প্রধানমন্ত্রী
ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী ও নিরাপত্তাকর্মী রাকিবের স্বপ্নপূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে স্বপ্নপূরণ হলো রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ক্ষুদে সংগীতশিল্পী অনুশ্রী রায়ের। একই দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন রাজধানীর এক নিরাপত্তাকর্মী তাবিউল ইসলাম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৃথকভাবে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব নবনিদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুশ্রী রায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রতিযোগিতায় দেশের গানে প্রথম এবং নজরুলসংগীতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
গত ১৫ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তার একজন কর্মকর্তার হাতে একটি চিঠি তুলে দেয় অনুশ্রী। চিঠিতে সে সংগীতচর্চার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানায় এবং একটি হারমোনিয়াম ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
পরে প্রধানমন্ত্রী চিঠিটি পড়ে অনুশ্রীর ইচ্ছা পূরণের নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আতিকুর রহমান রুমন অনুশ্রী ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাতের সার্বিক বিষয় সমন্বয় করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ অনুশ্রী বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
২ ঘণ্টা আগে
ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধে দ্রুত একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও রাজধানীসংলগ্ন অন্যান্য নদীর বর্তমান পরিবেশগত অবস্থা, দূষণের উৎস, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে নিঃসরণ, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খালগুলোর নাব্যতা হ্রাস এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাকে নদীদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
নদীদূষণ রোধে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বিদ্যমান পরিবেশ আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা ওয়াসা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), রাজউক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এ কার্যক্রমে পরিবেশবাদী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘মানহানিকর’ পোস্ট, অব্যহতিপ্রাপ্ত এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য অব্যহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকার পূর্ব মনিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই বিকেলে বগুড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থানকালে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল দেখতে পান গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ও উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি পোস্টটি মুছে ফেলেন। এই ঘটনায় তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বগুড়া ডিবির ওসি ইকবাল বাহার জানান, আজ (বুধবার) দুপুরে আসামি সালাউদ্দিন তানভীরকে বগুড়া সদর আমলী আদালতে হাজির করা হলে জামিন না মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, ওই পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবমাননা করা হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিষয়টি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবগতির পর সিদ্ধান্ত নিয়ে গত রবিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তা এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে আজ ভোরে ঢাকার পূর্ব মনিপুর থেকে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১ দিন আগে
আহত জুলাই যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি মিতুকে কাছে ডেকে আন্তরিকভাবে কথা বলেন।
এদিন আহত জুলাই যোদ্ধা মিতু হাসপাতালের শয্যা থেকে সরাসরি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মিতুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন, চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান এবং তার সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন।
আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন ছিলেন মিতু, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হয়ে এখনও চিকিৎসাধীন। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি হাসপাতাল থেকে সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আন্তরিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
১ দিন আগে
অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলে তা পতিত, পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন শেষে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন
আজ (বুধবার) সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে অবস্থিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে উৎসর্গীকৃত এই জাদুঘরটির মাধ্যমে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আজ দেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কিছু লোক অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আমাদের ভেবে দেখতে হবে যে, জেনে বা না জেনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরাস্ত, অপসারিত ও পলাতক স্বৈরাচারী শক্তির পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কি না।
১ দিন আগে
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থেকে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশ পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় পেরিয়ে এখন দেশ গড়ার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের সময়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলেছেন। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে পরিষ্কারভাবে, সাফ বলে দিয়েছি—এই জুলাই আন্দোলনের সফলতার ক্রেডিট এই দেশের সর্বস্তরের জনগণের। এটি কোনো একক ব্যক্তি, একক কোনো দল, রাজনৈতিক দলের ক্রেডিট নয়।’
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাস যদি আমরা দেখি, যেকোনো সময় যেকোনো আন্দোলনেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এবং একসময় সেখানে জনগণ অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশেও জুলাই-আগস্টে যেটি হয়েছে, এখানেও একইভাবে জনগণ যখন সম্পূর্ণভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে, সেই আন্দোলন সফল হয়েছে। অর্থাৎ জুলাই-আগস্টের যে আন্দোলন, এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে জনগণের আন্দোলন। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই সেই আন্দোলন সফল হয়েছে, ঠিক যেভাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র চেয়েছিল বলেই সেদিন আমাদের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছিল।’
তিনি বলেন, এই আন্দোলনে (জুলাই) যারা শহিদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সরকার তাদের পাশে আছে। আহতদের চিকিৎসা ও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সরকার করবে।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সর্বপ্রথম রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৩১ দফায় রূপ নেয়। বিগত নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও আমাদের এই ৩১ দফার প্রতি ম্যান্ডেট দিয়েছে। কাজেই এই দফা এখন আর শুধু দলের নয়, এটি জনগণের দফায় পরিণত হয়েছে।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণই এখন মূল লক্ষ্য
সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক কথা হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রামের কথা হয়েছে, তর্ক-বিতর্ক হয়েছে এখন সময় হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন করার। এখন সময় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।’
তিনি বলেন, ‘এখন সময় হচ্ছে ধৈর্য সহকারে ঠান্ডা মাথায় যারা ষড়যন্ত্র করতে চায়, তাদের ষড়যন্ত্রের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার। জনগণকে সতর্ক করা এবং ঠিক একইভাবে আমরা যে পরিকল্পনা জনগণের সামনে দিয়েছি, আমরা জনগণের জন্য যা করতে চাইছি, দেশকে পুনর্গঠনের জন্য আমরা যা করতে চাইছি, সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা। জনগণের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করা।’
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক অধিকার বলতে খুব সংক্ষেপে যদি আমরা বুঝে থাকি, তা হচ্ছে মানুষের কথা বলার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার। গণতান্ত্রিক বিশ্বে মতামত প্রকাশের ধরন হচ্ছে ভোটের মাধ্যমে সেটি প্রকাশ করা। এই অধিকারটিকে প্রয়োগ যাতে তারা করতে পারে, সেটি প্রতিষ্ঠিত করা। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশ স্বাধীনের পরে বিভিন্ন সময় থেকে থেকে জনগণের এই অধিকারটি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি অধিকার, সেটি হচ্ছে জনগণের অর্থনৈতিক অধিকার। অর্থাৎ জনগণের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী তার কর্মসংস্থান, তার নিরাপত্তা, তার যোগ্যতা অনুযায়ী সেটি তার বিভিন্ন কর্মসংস্থান হোক বা ব্যবসা-বাণিজ্য—অর্থাৎ সেই অধিকার যাতে সে পূর্ণভাবে ভোগ করতে পারে। খুব সংক্ষেপে আমরা মনে করি, এটিই হচ্ছে মানুষের মৌলিক বিষয়গুলোর অন্যতম বা যা তাদের চাওয়া ছিল, লক্ষ্য ছিল—এই অধিকারগুলোকে অর্জন করা।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিগত যে নির্বাচনটি আমরা পার হয়ে এসেছি, যে নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। এই নির্বাচনে আমরা জনগণের সামনে আমাদের ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। এই ৩১ দফা উপস্থাপন করার মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার মাধ্যমে একটি বিষয়ে আমি মনে করি পরিষ্কার হয়েছে, সেটি হচ্ছে যে সংস্কার প্রস্তাব বা রাষ্ট্র মেরামতের যে দফাগুলো আমরা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মাধ্যমে আমরা সর্বপ্রথম উপস্থাপন করেছিলাম এবং পর্যায়ক্রমিকভাবে বিগত নির্বাচনে জনগণ সেটিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কাজেই এটি এখন আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কোনো ৩১ দফা নয়, বরং আমি মনে করি এই ৩১ দফাটি হচ্ছে জনগণের ৩১ দফা।’
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিভক্ত প্রশাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা খাত উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের যতগুলো ব্যবস্থা থাকে, প্রতিটি ব্যবস্থা বিধ্বস্ত অবস্থায় আমরা পেয়েছি। ১৭ তারিখ থেকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব আমরা পালন শুরু করলাম। দুই সপ্তাহ না যেতেই শুরু হলো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি।’
জনগণকে কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বের করা যায়, তার জন্য সরকার সাধ্যমতো নিজেদের অভিজ্ঞতা, বুদ্ধি-বিবেক ও বিভিন্ন পরামর্শের ভিত্তিতে প্রচেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
এ সময় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জ্বালানির কথাই বলুন, গ্যাসের কথাই বলুন—এইসব ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এখন এই বিষয়গুলোকে অবশ্যই আমাদের সমাধান করতে হবে। সরকার এ সংকট কাটিয়ে উঠতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
২ দিন আগে
বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে আমন্ত্রণ, ফেব্রুয়ারির দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণও বহাল রয়েছে: নয়াদিল্লি
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বর্তমান বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া দ্বিপাক্ষিক ভারত সফরের আমন্ত্রণও বহাল রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেটি এখনও বহাল আছে।’
ব্রিকস সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে যে প্রচলিত রীতি অনুসরণ করা হয়, সেই অনুযায়ী এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইভাবে অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’
এদিকে, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের বিষয়ে ভারতের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।
তিনি বলেন, ‘আপনি যে অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করছেন, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করছে। এ আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। ওই অনুষ্ঠানে যেসব মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, সেগুলোরও সরকার কোনো অনুমোদন বা সমর্থন দেয় না।’
২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন নৌবহর কমান্ডারের বৈঠক, দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার। বৈঠকে মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, যৌথ নৌ-মহড়া এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেলস’-এর অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অ্যাডমিরাল কোহলার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়ায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশে কো-অপারেশন অ্যাফ্লোট রেডিনেস অ্যান্ড ট্রেনিং (ক্যারাট) মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সি ভিশন এক্সারসাইজ-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে বিশ্বের বৃহত্তম বহুজাতিক নৌ-মহড়া রিম অব দ্য প্যাসিফিক (রিমপ্যাক)-এ বাংলাদেশের নিয়মিত অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে সামরিক তথ্যের নিরাপত্তাবিষয়ক সাধারণ চুক্তি (জিএসওএমআইএ) নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়।
২ দিন আগে
ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তিনি এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে বলেছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কৃষক কার্ড সম্পর্কিত এক সভায় সংশ্লিষ্টদের তিনি এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ছবি ও কিউআর কোড-সংবলিত এই কার্ডে কৃষকের পরিচয় ছাড়াও কৃষি উৎপাদন, সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয় বিবেচনায় রেখে কার্ড তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
কৃষি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি, সহজ শর্তের ঋণ, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রকৃত কৃষকের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে দেশের কমবেশি দুই কোটি কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এস এম আমীর হামজা শাতিলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সমন্বিত নগর পরিকল্পনার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ
দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সমন্বিত নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন ফুটস্টেপস বাংলাদেশের নেতৃত্বে পরিবেশ, পানি ও প্রকৌশল খাতের বিশেষজ্ঞ এবং এ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। তারা দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা এবং সমাধান নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ ও মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।
সভায় দেশের খাল পুনরুদ্ধার, নদী ও বাঁধের স্থিতিশীলতা, নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য পানি পরিশোধন এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি দ্রুত নগরায়নের প্রেক্ষাপটে সমন্বিত ও কার্যকর নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শুনে দেশের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ট্রাস্টি ও হেড অব পার্টনারশিপস ফাসবীর এস্কান্দার, সভাপতি শাহ রাফায়াত চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তাকী ইয়াসির, বিশ্বব্যাংকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রেড অরেঞ্জের পরিচালক অলোক কুমার মজুমদার, উপপরিচালক সামিউল ইসলাম, ইয়ুথ ফর এনডিসির নির্বাহী পরিচালক আমানুল্লাহ পরাগ, গারবেজম্যানের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিদ উদ্দিন শুভ এবং নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনাবিদ এস এম মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে