প্রধানমন্ত্রী
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া থেকে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ান রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। আগামী দুই দিন তিনি দালিয়ানে একের পর এক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন।’
তিনি জানান, তারেক রহমান পরবর্তীতে চীনের রাজধানী বেইজিং সফর করবেন। সেখানে তার চীন সফরের মূল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং উপ-হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে গতকাল (রবিবার) কুয়ালালামপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফরকালে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াং-এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, দালিয়ানে অবস্থানকালে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সপ্তদশ বার্ষিক নিউ চ্যাম্পিয়ন্স সভায় যোগ দেবেন, যা ‘সামার ডাভোস’ নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত। এটি ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত লিয়াওনিং প্রদেশে অনুষ্ঠিত হবে।
‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই ইভেন্টে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ফোরামে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, শিল্প রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হবে।
ফোরামে যোগ দেওয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী ২৫ জুন চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াং এবং ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর শেষ করে ২৬ জুন রাতে তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানান আতিকুর রহমান রুমন।
৫০ মিনিট আগে
২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে চায় ঢাকা ও কুয়ালালামপুর
বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে একটি ‘পারস্পরিক কল্যাণকর, ব্যাপক ও দূরদর্শী’ চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করার আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।
সোমবার (২২ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনা শুরুর ব্যাপারে হওয়া অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হলো বাংলাদেশ।
তারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এটি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সক্রিয় সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণে কাঠামোগত সংলাপ ও মতবিনিময়ের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই নেতা টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো (যেমন: সড়ক, সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার), বন্দর ও লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাতে অধিকতর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা বিনিয়োগ সহায়তা, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে উভয় দেশের সরকারি সংস্থা, বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা, শিল্পখাত ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এর মাধ্যমে শিল্পখাতের উন্নয়ন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে অংশগ্রহণ জোরদার এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
দুই নেতা বৈশ্বিক ইসলামী অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়টি স্বীকার করেন। হালাল ইকোসিস্টেম উন্নয়নে মালয়েশিয়ার দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি দিয়ে তারা বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হন।
উভয় পক্ষ হালাল ইকোসিস্টেম বিষয়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত নোট বিনিময়কে স্বাগত জানান এবং মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (জাকিম) ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
এছাড়া হালাল সনদ, নিয়ন্ত্রক কাঠামো উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দুই দেশ।
শ্রম সহযোগিতা
মালয়েশিয়ার বর্তমান বৈদেশিক শ্রমিক নীতির আলোকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশই স্বীকার করেছে যে নতুন বিদেশি কর্মীদের কোটার অনুমোদন বর্তমানে নিয়োগকর্তার যাচাইকৃত প্রয়োজনীয়তা এবং খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ সীমার ওপর ভিত্তি করে কঠোরভাবে কেস-বাই-কেস (প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে) মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদিত এ ধরনের যেকোনো কোটার ক্ষেত্রে উভয় দেশই কেবল নির্ভরযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং প্রতিযোগিতামূলক নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের "অব্যাহত, নিরাপদ এবং পারস্পরিক কল্যাণকর" অভিবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজে) বৈঠক আহ্বান করতে সম্মত হয়েছে। এই বৈঠকে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মূল্যায়ন এবং উভয় দেশের বর্তমান প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ও হালনাগাদ সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের ভিত্তি স্থাপনের ওপর আলোকপাত করা হবে।
কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের দেওয়া প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দুই প্রধানমন্ত্রী জনগণের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে স্বাগত জানান।
তারা উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
শিক্ষা ও পর্যটন সহযোগিতা
মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, শিক্ষাগত বিনিময় ও আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের ইতিবাচক অবদান রাখার পাশাপাশি দেশে ফিরে আসার পর তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতার মূল্য বিবেচনায় নিয়ে দুই নেতা শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছেন।
এ সহযোগিতার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়-থেকে-বিশ্ববিদ্যালয় (ইউনিভার্সিটি-টু-ইউনিভার্সিটি) অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা কর্মসূচি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের (টিভিইটি) ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি এবং নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে।
দুই নেতা শ্রমবাজারের চাহিদা এবং উভয় দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর সঙ্গে শিক্ষাক্রমের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে স্নাতকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
মালয়েশিয়ার ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ (ভিএম২০২৬) এবং ‘মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ (এমওয়াইএমটি২০২৬) প্রচারণাকে সামনে রেখে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপারে তারা উভয়েই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানায় এবং দুই দেশের মধ্যে পর্যটন বিষয়ে প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির বিষয়ে তারা একমত হন।
৪ ঘণ্টা আগে
বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাইরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জ্বালানি ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো নতুন ও উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আনোয়ার ইব্রাহীম বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত অংশীদারত্বের দিকে এগোতে চাই। এটি শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গবেষণা, নতুন বিজ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতেও বিস্তৃত হবে। কারণ এগুলোই ভবিষ্যতে আমাদের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।’
বাংলাদেশের বিশাল বাজার ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা মালয়েশিয়ার সঙ্গে আরও গভীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংস্কৃতি, সন্ত্রাস দমন ও গবেষণার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার করবে দুই দেশ।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বিশাল সম্ভাবনাময় বড় দেশ। আমাদের যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা উচিত এবং কৃষির বাইরে জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন শিল্প (অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং) ও সেমিকন্ডাক্টরসহ নতুন খাতগুলোতে সহযোগিতা প্রসারিত করা প্রয়োজন।’
শ্রম অভিবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের তার দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একটি আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উভয় সরকার একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে, যা কর্মী ও তাদের পরিবারের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করবে।
তিনি জানান, পেট্রোলিয়াম খাত, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনে সহযোগিতার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে। এ লক্ষ্যে মিয়ানমার এবং আসিয়ানের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে একটি টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালানো হবে।
বৈশ্বিক ইস্যুগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান অভিন্ন এবং সংঘাতকবলিত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে উভয় দেশ সমর্থন করে।
শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য পারস্পরিক কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম তার আমন্ত্রণ গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
৪ ঘণ্টা আগে
মালয়েশিয়াকে দ্রুত শ্রমবাজার খোলার আহ্বান, আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর
মালয়েশিয়াকে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য উপকারী। আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি।’
সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান অনিয়মিত (অবৈধ) কর্মীদের বৈধকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী হয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাস পায়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সহযোগিতার একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এসব দলিল বিনিময় করেন।
পরে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরপর তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও অর্জন তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথম যাদের কাছ থেকে ফোন পেয়েছিলেন, তাদের একজন ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। তার আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমি ও আমার স্ত্রী এখানে এসে আনন্দিত।’
৪ ঘণ্টা আগে
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এ সফর করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনাল বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় এক শিশু জোবাইদা রহমানকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার মোসাম্মৎ শাহানারা মনিকাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
২২ ঘণ্টা আগে
প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শ্রমবাজারের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করা এই সফরের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রবিবার (২১ জুন) বিকেল পৌনে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। এ সময় তাদের বিদায় জানান বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মন্ত্রিসভার সদস্যসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ড. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। এটি একটি দুই দিনের সফর। এরপর মালয়েশিয়া থেকে তিনি চার দিনের সরকারি সফরে চীনে যাবেন।’
সফরকালে ২৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এই দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ঢাকায় মালয়েশিয়া ও চীনা মিশনের কূটনীতিক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরে সালেহ শিবলী বলেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, ক্ষমতাসীন দলের নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে বিদায় জানাতে আসতেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঘোষিত নতুন প্রটোকল অনুযায়ী, এখন থেকে এ ধরনের উপলক্ষে মন্ত্রিসভার সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হবে।
ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। সেখানে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানাবে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সফরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করাই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
গতকাল (শনিবার) ঢাকায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, সোমবার পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হবে।
সেখানে দুই নেতার নেতৃত্বে নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে একটি একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি ও শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হবে।
বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আরও বেশি পেশাজীবী নিয়োগ, বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং তাদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর, পারদানা পুত্রায় একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আগে দুই প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে নথিপত্র বিনিময় প্রত্যক্ষ করবেন।
আসাদ আলম সিয়াম আরও বলেন, সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন ‘সেরি পারদানা কমপ্লেক্স’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষ করে তারেক রহমান আগামীকাল (সোমবার) বিকেলে কুয়ালালামপুর থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সপ্তদশ বার্ষিক সভায় (যা ‘সামার ডাভোস’ নামে পরিচিত) যোগ দেবেন এবং ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ ১৫-১৭টি দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর চীনের প্রিমিয়ার লি ছিয়াং এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের প্রথম বিদেশ সফর শেষ করে আগামী ২৬ জুন তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সই হতে পারে ১৫-১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
শনিবার (২০ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সম্ভাব্য দলিলগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) ও একটি প্রটোকল।
তিনি আরও বলেন, সফরকালে তিস্তা প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। মালয়েশিয়া সফরে ২৭ জন এবং চীন সফরে ২৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল থাকবে।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, আমরা প্রতিনিধিদলের আকার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, আগামীকাল (রবিবার) থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর শুরু হতে যাচ্ছে। এই সফরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী রবিবার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখান থেকে সোমবার বিকেলে তিনি চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি চীন সফর করবেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর।
তিনি আরও জানান, চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭ তম বার্ষিক ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ সম্মেলন ‘সামার দাভোস ফোরাম ২০২৬’-এ অংশ নেবেন।
আয়োজকরা জানিয়েছে, চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় লিয়াওনিং প্রদেশের বন্দরনগরী দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হবে।
এক সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠানের এক মুখপাত্র জানান, ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী এ সম্মেলনে যোগ দেবেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা, ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’। এতে চীনের অর্থনীতির পরবর্তী ধাপের গতিপথ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে কীভাবে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপান্তর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। এছাড়া ২৬ জুন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
সফর শেষে আগামী শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সফরের মালয়েশিয়া পর্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে, চীন সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ. কে. এম. শহিদুল করিমসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে দেবেন না—এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীকে (এসএসএফ) আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই তার শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস। সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় ভরসা মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার ওপর। তাই একটি অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, নিরাপত্তা বেষ্টনী যেন সরকারপ্রধানকে জনগণের কাছ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, তা নিশ্চিত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চার দশক আগে এই বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিরাপত্তা পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে; আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তিনি এসএসএফ কর্মীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনীর সাহস, দক্ষতা, কৌশল বা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নতুন প্রশাসন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় বিধিমালা অনুযায়ী এসএসএফ সরকারপ্রধানকে সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং ট্রাফিক চলাচল আরও সুগম করতে তিনি তার মোটর শোভাযাত্রার (মোটরকেড) আকার ছোট করেছেন, যার ফলে এসএসএফ-কে জনবল বাড়ানোর চেয়ে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি প্রায়শই ঢাকা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিই। বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি কঠিন কাজ।’
তিনি বলেন, এসএসএফ-কে সরকারপ্রধানের সুরক্ষা এবং নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এই ধরনের পরিস্থিতি তারা কতটুকু কার্যকরভাবে পরিচালনা করছে, তার মাধ্যমেই বাহিনীর পেশাদারিত্ব ফুটে ওঠে।
তারেক রহমান এসএসএফ-এর জন্য একটি নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জেরও উদ্বোধন করেন এবং একটি প্রদর্শনী মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সুবিধা বাহিনীর পেশাদার সক্ষমতা বাড়াতে অবদান রাখবে এবং সদস্যদের তাদের কর্মক্ষমতা আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, সমসাময়িক প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য ২০০২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো এসএসএফ-এর ‘রেড বুক’ সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এই হালনাগাদ করা নির্দেশিকাটি কেবল পরিচালনগত দিকনির্দেশনাই প্রদান করে না, বরং বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনাকারী আইনি কাঠামোকেও শক্তিশালী করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফ সদস্যদের নির্দেশিকায় উল্লিখিত নীতিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং একইসঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হতে হবে।
তিনি পেশাদারিত্ব, সততা, আনুগত্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বা নেতৃত্বের আদেশ মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তারেক রহমান আরও গুরুত্ব সহকারে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি এসএসএফ বাহিনীকে আশ্বাস দেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এর পেশাদার সক্ষমতা আরও জোরদার করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকদের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল আচরণ করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়।’
তারেক রহমান এই নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে এর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মানদণ্ডে অবিচল থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন এবং অতি সম্প্রতি যখন তিনি জীবনের শেষ দিনগুলোতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি এসএসএফ-কে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর, কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও অন্যতম বৃহত্তম জানাজা আয়োজনে প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আমার এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আমি আবারও এসএসএফ-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এসএসএফ-এর সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকা এবং বর্তমানে নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান।
৪ দিন আগে
অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
জনগণের অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই ব্যবহার করা হবে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘যারা এই দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে এবং যারা জনগণের অর্থ বিদেশে পাঠাতে চায়, আজ থেকে আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সবাই চোখ-কান খোলা রাখি, তাহলে কেউ দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করতে পারবে না। আমরা সবাই মিলে কাজ করব এবং সেই অর্থ দিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করব।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, দেশের মানুষের ভাগ্য বদলের এ উদ্যোগে জনগণ সরকারের পাশে থাকবে কি না। জবাবে উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের নারী-পুরুষ সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, আসুন তাহলে আজকের এই আনন্দের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক একটাই—দেশের জন্য কাজ করব, সবার আগে বাংলাদেশ।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নতুন একটি স্লোগান দেন। তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।’
পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের অনুষ্ঠান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১০টি পরিবারের নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কম্পিউটারে বাটন চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। একইসঙ্গে চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য আর্থিক অনুদানের চেকও প্রদান করেন।
এ সময় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ—বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, এ দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে। এ দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমের শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। তাহলেই আমরা বাংলাদেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চান প্রায়ই জানতে চান, ফ্যামিলি কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে?’
তিনি বলেন,‘আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, এই যে চা শ্রমিকদের ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়া হলো, চা শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়া করানোর জন্য ১০ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হলো, মানুষের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হলো—এগুলো কোনো সময়ে আপনারা শুনেছেন, কখনো দেখেছেন? আগের সরকার কোনো দিন দিয়েছে কি? দেয়নি। এগুলো কার অর্থ? জনগণের অর্থ। ’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা দেখেছি কিভাবে ১৭ বছরে এদেশ থেকে অর্থ পাচার হয়ে গেছে। জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল।’
তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বলে কোথা থেকে আসবে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা, কোথা থেকে আসবে কৃষক কার্ডের টাকা—তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা। জনগণের টাকা দিয়েই জনগণের জন্য কাজ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের অর্থ দিয়ে দেশের জন্য কাজ করা হবে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে, জনগণের জন্য কাজ করা হবে। কাজেই টাকার অভাব হবে না।’
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের জন্য প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেই বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেই বাজেটকে একটি দল গণবিরোধী বাজেট বলে। জনগণের জন্য যেই বাজেটে সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলতে পারে, তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়—সেটি সংসদের ভেতরেই হোক কিংবা সংসদের বাইরেই হোক—তাদের ব্যাপারে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ এই লোকেরা, এই দলগুলো দেশে যদি অশান্তি করার সুযোগ পায়, তাহলে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করতে পারব না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাফ কথা, যদি দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হয়, যদি মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে হয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে হয়, যদি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হয়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র কেউ নষ্ট করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি দেশ স্বাধীন হওয়ার সময়, স্বাধীনতার আগে এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র বিনষ্টকারী ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময় একসঙ্গে ছিল। মুখে বলত তারা একসঙ্গে নয়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবসময় একসঙ্গেই কাজ করেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যেক সময় বিএনপি জনগণের কাতারে ছিল। সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। বিএনপি সবসময় বলে, জনগণই আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের সময় অনেককে বিদেশে চলে যেতে। খালেদা জিয়া আপনাদের রেখে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশই আমার প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই আমার শেষ ঠিকানা। আমরা হচ্ছি খালেদা জিয়ার সৈনিক।’
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফরজানা শারমিন, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম নয়ন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে শিউলী রানী দাস ও ওয়াজেদা বেগম।
৫ দিন আগে
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সমর্থনের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর
সারাবিশ্বের সঙ্গে ফুটবল বিশ্বকাপের তুমুল উন্মাদনায় মেতেছে বাংলাদেশও। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় এখন ফুটবল নিয়ে মুখর আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
বিশ্বকাপে কে কোন দলের সমর্থক এবং কার হাতে উঠবে সোনালী ট্রফি, তা নিয়ে চায়ের টেবিল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। এ তুমুল উন্মাদনার আবহে এবার জানা গেল খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোন দলকে সমর্থন করছেন।সরাসরি কোনো দেশের নাম মুখে না আনলেও তার দেওয়া বিশেষ ইঙ্গিত ধরে নেটিজেন ও ফুটবলপ্রেমীদের বুঝতে বাকি নেই তার প্রিয় দল কোনটি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে, এই বিশ্বকাপের জোয়ারে বাংলাদেশও ভাসছে। আপনি কোন দেশকে সমর্থন করেন?
তারেক রহমান সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন একটি দেশে ছিলাম, বুঝতেই পারছেন’। পরে ওই সাংবাদিকের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন তো।’
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ ছাড়েন তারেক রহমান। পরবর্তীতে তিনি স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডনে বসবাস শুরু করেন। বিদেশে ১৭ বছর কাটানোর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর পরিবারসহ দেশে ফেরেন তিনি।
আগামী ১৮ জুন রাত ২টায় ইংল্যান্ডের প্রথম খেলা ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে। গত ১১ জুন মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠেছে। সবচেয়ে বড় এই ৩৯ দিনের টুর্নামেন্টে এবার রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফাইনালের মাধ্যমে বিশ্বকাপের পর্দা নামবে।
৫ দিন আগে