ভারত
ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে: রিজভী
ভারত আবারও শেখ হাসিনাকে ‘টুল’ বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে দেশ নিজেদের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে, তারা এটিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে অপমান করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করার জন্য।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শহিদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘শহিদ জুলাই স্মৃতি সংসদ’।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আগে ভারত শেখ হাসিনাকে দিয়ে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও এখন আর পারছে না। সে কারণে শেখ হাসিনাকে আবারও ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রক্তপান করা দানবকে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে। এখন একটি প্রশ্ন এসেছে— একজন পলাতক আসামি কি সেই দেশ (ভারত) থেকে রাজনীতি করার সুযোগ পেতে পারেন? ভারত আশ্রয় দিয়েছে, সেখানে থাকুক। কিন্তু সেখান থেকে বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য অনর্গল অডিও রেকর্ড ও বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যে তারিখে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে, সেই তারিখেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সরকার এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু ভারতের সরকার বলেছে, এটার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান করতে গেলে তো সরকারের অনুমতি লাগে। সরকারের ‘গ্রিন সিগনাল’ না থাকলে একজন খুনি, পলাতক আসামি এবং তার ছেলে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন?
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনা এলে দেশে আবারও রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। তিনি কাউকে বাঁচতে দেবেন না।’
তিনি বলেন, সংগত ন্যায়বিচার আওয়ামী লীগের আমলে কেউ করেনি। শেখ হাসিনার আমলে কোনো আদালত, কোনো বিচারকই ন্যায় বিচার করেননি। যদি কেউ বিচার করার চেষ্টা করতেন, তবে তার গুম হওয়ার সম্ভাবনা থাকত এবং তাকে প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে হতো।
৪ ঘণ্টা আগে
হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগটি ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত: রিজভী
গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার প্রোগ্রামে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি ভারতের নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পলাতক একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন। আমাদের দেশের ২০১৩ সালের এক্সট্রাডিশন আইনের মাধ্যমে সে দেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে পারে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য সরকার সেদেশে চিঠি দিয়েছে, কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পনের জন্য, তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আইন, সেই আইনে দুই দেশ সই করেছে, এগ্রিমেন্ট করেছে। অথচ তারপরও তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মনে করেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া মানে আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান। এই অপমান পার্শ্ববর্তী দেশ—যাকে আমরা বন্ধু রাষ্ট্র বলি, আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পরস্পর অবস্থান করব—আর অন্যান্য দেশ যারা রয়েছে, সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলো তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এতে দুদেশের পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সম্মানকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই সংবাদ যখন বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানিয়েছে ভারতের সরকারকে। কিন্তু ভারত সরকার তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। গত ৫ই আগস্ট—যেদিন তার পতনের দিন, এ দেশের জনগণ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার আদায়, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে এক অভূতপূর্ব গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব সম্পন্ন করেছিল এবং তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন—ঠিক সেই দিনটিতেই দিল্লিতে এই ধরনের একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। আর সেখানে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণরূপে ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যে গণবিপ্লবে হাজারেরও বেশি তরুণ, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জীবন চলে গেল, তাদের রক্ত ঝরল রাজপথে, বাংলাদেশে এক ভয়ঙ্কর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে পালাতে বাধ্য হলো এক ভয়ঙ্কর রক্তপিপাসু স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট, তাকে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ, যেটি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে তারা নিজেরা দাবি করে, সেই দেশে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে!
তিনি বলেন, ওই যেদিন তার পতনের দিন, যেদিন ভয়ঙ্কর রক্তঝরানো পথ পেরিয়ে বিপ্লব সাধিত হলো, সেই দিন তাকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ওই শহিদদের প্রতি, যাদের রক্ত ঝরিয়েছে শেখ হাসিনা, তাদের অপমান করার জন্যই এই সুযোগটা করে দেওয়া হয়েছে তাকে বক্তব্যে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে। তিনি আবারও এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যখন উদ্যোগ নেওয়া হয়, ঠিক ওই সময় আন্তর্জাতিক নানা চক্রান্ত শুরু হয়। জিয়াউর রহমান যখন এই জাতিকে ক্ষুধামুক্ত করেছেন, এই জাতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন খাদ্যে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছেন, তখন তাকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হত্যা করা হয়েছে। ঠিক এখনও নানা আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
৭ ঘণ্টা আগে
তিন মামলায় ডেভিড ইমন ও সহযোগীরা কারাগারে
ভারতের পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সীমান্তে আটক চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও তার ৩ সহযোগীকে ফটিকছড়ি থানার তিনটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাগুলোর মধ্যে দুটি অস্ত্র আইনের এবং একটি হত্যা মামলা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরিন হিমার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সেশন জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের ফটিকছড়ি থানার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অস্ত্র মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ডেভিড। একটি মামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়ের করা হয়েছিল এবং অপরটি আজ বৃহস্পতিবার দায়ের করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অপর মামলাটি একটি হত্যা মামলা। ওই মামলার অন্য এক আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। এ কারণে তাকে এজাহারবহির্ভূত সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আরও বলেন, শুনানির সময় ডেভিড ইমনের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ওসি (প্রসিকিউশন) হাবিবুর রহমান বলেন, ডেভিড ইমনকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার তাকে রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হবে।
এদিকে, বুধবার রাতে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর পরামর্শে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ওপারে তাকে গ্রহণ করার জন্য লোকজনও প্রস্তুত ছিল।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে ডেভিড ইমন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। বুধবার সকাল ৬টার দিকে তার সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। তার কাছ থেকে ভারতের আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্য জানানো হবে।
গতকাল বুধবার ভোরে যশোরে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হন ডেভিড ইমন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
৭ দিন আগে
দাবি পূরণের আশ্বাসে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করল সিজেপি
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও সিজেপির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর ‘সদিচ্ছা’র ভিত্তিতে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করছেন।
তারা জানান, একটি দাবি ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
সৌরভ দাস বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাই আমরা আন্দোলনকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনস্থল ত্যাগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের দাবিগুলো মৌলিক ছিল, উগ্র কোনো দাবি ছিল না।’
পরে পুলিশ লাউডস্পিকারে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়। নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই ছিল সিজেপির প্রধান দাবি।
১২ দিন আগে
বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে মাসব্যাপী উত্তাল ছিল দিল্লিসহ ভারতের প্রধান শহরগুলোর রাজপথ। এরই মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে তৃতীয় ধাপের বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও পোস্ট করেছেন তিনি।
এক্সে পোস্ট করা একটি চিঠিতে তিনি লেখেন, এটি (মন্ত্রিত্ব) তার জন্য কখনোই ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয়’ ছিল না।
দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের মূল দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
তার পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দুই দফা আলোচনার পরও মীমাংসা না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত ছিল। আজ শনিবার সকালে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত না করলে আর কোনো আলোচনা হবে না।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো ছিল—ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিটের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
১২ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের দমন অভিযান উপেক্ষা করে আজ বৃহস্পতিবারও হাজারো তরুণ বিক্ষোভকারী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল জন্তর মন্তরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল (বুধবার) রাতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। চলতি সপ্তাহে পুলিশ দ্বিতীয়বারের মতো বিক্ষোভকারীদের দমনে এই অভিযান চালায়।
এর আগে, সোমবারও হাজারো বিক্ষোভকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে সেই বিক্ষোভ ছত্ভঙ্গ করে।
‘ককরোচ’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনটি গত এক মাসেরও আগে থেকে শুরু হয়। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও সরকারি চাকরির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলনের সূচনা হলেও পরে এটি শুধু ওই ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধীরে ধীরে এতে পেশাজীবী ও পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেন। ফলে আন্দোলনটি সামগ্রিক জনঅসন্তোষে রূপ নেয়।
এদিকে, গতকালের পুলিশি অভিযানের পর আজ সকালে পুলিশের কড়াকড়ি অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা আবারও বিক্ষাভস্থলে জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা সড়কে থাকা ব্যারিকেড উপেক্ষা করে বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন।
অপরদিকে, আন্দোলনে মানুষের অংশগ্রহণ সীমিত করতে কর্তৃপক্ষ মধ্য দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছে।
প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি ভারতের লাখো তরুণের ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
আজ ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই!’
১৪ দিন আগে
ভারতে তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বিস্ফোরণ, নিহত ১০
হিমালয়ের কোলঘেঁষা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে চীনের সীমান্তসংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজ্যের রাজধানী গ্যাংটক থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের সামারদুং গ্রামে সোমবার (২০ জুলাই) এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল বলে মঙ্গলবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা অনুপমা তামলিং জানান, বিস্ফোরণের সময় সুড়ঙ্গের ভেতরে একাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন। যারা প্রাণে বেঁচে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তারা জানিয়েছেন, প্রথমে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর সুড়ঙ্গের ভেতরে ধস নামে এবং অনেক শ্রমিক আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের (এনএইচপিসি) ছয় কর্মকর্তা উদ্ধারকাজে অংশ নিতে সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেন। তবে তারাও ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় পুলিশপ্রধান সোনাম দোলমা বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ১৭ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’
ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীসহ (এনডিআরএফ) উদ্ধারকারী দলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
এনডিআরএফ কর্মকর্তা নিতীন কুমার বলেন, ‘সুড়ঙ্গের ভেতরে মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস শনাক্ত করা হয়েছে।’ তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা বিশেষ শ্বাস-প্রশ্বাসের সরঞ্জাম ব্যবহার করে বিপজ্জনক পরিবেশে জীবিতদের খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভারতে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের কারণে নির্মাণ দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠন, নির্মাণ ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
বিশেষ করে, হিমালয় অঞ্চলে ভঙ্গুর পাহাড়, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা এবং অনিশ্চিত ভূগর্ভস্থ অবস্থার কারণে সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডে একটি সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ শ্রমিক ১৭ দিন আটকা থাকার পর উদ্ধার হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা নদী অববাহিকা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এ এলাকায় তুলনামূলক নবীন ও ভঙ্গুর শিলাস্তর, অসংখ্য ফাটল এবং ভূগর্ভে আটকে থাকা প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে।
পাশের মেঘালয় রাজ্যের নর্থ-ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবেশ ওয়ালিয়া বলেন, এলাকাটিতে কয়লাবাহী শিলাস্তরসহ তুলনামূলক নবীন ভূতাত্ত্বিক গঠন রয়েছে। মিথেনসহ অন্যান্য গ্যাস ভূগর্ভে জমে বিস্ফোরণের সূত্রপাত ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
১৬ দিন আগে
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠি শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে।’
সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এটি দ্বিতীয় দফায় চিঠি দেওয়া হলো কি না—জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের আইনে তার বিচার হয়েছে। যেহেতু তিনি পলাতক আসামি, তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যে চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন, আমরা সেটাই দিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘এটা আমরা বারবার বলেছি আগেও যে, কূটনীতিতে যে নর্মস (রীতি) আছে, যে প্রটোকল আছে, সেই প্রটোকল অনুযায়ী, এক্সট্রাডিশন ট্রিটি (প্রত্যর্পণ চুক্তি) অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান কামালকে (খানকে) দেশে ফিরিয়ে এনে উনার বিচারও সম্পন্ন করা হবে; ঠিক যেভাবে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের বিচার হবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে বিচার চলাকালে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এরপর আলাদা করে আর কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। তবে আসাদুজ্জামান খানকে চেয়ে চিঠি কবে পাঠানো হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিঠিটি সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে এবং এটি শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যখন যেটা প্রয়োজন, আমাদের আইন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে উদ্যোগগুলো নেবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কূটনীতি অনুযায়ী আমরা সেই কাজগুলো করব।
শামা ওবায়েদ বলেন, এটা তো একটা চলমান প্রক্রিয়া যে, যারা পলাতক আসামি, যাদের বিচার হয়ে গেছে, সাজা হয়ে গেছে—তাদের ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার হবে এবং জনগণও সেটা আশা করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা তো চাই যে একটা সুষ্ঠু বিচার হোক এবং সেই প্রক্রিয়াটা সরকারের পক্ষ থেকে চলমান থাকবে। চিঠি দেওয়া হলো; এখন জবাব আসা, এরপর কী করব, না করব—সেগুলো তো ভারত সরকারের ওপর নির্ভর করে। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি গেছে, আমরা অপেক্ষা করব।
শামা ওবায়েদ বলেন, অবশ্যই আমরা আশা করব যে, ভারত ইতিবাচক জবাব দেবে এবং দুই দেশের মধ্যে যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আছে, সেটাকে জোরদার করার লক্ষ্যে তাদের পক্ষ থেকে যা দায়িত্ব, সেটা তারা পালন করবে।
ভারতে পলাতক থাকা অন্যদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন চিঠি যায়। যারা আসামি, যারা পলাতক আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন, আমরা চিঠি দিচ্ছি।
গত ৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে ফের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা তার প্রত্যর্পণ চাওয়া অব্যাহত রাখব। বিষয়টি আলোচনা হয়েছে এবং স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি এগিয়ে নেওয়া হবে।
১৭ দিন আগে
ভারতে পাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য বেনাপোলে ‘হাফওয়ে শেল্টার হোম’ চালু
ভারতে পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে বেনাপোলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘হাফওয়ে শেল্টার হোম’ নামের একটি আশ্রয়কেন্দ্র।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বেনাপোলে হোটেলে সান রুফে আয়োজিত হাফওয়ে শেল্টার হোমের এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) পরিচালিত ‘গ্লোবাল অ্যাকশন এগেইনেস্ট ট্রাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্টস’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোর।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের জন্য লিঙ্গ-সংবেদনশীল ও প্রতিবন্ধী-বান্ধব সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করাই এই শেল্টার হোমের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
এখানে ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী, অস্থায়ী আবাসন, নিরাপদ আশ্রয়, খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা, আইনি সহায়তা এবং মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোলের ভবেরবেড় এলাকায় স্থাপিত এই শেল্টার হোমটিতে একসঙ্গে ৩০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণত ভুক্তভোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত এখানে রাখা হবে। কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য একজন ব্যবস্থাপব, একজন ‘হোম মাদার’, দুজন মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলরসহ ৯ সদস্যের একটি দক্ষ টিম নিয়োজিত রয়েছে।
রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর প্রদীপ দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাসনীম বিনতে করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেনাপোল পৌর প্রশাসক ফজলে ওয়াহিদ, প্রেসক্লাবের বেনাপোলের সভাপতি আলহাজ মহসিন মিলন, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন।
শেল্টার হোমের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন রাইটস যশোরের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এস এম আজহারুল ইসলাম। এ সময় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
৩০ দিন আগে
‘ভারতে বসে উস্কানি দেওয়া আ.লীগ নেতাদের ইস্যুতে দিল্লির সঙ্গে কথা বলবে সরকার’
ভারতে অবস্থান করে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সরকার আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, এসব নেতার অনেকেই বিভিন্ন মামলার আসামি এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাই শুধু উস্কানিমূলক বক্তব্য নয়, তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়টিও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিতভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গত কয়েকদিন ধরে দেখছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা ভারতে পলাতক, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে সরকার কথা বলবে কি না—সাংবাদিকরা জানতে চান।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আপনার এই কথাটার সঙ্গে আমি একমত। ভারতে বসে তারা যে কাজটা করছেন, রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে এটা নিয়ে আগেও কথা বলা হয়েছে, সামনেও এটা নিয়ে বলা হবে। কারণ এদের অনেকেই মামলার আসামি আছেন, অনেকের নামেই ওয়ারেন্ট আছে, কারও কারও নামে সাজা হয়ে গেছে। তারা কথা বলা দূরে থাক, তাদের তো আমাদের কাছে হস্তান্তর করারই কথা আছে। সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কথা বলা হচ্ছে।
সম্প্রতি তুরাগ নদী ঘিরে দুপক্ষের অপপ্রচার হচ্ছে। সরকার বিষয়টি পরিষ্কার করছে না—এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ওখানে কিছু মৃত্যু হয়েছে যা খুবই অপ্রত্যাশিত। আমরা প্রায়ই বলি, এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যু হতে পারে না, এটা হওয়া উচিত না। কিন্তু আপনারা জানেন, ঘটনাগুলো কীভাবে হয়েছে। তবে এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কি না, তা সরকার তদন্ত করবে।
তিনি আরও বলেন, আপনারা দেখেছেন যে তুরাগ নদীর অপ্রত্যাশিত বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আছে এবং দেশীয় ও দেশের বাইরের সংস্থারও প্রতিবেদন আছে, যেখানে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে তারা আসলে পালাতে গিয়েছিলেন এবং সে ধরনের পরিস্থিতিতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যারা এখনও আওয়ামী লীগ করেন, এখনও যারা আওয়ামী লীগের মিছিল করতে আসেন, আমি সত্যিই খুব দুঃখ পাই। কিন্তু তাদের জীবনও মূল্যবান, তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এটাও আমরা বিশ্বাস করি। প্রত্যেকের প্রতি আমরা এই আহ্বান জানাতে চাই, রাষ্ট্রের আইন যেন তারা মেনে চলেন।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তারা একটু অপেক্ষা করুন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন এবং আইসিটি থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। সেই সময়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই হবে। যদি বিচারে দেখা যায় যে তাদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, আবারও বলছি এটা আদালতের এখতিয়ার, তিনি (বিচারক) সব পক্ষকে শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে তারা তাদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।’
৩০ দিন আগে