যুক্তরাষ্ট্র
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ফের নৌযানে মার্কিন বাহিনীর হামলা, নিহত ৩
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পরিবহনের সন্দেহে ফের একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) এ ঘটনা ঘটে। এর এক দিন আগে ক্যারিবীয় সাগরে আরেকটি সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় হামলা চালিয়ে ২ জনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।
সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযান ধ্বংসে গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে লাতিন আমেরিকার জলসীমায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৯১ জন নিহত হয়েছেন।
ইরান যুদ্ধ চলমান থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব হামলা আবারও বেড়েছে, যা দেখায় যে পশ্চিম গোলার্ধে কথিত ‘মাদক সন্ত্রাস’ প্রশাসনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের পরও থেমে নেই। তবে নৌযানে মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো প্রমাণ দেয়নি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
তবে মঙ্গলবার (৫ মে) এ হামলা নিয়ে ইউএস সাউদার্ন কমান্ড আবারও উল্লেখ করে, পরিচিত পাচার রুটে থাকা সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তারা এক্সে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায়, একটি নৌযান চলার সময় হঠাৎ বড় বিস্ফোরণ হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ ও অতিরিক্ত মাত্রায় মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে এসব হামলা প্রয়োজনীয়।
এদিকে, এসব নৌযান হামলার সামগ্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।
১ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৫
হরমুজ প্রণালিতে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যে নৌযানগুলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বলে দাবি করছে, সেগুলো আসলে যাত্রীবাহী নৌকা ছিল।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের করা এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করেছে। ব্র্যাড কুপার বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার সময় তাদের মিশনে বাধা দেয় আইআরজিসির ৬টি নৌযান। সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ওই নৌযানগুলোকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানে ৭টি নৌকায় তারা হামলা চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে পরিচালিত মার্কিন অভিযান নাজুক এই যুদ্ধবিরতিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। এ অভিযানের ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসির নৌযানে হামলা করেছে, এমন দাবি তোলার পর তেহরান তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে দেখা গেছে, মার্কিন হামলায় আইআরজিসির কোনো নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) দুটি যাত্রীবাহী ছোট নৌকা ওমান উপকূলের খাসাব থেকে ইরানের উপকূলে যাচ্ছিল। পথে মার্কিন বাহিনী নৌকা দুটিতে হামলা চালায়।
ওই সামরিক কমান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নৌকাগুলো ঘটনাস্থলে ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা ৫ জন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন।
তিনি দাবি করেন, ‘এই অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
ইরানের এই অভিযোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরান এই জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এদিকে, ইরান এখন কঠোরভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হরমুজ প্রণালির যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পূরণ করতে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনী বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, অনুমতি ছাড়া এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আরও জানানো হয়, মার্কিন বাহিনী যদি এই জলপথের কাছে আসে বা প্রবেশ করে, তাহলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল। ইরান জাহাজটির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়াও ইরানি সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত ভূখণ্ডে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের এসব হামলায় পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আমিরাত ফুজাইরাহর একটি বড় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান করা দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ এইচএমএম নামুও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, একটি বিস্ফোরণে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন লেগে গিয়েছিল।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেসট্রয়ারের সহায়তায় সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ‘ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় উপসাগর ছেড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, সোমবার হরমুজে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় হামলার ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, চলমান রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অশুভ শক্তির প্ররোচনায় আবারও সংকটে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ইরানের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম পরিচালনাকারী মার্কিন জাহাজে হামলা হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আগের চেয়ে এখন আমাদের কাছে অনেক বেশি উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাটি আছে। এসব ঘাটিতে বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা সেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করব।
১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই করা রিসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের (পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে চুক্তিটিকে অযৌক্তিক, কাঠামোগতভাবে অসম ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থপরিপন্থি বলা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) আইনজীবী মোহাম্মদ মঈদুল ইসলাম পলক রিটটি করেছেন। অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী দাস তা আদালতে উপস্থাপন করেন। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হবে।
রিটে পররাষ্ট্র, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই করা রিসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণ সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং সংবিধানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর অসম শুল্ককাঠামো, নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতা খর্ব এবং দেশীয় শিল্প, কৃষি ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
২ দিন আগে
জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিস্মিত ইউরোপ
জার্মানি থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তবে সোমবার তাঁরা বলেছেন, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইউরোপকে এখন নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। ।
গত সপ্তাহে পেন্টাগন ঘোষণা দেয়, তারা জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা সরিয়ে নেবে। তবে ট্রাম্প শনিবার (২ মে) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সেনাসংখ্যা অনেক কমিয়ে আনছি। এই সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হবে।’
তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। আকস্মিক এই ঘোষণায় উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট—ন্যাটো অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্সের সঙ্গে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই এই ঘোষণা এল। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পৃক্ত হতে অনাগ্রহের কারণে ট্রাম্প বেশ ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরে বলেন, ‘আমি এটাকে অতিরঞ্জিত করব না। তবে, আমরা আশা করছি, ইউরোপ নিজের নিরাপত্তার জন্য আরও বড় ভূমিকা নেবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, ‘ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছে। তবে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত সত্যিই বিস্ময়কর।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন থেকে ন্যাটোর ইউরোপীয় অংশকে আমাদের আরও শক্তিশালী করতে হবে।’
মেয়ার্সকে শাস্তি দিতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে কাল্লাস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনের ভেতরে কী চলছে, তা আমি জানি না। তাই বিষয়টি তাকেই ব্যাখ্যা করতে হবে।’
গত সপ্তাহের শেষে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ৩২টি দেশের এই সামরিক জোটের কর্মকর্তারা জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বুঝতে কাজ করছেন।’
গত বছর পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউরোপীয় মিত্ররা এবং কানাডা জানত যে ট্রাম্প ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন। অক্টোবরেই কিছু মার্কিন সেনা রোমানিয়া ছেড়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নিরাপত্তা শূন্যতা এড়াতে তারা ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই যেকোনো পদক্ষেপ নেবেন।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এই পদক্ষেপকে ছোট করে দেখিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের সমর্থনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হতাশা রয়েছে।’
বিশেষ করে ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্য তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।
তবে ট্রাম্প নেতৃত্বের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রুটে বলেন, ‘আমি বলব ইউরোপীয়রা বার্তাটি শুনেছে। তারা এখন নিশ্চিত করছে যে সব দ্বিপাক্ষিক ঘাঁটি-সংক্রান্ত চুক্তি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ আগে থেকেই নির্দিষ্ট স্থানে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে জানান, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নেবে না।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ পুনরায় খুলতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সেটা ভালো। শুরু থেকেই আমরা সেটাই চাইছিলাম।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপ এমন কোনো অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত নয় যা ‘আমাদের কাছে পরিষ্কার মনে নয়’।
মেয়ার্সের সঙ্গে উত্তেজনার আরেকটি কারণ হিসেবে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না মানার অভিযোগ তুলেছেন এবং আগামী সপ্তাহে ইইউয়ে উৎপাদিত গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের এই আদেশ বড় গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ জার্মানির জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকারক।
ট্রাম্প বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং এখন মেক্সিকোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘একই মানসিকতার বন্ধুদের সঙ্গে আপনার সরবরাহশৃঙ্খল স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য থাকে এবং সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির নেটওয়ার্ক ইউরোপেরই রয়েছে।’
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় গুলিবর্ষণ, আহত অন্তত ১২
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটিতে একটি পার্টিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩ মে) রাতে ওকলাহোমার কাছে আর্কেডিয়া লেকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শহরটির পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মকর্তারা ।
এডমন্ড পুলিশের মুখপাত্র এমিলি ওয়ার্ড বলেন, রবিবার রাত ৯টার দিকে আর্কেডিয়া লেকের কাছে তরুণদের একটি মিলানায়তনে এই হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয় কর্তৃপক্ষ, তবে এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে খুবই ভয়ের ব্যাপার। আমরা জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বুঝতে পারছি। দুষ্কৃতিকারীদের খুঁজে বের করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ওয়ার্ড বলেন, ‘আমরা পুরো মেট্রো এলাকায় ছড়িয়ে আছি এবং ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছি।’
তিনি জানান, ১০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েকজন নিজ দায়িত্বে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের স্বাস্থ্যের অবস্থা একেকজনের একেক রকম।
হাসপাতালের এক মুখপাত্রের মতে, ওকলাহোমা সিটির ইন্টেগ্রিস হেলথ ব্যাপ্টিস্ট মেডিকেল সেন্টারে ৯ জন এবং ইন্টেগ্রিস হেলথ এডমন্ড হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি ছিলেন। রবিবার রাত পর্যন্ত রোগীদের সবার অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছিল।
পুলিশ এ সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও গুলির ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা একটি ফ্লায়ারে বোঝা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় লেকের কাছে ‘সানডে ফানডে’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
ওকলাহোমা সিটি থেকে প্রায় ১৩ মাইল উত্তরে অবস্থিত আর্কেডিয়া লেক একটি কৃত্রিম জলাধার, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র, যেখানে মাছ ধরা, নৌকা চালানো, পিকনিক ও ক্যাম্পিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এই পার্কটি মূলত ওকলাহোমা সিটির এডমন্ড উপশহরে অবস্থিত।
চল্লিশ বছর আগে এই উপশহরটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গুলিবর্ষণের জায়গা। ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট ডাককর্মী প্যাট্রিক শেরিল ২০ জন সহকর্মীর ওপর গুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন।
২ দিন আগে
জামালপুর যাচ্ছে লিমনের মরদেহ, বাদ মাগরিব জানাজা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা মো. জহুরুল হক ও ছোট ভাই যোবায়ের আহমেদ।
নিহত লিমনের কাকা মো. আসাদুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, দুপুরের মধ্যে লিমনের মরদেহ মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছাবে। তার জানাজার নামাজ বাদ মাগরিব স্থানীয় লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে। ইতোমধ্যেই কবর খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এলাকায় মাইকিং করে জানাজা নামাজের কথা প্রচার করা হচ্ছে। মরদেহের সঙ্গে লিমনের বাবা-মা, একমাত্র ভাই ও স্বজনরা রয়েছেন।
ফ্লোরিডায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের পক্ষে লিমনের মরদেহ গ্রহণ করেন তার খালা তাসলিমা বেগম। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। মরদেহের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে আসছেন। তার ফ্লাইট আজ (সোমবার) দুপুর ১টার দিকে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানান মো. আসাদুল্লাহ।
জামিল আহমেদ লিমনের বাবা মো. জহুরুল হক, মা লুৎফুন্নেছা ও ছোট ভাই যোবায়ের আহমেদ দীর্ঘদিন থেকে ঢাকার হাসনাবাদ এলাকায় বসবাস করছেন। জহুরুল হক পেশায় টেক্সটাইল মিলের কর্মকর্তা ছিলেন, মা গৃহিনী এবং একমাত্র ছোট ভাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকে অধ্যয়নরত।
লিমনের মৃত্যুতে তার পরিবারের পাশাপাশি এলাকায় চলছে শোকের মাতম।
২ দিন আগে
ইরানের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনায় ট্রাম্প
যুদ্ধের ইতি টানতে ইরানের নতুন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ মার্চ) সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রস্তাব নিয়ে পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি যে তাদের এই প্রস্তাব প্রাসঙ্গিক হবে। কারণ বিগত ৪৭ বছরে তারা মানবতা এবং বিশ্বের প্রতি যে নির্দশন দেখিয়েছে, তার যথেষ্ট মূল্য এখনও পরিশোধ হয়নি।’
ইরানের আধা-সরকারি দুটি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং ফার্স জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান ৯ দফা মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পাকিস্তান এর আগেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখনও এই নতুন প্রস্তাব নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি নতুন পরিকল্পনাও উত্থাপন করেছেন।
জাহাজ কোম্পানিগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ দিলে জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান জাহাজে হামলা ও হুমকির মাধ্যমে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। পরে ইরান তাদের উপকূলঘেঁষা পথ দিয়ে কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে এবং কখনও কখনও এর জন্য ফিও আদায় করেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, কেবল নগদ অর্থ নয়, ডিজিটাল সম্পদ, বিনিময়, অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বা অন্য কোনো পণ্য বা সেবার বিনিময়, এমনকি দাতব্য অনুদান বা ইরানি দূতাবাসে অর্থ প্রদান করলেও জাহাজ কোম্পানিগুলো ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে। এর ফলে তেল রপ্তানি থেকে আয় কমে গিয়ে দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। আজ (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
৩ দিন আগে
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট সক্ষম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার থেকে প্রাপ্ত যক্ষ্মা পরীক্ষার কীট এবং শিশুদের জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ৬ লাখ ‘জিন এক্সপার্ট কার্ট্রিজ’ এবং শিশুদের জন্য ১১ হাজার কোর্সের যক্ষ্মার (টিবি) ওষুধ হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের কার্যক্রমের কথা উল্লখ করে বলেন, নির্ধারিত বাজেট থাকা সত্ত্বেও গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি। এর ফলে কিছু কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। ভ্যাকসিনসহ মানবসম্পদে কোনো কিছুরই সংকট নেই। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শতভাগ শিশু টিকার আওতায় আসবে। শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে। কাজেই শিগগিরই হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন জোরদারে কাজ করছে।
তিনি ভবিষ্যতে যক্ষ্মা শনাক্তকরণ আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে কিছু পদক্ষেপের কথা জানান। সেগুলো হচ্ছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ডিজিটাল এক্স-রে প্রবর্তন, নতুন প্রজন্মের জিন সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার ও শিশুবান্ধব ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আশ্বাস দেন, বাংলাদেশকে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা মামলার বিচার শুরু
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবিয়েহর (২৬) বিরুদ্ধে আদালতে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে এই শুনানি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে দুটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ড পেতে পারেন। তবে প্রসিকিউটররা এখনও বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৯টার স্ট্যাটাস কনফারেন্সে তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পাবলিক ডিফেন্ডার জেনিফার স্প্রাডলি গতকাল (সোমবার) জানান, তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টি বিয়ের কথা ভাবছিলেন বলে তাদের এক স্বজন জানিয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায় ক্যাম্পাসের বাইরে একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে, যেখানে তিনি আবুঘারবিয়েহ এবং আরও এক রুমমেটের সঙ্গে থাকতেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে লিমনের মরদেহ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়, গোয়েন্দারা মোবাইল ফোনের অবস্থান এবং লাইসেন্স প্লেট রিডার তথ্য ব্যবহার করে আবুঘারবিয়েহর গাড়ি এবং লিমনের ফোনের গতিপথ অনুসরণ করে সেই সেতু পর্যন্ত পৌঁছান।
মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে লিমনের দেহাবশেষে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন মেডিকেল পরীক্ষক।
অন্যদিকে, বৃষ্টিকে খুঁজে পেতে এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন ডেপুটিরা। রবিবার (২৬ এপ্রিল) শেরিফের কার্যালয় জানায়, সেতুর কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে সেটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর যখন গোয়েন্দারা আবুঘারবিয়েহ এবং অপর রুমমেটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তারা লক্ষ করেন আবুঘারবিয়েহর কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ বাঁধা। তবে লিমনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন আবুঘারবিয়েহ।
লিমনের আরেক রুমমেট গোয়েন্দা পুলিশকে জানান, ১৬ এপ্রিল রাতে আবুঘারবিয়েহ একটি ট্রলি ব্যবহার করে তার কক্ষ থেকে কার্ডবোর্ডের কয়েকটি বাক্স আবর্জনা ফেলার স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকেই গোয়েন্দারা লিমনের মানিব্যাগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, চশমা এবং রক্তের দাগযুক্ত পোশাক উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে আবুঘারবিয়েহর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে গোয়েন্দারা রান্নাঘর থেকে তার শয়নকক্ষ পর্যন্ত রক্তের চিহ্ন দেখতে পান এবং তার কক্ষের কার্পেটে রক্তের দাগ শনাক্ত করেন। লিমনের কক্ষে তারা বৃষ্টির বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি এবং ক্রেডিট কার্ডও খুঁজে পান।
প্রসিকিউটরদের দাখিল করা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিখোঁজের কয়েকদিন আগে আবুঘারবিয়েহ চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি কোনো মানুষের দেহ একটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি ওই প্রশ্নটিকে বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করে সতর্ক করেছিল।
৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার ও যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ খুলে দেবে ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেয় এবং চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটায়, তবে হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করবে ইরান। একইসঙ্গে দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) যুদ্ধে মধ্যস্ততার সঙ্গে যুক্ত দুইজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছানো হয়েছে। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ-ভিত্তিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চলছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন বলে মনে হচ্ছে না। পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকানদের কাছে পৌঁছানো এই প্রস্তাবে সেই মতবিরোধগুলো অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে, যার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধে জড়িয়েছিল। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এমন কোনো চুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত নেই।
সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের পার পেয়ে যেতে দিতে পারি না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, যেকোনো চুক্তি বা সমঝোতা যেন এমন হয় যা তাদের যেকোনো মূল্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড় থেকে নিশ্চিতভাবে বিরত রাখে।’
একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থায় আটকে আছে। যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো। মার্কিন অবরোধের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে তাদের তেল বিক্রি করা থেকে বিরত রাখা, যাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যেখানে তেল সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় তেহরানকে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হবে।
অন্যদিকে, প্রণালিটি বন্ধ থাকায় ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এটি তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে, যারা তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এই জলপথ ব্যবহার করে।
অবরোধ অবসানের নতুন দাবি
মধ্যপ্রাচ্যের এ সংকটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে সার, খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা বাড়ছে। সোমবার নতুন করে অবরোধ অবসানের দাবি করেছে বিভিন্ন দেশ।
ইরানের প্রস্তাবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, তার যুদ্ধে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।
প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, চলতি সপ্তাহে ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়েছে। ইরানের এই প্রস্তাবের কথা প্রথম প্রকাশ করে সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়া সফরে রয়েছেন। মস্কো দীর্ঘকাল ধরে তেহরানের প্রধান সমর্থক। রাশিয়া ইরানকে এখন কোনো সাহায্য করবে কি না বা করলে কী ধরনের সাহায্য করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। অপরিশোধিত তেলবোঝাই ট্যাঙ্কারগুলো উপসাগরে আটকা পড়ে আছে, কারণ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ কেন্দ্রে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই।
সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (অপরিশোধিত তেল) তেলের বাজারদর ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলারের উপরে গিয়ে ঠেকেছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার দামের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবিতে অনেক দেশের
বাহরাইনের নেতৃত্বে একটি যৌথ বিবৃতিতে বেশ কিছু দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এই চাপের প্রভাব এখন খালি তেলের ট্যাঙ্কে, খালি তাকে (দোকানের শেলফ) এবং শূন্য থালায় গিয়ে পড়ছে।’
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস কোনো কৌশল ছাড়াই যুদ্ধে নামার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের সংঘাতের সমস্যা সবসময় একই রকম; এটি কেবল যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে নয়, আপনাকে এ থেকে বেরোনোর পথও জানতে হবে।’
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাঁ-নোয়েল বারোট সব পক্ষেরই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে হামলা করার পর এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রণালি হলো বিশ্বের ধমনী। এগুলো কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।
রাশিয়ায় পুতিনের সঙ্গে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকের বৈঠক
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ৭ এপ্রিল করা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন, যার ফলে লড়াই অনেকটা থেমেছে। কিন্তু একটি স্থায়ী সমাধান এখনও অধরা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। পুতিন ইরানি জনগণের প্রশংসা করে বলেছেন যে তারা সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য লড়ছেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে।
আরাঘচি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভির একজন সাংবাদিককে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নেতারা এই যুদ্ধে তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেননি। এ কারণেই তারা আলোচনার জন্য বলছে। আমরা এখন এটি বিবেচনা করছি।’
পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, তখনই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এ সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে এই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করেন এবং ফোনে আলোচনার পরামর্শ দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তার মতে, ইরান ওমানের সঙ্গে প্রণালিটি ভাগ করে নেয়। তারা এখন ওমানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে যাতে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘টোল’ বা মাশুল আদায়ের একটি ব্যবস্থা চালু করা যায়। তবে ওমানের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান নতুন আলোচনার আগে মার্কিন অবরোধ অবসানের দাবিতে অনড়। পাকিস্তান-নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মধ্যকার এই বিশাল দূরত্ব ঘুচানোর চেষ্টা করছেন।
তেহরান অনেক ভালো প্রস্তাব দিয়েছে: ট্রাম্প
শনিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি পাকিস্তানে প্রতিনিধিদের সফর বাতিল করার পর তেহরান একটি অনেক ভালো প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে তার অন্যতম শর্ত হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। অপরদিকে, ইরান দাবি করে আসছে যে তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে ফেলতে চায়, যা বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন এবং লেবাননে ২ হাজার ৫২১ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছিল ইরান যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর থেকে। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ১২ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য, ১৩ জন মার্কিন সেনা এবং ৬ জন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এই সাময়িক বিরতি সত্ত্বেও উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হিজবুল্লাহ এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় চলা এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।
৮ দিন আগে