পুলিশ
মিরপুরে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে আগুন
রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
এর আগে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সড়কে নামেন তৈরি পোশাকশ্রমিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে দাবি আদায়ে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করেন। এতে আশপাশের কয়েকটি সংযোগ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সকাল সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পুলিশ প্রথমে শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দিতে অনুরোধ করে। শ্রমিকরা সেই অনুরোধ উপেক্ষা করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে প্রথম দফার সংঘর্ষ কিছুটা কমে আসে।
কিন্তু পুলিশের অভিযানের পর শ্রমিকরা মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর-১১-এর দিকে সরে যান। সেখানে বিভিন্ন স্থানে নতুন করে সংঘর্ষ হয়।
মিরপুর-১১-এর পূরবী সিনেমা হলের কাছে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুনও দেওয়া হয়।
২ দিন আগে
পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতায় পুলিশকে সেবার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরের (২০০৬ ব্যাচ) ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
পুলিশকে ভয়ভীতি, পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে জনগণকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষের পাশে থেকে, মানুষকে সেবা দিয়ে, জনগণের আস্থা অর্জন করে, সত্যিকার অর্থেই জনগণের পুলিশ হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠিত করে দক্ষ, আধুনিক ও মানবিক সেবামুখী বাহিনীতে রূপান্তর করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন ক্রয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও লজিস্টিক সরবরাহের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষা, আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এই ব্যাচের সদস্যরা দেশসেবার মহান পেশায় যোগ দিয়েছেন।
নিজেদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো প্রকার বৈষম্য ও অন্যায়ের চর্চা না করার জন্য তিনি তাদের নির্দেশ দেন।
পুলিশের পোশাক ও অর্পিত দায়িত্বকে কেবল সাধারণ চাকরির গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এক মহান অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
৫ দিন আগে
সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ারে যেতে পারে পুলিশ: আইজিপি
সরকার অনুমতি দিলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে প্রয়োজন হলে পুলিশ ক্রসফায়ারের পথ বেছে নিতে পারে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামী ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, পুলিশ কঠোর হলে বলা হয় ফ্যাসিস্ট পুলিশ, আর নীরব থাকলে বলা হয় দুর্বল পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, সরকার অনুমতি দিলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে ক্রসফায়ারের প্রয়োজন হলে, আমরা সেটাই করব।
মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশকে অকার্যকর করার অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, পুলিশকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হলে কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হলে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হবে।
অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত পুলিশ সদস্যদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীর নিজস্ব জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু সদস্য মাদকের বিস্তারে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। পুলিশের কিছু সদস্যও মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
আলী হোসেন ফকির বলেন, বর্তমানে পাড়া-মহল্লার সব জায়গায় মাদকের ব্যাপক বিস্তার দেখা যায়। এই পরিস্থিতি কে তৈরি করেছে? ভালোভাবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যও এতে জড়িত ছিলেন, এখনও কেউ কেউ আছেন।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম দূর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত দুই মাসে প্রায় ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান আইজিপি।
তিনি বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, আমরা প্রথমে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করছি। অথচ এ বিষয়টি নিয়েও নানা অপব্যাখ্যা ছড়ানো হচ্ছে।
সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে আরও ক্ষমতায়নের আহ্বান জানিয়ে মহাপরিদর্শক বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।
আইজিপি জনগণকে গুজব ও অপতথ্য এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হোসেন ফকির ইসলামী ব্যাংকিংয়ে নৈতিক চর্চা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রাখার জন্য গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাপনায় অতীতের অনিয়ম বা সংকটের পুনরাবৃত্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।
মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) তদারকি আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
শান্তিপূর্ণ সমাজ নিশ্চিতে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান আইজিপির
মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেছেন, ‘পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে আমরা কেউই সমাজে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।’
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বাগেরহাটের নতুন পুলিশ লাইনসে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন আইজিপি।
তিনি বলেন, বাহিনীর পরিবহনসংকট মোকাবিলায় ৫ হাজার ৮০০টি নতুন যানবাহন কেনার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করেছে।
বর্তমানে বাহিনীতে অনুমোদিত সংখ্যার তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার যানবাহনের ঘাটতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জনবলসংকটের বিষয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রতিবছর অন্তত ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে।
এ সময় তিনি সংঘবদ্ধ পিটুনিতে উসকানি না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নাগরিকদের পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি সম্প্রসারণ করা হবে।
ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) অধীনে কমিটি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং, মাদক, বাল্যবিয়ে, দুর্নীতিসহ ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যার সমাধান করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক।
পরে পুলিশ লাইনসের ড্রিল শেডে এক বিশেষ কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইজিপি।
৯ দিন আগে
কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়তে কাজ চলছে: আইজিপি
জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) লাইনসে কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি জানান, পুলিশ জনগণের আস্থা ফিরে পেতে চায় এবং মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। আরও মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে ওঠাই পুলিশের লক্ষ্য।
খুলনায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ দমনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এ সভার আয়োজন করে।
আইজিপি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করাই অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
৫ আগস্টের পর পুলিশ নতুন প্রত্যয় নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।
মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে আলী হোসেন ফকির বলেন, সমাজে মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং থাকবে না। এসব অপরাধ নির্মূলে সব পক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে যৌথ অভিযান চলছে বলেও জানান আইজিপি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
এ লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একটি কাঠামো অনুমোদন করেছে বলেও জানান তিনি।
কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কিছু সদস্যর বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্বীকার করে আইজিপি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য আইনি কাঠামোর মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সাংবাদিকদের সমাজের দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী।
এ সময় স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনার বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
১০ দিন আগে
পতাকা বৈঠক শেষে ১৫ ঘণ্টা পর দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিল বিএসএফ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক ব্রাহ্মণপাড়া থানার দুই পুলিশ সদস্যকে প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া-নারায়ণপুর সীমান্তের ২০৫৭ নম্বর প্রধান পিলার-সংলগ্ন এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর করা দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।
হস্তান্তরের সময় সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) শশীদল বিওপির কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, দেবিদ্বার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাহিন, ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন এবং শশীদল বিওপির কমান্ডার সুবেদার মোহাম্মদ তাকবীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকার ২০৫৯ নম্বর সীমান্ত পিলার-সংলগ্ন স্থানে মাদক উদ্ধার অভিযানে যায় পুলিশের একটি দল। এ সময় এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন।
পরে স্থানীয় ভারতীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন। সহকর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে এএসআই ইমরান হোসেনকেও আটক করা হয়। এরপর থেকে দুই পুলিশ সদস্য বিএসএফের হেফাজতে ছিলেন।
তাদের ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলে। অবশেষে আজ শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় আটকের পর শুক্রবার দুপুর দেড়টায় হস্তান্তর পর্যন্ত প্রায় ১৫ ঘণ্টা বিএসএফের হেফাজতে ছিলেন ওই দুই পুলিশ সদস্য।
১৮ দিন আগে
উত্তরায় পুলিশের হস্তক্ষেপে ছত্রভঙ্গ পোশাকশ্রমিকরা, স্বাভাবিক যান চলাচল
বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা পোশাকশ্রমিকদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকদের সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়।
দুপুর ১২টার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুল ইসলাম রনি বলেন, মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরাতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করে এবং কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে যান।
তবে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ বা সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা নিজেরাই মহাসড়ক ছেড়ে চলে গেছেন।
ন্যূনতম মজুরিবৃদ্ধি, সময়মতো বেতন ও ভাতা পরিশোধ এবং ইচ্ছামতো ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তরা এলাকার আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী অংশে মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন।
১৯ দিন আগে
তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন অটোরিকশাচালক: পুলিশ
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এ তথ্য জানান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাতে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। তার গন্তব্য ছিল নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসা। কিন্তু চালক সুমন তাকে শহরের দিকে না নিয়ে অন্য পথে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেতে নিয়ে যান।
এদিকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে সেদিন দিবাগত রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমন্ত বাবা সেই বার্তা দেখতে পাননি।
ঘটনাস্থল থেকে তাজমিন পালানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সুমন তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ঘটনাস্থলের পাশে অটোরিকশাটি ফেলে রেখে তিনি পালিয়ে যান।
ঘটনার পর সকালে লালমাইয়ের সেই ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর তদন্তে চালক সুমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর গতকাল (শুক্রবার) চট্টগ্রামে ভাইয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন কি না, অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি ন, সে ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
২৪ দিন আগে
‘ছিনতাইকারী’কে ধাওয়া করতে গিয়ে বাসচাপায় পুলিশ সদস্যর মৃত্যু
চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী সন্দেহে এক যুবককে ধাওয়া করতে গিয়ে বাসচাপায় গুরুতর আহত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার (২৫) মারা গেছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট শাখায় কর্মরত আল আমিন সরদার কোতোয়ালি থানায় সংযুক্ত ছিলেন।
আল আমিন ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন। তার বাড়ি মাদারীপুরে। তিনি এক সন্তান রেখে গেছেন।
গতকাল (রবিবার) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর ওয়াসা মোড়ের ইস্পাহানি চেকপোস্টে সন্দেহজনক তিন যুবককে থামানো হয়। এ সময় তাদের একজন দৌড়ে পালাতে গেলে আল আমিন মোটরসাইকেলে করে তাকে ধাওয়া করেন। তখন একটি বাস পেছন থেকে আল আমিনের মোটোরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
আল আমিনকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেন। পরে চেকপোস্টে থাকা পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি জব্দ ও চালককে আটক করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির বলেন, আজ (সোমবার) সকালে আইসিইউতে আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় বাসচালক মোশাররফ (৩৮) ও স্টাফ জয় দাসকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে আল আমিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, দায়িত্ব পালনকালে তার মৃত্যু কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
২৯ দিন আগে
ফ্যাসিবাদের দোসরদের আইনের আওতায় আনলে পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ বাহিনীকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এ কাজে ভূমিকা রাখা পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পারবে, তাদের আমরা পুরস্কৃত করব।’
এ সময় তিনি জানান, সম্প্রতি এ ধরনের কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ‘ফ্যাসিবাদের দুই শক্ত দোষর’ এবং শুক্রবার আরও একজনকে আটক করা হয়।
পুলিশকে নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তারা (আটক) এতদিন এখানেই লুকিয়ে ছিল। আমাদের গোয়েন্দা সহায়তা কোথায় ছিল?’
দেশে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের সময় এক মাসে দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি গত ১৭ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও হেফাজতে মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত পরিসংখ্যানের কথাও উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ এবং এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের মানুষ কখনও আবার রাজনীতিতে দেখতে চাইবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর যারা কোনো অনুশোচনা, ক্ষমাপ্রার্থণা করেননি বা দুঃখ প্রকাশ করেননি, তারা এখন বাংলাদেশের বাইরে থেকে কথা বলছেন।
শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত পাঠাতে প্রতিবেশী দেশটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হলে আইনি প্রক্রিয়া নিজস্ব গতিতেই চলবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৯৮ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক প্রদান করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৩৮ দিন আগে