মৃত্যু
রাজধানীতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ গেল যুবকের
রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া বাঁশেরপুল এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মো. নাজমুল (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইমন (১৯) নামের এক যুবক আহত হয়েছেন।
বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাজমুলের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম মো. দেলোয়ার হোসেন। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন তিনি।
হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী মো. শাহিন জানান, কোনাপাড়া বাঁশেরপুর পেপার মিল গেটের সামনে দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নাজমুল ও তার বন্ধু ইমন গুরুতর আহত হন। পরে আমরা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে নাজমুলকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ইমনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে
কারামুক্তির ৭ দিন পর ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু
দীর্ঘ প্রায় সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার ৭ দিনের মাথায় মারা গেলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকের দেওয়া মৃত্যু রেজিস্ট্রারের উদ্ধৃতি দিয়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোয়াজ শেরপুর শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মাছ ব্যবসায়ী ফজু মিয়ার ছেলে ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের শেরপুর সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে তিনি বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।
নিহতের পারিবারের সদস্যরা জানান, চব্বিশের গণআন্দোলনের পর আত্মগোপণে থাকা অবস্থায় রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস কারাগারে থাকার পর গত সপ্তাহে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজবাড়ি শেরপুরে ফিরেছিলেন আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ। তার শারীরিক কোনো জটিলতা ছিল না। গতকাল (মঙ্গলবার) তিনি ঢাকায় যান এবং হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর আজ (বুধবার) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের বাবা ফজু মিয়া জানান, আজ (বুধবার) আসরের নামাজের পর শেরপুরের মীরগঞ্জ বারাকপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ বিষয়ে মৃত্যু সনদ হাতে পেলে সেটি আমরা আদালতে উপস্থাপন করব। আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। সেক্ষেত্রে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চার্জশিট থেকে মৃত ব্যক্তির নাম বাদ যাবে।
১ দিন আগে
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৬৫৪
দেশে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ৬৫৪টি শিশু।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও দুটি শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৬৮টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৬টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৩২৪টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮১। এই সময়ে ১ হাজার ৫৪টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৫৫টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৪৪ হাজার ২৬০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৯৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৩০ হাজার ৮৮৫ রোগী, যাদের মধ্যে ২৭ হাজার ২২৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১ দিন আগে
এপ্রিলে ৪৬৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে ৪০৪ প্রাণ
দেশে গত এপ্রিল মাসজুড়ে ৪৬৩টি দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন নিহত এবং ৭০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন নারী ও ৪৮টি শিশু রয়েছে।
বুধবার (৬ মে) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো মাসিক সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।
এতে দেখা যায়, এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়েছে। ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১৩ জন, যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
যানবাহন ও সড়কভিত্তিক পরিসংখ্যান
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এছাড়া যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন।
বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এ বিভাগে ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।
সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪১ দশমিক ৬৮ শতাংশ দুর্ঘটনা আঞ্চলিক সড়কে এবং ৩৬ দশমিক ২৮ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলোর বড় একটি অংশ (৪১.৯০ শতাংশ) ঘটেছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে।
পেশাজীবী ও অন্যান্য হতাহত
নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী রয়েছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত মাসে ৪৯ জন শিক্ষার্থী, ১৯ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ১৭ জন বিক্রয় প্রতিনিধি, ১৪ জন এনজিও কর্মী এবং ১২ জন ধানকাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন।
সড়ক ছাড়াও গত মাসে ৩৪টি রেল দুর্ঘটনায় ২৬ জন এবং ৭টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশ
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক অসুস্থতা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটি ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনআরএসসি) পুনর্গঠন, বিআরটিএ’র স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা, মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং টেকসই পরিবহন কৌশলের আওতায় সমন্বিত যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করা। সংস্থাটির মতে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি।
১ দিন আগে
চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ২৬
চীনের একটি মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬১ জন।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) জানায়, গতকাল (সোমবার) বিকেলে দেশটির হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের একটি আতশবাজি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না ডেইলি জানিয়েছে, কারখানাটি হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানি পরিচালনা করত। এটি মূলত চাংশা অধ্যুষিত কাউন্টি-স্তরের শহর লিউইয়াংয়ে অবস্থিত। কারখানাটি আতশবাজি উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।
চাংশার মেয়র চেন বোঝাং জানান, ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ এখনও চলমান।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনে (সিসিটিভি) আজ (মঙ্গলবার) প্রকাশিত আকাশচিত্রে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের কিছু অংশ থেকে এখনও সাদা ধোঁয়া উঠছে। অনেক স্থাপনা ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০০ জন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় এবং বিস্ফোরণস্থলের কাছে থাকা দুটি কালো বারুদের গুদাম থেকে উচ্চ ঝুঁকির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এই বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করছে এবং পুলিশ ওই কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আটক করেছেন বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং আহতদের উদ্ধার করতে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত ঘটনার কারণ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে ঝুঁকি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার নির্দেশও দেন তিনি।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে নতুন দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ধারকর্মীরা পানি ছিটানো ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো যায়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য তিনটি রোবটও মোতায়েন করেন তারা।
লিউইয়াংয়ের আতশবাজি উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানায়, চীনা ফায়ারক্র্যাকার নামে প্রথম নথিভুক্ত আতশবাজি লিউইয়াংয়ের কাছে বসবাসকারী এক সন্ন্যাসী লি তিয়ান তৈরি করেছিলেন। এই সন্ন্যাসী চীনের তাং রাজবংশের (প্রায় ৬১৮ থেকে ৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে বাস করতেন। তিনি একদিন লক্ষ করেন, ফাঁপা বাঁশের ভেতরে গানপাউডার ভরে দিলে জোরে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর তিনি এগুলো একসঙ্গে বেঁধে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের আতশবাজি তৈরি করেন। এই আতশবাজিগুলো অশুভ আত্মা তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হতো বলে গিনেস জানায়।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে চীনে আতশবাজির দোকানে দুটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।
২ দিন আগে
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু মারা গেছে। তাদের একজনের বয়স ৬ মাস এবং অন্যজনের ৫ মাস।
সোমবার (৪ মে) রাতে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক সময়ে তারা মারা যায়।
৬ মাস বয়সী শিশুটির বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে এবং ৫ মাস বয়সী শিশুটির বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫ শিশু মারা গেছে।
এদিকে, বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে ২০০ জন ভর্তি আছে। এর মধ্যে ৮৩ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ১০ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ৬ জন উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে, ১ জন মা ও শিশু হাসপাতালে, ১ জন আল হারামাইন হাসপাতালে, ৭ জন রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে, ২ জন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে, ২ জন নর্থ ইস্ট হাসপাতালে, ২ জন পার্কভিউ মেডিকেল হাসপাতালে, ৪ জন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ২ জন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১ জন শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৪৬ জন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে, ৩ জন জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১৫ জন হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে এবং ১৫ জন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে।
গতকাল (সোমবার) সকাল ৬টা থেকে আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় ১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে হামের উপসর্গ ও হাম নিয়ে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৬৩ জন।
২ দিন আগে
সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত বেড়ে ৯
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক ও পিকআপ-ভ্যানের সংঘর্ষে রামিম মিয়া (৫০) নামে আহত আরেক ব্যক্তি মারা গেছেন। এ নিয়ে এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ জনে।
রবিবার (৩ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম।
নিহত রামিম সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার আলিমুদ্দিনের ছেলে।
গতকাল (রবিবার) সকাল ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজারে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ঘটা ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৪ জন এবং পরে আরও ৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১০-১২ জন। হতাহতরা সবাই নির্মাণশ্রমিক।
নিহতরা হলেন– সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার সরিষা নার্গিস (৪৫), দিরাইয়ের সেচনী গ্রামের মোছা. মুন্নি বেগম (৩৫), দিরাইয়ের ভাটিপাড়া গ্রামের নুরুজ আলী (৬০), ভাটিপাড়া নূর নগরের ফরিদুল (৩৫), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের পান্ডব বিশ্বাস (২০) ও পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান (৪৫)।
আহতের মধ্যে কয়েকজন জানান, ভবনে ঢালাইয়ের কাজের জন্য সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে একটি পিকআপে করে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। পিকআপে ২০ জন ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল ঢালাই মেশিন। পিকআপটি তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক আসা একটি কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে এর সংঘর্ষ হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সবাই ছিটকে পড়েন।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার আগে ট্রাকের চালক ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। পরে হেলপার গাড়ি চালানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
৪ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকা ধান তলিয়ে যেতে দেখে লুটিয়ে পড়লেন কৃষক, পরে মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পানির নিচে পাকা ধান ডুবে যেতে দেখে জমির আইলে লুটিয়ে পড়ে আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২ মে) উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, কৃষক আহাদ এবার বোরো মৌসুমে ঋণ করে ছয় বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন। পাকার সময়ে হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সব ধান পানিতে তলিয়ে যায়। সকালে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে গিয়ে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় বাড়িতে আনার সময় তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে জানান তারা।
স্থানীয় ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) সদস্য আহামেদ আলী বলেন, চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যেতে দেখে মানুষটা সহ্য করতে পারেননি।
নিহত কৃষকের ভাতিজা মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ জানান, আজ (শনিবার) দুপুরে আহাদ মিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ জানান, একজন কৃষকের মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে আমাদের এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিহতের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, একজন কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
৪ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের ২ আরোহী নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা ২ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতরা সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই ছিলেন।
রবিবার (৩ মে) সকাল পৌনে ৬টার দিকে নাচোল উপজেলার বেনিপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— শিবগঞ্জ উপজেলার আটরশিয়ার ইউনিয়নের বালুটুংগী গ্রামের মোজ্জাম্মেলের ছেলে রবিউল ইসলাম জিসান (২৭) এবং নাচোল উপজেলার আজিপুর গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে সোহাগ হোসেন (১৭)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ও সোহাগ আজ (রবিবার) সকাল পৌনে ৬টার দিকে মোটরসাইকেলে নাচোল থেকে ধানসুড়ার উদ্দেশে রওনা হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ধানসুড়ার দিক থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল দেবনাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত সেখানে পৌঁছে ট্রাকটি জব্দ করে। সেখান থেকে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
৫ দিন আগে
সিলেটে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৮
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক ও পিকআপের সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
রবিবার (৩ মে) সকাল সোয়া ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তেলিবাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ৮ জনের মধ্যে ৪ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— সিলেটের জালালাবাদ থানার সুজাত আলীর ছেলে বদরুল (৩০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত খরম আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), একই গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা.মুন্নি (৩৫) ও মৃত নূর সালামের ছেলে ফরিদুল (৩৫)।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট নগরীর কালিবাড়ি এলাকার মৃত শুকুর উল্লাহর ছেলে তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে রামিন (৪০) ও একই এলাকার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া (৪০), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০), হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জফুর আলীর ছেলে রাজা মিয়া (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি পিকআপে করে বেশ কয়েকজন শ্রমিক সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে যাচ্ছিলেন। তেলিবাজার এলাকায় যাওয়ার পর উল্টোদিক থেকে আসা কাঁঠাল ভর্তি একটি ট্রাকের সাথে পিকআপের সংঘর্ষ হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো মনজুরুল আলম বলেন, নিহতদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৪ জন মারা যান। এছাড়া ওসমানী হাসপাতালে ৩ জন এবং উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন মারা যারা যান।
তিনি বলেন, এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিতে পুলিশ কাজ করছে।
৫ দিন আগে