চীন
চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ২৬
চীনের একটি মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬১ জন।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) জানায়, গতকাল (সোমবার) বিকেলে দেশটির হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের একটি আতশবাজি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না ডেইলি জানিয়েছে, কারখানাটি হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানি পরিচালনা করত। এটি মূলত চাংশা অধ্যুষিত কাউন্টি-স্তরের শহর লিউইয়াংয়ে অবস্থিত। কারখানাটি আতশবাজি উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।
চাংশার মেয়র চেন বোঝাং জানান, ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ এখনও চলমান।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনে (সিসিটিভি) আজ (মঙ্গলবার) প্রকাশিত আকাশচিত্রে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের কিছু অংশ থেকে এখনও সাদা ধোঁয়া উঠছে। অনেক স্থাপনা ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০০ জন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় এবং বিস্ফোরণস্থলের কাছে থাকা দুটি কালো বারুদের গুদাম থেকে উচ্চ ঝুঁকির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এই বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করছে এবং পুলিশ ওই কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আটক করেছেন বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং আহতদের উদ্ধার করতে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত ঘটনার কারণ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে ঝুঁকি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার নির্দেশও দেন তিনি।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে নতুন দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ধারকর্মীরা পানি ছিটানো ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো যায়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য তিনটি রোবটও মোতায়েন করেন তারা।
লিউইয়াংয়ের আতশবাজি উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানায়, চীনা ফায়ারক্র্যাকার নামে প্রথম নথিভুক্ত আতশবাজি লিউইয়াংয়ের কাছে বসবাসকারী এক সন্ন্যাসী লি তিয়ান তৈরি করেছিলেন। এই সন্ন্যাসী চীনের তাং রাজবংশের (প্রায় ৬১৮ থেকে ৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে বাস করতেন। তিনি একদিন লক্ষ করেন, ফাঁপা বাঁশের ভেতরে গানপাউডার ভরে দিলে জোরে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর তিনি এগুলো একসঙ্গে বেঁধে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের আতশবাজি তৈরি করেন। এই আতশবাজিগুলো অশুভ আত্মা তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হতো বলে গিনেস জানায়।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে চীনে আতশবাজির দোকানে দুটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।
১ দিন আগে
চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ৫০০ হাসপাতালে মোতায়েন হচ্ছে ১০ জন করে আনসার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্যান্য বড় হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিকাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের সম্মানিত ডাক্তারদের ওপর মাঝেমধ্যেই আঘাত আসে। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। উনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫০০ হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগ করতে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়োগ হবে। আগামী কিছুদিনের ভেতরেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হামের টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আগামী ছয় মাসের টিকা মজুত আছে। পরবর্তী ৬ মাস এটি দিতে কোনো সমস্যা হবে না। যক্ষ্মাসহ কোনো ধরনের টিকার সংকট নেই। লোকবল সংকট নিরসনে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ উপলক্ষে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আজ (বুধবার) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে চীনের সহায়তা কামনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠান দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রতিফলন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চীন সরকার ও হাসপাতাল প্রশাসনকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই সমঝোতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমাদের স্বাস্থ্যখাতকে গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা প্রসার করা আমাদের গুরুদায়িত্ব। আমরা জানি, চীনের সেবা ও শিক্ষা অনেক উন্নত। আজকে যে দুই প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠিত হলো, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই অনুষ্ঠানটি শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বই নয়, বরং সীমান্ত অতিক্রম করে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সার্জিকাল উৎকর্ষতা উন্নয়নের একটি যৌথ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোগ আমাদের স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতায় একটি নতুন ও মূল্যবান মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন এবং বাংলাদেশ সব সময় একে অপরকে সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশদুটি একসঙ্গে কাজ করছে। চীন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে। রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন, কার্ডিওভাস্কুলার ক্লিনিকসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়তেও ভূমিকা রেখেছে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় একটি অত্যাধুনিক মানের মেডিকেল প্রতিষ্ঠান। আমরা চীন-বাংলাদেশ মেডিকেল সহযোগিতার নতুন অধ্যায় রচনা করব।
সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, জয়েন্ট সার্জারি ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়াকে দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি যুগান্তকারী অর্জন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রোগীরা উপকৃত হবেন। দেশে জটিল সার্জারির ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা হলো। শুরুতে ইউরোলজিক্যাল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হলেও পর্যায়ক্রমে সকল ধরনের জটিল জটিল সার্জারি সেবা প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে চীনের সহায়তায় রোবটিক ফিজিওথেরাপি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। আগামীতে রোবটিক সার্জারির মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ চিকিৎসাসেবা যুক্ত করা হবে। চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ফলে জটিল সার্জারি, ট্রেনিং প্রোগ্রাম, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, চিকিৎসাসেবা ও মেডিকেল শিক্ষায় পারস্পরিক জ্ঞানের জ্ঞানের আদান-প্রদান হবে যা বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্টদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, চীনের কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইউরোলজি বিষয়ের অধ্যাপক লি জিয়ংমিং, কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির পরিচালক অধ্যাপক লি ওয়েনলিয়াং, ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক হি ইয়ংওয়েন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক কূটনীতিতে নেতৃত্ব দিতে চাইছে চীন
ইরান যুদ্ধ নিয়ে চীন তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন আদায় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রস্তাবের বিরোধিতা করার মধ্য দিয়ে বেইজিং বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আরও সংহত করতে চাইছে। তবে চীনের এই প্রচেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা আগ্রহ নেই বলেই মনে হচ্ছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের চীন কর্মসূচির পরিচালক সান ইউন বলেন, ইরান যুদ্ধ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভেতরে ও বাইরে সকল দেশের জন্য অগ্রাধিকার। চীন তার নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সক্ষমতা প্রদর্শনের এই সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না।
তবে এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ফেলো ড্যানি রাসেল চীনের এই কূটনীতিকে ‘প্রদৰ্শনমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ২০২৩ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য চীনের দেওয়া ১২ দফা প্রস্তাবের সঙ্গে এর তুলনা করে বলেন, চীন দেখাতে চায় যে ওয়াশিংটন যেখানে বেপরোয়া ও আক্রমণাত্মক, সেখানে চীন শান্তি ও নীতির পক্ষে। আসলে আমরা যা দেখছি তা মধ্যস্থতা নয়, বরং নিজেদের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রচারের চেষ্টা।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বেইজিং শান্তির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
চীনের কূটনীতিকে যেভাবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন চীনের মধ্যস্থতার বিষয়ে তেমন কোনো উৎসাহ দেখাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায় বা তারা কোনো সাফল্যের কৃতিত্ব পায়—এমন কোনো সুযোগ দিতে রাজি নয় ওয়াশিংটন।
চীন-পাকিস্তানের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে নিরপেক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এক কর্মকর্তা। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে এ বিষয়ে মত দেন, তাহলে অবস্থান বদলাতে পারে।
বেইজিংয়ের জন্য মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের আগেই যুদ্ধ থামানো একটি বড় লক্ষ্য। যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প তার মার্চের নির্ধারিত সফরটি ইতোমধ্যে পিছিয়ে দিয়েছেন।
সান ইউন বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে ট্রাম্প আবারও যে তার চীন সফর পিছিয়ে দেবেন না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব ও চীনের অবস্থান
জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার প্রভাবে অন্যান্য দেশের তুলনায় চীন বর্তমানে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চীন তার তেলের মাত্র ১৩ শতাংশ ইরানের কাছ থেকে আমদানি করে। এছাড়া তারা নিজস্ব কৌশলগত তেলের মজুদও বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্প মেয়াদে সামলে নিলেও চীন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট ও নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়া চীনের রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষণা ও পরামর্শক উপদেষ্টা আলি ওয়াইন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কৌশলের অভাব যখন স্পষ্ট হচ্ছে, তখন চীন এই সংকট নিরসনে নিজেকে সহায়তাকারী হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে।
চীনের কূটনৈতিক তৎপরতা
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রাশিয়া, ওমান, ইরান, ফ্রান্স, ইসরায়েল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত সপ্তাহে তিনি বেইজিংয়ে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাঁচ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিউ বলেছেন, তিনি আঞ্চলিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ২০টিরও বেশি ফোনালাপ করেছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একজন বিশেষ দূত এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসের কাছে চীনের পরিকল্পনার জন্য সমর্থন চেয়েছেন এবং তাকে বলেছেন যে এটি ব্যাপক, আন্তর্জাতিক ঐকমত্যের প্রতিনিধিত্ব করে। ওয়াং সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে বলেছেন যে যুদ্ধ বন্ধ করাই সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
আবার বাহরাইন কর্তৃক জাতিসংঘে উত্থাপিত ‘সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খোলার’ প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেছে চীন। এ বিষয়ে ওয়াং ই বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপ উত্তেজনা কমানোর জন্য হওয়া উচিত, আগুনে ঘি ঢালার জন্য নয়।
কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে কথা বলার জন্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতিসংঘের একজন কূটনীতিক বলেন, চীন ও রাশিয়া যুক্তি দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এই প্রাণঘাতী যুদ্ধকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
উভয় দেশেরই প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার তেমন কোনো তাগিদ নেই বলেই মনে হচ্ছে। চীন যেখানে অর্থ দিয়ে তার কিছু জাহাজ পার করতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে রাশিয়া তার প্রধান রপ্তানি পণ্য তেলের উচ্চমূল্য থেকে লাভবান হচ্ছে।
বেইজিং বলছে, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি দরকার। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের এই শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত একপ্রকার নীরবই রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন বলেছেন, এই পরিকল্পনাটি মূল্যায়ন করা কঠিন, কারণ এটি শান্তির একটি রূপরেখার চেয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান, কূটনীতির গুরুত্ব এবং জাতিসংঘের ভূমিকার প্রতি একটি অস্পষ্ট আবেদন মাত্র।
৩১ দিন আগে
চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চীনে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) পাকিস্তানের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বেইজিং এ দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। চীনের এ মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বর্তমান সংঘাত নিরসনই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানান, উত্তর চীনের উরুমকিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি চীন।
এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান ও প্রতিবেশী আফগানিস্তানের লাখ লাখ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে উরুমকিতে এই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো জঙ্গিগোষ্ঠী, বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবানকে (টিটিপি) নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তান। অবশ্য এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে কাবুল।
গত মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পাকিস্তান অবশ্য বেসামরিক নাগরিক নিহতের দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, তারা কেবল একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার তখন বলেছিলেন, কোনো হাসপাতালে নয়, কেবল সন্ত্রাসী অবকাঠামো এবং তাদের সহায়তাকারী সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসলামাবাদ।
উভয় পক্ষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এখন আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের তুলনায় বর্তমানে লড়াইয়ের তীব্রতা কিছুটা কম। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘খোলা যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছিল।
এ সহিংসতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কারণ আল-কায়েদা এবং আইএসের মতো গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্রমতে, চীন মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়ার পর উভয় পক্ষ তা গ্রহণ করলে নতুন করে এ আলোচনা শুরু হয়। এর আগে, অক্টোবরে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি এবং নভেম্বরে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনাও দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
৩৫ দিন আগে
ঢাকায় আসছেন চীনা উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডং আগামী ২–৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করবেন। সফরকালে তিনি চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে চতুর্দশ বাংলাদেশ–চীন কূটনৈতিক পরামর্শ বৈঠকে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে সান ওয়েইডং উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাতকালে চীনা রাষ্ট্রদূত আসন্ন সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সান ওয়েইডংয়ের বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি তুলে ধরেন।
এই পরামর্শ বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করা হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা খোঁজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় চীনের দীর্ঘদিনের সহায়তা ও অবদানের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রহমান আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার গঠনের পর এই সফর বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
৫৫ দিন আগে
স্বাস্থ্যখাতে চীনের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্যখাতে চীনের চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করে তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কীট ও সরঞ্জাম সরবরাহ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা চান।
আশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে ১ হাজার বেডের হাসপাতালে নির্মাণে চীন তার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব (রুটিন দায়িত্ব) খোরশেদ আলম ও ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং উপস্থিত ছিলেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রস্তাবিত এক হাজার বেডের হাসপাতাল নির্মাণে সহযোগিতা করতে তারা পিছুপা হবেন না, তা সাধারণ হাসপাতাল হোক বা বিশেষায়িত হাসপাতাল।
তিনি বলেন, মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে চীন থেকে চিকিৎসক দল এসেছে। রোবোটিক পুনর্বাসনকেন্দ্রে ৮২টি যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশি মেডিকেল কর্মীদের চীনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় উচ্চ শিক্ষায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য আবাসনের বিষয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, চীনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত এক হাজার বেডের হাসপাতাল উত্তরবঙ্গে হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত, যেহতু উত্তরবঙ্গ অনুন্নত ও অবহেলিত।
৬৫ দিন আগে
সামরিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
সামরিকীকরণে অবদান রাখার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি সীমিত করেছে চীন। সম্প্রতি টোকিও-বেইজিং সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল চীন।
গত নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর থেকে টোকিওর ওপর ধারাবাহিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে বেইজিং। সে সময় তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তবে জাপান সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এরপর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে চীন বলেছে, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০টি জাপানি কোম্পানিকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় এবং আরও ২০টিকে পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় রেখেছে।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) পণ্য আমদানি করতে পারবে না। এর মধ্যে জাহাজ নির্মাণ, বিমানের ইঞ্জিন ও সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনে যুক্ত মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ফুজিৎসুর কিছু ইউনিট রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরাও ওই ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চীনে উৎপাদিত ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। এ সম্পর্কিত চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে, পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় থাকা ২০টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চীনা রপ্তানিকারকদের পৃথক রপ্তানি লাইসেন্স আবেদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং লিখিত অঙ্গীকার জমা দিতে হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে এসব ডুয়াল ইউজ পণ্য জাপানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করবে না। তালিকায় রয়েছে সুবারু করপোরেশন, মিতসুবিশি ম্যাটেরিয়ালস করপোরেশন এবং ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জাপানের পুনরায় সামরিকীকরণ ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো ‘সম্পূর্ণ বৈধ, যুক্তিসঙ্গত ও আইনসম্মত।’
তারা আরও জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল অল্প কিছু জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য এবং শুধুমাত্র ডুয়াল ইউজ পণ্যকে লক্ষ্য করেছে। ফলে চীন ও জাপানের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতে প্রভাবিত হবে না এবং আইন মেনে চলা জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
জাপানের নিন্দা
টোকিও চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাপানে নিযুক্ত চীনের উপ-মিশন প্রধান শি ইয়ংয়ের কাছে এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়াবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসাআকি কানাই বলেন, কেবল জাপানকে লক্ষ্য করে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক প্রচলিত রীতির থেকে অনেকটাই ভিন্ন এবং ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
জাপানের উপ-ক্যাবিনেট প্রধান সচিব কেই সাতো মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজ ঘোষিত এই পদক্ষেপ কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। এটি সত্যিই নিন্দনীয়। আমরা চীনের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের (নিয়ন্ত্রণ) তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সাতো বলেন, চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, কিছু বিষয় এখনও অস্পষ্ট থেকে গেছে যেমন এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ বাণিজ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না।
৭০ দিন আগে
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ করার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাক্ষাৎ করতে এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। অদূর ভবিষ্যতে এ বিনিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। তাই তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিত হতে চলা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার’ জোটে বাংলাদেশকে যোগদানের অনুরোধ করেন এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে জানান। তিনি দুই দেশের মধ্যে ‘প্লান অব অ্যাকশান অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেনিং কর্পোরেশন’-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় এটি পুনরায় রিভিউ করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় তার সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ খাতে সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্ত্রীকে চীন সরকারের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭০ দিন আগে
তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীন তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎ-পরবর্তী এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে তারা বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষ।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আমিন বাজার পানি শোধনাগার সচল করার বিষয় কথা হয়। এ ছাড়াও স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে চীনের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান আছে। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সে চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন খাতে চীন কীভাবে আরও বেশি সহযোগিতা দিতে পারে সে বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে। চীন তিস্তা প্রকল্পে নিজ উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে তখন বিস্তারিত জানানো যাবে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চীন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৭১ দিন আগে
চীনে জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮
মধ্য চীনের শানসি প্রদেশে একটি জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (ফেব্রুয়ারি) ভোরে শানসি প্রদেশের শানইন কাউন্টিতে জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানির একটি কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানাটি শানইন শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি বায়ো-ফিড, কয়লা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং রং উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শানইন কাউন্টি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোম্পানির আইনগত প্রতিনিধিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থল শুয়োঝৌ শহরের কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, রবিবারও জরুরি পরিষেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও গাঢ় হলুদ ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী এক ব্যক্তি বেইজিং নিউজকে বলেন, বিস্ফোরণে দুর্ঘটনাস্থলই শুধু নয়, আশপাশের এলাকাও কেঁপে ওঠে। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন যে ভূমিকম্প হচ্ছে। তার ঘরের জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিকট এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। পরে বাইরে বেরিয়ে দূরে আকাশছোঁয়া আগুনের শিখা ও সাদা ধোঁয়া দেখতে পান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনা বুঝতে পেরে আমি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। এরই মধ্যে পথে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি তাকে অতিক্রম করে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ জুন জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নিবন্ধিত ঠিকানা এমন একটি গ্রামের কাছে যেখানে আগে খনিশিল্পের কার্যক্রম চলত। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স এখনও পায়নি।
ওই জায়গাটি লিজ নিয়ে বার্ষিক ১৫ হাজার টন বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য ৮৫ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১২ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করে সেখানে কর্মশালা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল কোম্পানিটি।
১ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি উৎপাদন কারখানা, ৫০০ বর্গমিটারের একটি গুদাম, ২০০ বর্গমিটারের অফিস ও আবাসন সুবিধা এবং দুটি বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদন লাইনসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনা কোম্পানিটির পরিকল্পনায় ছিল।
কোম্পানির ভবনের বিন্যাসচিত্র অনুযায়ী, উৎপাদন কারখানা গোটা জায়াগার মাঝখানে অবস্থিত। এর আর চার কোণে রয়েছে অফিস ভবন, গুদাম, পয়ঃশোধন কেন্দ্র ও অস্থায়ী বিপজ্জনক বর্জ্য সংরক্ষণাগার।
এদিকে, এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বায়ো-ফিড উৎপাদন কোনোভাবেই ‘স্বল্পঝুঁকির’ কাজ নয়। বিশেষ করে ধুলিকণা ঝমে বিস্ফোরণের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
তারা বলছেন, শস্য ও প্রোটিন পাউডারের মতো উপকরণ থেকে সৃষ্ট জৈব ধুলা বদ্ধ স্থানে জমে থাকে। এরপর তাতে সামান্য আগুন বা বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গও বিস্ফোরণের সূত্রপাত করতে পারে।
৮৭ দিন আগে