র্যাব
সিরাজগঞ্জে ২ রাউন্ড গুলিসহ রিভলবার উদ্ধার
সিরাজগঞ্জ চর মালশাপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ২ রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলবার উদ্ধার করেছে র্যাব-১২।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে পৌর শহরের চর মালশাপাড়া মহল্লার ৩ নম্বর চায়না বাঁধ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তাবরীজ তাজওয়ার শরীফ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের র্যাব-১২-এর অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় গতকাল (বুধবার) রাতে সিরাজগঞ্জ চর মালশাপাড়ায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২ রাউন্ড গুলিসহ একটি দেশীয় রিভলবার উদ্ধার করা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
২ দিন আগে
এসআরবি বিল পাস, বিলুপ্ত র্যাব
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের পথ তৈরি হলো।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিলটি পাস হয়।
২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ থেকে র্যাব-সংক্রান্ত বিধানগুলো বাদ দিয়ে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে এ বিলে। ওই অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই র্যাব গঠনের আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছিল। সংশোধিত ওই অধ্যাদেশের অধীনে ২০০৪ সালে র্যাব গঠিত হয়। তার পর থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগসহ বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়ে বাহিনীটি।
এখন সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সংসদে এসআরবি বিলটি উত্থাপন করা হয়। ওই সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতা করে বলেন, নতুন নামে কার্যত র্যাবকেই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটিতে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়ও তারা আটটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি দ্রুত বিবেচনার জন্য সংসদে তোলেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পাশাপাশি পাসের আগে জনমত নেওয়ার দাবি জানান।
আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন, মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, নুরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এস কে মুজিবুর রহমান ইকবাল।
বিলে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করা হবে।
এসআরবির সদস্যদের পদমর্যাদার কাঠামো, নিয়োগপ্রক্রিয়া ও চাকরির শর্তাবলি বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত পোশাক থাকবে।
এছাড়া এসআরবির মহাপরিচালক হবেন কর্মরত কোনো পুলিশ কর্মকর্তা, যার পদমর্যাদা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নিচে হবে না।
বিল অনুযায়ী, র্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক স্থিতি, দায়-দায়িত্ব, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, নথিপত্র ও অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নতুন আইনের অধীনে বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের বিধির আওতায় র্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম ও আদালতের কার্যক্রম বহাল থাকবে।
এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও সম্পত্তি জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হবে। ইউনিটটির অধীনে হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখারও বিধান রয়েছে।
এছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ ও ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিটটির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও গুমের ঘটনায় কথিত সম্পৃক্ততার কারণে মানুষ এখনও র্যাবকে ভয় পায়।
যথাযথ পরামর্শ ছাড়াই মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে বিলটি পাসের সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করার আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য আরও প্রশ্ন করেন, প্রস্তাবিত অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির কাছে অভিযোগগুলোর যথাযথ প্রতিকার দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকবে কি না। তিনি কমিটির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের একজন সাবেক বিচারপতিকে রাখার প্রস্তাবও দেন।
তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হবে, বিলটিতে তা স্পষ্ট করা হয়নি। এসআরবির সব স্থাপনা ও কার্যালয় গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করারও দাবি জানান তিনি।
নাজিবুর রহমান ২০১৪ সালের নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ওই ঘটনার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া র্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পরে খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘ক্যানসার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক ব্যবস্থা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল।
তার মতে, র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি ও দায়-দায়িত্ব এসআরবির কাছে হস্তান্তরের অর্থ হলো ‘শুধু সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হচ্ছে’।
শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি ছিল। তবে একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি কেউ করেনি।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনে র্যাবের সদস্য, সুযোগ-সুবিধা, লজিস্টিকস ও জনবল বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তনের বিষয়টি দেখা যাচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা সরকারকে বিলটি প্রত্যাহার করে প্রথমে এ ধরনের একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা কেন রয়েছে, তা নির্ধারণের আহ্বান জানান।
বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির অঙ্গীকার ছিল। বিলটি বিলম্বিত করার অর্থ হবে র্যাবের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় কমিটিতে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জনমত দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও এটি রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগের বিষয়গুলো অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি দেখবে।
তিনি আরও বলেন, আইনটি পাস হওয়ার পর র্যাব বিলুপ্ত হবে এবং এরপর এসআরবি নামে নতুন একটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে র্যাবের কাছে থাকা সম্পদ ও সরঞ্জাম কোথাও না কোথাও হস্তান্তর করতেই হবে, কারণ এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। নতুন সংস্থার কাছে এসব হস্তান্তর করা হলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে নতুন করে কেনাকাটা করতে হবে না বলেও জানান তিনি।
এপিবিএন বিলও পাস
এসআরবি বিল পাসের পর জাতীয় সংসদ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬-ও পাস করেছে। এর মাধ্যমে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
বিলে পুলিশের অধীনে এপিবিএন ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন ও সরকার নির্ধারিত অন্য যেকোনো ব্যাটালিয়ন থাকবে।
প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রযোজ্য অন্যান্য আইনের অধীনে থেকে তারা কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, সম্পত্তি জব্দ ও গ্রেপ্তারও করতে পারবে।
এছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া এপিবিএনের সদস্যদের সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করা কিংবা প্রকাশে সহায়তা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বিলটি সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো ও জনমত নেওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে এপিবিএন বিল পাস হয়।
৯ দিন আগে
সুন্দরবনের চার বাহিনীর ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও জলদস্যুমুক্ত রাখতে র্যাব-৬-এর ধারাবাহিক অভিযানে চারটি ভিন্ন বাহিনীর মোট ৫২ জন জলদস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন।
সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সোমবার (৩১ আগস্ট) আয়োজিত কার্যক্রমে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন ও আফতাব বাহিনীর ৮ জন সদস্যসহ মোট ৫২ জন জলদস্যু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
র্যাব-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা জলদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির কারণে চরম ঝুঁকিতে ছিলেন। বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বিচরণ নির্বিঘ্ন রাখতে তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ (১ সেপ্টেম্বর) থেকে বনটি পুনরায় পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।
এর ঠিক আগের দিন এই ৫২ জন দস্যুর অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা বনের জীবিকা নির্বাহ, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এটি অবৈধ বনজ সম্পদ আহরণ ও বন্যপ্রাণী শিকার রোধেও সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বননির্ভর জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানান র্যাব-৬-এর অধিনায়ক।
১৮ দিন আগে
র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে হবে এসআরবি
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সপ্তদশ বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বিদ্যমান র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা।
এছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, র্যাব-সংক্রান্ত জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্পদ এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি, নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৩২ দিন আগে
ঈদুল আজহা সামনে রেখে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই: র্যাব ডিজি
পবিত্র ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। তবে কোনো হুমকি না থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র্যাব ডিজি এসব কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাব ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হুমকি অনুভব করিনি। তবে হুমকি না থাকলেও আমাদের নিজস্ব যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে, সেটি জোরদার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের প্রধান প্রধান জামাতগুলোতে নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দেশব্যাপী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্টের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ঈদে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলক কমে যাওয়ায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের ঝুঁকি থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাত্রিকালীন নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাত্রিকালীন টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কোরবানির পশুর হাট ও জাল টাকা রোধে র্যাবের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে র্যাবের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জাল টাকা প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে ও জাল টাকা প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান চলমান আছে। কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন কেউ জোরপূর্বক নির্দিষ্ট কোনো হাটে নিয়ে যেতে বাধ্য করতে না পারে, সে বিষয়েও বিশেষ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো প্রতিরোধে র্যাবের সাইবার উইং সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে র্যাব প্রধান বলেন, ঈদ ও কোরবানিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ যেন কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিতে না পারে, সে লক্ষ্যে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং সার্বক্ষণিকভাবে চালু রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপচেষ্টা চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে র্যাবের ক্যাম্পে কেএনএফের হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে র্যাব ও পুলিশের বিশেষ ক্যাম্প কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং তারা দায়িত্বশীলতার সঙ্গেই কাজ করছে। র্যাবের ক্যাম্পে মূলত কোনো হামলা হয়নি। আমরা নতুন একটি ক্যাম্প করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলাম, সেখানে তারা অতর্কিত হামলা করেছে। এর পেছনে আমাদেরও কিছু অসাবধানতা বা দুর্বলতা ছিল।
তিনি আরও বলেন, ইয়াসিন বাহিনী বা অন্য কেউ র্যাবের চেয়ে শক্তিশালী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আর সেখানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
র্যাব ডিজি বলেন, দেশের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য র্যাব সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
১১৬ দিন আগে
র্যাব আগের মতো থাকছে না, হচ্ছে আলাদা আইন: উপদেষ্টা জাহিদ
র্যাব আগের মতো থাকছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। পুলিশ থেকে বেরিয়ে র্যাবের জন্য পূর্ণাঙ্গ আইন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে আগের মতোই থাকছে না—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, গতকাল র্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল এবং ঘটনাচক্রে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। র্যাব বিলুপ্তি নিয়ে যেটা বলা হয়েছে, এখনও এক অর্থে র্যাব আগের মতো করে থাকছে না। আমি আবারও বলছি, আগের মতো কেন বলছি? কারণ গতকালই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন এবং আপনারা সংবাদ প্রচার করেছেন, র্যাবের জন্য একটা নতুন আইন হবে।
তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত র্যাব পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটা অপশনের অধীনে কাজ করছিল। তাই একটা পূর্ণাঙ্গ আইন হচ্ছে। যে আইনের মধ্যে র্যাবের সবকিছু অনেক বেশি সুস্পষ্ট থাকবে। সুতরাং, র্যাব বিলুপ্তির যে দাবি বিএনপি করেছিল, এক অর্থে, আবারও বলছি, এক অর্থে সেইভাবে র্যাব থাকছে না এবং নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে। সম্ভবত বলছি কারণ এই ধরনের অপশন গতকাল (সোমবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। এবং তিনি এটাও জানিয়েছেন যে এই আইনটা করার জন্য তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের যে বৈঠক ছিল, সেখানে আমাদের সম্পাদকরা—আমাদের এই সমসাময়িক অনেক ইস্যু এনেছিলেন। এর মধ্যে ব্যাংকের আইনের প্রসঙ্গ এনে খেলাপি ঋণের আলাপ এনেছিলেন। তখন আমি সম্পাদকদের উদ্দেশে এটা বলেছিলাম যে একটা আইন আসলে কীভাবে প্রযুক্ত হয়, সেটি নির্ভর করে ওই সরকারের চিন্তা কী।
তিনি বলেন, এই সরকার খেলাপি ঋণকে পেট্রোনাইজ (পৃষ্ঠপোষকতা) করবে না। হাসিনার সময়ে যেভাবে লুট হয়েছে, সেটা শেখ হাসিনার এন্ডোর্সমেন্টে (সমর্থনে) হয়েছে। ঠিক একইভাবে র্যাব যেভাবে ব্যবহৃত হয়েছে মানবাধিকার মারাত্মক লঙ্ঘনের জন্য, সেটা হয়েছিল শেখ হাসিনার কারণে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে হয়নি, কেউ কেউ বলবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তো যেহেতু দলীয় সরকার না, এখন দলীয় সরকার। একই কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল বলেছেন যে, ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ অর্থাৎ তিন মাসে কী হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, একইভাবে আমরা বলছি একটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার, আবার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায়, সে একটা বাহিনীকে কোনোভাবে ব্যবহার করবে না। তবে একটা রাষ্ট্রে একটা এলিট ফোর্স থাকা দরকার আছে। কারণ র্যাবের সমালোচনা যদি সরিয়ে রাখি, আমরা দেখব যে র্যাব অত্যন্ত সক্ষমভাবে নানা ধরনের সন্ত্রাস, অপরাধ মোকাবেলা করতে পেরেছে, যেটা আমাদের প্রচলিত পুলিশ বাহিনী পেরে ওঠেনি।
তিনি আরও বলেন, তাদের অনেক ভালো ইকুইপমেন্টস (যন্ত্রপাতি) আছে, ভালো প্রশিক্ষণ আছে। সেজন্য একটা এলিট ফোর্স থাকবে, সেটা র্যাব নামেই হোক বা ভিন্ন নামে, সেটার সুস্পষ্ট আইন থাকবে। ফলে আগের যে ঝুঁকিগুলো আছে, সেগুলো থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১২৩ দিন আগে
র্যাব পরিচালনায় আসছে নতুন আইন, নাম বদলেরও ইঙ্গিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সরকার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—র্যাবকে জনবান্ধব, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ লক্ষ্যে দ্রুত নতুন র্যাব আইন প্রণয়ন এবং বাহিনীটির নাম পরিবর্তনের বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদরদপ্তরে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন ও কৌশল মোকাবিলায় র্যাবকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের বাহিনীতে রূপ দিতে বিদ্যমান আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীটির সদস্যদের পেশাদারত্বের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে বিবেচনায় র্যাবের বিদ্যমান আইন পরিবর্তন ও সংশোধন করে এটিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, র্যাবকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে এর সদস্যদের মানবাধিকার, ন্যূনতম বল প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং অপরাধ দমনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১২৪ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বাসে ‘র্যাব’ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টা, আটক ২
ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জগামী একটি বিআরটিসি বাসে ‘র্যাব’ পরিচয়ে ডাকাতির চেষ্টাকালে ব্যর্থ হয়েছে একটি চক্র । এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে গেছেন।
শনিবার (৯ মে) রাতে নারায়ণগঞ্জের মাতুয়াইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন— কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আক্তারুজ্জামান (৪৭) এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমিরুল ইসলাম (৩০)।
যাত্রীরা জানান, মুন্সীগঞ্জের ব্যবসায়ী শেখ মাসুম প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা নিয়ে বিআরটিসি বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসটি নারায়ণগঞ্জের মাতুয়াইল এলাকায় পৌঁছালে পথে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে বাসটির গতিরোধ করেন।
এ সময় তারা ব্যবসায়ী শেখ মাসুমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে দাবি করে তাকে বাস থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে শেখ মাসুম বাসের ভেতরেই চিৎকার করে যাত্রীদের উদ্দেশে জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার কাছে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভুয়া পরিচয়ে এসব ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসেছেন।
তার চিৎকারে বাসের অন্য যাত্রীরা সতর্ক হয়ে ওঠেন। সে সময় তারা সংঘবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে ‘র্যাব’ পরিচয়দানকারী চক্রের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের কয়েকজন দ্রুত পালিয়ে যান।
পরে যাত্রীদের সহায়তায় চক্রটির আক্তারুজ্জামান ও আমিরুল ইসলামকে আটক করা হয়। এরপর বাসের যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পলাতক অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
১৩২ দিন আগে
ঈদের ছুটিতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে থাকবে রাজধানী: র্যাব
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে জনশূন্য হয়ে পড়া রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) চব্বিশ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় যেতে পারেন। এতে রাজধানীর অনেক বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সুযোগে চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতির মতো অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা টহল আরও জোরদার থাকবে।
এ সমস্যা মোকাবিলায় র্যাব শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করবে, বিশেষ করে রাতে ফাঁকা বাসা এবং জনসমাগম কম এমন এলাকাগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
র্যাবের এই অধিনায়ক আরও জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুইটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এসব কন্ট্রোল রুমে র্যাব সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো যাত্রী যাতায়াতের সময় হয়রানির শিকার হলে বা টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে তারা সরাসরি কন্ট্রোল রুমে গিয়ে বা ফোনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৮৬ দিন আগে
র্যাবের নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’
এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। র্যাবের নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। শিগগিরই এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বাহিনীটির কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোশাকও বানানো হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘র্যাব পুনর্গঠনে জন্য প্রধান উপদেষ্টা প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজকে সভাপতি করে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি র্যাবের নতুন নাম সুপারিশ করেছে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ। প্রধান উপদেষ্টা সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। এটি আজকে থেকেই কার্যকর হবে। এই বাহিনীটির কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হবে। এ বিষয়ে সরকারি একটা অর্ডার (আদেশ) হবে।’
নাম পরিবর্তনেসর সঙ্গে সঙ্গে র্যাবের কাজের মানে পরিবর্তন আসবে কিনা জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা দেখছেন যে তাদের কাজের মানে পরিবর্তন ইতোমধ্যে চলেও এসেছে। আপনি যদি তাদের দেড় বছর আগের কাজের মান দেখেন আর এখন দেখেন, সেটার মধ্যে পরিবর্তন অনেক এসেছে।’
এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, ‘মানুষ ওই (র্যাব) নামটাকে খারাপ মনে করত, এজন্য নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।’
২২৮ দিন আগে