নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে স্ত্রী-ছেলে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্ত্রী ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার ছয় বছর পর হারেজ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হারেজ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার গুলহরি (দুর্গাপুর) এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভোলাইল গেদ্দার বাজার এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৮ জুলাই রাতে হারেজ তার ছেলে সোহাগ (১৬) ও স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে (৩৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
নিহত মনোয়ারা বেগমের মেয়ে বিথি (১৩) ও বড় ভাই মজিবুর রহমান ওরফে মজিদ (৪০) অভিযোগ দায়ের করলে ৯ জুলাই ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২০ নভেম্বর পুলিশ আদালতে হারেজের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
৮ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মৈকুলী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মৈকুলী এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ বেগম (৫৫) ও রিফাত হোসেন (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপসীর দিকে যাওয়ার সময় দ্রুতগতির ট্রাকের চাপায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে দুজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জসিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
১২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক।
নিহত জহির আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
জহিরের বাড়ি আড়াইহাজারে হলেও তিনি কয়েক বছর ধরে মুন্সিগঞ্জ সদরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় তিনি একটি ফার্মেসি চালাতেন।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে ওসি বারিক বলেন, বুধবার রাতে ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা জহিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সড়কে ফেলে রেখে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে নিহতের ভাগনে ইসমাইল হোসেনের অভিযোগ, কালাপাহাড়িয়া এলাকার এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার মামার দ্বন্দ্ব ছিল। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তবে হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে ওসি বলেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
১২ দিন আগে
ছয় মাস ধরে অচল নারায়ণগঞ্জের একমাত্র মর্গের ফ্রিজার
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে জেলার একমাত্র মর্গে মরদেহ সংরক্ষণের তিনটি ফ্রিজারই ছয় মাসের বেশি সময় ধরে অচল। লাশ কাটার ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রও নষ্ট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মর্গের প্রবেশপথে সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লা পানি জমে থাকার সমস্যা।
এসব কারণে ময়নাতদন্ত ও মরদেহ সংরক্ষণ করতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসক, কর্মচারী ও নিহতদের স্বজনরা। ফ্রিজার অচল থাকায় কোনো কোনো পরিবারকে বাইরে থেকে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে, গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
সম্প্রতি শহরের চাষাঢ়ায় মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের (৩২) মরদেহ সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, মর্গে মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব না হওয়ায় বাইরে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাখতে হয়। চার দিনে এ জন্য তাদের প্রায় ৪৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
শুভর ভাই মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার ভাইয়ের লাশটাও ঠিকমতো রাখতে পারেনি। মর্গের মধ্যে পড়ে পচে যাচ্ছিল। পরে আমরা নিজেরাই ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রাখার ব্যবস্থা করি। পুলিশকে অনুরোধ করে দ্রুত ঢাকার হিমাগারে রাখা হয়।’
সরেজমিনে দেখা যায়, মর্গে প্রবেশের পথেই জমে আছে ময়লা পানি। সেই পানিতে সাঁতার কাটছে হাঁস। মর্গের ভেতরে মরদেহ সংরক্ষণের তিনটি ফ্রিজারই অচল পড়ে আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মর্গের এক কর্মচারী বলেন, মরদেহ আনা হলেও সেগুলো সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা নেই। যেসব পরিবারের সামর্থ্য আছে, তারা বাইরে থেকে ফ্রিজিং গাড়ি ভাড়া করেন। আর নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পচে যাওয়া ঠেকাতে বাইরে থেকে বরফ এনে কোনোরকমে ঢেকে রাখেন।
মর্গের দায়িত্বে থাকা ডোম দর্পন দাস বলেন, ‘এখানে অনেক মরদেহ আসে। তবে বেশির ভাগ মরদেহ এক-দুই দিনের বেশি রাখতে হয় না। কখনও অর্ধগলিত মরদেহ এলেও তা মর্গের ভেতরে রাখা হয়। ভালো অবস্থায় থাকা মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে লাশ রাখার গাড়ি ভাড়া করতে হয়।’
মর্গের প্রবেশপথের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে দর্পন দাস বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই সেখানে ময়লা পানি জমে যায়। মর্গে যেতে রিকশা বা ভ্যানের প্রয়োজন হয়। অথচ এর পাশেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন। মর্গের সামনে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার দাবি জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৩২টি মরদেহ এ মর্গে আসে। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এসব মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নাজমুল হোসেন বিপুল বলেন, মর্গের ফ্রিজার ছয় মাস ধরে নষ্ট। এটি মেরামতের জন্য হাসপাতাল থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই ফ্রিজারগুলো ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দিনের বেলায় যেসব মরদেহ হাসপাতালে আসে, সেগুলোর ময়নাতদন্ত করে একই দিন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। রাতে মরদেহ এলে সেদিন ময়নাতদন্ত সম্ভব না হলে পরদিন সকালে করার চেষ্টা করা হয়। আপাতত এভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।
ফ্রিজার নষ্ট থাকায় ময়নাতদন্তে সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে আরএমও বলেন, হাসপাতালে আসা মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চিকিৎসকদের রোস্টার রয়েছে। সাধারণত যেদিন মরদেহ আসে, সেদিনই ময়নাতদন্ত করা হয়। সন্ধ্যার পর মরদেহ এলে পরদিন পরীক্ষা করা হয়। ফলে দুই-তিন দিন মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় না বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করা হবে।
২২ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৩ কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয়-চীনা সুতা জব্দ
কর চালানপত্র না থাকায় নারায়ণগঞ্জে চারটি অনিবন্ধিত গুদাম থেকে ৭২ হাজার ৯৪৪ কেজি সুতা জব্দ করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে আড়াইহাজার উপজেলার পুরিন্দা বাজারে মোবারক মোল্লার মালিকানাধীন অনিক ট্রেডার্সের চারটি গুদামে অভিযান চালিয়ে সুতাগুলো জব্দ করে কমিশনারেট।
পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিশনারেট জানায়, একটি প্রতিরোধ দলের চালানো অভিযানে কর চালানপত্র ছাড়া অবৈথ চীনা ও ভারতীয় ধাতব, পলেস্টার ও নাইলন সুতা পাওয়া গেছে।
জব্দ করা মোট ৭২ হাজার ৯৪৪ কেজি সুতার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে কমিশনারেট।
প্রযোজ্য রাজস্ব আদায়ের জন্য কমিশনারেট ইতোমধ্যে এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে।
২৪ দিন আগে
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরানো হলো ৯ কনটেইনার বিপজ্জনক রাসায়নিক
চট্টগ্রাম বন্দরে দুই দশক ধরে পড়ে থাকা পুরোনো ও বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ধ্বংসের জন্য ৯টি কনটেইনার নারায়ণগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। রূপগঞ্জে অবস্থিত ওয়াটা কেমিক্যাল লিমিটেডে এগুলো ধ্বংস করা হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বিশেষ ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরের এইট বি ইয়ার্ড থেকে চার নম্বর গেট দিয়ে মিথানলের পাঁচটি, থিনারের দুটি এবং সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিডের একটি করে কনটেইনার নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়।
এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৫ থেকে ২০ বছর আগে বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল হিসেবে এসব রাসায়নিক আমদানি করা হয়েছিল। তবে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে এগুলো বন্দর থেকে খালাস করা হয়নি। দীর্ঘ সময় এসব রাসায়নিক বন্দরে পড়ে থাকায় বন্দরের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে ওঠে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ মোহাম্মদ হামিম জানান, বিপজ্জনক ও মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিকের ৯টি কনটেইনার সরানো হয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তা ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে এগুলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে ওয়াটা কেমিক্যালসের কারখানায় রাসায়নিকগুলো ধ্বংস করা হবে।
প্রথম ধাপে ৯টি কনটেইনার সরানো হলেও ধাপে ধাপে বাকি কনটেইনারগুলোও সরানো হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
৩১ দিন আগে
মেঘনায় ট্রলারডুবি: কুমিল্লায় একই পরিবারের ৩ জনের দাফন সম্পন্ন
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নিহত কুমিল্লার তিনজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নিহত তিনজনের দেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে আনা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে পাশাপাশি তিনজনকে দাফন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ এলাকার লোকজন জানাজা ও দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে নিখোঁজের দুই দিন পর আজ (শনিবার) সকালে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ।
নিহতরা হলেন সামিনা (১৭), সজিব (২৪) ও সামিন (৫)। এর আগে দুর্ঘটনার দিন রায়েশা বেগম (৫৫) নামে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হেলাল উদ্দিন নামের আরও একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়র বিয়েতে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার-সংলগ্ন নদীতে প্রবল স্রোতের মধ্যে ট্রলারটি উল্টে যায়। মুহূর্তেই নদীতে তলিয়ে যান যাত্রীরা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নদীর তলদেশ থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রাখেন উদ্ধারকারীরা।
৩৮ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় ইসলামী ছাত্র শিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সরকারি তোলারাম কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ছাত্রদলকর্মী তুহিন, জাকারিয়া, অলক, তোফায়েল, আলামিন, তানজিম, রাসেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি অমিত হাসান, অফিস সম্পাদক রায়হান, তোলারাম কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল, অর্থ সম্পাদক জুহাজ, বন্দর থানার সভাপতি আসাদুল ইসলাম।
হামলার ঘটনায় কলেজ রোড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান ব্যবসায়ীরা। এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। এ সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরের উদ্দেশে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। পরে পাল্টাপাল্টি এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তারা কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব জানান, পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবির এ হামলা করেছে। তাদের ৩০ জনের মতো নেতাকর্মী কলেজের ভেতর ছিলেন। আর ডাকবাংলোর মোড়ে ছিলেন ২০০ জনের মতো কর্মী। তারা আগে থেকেই লাঠি নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন। কলেজের ভেতরে তর্কাতর্কি হওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি দাবি করেন, হামলায় ছাত্রশিবির দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে। ছাত্র শিবিরের কলেজ শাখা সভাপতি এমদাদুল হক শুভ নিজে অস্ত্র হাতে হামলা করেছেন।
এদিকে, ছাত্রশিবির মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান এ ঘটনায় ছাত্রদলকে দোষারোপ করে বলেন, কলেজে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলেজ গেটের বাইরে আমাদের কলেজ শাখা সভাপতি শুভ ও সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবালকে বেধড়ক পেটানো হয়। এ খবর পেয়ে আমি ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে যাই। কারণ তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক আছে। কিন্তু যাওয়ার সময় ডাকবাংলোর মোড়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ বা মামলা করেনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছেন, তবে তাদের কারও মারাত্মক জখম হয়নি।
তিনি বলেন, তদন্ত করে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯০ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। এ সময় পুলিশ তার হাত থেকে দিয়াশলাই কেড়ে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা নস্যাৎ করে এবং তাকে গ্রেপ্তার করে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে বন্দর থানা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রমজান (৩৫)। তিনি বন্দরের একরামপুর ইস্পাহানী বাজার এলাকার হাবিবুর রহমান হবির ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, গত সপ্তাহে এলাকাবাসী তার মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয় এবং তাকে এলাকা থেকে বের করে দেয়। তিন দিন আগে তিনি এলাকায় ফিরে এলে স্থানীয়রা তাকে মাদক বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে রমজান পাঁচ লিটারের একটি বোতলে কেরোসিন নিয়ে থানায় এসে নিজের শরীরে ঢেলে ‘ওসি, ওসি’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি মাদক ব্যবসায়ী। আমি মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিতে চাই। তবু এলাকায় আমাকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমি নিজ শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যা করব।’
পরে পুলিশ তাকে নিবৃত্ত করে থানায় নিয়ে গোসল করায় এবং হাজতে রাখে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, আকস্মিকভাবে মাদক ব্যবসায়ী রমজান থানা চত্বরে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আমরা তাকে নিরস্ত্র করে আত্মহত্যার হাত থেকে রক্ষা করি। তবে তার বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনাতেও মামলা হবে।
১১১ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জিসান ওই এলাকার ইউনুছ ওরফে ইনু মিয়ার ছেলে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আল ফালাহ’ নামে স্থানীয় একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংগঠক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম কাওছার আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে মারধর করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে একদল স্থানীয় লোক তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পরিবারের কাছে রেখে যাওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা লাঠিসোঁটা হাতে এলাকায় ভাঙচুর চালায় বলেও জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কাওছার আহমেদ বলেন, ‘জিসানের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। গতকাল (শনিবার) নতুন করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে।’
এদিকে, ঘটনার পর একটি ভিডিওতে কাওছার আহমেদকে বলতে শোনা যায়, ‘যার কাছে যা আছে তা নিয়ে নেমে যেতে হবে। ঐক্য থাকলে বাংলাদেশের প্রশাসন কি, কোনো কুত্তায়ও আমাদের কিছু করতে পারবে না। পাবলিক যদি কোনো কুত্তারে মেরে ফেলে, তাহলে কি অন্যায় হবে? ইনশাল্লাহ কোনো মামলা-হামলা কিচ্ছু হবে না। এভাবে সবাই এক থাকবেন।’
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনা তদন্তাধীন।
তিনি বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে অন্য কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
১২১ দিন আগে