বৈদেশিক-সম্পর্ক
প্রধানমন্ত্রীর ভারত, জাপান সফর সময় ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে: শামা ওবায়েদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত ও জাপান সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এটা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর সময় এবং দুই দেশের আলোচনা কতটুক এগোচ্ছে তার ওপর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের একটি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র সচিবের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘আমরাও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কোনো একটা সুইটেবল (উপযুক্ত) সময়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই জাপান সফর করবেন এবং জাপান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের দিনক্ষণ এবং ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কবে জাপান সফর করবেন, তার দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এটা আমাদের দুই দেশেরই একটা উপযুক্ত সময় নির্ধারণের বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনারা জানেন বাংলাদেশের বিভিন্ন কাজে এখন ব্যস্ত আছেন। ভারতসহ অন্যান্য সফরের কোনোকিছুই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো অবশ্যই দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান ও ভারত সফর নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই ইতিবাচক। সম্ভাবনা তো সবসময়ই আছে।’
তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সামনে সংসদ অধিবেশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক বিষয়ে কাজ চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত রয়েছেন। এসবের মধ্যেই সময় মিললে ভারত, জাপানসহ প্রধানমন্ত্রীর সব সফরই হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকল দেশ সফরের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক আছি। কিন্তু এটা নির্ভর করবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সময়ের ওপর এবং দুই দেশের আলোচনার কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে, সেটার ওপর।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানোর সুযোগ আছে
এ সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানেরই সুযোগ থাকে। সেই সুযোগটা তো আছেই, রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।’
ভারতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেয় না উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘জুলাইয়ের কথা এখনও মানুষের মনে জাগ্রত আছে, রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। সুতরাং সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমাদের সেনসিটিভ (সংবেদনশীল) হতে হবে।’
তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ‘সেটাই আমরা আশা করি। ভারতও যেন এটা মনে রাখে, সেটাই আমরা আশা করি।’
সিঙ্গাপুরে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর আলোচনা
সম্প্রতি সিঙ্গাপুর সরকারের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফর করেছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশটিতে কর্মরত প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশির বিষয়ে এবং আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে সিঙ্গাপুরের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত জোরদার। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল নিয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের প্রস্তাবের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া সিঙ্গাপুরের বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে, তা তারা দেখেছেন।
১০ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশবের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বহুমাত্রিক। বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ অর্থনৈতিক সহযোগিতা এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও নতুন সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাউন্সিলের আগ্রহের কথা জানান।
সাক্ষাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা, জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব আরও গভীর করার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।
১ দিন আগে
দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ‘হোম শো ব্রাজিল’ মেলায় বাংলাদেশ
দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’ মেলায় অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আর্থিক সহযোগিতায় এবং ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় সাউ পাওলোর দিসিত্রিও আনিয়েম্বি প্রাঙ্গণে গতকাল (মঙ্গলবার) এই মেলা শুরু হয়েছে, যা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত চলবে।
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ এই মেলায় বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠান ৫টি বুথে অংশগ্রহণ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে: জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মাদার ট্যানারি, রেইনবো জুট এবং ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস।
এ ছাড়াও অন্য একটি বুথে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে ব্রাজিল বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ব্রশিওর, লিফলেট, বিভিন্ন প্রকাশনা প্রদর্শন করা হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রসার ও প্রচারবিষয়ক বিভিন্ন ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো পাটজাত পণ্য, ব্যাগ, চামড়াজাত পণ্য, প্রাকৃতিক তন্তুর ঝুড়ি, ঘর সাজানোর সামগ্রী, বাঁশজাত পণ্য, টেরাকোটা ও মাটির তৈরি সামগ্রী এবং নকশীকাঁথা প্রদর্শন করছে।
১ দিন আগে
ওয়েলিংটনে এমএফএটির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের ৩ দফা কৌশলগত প্রস্তাব
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সদর দপ্তরে একটি উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ রিজিওনাল কম্প্রেহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (আরসিইপি) এ সদস্যপদ লাভ, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত তিন বছর সময় এবং দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনে নিউজিল্যান্ডের সক্রিয় সমর্থন কামনা করেছে।
বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির ট্রেড নেগোসিয়েশনস অ্যান্ড পলিসি ডিভিশনের ডিভিশনাল ম্যানেজার সারা মেম্যান্ড এবং ইউনিট ম্যানেজার জোনাস হোল্যান্ড।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে ফরেন ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) উইংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছাড়াও ওয়েলিংটনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর ইশতিয়াক আহমেদ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সরকার ও বাণিজ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিউজিল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট পৌঁছে দেন। তারা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে নিউজিল্যান্ডের সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করেন।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল রিজিওনাল কম্প্রেহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (আরসিইপি) এ বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভ।
বাংলাদেশ জানায়, আরসিইপি সদস্যপদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নাবলীর বিস্তারিত জবাব ইতোমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কাঠামোকে আরসিইপির উচ্চমানের বাণিজ্য শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এসব সংস্কারের মধ্যে রয়েছে: শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক কমানোর উদ্যোগ, টেলিযোগাযোগ, আর্থিক সেবা ও লজিস্টিকস খাতকে আরও উন্মুক্ত করতে ‘পজিটিভ লিস্ট’ থেকে ‘নেগেটিভ লিস্ট’ পদ্ধতিতে রূপান্তর এবং প্রতিযোগিতা, পেটেন্ট, কপিরাইট ও ডেটা সুরক্ষা বিষয়ে আধুনিক আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন।
আরসিইপি এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নিউজিল্যান্ডের নীতিগত প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে বাংলাদেশ দেশটির সক্রিয় সমর্থন কামনা করে। পাশাপাশি আরসিইপি এর আওতায় সংবেদনশীল পণ্য ও শিল্প খাতের সুরক্ষায় আসিয়ান এর এলডিসি সদস্যদের অনুরূপ ১৫ থেকে ২০ বছর মেয়াদি পর্যায়ক্রমিক শুল্ক নমনীয়তার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নির্ধারিত সময়সীমার পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরণকাল বাড়ানোর যে আবেদন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে করেছে, তার পক্ষে বিভিন্ন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা তুলে ধরে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাওয়া হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি উন্নয়নশীল ও উত্তরণপ্রক্রিয়ায় থাকা অর্থনীতিগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে।
এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের চলমান আর্থ-সামাজিক রূপান্তর, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীলকরণ এবং প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ জানায়, এলডিসি উত্তরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিলম্বিত করার কোনো অভিপ্রায় নেই। বরং অতিরিক্ত সময়কে একটি টেকসই ও সুসংগঠিত জাতীয় প্রস্তুতি বাস্তবায়নের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনীতির জন্য কার্যকর ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা করা হয়।
বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এর ১৪তম মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন (এমসি-১৪)-এর প্রাক্কালে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার এফটিএ আলোচনার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বৈঠকে তুলে ধরে।
প্রস্তাবিত এফটিএ বাস্তবায়িত হলে নিউজিল্যান্ডের জন্য বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ভোক্তা বাজারে দুগ্ধজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি ও ধাতব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এলডিসি উত্তর সময়ে নিউজিল্যান্ডের বাজারে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এফটিএ দুই দেশের বাণিজ্যকে বর্তমান পর্যায় থেকে একটি নতুন কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক করার লক্ষ্যে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করে।
প্রথমত, আরসিইপি এএলডিসি পরবর্তী বাজার সুবিধা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য একটি বার্ষিক ‘দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতি পরামর্শক গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
দ্বিতীয়ত, এফটিএ আলোচনার প্রথম ধাপ হিসেবে দুই দেশের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তৃতীয়ত, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে অতিরিক্ত সময়ের আবেদনের প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করতে নিউইয়র্কে দুই দেশের স্থায়ী মিশনের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে, প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক পরিসরেই নয়, বরং অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা লাভ করবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও উচ্চপর্যায়ের নীতি-সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল শীঘ্রই নিউজিল্যান্ডের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানায় এবং নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এতে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
২ দিন আগে
রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো করার মতো কিছু আর করবে না ভারত, প্রত্যাশা ঢাকার
রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কাজ ভারত সরকার আর করবে না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি বিশ্বের সবার শ্রদ্ধা প্রত্যাশা করে এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তিনি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছেন যে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের প্রথম দুই মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ভারতীয় হাইকমিশনার। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের বৈঠকে সংক্ষেপে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ছিল অন্যতম। বাংলাদেশ এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আশা করছি।
এ ছাড়া শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনরা ভারতে ধরা পড়েছে। ভারত যেসব কাগজপত্র চেয়েছিল, বাংলাদেশ সেগুলো ইতোমধ্যে সরবরাহ করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে বলা হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ড. খলিলুর রহমান।
গেল ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ যে লিখিত অসন্তোষ জানিয়েছে, সেটিও আলোচনায় এসেছে কি না—জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করেছে বলে জানান তিনি। গতকালও ভারতীয় পক্ষ তাকে বিষয়টি জানিয়েছে এবং আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ হলো নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের একটি উপযুক্ত আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফলে তার বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয় আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে এবং সেই কাজটি ভারত সরকার করতে দিয়েছে। আমরা চাই, বিশ্বের সবাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোক।
খলিলুর রহমান বলেন, আমরা আশা করব, ভারত সরকার বিষয়টি অনুধাবন করবে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার ধারণা হচ্ছে, তারা জিনিসটা বুঝতে পেরেছে। রাষ্ট্রের কোনো স্তম্ভকে খাটো বা দুর্বল করার মতো কোনো কাজ ভারত সরকার আর করবে না—এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা। ‘তাদের সঙ্গে আমার যা কথা হয়েছে, তাতে আমি কিছুটা হলেও আশ্বস্ত যে, এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আর হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সরকারের দেওয়া দুটি আমন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমন্ত্রণের বিষয়ে এখনও বাংলাদেশ কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সেটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে দেওয়া আমন্ত্রণের সঙ্গে এক নয়। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সরকার গঠনের দিন একটি চিঠি দিয়েছিলেন। ৩ তারিখের ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে এসব আমন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি কিছুটা আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
৩ দিন আগে
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, সবুজ জ্বালানি, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া, পাট, টেকসই বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।
নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের (এনজেডটিই) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরা হয়। এনজেডটিই-এর মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
বৈঠকে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আমদানিতে দুগ্ধজাত পণ্য ও ধাতব পণ্যের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশ তৈরি পোশাকনির্ভর।
বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের অ-পোশাক রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে এনজেডটিই-এর সহযোগিতা কামনা করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সনদ ও উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশের সাড়ে ৬ লাখের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীর দক্ষ জনশক্তির কথা তুলে ধরে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সফটওয়্যার, ফিনটেক ও ডিজিটাল সেবা খাতে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিভিন্ন বিনিয়োগ সুবিধা রয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।
এ সময় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে বাস্তব রূপ দিতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে: এনজেডটিই-এর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়িক ক্রেতাদের ভার্চুয়াল বি-টু-বি বৈঠকের আয়োজন এবং নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় (এমএফএটি)-এর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও কার্যকর করা। এছাড়া সভায় উভয় দেশের মধ্যে যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠা এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজন ও অংশগ্রহণের বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।
বৈঠকে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উচ্চমূল্যের রপ্তানি সক্ষমতার সমন্বয় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
৩ দিন আগে
আমরা শুধু সীমান্তই নয়, স্বপ্নও ভাগাভাগি করি: ভারতীয় হাইকমিশনার
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু একটি সীমান্তই ভাগাভাগি করে না, দুই দেশের মানুষের স্বপ্নও অভিন্ন। দুই দেশের মধ্যে যেসব ইস্যু রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব এবং সম্পর্ক ভালো থাকাই উভয় দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন জনপরিচিত ব্যক্তি এবং তার সঙ্গে দেখা করে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন। প্রথমবার দেখা হলেও তার সঙ্গে এমন মনে হয়নি যে এটি প্রথম সাক্ষাৎ। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক ও বিনয়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু থাকা স্বাভাবিক। তবে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হলে তার অনেক কিছুই সমাধান সম্ভব। ভারতের জনগণ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীও এই বিষয়ে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশেরই নিজস্ব কিছু ইস্যু থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—দুই দেশের সম্পর্ক ভালো থাকুক। সম্পর্ক ভালো থাকলে তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। দুই দেশ শুধু সীমান্তই ভাগাভাগি করে না, তারা স্বপ্নও ভাগাভাগি করে। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে দুই পক্ষকেই বিদ্যমান ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতেই হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, উভয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। তারা তাকে মূল্যবান সময় দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের জন্য তিনি শুভকামনা জানান।
বাংলাদেশ-ভারতের চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ইস্যু থাকবেই। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেও বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে। এমনকি একটি পরিবারের মধ্যেও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য বা ইস্যু থাকে। তাই দুই দেশের মধ্যে ইস্যু থাকাটাকে অস্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, কোনো ইস্যুই এমন নয়, যা দুই দেশ বসে সমাধান করতে পারে না। আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয় নিষ্পত্তি করা সম্ভব এবং দুই দেশের জন্যই তা হবে পারস্পরিক লাভজনক।
দুই দেশের গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই প্রাণবন্ত গণতন্ত্র রয়েছে। দুই দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেকটা একই—তারা প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখতে চায়। এটি মানুষের স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গত দুই মাসে তিনি বাংলাদেশে যে সম্মান, আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও আতিথেয়তা পেয়েছেন, তাতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। দুই দেশের সম্পর্ক ভালো রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—ভারতের প্রধানমন্ত্রীও তাকে সবসময় এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ সময় তারা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, ‘এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। তারা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।’
গত জুনে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
বাংলাদেশের জনগণের সেন্টিমেন্টের বিষয়ে ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতি ও সংবেদনশীলতার বিষয়ে ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের মাটিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে থাকেন এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ভারতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেদের দোষ অস্বীকার করার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য এবং বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ভাষায় তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের বিবৃতি দেখেছেন। বিবৃতিতে ডিপ্লোম্যাটিক ভাষায় যতটুকু একটি দেশকে বোঝানো যায়, সেটা আমরা বলেছি। এর আগেও আমরা বারবার বলেছি, ভারতের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে—বাংলাদেশের সঙ্গে তারা কী ধরনের সম্পর্ক চায়।’
তিনি বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি যখন ভারতের মাটিতে বসে এই ধরনের কথা বলে এবং ভারত সরকার সেটা এলাউ (অনুমোদন) করে, তখন অবশ্যই বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি হয় যে আমাদের ভবিষ্যতের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।’
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘জঙ্গিবাদ’ ইস্যু রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ এনে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অতীতেও আওয়ামী লীগ সরকার দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই ‘এক্সট্রিমিজম’ ও ‘টেররিজম’-এর একটি বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, তাদের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড আড়াল করতে জঙ্গিবাদের তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল। এখন তারা বিদেশের মাটিতে বসেও সেই একই ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
‘তবে এটা ভারত এলাউ করবে কি করবে না, সেটা ভারত সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে’, বলেন তিনি।
বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা নাকচ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলেও এ ধরনের বয়ান দেশি-বিদেশি কেউ বিশ্বাস করেনি, এখনও বিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন জনগণের সমর্থিত, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি সরকার আছে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি বিরোধী দল আছে। এখানে কোনোভাবেই জঙ্গিবাদের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এটা আন্তর্জাতিক মহলে মনোযোগ আকর্ষণের একটি পুরোনো রাজনৈতিক প্রচেষ্টা।’
আওয়ামী লীগের মানবাধিকারবিষয়ক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। অতীতে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং জুলাই-আগস্টের সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা এসব ঘটনার সময় নীরব ছিল, তাদের মুখে এখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কথা শোনা ‘হাস্যকর’।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭-১৮ বছরে যে ফ্যাসিবাদ চলেছে, সেটি আবার ফিরে আসুক—এটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ এবং দুই দেশের সরকারই সম্পর্ক উন্নত হোক—এটাই চায়। ‘কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে এবং সেটা যদি ভারত সরকার এখনই বন্ধ না করে, তাহলে অবশ্যই সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি করে।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে পানি, জ্বালানি, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর সমাধান সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে। ‘আমরা আলোচনা করতে চাই। কিন্তু ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান এবং ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ এ ধরনের বহুপাক্ষিক উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে যোগ দেবেন কি না, সেটি তার নিজস্ব সময়সূচি ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে বৈঠক অব্যাহত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার-টু-সরকার সম্পর্ক সবসময়ই বহুমাত্রিক।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তো একটি জায়গায় আটকে থাকতে পারে না। ভারতের সঙ্গে আমাদের জ্বালানি সহযোগিতা আছে, পানি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আছে, সীমান্ত ইস্যু আছে। এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নিতে হবে। এই সংলাপ চলবে।’
তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাটি এমন একটি বিষয়, যা ‘জুলাই যোদ্ধা’, তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করেছে।
‘যেটা বাংলাদেশের ১৭ কোটি সাধারণ গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা যুদ্ধ করেছে, প্রাণ দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে—তাদের আহত করে। সেই জায়গাটায় ভারতকে আরও বেশি সংবেদনশীল হতে হবে এবং এ বিষয়ে তাদের খুবই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে,’ বলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, সেটি তাদেরই সিদ্ধান্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকুক, কারণ সেটি জনগণের স্বার্থে। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মান এবং উভয় দেশের স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রেখে। ভারত যদি সেটা উপলব্ধি করতে পারে, তাহলে সেটাই সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে।’
৭ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাণিজ্য আলোচনা (ট্রেড নেগোসিয়েশন) সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর আইন ও বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে