হাম
দেশব্যাপী হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু
হাম-রুবেলার সংক্রমণ রোধে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কের লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সারা দেশে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা প্রদান করা।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ১৮টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জেলার ৩০টি উপজেলার ১২ লাখেরও বেশি শিশুকে (৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী) সুরক্ষা দিতে সরকার ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং গ্যাভির সহায়তায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সকল বাবা-মা এবং অভিভাবকদের তাদের শিশুদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সহযোগিতা করতে সংস্থাটি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
২৩ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৮
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১৪ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৮ শিশু।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত ৯ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৩ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে গতকাল (শনিবার) দুপুরে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে শিশুটি মারা যায়।
আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকালপারসন আরও বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৬১১ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫১৯টি শিশু এবং ১৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে আরও ৭২টি শিশু।
তিনি জানান, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে এখনও শিশুদের আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থার শিশুদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারের বিকল্প বাবল সিপ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন হাম আক্রান্ত হয়েই মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত হামে ৩৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৭৪ জন।
১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৯২ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ৪৬৭ জন।
এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ হাজার ৮৯৮ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১১ হাজার ২৪৩ জন।
৩ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হাম-রুবেলার সংক্রমণে উদ্বেগ বাড়ছে সিলেটে। এই রোগের উপসর্গ নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক দিনে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৫ জনে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসপাতালের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গতকাল (বুধবার) রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটি মারা যায়।
মারা যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে হুজাইফা (১০ মাস) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদুন এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে। অপর শিশু মো. আব্দুল্লাহর (১০ মাস) গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পলভাগে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুজাইফের মৃত্যু হয়। সে হৃদ্যন্ত্র বিকলতা ও ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল এবং হামের সন্দেহও ছিল। অন্যদিকে, একই দিন বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়। তাকে গত ১৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, শক, হৃদ্যন্ত্র বিকলতা, ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া এবং হামজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়েছে।
শহিদ সামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. মিজানুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রাপ্ত বয়স্ক, বাকিরা শিশু। এ নিয়ে হাসপাতালে ৬৭ জন রোগি ভর্তি রয়েছেন বলে জানান তিনি।
৪ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রকোপ অব্যাহত, নতুন ভর্তি ১৯ শিশু
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রকোপ এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই এই রোগের উপসর্গ নিয়ে নতুন নতুন শিশুরোগী হাসপাতালে আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে একটি আইসোলেশন কর্নার খোলা হয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক শিশুকে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ১৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৪ জন। গুরুতর অসুস্থ ৩ শিশুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৭৫ শিশুরোগী।
৪ দিন আগে
হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে: বিসিসি প্রশাসক
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। তিনি বলেছেন, বরিশালে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) নগরীর মল্লিকা কিন্ডারগার্টেনে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিসিসি প্রশাসক বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা রয়েছে। বর্তমান সরকার হাম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
দেশের চারটি সিটি করপোরেশনে টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। আগামী ১০ মে পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় কমিউনিটি পর্যায়ে ৩৩ হাজার ৬০০ জন এবং প্রি-স্কুল পর্যায়ে ৮ হাজার ৬০০ জনসহ মোট ৪২ হাজার ২১০ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১০টি টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করবে।
টিকাদান অনুষ্ঠানে বরিশালের সিভিল সার্জন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও রবিবার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশের বাকি অংশে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে আজ (রবিবার) এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে যদি আমরা সফলভাবে টিকার আওতায় আনতে পারি, তবেই আমরা এই আত্মঘাতী রোগ থেকে রক্ষা পাব। তিনি প্রতিটি অলিগলিতে এই কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
তবে হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রিত হলেও সামনে ডেঙ্গুর বড় চ্যালেঞ্জ আসছে বলে সতর্ক করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামনেই ডেঙ্গুর একটি ধাক্কা আসতে পারে। আমরা দুই-তিন দিন আগেই এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি।
মশার ওষুধ ছিটানোর ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক মিশ্রণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ওষুধের মান ঠিক থাকলে তবেই পূর্ণবয়স্ক মশা মারা সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হামের বিস্তার রোধে আইসোলেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য বিশেষ আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচিকে একটি আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যকর্মীর পক্ষে সফল করা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জামশেদ মোহামেদ, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল অ্যাব্রিউক্স। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, হঠাৎ করে এ বিষয়টা (হামের প্রাদুর্ভাব) এসেছে এমন নয়। বিগত সরকারের অসাবধানতার কারণে আজকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রগুলোতে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এমআর টিকা পাবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার- চালানো হচ্ছে। অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
৮ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ৯ ও ১০ মাস বয়সী দুই ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৩ শিশু।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ২২ মার্চ ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৯ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরইমধ্যে শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
এছাড়া ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ১০ মাস বয়সী আরেক ছেলে শিশুকে ১১ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরে একই দিন সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩৯৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৩১২ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৮ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৩ শিশু।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী ভর্তি আছে। তবে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হাসপাতালে সব রোগীকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
৮ দিন আগে
বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে বিভাগের ৬ জেলায় মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হলো।
মৃতরা হলো ৫ মাস বয়সী ইমাম, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পান্না খানের ছেলে, এবং ৯ মাস বয়সী আবু সালেহ, বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা আবু বক্করের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা জানায়, সর্বশেষ মৃত দুই শিশু, ইমাম গত ৬ এপ্রিল এবং আবু সালেহ ৭ এপ্রিল হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে মোট তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মুশিউল মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৯১ জন হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ২৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে মোট ৩১০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বিভাগের ছয়টি জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এসব হাসপাতাল ৬২ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৮০ জনের মধ্যে হাম উপসর্গ দেখা দিয়েছে। যার মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ৮২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫২ জনের হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
১১ দিন আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে মমেকে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৩ ও ৮ মাস বয়সী আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ৯ শিশুর মৃত্যু হলো।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের হাম মেডিকেল টিমের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ নেত্রকোনা সদর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৩ মাস বয়সী একটি মেয়ে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরইমধ্যে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতায় শিশুটি মারা যায়।
এছাড়া ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৮ মাস বয়সী একটি ছেলে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। তবে সেও হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতায় মারা গেছে বলে জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
ডা. গোলাম মাওলা জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৩২৪ শিশু মমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ২৩৯টি শিশু এবং ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে আরও ২৬টি শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৬টি শিশু।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে হাসপাতালে ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
১১ দিন আগে