খুলনা
খুলনায় ডেঙ্গু ও হামে মৃত্যু বেড়ে ৭৭, আক্রান্ত ২১,৭৬১
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২১ হাজার ৭৬১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে বিভাগে ডেঙ্গু ও হামে মোট ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত সর্বশেষ আলাদা দুটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চলতি বছরে হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৭১৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৪৫ জনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
জেলা-ভিত্তিক হিসাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনায়। জেলায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৫১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, বাগেরহাটে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। যশোরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ৯৬২ জন (মৃত্যু ২ জন), চুয়াডাঙ্গায় ৬২ জন (মৃত্যু ১ জন), নড়াইলে ৩৫৭ জন, ঝিনাইদহে ২০২ জন, মাগুরায় ২০১ জন, কুষ্টিয়ায় ২০৮ জন এবং মেহেরপুরে ১৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সাতক্ষীরা জেলায় ২২০ জন এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর নতুন রোগী ভর্তির হিসাবেও খুলনা এগিয়ে রয়েছে। এ সময়ে খুলনা জেলায় ৩৯ জন, বাগেরহাটে ১৩ জন, মেহেরপুরে ৭ জন, সাতক্ষীরা জেলায় ৬ জন, যশোরে ৬ জন, নড়াইলে ৬ জন এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অপরদিকে, খুলনা বিভাগে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৪২ জনে। এর মধ্যে ৩৭৩ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত। এ সময়ে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৪২টি শিশু।
জেলা-ভিত্তিক তথ্যে জানা যায়, খুলনা জেলায় সন্দেহজনক হাম রোগী ২ হাজার ৪৩ জন (নিশ্চিত ৪৭ জন, মৃত্যু ২২টি শিশু), কুষ্টিয়ায় ২ হাজার ৭৯১ জন (নিশ্চিত ২৩ জন, মৃত্যু ১৩ জন), ঝিনাইদহে ৯৭৯ জন (নিশ্চিত ১৭ জন, মৃত্যু ৫ জন), চুয়াডাঙ্গায় ৫৭৭ জন (মৃত্যু ১ জন) এবং মেহেরপুরে ৬৭৫ জন (নিশ্চিত ১০ জন, মৃত্যু ১ জন)।
এছাড়া যশোরে ৮৭৪, নড়াইলে ৮৪০, বাগেরহাটে ৭৮১ এবং সাতক্ষীরায় ৩৪৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
খুলনায় চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
খুলনায় চুরির অপবাদে আজমল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসা শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে ভর্তির সময় তার পরিচয় হিসেবে নাম আজমল, বাবার নাম কুতুব এবং ঠিকানা গল্লামারি, হরিণটানা, খুলনা উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত ওয়ার্ডবয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজমলকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা জানান, চুরির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্য ছিল, চুরি করতে গিয়ে খুলনার একটি ভবনের চারতলা থেকে আটকের ভয়ে লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
হাসপাতালে নেওয়ার পর আজমলকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করা হয়। তবে ১০ মিনিটের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর কথা জানার পর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজমলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাত ও পায়ে বিভিন্ন দাগ ছিল। এছাড়া তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছিল। এসব আলামতকে ঘিরে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
খুলনার হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখনও এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি।
১২ ঘণ্টা আগে
খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা
খুলনা নগরীতে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. জলিল মুন্সি (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতপুর থানার কুলিরবাগান বটতলার অদূরে একটি অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জলিল দৌলতপুর থানার সাধুবাগান এলাকার দিলু মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় পাটশ্রমিক ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কুলিরবাগান এলাকায় জলিলের একটি পানের দোকান রয়েছে। আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাসা থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য বের হন। কিছুক্ষণ পর তার ফোনে একটি কল আসে। ফোনকলে অপরপ্রান্তের ব্যক্তির তার সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়।
এরপর কুলিরবাগান বটতলা থেকে কিছুটা দূরে যাওয়ার পর মোটরসাইকেলে আসা তিন যুবকের সঙ্গে জলিলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের একজন জলিলকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি করে। গুলি দুটি তার বুকের ডান পাশে ও পিঠের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কাউকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। কী কারণে বা কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
৭ দিন আগে
খুলনায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
খুলনা নগরীর নিরালা এলাকায় মুত্তাকীন (২৩) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে তালুকদার কমিউনিটির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, মুত্তাকীন তালুকদার কমিউনিটির সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন দুর্বৃত্ত এসে তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী কারণে এবং কারা মুত্তাকীনকে ছুরিকাঘাত করেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
খুলনা সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
৯ দিন আগে
খুলনায় দুই ট্রাকে সিগারেট তৈরির মেশিন-উপকরণসহ ১,২৭৫ কেজি তামাক জব্দ
খুলনায় দুটি ট্রাক থেকে সিগারেট তৈরির মেশিন, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ১ হাজার ২৭৫ কেজি কাটিং তামাকসহ বিপুল পরিমাণ সিগারেট উৎপাদনের উপকরণ জব্দ করেছে ভ্যাট বিভাগ, বাগেরহাট।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, খুলনার অধিক্ষেত্রাধীন ভ্যাট বিভাগ, বাগেরহাট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে ট্রাক দুটি আটক করে।
আটক ট্রাক দুটি হলো—বগুড়া-ট-১১-০৭১৪ ও ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-২৬৪০।
ট্রাক দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে সিগারেট তৈরির মেশিন, বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম, কাটিং তামাক, সিগারেট ফিল্টার, ফয়েল পেপার, জেনারেটর, গাম, স্কচটেপ ও সিগারেট পেপারসহ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি মেকিং মেশিন সেট (দুই পার্ট), একটি প্যাকিং মেশিন সেট (দুই পার্ট), ৫০টি প্লাস্টিক ক্যারেট, একটি জেনারেটর, ৫১ বস্তা কাটিং তামাক (প্রতি বস্তায় ২৫ কেজি), ৭৬ রোল সিগারেট পেপার, পাঁচ কার্টন ফিল্টার পেপার, তিন ড্রাম গাম/আটা, ৫৪ রোল ফয়েল পেপার, ছয় বক্স প্যাকেট তৈরির কাগজ, একটি হাওয়ার ট্যাংক এবং ১০০ পিস স্কচটেপ।
এনবিআর জানায়, প্রাথমিকভাবে জব্দ মালামালের নমুনা দেখে প্রতীয়মান হয়েছে, সিগারেট উৎপাদনের জন্য এগুলো মোটামুটি একটি পূর্ণাঙ্গ কারখানার সেটআপ।
আটক ট্রাক ও জব্দ মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং আইনগত কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে বিধি অনুযায়ী জব্দ মালামাল সদর দপ্তরের কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে।
১০ দিন আগে
খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান গ্রেপ্তার
খুলনার দৌলতপুর থানা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান ওরফে আরমিন ওরফে দিপুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দৌলতপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৬ খুলনার এক সংবাদ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ । এর আগে গতকাল (রবিবার) রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আরমান দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশার বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, একাধিক হত্যা মামলার আসামি আরমান গত কয়েকদিনের পুলিশের তৎপরতার কারণে খুলনা ছেড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অবস্থান করছিলেন। রবিবার রাতে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে খুলনার দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভৈরব নদ থেকে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ঘাউরা রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই মামলার এজাহারনামায় আরমান দুই নম্বর আসামি।
এদিকে এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আরমান একসময় দৌলতপুর থানা এলাকার আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী হুমার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে নিজেই বাহিনী গঠন করে প্রধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দৌলতপুর থানায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
১২ দিন আগে
খুলনায় হোটেল টাইগার গার্ডেনে অগ্নিকাণ্ড
খুলনার হোটেল টাইগার গার্ডেনে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে হোটেলের ৫ তলার দক্ষিণ পাশের একটি কক্ষে আগুন ও ধোয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে তারা সোনাডাঙ্গা থানাকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করে পৌনে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোনাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমজাদ বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থালে ছুটে আসি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত থেকে আগুন নেভানোর কাজ করতে থাকি। তবে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। হোটেলের পঞ্চম তলার দক্ষিণ পাশের ওই কক্ষ যিনি ভাড়া নিয়েছিলেন, তার ব্যাগটি আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া আর কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মাসুদ সরদার বলেন, আমরা ৯টা ১০ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাই। এরপর আমাদের ২টা ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি বলেন, হোটেলকক্ষের এসির ইনডোর থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহাতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।
১৪ দিন আগে
মিড ডে মিল অনুগ্রহ বা দয়া নয়, শিক্ষার্থীদের অধিকার: ববি হাজ্জাজ
মিড ডে মিল কোনো অনুগ্রহ বা দয়া নয়, এটি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিশুদের সুস্থতা, বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও শেখার সক্ষমতা বাড়ানো স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনায় একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর পুষ্টি ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না’ ও ‘প্রতিটি শিশু সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে’ —প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করছে, যা শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষায় বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। এই বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা, তার পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলা।
খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মো. মাসুদ হোসেন, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত ও খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
১৬ দিন আগে
খুলনায় মাঝনদীতে ফেরির সঙ্গে সংঘর্ষে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবি
খুলনার জেলখানা ঘাটের মাঝনদীতে ফেরি ও ট্রলারের সংঘর্ষের একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে গেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলাবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে জেলখানা ঘাটে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাত পৌনে ১০টার দিকে জেলখানা ঘাট থেকে ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার সেনেরবাজারের দিকে রওনা হয়। বিপরীত দিক থেকে একটি ফেরি খুলনার দিকে আসতে থাকে। একপর্যায়ে মাঝ নদীতে ফেরি ও ট্রলারের সংঘর্ষ হয়। এ সময় চলন্ত ফেরি বন্ধ করে দেন চালক। তবে সংঘর্ষের ফলে ট্রলারটি ডুবে গেলেও কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।
যাত্রীদের উদ্ধারে স্থানীয়দের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বলেন, ট্রলারে ৩০-৩৫ জন যাত্রী ছিল। মাঝনদীতে ফেরির সঙ্গে ট্রলারের ধাক্কা লাগে। এরপর যাত্রীরা নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয় মাঝিরা বিষয়টি টের পেয়ে আরেকটি ট্রলার নিয়ে মানুষ উদ্ধারে ছুটে যান। তবে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।
রূপসা নৌ-ফঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। আমাদের সঙ্গে উদ্ধার কর্মকাণ্ডে যোগ দেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। স্থানীয় ডুবুরিদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরাও যোগ দেন। সব যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কোনো নেখোঁজের খবর কেউ দেয়নি। তবে ট্রলারটি উদ্ধার করা এখনও সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
১৭ দিন আগে
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে একটি করে ট্যাব এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষায় বরাদ্দ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এটিকে ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চান।
তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে একসঙ্গে চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছিল। শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত এসব জটিলতা দূর করে নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট এবং আর্কিটেকচারের পাশাপাশি আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ের মতো বিভাগ চালুর আগে প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা উচিত। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভাগের ক্ষেত্রে ল্যাব সুবিধা ও দেশে বিদ্যমান বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের যুগে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে ইভি-সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করা জরুরি।
পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক বিষয় চালু করতে হবে। এ সময় তিনি এআই কোর্স চালুর আবেদন দুই বছর ধরে ইউজিসিতে আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তাই শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, এই বিনিয়োগের যথাযথ ফল নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা কোথায় চাকরি করছেন এবং কর্মজীবনে তাদের অবস্থান কী — অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের অংশ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও পাওয়া উচিত।
কুয়েট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর কুয়েট দিবস বা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করা হয়। ২০০৩ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠানটি বিআইটি থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, প্রদর্শনী, বিভিন্ন বিভাগের প্রজেক্ট উপস্থাপন, ল্যাব উন্মুক্তকরণ, ক্রীড়া, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
১৮ দিন আগে