সুনামগঞ্জ
সময় পেরিয়েও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, হাওরে আশঙ্কায় কৃষক
হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ৯টি হাওরের ১৩৪টি প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। বরাদ্দকৃত অর্থ না পাওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা।
এ অবস্থায় ধারদেনা করে কাজ চালিয়ে নেওয়া পিআইসি সদস্যরা পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। অন্যদিকে, সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এই দুই উপজেলায় ৯টি হাওরের বাঁধের কাজ সোমবার পর্যন্ত গড়ে ৭৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত অগ্রগতি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের বেশি নয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, গুরমা, গুরমার বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, রুই বিল, সোনামড়ল, কাইলানী, জয়ধনা ও ধানকুনিয়া—এই ৯টি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। এসব হাওরে ধর্মপাশায় ৯৩টি এবং মধ্যনগরে ৪১টি প্রকল্পসহ মোট ১৩৪টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা শেষ হওয়ার কথা ছিল। চার কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত পিআইসিরা কেবল প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন।
সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল, সোনামড়ল এবং মধ্যনগরের ঘোড়াডোবা, গুরমা ও কাইলানী হাওরের অন্তত ৩০টি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। কিছু প্রকল্পে নামমাত্র কাজ চলমান, আবার কয়েকটি বাঁধ নিম্নমানেরভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মধ্যনগর উপজেলার কাইলানী হাওরের ১৩ নম্বর প্রকল্পের পিআইসি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার বাঁধটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ২৯৫ মিটার। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। ভেকু মেশিন নষ্ট থাকার কারণে ও টাকার অভাবে কাজ কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ধারদেনা করে এতদিন কাজ চালিয়েছি। পুরো কাজ শেষ করতে আরও ৮ থেকে ১০ দিন লাগবে।’
ধর্মপাশার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৩৯ নম্বর প্রকল্পের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত প্রথম কিস্তির টাকাই পেয়েছি। ধারদেনা করে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছি। এখন পাওনাদারদের টাকা দিতে না পারায় বাঁধে যেতে পারছি না, নানা কটু কথা শুনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে এক সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ রেখেছি।’
হাওরপাড়ের কৃষকেরা জানান, প্রতিবছরই বরাদ্দের অর্থ ছাড়ে বিলম্বের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সময়মতো কাজ শেষ না হলে এবার বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির সদর ইউনিয়ন সভাপতি বিপ্লব তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত বাঁধ পরিদর্শন করেন না। অনেক স্থানে নিম্নমানের কাজ হয়েছে এবং ঘাস লাগানো হয়নি, ফলে বৃষ্টির পানিতে বাঁধের অংশ ধসে পড়ছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ‘অর্থের অভাবে অনেক পিআইসি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত অর্থ ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ছাড় না হওয়ায় পরবর্তী কিস্তির অর্থ দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছি।’
৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জের বারেক টিলায় গাছ কাটার ঘটনায় ১৬ জনের নামে মামলা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী দেশের জনপ্রিয় পর্যটন স্পট বারেক টিলায় (বারিক্কার টিলা) প্রকাশ্যে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে তাহিরপুর থানায় মামলা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার দাস বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বারেক টিলার আনন্দপুর গ্রামের সাবেক ট্রাইব্যাল চেয়ারম্যান পুলক আজিম, বড়গোপ টিলার মোশারফ হোসেন মোসা, হাফিজ, মানিক, জালাল, রাতুল মারাক, শহীদ, নজরুলসহ মোট ১৬ জন।
জানা গেছে, গত বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বারেক টিলার ওয়াচ টাওয়ার-সংলগ্ন এলাকা থেকে ৩-৪টি সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরদিন (বৃহস্পতিবার) শক্তিয়ারখলা বিট কর্মকর্তা রথীন্দ্র কিশোর রায় এবং ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাছ কাটার সত্যতা পান।
এ বিষয়ে রথীন্দ্র কিশোর রায় বলেন, বারেক টিলার বাসিন্দা শহীদসহ ১৫-১৬ জনের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে টিলার গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি যাচাই করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের বিরুদ্ধে ১৬ জনের নামে মামলা করা হয়েছে।
৬ দিন আগে
নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৯ নম্বর কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রউফ জুনিয়র স্কুল প্রাঙ্গণে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই কর্মসূচি শুরু হওয়া প্রমাণ করে যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় গৃহবধূদের নামে কার্ড ইস্যু করা হবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা তাদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা বিকাশ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে পরিবারিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ সম্পর্কে নারীরাই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই পরিবারের আর্থিক সহায়তা সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দিলে তা পরিবার পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং সঞ্চয়ের সুযোগও বাড়বে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগে সেচ সুবিধার অভাব এবং পানি নিষ্কাশন সমস্যার কারণে কৃষি উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলের জমি থেকেও অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষিজীবী পরিবারগুলো অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির চৌধুরী, কলিম উদ্দিন আহমেদ, কয়সর আহমদ এবং কামরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী উপকারভোগীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে ৬৯৭ জন ফ্যামিলি কার্ডের তালিকাভুক্ত হয়। তবে আজ ৫১৭ জনের বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্টে ২৫০০ টাকা করে জমা হবে বলে জানায় সমাজসেবা কার্যালয়।
১১ দিন আগে
ছাতকে ৮০ শতাংশ টিউবওয়েল পানিশূন্য, তীব্র পানিসংকটে লক্ষাধিক মানুষ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় ভয়াবহ পানিসংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়া, তাপদাহ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ টিউবওয়েল পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে এক লাখেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
স্থানীয় সূত্র ও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ছাতক উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৫৩১টি গ্রামের মধ্যে তিন শতাধিক গ্রামে তীব্র পানিসংকট বিরাজ করছে। উপজেলার প্রায় ১৮ হাজার টিউবওয়েলের মধ্যে অন্তত ১২ হাজারটিতেই পানি উঠছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২০০ থেকে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ভাতগাঁও, কালারুকা, চরমহল্লা, সিংচাপইড়, দোলারবাজার, ছৈলা-আফজলাবাদ, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও, উত্তর ও দক্ষিণ খুরমা, নোয়ারাই, ইসলামপুর, ছাতক সদর ও জাউয়াবাজার ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই একই চিত্র। টিউবওয়েল চাপলেও পানি না আসায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
অনেকেই দূষিত পুকুরের পানি ফুটিয়ে পান করছেন। ফলে ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে।
জাউয়াবাজার ইউনিয়নের মুলতানপুর গ্রামের ক্বারী মাওলানা জুনায়েদ আহমদ বলেন, ‘১৫ বছর আগে ৫০০ ফুট গভীরতায় পানি পাওয়া যেত, এখন ৭০০ ফুটেও পাওয়া যাবে কিনা নিশ্চিত নয়। দিনে বহুবার চাপ দিলেও টিউবওয়েলে পানি ওঠে না।’
উত্তর খুরমা ইউনিয়নের গিলাছড়া গ্রামের গাড়িচালক আরজদ আলী বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পুকুরের পানি ফুটিয়ে খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষক জানান, প্রায় এক মাস ধরে স্কুলের কোনো টিউবওয়েলে পানি নেই। শিক্ষার্থীরা তৃষ্ণায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল দখল, পুকুর ভরাট, হাওর-বিলের প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস এবং নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে গেছে। পাশাপাশি সরকারি গভীর নলকূপ বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাজে আসছে না।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইছহাক আলী বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক নিচে নেমে গেছে। আগে যেখানে ৪০০ ফুটে পানি পাওয়া যেত, এখন ৭০০ ফুটেও পাওয়া অনিশ্চিত। সরকারিভাবে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, পানি সংকটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২১ দিন আগে
ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: পানি সম্পদমন্ত্রী
পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, হাওর অঞ্চলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ও রক্ষা করার জন্য বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ডুবে যাওয়া বাঁধগুলো প্রতি বছর মেরামতের ফলে এ অঞ্চলে ফসল উৎপাদন অনেকগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই জন্য হাওর অঞ্চলকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রতি বছর যেন বাঁধ মেরামত হয় এবং দুর্নীতিমুক্ত হয় সেদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বেশি নজর থাকবে। ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকার জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় সকল কিছু করবে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় এ অঞ্চলের খোঁজখবর রাখছেন। আমরা দায়িত্ব নিয়েই আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার কৃষি কাজে সেচের ব্যবস্থা করা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দেশব্যাপী খাল-পুকুর-জলাশয় খনন-পুনঃখনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলে শুকনো মৌসুমেও সেচের মাধ্যমে কীভাবে ফসল উৎপাদন করা যায় সে উদ্যোগ নেবে সরকার। এখানে উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে ধান রক্ষা করতে বাঁধ জরুরি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়সর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দীন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারসহ স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
২২ দিন আগে
সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় গরু জব্দ
সুনামগঞ্জে পৃথক অভিযানে মধ্যনগর সীমান্ত এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৪টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বিজিবি।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ও গভীর রাতে বিজিবি ২৮ ব্যাটালিয়ন এসব অভিযান চালায়। জব্দ করা গরুগুলোর মোট বাজারমূল্য আনুমানিক ১১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান বিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযান দুটি মধ্যনগর উপজেলার দুটি ভিন্ন বিওপির অধীনে পরিচালিত হয়। রবিবার বিকেলে মাটিরাবন বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত পিলার থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কড়াইবাড়ী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৮টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। পরে একই উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের কীর্তনছড়া এলাকায় গভীর রাতে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করে বাংগালভিটা বিওপি। সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ গজ অভ্যন্তরে পরিচালিত এই অভিযানে ৬টি গরু আটক করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বিজিবি ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের এই কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।’
জব্দ করা গরুগুলো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুনামগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
৪০ দিন আগে
সুনামগঞ্জের পাঁচ আসনে জামায়াত-স্বতন্ত্রে বিপাকে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টারবিহীন প্রচারণায় ভাটা পড়েছে সুনামগঞ্জের নির্বাচনি আমেজ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ উঠান বৈঠক ও জনসভায় নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনে মোট ২০ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সবকটি আসনে আওয়ামী ঘরানার ভোট পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে ধারণা অনেকের।
নির্বাচনি মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সুনামগঞ্জ-১, ২ ও ৫ আসনে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই এবং সুনামগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনে বিএনপি, জামায়াত জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীরা জামায়াত ও স্বতন্ত্রে ধরাশায়ী হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় ভোটারদের অনেকে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা মো. বখতিয়ার বলেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এ আসনে জামায়াত প্রার্থী তেমন সুবিধা করতে পারবে না। তবে সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী শিশির মনিরের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ–১
৫ লাখ ১ হাজার ৫৩০ ভোটারের সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনে বিএনপি থেকে কামরুজ্জামান কামরুল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা তোফায়েল আহমদ (দাঁড়িপাল্লা) এবং নেজামে ইসলাম থেকে মাওলানা মুজাম্মিল হক (বই) নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
ভোটারদের ধারণা, এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এই আসনে আনিসুল হক প্রথমে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও শেষদিকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান কামরুজ্জামান কামরুল। বিএনপির সব বলয়ের মধ্যে চলমান ঐক্য বজায় থাকলে ধানের শীষের প্রার্থী ভালো ব্যবধানে বিজয়ী হবে প্রত্যাশা কর্মী-সমর্থকদের।
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অর্ধেন্দু ঘোষ চৌধুরী বলেন, ব্যক্তি কামরুলের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকলেও এখানে ফ্যাক্টর জামায়াত প্রার্থী। সুশৃঙ্খল দল হিসেবে জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা তেমন না। তবে তাদের ভোট বাড়ছে, এমনটা শোনা যাচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সকলের সমর্থনে কামরুলই এগিয়ে থাকবে আশা করছি।
বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ভোটের মাঠে আমি কোনো প্রার্থীকেই ছোট হিসেবে দেখছি না। আমাদের উভয় বলয়ের ঐক্য অটুট আছে। আমার বিশ্বাস, এই ঐক্যবদ্ধ বিএনপি ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করবে।
সুনামগঞ্জ-২
সুনামগঞ্জের হেভিওয়েট আসন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা)-এ ৩ লাখ ৬ হাজার ৪৮ ভোটার রয়েছেন। আসনটিতে বিএনপির বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে আইনজীবী শিশির মনির ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নিরঞ্জন দাস (কাস্তে) নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এখানে নাছির চৌধুরী ও শিশির মনিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে নাছির চৌধুরীই বিজয়ী হতে পারে বলে ধারণা অনেকের।
শাল্লা উপজেলার সুখলাইন গ্রামের এক ভোটার জানিয়েছেন, নাছির-শিশির দুজনেরই অবস্থান ভালো। প্রবীণ হিসেবে নাছির চৌধুরী খানিকটা এগিয়ে রয়েছেন। তবে কম সময়ের মধ্যে শিশির মনিরও ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
সুনামগঞ্জ-৩
প্রবাসী-অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ১১ দলীয় জোট (উন্মুক্ত) প্রার্থী শাহীনুর পাশা চৌধুরী ‘রিকশা’, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ‘তালা’ ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ‘ঈগল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৬ ভোটারের এই আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনকে সমর্থন দেওয়ায় বেকায়দায় পড়তে পারেন ‘ধানের শীষ’ প্রার্থী। অনেকে আবার মনে করছেন, বিএনপির অনৈক্যের সুযোগে কপাল খুলতে পারে জোটপ্রার্থী শাহীনুর পাশার।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, জনসমর্থনে আমি এখন পর্যন্ত প্রথম সারিতে আছি। দলের মনোনয়নবঞ্চিত বলয়ও আমার পাশে আছে। প্রতিপক্ষ আমার কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তবুও বিজয় আমারই হবে।
সুনামগঞ্জ-৪
৩ লাখ ৭২ হাজার ১৮৫ ভোটারের সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে ধানের ‘শীষ প্রার্থী’ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুল। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন হাছন রাজার বংশধর দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (মোটরসাইকেল)। বিএনপির বহিষ্কৃত এই নেতার আছে নিজস্ব ভোটব্যাংক।
এছাড়া নির্বাচনে আছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শামছ উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী নাজমুল হুদা (লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহীদুল ইসলাম (হাতপাখা)।
বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ‘ধানের শীষ’ প্রার্থী নূরুল ইসলামের বিজয় অর্জনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতে পারে ধারণা অনেকের।
সুনামগঞ্জ-৫
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারা) আসনে ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৬ জন। এ আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় মিলন-মিজানের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণায় জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রতিযোগিতা।
তবে বসে নেই ১০ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানীও (দাঁড়িপাল্লা)। এছাড়া খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির ‘দেওয়াল ঘড়ি’, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ‘লাঙ্গল’ এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী মো. আজিজুল হক ‘আম’ প্রতীকে প্রচারণায় থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বলে ধারণা করছেন আসনটির অনেক ভোটার।
ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন সুমেন বলেন, মিলন-মিজান সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা জয়ের ভীত আরও শক্তিশালী করেছে। এখানে ‘ধানের শীষ’ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে।
৪৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ, চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে শেষ সময়ে জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ। এতে চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। শেষ মুহুর্তের প্রচার ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা; চষে বেড়াচ্ছেন শহর থেকে গ্রামে; হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে করছেন ভোট প্রার্থনা।
প্রার্থীরা নিজের বিজয় নিশ্চিতের লক্ষ্যে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন মাঠে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাল্টাচ্ছেন নির্বাচনি কৌশল। বিজয়ের জন্য প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দেশে ও বিদেশে থাকা সমর্থকরাও প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন।
জগন্নাথপুর প্রবাসী-অধ্যূষিত উপজেলা হওয়ায় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভূমিকা সব সময়ই থাকে। এবারের নির্বাচনেও তার প্রভাব পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় ভোটারদের অধিকাংশ প্রবাসী স্বজনদের কথায় ভোট দিয়ে থাকেন। তবে এবার আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে চলছে নতুন সমীকরণ।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় দলটির সমর্থকদের ভোট নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা।
স্থানীয়রা জানান, এই অঞ্চল সব সময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল। এই আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদসহ আরও কয়েকজন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের পকিল্পনামন্ত্রী ছিলেন এম এ মান্নান। তাদের কারণে এ আসনটি মর্যাদার আসন বলে পরিচিতি পায়।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন: ইসলামী ঐক্যজোট তথা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন (তালা), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুস্তাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার (টেবিল ঘড়ি) ও হোসাইন আহমদ (ফুটবল)।
এর মধ্যে অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কয়ছর এম আহমদ, সৈয়দ তালহা আলম ও শেখ মুস্তাক আহমদ জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। অপরদিকে, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার ও হোসাইন আহমদ শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হিসাব-নিকাশে সব সময়ই আঞ্চলিকতার প্রভাব পড়ে থাকে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের আমল থেকে দীর্ঘকাল জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা এ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে এম এ মান্নানের আমল থেকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সংসদ সদস্য ছিলেন। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই এলাকায় আঞ্চলিকতার প্রভাব পড়ে থাকে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ভোটারদের সঙ্গে পৃথকভাবে নির্বাচনি আলোচনা হয়। এসব আলোচনায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটার তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী জমিয়তে থাকতে হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। তিনি আবদুস সামাদ আজাদ ও এমএ মান্নানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে বিগত নির্বাচনে দল বদল করে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকে নির্বাচন করায় তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তবুও এবারের নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হওয়ায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তিনি।
এছাড়া কয়ছর এম আহমদ জগন্নাথপুর পৌর শহরের ছিলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও রাজনীতি করেছেন যুক্তরাজ্যে। তিনি তার ক্ষমতার দাপটে নিজ পছন্দের নেতা-কর্মীদের নিয়ে জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাজিয়েছেন। ফলে বঞ্চিত নেতা-কর্মীরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবুও নির্বাচনি আলোচনায় তিনি প্রথম সারিতে রয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।
অপরদিকে ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন ‘বিশেষ এক ব্যক্তির’ ছত্রছায়ায় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়া কয়ছর আহমদের বিরোধিতা করে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীই তাকে সমর্থন করছেন। শুধু তাই নয়, বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থীও তাদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে আনোয়ার হোসেনের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ‘তালা’ প্রতীকের এই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম বিগত জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে সবাইকে রীতিমতো চমকে দিয়েছিলেন। আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন নির্বাচনি ফলাফলে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তার ভাবমূর্তি উন্নত হয়েছিল বটে, কিন্তু সম্প্রতি দল বদল করায় তার সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তবুও এবারের নির্বাচনে ব্যক্তি হিসেবে ভোটারদের পছন্দের তালিকায় থাকায় তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, কয়ছর এম আহমদ, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন ও সৈয়দ তালহা আলমের মধ্যে জমে উঠেছে চতুর্মুখী লড়াই। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটারদের মত অন্তত তা-ই।
৪৬ দিন আগে
চার বছরেও প্রশাসনিক কাঠামো পায়নি মধ্যনগর উপজেলা, বঞ্চিত দেড় লাখ মানুষ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলাকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ঘোষণার চার বছর পার হলেও এখনো সেখানে গড়ে ওঠেনি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো। নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন নেই, নেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নেই পর্যাপ্ত জনবল। ফলে দেড় লাখ মানুষের বসবাস হলেও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সেবা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২২ সালের ২৪ জুলাই মধ্যনগর উপজেলায় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
বর্তমানে ২৩টি সরকারি দপ্তরের জন্য অনুমোদিত ২১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাকি ২০৩টি পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অবকাঠামো ও জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে একটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের একতলায় অস্থায়ীভাবে। অধিকাংশ দপ্তরের কার্যক্রম পাশের ধর্মপাশা উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এতে নিয়মিত সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বর্তমানে মধ্যনগর উপজেলায় প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ প্রথম শ্রেণির মাত্র চারজন কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পাঁচজন কর্মচারী দিয়ে কোনোভাবে দাপ্তরিক কাজ চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও নাজুক। উপজেলায় নেই কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নেই একজনও এমবিবিএস চিকিৎসক। যদিও দুটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং দুটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি রয়েছে। ফলে সাধারণ চিকিৎসা ও জরুরি সেবার জন্য এলাকাবাসীকে ধর্মপাশা উপজেলা কিংবা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
২২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মধ্যনগর উপজেলায় রয়েছে চারটি ইউনিয়ন ও ১৪৭টি গ্রাম। এই উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা ঘোষণার পর কাঠামোগত উন্নয়ন কার্যত থমকে রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘মধ্যনগরকে পূর্ণাঙ্গ ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু চার বছরেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।’
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাইউম মজনু বলেন, ‘উপজেলা ঘোষণার চার বছর পরও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল না থাকা দুঃখজনক। প্রশাসনের আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, প্রশাসনিক ভবন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ১৬ একর জমির প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
৫৭ দিন আগে
ভোটের মাঠে অনড় সিলেট বিভাগীয় বিএনপির ৫ বিদ্রোহী প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল (মঙ্গলবার)। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী এদিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির ৫ বিদ্রোহী শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে অনড় রয়েছেন তারা।
ওই পাঁচ প্রার্থী হলেন— সিলেট-৫ আসনে জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন), হবিগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত, মৌলভীবাজার-৪ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া মধু, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন এবং সুনামগগঞ্জ-৪ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে এই পাঁচ আসনে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীদের বিপাকে পড়তে হতে পারে বলে মত স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মানুষের।
সিলেট জেলার মধ্যে একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ। যিনি চাকসু মামুন নামে পরিচিত। তিনি সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় মামুনকে দল থেকে সম্প্রতি বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আসনটি জোটসঙ্গী জমিয়ত ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এখানে প্রার্থী হয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতা শ্রীমঙ্গল পৌরসভার চেয়ারম্যান মো. মহসিন মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আর এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য কয়ছর এম আহমদ। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।
তবে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া।
৫৯ দিন আগে