আইনশৃঙ্খলা
হত্যা মামলায় সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর এজাহারভুক্ত আসামিসহ ৫০০ থেকে ৭০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলাকারীরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হন।
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অনুসন্ধান চলছিল। এর মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ, ২০০৭-০৮ সালের এক–এগারোর সময় তার ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসন–সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয় রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের মে মাসে শেখ মামুন খালেদ ও তার স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর আদালত এই আদেশ দেন। দুদক তখন তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ–সংক্রান্ত অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানিয়েছিল।
শেখ মামুন খালেদ ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি সংস্থাটির কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন।
এক–এগারোর সময়ের আরেক আলোচিত ব্যক্তি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করা, ‘জঙ্গি নাটক’ তৈরির অভিযোগ, দুর্নীতির মাধ্যমে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প থেকে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ, কথিত ‘আয়না ঘর’–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
২৩ ঘণ্টা আগে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে পুলিশ সংস্কার ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশকে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পুলিশসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার, আর্থিক সংস্কার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, স্ক্যামসহ ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্বে নিযুক্তির জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। আমরা প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা করতে চাই। দেশের সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনসহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে তা সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় বল প্রয়োগ করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পুলিশ সংস্কারে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জসমূহ সম্পর্কে মন্ত্রীর কাছে জানতে চান এবং সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদসহ রাজনৈতিক মাঠে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গ্রহণযোগ্য।
সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত (১৬-১৭ মার্চ) গ্লোবাল ফ্রড সামিট, ২০২৬-এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, স্ক্যাম বা ডিজিটাল প্রতারণা বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশ। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা ছাড়া এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রদূতও ডিজিটাল প্রতারণাকে একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রদূতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে চরমপন্থা বা উগ্রবাদ অল্প মাত্রায় থাকতে পারে, তবে তা কখনোই সন্ত্রাসবাদে রূপ নেয়নি। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে।
আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সংস্কার অপরিহার্য। রাষ্ট্রদূত একমত পোষণ করে বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা যেকোনো রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী নির্দিষ্ট করে বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং সামগ্রিক সংস্কার খাতে সুইজারল্যান্ড তাদের সহযোগিতা জোরদার করতে পারে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি)-এর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে মিলিত হন।
১ দিন আগে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান আইজিপির
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঈদুল ফিতরের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
আইজিপি বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে, ট্রাফিক ও জেলা পুলিশসহ সব ইউনিটের সদস্যরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
অনুষ্ঠান চলাকালীন পুলিশ প্রধান সদর দপ্তরে কর্মরত সব পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা, সদস্য এবং সিভিল স্টাফদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন ।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপিরা, ঢাকাভিত্তিক বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান এবং পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সেজে ভুয়া গেজেট, প্রতারককে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে ভুয়া গেজেট তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানা এলাকা থেকে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আজ (রবিবার) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
ডিবিপ্রধান বলেন, আমরা কিছু তথ্য ও ডকুমেন্টের ভিত্তিতে জানতে পারি, আরিফ মহউদ্দিন নামের একজন ব্যক্তি বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি নিজেকে কোনো সময় ড. আরিফ মহিউদ্দিন, কোন সময় শুধু মহিউদ্দিন, কোনো সময় মহিউদ্দিন চৌধুরী নাম ব্যবহার করে এসব প্রতারণা করতেন। গতকাল তাকে কক্সবাজার থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ অ্যাডভাইজর (উপদেষ্টা) হিসেবে পরিচয় দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক শাহাবুদ্দিন জামিলের সিল ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর বায়োগ্রাফি তৈরি করে বিভিন্ন লোকের কাছে পাঠান এবং একটি সরকারি গেজেটে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে পোস্ট করেন, যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনির সই রয়েছে। আসলে এমন একটি প্রকৃত গেজেট তিনি এডিট করে নিজের নাম বসিয়েছেন। এটা তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও পাঠাচ্ছিলেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আরিফ মহিউদ্দিন ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামের একটি সংগঠনের সরকারি সিল ও মনোগ্রাম ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে পাঠাচ্ছিলেন। একজন সরকারি ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাকে এটির সভাপতি ও নিজেকে সদস্যসচিব ঘোষণা করে তিনি এই সংগঠনের নামে বিভিন্নজনের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা বা চাঁদা চাচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, এছাড়া তিনি একইভাবে নিজেকে প্রতিমন্ত্রী দাবি করে দুদক বরাবর চিঠি লিখেছেন। তাকে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকেও চিঠি লিখেছেন।
ডিবিপ্রধান আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির মোবাইল ফোন প্রাথমিকভাবে যাচাই করে আমরা অসংখ্য প্রতারণার তথ্য পেয়েছি। তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছি। এখন জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পাচ্ছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
এর আগে আরিফ মহিউদ্দিন কখনও আটক হয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি মামলায় আগেও আটক হয়েছিল। এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ২০২৪ সালে তার নামে চকরিয়া থানায় একটা জিডি করা হয়েছিল। সাইবার মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজাও হয়েছে। পাঁচ বছরের সেই সাজা এখন কোন পর্যায়ে আছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি।
৪ দিন আগে
প্রস্তুতি যথেষ্ট, ঈদে রাজধানীতে নিরাপত্তার শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে জামাতের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। এছাড়া ঈদ জামাতকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তার শঙ্কা নেই জানিয়ে তিনি বলেছেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ‘যথেষ্ট প্রস্তুতি’ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তারপরও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি করছে। যদি কিছু হয়, আমাদের জানাবে। সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী ঢাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদসহ মোট ১৭২০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, জাতীয় ঈদগাহে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল ৭টায়।
এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সব স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মো. সরওয়ার বলেন, প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্যভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষাভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে অন্যান্য গাড়ি এই ঈদগাহ ময়দানের আশেপাশের রাস্তায় না আসে।
তিনি আরও বলেন, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম সুইপিং করবে।
এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের ডিএমপির বোম ডিসপোজাল টিম প্রস্তুত থাকবে। পুরো এলাকা ঘিরে অন্য একটা বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা ঈদগাহে দায়িত্ব পালন করবেন।
৮ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে থাকবে রাজধানী: র্যাব
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে জনশূন্য হয়ে পড়া রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) চব্বিশ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় যেতে পারেন। এতে রাজধানীর অনেক বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সুযোগে চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির মতো অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার থাকবে।
এ সমস্যা মোকাবিলায় র্যাব শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করবে, বিশেষ করে রাতে ফাঁকা বাসা এবং জনসমাগম কম এমন এলাকাগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
র্যাবের এই অধিনায়ক আরও জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুইটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এসব কন্ট্রোল রুমে র্যাব সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো যাত্রী যাতায়াতের সময় হয়রানির শিকার হলে বা টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে তারা সরাসরি কন্ট্রোল রুমে গিয়ে বা ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে ডিএমপির বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা, মূল্যবান সামগ্রী রাখা যাবে থানায়
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
যেসব নগরবাসীর কোনো আত্মীয়-স্বজন নেই এবং ঈদের ছুটিতে বাসায় মূল্যবান সামগ্রী রেখে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তারা প্রয়োজনে তাদের স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিরাপদ হেফাজতে থানায় জমা রাখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিটের কালোবাজারি এবং যাত্রী হয়রানি রোধে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।
মো. সরওয়ার বলেন, ঈদের সময় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্লক রেইড ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হয়ে যায়। ওই সময়ে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে এবং আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ডগ স্কোয়াড, সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং মাউন্টেড পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও তিনি জানান।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরওয়ার নগরবাসীকে ঈদের ছুটিতে বাসা ত্যাগ করার আগে দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করা, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা এবং বাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি যাত্রীদের ভ্রমণের সময় অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার গ্রহণ না করতে এবং নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিজ হেফাজতে রাখার পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
তিনি জানান, ঈদ চলাকালীন পুরো রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে যাতে নগরবাসী নিরাপদে উৎসব উদযাপন করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল ঈদের আগে ও পরে তিন দিন বন্ধ থাকবে। ঢাকার প্রধান প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
১১ দিন আগে
ঈদে লক্কড়-ঝক্কড় বাস নামালেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলায় যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে লক্কড়-ঝক্কড় বাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ার বলেছেন, সড়কে কোনো অযোগ্য বাস চলতে দেওয়া হবে না। লক্কড়-ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামালেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বৃহত্তর বাস টার্মিনালে ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ও চাঁদামুক্ত করার লক্ষ্যে মালিক-শ্রমিক মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনোভাবেই লক্কড়-ঝক্কড় বাস রাস্তায় নামানো যাবে না। কারণ একটি বাস বিকল হলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাসের ছাদে যাত্রী নেওয়া, অতিরিক্ত গতি এবং অসুস্থ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাস টার্মিনালে হেল্পডেস্ক চালু রাখা হবে এবং সেখানে বাসের ভাড়া তালিকা ও সময়সূচি টানিয়ে রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঈদকে কেন্দ্র করে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন এলাকায় প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
নিরাপত্তা জোরদারে সাদা পোশাকের পুলিশ, ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, সোয়াট টিম ও ডগ স্কোয়াডও বিভিন্ন টার্মিনালে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে আইন প্রয়োগে ম্যাজিস্ট্রেট টিমও মাঠে থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদযাত্রা সহজ করতে সরকার ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। এতে যাত্রীদের চাপ এক বা দুই দিনে না পড়ে কয়েক দিনে ভাগ হয়ে যাবে। ফলে ১৬ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারবেন, যা পরিবহন ব্যবস্থাপনার জন্য সুবিধাজনক হবে। ঈদের ছুটিতে এক কোটিরও বেশি মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবেন, অন্যদিকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবেন। এই বিপুল যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল সীমিত রাখা হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাক মহাসড়কে না নামানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মো. সারওয়ার বলেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করাই সবার প্রধান লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল আলম বাতেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব আব্দুর রহিম বক্স দুদু।
১২ দিন আগে
দুর্নীতির মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।
বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ আদেশ দেন।
আদালতে এ বি এম খাইরুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। এ আদেশের ফলে এ বি এম খায়রুল হকের কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
এর আগে, গত ৮ মার্চ জুলাই আন্দোলনে হত্যার অভিযোগ এবং রায় জালিয়াতির অভিযোগের মামলাসহ পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলা ও দুদকের করা মামলাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। মামলাগুলোতে কেন তাকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। ৫টির মধ্যে দুদকের করা মামলাটি ছাড়া অপর চার মামলায় খায়রুল হককে গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন দেন। আজ (বুধবার) দুদকের মামলায়ও জামিন দিলেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।
উল্লেখ্য, খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে করা একটি মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন। একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। এছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক।
১৫ দিন আগে
অর্থপাচার মামলায় সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন ৫ এপ্রিল। একইসঙ্গে পলাতক জাবেদসহ ২৮ আসামির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা করা হয়েছে। এই মামলায় কারাগারে রয়েছেন ৮ জন। ব্যাংক থেকে ঋণের নামে নিয়ে ২৫ কোটি টাকা লোপাট এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদক গত বছরের ২৪ জুলাই মামলাটি করে।
সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে এই প্রথম কোনো দুর্নীতি মামলায় বিচার শুরু হলো বলে জানান পিপি মো. মোকাররম হোসাইন ।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম ও প্রধান কার্যালয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটিত হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট লিমিটেডের প্রোটোকল কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেখানো হয়। মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ১৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ইউসিবি পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই শাখার জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা মো. আকরামউল্লাহ এবং তৎকালীন শাখা প্রধান ও ডেপুটি প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা আবদুল হামিদ চৌধুরী কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে হিসাবটি অনুমোদন দেন।
পরবর্তীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে ভিশন ট্রেডিংয়ের নামে গম, মসুর, ছোলা ও হলুদ মটর কেনার কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য ২৫ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হয়। মিথ্যা স্টক, অভিজ্ঞতা ও গুদাম-সংক্রান্ত তথ্য দেখিয়ে কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।
ইউসিবির কর্পোরেট ব্যাংকিং ও ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের যৌথ কমিটি ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণসহ ঋণ প্রস্তাবটি পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করে। এসব নেতিবাচক দিক উপেক্ষা করেই ১২ মার্চ ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৪৪৮তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ঋণটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঋণ বিতরণের পর অর্থের গতিপথ আড়াল করতে ২০২০ সালের ২৩ ও ২৪ মার্চ যথাক্রমে ১০ কোটি ও ১৫ কোটি টাকা প্রথমে ব্যাংকের জেনারেল লেজার হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ চারটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান—আলফা ট্রেডার্স, ক্ল্যাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের হিসাবে পাঠানো হয়।
দুদক জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা মূলত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও সহযোগী। পরবর্তীতে এই অর্থ আরামিট সিমেন্ট পিএলসি ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তর করে প্রায় ১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা পূর্ব দায় সমন্বয়ে ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া আরামিট গ্রুপের কয়েকজন কর্মচারী ৯ কোটি ৪১ লাখ ৭ হাজার ২০০ টাকা নগদ উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান রূকমিলা জামানসহ মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
১৫ দিন আগে