কৃষক
সুনামগঞ্জে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্রদান
অতিবৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে জেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দিয়ে তিন মাসব্যাপী সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভুলভাবে করে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরের এই অবস্থায় প্রথম দিন থেকেই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন, আমরা যেন প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারি।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এজন্য হাওরে আর ঠিকাদার পোষা, আর এদিক-ওদিক করার প্রকল্প হবে না। হাওরকে নিরাপদ উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা হবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে যাতে এমন দুর্যোগ না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার।
বিভাগীয় কমিশনার আপ্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, বিএনপি নেতা আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বক্তব্য দেন।
পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে অতিথিরা উপজেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাত সহায়তা তুলে দেন।
২৩ ঘণ্টা আগে
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ৩ মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে: ত্রাণমন্ত্রী
হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেবে সরকার।
রবিবার (৩ মে) লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শহিদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে ‘বিদ্যানন্দ আত্ম-কর্মসংস্থান প্রকল্প ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় লাখ লাখ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে এই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ।
তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে। তালিকাভুক্ত কৃষকদের বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে সহায়তা পাবেন।
আগামী ৬ মে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য সুনামগঞ্জ সফরে যাবেন মন্ত্রী।
এদিকে, অনুষ্ঠানে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১০১টি অসহায় পরিবারের মাঝে আয়বর্ধক উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল দোকানের মালামাল, ভ্যানগাড়ি, গরু এবং সেলাই মেশিন।
২ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকা ধান তলিয়ে যেতে দেখে লুটিয়ে পড়লেন কৃষক, পরে মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পানির নিচে পাকা ধান ডুবে যেতে দেখে জমির আইলে লুটিয়ে পড়ে আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২ মে) উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, কৃষক আহাদ এবার বোরো মৌসুমে ঋণ করে ছয় বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন। পাকার সময়ে হঠাৎ ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সব ধান পানিতে তলিয়ে যায়। সকালে শ্রমিক নিয়ে জমিতে ধান কাটতে গিয়ে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় বাড়িতে আনার সময় তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে জানান তারা।
স্থানীয় ইউপি (ইউনিয়ন পরিষদ) সদস্য আহামেদ আলী বলেন, চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যেতে দেখে মানুষটা সহ্য করতে পারেননি।
নিহত কৃষকের ভাতিজা মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ জানান, আজ (শনিবার) দুপুরে আহাদ মিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ জানান, একজন কৃষকের মৃত্যুর খবর শুনে ঘটনাস্থলে আমাদের এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে নিহতের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, একজন কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
৩ দিন আগে
সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ডুবছে ফসল, কাঁদছে কৃষক
গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কাইল্যানীতে বাঁধের ওপর দিয়ে পানি উপচে পড়া শুরু হয়েছে। এর ফলে শালদিঘা হাওরের হাজারো কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) ভোর থেকে উপচে পড়া পানির প্রবল চাপে ধীরে ধীরে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে যেতে শুরু করে, ফলে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও কৃষকরা বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাঁধটি রক্ষায় কাজ করছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাইল্যানী উপপ্রকল্পের ২০ নম্বর পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শালদিঘা হাওরের কৃষক নিরঞ্জন সরকার বলেন, ‘হাওরের অর্ধেকের বেশি জমির ধান এখনও কাটা হয়নি। যদি বাঁধটি আটকানো না যায়, তাহলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’
একই এলাকার কৃষক রনি তালুকদার বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছি না, কাটলেও শুকাতে পারছি না। এর মধ্যে আবার বাঁধ রক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। আমরা এখন চরম বিপদে আছি।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পাউবোর এসও ও পিআইসি সভাপতির যোগসাজশে বাঁধে দুর্নীতি হয়েছে। বাঁধের উচ্চতা কম হয়েছে, স্লোপ কম ছিল। এ কারণে হাওরের সর্বনাশ ঘটেছে।
তিনি বলেন, এই বাঁধের অন্য অংশের চেয়ে এই অংশ নিচু হয়েছে। এ কারণে সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তেই এদিক দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। একপর্যায়ে বাঁধটি ভেঙে গেছে।
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার বলেন, সকালে বাঁধের ভাঙনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ৩০-৩৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগিয়েছি। স্থানীয় কৃষকরাও চেষ্টা করছেন। পিআইসির সভাপতি লাল মিয়াকে কমপক্ষে ১০০টি ফোন দেওয়ার পরে রিসিভ করে বলেন, সাড়ে ৯টায় আসবেন। কিন্তু বিকেল ৪টা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ নেই।
পিআইসির সভাপতি মো. লাল মিয়া চামরদানি ইউনিয়ন বিএনপির চার নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি। তিনি জানান, টানা বৃষ্টির কারণে মাটি ক্ষয় হয়ে বাঁধটি নিচু হয়ে যায়। বাঁধ রক্ষার জন্য সারা রাত ঘটনাস্থলে ছিলাম। সকাল থেকে অন্য পাশে কাজ করতে হচ্ছে। এজন্য সেখানে যেতে পারিনি।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, শালদিঘা হাওরে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমির ধান পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ১৬০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যাই। বাঁধ রক্ষায় ভোর থেকেই কাজ করছি। আশা করছি, বাঁধটি পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব হবে।
৩ দিন আগে
লালমনিরহাটে পণ্যবাহী ট্রাক উল্টে কৃষক নিহত
লালমনিরহাটে পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মরিচ খেতে উল্টে পড়ে মনছের আলী (৬৩) নামে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) সকালে লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়কে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনিপাড়া এয়ারপোর্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মনছের আলী ওই এলাকার পয়ের উল্ল্যাহর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কৃষক মনছের আলী নিজ বাড়ির পাশে মরিচ খেত দেখতে বের হয়েছিলেন। এ সময় রংপুর থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে। মনছের তখন ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয় জনতা চালক ও সহকারীকে আটক করে। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। আটক চালক ও সহকারীকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
৫ দিন আগে
সুনামগঞ্জে পানির নিচে ২০০ কোটি টাকার ধান, দিশেহারা হাওরের কৃষক
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে আকস্মিক জলাবদ্ধতা ও ভাঙা বাঁধের কারণে হাজার হাজার একর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে। চরম দুর্দশায় পড়েছেন কৃষকরা, যাদের অনেকেই ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। এখন ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
দেখার হাওরের গুয়াছুড়া অংশে বুধবার দুপুরে কনকনে ঠান্ডা বাতাসের মধ্যেই কোমর সমান পানিতে ধান কাটছিলেন ১৫ জন কৃষি শ্রমিক। তাদের সকলেরই মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত পলিথিনে মোড়ানো। একটু দূরে দাঁড়ানো এক কৃষক (রইছ মিয়া, বাড়ি গুয়াছুড়া) কাটা ধানের মুঠি বাঁধার কাজ করছিলেন। তার চোখের কোনে টলটল করছিল পানি। সকল ধান কাটতে পেরেছেন কি না, জানতে চাইলেই চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছিল গলায় থাকা গামছা পর্যন্ত।
রইছ মিয়া বললেন, ‘দেখইন না হাওরের অবস্থা, সবইতো সাদা। ছয় কেয়ার (২৮ শতাংশে এক কেয়ার) পানিত ডুবছে, ধানের উপরে তিন চাইর হাত পানি। কীলাখান (কীভাবে) কাটমু! ছয় কেয়ার কাটছিলাম, শুকাইতাম পারছি না। ইখানো আরও ছয় কেয়ার আধাআধি (অর্ধেক দেবার) চুক্তিতে কাটরাম। ইগুন শুকানি যাইবো কিনা, জানি না। ১৯ কেয়ার জমিন করছি, সবই কিরাজ (এক ধরনের বর্গা)। প্রতি কেয়ার চাইর মণ দরে। মালিকরে সম্পূর্ণ ধান দেওন লাগব। মালিকে কম মানতো নায়। কম দিলে সামনের বছর আর জমিন দিতো নায়।’
তিনি জানালেন, দেড় লাখ টাকা ঋণ করে এনে এবার জমি করেছিলেন। দুশ্চিন্তা এখন তিন ধরনের— মালিকের ধান দেওয়া, জমি করা খরচের ঋণ মেটানো এবং সারা বছর খেয়ে বেঁচে থাকা।
দেখার হাওরের গুয়াছুড়া এলাকা থেকে ফেরার সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি ছিল না। বাতাসের মধ্যেই হাওরের কান্দায় (কিছু শুকনা জায়গা) গেরা উঠা (চারা গজানো) ধান চটের ওপরে ছড়িয়ে বাতাস লাগানোর চেষ্টা করছিলেন ষাটোর্ধ্ব জমিলা খাতুন ও আসমা বেগম।
ওখানেই কাঁচা, পচে যাওয়া ধানের মুঠি টেনে সরাচ্ছিলেন গুয়াছুড়ার কমর আলী (৭০)। কথা বলার চেষ্টা করতেই (কমর আলীর সঙ্গে) বললেন, ‘বারো আনা (৭৫ ভাগ) জমি ডুবি গেছে। পুরুত্তাইন (ছেলে-মেয়ে) লইয়া কিলা বাঁচতাম। চাইর মণ দরে জমিন আনছি। ৭০ হাজার টেকা (টাকা) খরচ কইরা ২০ কেয়ার জমিন করছি। মালিকরে ধান না দিলে তালাতালি কইরা আরেকজনে কইবো আমারে দেইন জমি, হে তো (কমর আলী) ধান দিতো পারে না, সময়মতো কাটতো পারছে না, আপনার (মালিকের) ক্ষতি অইলো (হলো), মালিক বুইজ্জা না বুইজ্জাঔ (বুঝে না বুঝে) জমিন অন্যজনরে দিতো পারে, এই বিপদ থাকি কেমনে বাঁচতাম ভাই।’
জলাবদ্ধতায় গুয়াছুড়ার এই দুই বর্গাচাষিকেই কেবল বিপন্ন করেনি। বরং জেলাজুড়ে বর্গাচাষিরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
দেখার হাওরপাড়ের আস্তমা গ্রামের বড় বর্গাচাষি কে এম ফখরুল ইসলাম বললেন, দেখার হাওরে শতকরা ৭০ ভাগ কৃষক কিরাজ (বর্গাচাষ) করেন। একসময় বাগি করা হতো (আধাআধিতে), রংজমায়ও (আগে চুক্তি করে টাকা দিয়ে করা) করা হতো। এখন ফসল করতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সকলেই কিরাজ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বললেন, বাঁধ ভেঙেছে দুইটি। এগুলো হচ্ছে— মধ্যনগরের এরন বিল এবং একই উপজেলার জিনারিয়া বাঁধ। এই বাঁধগুলো বড় হাওরের না হলেও এসব বাঁধ ভেঙে তিনটি ছোট হাওরে পানি ঢুকেছে। জলাবদ্ধতায় পানিতে ডুবেছে ৯ হাজার ৪৯ হেক্টর জমি, সব মিলিয়ে পানিতে ডুবে বুধবার বিকেল পর্যন্ত সরকারি হিসেবে ৫০ হাজার টন ধানের ক্ষতি হয়েছে, টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
তবে কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, এই ক্ষতি আরও অনেক বেশি। পানি নামতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে। উজানে বৃষ্টি হচ্ছে, সুনামগঞ্জেও আছে বৃষ্টি। সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে গত বুধবার বিকেলে ৪ দশমিক ৮৬ সেন্টিমিটার অর্থাৎ হাওরের বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলার শাল্লা উপজেলার সবকয়টি হাওর জলাবদ্ধতায় ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা চাপটার হাওরের বাঁধ কেটে ধনু নদী দিয়ে মেঘনায় পানি নামানোর চেষ্টায় করেছিলেন। ওই হাওরপাড়ের কাদিরপুরের স্কুলশিক্ষক রমণ দাস বুধবার সন্ধ্যায় জানান, বাঁধ কেটে কোন লাভ হয়নি। পানি নামছে একেবারে ধীরগতিতে। চাপটার হাওরের পানি আর ধনু নদীর পানি প্রায় সমান সমান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, বাঁধ কেটে জলাবদ্ধতার পানি ভাটিতে বা নদীতে ছাড়ার কোনো উপায় নেই। উজানে বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানিও বেড়েছে। এই অবস্থায় সুনামগঞ্জের নদীগুলোর পানি ধনু নদী হয়ে মেঘনায় নামতে সপ্তাহখানেক লাগবে। এরপর হাওরের জলাবদ্ধতার পানি নামতে থাকবে।
এদিকে, ম্যাথোলজি, প্রাই ম্যাথোলজি অ্যান্ড আর্থ সিস্টেম রিসার্চ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অবসরপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন, সুনামগঞ্জে ৩০ এপ্রিল ১০০ থেকে ১২০ মিলিমিটার, ১ ও ২ মে ১২০ থেকে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। উজানে অর্থাৎ মেঘালয় চেরপুঞ্জিতেও একই ধরনের বৃষ্টিপাত থাকার পূর্বাভাস আছে।
সুনামগঞ্জে প্রতিবছর ফসল রক্ষার নামে শতকোটি টাকার বাঁধ হয়। নদী খনন না করে এসব বাঁধ দেওয়া নিয়ে স্থানীয় পরিবেশবিদ ও কৃষদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে জলাবদ্ধতা বাড়ছে বলেও দাবি করছেন স্থানীয়রা। এবারও হাওরে ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৩ কিলোমিটার বাঁধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
৫ দিন আগে
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে সড়ক ভেঙে ডুবছে হাওর, দুশ্চিন্তায় কৃষক
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার এরনবিল (ইকরাছই) হাওরে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। নেত্রকোনার দুর্গাপুর হয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র চাপে মনাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হামিদপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামীণ সড়ক ভেঙে এই পানি হাওরে প্রবেশ করছে। এতে এখনও হাওরে থাকা জমির ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইকরাছই হাওরে মোট ১১৪ হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। এর মধ্যে কৃষকরা এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ হেক্টর জমির ধান সফলভাবে ঘরে তুলেছেন। তবে পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট এই আকস্মিক ভাঙনে প্রায় ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। বর্তমানে হাওরের বাকি ধান রক্ষা করাই এখন স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাওর এলাকার কৃষকরা জানান, পাহাড়ি ঢল আসার সময়টি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। গত কয়েকদিন ধরে উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়ায় তারা আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন। সড়ক ভেঙে পানি ঢোকায় এখন অবশিষ্ট পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী যৌথভাবে ভাঙন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি না ঘটে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ জানান, যে সড়কটি ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করছে, সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো বাঁধ নয়, এটি একটি গ্রামীণ সড়ক। নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকা দিয়ে নেমে আসা প্রবল পাহাড়ি ঢলের কারণে মনাই নদীর পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে সড়কটির একটি অংশ ভেঙে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যদিও অধিকাংশ জমির ফসল ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে, তবুও অবশিষ্ট ফসল রক্ষার জন্য স্থানীয় জনতা ও প্রশাসন মিলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
৭ দিন আগে
ঝিনাইদহে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে দুই কৃষক নিহত
ঝিনাইদহের মহেশপুরে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগ্নে ছিলেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগানমাঠ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রফিকুল সরকার (৫০) ও নুর আলম (৩৫)। রফিকুল ওই গ্রামের মৃত জমশেদ সরকারের ছেলে এবং নুর আলম মৃত আবু সামার ছেলে।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা জিন্টু জানান, দুপুরে রফিকুল সরকার বাগানমাঠ এলাকায় নিজের ধানের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। এ সময় মাঠের মধ্যে একটি মোটরের বৈদ্যুতিক তার নিচু হয়ে ঝুলে ছিল। অসাবধানতাবশত সেই তার শরীরে স্পর্শ করলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
তিনি আরও জানান, পাশের জমিতে কাজ করা নুর আলম ঘটনাটি দেখে দৌড়ে এসে মামাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, মাঠে কাজ করার সময় মোটরের লিকেজ বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে মামা-ভাগ্নে মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩০ দিন আগে
সুনামগঞ্জের হাওরে জলাবদ্ধতা, নষ্ট হওয়ার পথে হাজার হেক্টর জমির ধান
মার্চের শেষ সপ্তাহে উজান-ভাটিতে ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের বোরো ফসল। এতে পানি নিষ্কাশন নিয়ে হাওরের কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছেন। উজানের হাওরের কৃষকরা বাঁধ কেটে দিতে চাইলে ভাটির কৃষকরা বাধা দিচ্ছেন। কারণ তখন ভাটির কৃষকের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে এ সময় জলাবদ্ধতায় ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মওসুমে জেলার ৫৩টি ছোট-বড় হাওরে ৭১০টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে দুর্বাঘাস লাগানোর কাজ।
গেল বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলেও চলতি বছর মার্চ মাসে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সুনামগঞ্জে। চেরাপুঞ্জিতেও এর চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে উজান-ভাটির বৃষ্টিপাতের পানি নদ-নদী ছাপিয়ে নানা দিক দিয়ে হাওরে ঢুকছে।
গত ৩১ মার্চ জরুরি সভা করে পানি নিষ্কাশনকল্পে সরেজমিন ঘুরে ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাঁধ আংশিক কেটে দেওয়া হয়েছে। বাঁধ কেটে দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। এক পক্ষ কেটে দিতে চাইলে ভাটির পক্ষ তাদের জমি জলাবদ্ধতার কারণে কাটতে দিচ্ছেন না। তবে প্রশাসনকে না জানিয়ে বাঁধ কাটার সুযোগ নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হাওরে এই ফসল লাগানো হয়েছে। চলতি মওসুমে সব ধান গোলায় তুলতে পারলে প্রায় ১৪ লাখ টন চাল উৎপাদিত হবে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা।
তবে জলাবদ্ধতা ও আগামী সপ্তাহে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মিনি পাগনার হাওর, হালির হাওর, কাইল্যানি হাওর, ছায়ার হাওর, পুটিয়ার হাওর, ডাকুয়ার হাওর, জোয়ালভাঙ্গা হাওর, কানলার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাওরগুলোর পানি নিষ্কাশনের খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং হাওরের তুলনায় নদীতে বৃষ্টির পানি বেশি থাকায় পানি নিষ্কাশিত হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম বলেন, আমাদের ডাকুয়ার হাওরের উপরের অংশের কৃষকরা জোর করে বাঁধ কেটে দিতে চাইছেন। এতে নিচের অংশের কৃষকরা প্রতিবাদ করছেন। কারণ নিচে জলাবদ্ধ হাওরে নতুন করে আরও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে তাদের ধান। উপরের কৃষকদের পানি নিষ্কাশনের পথ নেই। তবে উপরের অংশের কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের খালটি নোওয়াগাঁও এলাকায় বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের এই সমস্যা হয়েছে বলে জানান তিনি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, গতবারের চেয়ে এবার আগাম বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। এর ফলে পানি বেড়েছে। কিন্তু এই পানি ধারণের আধার নদ-নদী ও খাল-বিল বরাট হয়ে গেছে। যার ফলে তুলনামূলক নিচু এলাকা হওয়ায় প্রতিটি হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এখন জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে কৃষকরা মারামারি করছেন। একমাত্র নদ-নদী-বিল খনন করে দিলেই এই সমস্যা কমে যাবে বলে তিনি মতামত দেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, এবার চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জেও বৃষ্টিপাত গতবারের চেয়ে বেশি হয়েছে। প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে। এই পানি এখন হাওরে চাপ তৈরি করেছে। অথচ গত বছর মার্চ মাসে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে এ নিয়ে জরুরি সভায় কমিটি করে প্রশাসনকে নিয়ে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি হাওরের পানি নিষ্কাশনও হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, এ পর্যন্ত জেলার ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা প্রশাসনকে বলেছি। তবে নিষ্কাশন করতে গিয়েও হাওরের উঁচু ও নিচু এলাকার কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছেন। কারণ এক পক্ষের পানি নিষ্কাশিত হলে অপরপক্ষের ফসল জলাবদ্ধ হয়। এছাড়াও আগামী ৬-৭ এপ্রিল ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
৩৩ দিন আগে
ঝালকাঠিতে জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝালকাঠিতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল ও পেট্রোল পাচ্ছেন না। যার কারণে ট্রাক্টর, সেচযন্ত্র, পাওয়ার পাম্প, পাওয়ার টিলার, কীটনাশক দেওয়ার মেশিন, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র প্রভৃতি চালাতে পারছেন না।
অনেকে আবার দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনে ব্যবহার করলেও পণ্য উৎপাদনে খরচ বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার ভয়ে কেউ কেউ চাষাবাদ বন্ধ রেখেছেন।
প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর ঝালকাঠি। এই জেলার বেশিরভাগ মানুষের পেশা কৃষি ও ব্যবসা। ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এ জেলাকে এক সময় দ্বিতীয় কলকাতা বলা হতো। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষিনির্ভর এ জেলায় চাহিদা অনুয়ায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, এ বছর ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আউশ আবাদ শুরু হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টরে এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ করা হয়েছে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষকরা ইতোমধ্যে জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। ফলে খেত তৈরি করতে তাদের পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। খেতে পানি দিতে সেচপাম্প ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রয়োজন হচ্ছে ডিজেল। আগে পেট্রোল পাম্প, ডিলার ও খুচরা দোকান থেকে লিটারপ্রতি ১০০ টাকা দামে পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যেত। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে জনপ্রতি ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল দিচ্ছেন না বিক্রেতারা। এতে চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান এলাকার কৃষক আল আমিন বলেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকট চলছে। আমরা দোকানে গেলে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। আমাদের বেশি প্রয়োজন ডিজেল। এখন ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল পাই না। অনেক বিক্রেতার কাছে পেলেও তারা লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছে। এতে পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
নলছিটির মালিপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, জমিতে সেচের অভাবে মাটি ফেটে যাচ্ছে। কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না। এখান থেকে পেট্রোল পাম্প অনেক দূরে। তাই ডিলার ও দোকানিরা বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। জ্বালানি তেলের দাম না কমলে ধান ও চালের দামও বেড়ে যাবে।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ জেলায় ডিজেলের কোনো সংকট নেই। হয়তো খুচরা বাজারে একটু প্রভাব পড়েছে, তারপরও যদি কোনো কৃষক ডিজেলের অভাবে চাষাবাদ করতে না পারেন, তাদের সহযোগিতা করা হবে। কেউ বেশি দামে তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষক বাঁচলে আমাদের দেশ বাঁচবে, তাই কৃষকের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের জন্য প্রতিদিন শহরের পেট্রোল পাম্প এবং ডিলারদের দোকানে ভিড় করছেন যানবাহন চালকরা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছেন না বিক্রেতারা। সুযোগ বুঝে কেউ কেউ আবার তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
ক্রেতা ও পাম্প মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেছেন, একশ্রেণির অসাধু ডিলার বাড়তি লাভের আশায় জ্বালানি তেল মজুদ করে রেখেছেন। এ কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেলের ডিপো থেকে ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ লিটার ডিজেল এবং আড়াই লাখ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়।
৩৫ দিন আগে