যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে যানবাহনে আঘাত করে আগুন ধরে যায়। এ দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামিতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রানওয়ে ছেড়ে যায়। পরে বিমানবন্দরসংলগ্ন গুদাম ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ব্যবহার করেন এমন একটি সড়কের ওপর দিয়ে গিয়ে কয়েকটি যানবাহনে আঘাত করে।
মায়ামি-ডেড কাউন্টির কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ দুর্ঘঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিমানের পাইলটরা বেঁচে আছেন কি না কিংবা নিহত সবাই বিমানটির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ভেতরে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মায়ামি-ডেড রেসকিউ ফায়ার বিভাগের প্রধান রে জাদাল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনায় পাইলট ও কো-পাইলট ককপিটে এবং কয়েকজন যাত্রী বিমানের যাত্রীবাহী অংশের ভেতরে আটকা পড়েন। একটি যাত্রীবাহী অংশের নিচে আটকে পড়া একজনকেও উদ্ধারকারীদের বের করে আনতে হয়েছে।
ঘন কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যাওয়ার পর ব্যস্ত এই বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বেশ কিছু সময় বন্ধ ছিল। দুর্ঘটনার পরপরই প্রায় ২০০ জরুরি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। বিমানের ইঞ্জিনের জটিল অংশে আগুন ধরে যাওয়ায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ।
দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এতে আবহাওয়ার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় বজ্রঝড় এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৮ কিলোমিটার বেগে বায়ু প্রবাহ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে মায়ামিতে একটি দল পাঠাচ্ছে সংস্থাটি। এই তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে অ্যামাজন।
১২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা লন্ডনে সরিয়ে নিল নেদারল্যান্ডস
‘ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার’ কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রাখা নিজেদের ৮৬ টন সোনা যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংকটের সময় দ্রুত সোনা ব্যবহার বা লেনদেন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্য নেদারল্যান্ডস ব্যাংক (ডিএনবি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
ডিএনবির মতে, নিউইয়র্ক ও অটোয়ার তুলনায় লন্ডনে রাখা সোনা দ্রুত ও সহজে লেনদেন করা যায়। ফলে সংকটের সময় তা দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব।
এ বিষয়ে ডিএনবির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লেইপেন বলেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা আমাদের সোনার মজুত ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়িয়েছি। আমরা আশা করি, আমাদের কখনোই এসব সোনা ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। তবে আমাদের প্রস্তুতি ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’
ডিএনবি আরও জানায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুত ছিল ৬১২ দশমিক ৪ টন। ওই সময় এর মূল্য ছিল ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৮৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
সোনা সরানোর আগে নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল নিউইয়র্কে। আর ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল কানাডার রাজধানী অটোয়ায়।
৮৬ টন সোনা সরিয়ে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—উভয় দেশেই নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের পরিমাণ কমে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে লন্ডনে থাকা সোনার পরিমাণ ১৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। আর নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভূখণ্ডে এখনও মোট সোনার ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ রয়েছে।
ডিএনবি বলছে, সোনা সরানোর ক্ষেত্রে শুধু শারীরিকভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হয়নি। এর পাশাপাশি কিছু সোনা কেনাবেচাও করা হয়েছে।
ব্যাংকটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি সোনা সরাসরি নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে নেওয়া হয়। পরে একই পরিমাণ সোনা জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়। এতে সোনার বারগুলো গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।
ডিএনবি বলেছে, ‘কেনাবেচা ও সরাসরি পরিবহনের সমন্বয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সোনা সরানোর ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।’
চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ব্যাংকটি জানিয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসভিত্তিক ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টারের প্রেসিডেন্ট লরেন্ট শোয়ার্টজ বলেন, এক দশক ধরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সোনার মজুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে আসছে। এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সোনা রাখার জন্য অন্য জায়গাকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, লন্ডনের সোনার বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও তারল্যপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। তাই সংকটের সময় সেখানে থাকা সোনা দ্রুত ব্যবহার করা সহজ।
শোয়ার্টজ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অন্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সহজে তাদের সোনা ঋণ দিতে পারে।’
সিটে জেস্টিওন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার্ড বলেন, নেদারল্যান্ডসের এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো ‘কোনো সংকট দেখা দিলে সোনার আরও তাৎক্ষণিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও বলেন, আপাতত এটি বেশ একক একটি পদক্ষেপ। তবে অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও একইভাবে সোনা সরিয়ে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
চলতি বছরের শুরুতে নিউইয়র্কে থাকা জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনার মজুতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের সোনার মজুত সরিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানুয়ারিতে জার্মানির সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরডিকে বুন্দেসব্যাংক জানিয়েছিল, নিউইয়র্ক ফেড তাদের সোনা সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
১৬ দিন আগে
দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দেবে যুক্তরাষ্ট্র
দেশজুড়ে মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ২৪ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উপকরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এ সহায়তার কথা জানান।
এ সময় তিনি পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ মডেলও হস্তান্তর করেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে নবজাতকের শরীর উষ্ণ রাখা ও শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তাকারী সরঞ্জাম, গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য থেরাপিউটিক ফুড এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখার উপকরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে জেপাইগো, জেএসআই ও ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম ও উপকরণ দুর্গম এলাকাসহ দেশজুড়ে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য দুই দেশের সহযোগিতার প্রাচীনতম ক্ষেত্রগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্র সংক্রামক রোগ এবং রোগ প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
১৯ দিন আগে
পানি-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার
পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি কোল্ড স্টোরেজসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষি হিমাগারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগানো হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।
তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের সরকার। আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি।’
বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
সাক্ষাতের শুরুতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার খাতেও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ দিন আগে
রাষ্ট্রপতি ফখরুলকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় বলেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাকে অভিনন্দন।
বার্তায় আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
২৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ৩০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় স্থানীয় সময় শনিবারও ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়, অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য উচ্ছেদের সতর্কতা মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের উপপ্রধান জেরি মার্টিন বলেন, ‘ছয় ইঞ্চি পানি যেকোনো গাড়িকে অচল করে দিতে পারে। আট ইঞ্চি পানি গাড়িগুলো সড়ক থেকে ভাসিয়ে নিতে পারে। এমনকি তিন ইঞ্চি পানিও একজন মানুষকে ফেলে দিতে পারে। বন্যার পানি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
নগরীর গণপূর্ত বিভাগের পরিচালক টড উইলসন বলেন, ‘পানির উচ্চতা এখনও বাড়ছে। সারা দিনই এটি বাড়তে থাকবে।’
অঙ্গরাজ্যের আরও পূর্বে ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে গেল শুক্রবার শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর বুধবার থেকে নিখোঁজ থাকা এক কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে জেনিংস কাউন্টিতে একটি গাছের নিচে চাপা পড়ে চার বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়।
এদিকে, মধ্য ইন্ডিয়ানার উত্তর-পূর্ব হেনড্রিকস কাউন্টি ও উত্তর মারিয়ন কাউন্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ বন্যা আর দেখা যায়নি। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কিছু এলাকায় দুই দিনে ২৮ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিল এলাকায় হোয়াইট নদীর পানি ৭ দশমিক ৩২ মিটার ছাড়িয়ে গেছে, যা ১৯১৩ সালে রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
অভূতপূর্ব এ বন্যায় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে বন্যার ঝুঁকি ছিল না এমন এলাকাতেও এবার পানি ঢুকেছে।
ইন্ডিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ব্রাউন শনিবার নিশ্চিত করেছেন, বন্যা মোকাবিলা ও পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তার করা ফেডারেল সম্পদের অনুরোধ অনুমোদনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তর ইন্ডিয়ানাপোলিসের কিছু এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে ৩৫০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টিপটন কাউন্টির একটি প্রবীণদের ভ্রাম্যমাণ আবাসনও খালি করা হচ্ছে। ফায়েত কাউন্টিতে উদ্ধার ও বাসিন্দাদের খোঁজ নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের মুখপাত্র রিটা রেইথ জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৯৫ জন মানুষ ও ৪৫টি পোষা প্রাণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। দিনভর জরুরি সেবার জন্য শত শত ফোনকল পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত উত্তর ইন্ডিয়ানা পাবলিক সার্ভিস কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যে দেড় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন।
৩৪ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ৫০ দেশে ভিসা বন্ড স্থায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু থাকা মার্কিন ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ ১৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩১ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, প্রায় এক বছরের পর্যালোচনায় কর্মসূচিটি ভিসার শর্ত প্রতিপালন নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ফলে এটি স্থায়ীভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিটি সোমবার (৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং সেদিন থেকেই নতুন বিধিমালা কার্যকর হবে।
বর্তমানে কর্মসূচির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ তালিকায় আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালার আওতায় তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক (বি-১) ও পর্যটন (বি-২) ভিসার সাক্ষাৎকারের আগে নির্ধারিত অঙ্কের বন্ড জমা দিতে হবে।
পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ বন্ড ছিল ১৫ হাজার ডলার। এছাড়া কনস্যুলার কর্মকর্তার বিবেচনায় ৫ হাজার বা ১০ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণের সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে সর্বোচ্চ বন্ড ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে এবং ৫ হাজার ডলারের নিম্নসীমা বাতিল করা হয়েছে।
তবে ভিসা আবেদন বাতিল হলে কিংবা ভিসা পাওয়ার পর আবেদনকারী নির্ধারিত শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে জমা দেওয়া বন্ড ফেরত দেওয়া হবে।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীদের সংখ্যা কমানো এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি চালু করে।
মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারী একজন বিদেশিকে গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গড়ে প্রায় ১৮ হাজার ডলার ব্যয় হয়।
তবে ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালু হওয়ার পর থেকে এটি অত্যন্ত সফল বলে দাবি করেছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৫০টি দেশের প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ দর্শনার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালুর পর প্রথম ১০ মাসে ওই দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থানকারীর সংখ্যা ৫০ জনেরও নিচে নেমে আসে।
তবে এ নীতির সমালোচকেরা বলছেন, এটি দরিদ্র দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বা ব্যবসায়িক সুযোগ অনুসন্ধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহীদের জন্য এই বন্ড একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম বছরে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ধারণা ছিল, প্রায় দুই হাজার ভিসা আবেদনকারীকে বন্ড দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ২০ হাজার আবেদনকারী এ শর্তের আওতায় পড়েন।
এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক আবেদনকারী বন্ড জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা ইস্যুর সংখ্যা ৮৩ শতাংশ কমে যায়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য, নতুন এই স্থায়ী বিধিমালা কর্মসূচির আওতাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনের প্রবণতা আরও কমাতে ভূমিকা রাখবে।
৪৯ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত শাধিন।
বৈঠকে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে।
এর প্রমাণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে। এর ফলে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যাবে।
আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসতে যাওয়া ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের সফর নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)-এর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশে এফডিএর পরিদর্শন কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে তিনি সহযোগিতা করবেন।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ করে গুদামজাতকরণ, সয়াবিন, তুলা, গমসহ কৃষিখাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
জবাবে সার্জিও গর বলেন, বাংলাদেশে ডিএফসির বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে ওয়াশিংটন ইতিবাচকভাবে কাজ করবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আরও জানান, ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন বিনিয়োগকারীরা অদূর ভবিষ্যতে একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ আয়োজন করতে আগ্রহী।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও কাজ করছেন বলে জানান মার্কিন বিশেষ দূত।
৪৯ দিন আগে
নির্বাচনে হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় দুই মার্কিন কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান ব্রাজিলের
আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই কর্মকর্তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল সরকার। আগামী সপ্তাহে ব্রাজিলে সফরের জন্য তারা আবেদন করেছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ জুলাই) ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
এ বিষয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল সরকার মনে করছে, ওই দুই মাকিন কর্মকর্তা আগামী অক্টোবরে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও বিতর্ক সৃষ্টি করতে যাচ্ছিলেন।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইলি এম বার্নস ও উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল স্যামসন গত ২০ জুলাই ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে কেন তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে কোনো কারণ জানানো হয়নি।
এবারের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বলসোনারো পরিবারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
৫৫ দিন আগে
দেশে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার আহ্বান গণপূর্তমন্ত্রীর
বাংলাদেশে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সেফটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিইএসআরআই)’ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে তার দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি এ আহ্বান করেন ।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আবাসন খাত, জাতীয় বিল্ডিং কোড, নগর উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা এবং পাবলিক প্লেস ও পার্কের উন্নয়নসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, তার দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের আবাসন খাতের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী।
এ সময় গৃহায়নমন্ত্রী বাংলাদেশে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সেফটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিইএসআরআই)’ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মতিন, যুগ্ম সচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে পলিটিক্যাল কাউন্সিলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল কর্মকর্তা জশ পোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক কূটনৈতিক শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬৬ দিন আগে