সিলেট
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০ জনে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হবিগঞ্জের ৫ মাস বয়সী রুপায়ন ও সুনামগঞ্জের ৩ মাস বয়সী অর্পনা—তারা দুজনই সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬১ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৬৯ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৮৫ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন ও মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছে।
এ পর্যন্ত বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭০ জনের।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে সিলেটে যুবক আটক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গালিগালাজ ও কটূক্তিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে মেহেদী আহমেদ (২১) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানার তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মেহেদীকে তার বাসা থেকে আটক করে।
আটক মেহেদী আহমেদ সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন নোয়াগাঁও সাদিপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং গালিগালাজ করে আসছিলেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির চৌধুরী বলেন, ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
৭ ঘণ্টা আগে
সাথী হত্যা: সাবেক স্বামীসহ ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
সিলেটের জাফলংয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে পোশাককর্মী রুনা আক্তার সাথী (১৯) হত্যার ঘটনায় তার সাবেক স্বামীসহ দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক শেখ নাজমুন নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কবীর হোসেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: গাজীপুরের জয়দেবপুর বুরুলিয়া গ্রামের নাজমুল হাসান খান (২৩) এবং তার বন্ধু শেরপুর জেলার শ্রীবরদী লংপাড়া হাওলাচর গ্রামের সুজন মিয়া (২০)।
মামলার নথি অনুযায়ী, ময়মনসিংহের নান্দাইল আসারগাঁও এলাকার নাজমুল হকের মেয়ে রুনা আক্তার সাথী গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে বাসের সহকারী নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ে হয়। এরপর তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে ওই সন্তানকে নাজমুল তার বন্ধু সুজন মিয়ার ফুফুর কাছে দত্তক দেন।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সন্তানকে ফিরে পেতে সাথী একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পরও নাজমুল গার্মেন্টেসে যাওয়া-আসার পথে সাথীকে বিরক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে ২০১০ সালের ১২ মে সাথীকে সিলেটে নিয়ে যান তিনি।
পরদিন দুপুরে তাকে জাফলংয়ের সোনাটিলা ফরেস্ট এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ১৫ মে নিহতের বাবা গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে পুলিশ পরিদর্শক শহীদুল্লাহ নাজমুল হাসান খানকে গ্রেপ্তার করেন। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে নাজমুল জামিনে মুক্তি পান। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আল আসলাম মুমিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন ফারহানা হাবিব চৌধুরী।
২ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৬৮
সিলেটে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ১৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৮ জনে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৫১৮ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দুই শিশু এবং মৌলভীবাজারের এক শিশুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাধীন ছিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য বিভাগের জেলা-ভিত্তিক হিসাবেও মৃত্যুর ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের এবং নিশ্চিত হামে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৌলভীবাজারে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১৪ শিশুর ও নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে এক জনের। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জে সন্দেহজনক হামে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত নিশ্চিত ও সন্দেহজনক—দুই ধরনের হিসাব মিলিয়ে মোট ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০ জন এবং হামের উপসর্গে ১৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
৩ দিন আগে
গণতন্ত্র রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সবার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং সংসদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সরকারি ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র পেয়েছি। গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে হবে এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের জন্য অতীতে দেশের মানুষ বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে। সেই ত্যাগের বিনিময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা অবহেলা করে নষ্ট করা যাবে না। এখন দেশের পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এছাড়া দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশের অভিন্ন স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। বারবার সেই সংগ্রাম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এবার যে সুযোগ এসেছে, সেটিকে কাজে লাগাতে হবে।
সিলেটের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সিলেট তার অত্যন্ত প্রিয় একটি জায়গা। সুযোগ পেলেই তিনি সিলেটে আসেন। এ অঞ্চলের মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সিলেটের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়া বহু গুণী মানুষের জন্ম এ অঞ্চলে। সাহিত্য, সঙ্গীত, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সিলেটের অবদান রয়েছে। সিলেটের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, চা-বাগান ও প্রবাসী জনগোষ্ঠী এ অঞ্চলের স্বাতন্ত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন ও হাওর—সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। পরিকল্পিতভাবে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে পর্যটন খাতে আরও বড় ধরনের উন্নয়ন সম্ভব বলেও জানান তিনি।
৪ দিন আগে
রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট সিলেট মহানগর বিএনপির
সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রপতি সিলেটে পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি ওই নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এর আগে সিলেটে প্রবেশের পথে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর সাতটি পয়েন্টে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। তবে সিটি করপোরেশনের এই অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দেয় মহানগর বিএনপি।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বয়কটের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অংশ নেবেন না।
অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি তৈরি করে সংবর্ধনার আয়োজন না করা ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সিটি করপোরেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছে।’
দলটির নেতাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরকে স্বাগত জানিয়ে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি থাকায় মূল অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সিলেটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সফর এটি।
৪ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ১৬৪
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে হাম ও রোগটির উপসর্গ নিয়ে ১৬৪ জনের মৃত্যু হলো।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে সিলেটের দুইজন, সুনামগঞ্জের একজন ও হবিগঞ্জের একজন। তাদের মধ্যে তিনজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও একজন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে একজনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট, একজনের জকিগঞ্জ, একজনের সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা ও অন্য আরেকজনের বাড়ি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী এলাকায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ নিয়ে চলতি বছর সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে ১০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১৪৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৪৯৫ জন রোগী। তবে একই সময়ে নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে কারো হামে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য শনাক্ত হয়নি।
৫ দিন আগে
সিলেটে কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে নির্যাতন, আটক ৩
সিলেট নগরীতে চুরির অভিযোগে এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে রাস্তায় হাঁটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে শাহপরাণ থানা পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম। তিনি জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নির্যাতনকারীদের চিহ্নিতে পুলিশ কাজ করছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের আটকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটককৃতরা হলেন সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (৪৩) ও মো. মোজাক্কির হোসেন (৪০) এবং একই এলাকার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. বুরহান উদ্দিন (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা ১৫-১৬ বছর বয়সী ওই মেয়েকে আটক করেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার কোমরে শিকল বেঁধে সড়কে টানাহেঁচড়া করতে দেখা যায়। ঘটনাটি নগরীর উপশহরের ডি ব্লকের মসজিদ মার্কেট এলাকার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে তাকে সড়কে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।
এ ঘটনার বিষয়ে শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে মঙ্গলবার তাকে চুরির অভিযোগে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
শিকল বেঁধে নির্যাতন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, যারা ওই কিশোরীকে এভাবে শিকল পরিয়ে নির্যাতন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে একজন কিশোরীকে শিকল পরানো, মারধর করা কিংবা প্রকাশ্যে অপমান-হয়রানি করার অধিকার কারও নেই জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদিপ্ত অর্জুন বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন ঘটনা কেবল মানবিক মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না, সমাজে ভয়াবহ বার্তাও দেয়।
১০ দিন আগে
টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে সিলেটে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ২ সদস্য আটক
ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ও অবৈধভাবে টিকিট কেনাবেচার অভিযোগে সিলেটে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যকে আটক করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আবু তাহের এবং দিরাই উপজেলার সঞ্জয় দাস। তারা দুজনই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসনের অভিযানে তাদের কাছ থেকে ট্রেনের টিকিট, টিকিট সংগ্রহ ও বিক্রির কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ভয়েস মেসেজসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইনে অবৈধভাবে টিকিট সংগ্রহ করে বিভিন্ন মাধ্যমে কালোবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেট জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ও অবৈধভাবে টিকিট কেনাবেচার অভিযোগে আরএনবির দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক দুজনকে আপাতত রেলওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মামলা বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।’
অভিযানের বিষয়ে সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল আলম বলেন, ‘রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি ও অবৈধভাবে টিকিট কেনাবেচা রোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক দুজনই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য এবং তারা অনলাইনে অবৈধভাবে টিকিট সংগ্রহ করে বিভিন্ন মাধ্যমে কালোবাজারে বিক্রি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানে তাদের কাছ থেকে টিকিট, মোবাইল ফোন, ভয়েস মেসেজসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জনস্বার্থে টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
১০ দিন আগে
দেশে ফেরার পথে সৌদির সড়কে প্রাণ গেল সিলেটের ২ প্রবাসীর
সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুজনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তায়েফ শহরের আল-খুরমা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দেশে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় তাদের গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে গাড়ির চালকসহ চারজনই প্রাণ হারান।
সিলেটের নিহত দুই প্রবাসী হলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। তাদের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামে।
স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করার স্বপ্ন নিয়ে তারা লাগেজ গুছিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাদের জীবনের শেষযাত্রা।
এদিকে দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে তাদের নিজ এলাকায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয়জনদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় কান্নায়। পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিবেশ।
দুই প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পাওয়ার পর তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে যান। এ ঘটনায় পরিবার দুটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী নিহত হন। সেই শোক কাটতে না কাটতেই জুলাই মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে আবারও সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাটের দুই প্রবাসীর মৃত্যুতে উপজেলাজুড়ে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
১১ দিন আগে