অন্যান্য
জ্বালানি তেল মজুদ করে লাভ নেই, দাম বাড়বে না: ডা. জাহেদ
জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে পেট্রোল পাম্পের মালিকসহ কেউ তেল মজুদ করে লাভবান হতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি পাম্প মালিকদের উদ্দেশে বলতে চাই, মজুদ করার যদি প্রবণতা কারও থাকে, তারা মনে করছেন যে যেকোনো মুহূর্তে দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং এই মজুদ করে রাখার প্রবণতা তাদের জন্য লাভজনক হবে না।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটে পড়েছি, এমনকি ধনী দেশগুলোও এই চাপের মধ্যে রয়েছে।
আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি কেনা ও মজুদের প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন সবার দায়িত্ব মানুষকে বোঝানো—প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা যেন না করা হয়। পাম্প পর্যায়ে কেউ কেউ মজুদ করার চেষ্টা করছেন, সরকার সেগুলো নজরে রাখছে।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, যদি একদিন সকালে সবাই ব্যাংকে গিয়ে একসঙ্গে সব টাকা তুলতে চান, তাহলে ব্যাংক ধসে পড়বে। কারণ ব্যাংক ধরে নেয়, সবাই একসঙ্গে টাকা তুলবে না। একইভাবে জ্বালানির ক্ষেত্রেও সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুদ ও সরবরাহ চেইন বজায় রাখে।
তিনি আরও বলেন, প্যানিক বায়িংয়ের বিষয়টি বাস্তব। আমরা যুদ্ধের খবর শুনছি, পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই শুধু ট্যাঙ্ক ফুল করছেন না, অতিরিক্ত মজুদ করার চেষ্টাও করছেন।
ঈদের আগে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যে পরিমাণ তেল কয়েক দিন চলার কথা ছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এটা মূলত সরকারের অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মানুষের ভীতি ও অসচেতনতার ফল।
তবে এই আতঙ্ককে অস্বীকার না করে তিনি বলেন, বিশেষ করে বাইক রাইডারদের মতো যাদের জীবিকা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের উদ্বেগটা বাস্তব। কিন্তু সবাই মিলে সচেতন না হলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চাইলে অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারত। আমরা এখন বেশি দামে জ্বালানি কিনছি। নতুন যে সরবরাহ আসবে, তার মূল্য আরও বেশি হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এই অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, সেই কারণে সরকার এখনো দাম বাড়ানোর পথে যায়নি। আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
১০ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নির্বাচন হবে: প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের কোনো সিদ্ধান্ত এখনও সরকার নেয়নি। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠানে এডিসি, ইউএনওরা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সেই নির্বাচনে জনগণের ভোটে যারা নির্বাচিত হবে তারাই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নে নির্মানাধীন একটি সেতুর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সেতুটির অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে এটিকে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা হবে। এটি প্রধানন্ত্রীর নজরে আসার পর আমাকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে জনগণের চলাচল-উপযোগী করতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক হারুনুর রশীদ, সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মুসাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১০ ঘণ্টা আগে
গণমাধ্যম নিয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে চাই: তথ্যমন্ত্রী
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে গণমাধ্যম নিয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে চান বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাসপূর্তি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
গণমাধ্যমকর্মীদের হুট করে চাকুরিচ্যুতি রোধে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন বা কোনো কিছু করে যাবেন কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন যে, গণমাধ্যম জগতের চেহারা এবং কাঠামোটায় কত বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে সারা পৃথিবীতে। আপনারা দেখেছেন যে, প্রতিষ্ঠিত মিডিয়া হাউসের চাইতেও একজন ইউটিউবারের প্রভাব প্রতিপত্তি এবং পরিধি অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এটা সবটাই কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি এবং এখনকার যে কমিউনিকেশন সায়েন্স, তার যে রূপান্তরিত পরিস্থিতি, সেটার কারণেই।
‘অনলাইন পত্রিকা, আইপি টিভি—এ ধরনের প্লাটফর্মগুলো তৈরি হয়েছে। ফলে আগের মতো কিন্তু আমরা বা সরকার চাইলেই পুরনো নিয়ন্ত্রণের আইন কাঠামো... তার আওতার মধ্যে কিন্তু এগুলো পড়ে না। আবার এগুলো কিন্তু আমাদের সভ্যতার অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। ফলে পুরো ব্যাপারটাই একটা স্ট্র্যাটেজিক ডিসকাশন (কৌশলগত আলোচনা)।’
তিনি বলেন, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কথা বলা যায়—অমুকটা কীভাবে, তমুকটা কীভাবে; কিন্তু আমরা এ রকম কোনো পিসমিল (আংশিক) কথাবার্তা না বলে গণমাধ্যম-সংক্রান্ত একটা বিষয়ে আপনাদের মতো স্টেক হোল্ডারদের (অংশীজনদের) সঙ্গে নিয়েই একটা স্ট্র্যাটেজিক মুভ (পরিকল্পিত পদক্ষেপ) নিতে চাই। এজন্য আমি কোনো বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত মন্তব্য করতে চাচ্ছি না আপাতত।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোনো প্রতিষ্ঠানেকে তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাখবেন কি রাখবেন না, এটার তো তার একটা এখতিয়ার এবং ক্ষমতা আছে। আবার তথ্য মন্ত্রণালয় যে কোনো ধরনের গণমাধ্যমকর্মীদের এক ধরনের নিরাপত্তা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার একটা নৈতিক দায়িত্ব আছে। কিন্তু, এই নৈতিক দায়িত্ব পালন করার জন্য কোনো উদ্যোক্তার প্রতি কী পরিমাণ চাপ প্রয়োগ করা যাবে, তার কিন্তু কোনো আইন নেই। ফলে সবটাই কিন্তু আমাদের একটা কৌশলগত আলোচনার মধ্যে আনতে হবে। আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই এই বিষয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এক মাসের মধ্যে সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড চালু, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, ইমাম-মোয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরতদের সম্মানি প্রদান, মহিলা বাস চালু, খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছে। কৃষি কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
১১ ঘণ্টা আগে
মিথ্যা তথ্য প্রচার রোধে প্রকল্প নিচ্ছে সরকার: জাহেদ উর রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার রোধে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নীতি নির্ধারণ ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাস নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটা নতুন ফেনোমেননের (প্রপঞ্চ) কথা বলি, যেটা আমার কাছে খুবই অ্যালার্মিং (আশঙ্কাজনক) মনে হয়। আমি বিশ্বাস করি, আপনি একমত হবেন। মানে প্রতিষ্ঠিত পরিচিত কোনো একটা নিউজ মিডিয়ার মতো করে একটা লোগো তৈরি করে, দূর থেকে দেখতে মনে হয় ওই মিডিয়ার লোগো, একটা ভিন্ন নাম দিয়ে কতগুলো নিউজ দেওয়া হয়, এক ধরনের স্যাটায়ার (হাস্যরস)।’
তিনি বলেন, এটা মারাত্মক রকম ডিসইনফরমেশন (অপতথ্য) ছড়াচ্ছে, আপনারা খেয়াল করেছেন আশা করি। তাই আমি মনে করি, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে, আপনারা আমাদের সঙ্গে একমত হবেন। কেউ স্যাটায়ার করতেই পারে। কিন্তু সেই স্যাটায়ারের চেহারা কোনো প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের চেহারার মতো হবে না। আমার কাছে এটা একটা অপরাধ বলে মনে হয়। তাই আমরা এই ব্যাপারটায় কাজ করতে চাই, আমরা খুব দ্রুত এটাকে একটা নির্দিষ্ট আকারের মধ্যে আনব।
উপদেষ্টা বলেন, আমি অনেককে দেখেছি এগুলোকে রেফার করে কথা বলছেন, শেয়ার করছেন সচেতন মানুষ। আসলে এই ডিসইনফরমেশন মোকাবিলা করার জন্য তো কয়েকটা কাজ আছে। একটা হলো এই ডিসইনফরমেশন ডিটেক্ট (শনাক্ত) করা, সেটাকে ডিবাঙ্ক (মিথ্যা প্রমাণ করা) করা এবং ডিসেমিনেট (প্রচার) করা।’
তিনি বলেন, আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য একটা প্রকল্প তৈরি করেছি। সেটির নাম হচ্ছে ‘নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার ও স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরির মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা জোরদারকরণ’। একটা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, এটার মাধ্যমে আমরা সেটা প্রচার করব।
তিনি আরও বলেন, আর যেটা বারবার বলছি, আমরা একটা নীতিমালা এবং আইনের অধীনে ডিসইনফরমেশন মোকাবিলা করতে চাই। এর আওতায় মানুষকে সচেতন করা তো আছেই, সঙ্গে এটা বোঝাতে চাই যে এটা অন্যায় এবং অপরাধ।
১১ ঘণ্টা আগে
অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ বুধবার (২৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ।
মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে প্রকাশিত এই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ প্রদান করলেন।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র ব্যারিস্টার কাজল ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। এছাড়া তিনি কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছেন।
১২ ঘণ্টা আগে
উচ্চশিক্ষায় বিদেশগামীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ এবং তার নির্দেশনায় আমরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে যারা কোরিয়া, জাপান, চায়না, জার্মানি—এরকম দেশগুলোতে যাবেন, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।
‘সেটা আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটা ব্যাংক আছে—প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, ওই ব্যাংকই ডেডিকেটেড করতে বলেছেন যেন এই মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়।’
প্রতিমন্ত্রী নুর বলেন, আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটা অংশই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য। এই যুদ্ধের ফলে আমাদের কী ধরনের সংকট এবং সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ধরেনমধ্যপাচ্যে যে ধরনের অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে, এগুলো আবার পুনর্নিমাণ করতে হবে। ওখানে আশা করি আমাদের দেশের শ্রমবাজার খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং আমাদের দেশের চাহিদা আরও তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাষা শেখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আমাদের দেশের মানুষ শুধু ভাষা না জানার কারণে তারা অল্প পয়সার চাকরি করে। ভাষা জানলে তারা একটু ভালো বেতন পেতে পারে। জাপানে এক লাখ লোক পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে একটা এমওইউ হয়েছে, সেটাকে কীভাবে ত্বরান্বিত করা যায়, জাপানসহ ইউরোপে কীভাবে আমরা লোক পাঠাতে পারি—এসব বিষয় নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে।
নুরুল হক নুর বলেন, ইউরোপের বেশ কিছু দেশের ভিসা করার জন্য ভারত যেতে হয়। তো এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশে তাদের একটা অফিস বা কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা। এই বিষয়ে আজকে আলোচনা হয়েছে। কিছু দেশ এরইমধ্যে এখানে কনস্যুলার সেবা দিচ্ছে। বাকি দেশগুলো যেন এখানে নিশ্চিত করে—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রমুখ।
১ দিন আগে
জেট ফুয়েলের ৮০% মূল্যবৃদ্ধি ‘অযৌক্তিক’, পুনর্বিবেচনার আহ্বান এওএবির
দেশে জেট ফুয়েলের মূল্য প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য ক্ষতিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
এওএবি জানায়, ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত বিইআরসি সভায় ৫ থেকে ২২ মার্চ ২০২৬ সময়ের প্ল্যাটস রেটের গড়, জানুয়ারি-জুন সময়ের সংশোধিত প্রিমিয়াম, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত ধরে জেট এ-১-এর নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ১১২ দশমিক ৪১ টাকা থেকে বেড়ে ২০২ দশমিক ২৯ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার মূল্য ০.৭৩৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং এসব তেল আগেই নির্ধারিত দামে আমদানি করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কমেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখিয়ে জেট ফুয়েলের দাম এত বড় পরিসরে বাড়ানো যৌক্তিক নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ভারত ও নেপালে জেট ফুয়েলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পাকিস্তানে ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে এই হার প্রায় ৮০ শতাংশ।
এওএবি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপবে। জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির ফলে পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে, যা খাতটির টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে।
সংগঠনটি আরও সতর্ক করে বলেছে, মূল্যবৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় এওএবি সরকারের প্রতি দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।
১ দিন আগে
জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে সংসদীয় কমিটিতে ঐকমত্য
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে জারি করা ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে গ্রহণের সুপারিশ করতে একমত হয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা এ তথ্য জানান।
বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি প্রদানকারী অধ্যাদেশের সঙ্গে সংসদীয় বিশেষ কমিটি সম্পূর্ণ একমত। তিনি তাদের ‘বীর যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া নৈতিক এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার কাজও শুরু করেছে কমিটি।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি অধ্যাদেশ বিস্তারিতভাবে এবং সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করছি। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে জমা দেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, এই পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য হলো সাংবিধানিক বিধান এবং জনআকাঙ্ক্ষার মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করা। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের লক্ষ্য হলো সংবিধান এবং জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়া। তবে সব ক্ষেত্রেই সংবিধানের প্রাধান্য বজায় থাকবে।
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, বিশেষ কমিটির সুপারিশগুলো সরাসরি আইনে পরিণত হবে না। কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবনাগুলো সংসদে পেশ করবে এবং সংসদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যে এই সুপারিশগুলো আইনে রূপান্তরিত হবে কি না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রবর্তিত আইনি পদক্ষেপগুলো বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো মূল্যায়ন ও নিয়মিতকরণের অংশ হিসেবে এই অধ্যাদেশগুলোর পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
জুলাইয়ে আইএমএফ পর্যালোচনা, কর্মসূচি সঠিক পথে: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান কর্মসূচি সঠিক পথে রয়েছে এবং জুলাইয়ে এর পরবর্তী মূল্যায়ন হবে। একইসঙ্গে আর্থিক খাত স্থিতিশীল করা ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নিচ্ছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। তার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন।
বৈঠকের আলোচনার বিষয় জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আমাদের এই কর্মসূচি তো বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। এটা আবার পরবর্তী মূল্যায়নেও যাবে, তাতে অসুবিধা নাই। এই সময়ে অর্থনীতির যে অবস্থা, সেখান থেকে উত্তরণের জন্য যে প্রোগ্রামগুলো আছে… এই সংকট থেকে উত্তরণের ব্যাপারে, সেগুলো আমরা আলাপ করেছি।
তিনি বলেন, এরকম একটা অবস্থা থেকে উত্তরণ করতে গেলে আমাদের অনেকগুলো সংস্কার দরকার, অনেক জটিল নিয়মকানুন শিথিল করা (ডিরেগুলেশন) দরকার। ব্যাংকিং খাত তো অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে, শেয়ার বাজার খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। কর-জিডিপি অনুপাতও কঠিন অবস্থায় রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এগুলো থেকে উত্তরণ করতে হলে ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা একটার পর একটা পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছি এবং বাকিগুলো শিগগিরই নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সামাজিক খাতে অনেক কাজ শুরু হয়েছে; ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যে ‘অর্থনৈতিক সংকটে’ থমকে গেছে, সে কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও অনেক কিছু থমকে গেছে, এগুলোকে আবার পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। আর তা করতে গেলে সংস্কারের মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিকে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বলে আসছি—ডিরেগুলেশন, সংস্কার, ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসার খরচ কমানো জরুরি। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির উন্নয়ন সম্ভব এবং এর প্রতিফলন বাজেটে দেখা যাবে।
আইএমএফের অর্থ ছাড়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে জুলাইয়ে পরবর্তী মূল্যায়নের সময় আলোচনা হবে। এর মধ্যে আমরা বাজেটের প্রস্তুতি নেব।
জুনের মধ্যে ১৩০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সেটি জুলাইয়ের মূল্যায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অতিরিক্ত সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। ওয়াশিংটনে এপ্রিল মাসে যে বৈঠক হবে, সেখানে বিষয়টি আলোচনা করা হবে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশে অর্থায়ন করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইএমএফ কর্মকর্তা কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনা নীতিনির্ধারণী সংলাপের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তা সরকারের সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থায়ন নিয়ে যে কোনো আলোচনা নীতিগত আলোচনার ভিত্তিতেই হয়, আর আজ সকালে মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সেটিই হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব দেশই এখন খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ প্রতিটি দেশের জন্যই এক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং বাংলাদেশও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন।’
এক্ষেত্রে আইএমএফ কীভাবে সহায়তা করবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়েই আমরা মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছি এবং আমরা এ নিয়ে আরও কাজ করব।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মাত্র এক মাস হয়েছে। এই এক মাসের মধ্যে রমজান মাস ছিল, এর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও পরিবহনে কোনো সমস্যা হয়নি। ঈদের সময় সবাই বাড়িতে যেতে পেরেছে, ভাড়া বাড়েনি, দ্রব্যমূল্যও স্থিতিশীল ছিল।
তিনি বলেন, গার্মেন্টস খাতে প্রতি বছর ঈদের আগে যে সমস্যাগুলো হয়, এবার তেমন কোনো অস্থিরতা ছিল না। কারণ এগুলো আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ফল। আমরা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে পুরো রমজানজুড়ে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ছিল।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তেলের বড় সংকট থাকা সত্ত্বেও তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ ছিল না এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন সময়মতো দেওয়া হয়েছে; কোনো অস্থিরতা ছিল না।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু সরকার একা পারবে না। আমরা দেশবাসীর কাছে আবেদন করব—সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে, সহানুভূতিশীল হতে হবে, আমাদের মধ্যে সংযম আনতে হবে।
তার ভাষ্যে, যেহেতু যুদ্ধ কোনো সরকারের হাতে নেই, যুদ্ধ হচ্ছে অন্য জায়গায়, এর প্রভাব আমরা ভোগ করছি। এজন্য আমাদের সংযমী হতে হবে এবং সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মিলে আমরা সংকট থেকে উত্তরণ করতে পারব এবং অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১ দিন আগে
মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির আশা প্রতিমন্ত্রীর
মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চলমান আলোচনায় শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতি আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি জানিয়েছেন, এই নতুন দুটি শ্রমবাজার পুরোদমে চালু হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠানোর বড় সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিকল্প ও শক্তিশালী শ্রমবাজার হিসেবে নতুন গন্তব্য তৈরি হবে।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে উল্লেখ করে মো. নুরুল হক বলেন, আমরা অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করে দেব যাতে অতিরিক্ত খরচ ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমে আসে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আপাতত কিছু দেশে কর্মী পাঠানো ধীরগতির হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রমে সেখানে বিপুল জনবলের চাহিদা তৈরি হবে, যা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা বয়ে আনবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বের নির্দেশনার আলোকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে ফলোআপ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বিদেশগামী কর্মীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এই ঋণ প্রদান করবে। তবে এই অর্থ সরাসরি নগদ হিসেবে দেওয়া হবে না; বরং নির্দিষ্ট খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে এটি সরাসরি ব্যবহার করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সিঙ্গাপুরসহ কিছু দেশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির একচেটিয়া প্রভাব বা সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে এবং সিন্ডিকেট ভাঙার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
১ দিন আগে