রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান
বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং বঙ্গভবনে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ভিয়েতনামের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
তিনি আরও বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে এবং ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি দুই দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের রাজধানীর মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি এ আমন্ত্রণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
মির্জা ফখরুল ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে ভিয়েতনাম সফরের কথা স্মরণ করে সে সময় তার প্রতি প্রদর্শিত উষ্ণ আতিথেয়তার কথা উল্লেখ করেন। দুই দেশের জনগণের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ভবিষ্যতেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে দুই দেশের বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, সাইকেল, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য রপ্তানিযোগ্য পণ্য ভিয়েতনামে আরও বেশি আমদানির আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সফল কর্মকাল ও বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্ক জোরদারে তার অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার পরও দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবেন।
রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন এবং ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভিয়েতনাম দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২ দিন আগে
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে খন্দকার মোহাম্মদ তালহাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী খন্দকার মোহাম্মদ তালহার অভোগকৃত অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত করে তাকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (গ্রেড-১) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়োগের মেয়াদ ৩ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এছাড়া নিয়োগের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম ও সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।
জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
পেশাদার কূটনীতিক খন্দকার মোহাম্মদ তালহা ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পান।
তিনি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সংক্রান্ত উইংয়ের মহাপরিচালক, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার ও ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চিফ অব প্রটোকল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিদেশে বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্যে ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালন করেন তালহা। সেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক), জাতিসংঘের তহবিল ও কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয় দেখভাল করেন।
এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করেন। দুই জায়গাতেই তিনি বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) গ্রুপের সমন্বয় করেন।
এর আগে ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তেহরানে বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নিউইয়র্কে দায়িত্ব পালনের সময় ২০০৪ সালে জাতিসংঘের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশনের ভাইস-চেয়ারও নির্বাচিত হন তালহা। এছাড়া জেনেভায় দায়িত্ব পালনের সময় ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কাউন্সিলের ৯৯তম অধিবেশনে র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তালহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ এবং মেলবোর্নের মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৈদেশিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
৪ দিন আগে
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার বিকল্প নেই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামোও সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারকে কার্যকরভাবে শক্তিশালী করতে প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জনগণের অংশগ্রহণ ও স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করা সম্ভব।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার, গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়া, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনগণের কাছে জবাবদিহি আরও বাড়ানো এবং নারী ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৬ দিন আগে
বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিতে লিথুয়ানিয়ার প্রতি আহ্বান
বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ঢাকায় ভিসা সেন্টার স্থাপনের জন্য লিথুয়ানিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিসিয়েনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা, দক্ষ মানবসম্পদ বিনিময় এবং ঢাকায় লিথুয়ানিয়ার ভিসা সেন্টার স্থাপনসহ পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বিদ্যমান ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে লিথুয়ানিয়াকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ঢাকায় লিথুয়ানিয়ার একটি ভিসা সেন্টার স্থাপনের অনুরোধ জানান তিনি।
লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাখাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
৩৩ দিন আগে
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে বৈঠক করেছেন।
রবিবার (২ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, নৌপরিবহন যোগাযোগ জোরদার, এলএনজি আমদানি ও পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ বৈঠকে বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগসংক্রান্ত যেসব বিষয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও অর্থবহ ও গতিশীল করতে উভয় দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।’
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করা গেলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও জনগণ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত বা অস্থায়ী পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’
বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বিজনেস-টু-বিজনেস (বি২বি) কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য প্রাপ্ত তালিকার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা ও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ পক্ষ দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বাংলাদেশে পরবর্তী যৌথ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে উভয় পক্ষ মত প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সংযোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।
৪৮ দিন আগে
ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর ঢাকায়
তিন দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। এটি তার প্রথম ঢাকা সফর।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গরের ঢাকায় পৌঁছানোর তথ্য দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।
এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং আমার বন্ধু রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’
তিনি বলেন, এ সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সার্জিও গর দিল্লিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে ভারত ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপালসহ এ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
৫১ দিন আগে
বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতায় বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে চায় চীন
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সুফল যাতে দুই দেশের জনগণ সরাসরি ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চীনের সহায়তায় নির্মাণাধীন বার্ন ইউনিট প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘চীন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে, যাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ফলাফল দুই দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনে।’
তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পকে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার আরেকটি মাইলফলক হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় চীন।’
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকে চীন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত ওয়েন।
পরিদর্শনকালে তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানায়, রাষ্ট্রদূত ওয়েন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দেন এবং প্রকল্পে নিয়োজিত চীনা ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে চীনের বাস্তব সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক ফল অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
৫৩ দিন আগে
লিবিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ
লিবিয়ার জাতীয় ঐকমত্য সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার সালেম আল-জাদমার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
রবিবার (১২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপ-প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে লিবিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি লিবিয়ার বিভিন্ন খাতে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নমূলক ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে আরও বেশি সংখ্যক দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ এবং নিয়মিত ও নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে লিবিয়া সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত মো. হাবীব উল্লাহ বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি লিবিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐকমত্য সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে লিবিয়ার স্বাস্থ্যখাতে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে উপ-প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান।
রাষ্ট্রদূত নিয়মিত ও দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে এ লক্ষ্যে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে জ্বালানি, কৃষি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
৬৮ দিন আগে
ইইউর সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং একে একে সেগুলোর সমাধানে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার বার্তা পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান নন-ট্যারিফ (অশুল্ক) বাধাগুলো অপসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়াও এলডিসি গ্রাজুয়েশন পেছানো ও বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এফটিএ চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উত্থাপিত বিভিন্ন উদ্বেগ দূর করতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে যাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা কমে এবং অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।
তিনি বলেন, ইইউর সব উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয় সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং একে একে সেগুলোর সমাধানে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম— এ বার্তা পৌঁছে দিতেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হবে, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প-কারখানাগুলো দক্ষ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। এসব সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ।
এ সময় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা শুরুর জন্য ইইউ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশকে একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও অশুল্ক বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা (এনটিবি) দূর করা, ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক সুবিধা মসৃণভাবে অব্যাহত রাখতে দ্রুত ও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ-ইইউ এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে।
বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭২ দিন আগে
অসুস্থতা কাটিয়ে বাসায় ফিরেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল
স্বাস্থ্যগত জটিলতা কাটিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
বুধবার (১৭ জুন) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মুশফিকুল ফজল আনসারী জানান, গত সোমবার বুকে ব্যথা ও হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বাসায় ফিরেছেন।
পোস্টে তিনি বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার জন্য তিনি ও তার পরিবার কৃতজ্ঞ।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, অন্যান্য বাহিনী প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
মুশফিকুল ফজল আনসারী বিশেষভাবে সিএমএইচের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলেয়া সুলতানার সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান, পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন।
তিনি আরও বলেন, সিএমএইচে অবস্থানকালে অন্যান্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও সৈনিকদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সম্মান তাকে আবেগাপ্লুত করেছে। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষের দোয়া এবং শুভকামনার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
পোস্টের শেষে মুশফিকুল ফজল আনসারী জানান, তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বর্তমানে কার্যকর না থাকায় আপাতত একটি বিকল্প পেজের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন।
৯৩ দিন আগে