শিশু
লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
লালমনিরহাটে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সেই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ভুক্তভোগী শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসে। সে তার মাকে জানায়, প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন চকলেট দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন। পরে শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আলমগীর হোসেনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। বিজ্ঞ আদালত এই লোমহর্ষক ঘটনার ন্যায়বিচার করেছেন।
এমন রায়ে সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এ আইনজীবী।
৭ দিন আগে
রাজবাড়ীতে পদ্মায় গোসলে নেমে ৮ বছরের শিশু নিখোঁজ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে নুর আমিন (৮) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্রোতের টানে নিখোঁজ হয় সে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল তার সন্ধান করছে।
নিখোঁজ নুর আমিন দৌলতদিয়ার শাহাদত মেম্বার পাড়ার রেজাউল ফকিরের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে জানায়, আজ (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নুর আমিনসহ চার বন্ধু বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বাহির চর দৌলতদিয়া ছাত্তার মেম্বার পাড়ার ৬ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় যায়। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে ড্রেজিং চলছিল। ফলে নদীর তলদেশে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। সেখানে তিন বন্ধু নুর আমিন, সাব্বির ও রায়হান নদীতে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর স্রোতের টানে নুর আমিন তলিয়ে যায়।
পরে বন্ধুরা বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের পাশাপাশি নৌপুলিশ নদীতে তল্লাশি শুরু করে। দুপুর ২টার দিকে আরিচা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নুর আমিনের দাদা আনোয়ার ফকির বলেন, দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার নাতির কোনো সন্ধান পায়নি তারা।’
আরিচা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুর ২টার দিকে খবর পেয়ে সাত সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে চারজন ডুবুরি নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে কাজ করছেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্রোতের কারণে তাদের উদ্ধার অভিযান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
১১ দিন আগে
পুকুরে ডুবে যমজ ২ শিশুর মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বছর বয়সী যমজ দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা উত্তরপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো মেরকুটা উত্তরপাড়া গ্রামের সৌদিপ্রবাসী মোহাম্মদ আক্কাস মিয়ার যমজ ছেলে মো. হুজাইফা ও মো. আকরাম।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এদিন সকালে দুই ভাই বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে বল দিয়ে খেলছিল। একপর্যায়ে বলটি পুকুরে পড়ে যায়। সেটি তুলতে গিয়ে এক ভাই পানিতে পড়ে তলিয়ে যেতে থাকে। তাকে বাঁচাতে আরেক ভাইও পানিতে নামে। সাঁতার না জানায় দুজনই পানিতে ডুবে মারা যায়।
দীর্ঘক্ষণ শিশুদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে দুপুরের দিকে পুকুর থেকে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি দুই ভাইকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যমজ দুই ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে আক্কাস মিয়ার পরিবারসহ পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
১৩ দিন আগে
আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
গাজীপুরের শ্রীপুরে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় একমাত্র আসামি শফিকুল ইসলাম খন্দকারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) গাজীপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেন এ রায় দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবু তাহের নয়ন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত শফিকুল (৪০) শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকার একটি বাসায় শিশুটিকে ধর্ষণ করেন শফিকুল।
ঘটনার পর ১৫ জুলাই শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ (সোমবার) এ মামলার রায় দিলেন আদালত।
১৫ দিন আগে
রংপুরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার
রংপুরের পীরগঞ্জে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বজলু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের আছমতপুর গ্রামে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বজলু মিয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় শিশুটির চাচাতো ভাই মিলন মিয়া আজ (শুক্রবার) পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, শিশুটি আছমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গেল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশের একটি ইউক্যালিপটাস বাগানে গাছের পাতা সংগ্রহ করতে গেলে বজলু মিয়া তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ হয়, ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে স্বজনেরা তাকে মাইক্রোবাসে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পীরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
১৮ দিন আগে
ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে হুমায়রা (৩) ও নাহিয়ান (৪) নামের দুই চাচাতো ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হুমায়রা ওই গ্রামের আশিকুর রহমানের মেয়ে এবং নাহিয়ান আশিকুরের ভাই বাবুর ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, প্রতিদিনের মতো এদিন দুপুরেও দুই শিশু বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে একসঙ্গে খেলছিল। একপর্যায়ে হুমায়রা পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। তাকে টেনে তুলতে গিয়ে নাহিয়ানও পানিতে তলিয়ে যায়।
দীর্ঘ সময় তাদের দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুরের পানিতে তাদের ভেসে উঠতে দেখেন স্বজনরা।
দুই শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি মৃত ঘোষণা করেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বাড়ির কোলঘেঁষা পুকুরপাড়ে নিষ্পাপ দুটি শিশু খেলতে গিয়ে যে এভাবে চিরতরে হারিয়ে যাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। দুই অবুঝ সোনামণির এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো যাদবপুর গ্রাম আজ শোকস্তব্ধ।’
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরান আলম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
২১ দিন আগে
মজবুত শিশু মানে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
শিশুদের বাড়ির শক্তিশালী খুঁটির সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি শিশুকে সঠিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে দেশের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা তাদের পরিবারের খুঁটি। শিশুদের বেড়ে ওঠা ও বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক পরিবেশ ও সুযোগ দেওয়া হলে পরিবার আরও শক্তিশালী হয়।
তিনি আরও বলেন, যদি প্রতিটি শিশুর জন্য পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে দেশের ভিত্তি অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার শিশুদের এমনভাবে গড়ে তুলতে চায়, যাতে তাদের ভবিষ্যৎ মজবুত হয়, কারণ আজকের শিশুরা মজবুত হওয়া মানে জাতির ভবিষ্যত মজবুত হওয়া। আর জাতির ভবিষ্যত মজবুত হওয়া মানে মজবুত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শিশুদের শুধু পড়াশোনার মাধ্যমে নয়, খেলাধুলা, কোরআন তেলাওয়াত, সঙ্গীত ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও নিজেদের বিকশিত করার আহ্বান জানান।
তিনি শিশুদের ভালো মানুষ হওয়ার এবং নিজেদের মধ্যে থাকা গুণ ও প্রতিভার যথাযথ বিকাশ ঘটানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি সব জীবের প্রতি সদয় এবং প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হওয়ার কথা বলেন।
শিশুদের বাড়ি ও স্কুলের আশপাশের গাছপালার যত্ন নেওয়া এবং পশুপাখিদের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এগুলোকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
অভিভাবকদেরও ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।
২৮ দিন আগে
চলন্ত বাসে শিশুর জন্ম, আজীবন বিনা মূল্যে যাতায়াতের সুযোগ
ঢাকা থেকে বুড়িমারীগামী এক যাত্রীবাহী বাসে সন্তান প্রসব করেছেন আবিদা বেগম (২৮) নামের এক নারী। এ ঘটনায় ওই শিশু আজীবন বাসে বিনা মূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বাস কোম্পানিটি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাস কোম্পানি আনাস এন্টারপ্রাইজ ওই শিশুর জন্য উপহারসামগ্রী পাঠিয়ে ঘোষণা দেয়, ওই শিশু তাদের বাসে আজীবন বিনা মূল্যে যাতায়াত করতে পারবে। সেই সঙ্গে শিশুটি বড় না হওয়া পর্যন্ত তার মা ও শিশু—দুজনই বিনা মূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবে।
এর আগে গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে রংপুর মিঠাপুকুর এলাকায় চলন্ত বাসে শিশুটি জন্ম নেয়। পরে বাসের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
এরপর বুধবার দুপুরে আনাস এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজার উপহার হিসেবে দোলনা, বাচ্চাদের বিছানা, মশারি ও প্রসাধনীসামগ্রী শিশুটির বাড়িতে পৌঁছে দেন।
সুপারভাইজার জানান, ওই দিন বাসটি ঢাকা থেকে বুড়িমারী যাওয়ার পথে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। এরপর ওই বাসে থাকা এক ধাত্রী বাস থামিয়ে রাত ৩টার দিকে সন্তান প্রসব করান।
ওই নারীর বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায়। তিনি উপজেলার ফকিরপাড়ার রমনীগঞ্জ গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে।
আবেদ আলী বলেন, ঢাকা থেকে মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসছিলাম। চিকিৎসক বলেছিলেন, সন্তান জন্ম নিতে আরও ২০ দিন সময় লাগবে। তাই মেয়েকে নিয়ে বাসে উঠে গ্রামের বাড়িতে আসছিলাম। পথে আমার মেয়ের ছেলে সন্তান হয়। আমার মেয়ে ও নাতি, সবাই সুস্থ আছে। আমার নাতি বাসের ভেতরে জন্মগ্রহণ করায় ওই বাসের নামের সঙ্গে মিল রেখেই তার নাম আনাস হাসান রাখা হয়েছে।
৩৩ দিন আগে
ভোলায় শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, আটক ১
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মো. ইসমাইল (৭) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই এলাকার মো. রোকন (২২) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া-সংলগ্ন একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার মো. আকবর হোসেনের ছেলে।
শিশুটির পরিবার জানায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় শিশু ইসমাইল। পরে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পাওয়ায় বাবা আকবর হোসেন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের তিন দিন পর আজ (মঙ্গলবার) সকালে স্থানীয় কয়েকজন বোরহানউদ্দিনের মুসলিমপাড়া-সংলগ্ন খালে একটি বস্তা ভাসতে দেখে সন্দেহ থেকে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করলে স্বজনরা ইসমাইলকে শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন কেনাকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে ইসমাইলের বাবা আকবর হোসেনের সঙ্গে রোকনের বিরোধ হয়েছিল এবং ওই সময় রোকন তাকে হুমকি দিয়েছিলেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফউদ্দিন জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে থানায় আনা হয়েছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ এবং তাকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
৪২ দিন আগে
২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, এ কর্মসূচিতে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে হামের বিশেষ ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় এপ্রিল থেকে মে মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। ওই কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। লক্ষ্যমাত্রার ১০২ থেকে ১০৪ শতাংশ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এরপর ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ দেওয়া হয়। তখন দেখা যায়, আগের টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪৩ লাখ শিশু বাদ পড়েছে। পরে মপ-আপ ক্যাম্পেইন চালিয়ে এরই মধ্যে আরও ১৯ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। ফলে বাকি রয়েছে ২৪ লাখ শিশু। এর সঙ্গে গত তিন মাসে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা আরও প্রায় ১০ লাখ শিশু যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ লাখ শিশু।
সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর ইউনিসেফের কাছ থেকে আরও ৪৩ লাখ ডোজ হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে মজুত ছিল ১৫ লাখ ডোজ। সব মিলিয়ে ৫৮ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে। ১০ শতাংশ ওয়েস্টেজ বাদ দিলেও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ টিকা থাকবে। ফলে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত টিকা থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আগামী ২৬ তারিখ সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে ম্যাসিভ ক্যাম্পেইনে যাচ্ছি। যারা ছয় মাস বয়স অতিক্রম করেছে, তাদের থেকে শুরু করে ৫৯ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। এবার ক্যাম্পেইনে শুধু কেন্দ্রে বসে থাকব না, গ্রামের ভেতরেও লোকজনকে কাজে লাগাব, যাতে একটি শিশুও বাদ না থাকে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ক্যাম্পেইনের পরও নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা শিশুদের টিকা দিতে মপ-আপ (অতিরিক্ত টিকাদান) কার্যক্রম চালু রাখা হবে। জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচালক, ইউএইচএফপিও, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে যুক্ত থাকবেন।
হামে আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই টিকা নেয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতাল ঘুরি, ৯৯ শতাংশ আনভ্যাক্সিনেটেড। যারা এখন হামে মারা যাচ্ছে, তারা ভ্যাকসিন পায়নি।’
ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের টিকা না দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী সাধারণত নয় মাসের আগে হামের টিকা দেওয়া হয় না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটির (নাইট্যাক) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় মাস বয়স থেকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর কম বয়সী শিশুদের টিকা দিলে ক্ষতির ঝুঁকি থাকায় ছয় মাসের নিচে টিকা দেওয়ার ঝুঁকি নেওয়া হবে না।
পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের টিকাদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী এই মুহূর্তে আমরা পাঁচ বছরের বেশি বয়সীদের কাভার করতে পারছি না।’
হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, হামের পর নিউমোনিয়া হলে পরিস্থিতি জটিল হয়। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসায় সিপ্যাপসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের সংগঠনগুলোর মাধ্যমে হামের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়েও হাম ও ডেঙ্গুর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তবে অনেক রোগী সরাসরি ঢাকার তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতালে চলে আসছেন। পরিস্থিতি খারাপ হলে জেলা ও বড় শহরগুলোতে মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে এ কাজে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক মাস ধরে প্রতি শুক্রবার জেলা সদর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। পাশাপাশি মশা নিধনে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানও চলছে, যা ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
হাম নিয়ন্ত্রণে আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি ছোঁয়াচে রোগ। প্রতিদিন নতুন শিশু ছয় মাস বয়সে প্রবেশ করায় টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি হামের রোগীকে নিয়ে পরিবারের অন্য শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে আসার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
৪৪ দিন আগে