যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধ শিথিলের ইঙ্গিতের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান ‘ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনার’ কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সময়ে ওই অঞ্চলে আরও তিনটি উভচর যুদ্ধজাহাজ এবং প্রায় আড়াই হাজার অতিরিক্ত মেরিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) বিশ্বব্যাপী বিনোদন ও পর্যটন স্পটগুলোতে ইরান হামলার হুমকি দেয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের এ মন্তব্য আসে। একইসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে জাহাজে তোলা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে, যা জ্বালানি তেলের দামের লাগাম টেনে ধরার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে যখন ধস নেমেছে, ঠিক সেই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এ দ্বিমুখী বার্তা এল।
গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েল জানিয়েছে, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব বলেছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এর একদিন আগে পারস্য নববর্ষ নওরোজ উদযাপন চলাকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
লক্ষ্যের সন্নিকটে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। কখনও ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার কখনও তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংসের উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্দেশ্য সাধনের কোনো লক্ষণ প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সেই সঙ্গে ইরান যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে, তাতে যুদ্ধের অবসান কবে হবে, সে বিষয়টিও অনিশ্চিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সামরিক কার্যক্রম গুটিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করার পাশাপাশি আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’
তবে তার এই বক্তব্য বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং যুদ্ধে ব্যয়ের জন্য কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার চাওয়ার মতো পদক্ষেপের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও তিনটি উভচর যুদ্ধজাহাজ এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ নৌসেনা মোতায়েন করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও দুই মার্কিন কর্মকর্তা যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে সেগুলো রওনা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তারা।
এর আগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে আড়াই হাজার নৌসেনার একটি বহর সরিয়ে আনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানে ওই নৌসেনারা বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থান করা ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনার সঙ্গে যুক্ত হবে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই, তবে সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে হামলার হুমকি ইরানের
ইরানের শীর্ষ সামরিক মুখপাত্র জেনারেল আবোলফজল শেখারচি শুক্রবার সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের ‘পার্ক, বিনোদন এলাকা ও পর্যটনস্থল’গুলোও শত্রুদের জন্য নিরাপদ থাকবে না।
তার ওই মন্তব্যের পর তেহরান চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে যে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও সশস্ত্র হামলার পথ বেছে নিতে পারে, সেই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় যুদ্ধের মুখে দেশটির জনগণের দৃঢ়তার প্রশংসা করেন, যদিও ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত এবং তিনি নিজে আহত হওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
ইরান থেকে খুব কম তথ্য বাইরে আসায় দেশটির সামরিক, পারমাণবিক বা জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট নয়। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরও ইরানের পাল্টা হামলা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত করছে। এতে করে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ছে হুঁ হুঁ করে।
হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তারা বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।
বৈরুত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়া, আগুন ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ওই অঞ্চলের সাতটি এলাকা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা জারি করে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবানন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ এরই মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
চলমান যুদ্ধে ইরানে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৫ জন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে আরও চারজন নিহত হয়েছেন। তেহরানের হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা।
ইরানি তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যুদ্ধের কারণে বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৭০ ডলারের মতো।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষণায় শুক্রবার পর্যন্ত জাহাজে তোলা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে, যা ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত উৎপাদন বাড়তে সহায়ক হবে না। ফলে দামের ঊর্ধ্বগতি কতাট নিয়ন্ত্রণে আসবে, তা অনিশ্চিত।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি করে আসছে, ফলে তাদের অধিকাংশ তেল আগেই ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যায় বলে ধারণা করা হয়।
ইরান যুদ্ধের মধ্যে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ বাড়ানোর উপায় খুঁজতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এর আগে রাশিয়ার কিছু তেল চালানের ওপরও ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল। সমালোচকদের মতে, এতে মস্কো লাভবান হলেও বাজারে এর প্রভাব ছিল সীমিত।
২২ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা
ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ধারাবাহিক কংগ্রেস শুনানিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন। সেখানে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও ইরানের একটি স্কুলে প্রাণঘাতি হামলার বিষযয়ে তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি করা হবে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি প্রতিরোধে এফবিআইয়ের সক্ষমতা নিয়েও জিজ্ঞসাবাদের মুখে পড়তে হবে তাদের।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ মার্চ) সিনেটে শুনানি শুরু হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত হাউসে এই শুনানি চলবে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়ে বার্ষিক বৈশ্বিক হুমকি বিষয়ক এই শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি মিশিগানের একটি সিনাগগ (ইহুদি উপাসনালয়) ও ভার্জিনিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
হাউস এবং সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির সামনে এই সাক্ষ্যগ্রহণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্চের শুরুর দিকে ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। ওই হামলার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও পুরনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র ওই বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে জানিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) থেকে ওই হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে কংগ্রেসে জানানো হয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেমস এইচ অ্যাডামসও শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের স্কুলে হামলার বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।
এছাড়া প্রশাসনের ভেতরে চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ নিয়েও শুনানিতে আলোচনা হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সন্ত্রাস প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক জো কেন্ট এই সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার কেন্ট বলেন, তিনি নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারেননি। তার মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে হুমকি ছিল না।
এর কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক ভাষায় একটি পোস্ট করেন। তিনি বলেন, ইরান হুমকি কি না, তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ট্রাম্পের। তবে তিনি এ ব্যাপারে নিজস্ব মতামত উল্লেখ করেননি। তুলসি গ্যাবার্ডের দপ্তরের অধীনেই কেন্ট কর্মরত ছিলেন। তুলসি গ্যাবার্ডও এই সপ্তাহের শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন।
শুনানিতে ইরান-সম্পর্কিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন নিয়ে ডিএনআই পরিচালক গ্যাবার্ড এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এর মধ্যে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। অপর একটি প্রতিবেদনে ইরান প্রথম হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল—এমন দাবির ওপর সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
৩ দিন আগে
শুধু তামাশা করার জন্য হলেও খার্গ দ্বীপে আবার হামলা চালাতে পারি: ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানিকেন্দ্রে শুধু তামাশা করার জন্য হলেও হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া ৩০ মিনিটের এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান সরকার একটি চুক্তি করতে চায় এবং সেই চুক্তির শর্তাবলি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি।
হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ঠিক কতদিন যুদ্ধ চলবে, এই বিষয়ে সংশয় দূর করতে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খার্গ দ্বীপের বেশিরভাগ স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তামাশা করার জন্য হলেও আরও কয়েকবার হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী।
এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমরা খার্গ দ্বীপের অনেক অংশ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি। তবে একটা বিষয়ে নিশ্চয় আপনারা অবগত যে, আমি জ্বালানি পাইপলাইন বা বিদ্যুৎ লাইনের ওপর কোনো ধরনের হামলা করিনি, কারণ সেগুলো মেরামত করতে বহু বছর লেগে যেত।’
কোনো সূত্র উল্লেখ না করে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা সংশয়ের মধ্যে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, ‘আসলেও তিনি জীবিত আছেন তো?’
তিনি আরও জানান, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পুতে রেখেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দুই সপ্তাহ আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালি দিয়ে মূলত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সারা বিশ্বে পরিবাহিত হয়।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শক্তভাবে ওই প্রণালিতে নজরদারি চালাব এবং আমরা মনে করি, এই তেল পরিবহনের সঙ্গে যেসব দেশের স্বার্থ জড়িত, তারাও এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে।’
তবে কতদিন এই প্রক্রিয়া চলবে বা কোন কোন দেশ এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে, তা এখনও তিনি স্পষ্ট করেননি।
শনিবার অন্যান্য দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে সমন্বয় করবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সব দিক থেকে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করেছে। কিন্তু বিশ্বের যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল গ্রহণ করে, তাদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরাও সাধ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে যাতে সবকিছু দ্রুত, সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। এটি সর্বদা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হওয়া উচিত ছিল এবং বিশ্বের এই পরিস্থিতিতে তা হবে বলেও আশা করছি। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিশ্বকে সম্প্রীতি, নিরাপত্তা এবং চিরস্থায়ী শান্তির দিকে ধাবিত করবে।’
তবে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে কি না, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপাতত আপনাদের কিছু জানাতে চাচ্ছি না।’
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমানে সংকট নিরসনে ট্রাম্পের এই একত্রিত হওয়ার আহ্বানকে তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে। কারণ এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে পরিচালিত হামলা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ক্ষমতার প্রদর্শন এবং এর জন্য তারা আন্তর্জাতিক অনুমতির পরোয়া করে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও ইরান লক্ষ্যবস্তু করেছে যা অত্যন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার। তিনি বলেন, এসব দেশের ওপর হামলা পুরোপুরি অযৌক্তিক। সেই সঙ্গে ইরানের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সব সিদ্ধান্তের মধ্যে সবচেয়ে বড় অবাক করা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
৬ দিন আগে
মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের ফি ৮০ শতাংশ কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার জন্য যে ফি দিতে হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। চূড়ান্ত বিধিতে বিদ্যমান ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে।
বহু বছর ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে ইচ্ছুক আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ মার্চ) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি চূড়ান্ত বিধিতে এই ফি কমানো হয়। শুক্রবার থেকেই নতুন ফি কার্যকর হয়েছে।
২০২৩ সালে এ ফি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এতদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন এই ফি ২০১০ সালে যখন প্রথমবার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই সময়কার সমান পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা একটি জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আবেদনকারীদের একাধিক লিখিত ও মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাকে নিশ্চিত করতে হয় যে তারা এই সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে অবগত। এরপর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করে পররাষ্ট্র দপ্তর।
২০১৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর যুক্তিতে ফি ৪৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন কর প্রতিবেদন বিধির কারণে অনেকেই নাগরিকত্ব ত্যাগে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
ফি এত বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ফ্রান্সভিত্তিক ‘অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকানস’-সহ বিভিন্ন সংগঠন তীব্র বিরোধিতা করে। সংগঠনটি মূলত এমন ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার কারণে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কিন্তু বিদেশেই বসবাস করছেন।
সংগঠনটি ফি আরোপের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা করে, যার মধ্যে একটি মামলায় এখনো দাবি করা হচ্ছে যে নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কোনো ফি থাকা উচিত নয়।
সংগঠনটির সভাপতি ফাবিয়েন লেহাগ্রে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি স্বীকার করে যে মৌলিক এই অধিকারটি সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া জরুরি। ছয় বছরের নিরলস আইনি লড়াই ও প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’
আদালতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ফি কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও অন্তত ৮ হাজার ৭৫৫ জন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য পূর্ণ ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি পরিশোধ করেছেন। তবে মোট কতজন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করার জন্য যে ফি দিতে হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। চূড়ান্ত বিধিতে বিদ্যমান ফি ২ হাজার ৩৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে।
বহু বছর ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে ইচ্ছুক আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৪ মার্চ) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত একটি চূড়ান্ত বিধিতে এই ফি কমানো হয়। শুক্রবার থেকেই নতুন ফি কার্যকর হয়েছে।
২০২৩ সালে এ ফি কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এতদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন এই ফি ২০১০ সালে যখন প্রথমবার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেই সময়কার সমান পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা একটি জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আবেদনকারীদের একাধিক লিখিত ও মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাকে নিশ্চিত করতে হয় যে তারা এই সিদ্ধান্তের পরিণতি সম্পর্কে অবগত। এরপর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করে পররাষ্ট্র দপ্তর।
২০১৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আগ্রহীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর যুক্তিতে ফি ৪৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৩৫০ ডলার করা হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন কর প্রতিবেদন বিধির কারণে অনেকেই নাগরিকত্ব ত্যাগে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
ফি এত বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ফ্রান্সভিত্তিক ‘অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকানস’-সহ বিভিন্ন সংগঠন তীব্র বিরোধিতা করে। সংগঠনটি মূলত এমন ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ার কারণে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, কিন্তু বিদেশেই বসবাস করছেন।
সংগঠনটি ফি আরোপের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা করে, যার মধ্যে একটি মামলায় এখনো দাবি করা হচ্ছে যে নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কোনো ফি থাকা উচিত নয়।
সংগঠনটির সভাপতি ফাবিয়েন লেহাগ্রে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি স্বীকার করে যে মৌলিক এই অধিকারটি সবার জন্য সহজলভ্য হওয়া জরুরি। ছয় বছরের নিরলস আইনি লড়াই ও প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’
আদালতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ফি কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও অন্তত ৮ হাজার ৭৫৫ জন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য পূর্ণ ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি পরিশোধ করেছেন। তবে মোট কতজন মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক সফরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থনের লক্ষ্যে তার এ সফর।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ঢাকা ছাড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউএনবিকে জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিতে তুরস্কে অবস্থান করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই সময় আঙ্কারায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. খলিলুর।
তিনি আরও জানান, তুরস্কে অবস্থানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকটি বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন বাড়ানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সফরকালে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার। এসব আলোচনার মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৬–২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। এরপর ওই পদে প্রার্থী দিয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ জুন। প্রার্থী দেওয়ায় এ পদে এবার বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু তিনি বর্তমানে দায়িত্বে না থাকায় তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ।
আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে এবার সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
বাংলাদেশ সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে এ মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর আবারও এ পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার আশা করা হচ্ছে।
৭ দিন আগে
ইরানে যুদ্ধ সম্প্রসারণে ট্রাম্পকে সিনেটের সমর্থন
মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব’ রিপাবলিকানরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) আনা প্রস্তাবটি ৪৭-৫৩ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলাফল মূলত দলীয় মেরুকরণ অনুযায়ীই এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
এ আইনটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা জরুরি; বিশেষ করে যখন কোনো স্পষ্ট যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা তীব্রতর হচ্ছে।
এই ভোটাভুটির ফলে আইনপ্রণেতারা এমন একটি সংঘাতের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানালেন, যা মার্কিন সেনা সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং যার সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক পরিণতি রয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সকালে ভোটের জন্য ওঠার কথা রয়েছে, তবে সেখানেও এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
সিনেটের এই সিদ্ধান্তটি যুদ্ধ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনকেই প্রতিফলিত করে। সমালোচকরা যেখানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করছেন, সেখানে সমর্থকরা প্রশাসনের পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে রক্ষা করছেন।
১৬ দিন আগে
ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু
লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ইকুয়েডরের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের এ অভিযানের লক্ষ্য চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইকুয়েডরীয় এবং মার্কিন বাহিনী ৩ মার্চ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান এ পদক্ষেপকে মাদক-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আঞ্চলিক অঙ্গীকারের একটি নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে হেলিকপ্টার উড্ডয়ন এবং আকাশপথ থেকে নজরদারির দৃশ্য দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ অভিযান বর্তমানে ইকুয়েডরের সেনাদের জন্য কেবল লজিস্টিক এবং গোয়েন্দা সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, এ অঞ্চলজুড়ে সহিংসতার জন্য দায়ী অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে দুই দেশ নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মাক্রিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধান মাদক কার্টেলগুলোকে ক্রমবর্ধমানভাবে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছেন এবং একটি সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সন্দেহভাজন চোরাচালানকারী জলযানগুলোতে বিমান হামলার মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত।
তবে সমালোচকদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ আইন প্রয়োগ এবং যুদ্ধাবস্থার মধ্যকার পার্থক্যকে অস্পষ্ট করে দিচ্ছে, যা বেসামরিক হতাহত এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া যুক্তরাষ্ট্রের এ সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি একে মাদক পাচার এবং অবৈধ খনির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
১৭ দিন আগে
প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিতকরণে ভোট দেবেন মার্কিন সিনেটররা
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রস্তাবিত বিষয়ে বিতর্ক স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় শুরু হবে এবং ভোট হবে বিকেল ৪টায়।
যথাযথ আইনি অনুমোদন ছাড়া মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। অনেক আইনপ্রণেতা ও মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এ হামলার সমালোচনা করছেন।
ডেমোক্রেট আইনপ্রনেতারা দাবি করেন, কংগ্রেসের সংবিধানিক ভূমিকা পুনঃস্থাপনের জন্য ভোট প্রয়োজন, যা সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদনের অধিকার নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এটি পাস করা দুরূহ হয়ে উঠবে। আইনপ্রণেতারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য ভোট গ্রহণের আয়োজন করছেন।
এদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
কুপার বলেছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এ প্রজন্মে সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক অভিযান। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজারেরও অধিক সৈন্য, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং বোমারু বিমান।
হামলায় ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং ১৭টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলায় ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীকে লক্ষ্য করেছে। তবে কুপার দাবি করেছেন, তেহরানের হামলার ক্ষমতা কমতে শুরু করেছে।
মার্কিন সমারিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারও প্রভাবিত হচ্ছে।
১৭ দিন আগে
‘সংঘাত গভীরতর’, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর তিনি দেশটির অবশিষ্ট নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) তিনি এ কথা জানান। এমন সময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন যখন ইরানের শহরগুলোতে দ্বিতীয় দিনের ব্যাপক বোমাবর্ষণ চলছে এবং তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভীতি তৈরি করেছে।
আজ (সোমবার) লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করে বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। আগের দিন খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হিজবুল্লাহ।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেন, বর্তমানে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। আমরা নিজেদের রক্ষা করছি এবং আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সংঘাত শুরু করেনি। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রচেষ্টা চালানোর খবর অস্বীকার করেন।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি শনিবার নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে জানান যে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তারা একাধিক শহরের বেসামরিক এলাকাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, বোমাবর্ষণের দ্বিতীয় দিনের পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণের শহর মিনাবের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় ১৬৫ জন নিহত হয়েছে।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতদের মধ্যে খামেনি ছিলেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে শাসন করছিলেন তিনি।
বেশ কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি অনুসরণ করছিল।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, খামেনি যখন তেহরানে তার কার্যালয়ে শীর্ষ প্রতিরক্ষা সহযোগীদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন, তখন সিআইএ ইসরায়েলকে সে তথ্য দেয়, যা হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্বকে অপ্রস্তুত রাখতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল। অভিযানের দিন সকালে সেনা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছিল, তারা যেন তাদের গাড়িগুলো নিয়মিত জায়গায় পার্ক না করেন, যাতে ইরানের গোয়েন্দারা কিছু বুঝতে না পারে। এমনকি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বাড়িতেই অবস্থান করছেন—এমন ভুল তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তাদের বরাতে চ্যানেলটি জানিয়েছে, হামলার প্রথম ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ৩০ জন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাকে হত্যা করে।
১৯ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তেলের সরবরাহ ধীর হয়ে যেতে পারে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ওই অঞ্চলজুড়ে হামলার কারণে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী দুইটি জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসোলিনের দাম আরও বাড়তে পারে।
সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। শুক্রবার এর দাম ছিল প্রায় ৬৭ ডলার, যা থেকে সোমবার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার সকালেই ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৪১ ডলারে লেনদেন হয়। ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার এর দাম ছিল ৭২ দশমিক ৮৭ ডলার, যা ছিল সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সোমবার এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে ভোক্তাদের পাম্পে গিয়ে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে। একইসঙ্গে নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এমন সময় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, যখন অনেক দেশেই মানুষ ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ভুগছে।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে এই নৌপথকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে ধরা হয়। ইরানের উত্তরে অবস্থিত এই প্রণালী দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকে তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সামরিক মহড়ার কথা বলে ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ বন্ধ করে দেয়। এর পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই ওপেক প্লাস জোটভুক্ত আটটি দেশ রোববার অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। যুদ্ধ শুরুর আগেই নির্ধারিত বৈঠকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক জানায়, এপ্রিল মাসে তারা প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াবে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও এই পরিমাণ বেশি। উৎপাদন বাড়ানো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান।
রিস্ট্যাড এনার্জির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে ওপেকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বাজারে মূল উদ্বেগ হলো তেলের চালান ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে কি না’
তিনি জানান, ‘যদি উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত হয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত তেল উৎপাদ তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি স্বস্তি দিতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন লক্ষ্য নয়, বরং রপ্তানি পথ সচল থাকা অনেক বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে।’
এদিকে, ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই যায় চীনে। ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে পর্যাপ্ত কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটি চাইলে রাশিয়া থেকেও তেল আমদানি বাড়াতে পারে।
১৯ দিন আগে