আইনশৃঙ্খলা
মহাস্থানগড়ে সব ধরনের নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থার আদেশ
বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ, স্থাপনা নির্মাণ ও মাটি খনন বন্ধ রাখা-সংক্রান্ত ২০১২ সালে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পেয়েছে সরকারপক্ষ।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষের করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) রবিবার (৯ আগস্ট) মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে মহাস্থানগড় এলাকায় যেকোনো নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থার আদেশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবেদনকারীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এ আদেশের ফলে ওই এলাকায় কোন নির্মাণ কার্যক্রম চলবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল ও মাহবুবুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
জানা যায়, ২০১০ সালে মহাস্থানগড় সীমানার ভেতরে মাজার কমিটি কর্তৃক মসজিদ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর ওই এলাকা প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা হিসেবে সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। ওই রিটের শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে এ-সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় দখল নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আগের রিটের সূত্র ধরে ২০২০ সালে একটি আবেদন করে এইচআরপিবি। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ৫ মার্চ হাইকোর্ট মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় স্থানীয়দের মাটি খনন ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মোতায়েন করাসহ কয়েকটি নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে প্রত্নস্মারক এলাকার পূর্ব পাশে ২০০ ফুট দূরে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করতে রায়ে বলা হয়।
হাইকোর্টের রায় ও পরবর্তী সময় ২০২০ সালের ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে বিলম্ব মার্জনাসহ গত মাসে ওই লিভ টু আপিল করে সরকারপক্ষ। এতে ৫ হাজার ২৭৯ দিন বিলম্ব মার্জনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ও স্থগিত চাওয়া হয়। গত ১৪ জুলাই লিভ টু আপিলটি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে উঠলে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে আজ আদেশ দেওয়া হয়।
লিভ টু আপিলে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের আদেশের ফলে এতদিন মহাস্থানগড় এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন বা সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ঐতিহাসিক স্থানটিকে আকর্ষণীয় ও দর্শনার্থীবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নও করা সম্ভব হয়নি। পবিত্র ও ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় মসজিদ উন্নয়নে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। তবে হাইকোর্টের আদেশের কারণে কোনো উন্নয়নকাজ শুরু করা যায়নি।
১ দিন আগে
সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আজ বিকেলে ডনকে আদালতে হাজির করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডন মামলার এজাহারনামীয় আসামি। অন্যান্য আসামিসহ তিনি পরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ আছে। ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তিনি জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে যাবেন। এ কারণে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন বলেও তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন।
শুনানি শেষে আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী।
এর আগে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল ৬টার দিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ওমরাহ হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে সিআইডির একটি টিম এসে ডনকে নিয়ে যায়। সালমান শাহ হত্যা মামলা তদন্ত করছে সিআইডি।
সালমান শাহ মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে গত বছর ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলার এজাহারে ১১ জনকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামিও করা হয় আরও কয়েকজনকে।
যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন—সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, আলোচিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রিজভি আহমেদ ফারহাদ।
এর আগে, গত বছর ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রমনা থানার ওসিকে সালমান শাহর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রায় ২৯ বছর যাবৎ রমনা থানার অপমৃত্যু মামলার তদন্ত হয়। পুলিশের সব সংস্থাই একের পর এক তদন্ত করে। প্রতিবারই সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে এসব তদন্তে উল্লেখ করা হয়। এক আদালত থেকে অন্য আদালতে ঘুরতে থাকে বাদী পক্ষ।
উল্লেখ্য, রমনা থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর গত বছর ২৭ অক্টোবর সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক ও খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
১ দিন আগে
সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডন গ্রেপ্তার
জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বাংলা চলচ্চিত্রের খলনায়ক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৯ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার আজ দুপুরে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি দল এসে তাকে নিয়ে যায়।
আজ সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ডনের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল বলে জানান তিনি।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সালমান শাহ হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডি তদন্ত করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ওরফে ইমন, চলচ্চিত্র অঙ্গনে যিনি সালমান শাহ নামে পরিচিত। তার মৃত্যুর ঘটনায় ২৯ বছর আগের অপমৃত্যুর মামলা গত বছর হত্যা মামলায় রূপ নেয়। আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর হোসেন কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
হত্যা মামলার এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, বিতর্কিত ব্যবসায়ী অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, বাংলা চলচ্চিত্রের খলনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল হক ওরফে ডন।
এর আগে, গত বছর তার মৃত্যু নিয়ে দায়ের করা হত্যা মামলার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন। আদালতের ওই আদেশের পর মামলাটির তদন্ত পুনরায় শুরু হয়।
পুরোনো নথি থেকে দেখা যায়, একাধিক তদন্ত সংস্থার হাত ঘুরে সালমান শাহের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি প্রতিবেদন দেয়, সালমান শাহের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত। তবে তার পরিবার ও ভক্তরা তা মানতে পারেননি।
১ দিন আগে
হাসিনা গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে আসলে গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘আগামী শৈলকূপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা খুন, গুম ও গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি সত্যের মুখোমুখি হতে চান, তবে অবশ্যই তার দেশে ফিরে আইনি লড়াই চালানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং এর হাত অনেক লম্বা। হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। আইনও চায় তিনি দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় স্বীকার করুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে যাক।
শেখ হাসিনার বক্তব্য ও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিও বার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি ভিডিও কনফারেন্সে আসার সাহস পাননি, কেবল একটি অডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন, যা অনেকেই এআই-জেনারেটেড বলছেন। আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন পরোয়ানাভুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। চার-সাড়ে চার হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দশত মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত তিনি। এতদিনেও কি তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা এসেছে? তিনি কি এতগুলো অপরাধের জন্য জনগণের কাছে মাফ চেয়েছেন?’
বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগ হবে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। সৃষ্টিকর্তার পরেই যেন মানুষ বিচার বিভাগের ওপর নিজের আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। অবকাঠামো বা পদ্ধতিগত সংকটের চেয়েও বিচার বিভাগের প্রধান সমস্যা হলো মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, এটি কেবল আর দশটা চাকরির মতো কোনো পেশা নয়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের আমানত রক্ষা করাই তাদের মূল দায়িত্ব।’
উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মতবিনিময় ও স্মরণসভায় অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
৩ দিন আগে
হাইকোর্টে ১১ কার্যদিবসে ৫০ হাজারের বেশি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে মাত্র ১১ কার্যদিবসে ৫০ হাজার ৩২৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে নতুন করে ৬ হাজার ৯৬৮টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৫৭ হাজার ২৩২টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট কমানো এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন ও রিট মোশন বেঞ্চের বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা নিষ্পত্তির এ বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেন।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
৪ দিন আগে
তনু হত্যা মামলা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় হাটইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়া সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের জামিন বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। সেই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশকে নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তার জামিন স্থগিত করে এ আদেশ দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
এর আগে, গত রবিবার হাফিজুর রহমানকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। তবে তার এই জামিনাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ।
এ নিয়ে শুনানি শেষে চেম্বার আদালত হাফিজুর রহমানের জামিন আগামী রবিবার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত স্থগিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায়, তাকে গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর ফেরেননি তনু। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোঁপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ওই সময় মরদেহ দেখে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। এর পরদিন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বাসভবন থেকে সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
৪ দিন আগে
মানবতাবিরোধী অপরাধে এবার আসামি হচ্ছেন মাকসুদ কামাল-জাফর ইকবাল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন উপাচার্য এএসএম মাকসুদ কামাল এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তিনি জানান, এ ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি, বর্তমানে তা পর্যালোচনা চলছে। এরপর ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে, চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে।
আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরও আছেন সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
এর আগে, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত শেখ হাসিনার মামলায় সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার একটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ওই ফোনালাপে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ফাঁসি দেয়ার ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছিলেন শেখ হাসিনা।
৪ দিন আগে
পুরুষ নির্যাতন দমন আইন চেয়ে করা রিট খারিজ
‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ আদেশ দেন।
বাটারফ্লাই হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. খলিলুর রহমান গত মে মাসে ওই রিট করেন। রিটের পক্ষে আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিদুল ইসলাম জনি।
রিট আবেদনে বলা হয়, যদি একটি ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহার করতে পারবে না। বিবাদীদের ওপর ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে রিটে।
রিটে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘যৌতুক আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের কেন ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়।
রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায়, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে অন্তবর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয় রিটে।
মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়।
৪ দিন আগে
অর্থ আত্মসাত: ঢাকা ব্যাংকের সাবেক ৪ কর্মকর্তার ২০ বছরের জেল
জাল জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে আলাদা তিনটি ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ব্যাংকটির সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ ও ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক ও শওকত আলী।
এর মধ্যে বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে। আর জাল-জালিয়াতের দায়ে প্রত্যেককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে; অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজার রায় দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অর্থ আত্মসাতের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাস কারাভোগ করতে হবে।
আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেন, তিন ধারার সাজা একত্রে চলবে। সেক্ষেত্রে আসামিদের সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আসামিদের মধ্যে শওকত আলী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকি তিন আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী ঢাকা ব্যাংকে হিসাব খুলে ১৭ লাখ টাকা ঋণ নেন। জামানত হিসেবে কনফিডেন্স সিমেন্টের ১ হাজার ও মেঘনা সিমেন্টের সাড়ে ৭ হাজার শেয়ার জমা দেন, পরে ঋণসীমা বাড়িয়ে ২৪ লাখ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে যাচাইয়ে শেয়ারগুলো ভুয়া প্রমাণিত হয়।
অভিযোগ করা হয়, ভুয়া শেয়ার জমা দিয়ে তিনি ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেন এবং হিসাব খোলার সময় শনাক্তকারী শওকত আলী তাকে সহায়তা করেন।
এ ঘটনায় ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক ২০০৮ সালের ৩১ মে মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন। ওই বছর ১৪ ডিসেম্বর শওকত আলীকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দেয় দুদক। পরে অধিকতর তদন্তে ২০২৩ সালের ২২ অগাস্ট ৪ জনকে অভিযুক্ত করে নতুন চার্জশিট দেওয়া হয়।
৪ দিন আগে
সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল পাশা সাত দিনের রিমান্ডে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে গুলশানের বাসভবনের সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং পেপার স্প্রে ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তার জামিন আবেদন নাকচ করে সাত দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
এর আগে, বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। একই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আনোয়ার হোসেন জগলুল পাশার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
গত ৩ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন গুলশান থানায় ১১১ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ এজাহারভুক্ত আসামিরা মারাত্মক অস্ত্রসহ খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে সকাল থেকে অবস্থান নেন এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করেন।
এতে আরও বলা হয়, আসামিরা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সড়ক বন্ধ করে এবং খালেদা জিয়া যাতে সমাবেশে যোগ দিতে না পারেন, সে জন্য এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে খালেদা জিয়া সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা বালুভর্তি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, খালেদা জিয়া বারবার চেষ্টা করেও বের হতে পারেননি। এ সময় আসামিরা পেপার স্প্রে ব্যবহার করলে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।
এ মামলার পাশাপাশি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ‘জাল নথি প্রস্তুত ও আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জগলুল পাশার বিরুদ্ধে।
৪ দিন আগে