সিলেট
দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পেরেছি: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, গত এক মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল, আমরা দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে পেরেছি।
তিনি বলেছেন, এটা কারও ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়। আল্লাহর মেহেরবানি, সরকারের চেষ্টা ও সাধারণ মানুষের শৃঙ্খলার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। কেউ আতঙ্কিত হননি। এই শৃঙ্খলাবোধ স্থিতিশীলতার নিয়ামক, প্রাথমিক শর্ত।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত আদায় করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এই জামাতে প্রবাসীকল্যাণ বৈদেশিক ও কর্মসংস্থামন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও অংশ নেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার মানুষের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটি সরকার। বৈশ্বিক যে চাপ আসুক, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে—এই দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে যেন দ্রব্যমূল্য থাকে। জীবনযাপন যেন সহনীয় থাকে, এটি হবে প্রধানতম লক্ষ্য। এজন্য সরকারি যত যন্ত্র ব্যবহার করা লাগে, সেটা করতে কার্পণ্য করা হবে না।
এ সময় প্রবাসীকল্যাণ বৈদেশিক ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আজকে আমাদের অনেক প্রবাসী ভাইবোনরা নানাবিধ সমস্যায় রয়েছেন। কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, কেউ গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের জন্য আমরা দোয়া করি, প্রবাসের যুদ্ধকালীন সময়ে যারা যেখানে আছেন, তারা যেন সুন্দরভাবে আমাদের মধ্যে ফিরে আসেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
শাহী ঈদগাহের এই ঈদ জামাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ লাখো মানুষ নামাজ আদায় করেন।
এ সময় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নগরবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিচ্ছন্ন আধুনিক নগর গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, আমরা একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত, আধুনিক নগর গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা ও সহায়তায় আমরা একটি আধুনিক ও উন্নত সিলেট গড়ার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
সিলেটে এবার মোট ২ হাজার ৯৫৮টি স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় ৩৯৬টি জামাত। প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরীর শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায়। এতে ইমামতি করেন বরুণার পীর নামে পরিচিত মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক।
২০ ঘণ্টা আগে
ঈদযাত্রায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক পাড়ি দেওয়া নিয়ে যাত্রীদের শঙ্কা
সিলেটে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর ঈদযাত্রা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে টানা ছুটির আমেজে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে নগরজুড়ে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটি। আর সোমবার ছিল তাদের শেষ কর্মদিবস। বিকেল গড়াতেই নগরীর সড়ক ও বাস টার্মিনালগুলোতে দেখা যায় যাত্রীদের ব্যাপক ভিড়। শুরু হয় প্রিয়জনের কাছে ফেরার আনন্দঘন যাত্রা।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনিবার (২১ মার্চ) দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। এ সম্ভাব্য তারিখ ধরে আগে থেকেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ঈদের দিন সাধারণ ছুটি এবং আগে ও পরে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত করা হয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চও নতুন করে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সিলেটের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা ৭ দিনের অবকাশ পাচ্ছেন। এর আগে, ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার দাবির পর তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে জরুরিসেবা সচল রাখতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিযোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীরা ছুটির বাইরে থাকছেন। পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেবাও চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, এ আনন্দের মধ্যেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ অংশে চলমান উন্নয়নকাজ এবং কিছু স্থানে সরু সড়কের কারণে তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার পথ ঈদযাত্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তাছাড়া মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের কাটিহাতা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছয় লেন প্রকল্পের ধীরগতি, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজারের কারণে যানজট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। একইসঙ্গে মহাসড়কের অন্তত দুইটি লেন সচল রাখার চেষ্টা চলছে। ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যাত্রী ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদযাত্রায় প্রতিবারই ভোগান্তির কারণ হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অংশ। আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন ১২ কিলোমিটার সড়কটি ভোগান্তির মূল কারণ। ছয় লেন মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড মোড়ে প্রায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক অংশ চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজার এলাকাজুড়ে যানজট লেগে থাকছে। ঈদে যানবাহন বাড়লে এই ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
পুলিশ জানায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে কোনো ধরনের যানজট সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্মাণাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের ওপর দিয়ে চলাচল করে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েক লাখ যাত্রী ও পরিবহন। রাজধানী পার হওয়ার পর বেশিরভাগ সড়কে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করা গেলেও আশুগঞ্জ গোলচত্বর ও বিশ্বরোড গোলচত্বর অংশ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। দুইটি গোলচত্বরে মহাসড়কের কাজ চলমান থাকায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়।
গত কয়েক বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও চালকরা। এর মধ্যে ঈদের ছুটিতে যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। ফলে মহাসড়কের এই অংশজুড়ে তীব্র যানজটের পাশাপাশি ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা। একইসঙ্গে বিশ্বরোড, কুট্টাপাড়া, আশুগঞ্জ গোলচত্বর, সোহাগপুর এবং সোনারামপুরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ডগুলো যানজটের অন্যতম কারণ।
একইভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের দুইটি স্থানে তীব্র যানজট দেখা যায়। এর মধ্যে সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজারের অংশে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হয়। সড়কটির কাউতলী, রামরাইল, রাধিকা, সুলতানপুর, তন্তর, তিনলাখ পীর, সৈয়দাবাদ, মনকসাইর, খাড়েরা এবং কুটি চৌমুহনীতে মহাসড়কের দুই পাশে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের কারণে তীব্র যানজটের শঙ্কা আছে। পাশাপাশি যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, তিন চাকার যান চলাচলও ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
এদিকে, সড়কপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জে গোনা সেতুর উদ্বোধনকালে বলেন, ঈদ উদযাপনে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে দেড় কোটি লোক ঢাকা ছাড়বে। এই যাত্রা স্বাভাবিক করাটা চ্যালেঞ্জিং। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যেভাবে কাজ করছি, তাতে আশা করি কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সবাই বাড়ি যেতে পারবে।
৩ দিন আগে
সিলেটে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা, ভিড়ের সঙ্গে বাড়ছে যানজট
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিলেট নগরীতে জমে উঠেছে কেনাকাটার উৎসব। নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী।
নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার, বন্দরবাজার, জেলরোড, নয়াসড়ক ও কুমারপাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে রঙিন আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে দোকানপাট ও শপিং মল। বেশিরভাগ ক্রেতাই পরিবারের ছোট সদস্যদের জন্য পোশাক কেনার মধ্য দিয়ে কেনাকাটা শুরু করছেন। এরপর বড়দের জন্য পোশাক, জুতা ও প্রসাধনী কেনা হচ্ছে।
তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পোশাক ট্রায়াল দিয়ে দেখার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা গেছে। পছন্দ না হলে আবার নতুন করে খোঁজ শুরু করছেন তারা।
জিন্দাবাজার, কুমারপাড়া ও নয়াসড়কের আধুনিক শপিং মলগুলোতে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা গেলেও বন্দরবাজার এলাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। বিশেষ করে হাসান মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
জিন্দাবাজারে পরিবারের সঙ্গে কেনাকাটা করতে আসা আবির নামের এক কিশোর জানায়, ঈদের জন্য নতুন পোশাক কেনা শেষ করে এখন জুতা ও প্রসাধনী কেনার পরিকল্পনা করছে সে। তবে দোকানে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কেনাকাটায় সময় বেশি লাগছে বলে জানায় সে।
হাসান মার্কেটের বিক্রয়কর্মী হাবিব জানান, সাধারণত ১৫ রমজানের পর থেকেই সিলেটে ঈদের বাজার জমে ওঠে। এ বছর মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। শেষ সময়ে এসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে দাঁড়ানোর মতো জায়গাও থাকছে না।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর পোশাক, জুতা ও প্রসাধনীর দাম বেড়েছে।
নগরীর বারখলা এলাকার বাসিন্দা সৌরভ বলেন, আগের বাজেটে এবার কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও ঈদের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বালাগঞ্জ থেকে আসা কামরুল হোসেন। তিনি জানান, কয়েকটি দোকান ঘুরেও এখনও পছন্দসই দামে কাপড় পাননি, তাই দরদাম করছেন।
ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেছেন যে এ বছর পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাদের মতে, জুতার দাম গড়ে ২০–৩০ শতাংশ এবং প্রসাধনীর দাম ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত ক্রেতার চাপের কারণে নগরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
এছাড়া ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেট অঞ্চলের অনেক মানুষ প্রবাসে থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদ বাজারেও।
সব মিলিয়ে, উৎসবের আমেজে সিলেট নগরী মুখর হলেও বাড়তি দাম ও যানজট সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪ দিন আগে
উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আগামীতে উন্নয়নমূলক কাজের তদারকিতে ইমামদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ইমামরা তদারকিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলে সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমাজের মানুষ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেদের মালিকানা অনুভব করবেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) সিলেট নগরীর সারদা হলে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) আয়োজিত মহানগরীর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইমামদের কল্যাণে সরকার দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সে লক্ষ্যে ইমামদের মর্যাদা রক্ষায় ব্যক্তিগত ইচ্ছায় নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি রোধে রাষ্ট্র স্বীকৃত একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ইমামদের জন্য এমন সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে, যাতে চার থেকে ছয় সদস্যের একটি পরিবার স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমান সিসিক প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন। আগামী দিনে সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটবে। সিসিকের আওতাধীন সব সড়ক ‘এ’ গ্রেডে উন্নীত করা হবে। নগরবাসীর জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিনোদন ও হাঁটার উপযোগী পার্ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সিলেট থেকে অনলাইন জুয়া ও মাদক চিরতরে নির্মূলের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এসব কাজে সিসিক প্রশাসক সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবেন।
সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগরীর ৮২৭টি মসজিদের ১ হাজার ৬৪ জন ইমাম এবং ১ হাজার ২১১ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে মোট ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী দেওয়া হয়েছে।
৫ দিন আগে
সিলেটে বজ্রপাতে জেলে নিহত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মাছ শিকার করতে গিয়ে বজ্রপাতে রামচন্দ্র তালুকদার (৫৫) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালাইরাগ নতুনবাজার এলাকার ধলাই নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার মহানন্দ তালুকদারের ছেলে। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ নতুনবাজার এলাকার একটি কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, রামচন্দ্র তালুকদারসহ কয়েকজন মৎস্যজীবী নতুনবাজার এলাকায় ভাড়া থেকে ধলাই নদীতে বেড়জাল দিয়ে মাছ শিকার করতেন। গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যার পর রামচন্দ্র একাই একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ৯টার দিকে নদীতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৫ দিন আগে
সিলেটের সড়ক ও রেলপথ নিয়ে সুসংবাদ দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
সড়ক ও রেলপথ নিয়ে সিলেটবাসীকে সুসংবাদ দিলেন বাংলাদেশ সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, আমার নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে ছিল, যত দ্রুত সম্ভব সিলেট-ঢাকা ৬ লেন মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ ও কাজ সম্পন্ন করা। আগামী দুই-আড়াই মাসের মধ্যে বাকি থাকা সব জমি অধিগ্রহণ করে সব ব্লকে পুরোদমে কাজ শুরু হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় মহানগরের মির্জাজাঙ্গালে অবস্থিত নির্ভানা ইন হোটেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট-চট্রগ্রাম ৬ লেনের কাজও একই সময়ে শুরু হয়ে শেষ হবে ইনশাআল্লাহ। সিলেট-চট্টগ্রাম রাস্তার একটি বড় অংশ পড়েছে সিলেট-ঢাকা ৬ লেনে। এই দুই মহাসড়কের সংযোগ অংশের কাজের জন্য শিগগিরই প্রকল্প আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাঠানো হবে এবং পাস হয়ে কাজ শুরু হবে।
এছাড়া সিলেট-ঢাকা ডবল গেজ রেললাইন স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিগগির এই কাজও শুরু হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, রেললাইনের কাজ সম্পন্ন হলে তিন বা সাড়ে তিন ঘণ্টায় সিলেট থেকে ঢাকা যাতায়াত করা যাবে। যেসব পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস নির্বাচনের আগে দিয়েছি, সেগুলো যেন আল্লাহ আমাকে দিয়ে পরিপূর্ণ করান—এই দোয়াই আপনারা করবেন।
ক্লাব সভাপতি দৈনিক আধুনিক কাগজের সম্পাদক মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বাংলানিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
৬ দিন আগে
সিলেট সীমান্ত দিয়ে ৪ নারীকে ভারতে পাচার, আটক ২
কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ৪ নারীকে ভারতে পাচারের ঘটনায় সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে দুইজনকে আটক করেছে র্যাব-৯।
শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার খাসিয়া খাওড় এলাকার মৃত রূপ মিয়ার ছেলে আব্দুল হান্নান (২৯) এবং একই এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে আলমগীর (২৫)।
র্যাব জানায়, গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার পাটগাতী এলাকার এক নারী গার্মেন্টসে কাজের উদ্দেশ্যে ঢাকায় গেলে এক অজ্ঞাতনামা নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ওই নারী তাকে ভারতে গিয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিলে তিনি সরল বিশ্বাসে রাজি হন। পরে গত বছরের ১১ অক্টোবর ওই নারী তাকে সিলেটে নিয়ে আসেন।
পরে হাসান নামের এক ব্যক্তি প্রাইভেটকারে করে তাকে জাফলং এলাকায় নিয়ে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তারা জানান, অনেক মানুষকে তারা ভারতে পাঠান এবং সেখানে ভালো কোম্পানিতে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ভুক্তভোগী পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকার কথা জানালে তাকে বলা হয়, ভারতে যেতে এসবের প্রয়োজন নেই।
একপর্যায়ে ওই নারী জানতে পারেন, তার সঙ্গে আরও তিনজন নারী ভারতে যাবেন। এরপর গত বছরের ১১ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে তাদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতে প্রবেশ করানো হয়।
পরদিন ১২ অক্টোবর রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের আটক করে। পরে ১৩ অক্টোবর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরে আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সদর কোম্পানির একটি দল আজ ভোরে গোয়াইনঘাট উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার পলাতক দুই আসামিকে আটক করে।
র্যাব জানায়, আটকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
সিলেটে দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলা, এসআই আহত
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নগরীর দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্ট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বাবনা পয়েন্টে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিল দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের একটি দল। এসময় অতর্কিতভাবে সংঘবদ্ধ একদল যুবক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং দায়িত্বরত একজন এসআইকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় পুলিশ আরও জানায়, এর আগে বুধবার রাতে একটি পিকআপ ভ্যান অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে মদিনা মার্কেট এলাকা থেকে সুবিদবাজারের দিকে আসছিল। দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সন্তোষ গাড়িটিকে থামার সংকেত দিলেও চালক তা অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সার্জেন্ট সন্তোষ একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে পিকআপটির পিছু নেন। পিকআপটি সুবিদবাজার, লালাবাজার, জিতু মিয়া পয়েন্ট এবং সেলফি ব্রিজ হয়ে অত্যন্ত বিপদজনকভাবে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বাবনা পয়েন্টে গিয়ে পিকআপটি একটি সিএনজিকে ধাক্কা দিলে স্থানীয় চালকরা গাড়িটিকে থামিয়ে ফেলে। পিকআপটি থামানোর পর স্থানীয়রা ও সিএনজি চালকরা ওই পিকআপ চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। এসময় সার্জেন্ট সন্তোষ সেখানে পৌঁছে পিকআপ চালক ‘ছিনতাইকারী হতে পারে’ এমন সন্দেহ প্রকাশ করলে উপস্থিত জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে তাকে গণপিটুনি দেয়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চালক মাটিতে পড়ে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। সে সময় আহত পিকআপ ভ্যানচালক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পুলিশ যখন তাকে উদ্ধার করতে যায়, তখন সে হঠাৎ শোয়া থেকে উঠে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে (এসআই) সজোরে ঘুষি মারেন। এরপর তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান এবং বমি করতে থাকেন।
হামলাকারী চালককে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চালক অসুস্থ থাকায় পুলিশ বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে, তবে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান জানান, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই হঠাৎ করে একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের একজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৯ দিন আগে
অপরাধ দমনে সিলেট নগরীকে আইপি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজের গতি আরও বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। তিনি বলেছেন, সারা দেশের মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সিলেটকে গড়ে তুলতে চান। অপরাধ দমনে শিগগিরই সিলেট নগরীকে অত্যাধুনিক আইপি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ এখনও সম্পদে সীমিত। তবুও যে সম্পদ ও সক্ষমতা রয়েছে, তা দিয়েই সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসমুক্ত ও শান্তির নগর হিসেবে সিলেটকে গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্যেই সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসমুক্ত সিলেট গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা, আবাসন সুবিধাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (উত্তর ও দক্ষিণ), সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় উপকমিশনারবৃন্দ, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত র্কমকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
সিলেটে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা পাম্প মালিকদের
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিপণন নীতি পরিবর্তন না করলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটের পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, নতুন নীতিমালার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল সরবরাহ হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতি ও পাম্পগুলোতে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার নেতারা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে সিলেটের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মালিক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ একটি পাম্পে এক শ্রমিককে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত শ্রমিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সারাদিন রোজা রেখে হাজার হাজার মানুষকে সেবা দেওয়ার পরও যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে শ্রমিকদের আবেগ ও ক্ষোভ থেকে মঙ্গলবার এক শিফট কর্মবিরতি পালন করা হয়। তবে বিকেল থেকে যেসব পাম্পে তেল মজুত ছিল, সেগুলোতে আবার বিক্রি শুরু হয়।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, বিপিসি হঠাৎ করে একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে। যেখানে গত বছর মার্চ থেকে জুন মাসে একটি পাম্প যত তেল উত্তোলন করেছে, ওই গড়ের ২৫ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ৩০ দিনে মাস ধরে এই গড় নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্প মাসে ২০/২২ দিন তেল উত্তোলন করে। পাশাপাশি বিপণন কোম্পানিগুলোকে কোটা বেঁধে দেওয়া হযেছে, ফলে তারা পাম্পগুলোতে সীমিত পরিমাণ তেল দিতে পারছে। এতে ডিপো থেকে পাম্পে তেল আনতে পরিবহন ব্যয় একই রয়েছে, কিন্তু তেল কম আসছে।
সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয় জানিয়ে সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, দেশে অকটেন–পেট্রোলের ঘাটতি নেই। কিন্তু বিপণন নীতিমালার কারণে ডিপোতে মজুত থাকলেও পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ পাম্প মালিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
পাম্প মালিকদের মতে,‘ আমরা কোনো ধরনের মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নই। কেউ নির্ধারিত দামের বেশি দামে তেল বিক্রি করলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
তাদের দাবি, বিপিসিকে দ্রুত নীতিমালা সংশোধন করে মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে তেল বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগঠনের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল, প্রায় ২ লাখ লিটার পেট্রোল এবং দেড় লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে এর তুলনায় অনেক কম। নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করা হবে না। এতে বিপণন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করার চেষ্টা করা হবে।
এদিন সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনান। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধা ৭টার দিকে সিলেট নগরীর চৌকিদেখীর উত্তরা পেট্রোলিয়াম পাম্পে তেল না পেয়ে কর্মী মিঠু গোয়ালাকে ছুরিকাঘাত করেন এক গ্রাহক। এতে ওই কর্মী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটি মঙ্গলবার আধাবেলা ধর্মঘটের ডাক দেয়।
১০ দিন আগে