জাপান
প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাপান
জাপানে যুদ্ধবিমানসহ প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে সরে যাবে দেশটি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক্স পোস্টে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেন তাকাইচি। তবে জাপান কোন কোন অস্ত্র বিদেশে বিক্রি করবে, সেটা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।
এ বিষয়ে জাপানি সংবাদপত্রগুলো জানিয়েছে, এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ।
পোস্টে তাকাইচি বলেন, ‘এই সংশোধনের মাধ্যমে নীতিগতভাবে সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামই রপ্তানি করা যাবে। তবে গ্রাহক দেশগুলোকে অবশ্যই জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগুলো ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান বিশ্বের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজস্ব শান্তি ও নিরাপত্তা একা নিশ্চিত করতে পারা বিশ্বের সব দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জ।’
জাপানের চুনিচি পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে অন্তত ১৭টি দেশ জাপানে তৈরি অস্ত্র কিনতে পারবে। তবে আরও কিছু দেশ এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে যুক্ত হলে তালিকা বাড়তে পারে।
আসাহি পত্রিকা জানায়, ১৯৬৭ সালে প্রণীত এবং ১৯৭৬ সালে কার্যকর করা চুক্তি অনুযায়ী জাপান কেবল নজরদারি ও মাইন অপসারণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের মতো অপ্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানি করতে পারে।
পত্রিকাটি আরও জানায়, বর্তমানে যুদ্ধ চলছে এমন দেশগুলোতে অস্ত্র রপ্তানি সীমিত থাকবে। তবে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় ব্যতিক্রম করা যেতে পারে।
চুনিচি পত্রিকা জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র উল্লেখ করে জানায়, জাপানের তৈরি অস্ত্র কিনতে আগ্রহী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া, যারা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ৭০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরপরই টোকিওর এই নীতিগত পরিবর্তন এল।
১৫ দিন আগে
জাপানে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি
জাপানের উত্তর উপকূলের কাছে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরপর ওই অঞ্চলে সুনামির সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টা ৫৩ মিনিটে জাপানের উত্তরাঞ্চলের সানরিকু উপকূলের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটি মাত্রা ছিল ৭.৭। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এটি আঘাত হানে।
সুনামির বিষয়ে সতর্ক করে জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই ওই এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে।
এর আগে জাপানে ২০১১ সালের ১১ মার্চ ৯.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ২২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারান। ওই দুর্যোগে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বিকিরণের কারণে ফুকুশিমা এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিকিরণ নিয়ে উদ্বিগ্নতায় প্রায় ২৬ হাজার মানুষ সেখানে আর ফিরে আসেননি। এসব মানুষ নিজের এলাকা ছেড়ে এখন অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন।
১৬ দিন আগে
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি জাপানের
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ বিলিয়ন (১০০০ কোটি) মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) এশীয় নেতাদের সঙ্গে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস অনলাইন সামিটে’ অনলাইন বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সহযোগিতা কাঠামোর ঘোষণা দেন।
সানায়ে তাইকাচির বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাপান পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, বিশেষ করে চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে। টোকিও সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে প্রতিটি এশীয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
জাপানের এই সহযোগিতা কাঠামোর লক্ষ্য হলো এশীয় দেশগুলোকে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সংগ্রহে সহায়তা করা, সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা এবং জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি করা।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের মুখে এশিয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে যায়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট ‘আসিয়ান’-ভুক্ত দেশগুলোর এক বছরের অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণের সমান।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বাংলাদেশসহ ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এই প্রকল্পের অর্থায়ন আসবে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি), নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স (এনইএক্সআই), জাইকা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই উদ্যোগ জাপানের অভ্যন্তরীণ তেল সরবরাহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানের নিজস্ব মজুদে ২৫৪ দিন ব্যবহারের মতো তেল ছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষকে সেই মজুদ ব্যবহার করতে হচ্ছে। গত মাসে জাপান তার মজুদ থেকে রেকর্ড ৫০ দিনের তেল ছেড়েছে এবং মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জাপানে বর্তমানে ন্যাপথার (অপরিশোধিত তেল থেকে উৎপাদিত পেট্রোকেমিক্যাল এবং প্লাস্টিকের প্রধান কাঁচামাল) ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই উদ্বেগ বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে প্রকট। সিরিঞ্জ, গ্লাভস এবং ডায়ালাইসিস সরঞ্জামের মতো জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী তৈরিতে এই পদার্থটি ব্যবহৃত হয়।
এদিকে, শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তাকাইচি বলেছেন, ন্যাপথার সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। তবে বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার চাপে থাকা দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ন্যাপথার ঘাটতিতে আরও সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়েও তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশগুলোর সরকার জনগণকে গাড়ি শেয়ার করা এবং এসি ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার আহ্বান জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ফিলিপাইন জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
জাপানের আয়োজিত এই সম্মেলনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আসিয়ান দেশগুলোকে তাদের পারস্পরিক জ্বালানি ভাগাভাগি চুক্তি সক্রিয় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এশিয়ার কোনো একক দেশ এই ধরনের সাপ্লাই চেইন বিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না।
২০ দিন আগে
সাকাইকে ‘স্মার্ট সিটি ৩.০’ হিসেবে গড়ে তুলতে ড. ইউনূসের সহায়তা চাইলেন মেয়র
জাপানের টোকিও শহরের নিকটবর্তী উদ্ভাবননির্ভর শহর সাকাই (ইবারাকি প্রিফেকচার) পরিদর্শন করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) শহরটিতে পৌঁছালে মেয়র মাসাহিরো হাশিমোতো তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
মেয়র হাশিমোতো জানান, অধ্যাপক ইউনূসের ‘তিন শূন্য’ ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাকাই শহরকে একটি মডেল ‘স্মার্ট সিটি ৩.০’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন তারা।
সাকাই শহর স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি এবং ‘হোমটাউন ট্যাক্স’ ব্যবস্থার মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পরিচিত। এই কর ব্যবস্থার মাধ্যমে টোকিওর মতো বড় শহরের বাসিন্দারা তাদের করের একটি অংশ নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করতে পারেন।
পরিদর্শনকালে অধ্যাপক ইউনূস একটি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে একটি আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রবৃদ্ধি ও নবায়নের প্রতীক হিসেবে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি চেরি গাছ রোপণ করেন।
সাকাইয়ের রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে অধ্যাপক ইউনূস ও তার দলের দিকনির্দেশনা কামনা করেন মেয়র হাশিমোতো। আলোচনায় সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠন এবং কমিউনিটি পর্যায়ে উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব তৈরির লক্ষ্যে ‘তিন শূন্য ক্লাব’ বা ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ চালুর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরবর্তীতে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন ‘বান্দো তারো কোম্পানি লিমিটেড’ পরিদর্শন করেন। শতাধিক শাখাসম্পন্ন এই রেস্তোরাঁ চেইনটি পরিবারবান্ধব ব্যবসা মডেলের জন্য পরিচিত। এই মডেলে প্রতিটি রেস্তোরাঁর সঙ্গে একটি করে নার্সারি সংযুক্ত থাকে, যাতে কর্মীরা কাজের সময় তাদের সন্তানদের কাছাকাছি রাখতে পারেন। সেখানে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে ড. ইউনূস একটি পিচ গাছ রোপণ করেন।
৩৯ দিন আগে
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর বিষয়ে ঢাকা-টোকিও আলোচনা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড (তৃতীয়) টার্মিনাল দ্রুত চালুর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। আলোচনার মাধ্যমে একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে জাপানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিকো।
উভয় দেশের প্রতিনিধরা থার্ড টার্মিনালের পরিচালনা ও আর্থিক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং স্থাপনাটি সচল করতে দ্রুত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নতুন টার্মিনালটি চালুর প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করার নির্দেশনার পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেন। মিল্লাত বলেন, টার্মিনাল পরিচালনাকারী জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আগের চুক্তির ত্রুটিগুলো সংশোধন করে দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় এমন একটি সমাধান খুঁজছে বাংলাদেশ। তিনি জানান, চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট কিছু পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয় এবং চার্জ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন চুক্তিতে সাধারণত তিন ধরনের চার্জ থাকে এবং এর মধ্যে কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এই বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তাব পেশ করেছে এবং জাপান তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।
মিল্লাত জানান, জাপান বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে এবং একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আলোচনা হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং দ্রুত অর্থবহ অগ্রগতির আশা করছেন তারা।
টার্মিনালটির নির্মাণকাজ ৯৯ শতাংশের বেশি শেষ হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। প্রকল্পটিতে জাপানের সুমিতোমো করপোরেশন এবং সোজিৎজ করপোরেশনসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান জড়িত। এর সিংহভাগ অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ।
২০১৭ সালে অনুমোদিত এবং ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। বার্ষিক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো বহন করার সক্ষমতা রয়েছে এই টার্মিনালটির।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকা বিমানবন্দরের ভিড় কমাতে এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে এই টার্মিনালটি চালু করা অত্যন্ত জরুরি।
৫৪ দিন আগে
রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের কৃষকদের সহায়তায় ডব্লিউএফপিকে ৬৭ লাখ ডলার দিল জাপান
কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় জাপান সরকারের কাছ থেকে ৬৭ লাখ ডলার নতুন অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সহায়তার মাধ্যমে ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পুষ্টি সেবা প্রদান করা হবে। একইসঙ্গে কক্সবাজারের আশপাশের স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও সহনশীলতা বাড়াতে ‘অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার’ মডেলের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়। এসব কেন্দ্রে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য একত্র করে সহজে স্থানীয় বাজারে যুক্ত হয়ে মানবিক সহায়তায় অংশগ্রহণও করতে পারেন। এর ফলে তাজা শাকসবজি, ডিম ও চালসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ‘বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের পাশে থাকতে জাপান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডব্লিউএফপির সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নত পুষ্টি এবং রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সামগ্রিক কল্যাণে অবদান রাখতে চাই। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাজারে প্রবেশ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে স্থানীয় বাংলাদেশিদের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
ডব্লিউএফপির সহায়তায় রোহিঙ্গা পরিবারগুলো প্রতি মাসে খাদ্য ভাউচার পান, যার মাধ্যমে তারা নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে পারেন। পাশাপাশি তাজা শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও সংগ্রহ করতে পারেন।
পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং ছোট শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে ডব্লিউএফপি। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ পুষ্টিপণ্য বিতরণ, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ, পুষ্টি শিক্ষা ও আচরণ পরিবর্তন যোগাযোগ কার্যক্রম।
৬২ দিন আগে
আগামী তিন বছরে জাপান ১২ লাখের অধিক বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেবে
‘জাপান টাইমস’-এর ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এর প্রতিবেদন অনুসারে বর্ণিত চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে শুধু ‘দক্ষতার জন্য কর্মসংস্থান’ (ইএসডি) এবং ‘নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী’ (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরিতে আগামী মার্চ ২০২৯ সালের মধ্যে জাপান ১২ লাখের অধিক বিদেশি কর্মী নিয়োগ করবে।
বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় এ কথা উল্লেখ করা হয়।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে বিদেশের শ্রম বাজার সম্প্রসারণের হালনাগাদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার শৈথল্য দেখানো যাবে না।
তিনি বলেন, বিদেশি কর্মীর চাহিদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শতভাগ শ্রম অধিকার ও উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা থাকায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি শ্রমবাজার।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জাপান প্রধানত চারটি ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মী গ্রহণ করে থাকে। ‘জাপান টাইমস’-এর ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এর প্রতিবেদন অনুসারে বর্ণিত চারটি ক্যাটাগরির মধ্যে শুধু ‘দক্ষতার জন্য কর্মসংস্থান’ (ইএসডি) এবং ‘নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী’ (এসএসডব্লিউ) ক্যাটাগরিতে আগামী মার্চ ২০২৯ সালের মধ্যে জাপান ১২ লাখের অধিক বিদেশি কর্মী নিয়োগ করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের সর্বশেষ জনশুমারি মোতাবেক, দেশের অভ্যন্তরের শ্রমিকের চাহিদা পূরণের পর বর্তমানে প্রায় আড়াই কোটি অতিরিক্ত কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে। দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে যার একটি বিরাট অংশ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি বাংলাদেশি কর্মীর প্রবাসে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বলা হয়, জাপানি ভাষা শিক্ষক/প্রশিক্ষক নিয়োগ ও চাহিদা অনুসারে দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুতকরণ, জাপানে ‘ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট’ ভিসায় শিক্ষার্থী প্রেরণের হার বৃদ্ধিকরণ, বাংলাদেশে এসএসডব্লিউ-এর ১৬টি ক্ষেত্রের মধ্যে ৬টির পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
অপর ১০টি ক্ষেত্রের দক্ষতার পরীক্ষা শুরুকরণ, ঢাকায় জাপান ফাউন্ডেশনের অফিস স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, এসএসডব্লিউ ও ইএসডি পদ্ধতির জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ পূর্বক জাপানি কোম্পানির নিকট হতে কর্মীর চাহিদা সংখ্যা বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ, বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানের ভাষা প্রশিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধিকরণ, শ্রমবাজার সার্চ করে জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিবেদন প্রেরণ করবে এবং জাপানিজ ভাষা পরীক্ষার আসন সংখ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্র বৃদ্ধি করার বিষয়ে সভায় বিস্তৃত আলোচনা হয়।
এ ছাড়াও পর্যায়ক্রমে সকল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রতে (টিটিসি) জাপানিজ ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেশি জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ করা। সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি ‘ভার্চুয়াল টিচিং’ প্ল্যাটফর্মে জাপানিজ প্রশিক্ষক নিয়োগ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দপ্তর/সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬২ দিন আগে
পুলিশ পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ সহযোগিতা কামনা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) মাধ্যমে দেশটি মেট্রোরেল ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। দেশটির সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জাপান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে পুলিশ সংস্কার ও পুনর্গঠনে জাপান সহযোগিতা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকটি উপযুক্ত প্রস্তাব দেওয়া হবে।
বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, পুলিশ পুনর্গঠন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রদূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পদে নিযুক্তির জন্য অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ডিএমপির সড়ক নিরাপত্তা প্রজেক্টটি গত বছর শেষ হয়েছে। আমরা পুলিশ ও ডিএমপির সঙ্গে আরও কাজ করতে আগ্রহী।
চলতি বছর হলি আর্টিজান হামলার দশ বছর পূর্তি হবে উল্লেখ করে সাইদা শিন-ইচি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানের নাগরিকদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ীসহ বাংলাদেশে বসবাসরত সকল জাপানের নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, জাপানের পক্ষ থেকে যেকোনো অনুরোধ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করব।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, জাপান দূতাবাসের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) কোমিনে কেন, প্রথম সচিব (অর্থনীতি) মোচিদা ইউতারোসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৬৪ দিন আগে
সামরিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
সামরিকীকরণে অবদান রাখার অভিযোগে ৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের কাছে রপ্তানি সীমিত করেছে চীন। সম্প্রতি টোকিও-বেইজিং সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল চীন।
গত নভেম্বরে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যের পর থেকে টোকিওর ওপর ধারাবাহিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে বেইজিং। সে সময় তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তবে জাপান সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এরপর মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে চীন বলেছে, দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০টি জাপানি কোম্পানিকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় এবং আরও ২০টিকে পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় রেখেছে।
রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য (ডুয়াল-ইউজ) পণ্য আমদানি করতে পারবে না। এর মধ্যে জাহাজ নির্মাণ, বিমানের ইঞ্জিন ও সামুদ্রিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনে যুক্ত মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজের একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কাওয়াসাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ফুজিৎসুর কিছু ইউনিট রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরাও ওই ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চীনে উৎপাদিত ‘ডুয়াল ইউজ’ পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। এ সম্পর্কিত চলমান সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে, পৃথক পর্যবেক্ষণ তালিকায় থাকা ২০টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে চীনা রপ্তানিকারকদের পৃথক রপ্তানি লাইসেন্স আবেদন, ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং লিখিত অঙ্গীকার জমা দিতে হবে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে এসব ডুয়াল ইউজ পণ্য জাপানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করবে না। তালিকায় রয়েছে সুবারু করপোরেশন, মিতসুবিশি ম্যাটেরিয়ালস করপোরেশন এবং ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, জাপানের পুনরায় সামরিকীকরণ ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত করার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো ‘সম্পূর্ণ বৈধ, যুক্তিসঙ্গত ও আইনসম্মত।’
তারা আরও জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল অল্প কিছু জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য এবং শুধুমাত্র ডুয়াল ইউজ পণ্যকে লক্ষ্য করেছে। ফলে চীন ও জাপানের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতে প্রভাবিত হবে না এবং আইন মেনে চলা জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
জাপানের নিন্দা
টোকিও চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাপানে নিযুক্ত চীনের উপ-মিশন প্রধান শি ইয়ংয়ের কাছে এই প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও ওশেনিয়াবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসাআকি কানাই বলেন, কেবল জাপানকে লক্ষ্য করে দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক প্রচলিত রীতির থেকে অনেকটাই ভিন্ন এবং ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’
জাপানের উপ-ক্যাবিনেট প্রধান সচিব কেই সাতো মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজ ঘোষিত এই পদক্ষেপ কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। এটি সত্যিই নিন্দনীয়। আমরা চীনের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তাদের (নিয়ন্ত্রণ) তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সাতো বলেন, চীনের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, কিছু বিষয় এখনও অস্পষ্ট থেকে গেছে যেমন এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ বাণিজ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না।
৭০ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ, দীপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ
বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ঢাকার সঙ্গে দীপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে টোকিও।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত এ আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদি আমিন; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ড. রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
দুই পক্ষ এমপ্লয়মেন্ট স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইএসডিপি)-এর আওতায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় জাপানে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রহমান তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করার গুরুত্ব তুলে ধরে জাপানি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের সংযোগ সহজ করতে একটি ডিজিটাল ম্যাচমেকিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়, মেট্রোরেল সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক সমর্থন নিয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে একই দিনে রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বাংলাদেশকে জাপানের প্রাথমিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন।
৭০ দিন আগে