খুলনা
খুলনায় পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই, ৬ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড
পুলিশ পরিচয়ে এক ডিম ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় ৬ আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহআলম।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—মীর সেলিম, মাহাবুবুর রহমান, মো. লিটন দেওয়ান, নাসির গাজী ওরফে কাবিলা, কালাম ঢালী ও শামীম বিশ্বাস। মামলার অপর আসামি জিহাদুল বিশ্বাসকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শামীম বিশ্বাসকে দণ্ডবিধির ৪১২ ধারায় অতিরিক্ত ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় মো. লিটন দেওয়ান ও নাসির গাজী ওরফে কাবিলা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল মামলার বাদী ডিম ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তার কর্মচারী সঙ্গে ছিলেন।
তারা দুজন উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে একজন পুলিশের পোশাক পরিহিত ও বাকি তিনজন সিভিল পোশাকে এসে তাদের গতিরোধ করেন।
এরপর তারা রবিউল ইসলামকে জানান, তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে। পরে তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে থানার দিকে না যেয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীর দিকে রওনা দেন তারা।
তখন রবিউল ইসলাম তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আসামিরা তাকে হত্যার ভয় দেখান। পরে তার কাছ থেকে নগদ এক লাখ টাকা ও একটি দামি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে চলে যান।
ঘটনার পরের দিন রবিউল পাইকগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই বছরের ৩০ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) মো. শাহজুল ইসলাম ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৩ ঘণ্টা আগে
খুলনায় ট্রাকচাপায় এক পরিবারের ৩ জন নিহত
খুলনার দিঘলিয়ায় ট্রাকচাপায় একটি পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। ওই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়নের ডোমরা এলাকায় এ দুর্ঘটনটি ঘটে।
নিহতরা হলেন— নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার সিহাব শেখের স্ত্রী ফারজানা খাতুন (২৬), তার মেয়ে মায়মুনা (২) ও ফারজানার বোন রুবিয়া খাতুন (১৬)। আহত ব্যক্তি ফারজানার স্বামী মোটরসাইকেলচালক সিহাব শেখ।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ্র প্রকাশ বলেন, একটি ভারী ট্রাক উপজেলার গাজীরহাট থেকে খুলনার রূপসার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে রূপসা হয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে শিহাব শেখ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নড়াইলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সাইড নিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের নিচে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকা নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মোটরসাইকেলচালককে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত
খুলনা নগরীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইসমাইল (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে সোয়া ১২টার দিকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া বড় খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাইল ওই এলাকার শাজাহানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল রাতে ইসমাইল এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ইসমাইলের মাথায় গুলি করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহত ইসমাইলের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
৪ দিন আগে
খুলনায় দিনে-দুপুরে যুবককে গুলি
খুলনা নগরীতে আরিফ শিকদার (২৪) নামে এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে খুলনার লবণচরা এলাকার রূপসা রিভারভিউ ইকোপার্ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত আরিফ শিকদার লবণচরা থানার মাথাভাঙ্গা এলাকার আবুল কালাম শিকদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে আরিফসহ আরও দুই যুবক ইকোপার্কের পাশে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে এসে ছয়জন দুর্বৃত্ত আরিফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় একটি গুলি তার বুকের ডান পাশে বিদ্ধ হয়। এরপর হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ে একাধিক আঘাত করে।
দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয়রা আরিফকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা এ চালিয়েছে, তা কেউ বলতে পারেননি।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, বর্তমানে আরিফ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কে বা কারা তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৮ দিন আগে
খুলনায় রেজাউল শেখ হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
খুলনার বটিয়াঘাটায় রেজাউল শেখ হত্যার দায়ে ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—খুরশিদ আলম, আব্দুস সালাম ও খায়রুল শেখ। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহ আলম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে রেজাউল শেখ বটিয়াঘাটা উপজেলার ঝালবাড়ি গ্রামের বাজারে নিজের দোকানের কাছে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা চার দুর্বৃত্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তারা তাকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকেন। এ সময় রেজাউলের ছোট ভাই তাদের ঠেকাতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে রেজাউলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিহতের ছোট ভাই মেঝবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় ঝালবাড়ি এলাকার আব্দুস সালাম, মো. খুরশিদ আলম (৩৫) ও তার ভাই মো. খায়রুল শেখ (২৮) এবং একই এলাকার এরশাদকে আসামি করা হয়।
আদালত সূত্রে আরও জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি তথা দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে খুরশিদ আলম শেখ ও খায়রুল শেখ বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটা দিয়ে রেজাউল শেখের মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। রেজাউল মাটিতে পড়ে গেলে আব্দুস সালাম ও এরশাদ শেখও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করেন।
২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. গোলাম রসুল উল্লিখিতদের আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
৮ দিন আগে
মেয়েদের হলে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে খুবিতে বিক্ষোভ, প্রশাসনিক ভবনে তালা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ২৪ হলের নারী শৌচাগারে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনার পর সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খুবির সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিজয় ২৪ হলের নারী শৌচাগারে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত ওই ক্যান্টিনের মালিকের ছেলে ইমাম হাসানকে আটক করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক গোপন ভিডিও পাওয়া গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের শৌচাগারের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং তা বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে শেয়ার করতেন। ঘটনার বিষয়ে জানতেন তার স্ত্রীও।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান।
যৌন হয়রানিমূলক অপরাধের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ এনে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাতেই প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এছাড়া অতীতে শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির ঘটনাগুলোতেও কোনো সুষ্ঠু বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন পকেট গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিজয় ২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সেলিনা আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানানো হবে।’
১২ দিন আগে
ঝুঁকিতে খুলনা আতাই নদীর বাঁধ, ১০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আতাই নদীর কূল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া কামারগাতি-পথের বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কটিতে একসময় ভ্যান, রিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন, করিমনের পাশাপাশি বাসও চলাচল করত। কালিয়া, তেরোখাদা, গাজীরহাট, কোলা, আড়ুয়া আমবাড়ীয়া, কামারগাতী, লাখোয়াটি, মাধবপুর, রাধামাধবপুর, নন্দনপ্রতাপ, বারাকপুর, মোমিনপুর এলাকার মানুষের দৌলতপুর হয়ে শহরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম সড়ক ছিল এটি। তবে গত এক যুগ ধরে আতাই নদীর করাল গ্রাসে ভাঙতে ভাঙতে সড়কটির দুই তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে; রূপান্তরিত হয়েছে বেড়িবাঁধে। বিকল্প সড়ক দিয়ে এখন যাতায়াত করছে মানুষ।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মোমিনপুর-হাজীগ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে সড়কের ওই অংশের বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে তৈরি হয়েছে বড় বড় ফাটলের। ভেঙে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা দেখে গতকাল (শুক্রবার) তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে জোয়ারের পানি কমলে সন্ধ্যার পর থেকে রাত অবধি আলো জ্বালিয়ে বাঁশ এবং মাটি দিয়ে সংস্কার করে প্রাথমিকভাবে ভেঙে পড়া থামিয়েছে। তবে এখনও কাটেনি ঝুঁকি।
তারা আরও বলেন, বাঁধটি ভেঙে গেলে দশটিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হবে। শত শত ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে।
তাদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর আতাই নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় এ এলাকায় সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কোনো সুফল মিলছে না।
১৭ দিন আগে
ঝগড়ার জেরে স্বামীর খুনের ঘটনা ফাঁস করলেন নারী, দুজনেই আটক
খুলনার হরিণটানা এলাকায় প্রায় ৫ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া ইজিবাইকচালক মারুফের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে হরিণটানা থানার রেলব্রিজ ব্লু ওয়েল আবাসিক এলাকায় মুরাদ মোল্লার বাড়ির সামনে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন—মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুন।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন মিলন বলেন, রেলসেতু-সংলগ্ন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মুরাদের সঙ্গে তার স্ত্রী ফাল্গুনীর প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় কলহ বাঁধত। আজ (সোমবার) সকালে মুরাদ স্ত্রী ফাল্গুনীকে মারধর করলে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানা পুলিশকে অবগত করেন এবং মারুফ হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশকে তথ্য দেন। একপর্যায়ে তিনি পুলিশকে জানান, তার স্বামী মারুফ নামে এক ইজিবাইকচালককে হত্যা করে তার ইজিবাইক ছিনতাই করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি মারুফের ইজিবাইক বিক্রি করে দেন। ঘটনা শুনে পুলিশ দ্রুত ওই এলাকায় গিয়ে তার স্বামী মুরাদ মোল্লাকে আটক করে। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকে চালক মারুফের মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
তিনি বলেন, চালক মারুফ আসামিদের পূর্ব পরিচিত। গত রমজানের কোনো একদিন রাতে মারুফকে ফোন করে তাদের বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে গাড়িতে বসা অবস্থায় পেছন থেকে দড়ি বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ওই দিন রাতেই বাড়ির উঠানে তাকে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। এরপর তার ইজিবাইকটি ভেঙে টুকরো টুকরো করে বিক্রি করে দেন তারা।
ওসি আরও জানান, ইজিবাইকের একটি নম্বর প্লেট পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ইজিবাইকটি খালিশপুর থানার ৪/১ মুজগুন্নী মেইন রোডের বাসিন্দা মোল্লা মো. মোস্তফার। এ নিয়ে আটক দম্পত্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
২২ দিন আগে
ভারী বর্ষণে খুলনার দৌলতপুর-খানজাহান আলী থানার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত
শুক্রবার মধ্যরাত থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত গত দুই দিনে ভারী বর্ষণে খুলনা নগরীর দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার নিচু রাস্তাঘাট, ড্রেন, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।
বৃষ্টির পানিতে বসতঘরসহ রান্নাঘর তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে শত শত পরিবার। অনেক পরিবারে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। অভুক্ত থাকতে হচ্ছে পানিতে প্লাবিত অনেক পরিবারের সদস্যদের।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ভারী বৃষ্টিপাতে খানজাহান আলী থানাধীন যোগীপোল ৪, ৭ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা জাব্দিপুর, তেলিগাতী, ঢালীপাড়া, খানাবাড়ি, বিল ডাকাতিয়া গ্রাম, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল মোড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে গেছে।
এ সময় দৌলতপুর থানাধীন পাবলা, উত্তর বনিকপাড়া, মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া খালিশপুর থানাধীন বাস্তুহারা, মুজগুন্নি, গোয়ালখালীসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায়ও পানি জমে গেছে।
এছাড়া সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র, খাড়াবাড়ি গার্লস হাই স্কুল, শহীদ জিয়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়, খানজাহান আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, তেলিগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতিভা প্রি ক্যাডেট স্কুল ও মিজান অ্যাকাডেমি, আলহেরা প্রি-ক্যাডেট মাদরাসা, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রধান ফটক, খেলার মাঠ, আবাসিক হলের সামনে পানি থৈ থৈ করছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের ভবন এবং শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে গেছে।
২২ দিন আগে
জলাবদ্ধতায় নাকাল খুলনাবাসী, ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের সুফল কোথায়
আকাশ থেকে ভারী বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেই জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই মিলছে না খুলনা নগরবাসীর। খুলনায় ভারী বৃষ্টির কারণে মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল ডুবে যাচ্ছে। ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর কোথাও হাঁটুজল, কোথাও কোথাও তারও বেশি।
টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় কর্মব্যস্ত নগরবাসী, স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, রিকশা ও ইজিবাইকচালকসহ সর্বস্তরের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল খুলনার জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্প ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়েছেন— ‘এই জলাবদ্ধতা হতে তারা স্থায়ী সমাধান পাবেন কবে?’
খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ৫১ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৮৪ মিলিমিটার। যেহেতু বর্ষাকাল চলছে, এ সময় স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টিপাত হয়। সারা দেশের মতো খুলনায়ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে খুলনা শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে গেছে। তবে সচেতন মহল বলছে, বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে এটা স্বাভাবিক, কিন্তু পরিকল্পিত ও উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে খুলনায় সামান্য বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় গত সাড়ে পাঁচ বছরে সাতটি খাল খনন ও দুই শতাধিক ড্রেন নির্মাণ-সংস্কার করা হলেও মিলছে না সমাধান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নগরীর সামগ্রিক জলপ্রবাহ, খালের ধারণক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ নগরায়ণের বিষয়গুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। পর্যাপ্ত গবেষণা ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে অনেক স্থানে বড় প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত হয়ে ড্রেনে পরিণত হয়েছে।
খুলনা নগরীর মুজগুন্নি এলাকার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। এছাড়া রয়্যাল মোড়, টুটপাড়া, জিন্নাহনগর, দৌলতপুর, আটরা, গিলাতলা, দিলখোলা, বানরগাতি ও শেখপাড়া এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। অনেকের ঘরেও ঢুকেছে পানি।
মুজগুন্নি এলাকার ব্যবসায়ী মোস্তফা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এই মোড়টিতে হাঁটুজল জমে। জলাবদ্ধতায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। গত দুদিনের বৃষ্টিতেই এখানে হাঁটুজল জমেছে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য কেসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
পাবলা কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা হামিম জানান, একটু বৃষ্টি হলেই বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। যতবার বৃষ্টি হচ্ছে, ততবারই আমাদের বাড়ির নিচতলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আগেও বৃষ্টি হলে দুর্ভোগে পড়তাম, কিন্তু এক দিনে পানি সরে যেত; এখন বিপদ হয়েছে অন্য রকম, আমাদের এলাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই।
তিনি জানান, প্রায় এক বছর আগে কবীর বটতলা থেকে কারিগরপাড়া পর্যন্ত আমাদের এলাকার সড়ক ও পাশের ড্রেন প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাড়িঘর থেকে ওই ড্রেনে বৃষ্টির পানি যাওয়ার কোনো কার্যকর সংযোগ রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়ির উঠান ও নিচতলা পানিতে তলিয়ে যায়।
পাবলা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা অনুপ কুমার জানান, খুলনার জলাবদ্ধতার মূল কারণ শুধু অপর্যাপ্ত ড্রেন নয়, এটি একটি পরিকল্পনাগত সংকট। গত কয়েক বছরে অনেক প্রাকৃতিক খাল সংকুচিত করে কংক্রিটের ড্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এতে পানির ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ দুটোই কমে গেছে। একই সঙ্গে নদী-খালের সঙ্গে শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি বলেন, শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ করে টাকার অপচয় করলে হবে না, প্রাকৃতিক খালের ধারণক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু ও নদী-খালের সঙ্গে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা না গেলে খুলনার জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে না।
বাস্তহারা এলাকার বাসিন্দা রাজীব জানান, আকাশ থেকে সামান্য পানি পড়লেই আমাদের এলাকায় হাঁটুজল পানি জমে। গত দুদিনের বর্ষায় গোটা এলাকা তলিয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে গেছে। আমরা এই জলাবদ্ধতার একটা স্থায়ী সমাধান চাই।
ইজিবাইকচালক হাফিজ জানান, দুদিন ধরে বর্ষা। ঘরে বসে থাকলে তো আর পেটে ভাত যাবে না। মুজগুন্নি রাস্তায় হাঁটুপানি। অনেকে রাস্তায় জাল ফেলে মাছ ধরছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটুপানি জমে।
সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা-ড্রেন বানাচ্ছে, কিন্তু আমাদের দুর্ভোগ কমছে কই?’
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) সূত্র অনুসারে, নগরীতে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ১৬৫ কিলোমিটার। খুলনা সিটি করপোরেশনের ‘খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় গত কয়েক বছরে খাল খনন, ড্রেন নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ হয়েছে।
এই প্রকল্পের পরিচালক কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ব্যাসার্ধের ১৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৬৯টি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এর সবগুলোই ঢাকনাযুক্ত ড্রেন।
কেসিসির প্রধান কনজারভেন্সি কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করছি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে আমরা আপাতত এই কাজ বন্ধ রেখেছি। কারণ ড্রেন থেকে তোলা নরম কাদা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে আবার ড্রেনে চলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন নির্মিত ঢাকনাযুক্ত ড্রেন পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি বা বিশেষায়িত মেশিন সিটি করপোরেশনের কাছে নেই। ফলে শ্রমিকরা ভারী স্ল্যাব একটা একটা করে খুলে পরিষ্কার করেন। এটা সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। অনেক স্থানে আবর্জনা জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে চলমান প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ময়লা পরিষ্কার করার যন্ত্র কেনার ব্যবস্থা রাখা আছে। যন্ত্র এলে পরিষ্কার করার কাজটা আরও সহজ হবে।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মূলত শহরের পানি রূপসা নদীতে নামত, এখন সেটি নামছে না। বিগত সরকারের সময়ে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের কাজ সময়মতো শেষ না করা, রূপসার পাম্প হাউজ বন্ধ ও স্লুইস গেটগুলো অকেজো থাকায় নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, জোয়ারের সময় এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই নগরীর রাস্তাগুলো ডুবে যাচ্ছে। ড্রেন আগে যেভাবে ছিল, সেভাবে নেই। ড্রেনগুলোর বেড উঁচু করে ফেলায় বাড়িগুলো নিচু হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ও বাড়ির মধ্যে পানি প্রবেশ করছে এবং মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মাত্র তিন মাস দায়িত্ব নিয়েছি। এর মধ্যেই আমরা দিন-রাত এই সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। পানি নিষ্কাশনের বাধা দূর করছি, ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সব চেষ্টা করছি এবং সমাধানের পথ খুঁজছি।
এ সময় নগরবাসীকে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানের ডাস্টবিনে ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
২৪ দিন আগে