জেলে
সিলেটে বজ্রপাতে জেলে নিহত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে মাছ শিকার করতে গিয়ে বজ্রপাতে রামচন্দ্র তালুকদার (৫৫) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালাইরাগ নতুনবাজার এলাকার ধলাই নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার মহানন্দ তালুকদারের ছেলে। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ নতুনবাজার এলাকার একটি কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, রামচন্দ্র তালুকদারসহ কয়েকজন মৎস্যজীবী নতুনবাজার এলাকায় ভাড়া থেকে ধলাই নদীতে বেড়জাল দিয়ে মাছ শিকার করতেন। গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যার পর রামচন্দ্র একাই একটি ডিঙি নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ৯টার দিকে নদীতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
৬ দিন আগে
দস্যুর ভয়ে সুন্দরবনের জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ, রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় বন বিভাগ
বনদস্যু আতঙ্কে দুবলারচরের দশ হাজারের অধিক শুঁটকিকরণ জেলে গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন। গত দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের। মাছধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলার আলোরকোল থেকে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলার দশ হাজারের অধিক শুঁটকিকরণ জেলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুমের শেষে এসে কী নিয়ে বাড়ি যাবেন, সে চিন্তায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
তিনি বলেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে ৪ জন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছিল। তখন থেকে জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুন্দরবনে দস্যুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।
আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল, ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সাগরে গেলে ডাকাত।’
তিনি বলেন, দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের হাতে এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছেন। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। গত দুই দিনেও ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে আমাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না। ফলে আমাদের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সুন্দরবন-সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদারসহ কয়েকজন মুদি দোকানি বলেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় আমাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।
৩১ দিন আগে
বাগেরহাট কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন ২৩ ভারতীয় জেলে
বাগেরহাট জেলা কারাগারে বন্দি থাকা ভারতীয় ২৩ জন জেলে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আদালতের নির্দেশে কারা কর্তৃপক্ষ কোস্টগার্ডের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন। এ সময় ভারতীয় দুতাবাসের কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা নিরপত্তা দিয়ে ভারতীয় ওইসব জেলেদের মোংলায় নিয়ে যান।
আগামী পরশু (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী স্থানে ভারতীয় কোস্টগার্ড সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশ জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ ধরার অপরাধে নৌবাহিনীর সদস্যরা গত অক্টোবর মাসে দুই দফায় ওই ২৩ জন জেলেকে আটক করেন। এর মধ্যে একটি ট্রলারসহ ১৪ জনকে এবং অপর একটি ট্রলারসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে বাগেরহাটের মোংলা থানায় হস্তান্তর করে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ এবং মাছ ধরার অপরাধে সমুদ্র মৎস্য আইনে মামলা করা হয়।
পরে পুলিশ তাদের বাগেরহাট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠালে বিচারক জেলা কারাগারে পাঠান।
বাগেরহাট জেলা কারাগারের সুপার মো. মোস্তফা কামাল জানান, বাংলাদেশ জলসীমা থেকে আটক ভারতীয় ১৪ জেলে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর এবং ৯ জেলে ২৪ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে আসেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি বাগেরহাটের আদালত থেকে ভারতীয় ওই ২৩ জেলেকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ২৫ জানুয়ারি স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আদেশ আসে। আদেশ মোতাবেক তাদের কারগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান মোস্তফা কামাল।
কোস্টগার্ড মোংলা পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সেলিম বিশ্বাস জানান, বাগেরহাট জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ আজ (মঙ্গলবার) ভারতীয় ২৩ জেলেকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আগামীকাল (বুধবার) সকালে মোংলা থেকে কোস্টগার্ড সদস্যরা ওই জেলেদের নিয়ে সমুদ্র পথে রওনা হবেন। এরপর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমার মধ্যবর্তী স্থানে ভারতীয় কোস্টগার্ডের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আরও ৪৭ জন ভারতীয় জেলে দেশে ফিরে গেছেন।
৫৩ দিন আগে
সুন্দরবন থেকে ৭ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি
মুক্তিপণের দাবিতে ডন বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীর হাঁসখালী, চেলাকাটা, হেতালবুনি খাল থেকে জেলেদের অপহরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন ফিরে আসা জেলেরা।
অপহৃত জেলেরা হলেন— সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের আব্দুল আজিজ (৫০), ইব্রাহিম হোসেন (৪৫), আনারুল ইসলাম (২২), নাজমুল হক (৩৪), শামিম হোসেন (৩৬), আনোয়ার হোসেন (৩২) ও হরিনগর জেলেপাড়ার মুজিবুল হোসেন (৩৫)।
ফিরে আসা দুই জেলে ফজের আলী ও সবুজ মিয়া জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে পাশ নিয়ে কাঁকড়া ধরার জন্য তারা সুন্দরবনে যান। বনে কাঁকড়া শিকারের জন্য রবিবার তারা মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন খালে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে তিনটি নৌকায় ১০ জন বন্দুকধারী তাদের ঘিরে ধরে। এ সময় তারা প্রতি নৌকা থেকে একজন করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিকাশ নম্বর দিয়ে সেটিতে মুক্তিপণের মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
তারা আরও জানান, ঋণ করে তারা বনে গিয়েছিলেন। এখন চালান তো উঠবেই না, উল্টো মুক্তিপণ দিয়ে সহকর্মীদের ছাড়াতে হবে। এমন দুরবস্থার মধ্যে পড়ার চেয়ে মৃত্যুও ভালো ছিল বলে আক্ষেপ করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবনের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, বনবিভাগের স্মার্ট পেট্রোল টিমের সদস্যরা নিচে রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি আপনারা কোস্টগার্ডকে একটু অবহিত করেন।
কোস্টগার্ড কৈখালী বিসিজি স্টেশন সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বিষয়টি তারা শুনেছেন। অপহরণের শিকার জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। সবকিছু নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
১০৪ দিন আগে
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে জেলে নিহত, ৭ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে সুব্রত মণ্ডল (৩২) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল খালে ওই ঘটনা ঘটে। প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার লাশ উদ্ধার হয়েছে।
নিহত সুব্রত খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকার কুমুদ মণ্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি একজন জেলে ছিলেন। সুব্রত মণ্ডল সুন্দরবনে নদী–খালে মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন থেকে সরকারি রাজস্ব দিয়ে পাশ সংগ্রহ করে সুব্রতসহ কয়েকজন জেলে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। আমুরবুনিয়া গ্রাম থেকে হেঁটে জোংড়া এলাকায় যান তাঁরা। পথে নদী–খাল সাঁতরে পার হন তাঁরা।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় গরু বিক্রির দ্বন্দ্বে নিহত দুই ভাই
কাঁকড়া ও মাছ সংগ্রহ করে সুন্দরবন থেকে ফেরার পথে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে করমজল খাল সাঁতরে পার হওয়ার সময় একটি কুমির সুব্রতকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য জেলেরা চেষ্টার পরও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালে তল্লাশি শুরু করেন।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে করমজল খালের গজালমারী এলাকায় পানির নিচ থেকে গ্রামবাসীরা সুব্রতের লাশ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই সুব্রত মণ্ডল মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিল। কুমিরের হামলায় নিহত হওয়ায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে বলে আশ্বাস দেন।
১৭২ দিন আগে
উত্তাল জোয়ারে ভেসে যাচ্ছিল পর্যটক, উদ্ধার করল জেলেরা
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে ভেসে যাওয়ার সময় এক পর্যটককে উদ্ধার করেছেন জেলেরা। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে হোটেল সী-ভিউ সংলগ্ন সৈকতে এই ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
আহত ওই পর্যটক তানভীর (৩০) ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। গতকাল ৭-৮ বন্ধু মিলে কুয়াকাটা বেড়াতে আসে। গোসলে নেমে উত্তাল ডেউয়ে গভীরে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, আজকে দুপুরে বেশ কয়েকজন পর্যটক মিলে একজনকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে এসেছে। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। পানিজনিত সমস্যা পাওয়া গেছে।
পড়ুন: জাফলংয়ে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু
প্রত্যক্ষদর্শী সৈকত ফটোগ্রাফার মো. মেশকাত জানান, সৈকতে লাগোয়া অসংখ্য পর্যটক গোসল করে। এর মধ্যে একজনকে আমরা তলিয়ে যেতে দেখি। তাৎক্ষণিক সামনে থাকা জেলেদের সহযোগিতায় আমরা তাকে উদ্ধার করি। পরবর্তীতে আমরা তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই। যখন তাকে উঠানো হয়, তখন তিনি অনেক অসুস্থ ছিলেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন ইনচার্জ তাপস জানান, জেলেদের কাছে জেনে আমরা হাসপাতালে খোঁজ খবর নিয়েছি এখন ওই পর্যটক সুস্থ রয়েছেন। তবে আমাদের সদস্যরা খোঁজ খবর নিতে তাদের হোটেল শনাক্ত করা এবং তাদের বর্তমান অবস্থা জানতে কাজ করছে।
২৩৯ দিন আগে
পদ্মায় মাছ ধরতে গিয়ে আটক বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দিল বিএসএফ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় আটক আলমগীর শেখ নামে এক বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর আটক জেলেকে ফেরত দেওয়া হয়। আজ (মঙ্গলবার) বিকালে ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আলমগীর শেখ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী রামনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিত থেকে জানা যায়, সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রঘুনাথপুর সীমান্তে প্রবাহিত পদ্মা নদীতে ছোট নৌকা নিয়ে মাছ ধরার সময় অবৈধভাবে ভারতের প্রায় ৭০০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়েন আলমগীর শেখ। এ সময় ভারতের নিমতিতা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ফেরত দিল ভারত
এ ঘটনা জানার পর ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনির-উজ-জামান ভারতে অনুপ্রবেশকারী আলমগীর শেখকে ফেরত চেয়ে বিএসএফের কমান্ড্যান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ১০/৪-এস নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নৌকা ও জালসহ আলমগীর শেখকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত পাওয়া আলমগীর শেখকে নৌকা ও জালসহ শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৩৬৮ দিন আগে
৫৬ বাংলাদেশি জেলেকে ছেড়ে দিল মিয়ানমার
কক্সবাজার টেকনাফ বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরার সময় ছয়টি ট্রলারসহ ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি ৫৬ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে মিয়ানমারের নৌবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ)সকালে তাদের ছেড়ে দেন। এসময় জেলেদের কাছে থাকা মাছ ও জাল রেখে দেন মিয়ানমার নৌ বাহিনী।
ধরে নিয়ে নিয়ে যাওয়া ছয়টি ট্রলারের মালিকরা হলো- টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার মো. বশির আহমদ, মো. আমিন, নুরুল আমিন, আব্দুর রহিম, মো. শফিক। এদের মধ্যে মো. শফিকের মালিকাধীন দুটি ট্রলার রয়েছে।
এর আগে বুধবার (৫মার্চ) দুপুরে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণের বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের সময় অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে ধরে নিয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন, টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান।
তিনি জানান, মাছ শিকারে গিয়ে মিয়ানমার নৌবাহিনীর হাতে আটক হাওয়া জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যে টেকনাফের উদ্দেশ্য রওনা করেছে।
টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে। তবে তাদের কাছে থাকা মাছ ও জাল রেখে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ৪ দিন ধরে সমুদ্রে ভাসতে থাকা ১৩ জেলে উদ্ধার
৩৮০ দিন আগে
আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৯ জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বিজিবি
টেকনাফের নাফ নদ থেকে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির আটক করা ২৯ জন বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জেটি ঘাট দিয়ে বিকাল ৫টার দিকে বাংলাদেশি এসব জেলেকে ফেরত আনা হয়। গত ১১ ও ২০ ফেব্রুয়ারি ভুলবশত বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করা ৬টি ইঞ্জিনচালিত বোটে ছিলেন ওই ২৯ জন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ফিরিয়ে আনা ২৯ জেলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
৩৮৭ দিন আগে
বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে জেলেরা অবদান রাখতে পারেন: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
ইলিশ রপ্তানিতে অবদান রেখে প্রবাসীদের মতো বৈদেশি মুদ্রা অর্জনে মৎসজীবীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে মনপুরাবাসী যেমন বড় ভূমিকা পালন করে, তেমনি ইলিশ রপ্তানিতে সহযোগিতা করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।’
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মূল কাজ হচ্ছে মাছ রক্ষা করা। প্রবাসীরা কষ্ট করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে যেমনভাবে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত রাখছেন। তেমনি মাছ রপ্তানি করে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি।’
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ চর গোয়ালিয়া আদর্শ মৎস্যজীবী গ্রাম পরিদর্শন ও মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ পৃথিবীতে পরিচিতি পেয়েছে মাছের জন্য, বিশেষ করে ইলিশের জন্য। পৃথিবীতে কোনো দেশে এরকম ইলিশ পাওয়া যায় না। যদিও পাওয়াও যায়— তা দেশের ইলিশের মতো স্বাদের হয়না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাছকে প্রাকৃতিকভাবে ডিম পাড়তে দেওয়া, বড় হতে দেওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ সময় আমাদের কথা জেলেরা শোনেন, কিন্তু ব্যবসায়ীরা আইন ভঙ্গ করে আপনাদের এ সময় মাছ ধরতে উৎসাহিত করে থাকেন।’
এ ধরণের খারাপ কাজ যেন কেউ না করতে পারে, সে লক্ষ্যে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: তামাক চাষের নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে সরকার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
মনপুরার জেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে পারলে পরিবর্তন আনা সম্ভব। মৎস্য কর্মকর্তারা আপনাদের সমস্যা ও সম্ভবনা নিয়ে কথা বলে থাকেন। এমনকি ঢাকাতেও এ বিষয়ে কথা হয়ে থাকে। তারা যতই বলুক সরাসরি আপনাদের মুখ থেকে শোনা আর অন্যভাবে শোনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আর এ জন্যই আপনাদের কাছে আসা।’
উপদেষ্টা বলেন, জেলেদের শুধু ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা দিলে হবে না, তাদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জেলেদের রক্ষায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় হতে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, টর্চ লাইট সরবারহ করা হবে। শুধু মাছ ধরা নয়, আপনাদের কৃষি কাজ, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল পালনের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। এর মাধ্যমে আপনারা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারেন।’
জেলেরা মনপুরাতে সাইক্লোন সেন্টার, নলকূপ, বিদ্যালয়সহ রাস্তাঘাটের দূরাবস্থা তুলে ধরলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাদের সমস্যার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের নিকট উপস্থাপন করব। মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ জেলেদের বড় সমস্যা। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায় খাল খনন করে জেলেদের দুর্ভোগ লাঘব করা হবে এবং নদী ও সাগরে ডাকাতদের দৌরাত্ম কমাতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হবে।
পরে উপদেষ্টা ৮০ জেলের মধ্যে লাইফ জ্যাকেট, লাইভ বয়া ও টর্চ লাইট বিতরণ করেন। দক্ষিণ চরগোয়ালিয়া আদর্শ মৎস্যজীবী গ্রাম সংগঠন আয়োজিত মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিকের সভাপতিত্বে গ্রাম সংগঠনের পক্ষে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শফিউল্লাহ মাঝি।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সুরাইয়া আখতার জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, মনপুরা উপজেলার চর গোয়ালিয়া আদর্শ মৎস্যজীবী গ্রামের মৎস্যজীবীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
৩৯০ দিন আগে