মৃত্যু
চট্টগ্রামে অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ২
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি অটোরিকশা লেভেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেন ধাক্কা দিয়েছে। এতে চালকসহ দুজন নিহত হন।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব কাঠগড় বিওসির মোড় লেভেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন আবু তাহের (৫০) ও অটোরিকশাচালক আব্দুস শুক্কুর (৪০)।
আবু তাহের কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৬ নম্বর মাইঙ্গাপাড়া এলাকার আব্দুল মাবুদ ওরফে কানা মামুদের ছেলে। অন্যদিকে আব্দুস শুক্কুর ধর্মপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, লেভেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী একটি ট্রেন অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ রেললাইনে অবস্থান নিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
৮ ঘণ্টা আগে
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু
দেশে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এ মৃত্যুর পর চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নতুন মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে বরিশাল ও ঢাকা বিভাগে একজন করে এবং চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে দুজন করে মারা গেছে। তাদের সবাই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৬১ হাজার ৯৭২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ৫৭ হাজার ৬১০ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গে আরও ৪ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১,২৩৬
দেশে আজ রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৩৬টি শিশু।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৫৬টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০১টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ৫৭টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৮৮টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৪৮। এই সময়ে ১ হাজার ৩৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৩০টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৫৬২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, দগ্ধ প্রবাসী ইমনের মৃত্যু
রাজধানীর সূত্রাপুরে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দগ্ধ সৌদি আরব প্রবাসী মো. ইমনের (২৬) মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ইমানের বাবা সিদ্দিক বেপারী (৬০), চাচাতো ভাই রাজিব (৩৮), খালাতো ভাই আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) এবং খালাতো বোন তানিয়া আক্তার (২০) দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এর আগে, গতকাল (শনিবার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা জানায়, দগ্ধরা সবাই শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার পৈতৃক ভিটায় পাশাপাশি বসবাস করেন। আহতদের মধ্যে রাজিব ন্যাশনাল হাসপাতালে মেকানিক হিসেবে কর্মরত। ধলু পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং তানিয়া পুরান ঢাকার উইমেন্স কলেজের স্নাতকের (সম্মান) শিক্ষার্থী।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. মো. সুলতান মাহমুদ জানান, সূত্রাপুরের ঘটনায় সৌদি আরব প্রবাসী মোহাম্মদ ইমন পৌনে ১২টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শনিবার দগ্ধ অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছিল।
হাসপাতলে দগ্ধ ধলুর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জানান, শুক্রবার বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা নিয়ে ইমনের বোন সুলতানার সঙ্গে তানিয়ার তর্কাতর্কি হয়। তানিয়া ময়লা পানি পরিষ্কার করতে বললে সুলতানা বিষয়টি সৌদি আরব অবস্থানরত তার ভাই ইমনকে জানান। খবর পেয়ে ইমন শনিবারই দেশে ফিরে আসেন।
সোনিয়া আরও জানান, শনিবার বিকেলে ইমন সবাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন আমিও মরব, তোদেরও মারব। এই কথা বলেই তিনি নিজ কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে কক্ষে থাকা সবাই দগ্ধ হন। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাদের মধ্যে ইমনের শরীরের ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ইমন, তানিয়া, সিদ্দিক ও রাজিবকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
পটুয়াখালীতে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার ৪ আরোহী নিহত
পটুয়াখালী কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার আরোহী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বসাকবাজার-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন: অটোরিকশাচালক কাইয়ুম উদ্দিন (৫০), যাত্রী শিল্পী রানী (৪০), তিথী রানী (২৩) এবং চালকের শ্যালক মো. জাহাঙ্গীর। তাদের সবার বাড়ি গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাউরিয়া-বৌবাজার এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকাগামী ‘ইমরান পরিবহন’-এর একটি বাস সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে দুটি যানবাহনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি মাছের ঘেরে পড়ে যায় এবং অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকচালক কাইয়ুম, শিল্পী রানী ও তিথী রানী নিহত হন। গুরুতর আহত জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
১৪ ঘণ্টা আগে
বংশালে অজ্ঞাত যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু
রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল কসাইটুলি জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারের মোড় থেকে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তানভীর হোসেন নামে এক পথচারী জানান, রাতে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় বংশাল কসাইটুলি জুম্মন কমিউনিটি সেন্টারের মোড়ে এক যুবককে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পথচারীরা জানান, ওই যুবকের দুটি পা ভাঙা ছিল। এছাড়া মাথার ডান পাশেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। নিহতের পরনে ছিল কালো রঙের হাফ হাতা টি-শার্ট এবং গাঢ় লাল বা মেরুন রঙের ট্রাউজার।
তবে ওই যুবকের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড, দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিহতের নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ প্রাণহানি, আক্রান্ত ১,০২০
দেশে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২০টি শিশু।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৫২টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০১টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ৫৩টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৭৯টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৪১। এই সময়ে ৮৩৮টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৭৬২টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৪৭৪। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৬ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ৪ দিন পর তরুণীর মৃত্যু, সাবেক স্বামী আটক
কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারায় অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তমা খাতুন (২০) নামের এক তরুণী চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের সাবেক স্বামী আবু বক্করকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়।
তমা খাতুন ভেড়ামারার ফকিরাবাদ বখশিপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে গোলাপনগর এলাকা থেকে ফকিরাবাদ বখশিপাড়ায় বাড়িতে ফিরছিলেন তমা। এ সময় রাস্তায় একটি মোটরসাইকেলের আরোহী তার গতিরোধ করে তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, কোনো অজ্ঞাত স্থানে তাকে নিয়ে গিয়ে অন্তত ৪-৫ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল উপর্যুপরি ধর্ষণ করে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। এরপর সেদিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে বখশিপাড়ার নির্জন মোড়ে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
পরে রাত সাড়ে ১২টার পর পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীকে উদ্ধার করে রাত একটার দিকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে রাতেই তাকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ৪ দিন চিকিৎসা শেষে গতকাল (শুক্রবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অপহরণের পরদিন নিহতের মা কাজলী খাতুন বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত তমার দেড় বছর আগে বিয়ে হয় গোলাপনগর এলাকার আবু বক্করের সঙ্গে। তবে গত দেড় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
তাদের ধারণা, তমাকে অপহরণ করে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক স্বামী বক্করের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
ভেড়ামারা থানা পুলিশ ইতোমধ্যে তার স্বামীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
নিহত তমার মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান হাবিব জানিয়েছেন, তমা অত্যন্ত ভালো একটা মেয়ে। ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর গোলাপনগর বাজার থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। ৪ জনের সংঘবদ্ধ একটি দল উপর্যুপরি ধর্ষণ শেষে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ফেলে দেয় বাড়ির পাশের একটি নির্জন মোড়ে। এর চার দিন পর রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে ভেড়ামারা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান হাবিব।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে নিহত তমার সাবেক স্বামী আবু বক্করকে আটক করা হয়েছে। থানায় তাকে জিজ্ঞেসাবাদ চলছে।
১ দিন আগে
খুলনায় ডেঙ্গু ও হামে মৃত্যু বেড়ে ৭৭, আক্রান্ত ২১,৭৬১
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ হাজার ৭৬১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে বিভাগে ডেঙ্গু ও হামে মোট ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত সর্বশেষ আলাদা দুটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরে হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৭১৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪৫ জনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
জেলা-ভিত্তিক হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনায়। জেলায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৫১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, বাগেরহাটে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। যশোরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৯৬২ জন (মৃত্যু ২ জন), চুয়াডাঙ্গায় ৬২ জন (মৃত্যু ১ জন), নড়াইলে ৩৫৭ জন, ঝিনাইদহে ২০২ জন, মাগুরায় ২০১ জন, কুষ্টিয়ায় ২০৮ জন এবং মেহেরপুরে ১৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সাতক্ষীরা জেলায় ২২০ জন এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর নতুন রোগী ভর্তির হিসাবেও খুলনা এগিয়ে রয়েছে। এ সময়ে খুলনা জেলায় ৩৯ জন, বাগেরহাটে ১৩ জন, মেহেরপুরে ৭ জন, সাতক্ষীরা জেলায় ৬ জন, যশোরে ৬ জন, নড়াইলে ৬ জন এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অপরদিকে, খুলনা বিভাগে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৪২ জনে। এর মধ্যে ৩৭৩ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত। এ সময়ে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৪২টি শিশু।
জেলা-ভিত্তিক তথ্যে জানা যায়, খুলনা জেলায় সন্দেহজনক হাম রোগী ২ হাজার ৪৩ জন (নিশ্চিত ৪৭ জন, মৃত্যু ২২টি শিশু), কুষ্টিয়ায় ২ হাজার ৭৯১ জন (নিশ্চিত ২৩ জন, মৃত্যু ১৩ জন), ঝিনাইদহে ৯৭৯ জন (নিশ্চিত ১৭ জন, মৃত্যু ৫ জন), চুয়াডাঙ্গায় ৫৭৭ জন (মৃত্যু ১ জন) এবং মেহেরপুরে ৬৭৫ জন (নিশ্চিত ১০ জন, মৃত্যু ১ জন)।
এছাড়া যশোরে ৮৭৪, নড়াইলে ৮৪০, বাগেরহাটে ৭৮১ এবং সাতক্ষীরায় ৩৪৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
১ দিন আগে
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে নারীর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২৫
ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রেবেকা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রেবেকা বেগমের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে এখন পর্যন্ত ফরিদপুরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫২০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন হতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সফল হওয়া সম্ভব বলে মতামত দেন তিনি।
২ দিন আগে