের এক গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণার জন্য কুশিয়ারা নদীর ৯টি জনবহুল পয়েন্ট থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব স্থানের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি পলি মাটিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। গড়ে এই সংখ্যা ২ হাজার ৮০০টি।
গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনায় নদীর তলদেশের ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীরতায়ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের পাশাপাশি নদীর তলদেশে ক্রোমিয়াম, নিকেল, কপার, সিসা এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া উচ্চমাত্রায় ধরা পড়েছে। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবার হিসেবে গ্রহণ করছে। এর ফলে বিষাক্ত ভারী ধাতুগুলো মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, যা ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
জানা গেছে, বিয়ানীবাজারের নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে প্রচুর বর্জ্য পড়ছে কুশিয়ারা নদীতে। বিভিন্ন খাল-নালা থেকেও নদীতে মিশছে বর্জ্য। ফলে দিন দিন বিষাক্ত ধাতুতে ভারী হয়ে উঠছে নদীর তলদেশ।
পরিবেশগত ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, এই নদীর পলিতে দূষণের মাত্রা ‘অত্যন্ত উচ্চ’ বা ‘ক্লাস ভি’ পর্যায়ের। ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের আধিক্য নদীটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য এবং সরাসরি নর্দমার সংযোগ নদীর স্বাস্থ্যকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই নদীর স্বাভাবিক বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে উপজেলার বৈরাগীবাজার এলাকার মৎস্যজীবী জাবেদ বলেন, ‘দিন দিন নদীর মাছ কমছে। পানি ভালো না। জাল নিয়ে নদীতে এলে মাছ পেতাম। এখন আর সেই অবস্থা নেই। বেঁচে থাকাই কষ্ট।’
বিয়ানীবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, কুশিয়ারা নদীতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য বাধাহীনভাবে পড়ছে। তিনি এ অবস্থা থেকে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে উল্লেখ করে বলেন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদীর দূষণমুক্ত ও অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে আমাদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসাইন খান জানান, কুশিয়ারা নদীর স্রোতের বেগ হ্রাস পাওয়ায় ক্ষয়সাধন ও পরিবহন ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে গভীরতাও কমেছে। নদীর আবর্জনা সরিয়ে ফেলতে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর সবচেয়ে বেশী দরকার নদী তীরবর্তী মানুষের সচেতনতা। তিনি বলেন, এখন থেকে নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।
২ দিন আগে
বাধা পেয়ে কানাইঘাটে না গিয়ে সার্কিট হাউজে উঠেছেন এনসিপির নেতারা
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় এনসিপির গাড়িবহরে একাধিক জায়গায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর কানাইঘাট উপজেলার পদযাত্রা কর্মসূচিতে না গিয়ে সরাসরি সিলেট সার্কিট হাউজে চলে গিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তারা সিলেট সার্কিট হাউজে পৌঁছান।
তবে কানাইঘাট উপজেলায় পদযাত্রা কর্মসূচিতে তারা যাবেন কি না, সে ব্যাপারে এনসিপির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, কানাইঘাট উপজেলায় বিকেল ৩টা থেকেই পদযাত্রা কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান এনসিপির কানাইঘাট উপজেলার দায়িত্বশীল বোরহান উদ্দিন ইউসুফ।
তিনি বলেন, গোলাপগঞ্জে হামলা হয়েছে শুনেছি। আমাদের অনুষ্ঠান এখনও স্থগিত করা হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন কি না, এ ব্যাপারেও জানানো হয়নি। আমরা জানি, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা আসবেন।
এর আগে, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জ উপজেলায় প্রবেশ করলেই ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন স্থানীয়রা। একইভাবে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময়ও ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা গেইটস্থ নূর ম্যানশনের সামনে এনসিপির গাড়িবহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর আবার এনসিপির গাড়িবহর হেতিমগঞ্জের পাঁচ মাইল এলাকায় পৌঁছালে সেখানেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। তবে এ সময় কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এনসিপির দাবি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন।
তবে যারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছেন তাদের মধ্য থেকে কাউকে কোনো দলের স্লোগান দিতে শোনা যায়নি।
৫ দিন আগে
সিলেটে পার্কিং করা ট্রাকের পেছনে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত ২
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় মহাসড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জাতুয়া গ্রামের মুসাব্বির মিয়ার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— দোয়ারাবাজার উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী (৫০) এবং ছাতক উপজেলার জটি গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর উদ্দিন (৩৫)।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেটগামী লেনে একটি ট্রাক রাস্তার পাশে পার্কিং করে রাখা ছিল। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় সিএনজির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত হন। সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে জয়কলস হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহিরুল ইসলাম ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশাটি জব্দ করে জয়কলস হাইওয়ে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এসআই (নিরস্ত্র) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করি। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হলেও পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, মহাসড়কে দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন পার্কিং করে রাখার প্রবণতা এবং অতিরিক্ত গতিতে যান চলাচলের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
৫ দিন আগে
সিলেটে দুই দফায় সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা
সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমের গাড়িবহরে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জে এবং পরে ৩টার দিকে উপজেলার পাঁচ মাইল বাজারে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা ‘বিএনপির সন্ত্রাসী’ বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
তিনি জানান, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে এনসিপির নেতাকর্মীরা শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষ করে কানাইঘাটের উদ্দেশে রওনা দেন। অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা ফটকের নূর ম্যানশনের সামনে পৌঁছালে তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়।
সে সময় এনসিপির গাড়িবহর ঘিরে একদল যুবক ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও দিয়েছেন। তারাও ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পর সারজিস আলম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। তারা গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
এর ১৫ মিনিট পরে গাড়িবহরটি পাঁচ মাইল বাজারে পৌঁছালে সেখানে আরেকদফা হামলার কবলে পড়ে। এ বিষয়ে পরে আরেকটি স্ট্যাটাসে সারজিস লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আলম। তিনি জানান, নির্ধারিত এক বাসায় দুপুরের খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে এনসিপির গাড়িবহর পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় পৌঁছালে হামলার মুখে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতনিবিনিময় করতে গতকাল (বুধবার) দুপুরে গোলাপগঞ্জে যান এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। তার আগেই গোলাপগঞ্জ চৌমহনী এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। সারজিস আলমদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছালে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এরপর এনসিপি নেতারা গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে শহিদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে পৌরসভা অডিটরিয়াম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও সারজিস আলমদের গাড়ি ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ স্লোগান দেন। এ সময় গাড়ির দিকে কয়েকজন তেড়ে গিয়ে একটি গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা শুরু করে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে এনসিপির গাড়িবহর নিরাপদে চলে যেতে সহযোগিতা করে।
তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছবেদ আলী। তিনি বলেন, এনসিপি নেতারা নিরাপদে গোলাপগঞ্জ ছেড়ে গেছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। এর প্রতিবাদে গতকাল (বুধবার) হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও মৌলভীবাজার থেকে সেখানে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল ও বাহুবল এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর।
৫ দিন আগে
সিলেটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় একটি গ্যাস সিলিন্ডার গুদামে লোড-আনলোডের সময় গ্যাস লিকেজ থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে দক্ষিণ সুরমা থানার খিদিরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন— দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা এলাকার ইমন আহমদ, জায়েদ আহমদ ও আকবর আলী।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, গুদামে গ্যাস সিলিন্ডার লোড-আনলোডের সময় একটি সিলিন্ডারে গ্যাস লিকেজ দেখা দেয়। একপর্যায়ে সেটি বিস্ফোরিত হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে কর্মরত তিন শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা আলমপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ফায়ার ফাইটার শাহজালাল বলেন, সিলেট-সুনামগঞ্জ বাইপাস সড়কের পাশে একটি গ্যাস সিলিন্ডার গুদামে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেটে চা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির বিতর্কিত গেজেট বাতিল, ভূমির মালিকানা প্রদান এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সিলেটের চা শ্রমিকরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে সিলেটের খাদিম চা বাগানে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ চলাকালে শ্রমিকরা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন এবং সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন।
চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সবুজ তাঁতীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উপদেষ্টা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক, বুরজান চা-কারখানার শ্রমিকনেতা সুশান্ত চাষা প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সঙ্গে চা শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি কাঠামো অত্যন্ত অমানবিক। প্রতি বছর মাত্র ৮ টাকা করে মূল্য বৃদ্ধি চা শ্রমিকদের সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন ও তামাশা। বর্তমানে নির্ধারিত দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বেঁচে থাকার জন্য সম্মানজনক ন্যায্য মজুরি আজ দেশের প্রতিটি চা শ্রমিকের প্রাণের দাবি।
ভূমির অধিকার বিষয়ে বক্তারা আরও বলেন, এই ভূখণ্ডে চা শ্রমিকদের বসবাসের ২০০ বছর হতে চলল। অথচ, আজও তারা ভূমিহীন। ভূমির নিজস্ব মালিকানা না থাকায় সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ তার বক্তব্যে বলেন, চা শ্রমিকরা আজও চরম রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও এই জনগোষ্ঠী আধুনিক দাসত্বের জীবনযাপন করছেন। দেশের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষ হয়েও তারা সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করেন। দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি আদায়ের জন্য সব বাগানের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সবুজ তাঁতী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজকে আমরা স্বল্প সময়ের জন্য রাজপথে নেমে সড়ক ছেড়ে দিলেও সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি, পরবর্তী কর্মসূচিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আর রাজপথ ছাড়ব না।
এর আগে, খাদিম চা বাগানের লোহার পুল এলাকা থেকে একটি বিশালাকার বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে চা শ্রমিকরা সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
১০ দিন আগে
সিলেটে ১৪ বছর পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
সিলেটে প্রায় ১৪ বছর ধরে পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে থাকা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গোয়াইনঘাট থানার হরুখেল এলাকার খাটারীগাংয়ে পাথর শ্রমিক আব্দুল জলিলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় হত্যা মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এজাহারভুক্ত আসামি জৈন্তাপুর উপজেলার জীবন বক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার পর থেকেই জীবন বক্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে ‘মো. আল-আমিন’ নামে নতুন পরিচয় গ্রহণ করেন। এমনকি ভোটার তালিকায়ও নাম পরিবর্তন করে বাঘছড়া চা বাগান এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের কারণে দীর্ঘদিন তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সার্বিক দিকনির্দেশনায় গতকাল (বুধবার) দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে এসআই (নিরস্ত্র) সজল দাস ফোর্সসহ বাঘছড়া চা বাগান এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন এবং জীবন বক্তার ওরফে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
গ্রেপ্তার আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ তথ্য নিশ্চিত করে ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, আইনের হাত থেকে কেউ চিরদিন পালিয়ে থাকতে পারে না। পরিচয় পরিবর্তন করে দীর্ঘ ১৪ বছর আত্মগোপনে থাকলেও পুলিশের ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জৈন্তাপুর মডেল থানা অপরাধ দমনে এবং সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
১২ দিন আগে
সিলেটে আদলত চত্বরে হত্যা মামলার আসামির ওপর ফের হামলা
সিলেটে আদালত চত্বরে শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের ওপর আবারও হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা এ সময় জাকিরকে মারধর করেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে জাকিরকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণেই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে, ২৩ জুন একইভাবে আদালত চত্বরে জাকিরকে মারধর করেন ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার দিকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। আগে থেকেই আদালত চত্বরে অপেক্ষায় ছিলেন শিশু ফাহিমার স্বজন ও প্রতিবেশিরা। প্রিজন ভ্যান থেকে জাকিরকে আদালত ভবনে নেওয়ার সময় তারা সংঘবদ্ধ হামলা চালান। এ সময় পুলিশের হেফাজতে থাকা জাকিরকে মারধর করেন তারা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়।
তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে ফাহিমার এক চাচা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ওপর ক্ষুব্ধ। তিনি আসামিদের পক্ষে কথা বলছেন। এতে ন্যায়বিচার নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
বারবার আদালত চত্বরে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
তবে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, জাকিরকে যথেষ্ট পুলিশি পাহারার মাধ্যমেই আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়। তারপরও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে রাতে ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।
এদিকে, শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে। অভিযুক্তরা ফাহিমার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে চাচা। তাদের মধ্যে জাকিরকে ঘটনার পরই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুই দফা জাকিরদের বাড়ি ভাঙচুর করে।
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে ছিল।
হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। এর দুদিন পর গত ৮ মে ভোর ৪টার দিকে ফাহিমার মরদেহ ঘরের সামনে নুরুল হক নামের একজনের মালিকানাধীন ডোবায় ফেলে পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করেন জাকির। পরে মরদেহ ডোবার পানিতে ভেসে ওঠায় আসামি মরদেহটি পানি থেকে তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেন। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় এ ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন জাকির।
তবে, সম্প্রতি আদালতে তোলার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে জাকির অভিযোগ করেছেন, পুলিশ জোর করে তার জবানবন্দি আদায় করে।
এর আগে, গত ১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ৬ মে সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন জাকির। এ সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় আসামি। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। মরদেহ প্রথমে ঘরের ভেতরে একটি ব্রিফকেসে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পরে মরদেহ সরিয়ে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় মরদেহ ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে না ডোবায় পাশেই রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত জাকির।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অভিযুক্তের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব আলামত জব্দ করে তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হবে। এই হত্যার ঘটনায় সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফাহিমা হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
১২ দিন আগে
সিলেটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
সিলেট নগরীর শাহপরান থানার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লেগে চারজন দগ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে টিলাগড় এলাকার আল জালাল সিএনজি ফিলিং স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন— আল জালাল সিএনজি স্টেশনের কর্মী আবু সাঈদ (২০) ও আবু সুফিয়ান (২২) এবং স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল (২০) ও হাবিব (২২)।
আহতদের প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আবু সাঈদের শরীরের ১৫ শতাংশ, আবু সুফিয়ানের ৯ শতাংশ, জুয়েলের ১২ শতাংশ এবং হাবিবের ৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
আল জালাল সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, গতকাল সকালে একটি বাসে গ্যাস নেওয়ার সময় হঠাৎ বাসটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভাতে গিয়ে স্টেশনের দুই কর্মীসহ চারজন দগ্ধ হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
১৩ দিন আগে