বিএনপি
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার ওপর হামলায় বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আব্দুস সবুরের স্ত্রী শোহর ভানু বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলাটি করেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি রাকিবুল বলেন, গতকাল (শনিবার) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর লং মার্চের গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানাতে সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা জমায়েত হন। লং মার্চ রংপুরের উদ্দেশে চলে গেলে তারা নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের ওপর একদল লোক হামলা চালায় এবং তাকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়া নুরনবী নামের আরেক জামায়াত নেতাও মারধরের শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুস সবুরকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাতেই তার স্ত্রী বাদী হয়ে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম সরকারসহ ১০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৭ ঘণ্টা আগে
১৭ বছরে জাতির মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে: রিজভী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করার পাশাপাশি জাতির মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করা হয়েছে। মানবিক মেরুদণ্ডকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের যে প্রতিযোগিতা ছিল, সেটা ইসলামিক হোক বা টেকনোলজিতে হোক—আমাদের সেই প্রতিযোগিতা থেকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে ‘বড় জায়গা’ থেকে ফোন এলে খাতায় কিছু না লিখলেও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী খাতায় কিছু না লিখে শুধু প্রশ্নপত্র জমা দিলেও তাকে পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা নাসের, কেরানীগঞ্জ সিএনজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইমাম উল্লাহ মাস্তানসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সভাপতিরা।
স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষদের পক্ষে বক্তব্য দেন চুনকুটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদ। পরিচালনা কমিটির সভাপতিদের পক্ষে বক্তব্য দেন টেগুরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি মাসুদ আলম স্বাধীন।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা ও বৃত্তি পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
১ দিন আগে
ব্রিকস সামিটে না গিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান: রিজভী
ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী। তো তাকে আপনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাওয়াত দেবেন না? সে গিয়ে ওখানে সাইডলাইনে বসবে? এটা তো হতে পারে না। উনি যাননি। এই না যাওয়ার মধ্যে যে গর্বের জায়গা তৈরি করেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন গোটা জাতির সামনে, গৌরব তৈরি করেছেন জনাব তারেক রহমান।’
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’—এর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার খবর আসে।
তিনি বলেন, ‘১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তারপরেই তারা বলল, তাদের সুইচ, এদের সুইচ আছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। সেই সুইচ তারা যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারে, চালু করতে পারে। তারা ঘোষণা দিল যে, এই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে।’
এ ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিষয়টি বুঝতে বিশেষ কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আশ্রয় পেয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের হস্তান্তরের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বারবার বলেছে তাকে হস্তান্তর করার জন্য। আপনারা হস্তান্তর করছেন না।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আদালতে যাদের বিচার চলছে, তাদের হস্তান্তর না করার বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সৌহার্দ্যের কথা বলা হলেও আড়ালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে।
৪ দিন আগে
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গেলেন মির্জা আব্বাস
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আবারও মালয়েশিয়া গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তিনি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়েন।
মির্জা আব্বাসের একান্ত সহকারী মিজানুর রহমান সোহেল ইউএনবিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সোহেল বলেন, মির্জা আব্বাস নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তার সহধর্মিনী আফরোজা আব্বাস এবং ছেলে মির্জা ইয়াসীর আব্বাস সঙ্গে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মির্জা আব্বাস মালয়েশিয়ায় প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে শারীরিক পরীক্ষা করাবেন। ইতোমধ্যে চিকিৎসকসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছে বলে জানান সোহেল।
এর আগে, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন মির্জা আব্বাস। সেবার প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর তিনি দেশে ফিরেছিলেন।
৪ দিন আগে
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে: আজহারুল
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বল অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় একটি হোটেলের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
আজহারুল ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ কারণে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জনগণের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
এ সময় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের রায়কে অস্বীকার করছে। তারা গণভোটের শপথ না নিয়ে জনগণের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমরা নির্বাচনের পর থেকেই জনগণের রায় বাস্তবায়নের কথা বলে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছি। কিন্তু বিএনপি নানা অজুহাতে তা না করে ছলচাতুরির আশ্রয় নিচ্ছে। তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমরা আশা করছি, সরকার জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়া জেলার জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৫ দিন আগে
লালমনিরহাটে মন্ত্রীদের সামনে বিএনপির ২ গ্রুপের মারামারি
লালমনিরহাটে দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি হয়েছে। এ সময় একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দুজন আহত হন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত দেড়টার দিকে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।
জেলা বিএনপির সভাপতি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া লালমনিরহাট-১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও রোকন উদ্দিন বাবুলও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, রোকন উদ্দিন বাবুল ও তার চাচাতো ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর তাদের দুজনের অনুসারীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে এবং এ আসনের বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
নির্বাচনের সময় ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করে গোপনে বিরোধিতা করার অভিযোগও ওঠে বিএনপির একটি অংশের বিরুদ্ধে। ওই অংশের নীরব বিরোধিতার পরও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রোকন উদ্দিন বাবুল। এতে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করে। তার পর থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও পৃথকভাবে পালন করে আসছেন দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
গতকাল (রবিবার) জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে লালমনিরহাট আসেন। রাত ১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে তিনি জেলা বিএনপির আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
সভায় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের দলীয় কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত রোকন উদ্দিন বাবুলের অনুসারী ও সমর্থকরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ওই নেতার বিরুদ্ধে ধানের শীষের বিরোধিতা করার অভিযোগ তোলেন।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উপস্থিতিতেই অডিটরিয়ামজুড়ে হট্টগোল ও মারামারি শুরু হয়।
পরে আসাদুল হাবিব দুলুর দীর্ঘ চেষ্টা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর থেকে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে থমথমে অবস্থা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে এ ঘটনার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান। আহত হন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুজ্জামান সবুজ ও একই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আখেরুজ্জামান স্বাধীন। হামিদুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক নেতা বলেন, পঞ্চগড়ের চেয়ে হাজারগুণ বড় হট্টগোল এখানে হয়েছে। যারা ধানের শীষে ভোট না দিয়ে বিরোধিতা করেছে তারা আজও দলীয় পদ নিয়ে সংসদ সদস্যের বিরোধিতা তথা উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করছে। এদের কারণে দলীয় শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। যারা সংসদ সদস্যের বিরোধিতা করছে তারা নির্বাচনের সময়ও ধানের শীষের বিরোধিতা করেছে।
হামিদুর রহমানের ছেলে নাসির ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, আমার বাবা অনেক অসুস্থ। তাকে কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি মধ্যরাতে দলীয় কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় গিয়ে ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ হয়েছেন। তিনি তার বাবার সুস্থতায় সবার কাছে দোয়া চান।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় উত্তেজনা হয়েছিল। তবে কী কারণে হয়েছে এ বিষয়ে আমাদের জানা নেই। খবর পেয়েই গিয়ে দেখি পরিবেশ শান্ত হয়ে গেছে। হামিদুর নামের একজন ধাক্কাধাক্কি আর চিৎকার-চেঁচামেচিতে অসুস্থ হলে আমাদের গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হককে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
৬ দিন আগে
পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫
পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে মহাসড়কে অবস্থান নেন দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল (রবিবার) রাত ১০টার দিকে জেলা শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল ছোড়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় লাঠি হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন দুই গ্রুপের সদস্যরা।
আরও জানা যায়, রবিবার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের সামনেই বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। এরই রেশ ধরে রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ফিরে যান। সংঘর্ষের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
এ সংঘর্ষে দুইপক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে গুরুতর আহত চারজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আহতরা হলেন রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরী (৩৮)। তারা সবাই বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চারজনকে রমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। রাজনৈতিক মারামারিতে তারা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ দিন আগে
সংকটে দেশ উদ্ধারের দায়িত্ব মানুষ বিএনপিকেই দেয়: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
দেশ যখনই কোনো কঠিন সংকটে পড়ে, তখন দেশের মানুষ সেখান থেকে উত্তরণের দায়িত্ব বিএনপির ওপরই দেয় বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, সংকটকালে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষায় সঠিক নেতৃত্ব দেওয়াই বিএনপির প্রধান দায়িত্ব। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে দলের অভ্যন্তরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে লালমনিরহাট জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নেতাকর্মীদের সতর্ক করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করলে তার চূড়ান্ত লাভ হবে ‘গুপ্ত ও পলাতক বাহিনীর’।
তিনি বলেন, ‘দল না থাকলে পদের কোনো দাম নেই। আর ডিসিপ্লিন না থাকলে কোনো সংগঠন কখনোই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। তাই সবাইকে দলের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে হবে।’
বক্তব্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘সামনে আমাদের কঠিন সময় পার করতে হবে।’ এ সময় দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে সভায় লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় জেলার পাঁচ উপজেলার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহে বারবার বিঘ্ন নিয়ে প্রশ্ন রিজভীর
ভারতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বারবার বিঘ্নের পেছনে নাশকতা বা কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি আরও বলেন, ‘সেটার একটা ইউনিট নষ্ট। সেখান থেকে যে বিদ্যুৎ আসে, সেটা সরবরাহে বিঘ্নিত হচ্ছে। কত দিক থেকে সংকট!’
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এখন আমার কাছে একটা জিনিস মনে হয় যে, কোনো ঘটনা আছে কি না? একটা রহস্য আছে কি না? কোনো সাবোটাজ হচ্ছে কি না কোথাও? এটা মানুষের মনে—আমার শুধু নয়, সব মানুষের মনে এই প্রশ্নটি দেখা দিয়েছে। যে কেন এখন একটার পর একটা কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি করা হবে? জনকল্যাণমুখী যে কর্মসূচিগুলি, সে কর্মসূচিগুলোতে বাধা দেওয়ার জন্যই কি নানা ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে কি না—সেটা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে যে অর্থ পাওনা থাকে, তা সরকার কিস্তিতে পরিশোধ করে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ভারতকেও পাওনা পরিশোধ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে এটা হচ্ছে কেন? মানুষের মনে যে প্রশ্নটা—সেই প্রশ্নটির কথা আমি আপনাদের সামনে এখানে তুলে ধরলাম।’
দেশ একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘যে পরিস্থিতির মধ্যে দেশ আছে, সেটা আমি বলব যে একটি সংকট এবং সে সংকটটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এবং কোথাও কোনো কনস্পিরেসি হচ্ছে বলে আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে! অনেকে হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন, আপনি কীভাবে বলছেন? কিন্তু আমার সবকিছু—বাস্তবতা এবং বিরাজমান ঘটনাগুলো দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, কোথাও কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না? কোথাও কোনো চক্রান্ত হচ্ছে কি না?’
তিনি আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও এ ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। এসব ঘটনা একটি সরকারের স্বাভাবিক কার্যক্রম, যার মধ্যে জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও রয়েছে, তা ব্যাহত করতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে কোনো ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে কি না।
এছাড়া নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে আবার প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো করতে পারল, সেই প্রশ্নও তোলেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হঠাৎ করে উঁকি মারার চেষ্টা করছে। কিন্তু করছে কীভাবে? এখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে? এত বড় একটি... তারা মানুষ জড় করল এতগুলো! তো গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানে না? পুলিশ প্রশাসন—তারা কী করছেন?’
রংপুরে একই হিন্দু পরিবারের চার সদস্য হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে তাদের আইনের মুখোমুখি করেছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের কোনো সুযোগ যেন এ দেশে না হয়। যদি ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটে, তবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণমানুষের অধিকার চরম হুমকির মুখে পড়বে।’
৮ দিন আগে
১৭ বছর মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল একজন ও এক দলের: রিজভী
গত ১৭ বছরে দেশে অনেক টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র থাকলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কার্যত একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেখলাম, অনেক টেলিভিশন ছিল, অনেক পত্রিকা ছিল। কিন্তু কথা বলা হবে, মত প্রকাশ হবে শুধু একজন ব্যক্তির, একটি রাজনৈতিক দলের।’
তিনি আরও বলেন, ওই কাঠামোর বাইরে মতপ্রকাশের চেষ্টা যারা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। ‘ভয়াবহ ছিল সেই রূপ,’ বলেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মিডিয়াগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো হোস্ট যারা করছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে। সামাজিক গণমাধ্যমকে তারা নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।’
তবে ওই সময় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন বলে প্রশংসা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক যারা মাঠপর্যায়ে ছিলেন, তারা কেবল ধিকি ধিকি করে জ্বলছিলেন। গণতন্ত্রের আলো কিছুটা তারা জ্বালিয়ে রেখেছেন, যারা এখানে অনেকেই বসে আছেন। তারা ওই পরিস্থিতির মধ্যেও চেষ্টা করেছেন।’
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘যে সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবদমিত ছিল, কথা বলা ছিল পাপ এবং সরকারের বিরুদ্ধে যায়—এমন কথা বলা ছিল ঘোরতর অন্যায়, সেই সময় আমরা যতটুকু পরিসর পেয়েছি, ডিআরইউ তা প্রচার ও প্রকাশ করতে কখনও দ্বিধা করেনি।’
ওই সময়ে সাংবাদিকেরাও চাপের মুখে ছিলেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, অনেক সাংবাদিককে দমনমূলক কালো আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় নিগৃহীত হতে হয়েছে। জেল-জুলুমও খাটতে হয়েছে।
তবে এখন দেশে মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এখন সবাই স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
রিজভী বলেন, ‘যারা সরকারে আছেন, সরকারের বাইরে যারা আছেন এবং সরকারের বাইরে থাকা বিরোধী দল—তারা মুক্ত কণ্ঠে সমালোচনা করবেন। সরকারের কাজগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। এইভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।’
এছাড়া গণতান্ত্রিক এই অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করেন রিজভী।
১০ দিন আগে