ইরান
ভারত মহাসাগরে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এ ঘটনাকে তেহরানের ‘বেপরোয়া হামলা’ বলে নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
হামলার কথা নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি ব্রিটিশ কর্মকর্তারা। তবে হামলাটি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটির কতটা কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছেছিল, তাও স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার (২১ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ‘অঞ্চলজুড়ে আগ্রাসী আচরণ এবং হরমুজ প্রণালি জিম্মি করে রাখা’ ব্রিটেন ও এর মিত্র দেশগুলোর জন্য হুমকিস্বরূপ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সরাসরি অংশ না নিলেও যুক্তরাজ্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বোমারু বিমানকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলার সুযোগ দিয়েছে।
শুক্রবার ব্রিটিশ সরকার জানায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে যেসব অভিযান পরিচালিত হবে, তাতে দিয়েগো গার্সিয়াসহ যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে পারবে মার্কিন বোমারু বিমান।
তার আগেই ওই ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান।
হামলা আরও বাড়াবে ইসরায়েল
এদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, আগামী সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার মাত্রা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ বাড়ানো হবে।
শনিবার দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে আইডিএফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের সন্ত্রাসী শাসন ও তাদের নির্ভরশীল অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলার তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।’
তার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
নাতানজ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা
শনিবার ইরানের নাতানজ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে বিমান হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা। তবে এতে কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজধানী তেহরানে রাতভর ভারী বিমান হামলার শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত নাতানজ স্থাপনায় হামলার পর বাইরে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বাড়েনি।
জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, তারা এ হামলার বিষয়ে অবগত হয়েছে এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বৃদ্ধি পায়নি বলে ইরান তাদের জানিয়েছে। তবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এই হামলাগুলো ঘটল। এর আগে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেও নাতানজ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তরে ড্রোন হামলায় একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।
এ ছাড়াও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শোশানি জানান, ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি খালি কিন্ডারগার্টেনে আঘাত হানে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
১৯ ঘণ্টা আগে
বন্ধ হরমুজ দিয়েই ৯০ জাহাজ পারাপার, লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে ইরান
সামুদ্রিক ও বাণিজ্য তথ্য প্ল্যাটফর্মগুলোর মতে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ প্রায় ৯০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। বিশ্বখ্যাত এ জলপথটি কার্যত বন্ধ থাকলেও ইরান এখনও এর মধ্য দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে যাচ্ছে।
মেরিন ডেটা ফার্ম লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, প্রণালি অতিক্রম করা জাহাজগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ছিল তথাকথিত ডার্ক ট্রানজিট বা ছায়া জাহাজ, যারা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি এড়িয়ে চলাচল করে। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার ফলে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোও সফলভাবে এ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম কমানোর আশায় মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী প্রণালিটি দিয়ে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল মার্চ মাসের শুরুতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বন্ধ রয়েছে। এ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
তবে বাণিজ্য বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরান ১৬ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির কারণে চীন এখন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রেডডালের ক্লায়েন্ট ডিরেক্টর কুন কাও বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান যেমন তেলের বাজার থেকে মুনাফা লুটছে, তেমনি নিজের রপ্তানি পথটিও সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, ১ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে কমপক্ষে ৮৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে ১৬টি ছিল তেলের ট্যাঙ্কার। যুদ্ধের আগে এই পথে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত। এই ৮৯টি জাহাজের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশই ইরান-ঘনিষ্ঠ বলে ধারণা করা হচ্ছে; বাকি জাহাজের মধ্যে চীন ও গ্রিসের জাহাজও রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দেশের জাহাজও এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছে।
পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন করাচি নামক একটি তেলের ট্যাঙ্কার গত রবিবার (১৫ মার্চ) এই প্রণালি অতিক্রম করে। অন্যদিকে, ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিপিং করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার শিভালিক এবং নন্দা দেবী নামক দুটি এলপিজিবাহী জাহাজও ১৩ বা ১৪ মার্চের দিকে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর জাহাজ দুটি পার হতে পেরেছে। ইরাকও তাদের তেলের ট্যাঙ্কারগুলো চলাচলের অনুমতি পেতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে।
লয়েডস লিস্টের এডিটর-ইন-চিফ রিচার্ড মিড বলেন, জাহাজগুলো কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যাতায়াত করছে। এর ফলে ইরান কার্যকরভাবে একটি নিরাপদ করিডোর তৈরি করেছে যেখানে কিছু জাহাজ ইরানি উপকূলের খুব কাছ দিয়ে যাতায়াত করছে।
তবে বিশ্লেষণে এ-ও দেখা গেছে, কিছু জাহাজ হামলার ঝুঁকি কমাতে নিজেদের চীন-সংশ্লিষ্ট বা সম্পূর্ণ চীনা ক্রুচালিত হিসেবে ঘোষণা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগ নিচ্ছে এই জাহাজগুলো।
যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে এখন ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। ইরান হুমকি দিয়েছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের এক লিটার তেলও এই পথ দিয়ে যেতে দেবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে তারা ইরানি তেলের ট্যাঙ্কারগুলোকে প্রণালি পার হতে দিচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানি জাহাজগুলো আগে থেকেই বের হচ্ছিল। বিশ্বের বাকি অংশে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে আমরা তা হতে দিচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল নেটওয়ার্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালালেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি আপাতত দেশটির তেলের অবকাঠামোতে আঘাত হানছেন না।
কুন কাওয়ের মতে, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি বলছে এটি পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং এটি কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য বেছে বেছে বন্ধ রাখা হয়েছে। ইরানের রপ্তানি এবং তাদের পছন্দের কিছু দেশের চলাচলের জন্য এটি এখনও সচল রয়েছে।
ডাচ ব্যাংক আইএনজির কৌশলবিদ ওয়ারেন প্যাটারসন ও ইভা ম্যান্থি একটি গবেষণা নোটে লিখেছেন, যদি জ্বালানির দাম বাড়িয়ে যন্ত্রণা দেওয়াই ইরানের পরিকল্পনা হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তারা যে সংখ্যক ট্যাঙ্কারকে যেতে দেবে, তা খুবই সীমিত হবে।
৩ দিন আগে
ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা লারিজানি নিহতের দাবি
ইসরায়েলের রাতভর হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তবে এ দাবি সত্যতা এখনও নিশ্চিত করেনি ইরান।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে লারিজানির পাশাপাশি বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিও নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ইরানের “সন্ত্রাস ও নিপীড়ক” শাসনের নেতৃত্বকে খুঁজে বের করে অভিযান অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী (নেতানিয়াহু) ও আমি আইডিএফকে (ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী) নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বে ‘দ্রুত পরিবর্তন’ ঘটছে এবং সাম্প্রতিক হামলায় শীর্ষ দুই নেতাকে হত্যার মাধ্যমে সেই প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর পাইলট ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এ সময় প্রশংসা করেন তিনি।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, একটি গোপন আস্তানায় লারিজানি ও তার ছেলের উপস্থিতির খবর পেয়ে হামলা চালানো হয়। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
লারিজানির নিহত হওয়া দাবিসহ বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, আলি লারিজানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) প্রভাবশালী সচিব ছিলেন। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাকে এ পদে নিয়োগ দেন। তিনি দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
লারিজানি ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ১২ বছর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ছিলেন। এর আগে ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির প্রধান পারমাণবিক আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একসময় পার্লামেন্টে প্রিন্সিপালিস্ট শিবিরের নেতৃত্ব দিলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে ‘মধ্যপন্থী রক্ষণশীল’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হতো।
তার ভাই সাদেক লারিজানিও ইরানের প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, যা ইরানের পার্লামেন্ট ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সংস্থা।
গত শুক্রবার তেহরানে কুদস দিবসের সমাবেশে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল লারিজানিকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছিলেন, ‘যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু কয়েকটি টুইটে (এক্স পোস্ট) তা জেতা যায় না।’
লারিজানির নিহতের খবরের মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার নামে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করেছে, যেখানে নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করা হয়েছে। যদিও বার্তাটির সময় ও তারিখ উল্লেখ নেই।
অন্যদিকে, তেহরানের হামলার পর ইরানের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আইডিএফ। তারা জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিহত নৌসেনাদের স্মরণে আজ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, তবে লারিজানি ও সোলেইমানির মৃত্যুর বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি ইরান।
৪ দিন আগে
খাদ্য, ইন্টারনেট ও কাজের সন্ধানে ইরাকে ঢুকছে ইরানিরা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরাকের সীমান্ত খোলার প্রথম দিনই অজস্র ইরানি উত্তর ইরাকে প্রবেশ করেছেন। বর্তমানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইরানে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে পৌঁছেছে নিত্যপণ্যের দাম। তাই তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে খাদ্যদ্রব্যসহ ইন্টারনেট পরিষেবা পেতে, আত্মীয়দের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করতে এবং কাজের অনুসন্ধানে ইরাকে প্রবেশ করছেন তারা।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ মার্চ) সীমান্ত খোলার প্রথম দিন থেকেই উত্তর ইরাক সীমান্তে এ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
ইরাকে পাড়ি জমানো ইরানিরা জানিয়েছেন, অনবরত বিমান হামলা এবং খাদ্যের লাগামহীন দামের কারণে জীবন চালানো কঠিন হয়েছে উঠেছিল। তাই বাধ্য হয়েই দেশ ছেড়েছি।
উচ্চ দ্রব্যমূল্যের কারণে সৃষ্ট সমস্যায় ইরানকে সহযোগিতা করতে ইরাকের কুর্দি অঞ্চল থেকে পণ্যবোঝাই অসংখ্য ট্রাক হাজি ওমেরান ক্রসিং দিয়ে ইরানে প্রবেশ করছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু করার আগেও ইরানি কুর্দিরা নিয়মিতভাবে ইরান থেকে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কুর্দি অঞ্চলে যাতায়াত করতেন। পারিবারিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গভীর সম্পর্ক এবং সীমান্ত জটিলতা তেমন না থাকার কারণে দুই অঞ্চলের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্য ও যাতায়াত চলত। তবে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইরানিদের কাছে ইরাকের কুর্দি অঞ্চল একটি অন্যতম ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।
খিদির চোমানি নামে ইরানে পণ্য পরিবহনকারী এক ট্রাকচালক বলেন, ‘এই সীমান্ত বন্ধ থাকলে ধনী-গরিব-শ্রমিক সবার ওপরই প্রভাব পড়বে।’
আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার কারণে সীমান্তটির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল।
৫ দিন আগে
গভীর হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, কমতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ যে তাদের হাতেই ছিল, তা নিয়ে খুব কম মানুষের মনেই সন্দেহ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। দাবার চাল এখন চলে যাচ্ছে তেহরানের দিকে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৫ মার্চ) ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি এখন আমাদের হাতে। তার দাবি, পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা এবং হামলার ফলে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
দ্য গার্ডিয়ানের কলামিস্ট জেসন বার্ক এক প্রতিবেদনে বলেছেন, তিন সপ্তাহ আগেও তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এতটা আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়নি। এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইসরায়েলের একটি আকস্মিক হামলার মাধ্যমে, যাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী যে বিনা বাধায় বিচরণ করতে পারে এবং গোয়েন্দা তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার ব্যবহার করে হাজারো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে, তা প্রমাণ করতে তারা বেশি সময়ও নেয়নি।
ইরানও ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে এর বেশিরভাগই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা হয়েছে। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হয়েছেন। গত বছর এ দুই দেশের মধ্যে হওয়া স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের তুলনায় এবার নিহতের সংখ্যা এখনও অনেক কম।
তেহরানের হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলো তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তারা এখনও তাদের বাসিন্দা এবং অবকাঠামোগুলোকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পেরেছে। যদিও তাদের কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী মিসাইলের মজুদ শেষ হয়ে যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে শান্তি, বিলাসিতা ও সম্পদের মরূদ্যান হিসেবে তাদের যে পরিচিতি ছিল, তা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রতিদিনই ইরানে হামলার মাধ্যমে তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। কিন্তু দিন যত গড়াচ্ছে ততই মনে হচ্ছে, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে একাধিক সময়সীমা দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার পরেই কেবল এই যুদ্ধ শেষ হবে।
অন্যদিকে, অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরিকল্পনার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে আটকা পড়তে যাচ্ছে।
যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে এসেছে মূলত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে। এ পথটি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, পেট্রোল পাম্পগুলোতেও দাম হু হু করে বাড়ছে। এ কারণে এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির সামরিক ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড্যানি ওরবাখ অবশ্য দাবি করেছেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনও যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করছে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকার মানে হলো, আপনিই এজেন্ডা ঠিক করছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী যন্ত্র ফুরিয়ে আসছে। তাই তেহরানের সামনে একমাত্র পথ ছিল হামলা বাড়িয়ে দেওয়া এবং আশা করা যে, কোনোভাবে এটি থেমে যাবে। এ কারণেই তারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে আক্রমণ করেছে এবং তারপর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, তেহরানকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের পথে থাকা মার্কিন নৌসেনাদের ইরানের প্রধান তেল রপ্তানিকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে তারা যদি তা করেও, সেখানে পৌঁছাতে তাদের অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।
ট্রাম্প খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার নির্দেশও দিতে পারেন, যা বহু বছরের জন্য ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। শনিবার ট্রাম্প বলেছেন, এখন পর্যন্ত সেখানে কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা করা হয়েছে এবং এটি ছিল একটি সৌজন্যমূলক সিদ্ধান্ত।
ওরবাখ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সত্যি সত্যিই সেখানে হামলা চালাবে কি না, এখন সেই সিদ্ধান্তের ওপর অনেকটা নির্ভর করছে ইরানের অর্থনীতির ভাগ্য। যদি কোনো অচলাবস্থা তৈরিও হয়, তবে সেই লড়াইটা সমানে সমান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৫ দিন আগে
শুধু তামাশা করার জন্য হলেও খার্গ দ্বীপে আবার হামলা চালাতে পারি: ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানিকেন্দ্রে শুধু তামাশা করার জন্য হলেও হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া ৩০ মিনিটের এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান সরকার একটি চুক্তি করতে চায় এবং সেই চুক্তির শর্তাবলি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি।
হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ঠিক কতদিন যুদ্ধ চলবে, এই বিষয়ে সংশয় দূর করতে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খার্গ দ্বীপের বেশিরভাগ স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তামাশা করার জন্য হলেও আরও কয়েকবার হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী।
এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমরা খার্গ দ্বীপের অনেক অংশ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি। তবে একটা বিষয়ে নিশ্চয় আপনারা অবগত যে, আমি জ্বালানি পাইপলাইন বা বিদ্যুৎ লাইনের ওপর কোনো ধরনের হামলা করিনি, কারণ সেগুলো মেরামত করতে বহু বছর লেগে যেত।’
কোনো সূত্র উল্লেখ না করে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা সংশয়ের মধ্যে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, ‘আসলেও তিনি জীবিত আছেন তো?’
তিনি আরও জানান, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পুতে রেখেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দুই সপ্তাহ আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালি দিয়ে মূলত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সারা বিশ্বে পরিবাহিত হয়।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শক্তভাবে ওই প্রণালিতে নজরদারি চালাব এবং আমরা মনে করি, এই তেল পরিবহনের সঙ্গে যেসব দেশের স্বার্থ জড়িত, তারাও এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে।’
তবে কতদিন এই প্রক্রিয়া চলবে বা কোন কোন দেশ এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে, তা এখনও তিনি স্পষ্ট করেননি।
শনিবার অন্যান্য দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে সমন্বয় করবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সব দিক থেকে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করেছে। কিন্তু বিশ্বের যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল গ্রহণ করে, তাদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরাও সাধ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে যাতে সবকিছু দ্রুত, সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। এটি সর্বদা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হওয়া উচিত ছিল এবং বিশ্বের এই পরিস্থিতিতে তা হবে বলেও আশা করছি। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিশ্বকে সম্প্রীতি, নিরাপত্তা এবং চিরস্থায়ী শান্তির দিকে ধাবিত করবে।’
তবে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে কি না, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপাতত আপনাদের কিছু জানাতে চাচ্ছি না।’
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমানে সংকট নিরসনে ট্রাম্পের এই একত্রিত হওয়ার আহ্বানকে তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে। কারণ এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে পরিচালিত হামলা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ক্ষমতার প্রদর্শন এবং এর জন্য তারা আন্তর্জাতিক অনুমতির পরোয়া করে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও ইরান লক্ষ্যবস্তু করেছে যা অত্যন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার। তিনি বলেন, এসব দেশের ওপর হামলা পুরোপুরি অযৌক্তিক। সেই সঙ্গে ইরানের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সব সিদ্ধান্তের মধ্যে সবচেয়ে বড় অবাক করা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
৬ দিন আগে
হরমুজে ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণার পর হামলা বাড়ানোর হুমকি তেহরানের
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো মার্কিন স্থাপনাতে হামলার মাধ্যমে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবে। যুদ্ধের শুরু থেকেই তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি প্রায় সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচলের জন্য বন্ধ করে রেখেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) তেহরান এ হামলার হুঁশিয়ারি দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও অন্যান্য অবকাঠামোতেও হামলা চালাচ্ছে ইরান। শনিবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান।
শিল্প ও বাণিজ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি জাহাজ সরবরাহ কেন্দ্র আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ আমিরাতে বেশ কিছু তেল বোঝাই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। টেলিভিশনের ফুটেজে সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে।
ইরানের একজন সামরিক মুখপাত্র আরব আমিরাতের জনগণকে বন্দর, ডক এবং মার্কিন ঘাঁটি থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনী ওই এলাকাগুলো থেকেই ইরানের দ্বীপগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ শনিবার রাতে বলেন, সন্ত্রাসী আগ্রাসনের মুখে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার দেশটির রয়েছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, আরব আমিরাত এই চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রাখে, তবে আমরা এখনও যুক্তি ও বুদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং সংযম বজায় রেখে ইরান ও এই অঞ্চলের জন্য একটি সমাধানের পথ খুঁজছি।
গত শুক্রবার ইরানের প্রধান তেল রপ্তানিকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারও ইরানে দফায় দফায় হামলা অব্যাহত রেখেছে মার্কিন বাহিনী।
শনিবার রাতে এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন হামলায় ওই দ্বীপের বেশিরভাগ অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে আমরা ‘মজা করার জন্য’ আরও কয়েকবার সেখানে হামলা চালাতে পারি। তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো নয়।
এদিকে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও তেরানকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে। আধা-সরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানের একটি রেফ্রিজারেটর ও হিটার কারখানায় বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সক্ষমতা এবং শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, অনেক দেশ বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে প্রণালিটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা যায়।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার চেষ্টায় ট্রাম্প আরও বলেন, আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য এবং অন্যরা যারা এই কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা ওই এলাকায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো সুসংগত কৌশল উপস্থাপন করতে পারেনি। সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, খার্গ দ্বীপে অভিযান চালিয়ে মার্কিন বাহিনী সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোকে নিশ্চিহ্ন করেছে। তিনি বলেন, ভদ্রতার খাতিরে আমি দ্বীপের তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে, ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার জন্য কিছু করে, তাহলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে আমি দেরি করব না।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের ‘উন্মাদ পাপিষ্ঠ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের নেতারা মরিয়া হয়ে আত্মগোপন করেছেন। তারা গর্তে ঢুকেছেন।
হেগসেথ আরও দাবি করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত এবং সম্ভবত ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। ইরান স্বীকার করেছে যে, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলি হামলায় ৫৬ বছর বয়সী খামেনি আঘাত পেয়েছেন। তবে তারা বলছেন, তার আঘাত তত গুরুতর নয়।
ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ হওয়া এখন এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। খার্গ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত এবং এটিই দেশটির তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই অঞ্চলে আমেরিকার শেয়ার রয়েছে এমন তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার প্রতিবেশী দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনীকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রজেক্ট ডিরেক্টর আলি ভায়েজ বলেন, ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করছে। তিনি বলেন, কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাকে হারিয়েও, এই সরকার বেশ অক্ষত বলে মনে হচ্ছে।
অপরদিকে, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। রাতে দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।
ইরানে বোমা হামলায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ইসরায়েলে ১৩ জন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মোট ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননেও মানবিক সংকট গভীর হচ্ছে। সেখানে ইসরায়েলি হামলায় ৮০০-র বেশি মানুষ নিহত এবং ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বৈরুত থেকে ওয়াশিংটন সব পক্ষই এখন এক চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়া রোধ করতে শিগগরিই এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে চাইবেন ট্রাম্প।
বিশেষজ্ঞরা এই সপ্তাহের শুরুতে দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, খার্গের দিকে পরিচালিত সামরিক পদক্ষেপ তেলের দাম আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করবে, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে।
চ্যাথাম হাউস থিঙ্কট্যাঙ্কের নীল কুইলিয়াম বলেন, খার্গে হামলার ফলে গত সোমবার আমরা যে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার দেখেছিলাম, তা ১৫০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারের জন্য এটি অশনি সংকেত।
৬ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি ট্রাম্পের আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি বন্দর এলাকা থেকে মানুষকে সরে যেতে বলেছে।
আরব আমিরাতের দুটি বন্দর খালি করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তেহরান প্রকাশ্যে প্রতিবেশী দেশের যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয় এমন সম্পদের বিরুদ্ধে হুমকি দিল।
তেহরান অভিযোগ করেছে, ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর, ডক ও গোপন আস্তানা ব্যবহার করছে। খার্গ দ্বীপে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান টার্মিনাল রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তেহরান। আরব আমিরাতের যেসব এলাকায় মার্কিন বাহিনী আশ্রয় নিয়েছে, সেসব জায়গা থেকে মানুষকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে, লেবাননে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আমিরাতের ভূমি ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, খার্গ দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি স্থান ব্যবহার করেছে। স্থান দুটির একটি হচ্ছে রাস আল-খাইমাহ এবং আরেকটি দুবাইয়ের খুব কাছাকাছি একটি এলাকা।
এই হামলাকে বিপজ্জনক বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, ইরান কোনো জনবহুল এলাকায় আক্রমণ না করার চেষ্টা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের এই দাবির বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই।
অপরদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এখনো এসব হামলার প্রতিবাদে যুক্তি ও সংযমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারা এখনও চলমান সংঘাতে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ধৈর্য ধরছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের মধ্যে ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তবে তারা বলেছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা। যদিও কিছু ক্ষেত্রে বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন: বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রে আঘাত হানার ঘটনা দেখা গেছে।
এদিকে আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি কেবল তেহরান ও তাদের মিত্রদের জন্যই বন্ধ থাকবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় তিনি আশা করছেন যে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশ হরমুজ প্রণালিকে খোলা ও নিরাপদ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। এর জবাবে ব্রিটেন জানিয়েছে, নৌযান চলাচল নিরাপদ রাখতে তারা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিদেশি আগ্রাসনকারীদের তাদের দেশ থেকে বের করে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের ওই আহ্বানকে ‘ভিক্ষা চাওয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।
শনিবার ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা হয়, তবে তারা ওইসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা চালাতে দুবার ভাববে না।
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপে হওয়া হামলায় তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে তাদের দাবি, এই হামলাগুলো একটি বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা, একটি নৌঘাঁটি, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার এবং একটি অফশোর তেল কোম্পানির হেলিকপ্টার হ্যাঙ্গারকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে সহায়তা করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে বিমানে থাকা ৬ জন সেনা নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহতরা হলেন— মেজর জন এ ক্লিনার (৩৩), ক্যাপ্টেন আরিয়ানা জি সাভিনো (৩১), টেক সার্জেন্ট অ্যাশলি বি প্রুইট (৩৪), ক্যাপ্টেন সেথ আর কোভাল (৩৮), ক্যাপ্টেন কার্টিস জে অ্যাংস্ট (৩০) এবং টেক সার্জেন্ট টাইলার এইচ সিমন্স (২৮)।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম ইরাকে দুই বিমানের এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর এই বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে। অবশ্য ‘মিত্রশক্তির নিয়ন্ত্রিত’ আকাশসীমায় ঘটা এই দুর্ঘটনায় অন্য বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে আরেকটি হামলা
এদিকে, শনিবার বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সের ভেতরে হেলিপ্যাডে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি।
ওই দূতাবাস কমপ্লেক্সটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই এই স্থাপনাটি ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ছোড়া রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে।
এ ঘটনার পরপর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবারও ইরাকে থাকা মার্কিন নাগরিকদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশটি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট না থাকায় তাদের স্থলপথে ইরাক ছাড়তে বলা হয়েছে।
তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, স্বার্থ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রাখবে।
৬ দিন আগে
মোজতবা খামেনি সম্ভবত জীবিত, তবে গুরুতর আহত: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত এখনো জীবিত আছেন, তবে সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হামলার সময় খামেনি আহত হয়ে থাকতে পারেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিডকে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, তিনি জীবিত আছেন। আমার মনে হয় তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, তবে কোনো না কোনোভাবে তিনি সম্ভবত বেঁচে আছেন।
গত বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রচার করার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বার্তা।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সাইপ্রাসে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। ওই হামলায় তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন।
রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য মার্কিন গণমাধ্যমের আগের সেই প্রতিবেদনগুলোরই প্রতিধ্বনি, যেখানে বলা হয়েছিল, হামলায় মোজতবা খামেনি জখম হয়েছেন।
৮ দিন আগে
আহত হওয়ার গুঞ্জনের মধ্যে ‘নিরাপদে আছেন’ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
ইরানে চলমান যুদ্ধের মধ্যে আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি নিরাপদে এবং সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন ইরান সরকারের এক উপদেষ্টা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান তার ইনস্টাগ্রামে অনুসারীদের উদ্দেশে বলেন, তিনি মুজতবা খামেনির বিষয়ে জানতে বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে সেখান থেকে তিনি নিশ্চিত হন যে মুজতবা খামেনির কোনো শারিরীক ক্ষতি হয়নি।
এর আগে, দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনিকে রমজান যুদ্ধের একজন আহত প্রবীণ যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সেখানে তার আঘাতের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য বলা হয়নি।
১০ দিন আগে