আহত
বেরোবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১০
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সংঘর্ষের পর রাত ১২টা পর্যন্ত দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি ব্যানার অপসারণের দাবি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উভয় সংগঠনই তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নামিয়ে ফেলতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করেন। তারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে বললেও ছাত্রদল তা না মেনে হামলা চালান।
শিবলী বলেন, ‘সভাপতির ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদল আমাদের কয়েকজন ভাইকে আহত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে আমরা থেমে যাই। ছাত্রদল চলে যায়। কিন্তু তারা হঠাৎ আবার অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ করে। আমরাও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করি।’
ছাত্রশিবির নেতা শিবলী সাদিক বলেন, ‘ছাত্রদল যদি আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে, তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব। অথবা ছাত্রদল যে ক্যাম্পাসের বাইরে তাদের মহানগরের বহিরাগত নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছে, তারা এখান থেকে চলে যাবে। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব।’
অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানানোয় তাদের সহ-সভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। বিষয়টি দেখে আমরা ওই ছবিগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়। তারা কারমাইকেল ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালায় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা, আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে উপাচার্য বৈঠক করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ভেতরে ঢুকে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু দেখব এবং যারাই চিহ্নিত হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। শান্ত থাকতে বলেছি। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেতাদের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে সংঘর্ষের পর রাত ১২টা পর্যন্ত দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিন এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উল্লেখ করা একটি ব্যানার অপসারণের দাবি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উভয় সংগঠনই তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক অভিযোগ করেন, প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানার নামিয়ে ফেলতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চাপ সৃষ্টি করেন। তারা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিতে বললেও ছাত্রদল তা না মেনে হামলা চালান।
শিবলী বলেন, ‘সভাপতির ওপর চড়াও হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদল আমাদের কয়েকজন ভাইকে আহত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এলে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হলে আমরা থেমে যাই। ছাত্রদল চলে যায়। কিন্তু তারা হঠাৎ আবার অতর্কিত হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে আক্রমণ করে। আমরাও আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করি।’
ছাত্রশিবির নেতা শিবলী সাদিক বলেন, ‘ছাত্রদল যদি আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে, তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব। অথবা ছাত্রদল যে ক্যাম্পাসের বাইরে তাদের মহানগরের বহিরাগত নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করছে, তারা এখান থেকে চলে যাবে। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব।’
অন্যদিকে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, শহিদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানানোয় তাদের সহ-সভাপতি আশিকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে কারমাইকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের প্রদর্শনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। বিষয়টি দেখে আমরা ওই ছবিগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ করে, ধাক্কাধাক্কি হয় এবং আমাদের একজন আহত হয়। তারা কারমাইকেল ছাত্রশিবিরসহ বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালায় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে কোনো আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না। এগুলোর বিরুদ্ধে যারা, আমরাও তাদের বিরুদ্ধে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে পৌঁছেছে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে উপাচার্য বৈঠক করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ ধরনের কোনো অশুভ শক্তি ভেতরে ঢুকে এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। আমরা সবাইকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সবকিছু দেখব এবং যারাই চিহ্নিত হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। শান্ত থাকতে বলেছি। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
৩ ঘণ্টা আগে
বরিশালে ‘বোমা’ বিস্ফোরণ, ৩ জন গুরুতর আহত
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, আজ (সোমবার) সকাল ৬টার দিকে দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, কন্যা ইতি ও নাতি ফাহিম অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে জামাল বলেন, ‘ঘরের পাশে থাকা বালুর বস্তার মধ্যে একটি বোমা বিস্ফোরণ হয়। ঘটনাস্থলে আমার মা, বোন ও ভাগ্নের শরীরে আগুন ধরে যায়। ঘরের সামনে থাকা তুলাতলা নদীতে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে। ততক্ষণে তাদের শরীরের সব কাপড় পুড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে বোমাটি কোথা থেকে আসল, এ বিষয়ে আমাদের কিছুই জানা নেই।’
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
১ দিন আগে
বাকৃবিতে দুই হলের সংঘর্ষে ৪ শিক্ষার্থী আহত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষদের মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির জেরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে ওই দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (ব্যাচ-৬৫) শিক্ষার্থীদের মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ব্যক্তিগত বিরোধ দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, কৃষি অনুষদের সেকশন ‘এ’-এর ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেসেঞ্জার গ্রুপে একটি মিম পোস্ট দেওয়াকে ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে একজন শিক্ষার্থী অফিশিয়াল গ্রুপে এ ধরনের বার্তা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পাঠানোর পরামর্শ দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। পরে সোহরাওয়ার্দী হলের একদল শিক্ষার্থী ভাসানী হলে গিয়ে ভাঙচুর চালান। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং অন্যদের হাত-পায়ে জখম হয়।
খবর পেয়ে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষ নিজ নিজ হলে ফিরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আমিনুল মতিন বলেন, খুব বেশি শিক্ষার্থী আহত হননি; তিন থেকে চারজন আহত হয়েছেন। তারা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। কাউকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি।
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী। সোহরাওয়ার্দী হলের আহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার পর সবাই নিজ নিজ হলে ফিরে গেছে। রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, এক হলের শিক্ষার্থীরা অন্য হলে ভাঙচুর করেছে। পরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
২ দিন আগে
টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩
টাঙ্গাইলের মধুপুরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মধুপুর উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের রক্তিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সেতু আক্তার (২২) ও তাজবীর (৮)। অপরজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও মধুপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ক্রাউন ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মাদারগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বাসটি রক্তিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে টাঙ্গাইলগামী একটি বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন আহত হয়েছেন ।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
৪ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ঢাকাগামী বাস উল্টে আহত ২৩, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
চুয়াডাঙ্গা সদরের সরোজগঞ্জ এলাকায় ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী বাসটি দ্রুতগতিতে ঝিনাইদহের দিকে যাচ্ছিল। সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি পাখিভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার তীব্রতায় কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। আহতদের মধ্যে বুলবুলী নামে এক নারীর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন—চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলী গ্রামের ছামিউল (৪০), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার মো. রুবেল (৪০), চুয়াডাঙ্গার বালিয়াকান্দি গ্রামের মোছা. খাদিজা (১৩), কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার চকহাদী গ্রামের সুমন (৩২), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের মো. রাজিব (৩০), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের আসাদুল হক (৫০), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মোছা. পঞ্চমী বেগম (৬০), মাদারীপুর জেলার চরকাতলা গ্রামের সালাম (৬৫), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের মিজানুর (৫০) ও একই গ্রামের শাহিন (২০), চুয়াডাঙ্গা শহরের ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল এলাকার ফজর আলী (৫০), চুয়াডাঙ্গার পাচলিয়া গ্রামের ফারজানা (১৮), মাদারীপুর জেলার চর কালিকাপুর গ্রামের রাশিদা (৫০), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের হাফিজুর (৫৭), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের সালাম (২০), গোপালগঞ্জ জেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মেহেদী হাসান (৪০), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস (৫৫), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের আরিফ খান (৬০), চুয়াডাঙ্গা সদরের পিটিআইয়ে কর্মরত আরিফুল আজম (৪৫), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মো. জনি (৪০) আলমডাঙ্গা উপজেলার আনন্দধাম এলাকার মোছা. বুলবুলী (৩৫), শরীয়াতপুর জেলার মোছা. জাহানারা (৬০)। এছাড়া আহত আরও একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময় বলেন, দুর্ঘটনায় আহত মোট ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা রাজশাহীতে স্থানান্তরের করার প্রস্তুতি চলছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ সদর হাসপাতালে যান। সেখানে তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের খোঁজখবর নেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনসহ মোট ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারীর হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। আহতদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতায় আমরা পাশে রয়েছি।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
১২ দিন আগে
যশোরে ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ২
যশোরের শার্শা উপজেলায় ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নাহিদ ইসলাম (৩৫) ও উষা রহমান (৩০) নামে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রুবেল হোসেন নামে আরও এক যুবক আহত হয়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোগা ইউনিয়নের সালামের মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদ ইসলাম যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে এবং উষা রহমান বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জমাত আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (সোমবার) সকাল ৯টার দিকে তিন যুবক মোটরসাইকেলে চড়ে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা রুদ্রপুর-গোগাগামী সড়কের সালামের মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাহিদ ও উষা। গুরুতর আহত রুবেল হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, স্থানীয় জনতা ট্রাক্টরটি জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
১৫ দিন আগে
লোকলজ্জায় চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল ছাড়লেন সেই সাপুড়িয়া
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সাপের কামড়ে আহত সাপুড়িয়া ইমরান হোসেন (৩৮) লোকলজ্জার কারণে চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
আহত ইমরান হোসেন ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্থান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমি এখন সুস্থ আছি। চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে এসেছি।’
তবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না নিয়ে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলেন, ‘সাংবাদিকরা খুব জ্বালাচ্ছিল। রাত নেই দিন নেই, এসে সেই এক প্রশ্ন—ওঝা হয়ে সাপের কামড় খেয়ে কেন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কেউ কেউ আবার আমাকে ভণ্ড প্রমাণের চেষ্টাও করছেন। তাই সবকিছু বিবেচনায় হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে এসেছি। এখন বাড়িতে থেকেই বাকি চিকিৎসা শেষ করব।’
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, গতকাল (শনিবার) রাতেই ইমরান কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে ছুটির আবেদন করেছিলেন। আজ (রবিবার) আবারও ছাড়পত্র চাইলে প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ডা. ইকবাল হাসান বলেন, বর্তমানে ইমরান শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে হাসপাতাল ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একজন সাপুড়িয়া হয়ে সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা তার কাছে লজ্জাজনক মনে হয়েছে।
এ সময় সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ।
গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় একটি বসতবাড়ি থেকে গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হন ইমরান হোসেন।
নিজেকে সাপুড়িয়া ও ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরান বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ ধরার ভিডিও নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে স্থানীয় আমিরুল ইসলামের বাড়িতে সাপ উদ্ধারের জন্য যান ইমরান। বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে গর্ত থেকে একটি গোখরা সাপ বের করার পর সেটিকে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় অসাবধানতাবশত সাপটি তার হাঁটুর ওপর কামড় দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে সাপুড়িয়া ইমরান বলেন, আগের দিন বৃহস্পতিবার আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট সাপের কামড়ে মারা যান। নিহত সম্রাটের দেড় বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। পেশায় রাজমিস্ত্রী সম্রাটের বয়স ২২ বছর। তার স্ত্রী বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
শুক্রবার সম্রাটের মৃত্যুর পর বাড়িটিতে আবারও সাপ দেখা গেলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে তাকে খবর দেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির উঠান থেকে প্রথমে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করি। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ টেনে বের করার প্রায় দেড় মিনিটের মাথায় অসাবধানতাবশত সেটি আমার হাঁটুর ওপর কামড় বসায়।’
১৫ দিন আগে
চাকা ফেটে খালে পড়ল বাস, মানিকগঞ্জে নিহত ১, আহত অন্তত ১০
মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খালে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে শিবালয় উপজেলার বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে পাটুরিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় সেলফি পরিবহনের বাসটি। বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে আরেকটি বাসকে ওভারটেক করার সময় বাসটির চাকা ফেটে যায়। বেপরোয়া গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই সেতুর মাঝখানের একটি খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর দেলোয়ার হোসেন (৫০) নামে এক যাত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ বিষয়ে বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, পাটুরিয়া থেকে ঢাকাগামী সেলফি পরিবহনের বাসটির সামনের চাকা ফেটে যায়। সে সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশের খালে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী আহত হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে একজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
১৫ দিন আগে
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৫ শিক্ষার্থী নিহত
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ধসে একটি মাদরাসার ৫ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-ব্লক এ-৩ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত। উদ্ধারকাজ চলছে।
রোহিঙ্গা মাঝি ইলিয়াস মিয়া জানান, আজ সকাল থেকেই টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর একটি সাব-ব্লকে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি মাদরাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়েছিল। স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পাহাড় ধসে আটকা পড়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উদ্ধারকাজ চলছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
২৬ দিন আগে
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল নারীর, আহত ২
কক্সবাজারে টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে নাসিমা আক্তার (২৭) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন (৪০) ও সন্তান গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার।
ইউএনও বলেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে। এতে নাসিমা আক্তার, তার স্বামী ও সন্তান আটকা পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তিনজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশনা মানেননি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতঘর উচ্ছেদ ও নিরাপদ স্থানে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
২৭ দিন আগে