বাংলাদেশ
মক্কা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা আল-মুকাররমাহকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ মক্কা আল-মুকাররমাহ এবং সৌদি আরবের অন্যান্য পবিত্র স্থানের পবিত্রতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করছে। একইসঙ্গে এসব স্থান সুরক্ষায় সৌদি আরব ও সেই দেশের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলছে, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সর্বদা পূর্ণমাত্রায় নিশ্চিত ও সমুন্নত রাখতে হবে।
৪ দিন আগে
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-নরওয়ে
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অফশোর অনুসন্ধান, সবুজ বিনিয়োগসহ জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিলডেন এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সায়েদ মুনতাসির বায়েজীদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা আনতে, বিদ্যুতের সঠিক চাহিদা নিরূপণে দক্ষতা বাড়াতে এবং সিস্টেম লস কমাতে পাওয়ার অডিটিংয়ে নরওয়ে সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
এছাড়া অফশোর বিডিংয়ে অংশগ্রহণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগসহ বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে নরওয়ের চলমান অংশগ্রহণ এবং দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি রোডম্যাপ অনুযায়ী প্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে নরওয়ের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নরওয়েজিয়ান বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে নরডিক দেশগুলোর অধিকতর অংশগ্রহণকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা, বিশেষ করে অফশোর নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ প্রযুক্তি খাতে সম্পর্ক আরও গভীর করার ব্যাপারে নরওয়ের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে আরও সহযোগিতার ক্ষেত্র অন্বেষণে তার সরকারের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
বাংলাদেশে সাফল্যের ২০ বছর পূর্ণ করল কেএফসি
বাংলাদেশে সাফল্যের ২০ বছর পূর্ণ করেছে কেএফসি। ইয়াম! ব্র্যান্ডসের সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর গুলশানে প্রথম রেস্তোরাঁ চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে।
ট্রান্সকম গ্রুপের হাত ধরে দুই দশক আগে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করা কেএফসি সময়ের সঙ্গে দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অমিত দেব থাপা।
তিনি বলেন, ‘২০ বছর আগে ট্রান্সকম গ্রুপের হাত ধরে বাংলাদেশে বিশ্বমানের এই ব্র্যান্ডটির সূচনা হয়, যা সময়ের সঙ্গে দেশের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।’
অমিত দেব থাপা আরও বলেন, ‘স্বাদের চেয়েও আমাদের বড় প্রাপ্তি মানুষের হাসিমুখ। গত দুই দশক ধরে কর্মসংস্থান তৈরি, সমাজের পাশে দাঁড়ানো এবং গ্রাহকদের আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে আমরা এই যাত্রা অব্যাহত রেখেছি।’
সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করা কেএফসি বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ কুইক-সার্ভিস রেস্তোরাঁ (QSR) চেইনে পরিণত হয়েছে। দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগে ১০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ শহরে রেস্তোরাঁ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ব্র্যান্ডটি তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।
অনন্য রেসিপি, আন্তরিক গ্রাহকসেবা ও আধুনিক ডিজিটাল অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তৃতীয় দশকের পথচলা শুরু করেছে কেএফসি বাংলাদেশ।
২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরজুড়ে গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় অফার, রেস্তোরাঁগুলোতে উৎসবমুখর আয়োজনসহ নানা চমকের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
১২ দিন আগে
কার্বন বাণিজ্যে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা দেখছে সিঙ্গাপুর
আন্তর্জাতিক কার্বন বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিশাল সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার মিচেল লি।
পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নির্মাণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট মোকাবিলায় কার্বন বাণিজ্যের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকাস্থ সিঙ্গাপুর হাইকমিশনে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের (সিএজেএফ) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।
বৈঠকে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়বিচার, কার্বন বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু প্রযুক্তি, টেকসই নগরায়ণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে মিচেল লি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন বাণিজ্য বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যেখানে বাংলাদেশ নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধাও অর্জন করতে পারে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
সিঙ্গাপুরের উল্লম্ব কৃষি ও সীমিত ভূমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই খাদ্য উৎপাদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন হাইকমিশনার মিচেল লি। তিনি পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই নগর উন্নয়নে সিঙ্গাপুরের অর্জন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় হতে পারে বলেও মতামত দেন।
হাইকমিশনার জানান, সীমিত ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সাহায্যে সিঙ্গাপুর টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে পানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা, বর্জ্য শোধন ও উলম্ব (বহুতলা বিশিষ্ট) কৃষির ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের অর্জিত প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী শিক্ষণীয় মাধ্যম হতে পারে।
অন্যদিকে সিএজেএফের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত সংকট নয়; এটি অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি, স্বাস্থ্য, নগরায়ণ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই জলবায়ু মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর সীমিত ভূমি, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেও প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দুই দেশের অভিজ্ঞতার সমন্বয় জলবায়ু মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশে কার্বন প্রকল্পের সম্ভাবনা, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও উঠে আসে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে সবজি, সামুদ্রিক খাদ্যসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহের সুযোগ এবং সিঙ্গাপুরের আধুনিক খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি থেকে বাংলাদেশের শেখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে দূরদর্শী, বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে জলবায়ু, পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা ও কার্বন বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের বেসরকারি ও নাগরিক পর্যায়ের অংশীদারত্ব আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সিএজেএফের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল রওমান স্মিতা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঈন উদ্দিন খান, ইমতিয়াজ আহমেদ, দৈনিক আমার বার্তার উপসম্পাদক এস এম রানা ও মেহেদী হাসান খান।
১৭ দিন আগে
মানচিত্রের পাতায় বাংলাদেশ: সিঙ্গাপুরে গুগলের কানেক্ট লাইভে বাংলাদেশি লোকাল গাইডরা
একটি ছোট রিভিউ, একটি ছবি কিংবা সংশোধন করা একটি তথ্য—সাধারণ চোখে এগুলো হয়তো খুব ছোট ছোট কাজ। কিন্তু এই ছোট কাজগুলোই কোনো একটি জায়গায় যাওয়ার পথ সহজ করে দিতে পারে, কোনো ব্যবসাকে খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে, এমনকি একটি দেশের ডিজিটাল পরিচয়কেও আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে পারে।
গুগল ম্যাপসের বিশাল জগতের পেছনে এমন অসংখ্য মানুষের স্বেচ্ছাশ্রম কাজ করে যাচ্ছে। তারা নিজেদের দেখা, জানা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ম্যাপে নতুন স্থান যোগ করেন, ভুল তথ্য সংশোধন করেন, ছবি দেন, রিভিউ লেখেন, প্রবেশযোগ্যতার তথ্য জানান। বিনিময়ে তাদের হাতে আসে না কোনো পারিশ্রমিক। তবু কাজটি তারা করে চলেন—মানুষের পথচলা একটু সহজ করতে এবং পৃথিবীর মানচিত্রকে আরও নির্ভুল করে তুলতে।
এই স্বেচ্ছাসেবীদেরই বলা হয় গুগল ম্যাপস লোকাল গাইড।
গত ৩০ ও ৩১ জুলাই সিঙ্গাপুরের গুগল এশিয়া-প্যাসিফিক সদর দপ্তরে বসেছিল তাদেরই এক আন্তর্জাতিক মিলনমেলা ‘কানেক্ট লাইভ সিঙ্গাপুর ২০২৬’। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত অভিজ্ঞ গুগল ম্যাপস কন্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও অংশ নেন কয়েকজন লোকাল গাইড।
কারও কাছে এটি ছিল বহুদিনের স্বপ্নপূরণ, কারও কাছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মুহূর্ত, আবার কারও কাছে নিজের দেশ, সংস্কৃতি ও বাস্তবতার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ।
মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি দম্পতি পাভেল সারওয়ার ও সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী ছিলেন তাদের মধ্যে। তাদের সঙ্গে ছিলেন মো. খোকন সরকার, মো. শফিউল বাশার ও ফারহানা আক্তারসহ বাংলাদেশের আরও কয়েকজন লোকাল গাইড।
একটি মানচিত্র, অসংখ্য গল্প
আমরা সাধারণত গুগল ম্যাপ দেখি পথ খুঁজে নেওয়ার প্রযুক্তি হিসেবে। কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হবে, কাছাকাছি কোথায় রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল কিংবা দোকান আছে—এসব তথ্যের জন্য প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই সেবা ব্যবহার করেন।
কিন্তু যে মানচিত্রটি আমরা পর্দায় দেখি, তার পেছনে রয়েছে মানুষের অসংখ্য ছোট ছোট অবদান।
কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিক করা, ভুল ঠিকানা সংশোধন করা, নতুন কোনো স্থান যুক্ত করা, ছবি দেওয়া, রিভিউ লেখা কিংবা কোনো স্থানের প্রবেশযোগ্যতার তথ্য জানানো—এসব কাজই ধীরে ধীরে একটি মানচিত্রকে আরও তথ্যসমৃদ্ধ করে। আর সেই কাজের বড় একটি অংশ করেন লোকাল গাইডরা।
পাভেল সারওয়ারের কাছে এই কাজের গুরুত্ব ব্যক্তিগত স্বীকৃতির চেয়েও বড়। তার মতে, গুগল ম্যাপসে অবদান রাখার অন্যতম উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দেশের ইতিবাচক দিকগুলো বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।
তিনি বলেন, ‘কোনো পুরস্কার বা স্বীকৃতির আশায় নয়, বরং দেশকে বিশ্বের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা উচিত।’ তার আহ্বান, সঠিক, নির্ভুল ও মানসম্মত তথ্য, ছবি ও রিভিউয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরা।
৫০০ মিলিয়নের কমিউনিটি থেকে ১৫০ জন
কানেক্ট লাইভ গুগল লোকাল গাইডসের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজন। বিশ্বের বিশাল লোকাল গাইডস কমিউনিটি থেকে সীমিতসংখ্যক কন্ট্রিবিউটরকে বাছাই করে এ আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
পাভেল সারওয়ার জানান, এবারের কানেক্ট লাইভ তিনটি ভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিশ্বের বিশাল লোকাল গাইডস কমিউনিটি থেকে মাত্র ১৫০ জন কন্ট্রিবিউটর এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাই তার কাছে সিঙ্গাপুর সফর নিছক একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনের অংশ নেওয়া নয়; বরং দীর্ঘদিনের অবদানের একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
তবে সম্মেলনের বেশ কিছু আলোচনা নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট বা এনডিএর আওতায় থাকায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কিংবা নতুন ফিচারের বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
তবুও একটি বিষয় স্পষ্ট—গুগল ম্যাপসের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর সেই আলোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লোকাল গাইডদের অভিজ্ঞতাও জায়গা করে নিচ্ছে।
৩৬ দিন আগে
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশবের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও নতুন সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাউন্সিলের আগ্রহের কথা জানান।
সাক্ষাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা, জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব আরও গভীর করার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
৩৯ দিন আগে
দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ‘হোম শো ব্রাজিল’ মেলায় বাংলাদেশ
দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’ মেলায় অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আর্থিক সহযোগিতায় এবং ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় সাউ পাওলোর দিসিত্রিও আনিয়েম্বি প্রাঙ্গণে গতকাল (মঙ্গলবার) এই মেলা শুরু হয়েছে, যা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত চলবে।
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ এই মেলায় বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠান ৫টি বুথে অংশগ্রহণ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে: জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মাদার ট্যানারি, রেইনবো জুট এবং ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস।
এ ছাড়াও অন্য একটি বুথে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে ব্রাজিল বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ব্রশিওর, লিফলেট, বিভিন্ন প্রকাশনা প্রদর্শন করা হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রসার ও প্রচারবিষয়ক বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো পাটজাত পণ্য, ব্যাগ, চামড়াজাত পণ্য, প্রাকৃতিক তন্তুর ঝুড়ি, ঘর সাজানোর সামগ্রী, বাঁশজাত পণ্য, টেরাকোটা ও মাটির তৈরি সামগ্রী এবং নকশীকাঁথা প্রদর্শন করছে।
৩৯ দিন আগে
চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে আর বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং শত-সহস্র শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় কোনো একক গোষ্ঠীর চেতনা বিক্রির হাতিয়ার হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে উসকানিমূলক ফাঁদে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং শত-সহস্র শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয় কোনো একক গোষ্ঠীর চেতনা বিক্রির হাতিয়ার হতে পারে না। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে উসকানিমূলক ফাঁদে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল, তা ছিল দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আরাধনার ফল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে। ফলে চেতনা বিক্রির রাজনীতি দিয়ে আর বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
৪৩ দিন আগে
বাংলাদেশকে ‘ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হলো বাংলাদেশকে কখনোই পরনির্ভরশীল বা ‘ক্লায়েন্ট’ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। তিনি বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ প্রথম’ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো বাংলাদেশকে আর কখনো সেই অবস্থায় ফিরে যেতে না দেওয়া।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অসীম সাহস, নির্ভীক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশপ্রেম আমাদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর যারা আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগ ও অদম্য মনোবল প্রজন্ম পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, দুই বছর আগে দেশের পরিস্থিতি ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে নৃশংস সময়গুলোর একটি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বাইরে থেকে দেখেছি যে ছোট ছোট বাচ্চারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, প্রাণ দিচ্ছে, আহত হচ্ছে। তারপর একসময় পুরো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হয়ে গেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে নৃশংস সময়, স্বাধীনতার পর এমন কালো অধ্যায় আমরা আর দেখিনি।
তিনি জানান, সে সময় জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তরের সঙ্গে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
ড. খলিলুর রহমানের কথায়, ‘আগস্টের একেবারে শুরুর দিকে আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলাম। পয়লা আগস্ট আমি ইমোশনালি এতটাই কাতর হয়ে পড়েছিলাম যে আমি জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তরে ফোন করব। বাংলাদেশে এই ধরনের একটা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় তিনি উপেক্ষা করতে পারেন না—সেই বিষয়টি আমি তাকে বলেছি।’
‘আমার ধারণা, তিনি নিশ্চুপ বসে ছিলেন না। এর কিছুদিন পরেই দেখি যে অন্তত কিছু কিছু বাহিনীর ক্ষেত্রে গুলি বর্ষণ বন্ধ হয়েছে। আমার ধারণা, পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেও সম্ভবত এর একটি ভূমিকা ছিল।’
জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাকে সরকারে যোগ দিতে আহ্বান জানান এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল—প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে (গণতান্ত্রিক) উত্তরণ সম্পন্ন করা। তিনটি কাজই আমরা করতে পেরেছি।
৪৬ দিন আগে
বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেবে দক্ষিণ কোরিয়া
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সই হয়েছে। এতে বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতি ভিত্তিতে সুবিধা পাবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ চুক্তি সই হয়। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনি শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ে আমরা বিশ্বের একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সরকার ৫ মাসের মাথায় প্রথম এ সিইপিএ করেছে।
তিনি বলেন, এ বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকার শুল্কনীতি ভিত্তিতে সুবিধা পাবে। দক্ষিণ কোরিয়া ৮৭ শতাংশ পণ্যে সুবিধা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া দুই ট্রিলিয়ন অর্থনীতির একটি দেশ। আমরা একটি বড় দেশকে বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে পাচ্ছি। বাংলাদেশ থেকে অগ্রাধিকার পণ্য হিসেবে এখন তৈরি পোশাক, চামড়া, পাটজাতপণ্যসহ বেশকিছু পণ্য শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, কোরিয়া থেকে আমদানির ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক এবং খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে সুবিধা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালে আমরা বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ইকোনমিক সাইজে নিয়ে যেতে চাই। সেজন্য আমাদের ৮ শতাংশ গ্রোথ দরকার। তার জন্য প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগ। আমরা এসব চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাচ্ছি।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, কোরিয়া ও বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল ব্যবসা দিয়ে এটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ব এখন পণ্য বহুমুখীকারণে যাচ্ছে, আমাদের দুই দেশকেও বহুমুখী পণ্য আমদানি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। সেখানে আমরা প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইনে কাজ করতে চাই।
কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এ চুক্তির ফলে এখন কোরিয়ান কোম্পানিগুলো এদেশে সুবিধাজনকভাবে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে।
৪৭ দিন আগে