জাপান
রপ্তানি বহুমুখীকরণে জাপানকে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়ার মধ্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
টোকিওতে স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান, বিশেষ করে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
এছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বাংলাদেশে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় জাপানের সহযোগিতা চান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে সহায়তা করবে।
৬ দিন আগে
জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
জাপানে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু (নিপ্পন এক্সপ্রেস) লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি স্থাপনাটি পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রটোকল কর্মকর্তা-২ কামরুল ইসলাম ও গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীও পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এছাড়া পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
জাপানে জেরার এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি কোম্পানি জেরার স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও এতে অংশ নেন।
এছাড়া পররা ষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠায় জাপানকে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠায় জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেই সঙ্গে কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হালকা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়নেও সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে তাদের সাক্ষাৎ হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে জাইকার অব্যাহত সহায়তাও চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশ–জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্বের আওতায় দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জানান, দেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশ্বের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানো ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের মতো এবারও বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।
চলতি বছরের জুলাইয়ে তানাকার বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় তার সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং দেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও গভীর করা এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপরও উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে।
এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
জাইকা প্রেসিডেন্ট তানাকা বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করবে এবং দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও বৈঠকে অংশ নেন।
৮ দিন আগে
এআই ডেটা সেন্টার ও দ্বিতীয় কাফকো কারখানায় মারুবেনির বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী
জাপানের মারুবেনি করপোরেশনকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যার মধ্যে দ্বিতীয় কাফকো সার কারখানা স্থাপন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোটোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, সার ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের জন্য মারুবেনিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন, বিশেষ করে পাটজাত পণ্যে বিদ্যমান ব্যবসায়িক সম্পর্কের পাশাপাশি নতুন নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
২৩ দিন আগে
জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ’ নিউইয়র্ক সফরের পর আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে তার তুরস্ক, জাপান ও সৌদি আরব সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপান ও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া পৃথক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ বিবেচনায় নিয়ে ঢাকায় এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ-৩১ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে গৃহীত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা হলো কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ)।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কপ-৩১ নিয়ে মতবিনিময় হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টিও ছিল।
এদিকে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জাপান পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপানে সরকারি সফরে যেতে পারেন বলে ইউএনবিকে জানিয়েছেন একটি কূটনৈতিক সূত্র। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে এপ্রিলে এশিয়া অঞ্চলে জ্বালানি বিষয়গুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, কোনো দেশ এককভাবে এ সমস্যা সমাধান করতে না পারায় সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই অনলাইন বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
গত মাসে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সময় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ তার কাছে আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে সৌদি যুবরাজ দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান, যার লক্ষ্য দুই দেশ ও তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা। উভয় পক্ষ পারস্পরিক সুবিধাজনক তারিখ চূড়ান্ত করতে পারলে নভেম্বরে তারেক রহমান সৌদি আরব সফর করতে পারেন।
ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের নভেম্বরে অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে ভারত সফর করতে পারেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির দিকেও নজর রাখছে ঢাকা।
শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও যোগাযোগের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত মাসে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ‘খুব শিগগিরই হওয়া উচিত’ এবং এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি স্বর্ণালি অধ্যায় দেখতে চান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকের মাধ্যমেই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব, আর আমি খুবই আশাবাদী।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ সাতটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর মধ্যে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।
৩৭ দিন আগে
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানে চাকরির সুযোগ নিয়ে যা বললেন মাহ্দী আমিন
দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য বিনা খরচে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেছেন, সরকার জাপানিজ শিক্ষকদের বাংলাদেশে এসে ভাষা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। এছাড়া, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে তাদের কীভাবে ভিসা প্রক্রিয়ার আবেদন এবং আবাসন ব্যবস্থা সহজিকরণ করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়েছিল। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাপানের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার জাপানের সঙ্গে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাপানি ভাষা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, টাউন লাইফ কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে জাপানে বাংলাদেশি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা এবং ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই পর্যালোচনা সভা হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সরকার নতুন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তৃতীয় ভাষার শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ চলমান।
তিনি বলেন, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল এবং আর্কিটেকচার বিষয়ে ডিপ্লোমা সনদধারীদের কর্মসংস্থান ভিসার মাধ্যমে জাপানে পাঠানো হবে। প্রার্থীদের ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে জাপানে প্রবেশ পর্যন্ত যাবতীয় ব্যয় বহন করবে জাপানিজ এই প্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ল্যাব উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম দিয়েও প্রত্যক্ষ সহায়তা দেবে। নির্বাচিত প্রকৌশলীরা জাপানে যোগদানের পর প্রতি মাসে উচ্চ বেতন পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার ভাতা ও বোনাস সুবিধাও পাবেন।
ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জাপানিজ ভাষা শিক্ষাক্রম প্রায় শেষ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এখন দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষাক্রম চলমান রয়েছে। সাফল্যের সঙ্গে যারা জাপানি ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, তারা সবাই পর্যায়ক্রমে জাপানে কাজের সুযোগ পাবেন; তাদের মধ্যে প্রথম ব্যাচের চাকরি নিশ্চিত। তারা চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে জাপানে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান শুরু করবেন। বাকি নির্বাচিতরা আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে জাপানে প্রবেশ করবেন বলে সভায় নিশ্চিত করা হয়।
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় টাউন লাইফ জাপান লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোমিজাওয়া কাজুনোরি, শাখা ব্যবস্থাপক ওকাদা ইয়োহেইসহ মন্ত্রণালয় ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭০ দিন আগে
টোকিওতে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ৩৭
জাপানের পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় রবিবার ভোরে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে টোকিওসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তবে ভূমিকম্পে সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ইবারাকি অঞ্চলের দক্ষিণে। ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি সৃষ্ট হয়েছে।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮।
জাপানের আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে পাঁচটি অঞ্চলের অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে টোকিওতে ১৫ জন, সাইতামায় ৯ জন, কানাগাওয়ায় ৮ জন, চিবায় ৪ জন ও ইবারাকিতে ১ জন আহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, ভোরে মানুষ কিছু যখন ঘুমিাচ্ছিল, ভূমিকম্পটি তখন আঘাত হানে। সে সময় মানুষ ঘুম ভেঙে আকস্মিক কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়েন। আহতদের বেশিরভাগই ওঠার সময় পড়ে গিয়ে অথবা আসবাবপত্র ও দরজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়েছেন।
জাপানের ইয়োমিউরি সংবাদপত্র জানিয়েছে, কানাগাওয়া অঞ্চলের ইয়োকোহামায় ৮০ বছর বয়সী এক নারী বিছানা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে নিতম্বে আঘাত পেয়েছেন।
এদিকে, টোকিওর পূর্বাঞ্চলের তাইতো এলাকার ২৩ বছর বয়সী এক যুবক আসাহি সংবাদপত্রকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় তিনি কেনাকাটা করছিলেন। এ সময় তিনি ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরই তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন। তিনি বলেন, ভবনটি কাঁপতে থাকায় তাক থেকে পণ্য পড়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের কারণে টোকিও ও নারিতা বিমানবন্দরের সঙ্গে চলাচলকারী এক্সপ্রেস ট্রেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য স্থানীয় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়। তবে ভূমিকম্পের মধ্যেও শিনকানসেন বুলেট ট্রেন স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ‘এ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।’
এদিকে, জাপান আবহাওয়া সংস্থা টোকিওর বাসিন্দাদের পরবর্তী এক সপ্তাহে আরেকটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রবিবারের ভূমিকম্পে টোকিওতেও বেশ জোরালোভাবে কম্পন অনুভূত হয়। সে সময় টোকিওর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। তবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় মিতো ও সাইতামাসহ আশপাশের শহরগুলোর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে, টোকিওতে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে। এ ভূমিকম্পে এসব স্থাপনার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে নিউক্লিয়ার রেগুলেশন কর্তৃপক্ষ।
গত মাসে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৩৮ জন নিহত ও ৩৬৪ জন আহত হয়েছিলেন।
৭২ দিন আগে
জাপানে ছয় দশকের রেকর্ড বৃষ্টি ও বন্যায় নিহত ৯
জাপানের পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নজিরবিহীন বৃষ্টিতে সহস্রাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, গেল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
চিবা প্রদেশে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ মাত্রার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়। সেখানকার একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার (প্রায় ১২ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ওই এলাকায় ছয় দশকের মধ্যে আগস্ট মাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
জাপানের ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল নাগাদ চিবা শহরে আগস্ট মাসে সাধারণত যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তার তিন গুণেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
এনএইচকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
চিবা প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের শনিবার সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ছিল আটজন। তাদের কয়েকজন পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে এবং অন্যদের প্লাবিত সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চিবা অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে ৭০টির বেশি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজারের বেশি পরিবার জানিয়েছে, তাদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি বাড়িতে মেঝের ওপর দিয়ে পানি উঠে গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ২০০টি গাড়ি এখনও বিভিন্ন সড়কে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে টেনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্যাক ব্যবহার করে সরানোর কাজ করছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিস্থিতি ‘নজিরবিহীন মাত্রার ভারী বৃষ্টিতে রূপ নিচ্ছে’।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে।
৭৯ দিন আগে
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৪
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। পানির সংকট, জ্বালানির অভাব এবং তীব্র গরমের মধ্যে হাজারো দুর্গত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িতে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে তীব্র গরমের মাঝে অসুস্থতার আশঙ্কাও বাড়ছে।
কুমামোতোর স্থানীয় সরকার শুক্রবার (৩১ জুলাই) এ তথ্য জানায়।
এদিকে, শনিবার (১ আগস্ট) নিখোঁজদের উদ্ধারে চতুর্থ দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিকম্পে একটি শপিংমলে বিস্ফোরণ, একটি কারখানার চিমনি ধসে পড়া এবং অসংখ্য বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সামরিক বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ভূমিকম্পে হাজারো বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হলেও শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। উদ্ধার অভিযান চতুর্থ দিনে গড়ালেও এখনও ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৯টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এই দুর্যোগে অন্তত ৯৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পানি ও জ্বালানির সংকটে বাড়ছে দুর্ভোগ
কুমামোতো প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় ৮০ হাজার বাড়িতে এখনও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ৯ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অনেক পেট্রোল পাম্প অচল হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য এলাকা থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কারণে অনেকেই নিজেদের গাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন। তবে জ্বালানির অভাবে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালিয়ে রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার কুমামোতো শহরের জন্য চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। সেদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
ভূমিকম্পে ঘর হারানো হিরোকাজু সাতো বলেন, অস্থায়ী বাসস্থানে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে গাড়িতেই থাকবেন।
তিনি বলেন, ‘কবে অস্থায়ী বাসায় উঠতে পারব, জানি না। দিন-রাত এয়ার কন্ডিশনার চালিয়ে রাখতে হচ্ছে, এতে প্রচুর জ্বালানি খরচ হচ্ছে।’
শিল্প উৎপাদনেও প্রভাবের আশঙ্কা
কুমামোতো জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত। ফলে ভূমিকম্পের কারণে এ খাতগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থা কয়েক মাস ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (টিএসএমসি) কুমামোতোতে একটি গবেষণাগার রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সব কর্মী নিরাপদ আছেন। ভূমিকম্প-পরবর্তী প্রাথমিক পরিদর্শনে ভবন কাঠামো নিরাপদ পাওয়া গেছে এবং ধীরে ধীরে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। তবে বিস্তারিত মূল্যায়ন এখনও চলছে।
নিখোঁজের সংখ্যা এখনও অজানা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর প্রথম তিন দিন জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় শুক্রবার বিকেলকে উদ্ধার অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জাপানি কর্মকর্তারা।
উদ্ধারকারী কুকুরের সহায়তায় কুমামোতোজুড়ে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চলছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর একটি কাশিমা শহরের ধসে পড়া এইয়ন শপিংমলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় শপিংমলটিতে হাজারো মানুষ ছিলেন। বিস্ফোরণের আগে প্রায় তিন হাজার ক্রেতাকে পার্কিং এলাকায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও ভবনের অন্য অংশে কর্মরত কিছু কর্মী ভেতরেই রয়ে যান। পরে ভবনের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ে।
সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ইয়াতসুশিরোর নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় ধসে পড়া চিমনির নিচে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়াও দক্ষিণ কুমামোতোর বিভিন্ন শহরে ধসে পড়া বাড়িঘরে ছোট পরিসরে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। তবে মোট কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
৯৪ দিন আগে