রাষ্ট্রপতি
একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২১ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে অংশ নেন তারা।
এই জামাতকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই ঈদগাহ ময়দান মুসল্লিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য এখানে জড়ো হন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের আগেই ঈদগাহে পৌঁছান। এসময় পুরো এলাকা জুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।
ঈদের এই প্রধান জামাতে আরও অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সাধারণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ঈদগাহ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয় এবং দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় করা হয় বিশেষ মোনাজাত।
মোনাজাত শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানান। পরে তারা নিজ নিজ বাসভবনের উদ্দেশে ঈদগাহ ত্যাগ করেন।
২৩ ঘণ্টা আগে
জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ওই জামাতে ঈদের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নারীসহ ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। নামাজে অংশগ্রহণ করা মুসল্লিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারবেন।
তবে আবহাওয়ার কারণে ঈদগাহ ময়দান নামাজ আদায়ের অবস্থায় না থাকলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাতের আয়োজন করেছে ঢাকা সিটি করপোরেশন। এ উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন করেন।
২ দিন আগে
গণতন্ত্র, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে নবগঠিত সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পথ কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়।’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা। তিনি জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে ইতোমধ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সুশাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে পূর্বশর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
দুর্নীতি দমনে অতীত পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএনপি সরকারই দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’ প্রণয়ন করেছিল। বর্তমান সরকারের আমলেও দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি প্রণয়নে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, বেকারত্ব হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার অর্থনীতির ‘অলিগার্কিক’ বা একচেটিয়া কাঠামো ভেঙে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে দেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। এই আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সহস্রাধিক মানুষের আত্মত্যাগ ও ৩০ হাজারের বেশি মানুষের আহতের বিনিময়ে এই নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জন-আস্থা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সেই আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনসহ সব প্রতিষ্ঠান যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সরকার তা নিশ্চিত করবে।
পরিশেষে ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’—এই বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন রাষ্ট্রপতি।
৯ দিন আগে
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করার সময় ওয়াক আউট করেন তারা।
এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালে বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান।
প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা বন্ধ কর’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান।
এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ শুরু করলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলো সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি তুলেছিল।
৯ দিন আগে
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি
শপথ নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
স্পিকার পদে একটি মনোনয়ন উত্থাপিত হয় জাতীয় সংসদে। প্রস্তাব করেন বরগুনা-২ সংসদীয় আসনের সদস্য নুরুল ইসলাম এবং সমর্থন করে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম। প্রস্তাবটি সংসদে উত্তাপিত হলে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে তা পাস হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন।
নেত্রেকোনা-১ এর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করে নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন লক্ষীপুর-৪ এবিএম আশরাফ উদ্দিন মিজান। ব্যারিস্টার কাইসার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করার জন্য সংসদে কণ্ঠভোটে দেওয়া হয়। কণ্ঠভোটে তিনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
৯ দিন আগে
নারীর নিরাপত্তা ও সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
নারীর প্রতি সহিংসতা, অনলাইনে চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিংয়ের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রবিবার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস,২০২৬’ উদযাপন ও ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নারী ও কন্যারা যেন অবহেলা, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার না হন; তারা যেন সমান সুযোগ ও মর্যাদা পান। আমরা এমন একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে, স্বাবলম্বী হবে এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবে; আর প্রতিটি কন্যাশিশু স্বপ্ন দেখার ও তা বাস্তবায়নের সমান সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অতীতেও আমরা দেখেছি, সরকার আন্তরিক হলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।
বক্তব্যের শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনসহ এ পর্যন্ত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সকল আন্দোলন ও সংগ্রামে শহিদদের মহান আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, অতীতে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে অ্যাসিড সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। ২০০২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার অ্যাসিড নিক্ষেপ ও অ্যাসিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন এবং দ্রুত বিচার ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অ্যাসিড সন্ত্রাস প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ কার্যকর হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
বর্তমানে সামাজিক হয়রানির পাশাপাশি অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, নারীর নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি বাসযোগ্য ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। সমাজ ও অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়োজিত লাখ লাখ নারী দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকা শক্তি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, প্রশাসন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গণমাধ্যম এবং ক্রীড়াসহ নানা ক্ষেত্রে নারীরা সাফল্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ভিত্তি স্থাপন করেন স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে প্রথম নারীবিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়, যা পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সময় বর্তমান মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত হয়।
১৩ দিন আগে
উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে পাটজাত পণ্য বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ এবং ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে—স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং প্রচার করে এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পাট খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার। বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিন।
পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্রমবর্ধমান বিশ্বব্যাপী চাহিদাকে কাজে লাগাতে তিনি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পাট খাতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উদ্যোক্তা, কৃষক, গবেষক এবং ব্যবসায়ীসহ পাট খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি সোনালী আঁশ পাটকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, পাট কেবল একটি কৃষি ফসল নয়, এটি একটি শিল্প ও রপ্তানি পণ্য। সর্বোপরি, এটি একটি প্রাকৃতিক এবং পরিবেশবান্ধব আঁশ।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, এক সময় বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা ছিল। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকারক প্রভাবের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব পণ্য হিসেবে পাটের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব এখন টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে, যা বাংলাদেশের পাট ও পাটভিত্তিক শিল্পের জন্য সুযোগের একটি নতুন জানালা খুলে দিয়েছে।
সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা তুলে ধরে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, খাতভিত্তিক অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার রুগ্ন ও বন্ধ পাটকল এবং অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পাট খাতের আধুনিকায়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, উচ্চফলনশীল পাটের জাত উদ্ভাবন এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহার উৎসাহিত করার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে, যার ফলে ১১ লক্ষাধিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন এবং পাট চাষসহ কৃষি খাতে নতুন গতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার।
তিনি পাট চাষিদের উন্নত ও উচ্চফলনশীল চাষ পদ্ধতি গ্রহণ এবং মানসম্পন্ন আঁশ উৎপাদনের দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক, উদ্ভাবনী এবং সাশ্রয়ী পাটজাত পণ্য তৈরির পরামর্শ দেন। সাধারণ মানুষকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ বর্জন করে সাশ্রয়ী পাটের ব্যাগ ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারের অনুরোধ জানান রাষ্ট্রপতি।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ভার্চুয়ালি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯ দিনব্যাপী পাট ও বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধন করেন। দিবসটি উপলক্ষে ১২টি ক্যাটাগরিতে মোট ১৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সচিব বিলকিস জাহান রিমি, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির এবং বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএমএ) সভাপতি আবুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।
১৫ দিন আগে
পিলখানায় শহিদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে প্রথমে রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় পিলখানা ট্র্যাজেডিতে সব শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মার শান্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এম নজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। বার্ষিক দরবার চলাকালে শুরু হওয়া এ বিদ্রোহ দ্রুত রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী তাণ্ডবে। মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং নারী-শিশুসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়।
২৫ দিন আগে
বিডিআর বিদ্রোহে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি
বিডিআর (বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) বিদ্রোহে শহিদদের কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পন করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
এ বিষয়ে আজ (সোমবার) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল উইং থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সেনা শহিদ দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
বিডিআর সদস্যদের আত্মত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
২৫ দিন আগে
দেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হলেন তারেক রহমান, শপথ নিলেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ শুরু হয়। তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও ত্রয়োদশ সংসদ নেতা তারেক রহমান। শপথ শেষে করমর্দনের মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। এ সময় উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
শপথ গ্রহণের পর শপথপত্রে স্বাক্ষর করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত আসন গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
এরপর মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। ত্রয়োদশ সংসদের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান, আবদুল আওয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মো. আমিনুর রশিদ আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আসাদুল হাবীব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দিপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ ও শপথপত্রে স্বাক্ষর শেষ হওয়ার পর আসে প্রতিমন্ত্রীদের পালা। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম শপথ নেন।
৩২ দিন আগে