প্রধানমন্ত্রী
সরকারি ক্রয় অধ্যাদেশের খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন
দেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় বেশ কিছু যুগোপযোগী পরিবর্তন আনতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২১তম বৈঠকে খসড়াটি নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
এর আগে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সংশোধনীর লক্ষ্য দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা, সরকারি ক্রয়ে অধিক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি, ক্রয় চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিধান সম্প্রসারণ এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালি আধুনিকায়ন।
টেকসই ক্রয় ব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে পণ্য, কার্য ও ভৌতসেবা ক্রয়ে নির্ণায়কের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়নের বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘রেটেড ক্রাইটেরিয়া’ ধারণা হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া সম্পদের সুষম বিস্তারের লক্ষ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করা এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয় ব্যবস্থার সংস্থান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়া অধ্যাদেশটি মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবার ভাষণ ২৪ সেপ্টেম্বর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
একই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সিয়াম বলেন, অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। ওই দিন সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেবেন।
সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক সভায় বক্তব্য দেবেন।
বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন তিনি।
৯ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে সিলেটে যুবক আটক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গালিগালাজ ও কটূক্তিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে মেহেদী আহমেদ (২১) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট কোতোয়ালী থানার তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মেহেদীকে তার বাসা থেকে আটক করে।
আটক মেহেদী আহমেদ সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন নোয়াগাঁও সাদিপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং গালিগালাজ করে আসছিলেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির চৌধুরী বলেন, ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
১ দিন আগে
গুলশান, বনানীসহ ৫ লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি এলাকার লেকগুলোর দূষণ রোধ এবং পরিবেশের উন্নয়নে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পয়ঃশোধনাগার বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সেগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য ও দূষিত পানি প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।
সমস্যা সমাধানে গঠিত একটি কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ উপস্থাপন করে।
লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের সব পথ বন্ধ করা, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন ও বিদ্যমান পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে পয়ঃনিষ্কাশন বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে ক্যাচমেন্ট এলাকা বা পানি সংগ্রহের জন্য এলাকা গড়ে তোলার সুপারিশও করা হয়।
লেক পরিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে অপসারণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০২৫-এর আওতায় প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা শনাক্ত করতে এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে যৌথভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।
লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ানোর যন্ত্র বা এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ৪২ জন জনবল নিয়ে গঠিত পাঁচটি বিশেষ টিম ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩ দিন আগে
দেশের সন্তানরা মেধা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সরকার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারবিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি এ কথা বলেন।
আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।’
হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ; তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’
মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবীদের উৎসাহিত ও যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশ পাবে। এতে দেশের মানুষও উপকৃত হবে।
সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৩ দিন আগে
শাকিলের সংগ্রামের গল্প শুনে ৭ দিনেই চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী
চোখে আলো না থাকলে কী হয়েছে, মনের জোর আর অদম্য ইচ্ছেশক্তি থাকলে যে সব বাধা জয় করা যায়—তারই এক দারুণ প্রমাণ দিলেন নওগাঁর শাকিল হোসেন। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে বার বার ভাইভা বোর্ড থেকে খালি হাতে ফিরে আসার পর শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিবিষয়ক প্রকল্পে ‘সেকশন অফিসার’ (নবম গ্রেড) পদে চাকরি পেলেন আজন্ম দৃষ্টিহীন এই তরুণ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন শাকিল।
নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা শাকিলের জীবনে লড়াই ছিল অবিরত। মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদলগাছীর বালুভরা উচ্চবিদ্যালয় ও বদলগাছী সরকারি কলেজের পড়াশোনা শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলতার সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন তিনি।
পড়াশোনার দীর্ঘ এই পথচলায় শাকিলকে সহযোগিতা করেন তার ছোট ভাই সাব্বির ও বন্ধু গৌতম। তারা নিয়মিত শ্রুতিলেখক হিসেবে তার পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন।
পড়াশোনা শেষে অন্যদের মতো শাকিলও কর্মসংস্থানের সন্ধানে নামেন। কিন্তু যোগ্যতা থাকার পরেও এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার লিখিত ধাপে উত্তীর্ণ হলেও ভাইভা বোর্ডে পৌঁছানোর পর কেবল দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতার কারণে তাকে বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই চরম হতাশা যখন তার চারপাশ ঘিরে ধরেছিল, ঠিক তখনই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো এক সুযোগ আসে।
৪ দিন আগে
ব্রিকস সামিটে না গিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন তারেক রহমান: রিজভী
ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের প্রধানমন্ত্রী। তো তাকে আপনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাওয়াত দেবেন না? সে গিয়ে ওখানে সাইডলাইনে বসবে? এটা তো হতে পারে না। উনি যাননি। এই না যাওয়ার মধ্যে যে গর্বের জায়গা তৈরি করেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন গোটা জাতির সামনে, গৌরব তৈরি করেছেন জনাব তারেক রহমান।’
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পতিত স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা ভারতের ইন্ধনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’—এর প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিজভীর প্রশ্ন
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট নষ্ট হওয়ার খবর আসে।
তিনি বলেন, ‘১৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তারপরেই তারা বলল, তাদের সুইচ, এদের সুইচ আছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। সেই সুইচ তারা যেকোনো সময় বন্ধ করতে পারে, চালু করতে পারে। তারা ঘোষণা দিল যে, এই আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে গেছে।’
এ ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, বিষয়টি বুঝতে বিশেষ কোনো ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না।
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আশ্রয় পেয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকার তাদের হস্তান্তরের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে।
রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বারবার বলেছে তাকে হস্তান্তর করার জন্য। আপনারা হস্তান্তর করছেন না।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আদালতে যাদের বিচার চলছে, তাদের হস্তান্তর না করার বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সৌহার্দ্যের কথা বলা হলেও আড়ালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে।
৪ দিন আগে
হাটহাজারীর দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণে শহিদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের পাশে সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তারা দেশের জন্য শহিদ হয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় আপনাদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শহিদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালেও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।’
পরে প্রধানমন্ত্রী শহিদ দুই সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
৫ দিন আগে
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিতিশীলতা না করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকারের মেয়াদে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া উচিত।
এছাড়া শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ সময়মতো ঠিক করবে, তারা কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকবে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে সরকারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এটি পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’
সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার পর গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে শিল্পসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট সমস্যাটি ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি গত এক মাসে মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে।
২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাগুলোও দীর্ঘদিনের বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো কিছু পরিকল্পনা করা এবং তা বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।’
সভায় বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগ কখন শেষ করা হবে, তার সম্ভাব্য সময়সীমাও ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের সময় এসব সময়সীমায় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাতের কোনো ক্ষতি হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের স্বার্থের বিষয় নয়। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
৬ দিন আগে
কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো ও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানিনির্ভরতা আমাদের ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এ জন্য গবেষণার ফলাফল, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচসুবিধা ও যান্ত্রিকীকরণ দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান এবং লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পৌঁছান।
বৈঠকে কর্মকর্তারা কৃষি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আমদানিনির্ভর ভোজ্যতেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সরিষার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়। সরিষার উৎপাদন ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়, যার মধ্যে রয়েছে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বায়ুপ্রবাহ প্রযুক্তি চালু এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণ।
মন্ত্রণালয় মাঠপর্যায়ে লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসলের জাত সম্প্রসারণেও কাজ করছে বলেও জানায়।
কৃষি গবেষণায় অগ্রগতির কথা তুলে ধরে কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত মোট এক হাজার ৯০টি ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫৫টি ধানের জাতও রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
শ্রম ও উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সরকার কৃষি যন্ত্রপাতির দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও ধান রোপণযন্ত্রের মতো কৃষি সরঞ্জাম কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে সহজলভ্য করতে কাজ করছে।
সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচের সম্প্রসারণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে দেশে দুই হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক সেচ সম্প্রসারণ কৃষকদের সেচ খরচ ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বৈঠকে জানানো হয়, প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
৭ দিন আগে