আইনশৃঙ্খলা
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির সঙ্গে আ. লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার ওসি বদলি, বিশেষ করে শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা জানতে চান, শুধু বদলি করাই কি সমস্যার সমাধান?
প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, বদলি প্রশাসনিক কারণে হয়, কোনো বিষয়ে কর্তব্য অবহেলার কারণে হয় অথবা কোনো কিছুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সে জন্য হয়। কিন্তু বদলিটা লাস্ট (শেষ) নয়, বদলির পরে তাদের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং (বিভাগীয় ব্যবস্থা) হচ্ছে।’
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি বলেন, কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং বিভাগীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
ওই সাবেক ওসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ওসি মো. রাকিবুল হাসান।
অডিও বক্তব্যে রাকিবুল হাসানকে পুলিশের বর্তমান পরিস্থিতি, কর্মকর্তাদের পদায়ন ও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি পুলিশের পদায়ন ও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, অথচ মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না। ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে পোস্টিং এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
একই সঙ্গে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে ঠেকানোর সক্ষমতা পুলিশের নেই বলেও মন্তব্য করেন রাকিবুল।
অডিওটি নিয়ে তদন্তের পর রাকিবুলকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয় এবং গত ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) দেওয়া হয়।
৩ ঘণ্টা আগে
ফ্যাসিবাদের দোসরদের আইনের আওতায় আনলে পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ বাহিনীকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এ কাজে ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব।’
এ সময় তিনি জানান, সম্প্রতি এ ধরনের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ‘ফ্যাসিবাদের দুই শক্ত দোষর’ এবং শুক্রবার আরও একজনকে আটক করা হয়।
পুলিশকে নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তারা (আটক) এতদিন এখানেই লুকিয়ে ছিল। আমাদের গোয়েন্দা সহায়তা কোথায় ছিল?’
দেশে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের সময় এক মাসে দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত পরিসংখ্যানের কথাও উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের মানুষ কখনও আবার রাজনীতিতে দেখতে চাইবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর যারা কোনো অনুশোচনা, ক্ষমাপ্রার্থণা করেননি বা দুঃখ প্রকাশ করেননি, তারা এখন বাংলাদেশের বাইরে থেকে কথা বলছেন।
শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত পাঠাতে প্রতিবেশী দেশটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হলে আইনি প্রক্রিয়া নিজস্ব গতিতেই চলবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রদান করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে
পুলিশের অপরাধে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব পালনের সময় শৃঙ্খলাভঙ্গ বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ ফৌজদারি আইনে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ সতর্কবার্তা দেন।
পুলিশ সদস্যদের দ্রুত নিজেদের সংশোধন করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বা কোনো ধরনের অপরাধ করলে বিষয়টি শুধু বিভাগীয় শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোনো ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইন, দণ্ডবিধি বা ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে, মাঠপর্যায়ের কিছু পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে গোপনে তথ্য দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সহায়তা করছেন।
এছাড়া জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, পদমর্যাদা যা-ই হোক, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে ব্যর্থ হন, তাহলে এর পরিণতি ভালো হবে না।
তিনি পুলিশকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানান এবং জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়—এমন আচরণ থেকে বিরত থাকতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ আমাদের রাজা বা বাদশাহ হিসেবে দেখতে চায় না। তারা জনবান্ধব পুলিশ চায়।’
একই সঙ্গে তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানান, যা মানুষের অস্বস্তি, অশান্তি বা দুর্ভোগের কারণ হয়। অধীনস্থদের এমন আচরণ করতে না দেওয়া এবং তাদের প্রশ্রয় না দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকার ‘শাস্তি ও পুরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাস করে এবং ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও অন্যায়ের জন্য শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি’ পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার ও নিপীড়ন করেছে এবং জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে বেআইনি বা অবৈধ আদেশ পালন করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার তাদের সংস্কার এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিয়েছে।
একই সময়ে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় সৎ উদ্দেশ্যে করা ছোটখাটো ভুলকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রী ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও বৈষম্যহীন সমাজের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সরকার পুলিশ বাহিনীর জনবল ও সক্ষমতা বাড়াবে। এর মধ্যে ব্যাপক পরিসরে স্বল্পমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে কর্মকর্তা ও সদস্য নিয়োগের বিষয়টিও রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশের শক্তি, সংখ্যা, সরঞ্জাম ও রসদ বাড়ানো হবে এবং আমরা তা বাড়াচ্ছি।’
১ দিন আগে
ফের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবন এলাকার ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ছাড়াও মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার দিন মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় একটি চিঠি পাওয়া যায় বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেন, মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও প্ররোচনা বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে গাজী নজরুল ইসলামকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এর আগে জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম আবেগপ্রবণ ছিলেন এবং অভিমান ও পারিবারিক বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করেছেন—এমন তথ্য গাজী নজরুলের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
৩ দিন আগে
ডিআইজিসহ ১৫ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি
বাংলাদেশ পুলিশের সর্বশেষ রদবদলে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ ১৫ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হককে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে খাগড়াছড়িতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডিআইজি পরিতোষ ঘোষকে এপিবিএনের চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান খানকে ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলের (টিডিএস) কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত ডিআইজি আনিসুর রহমানকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত ডিআইজি গিয়াস উদ্দিন আহমদকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসেবে থাকা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (পুলিশ) ক্যাডারের পুলিশ সুপার ও এআইজি পদমর্যাদার আরও ৯ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলা ও কার্যালয়ে পুলিশ সুপার ও বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এসব আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপন দুটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫ দিন আগে
এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী মাকসুদা রিমান্ডে
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে গাজী নজরুল ইসলামকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে এজলাসে আনা হয়। এ সময় তিনি তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার এজাহার পড়ে দেখেন। পরে ওকালতনামায় সই করেন।
এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
গতকাল (রবিবার) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবন এলাকার ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পাঁচটি কারণে আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। কারণগুলো হলো—মরিয়ম ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার সময় এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তার আসামিরা একই বাসায় ছিলেন। আত্মহত্যার ঘটনায় তাদের কোনো প্রভাব ছিল কি না এবং তারা মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ বা ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন কি না, তা জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এছাড়া আত্মহত্যায় পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা কী ছিল, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কেউ জড়িত কি না, তা শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্যও রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
৬ দিন আগে
ন্যাম ভবন থেকে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীতে একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবন থেকে মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ন্যাম ভবন এলাকার ৫ নম্বর ভবনে যায়। এ সময় তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ দেখা যায়।
ওসি জানান, ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দল এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটের সদস্যরা পৌঁছেছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। মরিয়ম কখন আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ওসি মনির।
৬ দিন আগে
বিস্ফোরণ-অগ্নিসংযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপতৎপরতায় সরকার মোটেই শংকিত নয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুই দিন ধরে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত এবং কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুনেছি, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, মাফিয়া শক্তি, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আইসিটি কোর্টের (মানবতাবিরোধী অপরাধ আদালতের) একটা রায়ের প্রেক্ষিতে তথাকথিত কর্মসূচি দিয়েছে। সেটা মনে হয় আজকে ২০ তারিখ, লকডাউন না কি যেন নাম দিয়েছে। সেটাকে উদ্দেশ্য করে রাজধানীতে কিছু ককটেলবাজি করেছে, রাতের অন্ধকারে দুই-একটি জায়গায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি, মোটরসাইকেলসহ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্টের ফটকের সামনে যারা একটা ককটেল মেরেছিল, তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
বাসে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা কিছু বাস, পরিত্যক্ত বাস এবং কিছু বাস, যেগুলো চালক ও হেলপারবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং করা থাকে রাতে, সেগুলো টার্গেট করে দুই-একটাতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এগুলোও আমরা ফাইন্ড আউট করার চেষ্টা করছি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। তাদেরকে শনাক্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা তাদের অপতৎপরতা, আগে থেকেই দৃশ্যমান ছিল। এগুলোতে আমরা খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছি না।’
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বরে ফেরার বার্তা দিয়েছেন এবং গত শুক্রবার গুলশানের ঘটনা ও আজকের লকডাউনের মতো কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে আগামী কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লকডাউন আমরা শব্দ শুনেছি, তো এখানে লকডাউন কি দৃশ্যমান হয়েছে? এগুলো জাতি প্রত্যাখ্যান করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেই আওয়ামী শক্তি ১৪০০ লোকের প্রাণ নিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, এটা জাতিসংঘের রিপোর্ট, আমাদের রিপোর্ট অনুসারে সেটা ২০০০-এরও বেশি, সেই গণহত্যাকারীরা এখনও জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে নাই, ভুল স্বীকার করে নাই, উচ্চবাচ্য করছে বিদেশে বসে, তাদের এই সমস্ত অপতৎপরতায় আমরা মোটেই শংকিত না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই জাতি তাদেরকে কখনও এই দেশে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করবে না। সুতরাং এগুলো অপাংক্তেয়। তারা ডিসেম্বরে ফিরবে বলে, না ফেব্রুয়ারিতে ফিরবে বলে, এগুলোতে আমাদের কোনো মনোযোগ নাই।’
এছাড়া বিরোধী দল যে লং মার্চ করছে, সেটার সুযোগ আওয়ামী লীগ নিচ্ছে কি না এবং রাজপথে নামার সুযোগ বিরোধী দলের কাছ থেকে পাচ্ছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল যখন সমালোচনা করে, সেটা আমরা মনোযোগের সাথে নেই। বিরোধী দল কিছু দাবি নিয়ে লং মার্চ করেছে, করতেই পারে। এটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে সেই কর্মসূচি পালন করতে পারে, সহযোগিতা করা। আমরা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে লং মার্চ করেছে, কোথাও কোনো দুর্ঘটনা হয় নাই, সহিংসতা হয় নাই, কোনো ক্ল্যাশ (সংঘর্ষ) হয় নাই। কালকে উত্তরাঞ্চলে লং মার্চ করেছে ঢাকা থেকে, শান্তিপূর্ণভাবে করেছে। তারা তাদের বক্তব্য দিয়েছে, এখন তাদের বিভিন্ন রকমের দাবি থাকতে পারে, সেই দাবির পক্ষে যদি জনগণ থাকে, তখন জনগণ কথা বলবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর পরে নির্বাচন হবে বিধি মোতাবেক, নিয়ম মোতাবেক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, তখন জনমত কাদের পক্ষে যায় সেটা তখন দেখা যাবে। এখন এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। তার যাওয়ার সময়ে এক সপ্তাহ ধরে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে বিশৃঙ্খলাগ্রস্ত দেশ হিসেবে উপস্থাপন করছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের সভায় যে অংশগ্রহণ, এটা প্রতিবছর একবার হয়ে থাকে, তিনি তাতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। তার সাথে এ সমস্ত ঘটনাবলীর কোনো সম্পর্ক নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি এগুলো করে আসছে আরও দুই বছর আগে থেকেই। এটা কন্টিনিউয়েশন। বিরোধী দলের কর্মসূচির সাথে তাদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না সেটা আপনারাই খুঁজে বের করুন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’
তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত দাবি-দাওয়া বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট সমাধানের জন্য, তারা আলোচনা করতে চেয়েছে সংসদে, আমরা দীর্ঘ আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে কমিটি করতে চেয়েছে, বিরোধী দল-সরকারি দল মিলায়ে কমিটি করে তারা পরামর্শ দিয়েছে। তো এই বিষয়টায় ওখানেই শেষ হওয়া উচিত ছিল।’
৭ দিন আগে
যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ: ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় মূল অপরাধীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। এছাড়া গ্রেপ্তার এক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগ থানা এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মো. রায়হান উদ্দিন (৩৫), রাসেল খান (৩২), আলা উদ্দিন (২৮) ও আব্দুল্লাহ (২৮)।
নিয়াজ মেহেদী জানান, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পাকা সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক পথচারী গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ওয়ারী বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ সেপ্টেম্বর বংশাল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রায়হান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল।
পরে রায়হান উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে লালবাগ থানাধীন জেন সাহা রোডের একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলার পার্কিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পার্কিংয়ের মাঝের একটি পিলারের পাশে ইটের সুরকির বস্তার মধ্যে লাল স্কচটেপে মোড়ানো চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।
পরে ডেমরা থানাধীন ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি সূত্রের বরাত দিয়ে নিয়াজ মেহেদী জানান, রায়হান উদ্দিন এর আগে মতিঝিল থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। জামিনে বের হয়ে তিনি পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৭ দিন আগে
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫২৭
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৫৫টি মামলা করা হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৫২ জন, লালবাগে ৪৩, ওয়ারীতে ৫৭, মতিঝিলে ৬৩, তেজগাঁওয়ে ৭৯, মিরপুরে ১৪৬, গুলশানে ৪১, উত্তরা বিভাগে ৪৫ এবং গোয়েন্দা বিভাগে একজন রয়েছেন।
অভিযানকালে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল, ৫০০ গ্রাম গানপাউডার, ৫০০ গ্রাম ঝুট কাপড়, ২৫০ গ্রাম পেট্রোল, বিস্ফোরিত ককটেলের ৩৫ গ্রাম পেরেক, সাতটি টিনের টুকরা, ১০ টুকরা কসটেপ, ১০৪টি পেরেক এবং একটি বিস্ফোরিত ককটেলের টিনের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া ৫৪ কেজি ২৪৫ গ্রাম গাঁজা, ৪ হাজার ১১৫টি ইয়াবা, ২১ গ্রাম হেরোইন ও ৫০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
নিয়াজ মেহেদী জানান, অভিযানে একটি প্রাইভেটকার, তিনটি চাকু, একটি চাপাতি, একটি ছোট কাঁচি, একটি কাটার, ফয়েল পেপার, গ্যাস লাইট, একটি নাইলনের রশি, ১৪টি মোবাইল ফোন, দুটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, ২ হাজার ৬০০ গ্রাম বিভিন্ন রাসায়নিক, ৪৫৪ গ্রাম বেনেলিয়া পাউডার, ১৩ বোতল রং ও ৩৫০টি খালি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া ইয়াবা তৈরির মিশ্রিত উপাদান ১ হাজার ৫০০ গ্রাম এবং দুইজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে