শিশু
বাবার হাতেই অপহরণের শিকার ৮ বছরের শিশু, উদ্ধার করল পুলিশ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এক ব্যক্তি তারই সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছেন। তবে পুলিশি অভিযানে সিয়াম (৮) নামের ওই শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টার দিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিয়ামের বাবা তার এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে অপহরণ করেন। পরে তাকে একটি নির্জন বাগানে বেঁধে গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে তার মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ গুম করারও হুমকি দেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের টিম মাঠে নামে। অভিযানের একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানার পাকা দাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীর বাবা মো. আজিজুল (২৮) এবং তার সহযোগী মো. আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় অপহরণের শিকার হওয়া সিয়ামকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে ভুক্তভোগীর জীবন রক্ষার্থে বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া ১০ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশুটির মা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিয়ামকে অপহরণ করেন তার বাবা। শিশুটিকে জিম্মি করে গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে ছবি তুলে তার মায়ের মুঠোফোনে ছবি পাঠান তারা। ওই নারীর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এ নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে শিশুটিক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা সর্বদা কঠোর অবস্থানে নিয়েছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
রংপুরে শিশুকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা
রংপুরে নিজের দেড় বছরের শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর এক মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাজাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ওই নারীর নাম সূচনা ঘোষ। শিশুপুত্র জয়দেব ঘোষকে হত্যার পর নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, নগরীর সাজাপুর এলাকার শংকর ঘোষের (৪৫) স্ত্রী সূচনা ঘোষ (৪০) তার দেড় বছরের পুত্রসন্তান জয়দেব ঘোষকে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজে আত্মহত্যা করেন। আত্মাহত্যার ঘটনাটি জানালার ফাঁক দিয়ে প্রথমে দেখতে পান তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে পুষ্পিতা ঘোষ। ওই গৃহবধূর পূজা ঘোষ নামের বড় আরেকটি মেয়ের বিয়ে হয়েছে। গৃহবধূর স্বামী একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র মুদি দোকানি। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শংকর ঘোষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তার স্ত্রী। বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে তাকে। তার ধারণা, মানসিক সমস্যা থেকেই সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেন সূচনা।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, মূলত অভাব অনটনের কারণে পারিবারিক অশান্তি ছিল পরিবারটিতে। তবে পারিবারিক কলহ নাকি মানসিক অসুস্থতার কারণে এ ঘটনা ঘটছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।
৬ দিন আগে
চাঁদপুরে তারাবির পড়তে গিয়ে নিখোঁজ রুবেলের মরদেহ মিলল বাঁশঝাড়ে
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে নুরানী মাদরাসায় পড়ুয়া আট বছর বয়সী শিশু রুবেল নিখোঁজ হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে মিলেছে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ। এ সময় শিশুটির গলায় আঘাতের চিহ্ন ও নাকে মুখে রক্ত বের হচ্ছিল।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের শোশাইরচর গ্রামের মাইজের বাড়ির পাশের বাশঁঝাড়ে মরদেহটি পড়ে ছিল।
নিহত মো. রুবেল হোসেন মাইজের বাড়ির দিনমজুর আব্দুল কাদেরের ছোট ছেলে। সে সানকিসাইর মাদরাসার নুরানি বিভাগের ছাত্র ছিল।
তার মৃত্যু কখন হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে তার খেলার সাথীরা জানায়, তারাবির নামাজের সময় রুবেলকে দেখা যায়নি, তখনই থেকেই নিখোঁজ ছিল সে।
পরিবারের স্বজনরা জানান, বুধবার ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুবেল ঘর থেকে বের হয়ে যায় তারাবির নামাজ পড়তে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। রাত ১০টার দিকে স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে এলাকাজুড়ে মাইকিং করেন।
পরে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি বাঁশঝাড়ে টর্চলাইটের আলো ফেললে রুবেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পায় পাশের বাড়ির কালু নামের এক ব্যক্তি। এ সময় তার নাক ও মুখ রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা নিশ্চিত হন যে শিশুটি মারা গেছে।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এমদাদুল হক ও উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। প্রাথমিক সুরতহালে শিশুটির গলায় ফাঁসের দাগ এবং নাক-মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানান থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দীন।
নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল কাদের ও মা পরান বেগম আহাজারি করতে করতে বলেন, ‘আমাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের নিষ্পাপ সন্তানকে কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করল। সে কী অপরাধ করেছিল?’
স্থানীয় বাসিন্দারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ফরিদগঞ্জ থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে হত্যা করে থাকলে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
৯ দিন আগে
যশোরে সাত বছরের শিশু ‘ধর্ষণ’, অভিযুক্ত নানা পলাতক
যশোরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের এক শিশুকে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ৯টার দিকে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। শিশুটি যশোর শহরের নাজির শংকরপুর ৩৯ নম্বর হাজারী গেট এলাকায় তার নানি বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। সোমবার রাত ৯টার দিকে শিশুটির নানির আপন ভাই হাফিজুল (৪০) বেড়ানোর কথা বলে শিশুটিকে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন আফজালের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার হাবিবা সুলতানা ফোয়ারা জানান, শিশুটির ভ্যাজাইনাল ইনজুরি লক্ষ্য করা গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শারীরিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
অভিযুক্ত হাফিজুল সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে যশোর মেডিকেল কলেজ এলাকায় ভাড়া থাকেন। ঘটনার পর থেকেই হাফিজুল পলাতক রয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাফিজুলকে আটকের চেষ্ট চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
১৮ দিন আগে
নরসিংদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর ডোবা থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নরসিংদীতে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর জোনায়েদ মিয়া (৮) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শীলমান্দী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের একটি বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জোনায়েদ পশ্চিম বাগহাটা গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে। সে পার্শ্ববর্তী আব্দুল আজীজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টার দিকে জোনায়েদ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে স্বজন ও প্রতিবেশিরা বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে এবং মাইকিং করেও জোনায়েদের কোনো সন্ধান পায়নি। এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করে তার পরিবার। বুধবার সকালে বাড়ির পাশে ডোবায় কচুরিপানার ভেতর জোনায়েদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের চাচা স্বপন মিয়া বলেন, জোনায়েদ পানিতে ডুবে মারা যায়নি। তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে ডোবায় ফেলে গেছে। আমাদের কোনো শত্রু নেই। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা খবর পেয়ে ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতাল রিপোর্ট তৈরি করে মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আলামত সংগ্রহ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২৪ দিন আগে
জামালপুরে সিএনজি-অটোরিকশার সংঘর্ষে শিশু নিহত
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় মাহেন্দ্রর (ট্রাক্টর) সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশার যাত্রী আরও ৩ নারী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার ক্ষুদ্র জোনাইল মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জাহিন (৮) জোনাইলের ফকিরবাড়ী গ্রামের মামুনুর রশীদের ছেলে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় জামালপুর থেকে ৪ জন যাত্রী নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মাহেন্দ্রর সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা চারজনই গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিনকে মৃত ঘোষাণা করেন।
এছাড়া সামিরা (৪০), সেলিনা (৩৫) ও জাহিনের মা বিথিকে (৩৫) মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা প্রত্যেকেই জোনাইল গ্রামের বাসিন্দা।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর পরই অটোরিকশার চালক সুজনকে (১৮) পুলিশ আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
২৫ দিন আগে
ঋতু পরিবর্তনে ফরিদপুরে শিশুদের অসুখ বাড়ছে, হাসপাতালে ভিড়
শীত শেষে বসন্তের আগমনের মধ্যে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে ফরিদপুরে শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে সর্দিকাশি, জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। চিকিৎসকদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।
মৌসুম বদলের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ফরিদপুরের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক রোগীর উপস্থিতি। প্রিয় সন্তানকে নিয়ে অভিভাবকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সিরিয়ালের জন্য।
হাসপাতালটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আক্কাস মন্ডল জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রতিদিন শুধু আউটডোরে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী আসছে। ইনডোরেও প্রতিদিন সিট সংকট দেখা দিচ্ছে।
২৯ দিন আগে
দেশে ফিরল ভারতে পাচার হওয়া ২৮ শিশু-কিশোর
ভারতে পাচার হওয়া ২৮ বাংলাদেশি শিশু-কিশোরকে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। এদের মধ্যে ১৭ জন শিশু ও ১১ জন কিশোর।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভারত-ফেরত ২৮ শিশু-কিশোর বিভিন্ন সীমান্তপথে বাবামায়ের সঙ্গে, কেউ আবার দালালের মাধ্যমে ভারতে যায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি বেসরকারি এনজিও তাদের নিজস্ব আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে। এরপর আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা দেশে ফিরেছে।
তিনি বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে রাইটস, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার এবং মহিলা আইনজীবী সমিতি নামে তিনটি এনজিও তাদের গ্রহণ করে নিজ নিজ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করবে।
৩১ দিন আগে
সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু হত্যা
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সুপারী চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম ইমন মিয়া (৯)।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নের বাউশা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক মাস আগে ইমন প্রতিবেশী আতাহার আলীর গাছ থেকে সুপারী চুরি করে। এতদিন কিছু না বললেও শুক্রবার ইমনকে প্রতিবেশী আতাহার আলী তার ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে ঘরের দরজা লাগিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে ইমনের পরিবার তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। বর্তমান পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফেরদৌস আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সুপারী চুরির ঘটনায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে নির্বাচনি সহিসংতার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
৩৫ দিন আগে
মাদারীপুরে এক দিনে পৃথক স্থান থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মাদারীপুরের শিবচর ও কালকিনি উপজেলা থেকে একই দিনে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা দুজনই পানিতে ডুবে নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবারের (২ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনাদুটির একটি ঘটনা ঘটেছে শিবচর পৌরসভার ডিসি রোড এলাকায়, অন্যটি কালকিনি উপজেলার চরফতেপুর বাহাদুর এলাকায়।
গতকাল দুপুরে শিবচরের ডিসি রোড এলাকার মাওলানা রফিকুল ইসলামের স্ত্রীকে অজ্ঞান করে তিন মাস বয়সী শিশু মারিয়ামকে দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
শিশুটির মা কানন বেগম বলেন, দুপুরে মারিয়ামকে নিয়ে ঘর থেকে রাস্তায় এলে তাকে অজ্ঞান করে দুর্বৃত্তরা শিশুটিকে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ঘণ্টা খোঁজ করে বাড়ি পাশের পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশু নিহত
শিশুটির বাবা মাওলানা রফিকুল জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর মাথায় সমস্যা রয়েছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখেন। সেখানে দেওয়া যায়, মা কানন বেগম বাচ্চা নিয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন এবং পরে একা ঘরে ঢুকছেন। পরে পুলিশ তিন ঘণ্টা খোঁজ করে সন্ধ্যায় পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, কালকিনির চরফতেপুর বাহাদুর এলাকার একটি খালে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর মঙ্গলবার ওয়ালিদ (৩) নামে আরেকটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারে সদস্যরা জানান, সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাড়ির পাশে খালের কাছে খেলতে গিয়ে পরিবারের অলক্ষে পানিতে পরে ডুবে যায় ওয়ালিদ। এরপর কালকিনি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের লোক ও ডুবুরি দিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি। পরে মঙ্গলবার দুপুরে মরদেহ ভেসে উঠতে দেখা যায়।
কালকিনি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৯৯ দিন আগে